জার্মানদের থামানোর লক্ষ্য মেক্সিকোর

পোল্যান্ডে অনূর্ধ্ব-২১ বিশ্বকাপের ফাইনালে নাম লিখিয়েছে জার্মানি। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের যুবদল দেশটিকে বয়সভিত্তিক পর্যায়ের বিশ্বকাপ এনে দেয়ার দ্বারপ্রান্তে। মঙ্গলবার সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শিরোপা নির্ধারণীতে উঠেছে জার্মানি। যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে আরেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হবেন জার্মানরা। ২ দিনের ব্যবধানে আরও একটি বিশ্ব আসরের ফাইনালে ওঠার মুখে জার্মানি। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য এবারের সুযোগটি এসেছে কনফেডারেশন্স কাপে। রাশিয়ায় চলতি টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে আজ মেক্সিকোর মুখোমুখি হবেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপের পর ইউরো হারালেও ফিফার আরও দুইটি টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা হারাতে চান না জার্মানরা। একটি যুব বিশ্বকাপ এবং অপরটি ফিফার দ্বিতীয় সেরা টুর্নামেন্ট কনফেডারেশন্স কাপ। এদিকে কনকাকাফ অঞ্চলের সেরা দল মেক্সিকোর লক্ষ্য অঘটন ঘটানো। ১৯৯৯ সালের চ্যাম্পিয়নরা ফিফার প্রতিযোগিতায় নিয়মিত হলেও সাফল্য পাওয়ায় নিয়মিত নন। এবার ওই ১৯৯৯ সালে দেশের মাটিতে হওয়া টুর্নামেন্টে শিরোপা জয়ের স্মৃতি ফেরাতে চান মেক্সিকানরা। তরুণ জার্মান দলকে পেয়ে নিজেদের আশা পূরনের সম্ভাবনা একটু বেশি দেখছে কনকাকাফ অঞ্চলের সেরা দলটি।

ফুটবল বিশ্বকাপে চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। তবে কনফেডারেশন্স কাপের হিসাবে, জার্মানদের সর্বোচ্চ সাফল্য তৃতীয় হওয়ায়। এদিক থেকে এগিয়ে মেক্সিকো। বিশ্বকাপে বড় সাফল্য না থাকলেও একবার কনফেডারেশন্স কাপ জয়ের সাফল্য আছে ‘এল ত্রি’-দের। ১৯৯৯ কনফেডারেশন্স কাপে দেশের মাটিতে ব্রাজিলকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল মেক্সিকো। এছাড়া ১৯৯৫ সালে টুর্নামেন্ট তৃতীয় দল হয়েছিল তারা। বিপরীতে জার্মানির সর্বোচ্চ সাফল্য একবার তৃতীয় হওয়া। ২০০৫ সালে ঘরের মাঠে শিরোপা জিততে পারেনি জার্মানি। তৃতীয় হয়েই থামতে হয়েছিল তাদের। তবে আজকের সেমিফাইনালের কারণে ওই আসরের তৃতীয় স্থান নির্ধারনী বেশ ভালোভাবেই আসছে। কারণ, ২০০৫ সালে ওই ম্যাচে মেক্সিকোকে হারিয়ে তৃতীয় হয়েছিলেন জার্মানরা। আজ ফাইনালে ওঠার ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দল দুইটি। ২০০৫ সলের ম্যাচটি সামনে আনলে এগিয়ে থাকবে জার্মানিই। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ওই ম্যাচে ৪-৩ গোলে জিতেছিল মাইকেল বালাকের দল।
জোয়াকিম লো’র জার্মানি এবার তরুণ চেহারার হলেও শক্তিতে পিছিয়ে নেই মোটেও। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত এ তরুণরাই কোচকে সেরা পারফর্ম উপহার দিয়ে আসছেন। কোনো সন্দেহ নেই আজও সেই পারফর্ম দেখিয়ে কোচ ও দেশকে খুশি করার জন্য নামবেন জার্মান তরুণরা, যেন মূল দলে নিজেদের জায়গা পাকা করার চ্যালেঞ্জ তাদের। সেই চ্যালেঞ্জে দলটির সামনে এখন মেক্সিকো। পুরো টুর্নামেন্টে জার্মানি নিজেদের রাইট-উইংয়ের শক্তি দেখিয়েছে। মোট ৭ গোলের মধ্যে চারটিই এসেছে জার্মানির এ আক্রমণ অংশ দিয়ে। বিশেষ করে, দলে রাইট সেন্টার ব্যাক জোশুয়া কিমিচ ডান পাশের আক্রমণের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এছাড়া দলের অন্যতম অভিজ্ঞ সদস্য জুলিয়ান ড্রাক্সলার মাঝমাঠ গুছিয়ে রেখেছেন বেশ ভালোভাবেই। তরুণ অ্যাটাকারদের একের পর এক বলের জোগান দিয়ে চাপমুক্ত রেখেছেন টুর্নামেন্টের তিনটি ম্যাচে। জার্মানের রক্ষণভাগেরও যথেষ্ট প্রশংসা করতে হবে। কারণ নিয়মিতই জার্মান আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও এবার তার রক্ষণশক্তি দেখিয়েছে বেশ ভালোভাবে। বিপরীতে মেক্সিকান কোচ ওসোরিওর প্রচেষ্টায় শক্তিশালী দলে পরিণত হওয়া মেক্সিকো আজ যে কোনো দলকেই চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। জার্মানরা এ টুর্নামেন্টে আসার আগে বড়জোর ৬ মাস একসঙ্গে অনুশীলন করতে পেরেছে। কিন্তু মেক্সিকোর হয়ে গেল ১৮ মাস এ দলটিই খেলছে। তাই নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার বিষয়ে জার্মানির চেয়ে এগিয়ে থাকবে মেক্সিকানরাই। এছাড়া আক্রমণভাগে এবং বল পজিশনে মেক্সিকানরা গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই নিজেদের সাফল্য দেখিয়েছে। তাই আজকের ম্যাচে দুই যোগ্য দলের লড়াই দেখার অপেক্ষা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *