আজ : মঙ্গলবার: ৮ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ইং | ২ জমাদিউস-সানি ১৪৩৯ হিজরী | ভোর ৫:৫৬
fevro
শিরোনাম

বন্দর খেয়াঘাটে ইজারা ছাড়া অবৈধ হাট

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে বন্দর খেয়াঘাট সংলগ্ন হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কোরবানীর পশুর হাট বসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাট সংলগ্ন ময়মনসিংহ পট্টি খ্যাত এলাকায় বসানো ওই হাটটি ইজারা ছাড়াই বসানো হয়েছে। শীতলক্ষ্যা তীরের ওই জায়গাটি দুই বছর আগে এমপি সেলিম ওসমানের সহযোগিতায় উচ্ছেদ করেছিল বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর।

জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর নদীর তীর রক্ষায় বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক একেএম আরিফউদ্দিন হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। পরে হাইকোর্টের বিচারপতি নাঈমা হায়দার চৌধুরী ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের যৌথ বেঞ্চ শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে পশুর হাট বসানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্দরের রূপালী ২১ নং ওয়ার্ডে শীতলক্ষ্যা নদী সংলগ্ন রূপালী আবাসিক এলাকার খালি জায়গার অস্থায়ী পশুর হাটটি ২৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন থেকে ইজারা নিয়েছেন আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ শাহ আলম। তবে তিনি শুধু রূপালী আবাসিক এলাকার খালি জায়গাতেই হাটের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি ওই এলাকার নদীর তীর সংলগ্ন জমি দখল করে হাট বসানোর পাশাপাশি বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাট সংলগ্ন ময়মনসিংহ পট্টি খ্যাত এলাকাতেও হাট বসিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৮ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনের এমপি সেলিম ওসমানের সহযোগীতায় বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের তৎকালীন যুগ্ম পরিচালক একেএম আরিফউদ্দিনের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাট সংলগ্ন শীতলক্ষ্যার পূর্ব তীরে নদীর কয়েক একর জায়গা অবমুক্ত করা হয়। ওইসময় হামলাকারীরা লাঠিসোটা নিয়ে হামলার চেষ্টা চালালেও বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা পিছু হটেনি। ওই জায়গাটিতে আড়াই শতাধিক অবৈধ দখলদাররা বসতি গড়ে তুলেছিল। দীর্ঘদিন ওই জায়গাটি কাটাতারের বেড়া দিয়ে আবদ্ধ ছিল। ওই জায়গাটি স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমান একটি ইকো পার্ক করারও প্রস্তাবনা দিয়েছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রীর কাছে। তবে সম্প্রতি আরিফউদ্দিনের বদলী হওয়ায় মঙ্গলবার রাতেই ওই জায়গাটি দখল করে গরুর হাট বসিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরে সদ্য যোগদানকারী যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলী নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, তিনি বুধবারই যোগদান করেছেন। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে তিনি বন্দর থানা পুলিশকে চিঠি দিয়েছেন।

বন্দর থানার ওসি আবুল কালাম জানান, ময়মনসিংহ পট্টি এলাকায় হাট বসানোর বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি বিআইডব্লিউটিএ’র চিঠি পাননি। তবে হাট ইজারাদাররা তাকে জানিয়েছিল ময়মনসিংহ পট্টি এলাকায় তারা ট্রলার দিয়ে গরু নামিয়ে হাটে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করছে।

সেই বির্তকিত শিক্ষক শ্যামল কান্তি সাংসদ সেলিম ওসমানকে ভোটার করেনি

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

বন্দরের সেই আলোচিত পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন ক্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকার কারণে প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জন করেছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে ভোটার তালিকায় ক্রুটি থাকায় একযোগে ৯ জন প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেন।

জানা গেছে, এবারের স্কুল পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনে মোট ভোটার ৪ শতাধিক। এর মধ্যে দাতা সদস্যের সংখ্যা ৭জন। স্কুলের দাতা সদস্য হতে হলে এক কালিন ৫০ হাজার টাকা অনুদান দিতে হয়। কিন্তু সাংসদ সেলিম ওসমান এক কালিন ৫০ লাখ টাকা দিয়ে দাতা সদস্য হন। গত বছরের ১৩ মার্চ স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত একজন ছাত্রকে প্রহারসহ ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত হানার মতো মন্তব্য করলে এলাকাবাসী তাকে ঘেরাও করে গণপিটুনি দিয়ে স্কুলে অবরুদ্ধ করে রাখে। সংবাদ পেয়ে বিকেলে তাকে রক্ষার জন্য সাংসদ সেলিম ওসমান ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধারের চেষ্টার সময় জনরোষ থেকে রক্ষার জন্য তাকে কানধরে উঠবস করান। এ নিয়ে উচ্চ আদালতের নিদের্শে মামলা হয়। এ ঘটনার পর স্কুল পরিচালনা পরিষদ ভেঙ্গে দিয়ে এডহক কমিটি গঠন করা হয়। গতকাল ছিল স্কুলের পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন। নির্বাচন পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসককে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে সদস্য সচিব করে ৪ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি নির্বাচনের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করলেও নির্বাচনের পূর্ব মূহুর্তে দেখা যায় ভোটার তালিকায় সাংসদ সেলিম ওসমানের নাম নেই। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারীরা দাতা সদস্য হিসেবে সাংসদ সেলিম ওসমানের নাম না থাকায় প্রথমে প্রতিবাদ ও পরে নির্বাচন বর্জন করেন। নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারীদের বক্তব্য সদস্য সচিব শ্যামল কান্তি ভক্ত ইচ্ছাকৃত ভাবে এলাকায় নতুন ভাবে উত্তেজনা সৃষ্টির লক্ষ্যে সাংসদ সেলিম ওসমানের নাম ভোটার তালিকায় অর্ন্তভ’ক্ত করেননি। এ ব্যপারে সাংসদ সেলিম ওসমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে জানা যায় তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন।

ঘটনা সম্পর্কে প্রার্থী ফারুকুল ইসলাম টগর জানান, তিনি বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য। গত ২৬ আগষ্ট বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে ৯ টি পদে ৯ জনই মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন। প্রার্থীরা হলেন মোঃ ফারুকুল ইসলাম টগর, জালাল আহাম্মেদ, মতিউর রহমান মেজু, রুহুল আমিন, লিটন, আয়েশা বেগম, শিক্ষক প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন, মোশারফ হোসেন ও সংরক্ষিত মহিলা পারভীন আক্তার। গতকাল বুধবার নির্বাচন হওয়ার কথা। যেহেতু ৯টি পদে মাত্র ৯ জনই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন তাই অভিবাবকদের আর ভোট দেয়ার প্রয়োজন হয়নি। তারা ৯ জনই বিনা প্রতিদন্ডিতায় নির্বাচিত। কিন্তু গতকাল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করার কথা ছিল। প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত যে ভোটার তালিকা প্রনয়ন করেছেন তাতে দেখা যায় ক্রটিপূর্ন রয়েছে। গত বছর স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমান নিজ তহবীল থেকে ৫০ লাখ টাকা স্কুলকে দিয়ে তিনি দাতা সদস্য হন। গতকালের ভোটার তালিকায় তার নাম অর্ন্তভ’ক্ত করেননি। তাই সকলে নির্বাচন বর্জন করেন।

এ ব্যপারে নির্বাচন অফিসারের দায়িত্বরত উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোক্তার হোসেন বলেন, সকালে ভোট গ্রহণের জন্য স্কুলে গিয়ে বসা থাকার পরও দুপুর পর্যন্ত কেউ না আসায় তিনি উপজেলায় চলে যান। পরে জেলা জাতীয়পার্টির চেয়ারম্যান আবুল জাহের, কলাগাছিয়া ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধানের অনুরোধে পুনরায় স্কুলে আসেন। পরে জানতে পারেন ভোটার তালিকায় ক্রুটি থাকায় প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জন করেছেন।

এ ব্যপারে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত বলেন, এমপি দাতা সদস্য তার জানা নেই। পরে তিনি ভোটার তালিতা সঠিক করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন।

এলাকাবাসী বলেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামলকান্তি ভক্তের সাথে এমপির মামলা চলমান তাই তিনি ব্যক্তিগত আক্রোসের কারণে এমপির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন।

এ ব্যপারে বন্দর উপজেলা মাধ্যমকি শিক্ষা অফিসার আ.ক.ম নুরুল আমিন বলেন, ভোটর তালিকায় ক্রুটি আছে এমন অভিযোগ এনে প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নেননি।

উল্লেখ্য গত বছরের ১৩ মার্চ ধর্মীয় অনুভ’তিতে আঘাত হানার অভিযোগে শিক্ষক শ্যামলকান্তি ভক্ত গণপিটুনির শিকার ও এমপির হাতে লঞ্ছিত হন। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান।

শহরের পশুর হাটগুলোতে ক্রেতাদের ভীড় বাড়ছে

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কোরবানীর পশুর হাটগুলোতে গরু থাকলেও বেচাবিক্রি তেমন না থাকায় বিক্রেতাদের হতাশা দূর হতে শুরু করেছে। হাটগুলোকে ক্রেতারা গরু কেনা শুরু করাতে বিক্রেতাদের এ হতাশা দূর হতে শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার দিনব্যাপী কয়েকটি হাট ঘুরে দেখা গেছে, শহরের বিভিন্ন হাটগুলোতে গরু বিক্রি শুরু হয়েছে এবং হাটগুলোর হাসলি কাউন্টারে দেখা গেছে গরু হাসলি করে ক্রেতাদের বাড়ি নিয়ে যেতে।  হাটে বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে হাটে গরু উঠিয়েও ক্রেতার দেখা পাননি তারা। যাও কয়েকজন ক্রেতা হাটে এসেছিলেন তারা দাম শুনে চলে গেছেন কিন্তু বুধবার সকাল থেকেই হাটগুলোতে গরু কিনতে শুরু করেছেন ক্রেতারা আর এতেই হাসি ফুটতে শুরু করেছেন বিক্রেতাদের মুখে। নারায়ণগঞ্জের সৈয়দপুর কয়লাঘাট গরুর হাটে বিক্রেতা জামালউদ্দিন জানান, তিনি ২৭টি গরু এনেছিলেন গত রবিবার। কিন্তু গত সোমবার মঙ্গলবার কোন ক্রেতা তার গরুর দরদাম করেনি। ফলে তিনি গরুগুলো নিয়ে হতাশায় ছিলেন। গতকাল বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তার তিনটি গরু বিক্রি হয়েছে আর এতে তিনি খুশি। আগামী শুক্রবার সকালের মধ্যে সবগুলো গরু বিক্রি করে ফেলতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। হাটের হাসলি কাউন্টারে বসা মঈনুর রহমান জানান, সকাল থেকে তাদের ১৭টি গরু বিক্রি হয়েছে। সময় যত যাচ্ছে বিক্রি ততই বাড়ছে। হাটের সব গরুই বিক্রি হবে বলে প্রত্যাশা করেন মঈনুর। এদিকে ৭৩ হাজার টাকা দিয়ে গরু কেনা ব্যবসায়ী আসাদ জানান, সকালে দুটি হাট ঘুরে তিনি এখানে এসেছেন। এখানে এসে তার সাদা রঙের গরুটি পছন্দ হয় এবং দরদামে মিলে যায় ফলে তিনি গরুটি ক্রয় করেন। কুরবানির গরু তাই পছন্দের উপর ভিত্তি করে দামের চিন্তা না করেই তিনি গরুটি কিনেছেন বলে জানান।

সাত খুনের আসামী পক্ষের টার্গেট এবার বাদী ও আইনজীবীরা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জের আলচিত সাত খুনের মামলা পরিচালনা করা বাদী ও তাঁর পক্ষের আইনজীবী সহ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরাও মনে করছেন তারা বিশেষ কারো টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে সাত খুন মামলার একটি গ্রহণযোগ্য রায় পেতে এসব আইনজীবীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সঠিক ট্র্যাকে থাকাটাই এ টার্গেটের কারণ বলে মনে করছেন তাঁরা। আর সে কারণে রয়েছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা।

গত ২২ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় নিম্ন আদালত প্রদত্ত মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ২৬ জনের মধ্যে ১১জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। আর বিভিন্ন মেয়াদে দন্ডপ্রাপ্ত অপর ৯জনের সাজা আগেরটিই বহাল আছে। এর আগে গত ১৬ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত ২৬জনের মৃত্যুদন্ড ও ৯জনের মৃত্যুদন্ড প্রদান করে। নারায়ণগঞ্জ আদালতের পিপি ছিলেন ওয়াজেদ আলী খোকন। পরিচালনা করতে গিয়ে কখনো আসামী পক্ষের চোখ রাঙানি, আসামী পক্ষের আইনজীবীদের রোষানলে পড়লেও শেষতক কড়াভাবেই আইনী লড়াই চালান ওয়াজেদ আলী খোকন।

অপরদিকে বাদী পক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খানকেও নানাভাবে হুমকির শিকার হতে হয়েছিল। আর বাদী নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটিও রয়েছেন শংকার মধ্যে। কারণ এর আগেও তাকে দেওয়া হয়েছে হুমকি।

যা বললেন সাখাওয়াত

সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘আইনজীবীরাই যে শুধু টার্গেট না। ভিকটিমের পরিবার, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষও টার্গেট। এজন্য তিনি সকালের নিরাপত্তার স্বার্থে সরকার ও প্রশাসনের সুদৃষ্টি রাখতে হবে যাতে তাদের যেন কোন ক্ষতি না করতে পারে। ইতোমধ্যে পিপির মেয়ের উপরের হামলার ঘটনায় আমি উদ্বিগ্ন। পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন এবং ভীত। কারণ আজ তার উপরে হয়েছে আবার কার উপরে হয় এ নিয়ে ভীত। প্রশাসন এ ব্যাপারে শক্ত ভূমিকা পালন করবে। কারণ এটা সঙ্গে সারা দেশের ন্যায় বিচার জড়িত। আজকে আসামীদের লোকজন দ্বারা যারা বিচারটা পাওয়ার জন্য কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে কোন কিছু করে সফল হতে পারে তাহলে সারা বাংলাদেশে এ ধরনের আর বিচার চাওয়ার যাওয়ার ক্ষেত্রে ভাটা পড়বে।

তিনি বলেন, ‘এ মামলার আসামী ৫টি বাহিনীর সদস্য। সেটা হলো মিলিটারী, র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার। এ ৫টি বাহিনীর অনেকের সাজা হয়েছে এবং পলিটিক্যাল ব্যক্তিদের সাজা হয়েছে। যাদের সাজা হয়েছে তারা অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি। এ রায়টি সারা বাংলাদেশে দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিচার হওয়ার ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আইনজীবীদের ছিল, আদালতের ছিল, মিডিয়া কর্মীদের ছিল এবং সাধারণ মানুষের ছিল। সকলের সমন্বয়ে এ বিচার হয়েছে। এক ভাবে মনে করা যেতে পারে বিচারটা কেউ করে দিয়ে যায় নাই বরং এ বিচার আদায় করে নেওয়া হয়েছে। আসামীরা প্রথম থেকে বিভিন্ন ভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে। যাতে করে তারা এ জঘন্যতম হত্যাকান্ড থেকে রেহায় পেয়ে যায়। যার জন্য সকল ধরনের ক্ষমতা তারা প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছে কিন্তু সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার করণে সেক্ষেত্রে তারা সফল হতে পারে নাই। সবশেষ মহামান্য হাই কোর্টের ডেথ রেফারেন্সেও রিজেক্ট হয়েছে। ১৫ জনের মৃত্যুদন্ড, ১১ জনের যাবজ্জীবন ও ৯ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। এর কারণে আমরা যারা ন্যায় বিচারের জন্য আন্দোলন সংগ্রম করেছি এবং আমরা আইনজীবীরাই যে শুধু টার্গেট তা না, এটা ভিকটিম পরিবারের সদস্যরাও টার্গেট তাদের, সাংবাদিক যারা বেশি লেখালেখি করেছে তারাও টার্গেট এবং আমরা যারা আইনজীবীরা লড়াই করেছি তারাও টার্গেট।

যা বললেন পিপি

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের মামলার পিপি ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়ে মাঈশা ওয়াজেদ প্রাপ্তি গত ২৩ আগস্ট আক্রান্ত হয়েছেন। ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, আমি সাত খুনের মামলায় একাই কাজ করেছি আমার সাথে কাউকে নেইনি কারণ কেউ বায়াস্ট হয়ে মামলার বিচারকে প্রভাবিত করতে পারে। ৯১ জন এপিপি থাকা সত্ত্বেও আমি কাউকে আমার সাথে রাখিনি। সাখাওয়াত হোসেন সহ অন্যরা মামলার বাদীপক্ষের সাথে এবং বিচারের দাবিতে আন্দোলনে ছিলেন কিন্তু মামলার কাজ আমি সম্পূর্ণ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেছি। হয়তো এতেই আমার উপর কোন ক্ষোভ থেকেই এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।

অভিযোগ বিউটির

মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটি এর আগে অনেকবার অভিযোগ করেছেন, তাকে ও তার পরিবারের লোকজনদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। এসব ঘটনায় তিনি অনেক ভীত। কারণ অনেক রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে তিনি শেষ পর্যন্ত বিচারের জন্য লড়েছেন। সে কারণে প্রভাবশালীদের ভয় তো থাকবেই।

মৃতদেহের উপরও ছিল খুনিরা নির্দয়

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

বহুল আলোচিত সাত খুনের নৃশংসতা শুধু নারায়ণগঞ্জ নয় পুরো দেশবাসীকেও নাড়া দেয়। আলোচিত হয় বিশ্বব্যাপীও। সাত জনকে হত্যা করা হয়েছিল বেশ নৃশংসভাবে। সাতজনেক একই স্টাইলে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। যাতে করে লাশ ভেসে উঠতে না পারে। উদ্ধার করা লাশের সবারই হাত-পা বাঁধা ছিল, পেটে ছিল ফাঁড়া। ১২টি করে ইট ভর্তি সিমেন্টের বস্তার দুটি বস্তা বেঁধে দেওয়া হয় প্রতিটি লাশের সাথে। তাদের সবার লাশের মুখ ছিলো ডাবল পলিথিন দিয়ে মোড়ানো।

নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর ৭ খুন মামলার রায় ঘোষণা হয় ১৬ জানুয়ারী। সেখানে ২৬ জনের মৃত্যুদ- ও ৯জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেওয়া হয়। তবে ২২ আগস্ট মঙ্গলবার হাইকোর্টে সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন, র‌্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) আরিফ হোসেনসহ ১৫ জনের মৃত্যুদ-ের রায় বহাল রেখেছেন। আর বাকি ১১ জনের সাজা মৃত্যুদ- থেকে কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয়।

এদিকে র‌্যাব হেফাজতে সাতজনকে হত্যার বিষয়ে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, তাদের মৃত্যু যন্ত্রণা ছিল ‘ভয়াবহ, অচিন্তনীয়। র‌্যাব সদস্যরা এতটাই নির্দয় ছিল যে, হত্যার পর তাদের তলপেট ছুরি দিয়ে কেটে বস্তাবন্দি করে তার সঙ্গে ১০টি করে ইট বেঁধে দেওয়া হয়, যেন বস্তাবন্দি লাশ নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে উদ্ধৃত করে রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এই হত্যাকা- ছিল সুপরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলক। তাদের নৃসংশতা প্রমাণ করে, মৃতদেহের উপরও তারা কতটা নির্দয় ছিল।

প্রসঙ্গত ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় খান সাহেব ওসমান আলী জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিম অপহৃত হন। ৩০ এপ্রিল বিকেলে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জন এবং ১ মে সকালে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত সবারই হাত-পা বাঁধা ছিল। পেটে ছিল আঘাতের চিহ্ন। প্রতিটি লাশ ইটভর্তি দুটি করে বস্তা বেঁধে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।

মামলার নথি, চার্জশীট, জবানবন্দী ও সুরতহাল রিপোর্ট সূত্রে জানা গেছে, সাত জনের পায়ে ২৪টি করে ইট বোঝাই সিমেন্টের ব্যাগ দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ছিল নদীতে ডোবানো ছিল। পা ছিল দড়ি দিয়ে বাঁধা। হাত পেছনে দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল। মুখমন্ডল ডাবল পলিথিন দিয়ে গলার কাছে বাধা ছিল। পেট ধারালো অস্ত্র দিয়ে সোজাসুজি ফাড়া ছিল। নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকা সংলগ্ন নদীতে কয়েকটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। এরপর পুলিশ গিয়ে নদীর এক কিলোমিটারের মতো এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একে একে ছয়টি লাশ তুলে আনে। পরে যার যার স্বজনরা লাশগুলো সনাক্ত করে।

যেভাবে অপহরণ ও হত্যা

নাসিক কাউন্সিলর নজরুল ইসলামকে অপহরণের দিনক্ষণ আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একটি চাঁদাবাজির মামলায় স্থায়ী জামিন নিতে নজরুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ আদালতে আসবে। এ সম্পর্কে মেজর (অব.) আরিফ হোসেন নিশ্চিত হন। নিশ্চিত হয়েই সকালেই অপহরণ পার্টিকে বিভিন্ন পয়েন্টে দাঁড় করানো হয়। সাদা পোশাকে একটি টিম নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান নেয়। তারা সার্বক্ষণিক মেজর আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। নজরুল ইসলাম সেদিন তার গাড়ি না এনে তার সহযোগী মনিরুজ্জামান স্বপনের গাড়ি ব্যবহার করেন। স্বপনের সাদা রঙের এক্স করোলা প্রাইভেটকার যোগে নজরুল ইসলাম আদালত প্রাঙ্গণে আসেন।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অন্তবর্তীকালীন জামিন নিয়ে আদালত থেকে একটি সাদা প্রাইভেটকারযোগে নজরুল ইসলাম বের হওয়ার পরপরই মেজর আরিফের কাছে খবর পৌঁছে দেয় আদালতের আশপাশে অবস্থান নেয়া সাদা পোশাকের র‌্যাব সদস্যরা। নজরুলের সঙ্গে একই গাড়িতে নজরুলের সহযোগী মনিরুজ্জামান স্বপন, সিরাজুল ইসলাম লিটন, তাজুল ইসলাম। গাড়ি ড্রাইভ করে স্বপনের ব্যক্তিগত গাড়িচালক জাহাঙ্গীর। নজরুলদের গাড়ির পেছনে ছিল আইনজীবী চন্দন সরকারের গাড়ি। নজরুলদের বহনকারী গাড়িটি নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোড হয়ে উত্তর দিকে যাওয়ার পথে ফতুল্লা স্টেডিয়ামের সন্নিকটে (ময়লা ফেলার স্থান) পৌঁছার পর মেজর আরিফের নেতৃত্বে গাড়ির গতি রোধ করা হয়। নজরুলের গাড়ির পেছনে ছিল আইনজীবী চন্দন সরকারের গাড়ি। পরে দু’টি গাড়ি থেকে সাত জনকে র‌্যাবের দু’টি গাড়িতে তুলে নেয়া হয় অস্ত্র দেখিয়ে। গাড়িতে তাদের ওঠানোর পর একে একে প্রত্যেকের শরীরে ইনজেকশন পুশ করে অচেতন করা হয়। অচেতন হওয়া সাত জনকে কয়েক ঘণ্টা তাদের গাড়িতেই রাখা হয়। নিয়ে যাওয়া হয় নরসিংদীতে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিকল্পনা মতে কাঁচপুর ব্রিজের পশ্চিম পাড়ে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরভূমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বালু-পাথর ব্যবসাস্থল জনমানুষ শূন্য করার জন্য নূর হোসেনকে ফোন দেয় মেজর (অব.) আরিফ হোসেন। গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পর র‌্যাবের গাড়ি ওই স্থানে পৌঁছায়। গাড়ির ভেতরই অচেতন প্রত্যেকের মাথা ও মুখ পলিথিন দিয়ে মোড়ানো হয়। পরে গলা চেপে ধরার পর একে একে শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যায় সাত জন। পরে সাত জনের নিথর দেহ গাড়ি থেকে নামানো হয়। পরে নারায়ণগঞ্জ শহরের ৫ নম্বর ঘাট থেকে র‌্যাবের নির্দিষ্ট নৌকা নিয়ে যাওয়া হয় কাঁচপুর ব্রিজের নিচে। লাশগুলো নৌকায় উঠিয়ে শীতলক্ষ্যা নদী দিয়ে যাওয়ার পথে ‘নির্দিষ্ট স্থান’ থেকে লাশ গুমের উপকরণ নৌকায় তোলা হয়। নৌকার মধ্যেই একে একে প্রত্যেকটি লাশের সঙ্গে ইট বাঁধা হয়। একটি করে ফুটো করে দেয়া হয় নাভির নিচে-গ্যাস বের হয়ে যাতে লাশ ভেসে না ওঠে। তারপর শীতলক্ষ্যা নদীর নির্দিষ্ট স্থানে লাশগুলো ফেলে দেয়া হয়। পুরো অপারেশনে র‌্যাবের তিন কর্মকর্তাসহ অনেকেই অংশ নেয়।

সাত খুনের শিকার ইব্রাহিমের স্বজনদের কাঁদতে কাঁদতে আর চোখে পানি নেই

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আলোচিত ৭ খুন মামলায় নিহত মো. ইব্রাহিমের হত দরিদ্র পরিবারের দিন কাটছে অভাব-অনটনে। পৈত্রিক সম্পত্তির এক খন্ড জমির উপর দু-চালা জরাজীর্ণ একটি ঘরে তার সন্তানরা সহ দুই স্ত্রী মোট ৭ সদস্যের বড় পরিবার বসবাস করছে। পরিবারে আয়-রোজগারের কেউ নেই, তাই ইব্রাহিমের শ্বশুর বাড়ির সাহায্যে সংসার দুটো কোন রকমে দিন কাটাচ্ছে।

নিহত মো. ইব্রাহিম (৩৫) সোনারগাঁ উপজেলার বারদী ইউনিয়নের আলগীর চর পশ্চিম পাড়ার আব্দুল ওহাব মিয়ার ছেলে। পারিবারিক ভাবে প্রথম বিয়ে করলেও পড়ে ভালোবেসে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

প্রথম স্ত্রী মাহমুদা বেগমের দুই সন্তান। তারা হলো ইসমাইল হাসান রনি (১৭) ও সীমা আক্তার (১৮)। ইসমাইল হাসান রনি বারদী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে মানবিক বিভাগের ছাত্র। ক্লাস রোল-৩। রনি স্কুলে পড়ালেখা করলেও ছোট বোন সীমা আক্তারকে টাকার অভাবে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেন।

পরিবারে বড় সন্তান হওয়ায় ইব্রাহিমই মা-বাবা ও প্রথম স্ত্রীর জন্য সংসারে খরচ দিতো। আরো দুই ভাই থাকলেও তারা তাদের সংসার নিয়েই ব্যস্ত থাকতো। বাড়িতে জমি সংক্রান্ত বিরোধ থাকায় নিহত হওয়ার কয়েক বছর আগে থেকেই চন্দন সরকারের গাড়ি চালক হিসাবে দ্বিতীয় স্ত্রী হুনুফা বেগমকে নিয়ে জালকুড়ি এলাকায় চন্দন সরকারের বাড়ির নিচ তলায় বসবাস করত মো. ইব্রাহিম।

ইব্রাহীমের দ্বিতীয় স্ত্রী হনুফা বেগম জানান, ‘আমাদের ১২ বছরের সংসারে দুটি মেয়ে ও একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। আমার স্বামীকে খুন করার পর থেকে এই ছোট ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। ছেলেটা খুব ছোট বলে কাজ কর্মও করতে পারিনা। তাই বাপের বাড়ি থেকে আর্থিক সহায়তা নিয়ে কোন রকমে দিন কাটাচ্ছি। তবে সন্তানদের পড়াশোনা আর ভরন পোষনের খরচ চালানো খুবই কষ্টদায়ক হয়ে পড়েছে। তাই মেয়ে দুটোকে মাদ্রাসার এতিম খানায় দিয়ে দিয়েছি। ওর বাবার আশা ছিল মেয়েদেরকে ভাল একটা স্কুলে পড়াশোনা করাবে; কিন্তু তা আর হল না। ছেলে জুনাইদ বাগদাদীর বয়স মাত্র ৫ বছর। ছেলেটা খুবই বায়না ধরে, মজা কিনে দেয়ার জন্য। সকাল হতেই ওর বায়না পূরণ করতে করতে সব টাকা শেষ হয়ে যায়। ওদের বাবা নেই, এই কথাটা মেয়ে দুটো একটু বড় বলে বুঝতে পাড়লেও ছেলেটা ছোট বলে বোঝতে পারে না। তাইতো সারাদিন শুধু মজা খাওয়ার জন্য বায়না ধরে। ওকে কি করে বুঝাই যে ওর বাবা বেঁচে নেই। তাই সংসারটা খুব কষ্টে চলছে।’

এর মধ্যে সোয়া ৪ বছরের ছোট ছেলে জুনাইদ বাগদাদীর সাথে কথা হলো। যাকে সোয়া ১ বছরের রেখে নিহত হয় ইব্রাহিম। জুনাইদের কাছে তার বাবা কোথায় আছে জানতে চাইলে সে বলে, ‘বাবা কবরস্তানে আছে, ঘুমিয়ে আছে। আমার কাছে আসে না, আমাকে মজা কিনে দেয় না।’

তোমার বাবা কথা মনে পড়ে জানতে চাইলে ছোট ছেলেটি অপলক দৃষ্টিতে শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। কি করে বাবার গল্প করবে। সে তো তার বাবার আদর কি জিনিস সেটাই বুঝতে পারেনি। যখন বাবার আদর-সোহাগে তার বেড়ে ওঠার কথা ছিল সেই সময়ে বাবা তার পাশে নেই।

অভিমানি ছেলে জুনাইদ কিছুক্ষণ পর পর বায়না ঘরে মজা খওয়ার জন্য তাই তার মাকে বিরক্ত করে প্রতিদিন। এদিকে জুনাইদের মা হনুফা বেগম জানালেন, অভাবের সংসারে সব সময় তো টাকা থাকে না। তাই ধার দেনা করে হলেও মজা কিনে দিতে হয়। সবার ছোট বলে ওর মর্জির পরিমাণটাও একটু বেশি। এসময় মায়ের কোলে থাকা জুনাইদ মজা কিনে দেয়ার জন্য আবারো বায়না ধরে কাঁদতে শুরু করে দেয়। এক পর্যায়ে কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

ইব্রাহিমের প্রথম স্ত্রী মাহমুদা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামীকে মারা সঙ্গে আমাদের মেরে ফেলতো তাহলে এ দিন দেখতে হতো না। খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে। স্বামীর টাকা সম্পত্তি কিছুই নাই। একটা ঘরে আমরা দুই সতিনে থাকি। আমার বাবার বাড়ি থেকে সংসারের খরচের জন্য টাকা দেয় সেটা দিয়ে চলি। সঙ্গে ছেলে মেয়ে পড়ালেখাও চলে। ছেলেটার ব্রেন ভালো। রোল নাম্বার ৩। টাকার অভাবে ঠিক ভাবে পড়াতে পারছি না। এসএসসি পরীক্ষা দিলে ছেলে পড়া বন্ধ করে দিয়ে কাজে লাগিয়ে দিবো। এভাবে আর চলতে পারছি না।’

তিনি আরো বলেন, ‘তিন আগে বাজারে এসেছিল। তখন আমাকে বাজারে যাওয়ার জন্য বলে কিন্তু আমি তখন রাত থেকে দেখে না গিয়ে শশুড়কে আর ছেলেকে পাঠাইছি। তখন যদি আমি তাদের সঙ্গে যেতাম তাহলে শেষ বারের মতো দেখতে পারতাম। শেষ দেখাটাও দেখতে পারলাম না। কয়দিন আগে ফোন দিয়ে বলছে, টাকা পয়সার চিন্তা করিস না। জায়গা জমির ঝামেলা শেষ হলে ১৮ মে বাড়ি আসবো। আর আসতে পারলো না। সেই আইলো লাশ হয়ে। তার কথা ভেবে ভেবে অনেক কেঁদেছি, এখন আর কাঁদতে পারি না। এখনতো চোখের পানি সব শুকিয়ে গেছে।’

ইব্রাহীমের বড় ছেলে ইসমাইল হাসান রনি বলেন, ‘নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন আগে বাবা অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারকে নিয়ে রাতে লোকনাথ মন্দিরে এসেছিল। তখন বাসায় ফোন দিয়ে বলে দাদুকে নিয়ে বাজারে যাওয়ার জন্য। তখনই শেষ বারের মতো বাবাকে দেখেছিলাম। এর পর আর দেখা হয় নাই। কথা গুলো বলতে বলতে চোখ দিয়ে জল পড়ছিল রনির।

রনি বলেন, ‘আমি তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি। পরীক্ষার ফি ও স্কুলের বেতন সহ ১হাজার ৫০০টাকা বাবা সেই রাতে আমার হাতে দেয় আর বলেন ভালো ভাবে লেখাপড়া করিস। টাকা পয়সার চিন্তা করিস না। তখন আমি বাড়ি যাওয়া কথা বললে বাবা আমাকে বলে ১৮ মে সব কাজ শেষে বেতন নিয়ে বাড়ি আসবে। বাবা আর বাড়ি আসেনি।’

রনি আরো বলেন, ‘এখন প্রতিটা মুহূর্তে বাবার কথা মনে পড়ে। আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমার পড়ালেখাও বন্ধ হয়ে যাবে। ক’দিন পরে এসএসসির টেস্ট পরীক্ষা হবে। এখন আমার বন্ধুরা ৩ থেকে ৪টা প্রাইভেট পড়ে। কিন্তু আমি পড়তে পারছি না। পরীক্ষা দেখে ক’দিন আগে গণিত ও ইংরেজি ব্যাচে গিয়ে পড়ছি। সামনে এসএসসি পরীক্ষার ফরমপূরণ করতে হবে। তখনও অনেক টাকা লাগবে। কোথায় পাবো। আমাদের তো কিছুই নেই। বাবা বলে ছিল আমি যা পড়তে চাই তাই পড়াবে। ইচ্ছা ছিলো অ্যাডভোকেট হবো। কিন্তু এখন পড়ালেখাই বন্ধ হয়ে যাবে। ছোট বোনও পড়ালেখা করে মা না খেয়ে থাকে। তাই কাজ করতে হবে। এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে যে কাজ পাই তাতেই লেগে যাবো।’

ডিজিটাল মিস কেইস আর্কাইভ চালু

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আধুনিক পদ্ধতিতে জমি সংক্রান্ত কাগজপত্র চিরস্থায়ী সংরক্ষণ, সরকারি প্রয়োজন এবং দ্রুত নাগরিক সেবা প্রধানের লক্ষ্যে ‘ডিজিটাল মিস কেইস আর্কাইভ’ নামক কম্পিউটার সফটওয়্যার উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে শহরের খানপুরে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসে ওই সফটওয়্যারের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জসীম উদ্দিন হায়দার প্রমুখ। রাব্বী মিয়া বলেন, ‘ডিজিটাল মিস কেইস আর্কাইভ’ সফটওয়্যারটি বাংলাদেশের ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় একটি অনন্য উদ্যোগ। ডিজিটাল সেবার অধিনে এটি একটি যুগান্তকারি সেবা। এ পদ্ধতিতে জমির মালিকেরা সহজে নাগরিক সেবা পাবেন। ফলে এখন আর কোন গ্রাহককে দীর্ঘদিন মিস কেইসের জন্য ঘুরতে হবে না।’ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসের উদ্যোগে এবং সদর উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ওই সফটওয়্যারের তৈরি করা হয়। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহ আল জাকি জানান, সদর উপজেলা ভূমি অফিসের রেকর্ড রুমে বর্তমানে ৫ হাজারের বেশি মিস কেইস নথি আছে।  জমি সংক্রান্ত এসব নথি পুরাতন ও জীর্ণ হয়ে ব্যবহারের অযোগ্য হওয়ায় অফিসের নথি ব্যবস্থাপনা, গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক  প্রয়োজন এবং নাগরিক সেবা প্রদান কার্যক্রম বিঘিœ হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিস এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। আবদুল্লাহ আল জাকী বলেন, ‘ডিজিটাল মিস কেইস আর্কাইভ সফটওয়্যারটি একটি অফলাইন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ডেটা স্টোরিং সফটওয়্যার যা আর্কাইবের ডেটাসমূলহকে হ্যাকিং ও মিসিং হতে সুরক্ষিত রাখবে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ব্যবহারকারী ছাড়া কোন ব্যক্তি সফটওয়্যার থেকে কোন তথ্য দেখতে বা প্রিন্ট করতে পারবেন না। এমনকি নতুন তথ্য এন্ট্রি করতে পারবে না। সফটওয়্যারটিতে মিস কেই নথিসমূহ স্ক্যান করার পর সংরক্ষণের সময় ৭টি অগ্রিম তথ্য এন্ট্রি করা হয়। যেমন মিস কেইস নম্বর, মামলার সন, মামলা রুজুর তারিখ, চূড়ান্ত আদেশের তারিখ, বাদীর নাম, নালিশা ভূমি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ও মৌজার নাম। ফলে কোন নথি সম্পর্কে ন্যূনতম ৭টি তথ্যের মধ্যে একটি তথ্য জানা থাকলে দ্রুত নথিটি পাওয়া যাবে।

নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে ডাক্তারের অপেক্ষা রোগীদের ভোগান্তি

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের বর্হিবিভাগে মহিলা মেডিসিন বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: অলক কুমার সাহা নির্দিষ্ট সময়ে ডিউটিতে না আসার কারণে রোগীদের দুর্ভোগ চরম আকারে রূপ নেয়। অভিযোগ উঠেছে, ডা: অলক কুমার সাহা প্রায় সময়ে সকাল সাড়ে ১০টার পর হাসপাতালে পৌছায়। আর রোগীরা সকাল ৯টা থেকে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হবার জন্য দীর্ঘ লাইন ধরে অপেক্ষা করতে হয়ভ  গত মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ফতুল্লা মাসদাইর এলাকা হতে আগত রোগী শেফালী বেগম (৪৫) জানান, সকালে টিকেট কেটে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি ডাক্তারের জন্য। অথচ ডাক্তার নাকি এখনো পর্যন্ত আসে নাই। কখন ডাক্তার আসবো কখন চিকিৎসা নিবো বাড়িতে সকল কাজ কর্ম পড়ে আছে। অন্য রোগীদের অভিযোগে আরো জানা যায়, সরকারী হাসপাতালে আসে রোগীরা ফ্রি চিকিৎসা সহ ওষুধ পাওয়া জন্য। এই ডাক্তার বেশীর ভাগই ওষুধ বাইরের থেকে কেনার জন্য বলেন এবং পরীক্ষা নিরীক্ষা লিখে কোন সু পরামর্শ না দিয়ে তার আশপাশে থাকা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কমর্চারীদের হাতে প্রেসক্রিপশন তুলে দিয়ে পরীক্ষা করার জন্য নির্দেশ দেন। অথচ হাসপাতারের প্যাথলজি বিভাগ থাকলেও সেখান থেকে রোগীদেরকে পরীক্ষা করার দিক নির্দেশনা না কমিশন পাওয়ার জন্য তার নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী ভিজিট করছেন ডা. অলক কুমার সাহা। বিশেষ করে বেশীর ভাগই রোগীকে মেডিপ্লাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রেরন করে বলে রোগীরা অভিযোগ করেন। বহু রোগী টাকার অভাবে বাহিরের প্যাথলজিতে পরীক্ষা করতে না পেরে সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে একাধিক রোগীরা জানান।

ডিএনডিতে কোরবানী দেওয়ার জায়গা নেই

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আর মাত্র কয়েকদিন পরেই কোরবানীর ঈদ। কিন্তু এখনো কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে গেছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা তথা ডিএনডি বাধের ভেতরে থাকা লাখ লাখ অধিবাসীদের। কারণ কোরবানীর পশুর রাখার মত জায়গাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গতকাল সোমবার দুপুরে ডিএনডি বাধের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। সরেজমিনে ডিএনডির বাঁধের ফতুল্লা এলাকায় দেখা গেছে, বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকা বিশেষ করে ফতুুল্লার রামারবাগ, সস্তাপুর, গাবতলা, কায়েমপুর, চাঁদমারী, ইসলাম বাগ, শহীদ নগর, গাবতলী, এনায়েত নগর, তল্লা, সবুজবাগ, কুতুবপুর, পাগলা, দেলপাড়া, আলীগঞ্জ, দাপা, পিলকুনি, ভূইগড়, রঘুনাথপুর, কুতুবআইল, নয়াআটি, লামাপাড়া এলাকাতে দেখা দিয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা।  জলাবদ্ধতার পানি পচে গেছে। বিবর্ণ আকার ধারণ করা ওই পচা পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে ডিএনডিবাসীর দুর্ভোগ আরেক ধাপ বেড়েছে। শিল্প-কারখানা, ডাইং, পয়নিষ্কাশনের পানি জলাবদ্ধতার সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে গেছে। নিরুপায় হয়ে ছোট বড় সকল বয়সের মানুষ এই পানির মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করছে। এছাড়াও কোন কোন এলাকায় চলাচলের জন্য নৌকা ব্যবহার করা হচ্ছে।’ দাপা এলাকার সুলতান মিয়া জানান, রোজার ঈদের আগে থেকে বাড়িতে পানি উঠেছে আর ক’দিন পর কোরবানির ঈদ এখনও পানি কমছে না। তাই আত্মীয় স্বজনদেরও বলে দিয়েছি যাতে পানির মধ্যে বেড়াতে না আসে। বাড়িতে পানি রাস্তায়ও পানি কোরবানি দেওয়ার মতো একটু জায়গা নেই।’ পিলকুনি জামাই পাড়া এলাকার লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘জলাবদ্ধতার কারণে অনেকে বাড়ি ঘরে তালা দিয়ে বাঁধের ভেতর উচু ভবন ও বাঁধের বাইরে বিভিন্ন বাড়িতে ভাড়ায় আশ্রয় নিয়েছে। কেউ কেউ আত্মীয় স্বজনের বাসায় উঠেছে। ভূঁইঘর এলাকার বাসিন্দা খন্দকার মাহফুজ বলেন,‘ ডিএনপির পানি নিষ্কাশনের পাম্প গুলো ঠিক ভাবে চালু রাখে না। দিনে কয়েক ঘণ্টা চললে বাকি সময় বন্ধ রাখে। এর অধিকাংশ পাম্প পুরাতন ও দুর্বল হয়ে গেছে। এখন আরো কিছু নতুন পাম্প বসিয়ে অস্থায়ী ভাবে পানি নিষ্কাশন করলে দ্রুত সমাধন হতো। কিন্তু এখন এ বিষয়ে দেখছে না। মাসুদ আলী বলেন, ‘ডিএনডি বাঁধের ভেতর ৯টি খাল ছিল। লোকজন ডিএনডি বাঁধের ভেতর জমি কিনে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর, ইটের ভাটা, ছোট-বড় শিল্প-কারখানা নির্মাণ করেছে। আর খাল দখল ও ভরাট করে দোকানপাট, ঘরবাড়ি, কলকারখানা গড়ে তুলেছে। যেসব খাল গুলো এখন আছে সেগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন না রাখায় ময়লা আবর্জনা ফেলে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।’ ডিএনডি পাম্প হাউজের উপ সহকারী প্রকৌশলী রাম প্রসাদ বলেন, ‘৫১২ কিউসেক ক্ষমতার চারটি পাম্পের মধ্যে ৩টি সচল আছে আর ৫ কিউসেকের ২২টি পাম্পের মধ্যে ১০টি। এছাড়াও নতুন ৩টি পাম্প বসানো হয়েছে। তিনটির গড় ক্ষমতা ১১০ কিউসেক। তিনি আরো বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২ ঘণ্টা পাম্প বন্ধ থাকে। তারপরও পানি কমছে না। মূলত যে পাম্প গুলো দিয়ে শীতলক্ষ্যায় পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে সেগুলো ৫১ বছরের পুরানো পাম্প। যার ফলে এখন আর আগের মতো পানি নিষ্কাশন করতে পারছে না। তাছাড়া যেটুকু পানি কমছে তাও বৃষ্টি হলে বেড়ে সমান হয়ে যাচ্ছে। ফতুল্লা ডিএনডি বাধের ভিতরে ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ বসবাস করে। এসব মানুষের ব্যবহারের পানি ও কলকারখানার পানি নিষ্কাশন করতে প্রতিদিন পাম্পগুলো চালানো হয়। যদি এর মধ্যে বৃষ্টি হয় তাহলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে যায়। আগামী ১০দিন যদি কোন বৃষ্টি না হয় তাহলে এসব পানি কমে যাবে।’ রাম প্রসাদ আরো বলেন, ‘ডিএনডি বাধের অভ্যন্তরে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫৫৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার যেটা বাস্তবায়ন করবে সেনাবাহিনী। নভেম্বর থেকে কাজ শুরু হবে যা শেষ হতে ২ থেকে ৩ বছর লাগবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এ সমস্যা আর থাকবে না। একই সঙ্গে এ এলাকার ড্রেনগুলো দখল মুক্ত করে সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে যাতে পানি স্বাভাবিক ভাবে নদীর দিকে যেতে পারে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইরি ধান চাষাবাদের জন্য ১৯৬৫ সালে ৮ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমি নিয়ে তৈরি করা হয় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধ। ৩২ দশমিক ৮ কিলোমিটার ডিএনডি বাধের ভেতর ৫৬ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় অন্তত ২০ লাখ লোকের বসবাস। তখন ডিএনডির ভেতর সেচ প্রকল্প ছিল পাঁচ হাজার ৬৪ হেক্টর। ডিএনডি বাঁধের ভেতর কংস নদ এবং নলখালী খালের মতো ৯টি খাল ছিল। যা ডিএনডির ইরিগেশন প্রজেক্টে সেচখাল হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এসব খালের ছিল আরও ৯টি শাখা খাল। এছাড়াও ছিল ২১০টি আউটলেট, ১০টি নিষ্কাশন খাল। এসব খালের সর্বমোট দৈর্ঘ্য ১৮৬ কিলোমিটার। আশির দশকের পর থেকে লোকজন ডিএনডি বাঁধের ভেতর জমি কিনে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর, ইটের ভাটা, ছোট-বড় শিল্প-কারখানা নির্মাণ করে। কংস নদ বিলুপ্ত হয়ে গেছে অনেক আগেই। আর খাল দখল ও ভরাট করে দোকানপাট, ঘরবাড়ি, কলকারখানাসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মান করায় নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, দোকানপাট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য স্থাপনা অল্প বৃষ্টিতে হাটু পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। যদিও অবশেষে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) অভ্যন্তরে সৃস্ট জলাবদ্ধতার কমতে শুরু করেছে। পানি নিষ্কাশনের অভাবে সামান্য বৃষ্টিতে তৈরি হওয়া এ জলাবদ্ধতা গত ৩ মাসেরও বেশি সময় ধরে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছিলো এ অঞ্চলের মানুষ। গত ২ দু সাপ্তাহে ওই অঞ্চলে যতটা পানি না কমেছে, তারচেয়েও বেশি পানি কমেছে ২ দিনে। হঠাৎ পানি নিস্কাশনের এই আমূল পরিবর্তন দেখে ওই অঞ্চিলের মানুষ ধারণা করছেন, ডিএনডিতে অবস্থিত কলকারখানা ঈদ উল আযহা উপলক্ষে কাজ কমে যাওয়া পানি কমতে শুরু করেছে। অন্যদিকে গত কয়েকদিন যাবত বৃষ্টি না হওয়া তীব্র রোদে পানি কিছুটা হলেও কমছে বলে দাবি করেন ফতুল্লার তক্কার মাঠ এলাকার তরুণ খলিল গাজি।

নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে জিম্মি করে ফেলেছে

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, দেশের এক চরম ক্রান্তিকালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপি’র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে বহুদলীয় গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। কিন্তু কিছু কেন্দ্রীয় নেতা নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে জিম্মি করে ফেলেছে। তারা কেন্দ্রে বসে কমিটি দেওয়ার নামে ব্যবসা করছে। রাজনীতির নামে বিএনপিতে এখন যা চলছে, তা কোন ব্যাকারনে পরে না। ব্যাকারনহীন রাজনীতির চর্চা চলছে এখন নারায়ণগঞ্জে। বিএনপি’র ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধাণ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল বুধবার মাসদাইর মজলুম মিলনায়তনে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

এড. তৈমূর আলম খন্দকার আরো বলেন, দেশের বিচার বিভাগ এখন আর স্বাধীন নেই। রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার হওয়া বিএনপি নেতাকর্মীদের জামিনের জন্য জজ সাহেব আগে আইন মন্ত্রনালয়ে যোগাযোগ করেন এবং তাদের অনুমতি পেলে জামিন দেন নতুবা নয়। আর এ কারনেই সকল কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরেও মহিলা দল নেত্রী রাশিদা জামালের জামিন দেওয়া হয়নি। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন রাখেন সাবেক নগর বিএনপি নেতা নুরুল হক চৌধুরী দিপু, সোনারগাঁ থানা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম টিটু, ১৮নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি আনোয়ার দেওয়ান, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী নুরুন্নাহার, মহানগর মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক আয়েশা আকতার দিনা, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সানোয়ার হোসেন, রানা মুজিব প্রমূখ।