আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:০৮
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগে ডিএনডিবাসী

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জে ডিএনডির অভ্যন্তরে দুইদিনের বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবার দিনের টানা বৃষ্টিতে ডিএনডির অভ্যন্তরের অধিকাংশ এলাকায় জমেছে হাটু পানি। এতে অনেক হতদরিদ্র পরিবারকে দেখা গেছে খাটের উপর আশ্রয় নিয়েছে। রান্না, খাওয়া, শিশু সন্তানদের লেখা পড়ার আশ্রয়স্থল একটি খাট। গতকাল শুক্রবার দুপুরে কথা হয় ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর এলাকার গার্মেন্ট কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, অল্প ভাড়ায় সুন্দর পরিবেশে দুই মাস আগে একটি ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়ে ছিলাম। কিন্তু এখানে আসার পর থেকেই বাসা থেকে বের হলে সড়কে পানি। তাও খালের রং কেমিক্যাল মিশ্রিত দূষিত পানি। অনেক দূর পায়ে হেঁটে গিয়ে উচু স্থানে দাঁড়িয়ে রিকশার সন্ধান করতে হয়েছে। আমার স্ত্রীও সন্তানদের স্কুলে এই পানি দিয়ে নিয়ে যায়। এতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি মাস শেষে বাসা পাল্টাবো। আর এখন বাসা পাল্টানোর সময়ও সড়কে হাটু পানি। গার্মেন্টকর্মী পারুল আক্তার জানান, সাধ্যমতে দুই থেকে তিন হাজার টাকায় এক রুমের একটি বাসা কয়েকজন সহকর্মী মিলে ভাড়া নিয়ে বসবাস করি। বৃষ্টির পানির কারণে ভালো পরিবেশের কোন বাসায় বসবাস করতে পানি না। কায়েমপুর এলাকায় দুই মাস থেকেছি। এখন পানির জন্য তাৎক্ষনিক বাসা পাল্টিয়ে শিবুমার্কেট এলাকায় চলে যাচ্ছি। রিকশা চালক আবুল হোসেন জানান, শরীরটা অসুস্থ্য। জ্বর ঠান্ডা লেগেই থাকে। পানিতে নামলেই কাশি বেড়ে যায়। এরমধ্যে বৃষ্টির পানি ঘরে ডুকেছে। তাই রান্না করতে হচ্ছে খাটের উপর। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ফতুল্লার নিষ্কাশন খালগুলো এ বছর পরিষ্কার না করায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। খোদ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উল্টো দিকে ফতুল্লার বিস্তীর্ণ এলাকার রাস্তাঘাট বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবার দিনের বৃষ্টিতে ডাইং আর নর্দমার নোংরা পানিতে তলিয়ে আছে। বিশেষ করে সদর উপজেলার দক্ষিণ গেট থেকে শুরু করে গাবতলার মোড় পর্যন্ত গোটা এলাকার মানুষ এ নোংরা পানি মাড়িয়ে বাড়ি থেকে বের হচ্ছে। অথচ গত বছরও এসব এলাকার চিত্র এমন নাজুক ছিল না। কারণ সদর উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রতি বছর ফতুল্লার সবচেয়ে বড় বাগটুমারি খালটি পরিষ্কার করা হতো। কিন্তু এ বছর ফতুল্লার খালগুলো পরিষ্কার না করায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম সহ ফতুল্লার অনেক আবাসিক এলাকা নোংরা পানিতে ডুবে আছে। এবছর স্থানীয় প্রশাসনকে এলাকাবাসী বারবার অনুরোধ করার পরও নিষ্কাশন খালগুলো পরিষ্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

শহর ছেড়ে এখন রূপগঞ্জে তৈমূর

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
শহরের রাজনীতিতে সুবিধা করতে না পাড়ায় রূপগঞ্জ গিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জ শহর বন্দর কেন্দ্রীক রাজনীতিতে দাপটে ছিলেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ও তার বলয়ের নেতাকর্মীরা। রাজপথ কাপিয়েছেন মূলত তৈমূর বলয়ের নেতাকর্মীরাই। কিন্তু তৈমূর আলম খন্দকার রাজনৈতিক মারপ্যাচের কারণে হেরে গিয়ে আজ শীতলক্ষ্যায় ডুবতে বসেছে তৈমূর বলয়। শহর বন্দর কেন্দ্রীক রাজনীতিতে তৈমূর বলয় এখন বিলুপ্তির পথে। যদিও নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ধ্বংসের মহানায়কই হলেন তৈমূর আলম খন্দকার। এই এবিষয়টি জানতে পেয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা নতুন জেলা ও মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটিতে তৈমূরে কোন পদই দেননি। এদিকে, শুধুমাত্র তৈমুর আলমের ভাই মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের যুবদলের নেতাকর্মীরা ছাড়া বাকিদের একে একে চলে যাচ্ছে তৈমূর বিরোধীদের সঙ্গে। অন্যদিকে পুরোদমে তৈমূর আলম মনোনিবেশ করেছেন রূপগঞ্জ এলাকায়। যদিও খোরশেদের কখনো এমপি আবার কখনো প্যানেল মেয়রসহ নতুন নতুন খায়েশের কারণে তাকেও ছেড়ে যাচ্ছেন নেতাকর্মীরা। জানা গেছে, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক থেকে আহ্বায়ক সর্বপরি ২০০৯ সালে জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পান তৈমূর আলম খন্দকার। দীর্ঘ ৮বছর সভাপতি থেকে রাজনীতি করেন তিনি। মূলত শহর কেন্দ্রীক রাজনীতি ছিল তৈমূর আলমের নিয়ন্ত্রনে। কমিটি গঠন করে নিজ বলয়টি পোক্ত করেছেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর নিজ বলয়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এ এলাকায় সাবেক এমপি আবুল কালামের বলয় থাকলেও তারা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। তারাও নিষ্ক্রিয় বিলুপ্ত হওয়ার পথে ছিল। তবে হঠাৎ তৈমূরের ক্ষমতার লোভ চলে আসলে ধীরে ধীরে ধ্বংশ হতে থাকে তৈমূর বলয়। এমনপি তার বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সাথে আতাঁতের অভিযোগ উঠে। তিনি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকীতে আয়োজিত কর্মসূচীতে উপস্থিত না থেকে ক্ষমতাসীন দলের নেতার মেয়ের বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নিয়ন্ত্রত করতে নানা কৌশল ব্যবহার করলেও শেষ অবস্থায় নেতাকর্মীরা তা বুঝতে পেরে তৈমূরকে ছেড়ে চলে যায়।
এক সময় বন্দর ও শহর বিএনপির মূলধারার নেতারা ছিলেন তৈমূর আলম বলয়ে। কিন্তু রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন না এবং ছিলেন না কোন কর্মসূচিতেও। তৎকালীন শহর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহমেদ, সহ-সভাপতি জাকির হোসেন, সরকার হুমায়ুন কবির, সুরুজ্জামান, হাজী শাহিন, যুগ্ম সম্পাদক নুরুল হক চৌধুরী দিপু সহ শহর বিএনপির নেতারা ছিলেন তৈমূর আলম বলয়ে। যদিও শহর বিএনপির বিদ্রোহী কমিটিতে সভাপতি নুরুল ইসলাম সর্দার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন আবু আল ইউসুুফ খান টিপু। এছাড়াও বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী নুরউদ্দীন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল হক হিরন, সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল হোসেন, বন্দর কদমরসুল পৌরসভা বিএনপির সভাপতি নূর মোহাম্মদ পনেছ, সাধারণ সম্পাদক শাহ মাজহার, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহেন শাহ আহমেদ সহ মুলধারার নেতারা ছিলেন তৈমূর বলয়ে। এছাড়াও এখানে বিদ্রোহী কমিটির সভাপতি ছিলেন আতাউর রহমান মুকুল, সাধারণ সম্পাদক হান্নান সরকার ও পৌর কমিটিতে আজহারুল ইসলাম বুলবুলকে দিয়ে বিদ্রোহী কমিটি হয় যারা আবুল কালাম বলয়ে ছিলেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এতে ছিটকে পরেন তৈমূর আলম। এর থেকে তৈমূর আলমের বলয়ের এটিএম কামাল, জাকির হোসেন, সরকার হুমায়ুন কবির ও হাজী নুরউদ্দীন আহমেদ সহ অনেকেই আবুল কালাম বলয়ে চলে যান। এদিকে বৃহস্পতিবার হাসান আহমেদ আবুল কালাম বলয়ে চলে গেছেন। গুঞ্জন রয়েছে যে কোন সময় সুরুজ্জামান, হাজী শাহিন, নুরুল হক চৌধুরী দিপুও আবুল কালাম বলয়ে চলে যেতে পারেন। এছাড়াও তৈমূর বলয়ের কেউ কেউ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাখাওয়াত বলয়ে চলে গেছেন। সাখাওয়াত বলয়ে দেখা গেছে বন্দর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল হক হিরন ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মাজহার সহ বেশকজন। বর্তমানে মহানগর যুবদলের আওতাধীন ২৭টি ওয়ার্ড যুবদলের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রন তৈমূর আলমের বাহিরে চলেগেছে। বর্তমান শহরে সুবিধা জনক অবস্থা না থাকায় তৈমূর আলম খন্দকার রূপগঞ্জে পারি জমিয়েছেন। শহরের রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ে তিনি এখন আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে রূপগঞ্জে নতুন বলয় তৈরী করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে রূপগঞ্জের একাধিক নেতা বলছেন তৈমূরের নেতৃত্বে রূপগঞ্জ বিএনপিও ধ্বংশ হবে অচিরেই।

শামীম-আইভীর মধ্যে বরফ গলতে শুরু করেছে

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের বিবধমান দুই গ্রুপের কোন্দল ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে বলে নেতাকর্মীদের ধারণা। শামীম ওসমান ও সেলিনা হায়াৎ আইভীর মধ্যে যে বৈরিতা ছিল তা অচিরেই অবসান ঘটবে এমনটাই আশা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের। নেতাকর্মীরা চায় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাড় করাতে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের দুই সিপাহশালা শামীম ওসমান ও সেলিনা হায়াৎ আইভির ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। পাশাপাশি জাতীয় পার্টির সাংসদ হওয়া স্বত্ত্বেও সেলিম ওসমান মনে প্রাণে বিশ্বাস করে শামীম-আইভীর ঐক্য হলে নারায়ণগঞ্জের বর্তমান অবস্থা পাল্টে যাবে। দৃশ্যমান হবে ক্ষমতাসীন দলের উন্নয়ন কর্মকান্ড। দেশের অন্যান্য জেলার চাইতে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন খুব দ্রুত গতিতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনও এ ব্যাপারে অনেকটা সরব। তারাও চায় সাংসদ সেলিম ওসমানের মত সকল জনপ্রতিনিধির মধ্যে ঐক্য গড়ে উঠুক। আর এ ঐক্য গড়ে উঠার লক্ষ্যে সাংসদ সেলিম ওসমান প্রায় সাড়ে তিন বৎসর যাবৎ জনপ্রতিনিধি বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষকে এক টেবিলে বসার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। সর্বশেষ জেলা পরিষদের নির্বাচন এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নির্বাচনকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ নগরবাসী ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে। এই দুই নির্বাচন শেষে অধিকাংশ নেতাকর্মী মনে করছেন বরফ গলতে শুরু করেছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত শামীম ওসমান ও সেলিনা হায়াৎ আইভিকে একত্রে কোন অনুষ্ঠানে দেখা যায় নি। কিন্তু গত ১০ মাসে শামীম কিংবা আইভি কেউ কারো বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোন কটু মন্তব্য করেন নি। এতেই বুঝা যায় দুই জনের মধ্যে অতীতের রেশারেশী অনেকটা কমে এসেছে। সাধারন নেতাকর্মীরা চায় দুই জনের ঐক্য। আর নারায়ণগঞ্জবাসী চায় নগরীর উন্নয়নে একে অপরের বিরোধীতা নয় বরং সহযোগীতা করে নারায়ণগঞ্জকে একটি মডেল জেলায় পরিনত করতে। ইতিমধ্যে শামীম পন্থি হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা মতিউর রহমান মতি প্যানেল মেয়র নির্বাচিত হয়ে মেয়র আইভীকে ফুলেল শুভেচ্ছাসহ একত্রে ফটোসেশন করে তার দোয়া চেয়েছে। অপরদিকে আইভি পন্থি হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীর আলম জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে রাইফেল ক্লাবে গিয়ে শামীম ওসমানের সহযোগীতা কামনা করেছেন। দুই পক্ষের এই আনাগোনাকে অনেকে দুতিওয়ালী হিসেবে দেখছে। এইসব কর্মকান্ডে নেতাকর্মীরাও খুশি তারাও চায় নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন তথা দলের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শামীম ওসমান ও সেলিনা হায়াৎ আইভী একত্রে কাজ করুক। অনেকে বর্তমান অবস্থাকে ভালো দৃষ্টিতে দেখলেও একটি পক্ষ শামীম-আইভীর ঐক্যে পর্দার অন্তরাল থেকে বিরোধীতা করছে বলে অপর একটি সূত্র জানায়। তবে নগরবাসী মনে করে নিজের প্রভাব প্রতিপত্তির চাইতে সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনসহ নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে উভয়ের এক হওয়া জরুরী। দেরিতে হলেও তারা এটা হয়তো অনুভব করতে পেরেছেন। আর এক্ষেত্রে প্রশাসনসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ঐক্য ও সমন্বয় থাকা জরুরী বলে নারায়ণগঞ্জবাসী মনে করে।

রাজনৈতিক খেলায় জয়ী শামীম ওসমান!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী রাজনীতিতে শামীম ওসমানের সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অনেকটা হেরে গেছেন। এই দুই নেতার নেতৃত্বে যারা বিদ্রোহ করেছিল তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তেমন একটা উপস্থিতি দেখা যায় নি। পাশাপাশি জেলা পরিষদ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নির্বাচনে এই দুই নেতার কোন প্রার্থী বৈতরনী পার হতে পারে নি। তাই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে আলাপকালে তারা জানায়, শামীম ওসমানের কারিশমার কাছে আনোয়ার হোসেন ও খোকন সাহা হেরে গেছেন। তারা এখন অনেকটা নেতাকর্মী শূন্য হয়ে পড়েছেন। খোদ তার একসময়ের সহযোগীদের মন্তব্য। এতদিন দ্বিমুখী ও ত্রীমুখী কোন্দল বিগলিত হয়ে আওয়ামী লীগে শামীম-আইভিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ নেতারা এখন মিলনের হাওয়ায় দুলছে। খোকন সাহা ও মাহামুদা মালা ওসমান পরিবারের ঘনিষ্টজন হওয়া সত্বেও এই সব অডিও গুলোতে ওসমান পরিবারকে নিয়েই বিষোদগার করা হলেও রহস্যজনক কারণে এখনো পর্যন্ত ওসমান পরিবার বিশেষ করে সাংসদ শামীম ওসমানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যে কারণে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি মিডিয়াও অনেকটা বিভ্রান্ত বলা চলে। তবে শামীম ওসমানের একাধিক ঘনিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক ভাবে শামীম ওসমান বিষয়টিকে অত্যন্ত শক্ত হাতে মোকাবেলা করেছেন। তার প্রতিপক্ষ তাকে এবং অপর সাংসদ সেলিম ওসমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। কারণ শামীম ওসমান রাজনীতিকে রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করে আনোয়ার-খোকনকে কুপোকাত করেছেন। ইতিমধ্যে খোকন সাহা ও মাহমুদা মালার কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর শুধু আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছেই তাদের গ্রহণ যোগ্যতা নষ্ট হয়নি বরং সাধারণ মানুষও বিষয়টিকে ভিন্ন চোখে দেখছেন। ইতিমধ্যে শামীম ওসমান তার রাজনৈতিক পরিপক্কতা অনেকটাই প্রমাণ করেছেন। যে কারণে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন প্রথম দিকে খোকন সাহার সাথে সুর মিলিয়ে কথা বললেও পরবর্তিতে এই সব বক্তব্যকে কাঁদা ছুড়াছুড়ি বলে মন্তব্য করে তা বন্ধের দাবী জানান। আনোয়ার হোসেনের এই বক্তব্যকে সাধারণ নেতাকর্মীদের মতে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের ধারণ ছিল তাদের সাথে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সিনিয়র সহ-সভাপতি সুর মিলাবেন। কিন্তু অদ্যাবধি এসম্পর্কে সিটি মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী কোন প্রকার মন্তব্য করেন নি। বরং আনোয়ার-খোকনকে মাঝ পথে রেখে অন্য তীরে তীর ডোবানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে নারায়ণগঞ্জবাসী মনে করেন। তবে গত বাজেট অধিবেশনে বক্তব্যের এক পর্যায়ে সেলিনা হায়াত আইভী বলেছিলেন, অচিরেই আনোয়ার গং আবার ফিরে আসবে। এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই আনোয়ার গংরা ওসমান পরিবারের পক্ষ ত্যাগ করে কি পেয়েছেন। কিন্তু এবার তাদেরকে সেলিনা হায়াত আইভী স্বাগত জানান নি। অপর দিকে যুব মহিলা লীগের জেলা সভাপতি বাবলী ও মহানগর কমিটির সভাপতি সুইটির নেতৃত্বাধীন কমিটিকে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বৈধ বলে স্বীকার করেছেন। একই ভাবে কৃষক লীগের নয়া কমিটিকেও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বৈধতা দিয়েছেন। সর্বশেষ মহানগর স্বেচ্ছা সেবক লীগের নতুন কমিটিতেও শামীম ওসমানের অনুসারিরা রয়েছেন। যে কারণে খোকন সাহা ও মাহমুদা মালা অনেকটা এক ঘরে হয়ে পড়ছেন বলে আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা দাবী করেছেন। যদিও মহানগর আওয়ামীলীগের কেউ এব্যাপারে মুখ খুলছেন না তবে অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে খোকন সাহা দলীয় কোন্দলের কারণে দেয়া তার বক্তব্যকে রাজনীতি বলে দাবী করলেও সেই রাজনীতিতে শেষ পর্যন্ত খোকন সাহা শামীম ওসমানের কাছে হেরে গিয়ে পথে বসতে চলেছেন এমনটাই মন্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। এদিকে সম্প্রতি জেলা পরিষদের নির্বাচনে ২নং ওয়ার্ড সদস্য পদে আনোয়ার হোসেন ও খোকন সাহার প্রার্থী আহসান হাবীব একটিও ভোট পাননি। এই জেলা পরিষদের নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে কর্মীবিহীন নেতাদের কদর দিন দিন কমে যাচ্ছে।

প্যানেল মেয়র নির্বাচন দিয়ে বিএনপিতে নতুন কোন্দল

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দলে যেখানে ঐক্য সৃষ্টি হওয়ার কথা, সেখানে সদ্য অনুষ্ঠিত ব্যালট বিহীন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপিতে সৃষ্টি হয়েছে নতুন করে কোন্দল। অর্থাৎ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ পদে নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী কাউন্সিলর আফসানা আফরোজ বিভার কাছে মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির অনেক নেতাকর্মীরা। যদিও সমালোচনাকারীরা খোরশেদের অথবা তার ভাই তৈমূর আলম খন্দকারের অনুসারী। এতদিন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার বলয়ে থাকলেও মহানগর বিএনপি নেতা মজিদ খন্দকারের ভাই হাসান আহাম্মেদ নিজের স্ত্রী বিভাকে প্যানেল মেয়র নির্বাচিত করার শর্তে ঘটি পাল্টে সাবেক এমপি মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালামের ঘরে ভীড়ায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কারন, প্যানেল মেয়র-১ পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ ও প্যানেল মেয়র-৩ পদে আফসানা আফরোজ বিভা যদি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতো তাহলে বিএনপির কাউন্সিলরদের ভোটেই তারা প্যানেল মেয়র নির্বাচিত হতে পারতেন। কিন্তু হাসান আহাম্মেদ তা না করে কালামের সহযোগিতায় আওয়ামীলীগের নেতা হাজী ওবায়েদুল্লাহর সাথে আঁতাত করে অর্থেও বিনিময়ে কাউন্সিলরদের আয়ত্বে এনে আফসানা আফরোজ বিভাকে প্যানেল মেয়র-১ নির্বাচিত করান। আর মাত্র ৫ ভোট পেয়ে পরাজিত মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। যদিও এর চেয়ে বেশি ভোট খোরশেদ পেতো না বলে জানান একাধিক বিএনপি পন্থি কাউন্সিলর। কেননা নারায়ণগঞ্জ বিএনপির ধ্বংশের মহা নায়ক খোরশেদের ভাই তৈমূর আলম খন্দকার। এছাড়াও খোরশেদ কখন এমপি আবার কখনো মেয়র হওয়া থায়েশ নতুন কিছু নয়। তাই বিএনপি পন্থি কাউন্সিলররাও সুবিধাবাদি নেতা খোরশেদকে ভোট দেয়নি। আর যারা দিয়েছে তাদেরকে ম্যানেজ করেই ভোট নিয়েচে খোরশেদ। একজন নারীর কাছে লজ্জাজনক পরাজয়ে প্রমাণ হয়েছে জনপ্রিয়তা না থাকলেও খোরশেদের এমপি প্রার্থী হওয়ার ঘোষনার পিছনে মূলত বিশেষ সুবিধা রয়েছে। নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য প্রার্থীর কাছে সুবিধা নেওয়ার লক্ষ্যেই এমপি প্রার্থী হওয়ার ঘোষনা দিয়েছে। এদিকে এই প্যানেল মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৈমূর ও মজিদ বলয়ের মধ্যে নতুন করে কোন্দলের সৃষ্টি হলো বলে মন্তব্য করেন তারা। পরাজয়ের পর খোরশেদ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন, এড. আবুল কালাম, বন্দর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুলের ছবি সম্বলিত একটি সংবাদ পোস্ট করে মন্তব্য করেন, ‘তারা আসল বিএনপি’।নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, ‘হায়রে বি এন পি — ভোট আছে ১৪ টি এক প্রার্থী পাইছে ৫ টি আরেকজন পাইছে ৮ টি। যার মধ্যে অন্য দলের ভোটও আছে। কবে তোরা মানুষ হবি? ঈমান বিক্রি আর কত করবি? নিরপেক্ষ লেবাসধারী ব্যক্তির পক্ষপাত মূলক আচরন, উন্নয়নের নামে লোভনীয় অফার অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা কি আমাদের আছে নিশ্চই নেই। তবে প্রকৃতি যে বড় নির্মম যথা সময়ে তার হিসেব সুদে আসলে ফেরত নিয়ে নিবে। যা আমরা সহজে ভুলে যাই, যা মোটেই কাম্য নয় কারন এর পরিনাম ভয়াবহ ইতিহাস তাই সাক্ষী দেয়।’ প্রসঙ্গত, গত ২৭ সেপ্টেম্বর নগর ভবনে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ নির্বাচিত হন সংরক্ষিত আসনের ১৬, ১৮ ও ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফসানা আফরোজ বিভা। যিনি পান ১৬ ভোট। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী আওয়ামীলীগ নেতা ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু পেয়েছেন ১৩ ভোট। আর যার প্যানেল মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আশংকা ছিল, সেই ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ পেয়েছেন মাত্র ৫ ভোট।

ভ্রাম্যমান দোকানের কারণে পথচারীদের দূর্ভোগ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে যত্রতত্র ভ্রাম্যমান দোকান তৈরী করে সেখানে ব্যবসার কারনে নগরীতে চলাচলরত পথচারীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এমনই চিত্র দেখো গেছে শহরের জিমখানা মোড় এলাকায়। নিজেদের ইচ্ছে মত দোকান বসিয়ে এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ীরা এসব দোকান থেকে প্রতিদিন ভাড়া বাবদ অবৈধ ভাবে চাঁদা আদায় করছেন। রাস্তার উপরই কেউ ফলের দোকান, কেউ পাখি বিক্রি করার দোকান নিয়ে বসেছেন। চলাচলের রাস্তায় চৌকি বসিয়ে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় পথচারীদের পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার সকালে সরেজমিন এমনই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। শহরের জিমখানা মোড়ের উত্তরাংশে এক বৃদ্ধ লোককে একটি চৌকি বসিয়ে কিছু ফল বিক্রি করতে দেখা যায়। এ সময় সাধারন পথচারীরা ভীড়ের কারনে চলাচলে অসুবিধা দেখতে পেয়ে ওই ফল ব্যবসায়ীর কাছে জানতে চাওয়া হয় কেন তিনি এভাবে একটি বড় চৌকি বসিয়ে রাস্তার পথচারীদের চলাচলে কেন ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন? উত্তরে ওই ব্যবসায়ী জানান আপনার কাছে কৈফিয়ত দিতে হবে আমার। আমি এখানকার পুরানো ব্যবসায়ী। সাধারন পথচারীরা এ সময় তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করে জানান, এই জিমখানা মোড়ে যে যার ইচ্ছে মতো দোকান বসিয়ে ব্যবসা করছে। তাদের কান্ড দেখে মনে হয় তাদের বলার যেন কেউ নেই। তাছাড়া এখানকার অনেক দোকানদার তাদের দোকানের বাইরেও অতিরিক্ত চৌকি বসিয়ে দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।’ আর এমন দৃশ্য দেখে ক্ষোভে একজন পথচারী বলেন, সড়ক তো চলাচলের নয়, ‘যেন দোকানীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।’ এসব বিষয়গুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের সু-নজর দেয়া উচিত বলে মনে করেন সচেতন মহল।

অনিয়ম যেখানে সেখানে আমার প্রতিবাদ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের অনেক ঐতিহ্য রয়েছে। সেই ঐতিহ্যকে আবার ফিরিয়ে এনে প্রাচ্যের ডান্ডির সুনাম রক্ষা করতে হবে। নারায়ণগঞ্জের অনেক গৌরবী খেলোয়ার জাতীয় দলে খেলেছেন। সেই দিনকে আবারও ফিরিয়ে আনতে খেলা নিয়ে কোন রাজনীতি নয়। রাজনীতি মাঠে রাজনীতি খেলার মাঠে খেলা। বিত্তবানরা যদি রিয়াজ উদ্দিন আল মামুনের মতো পৃষ্টফোষকতা করে বিভিন্ন খেলার আয়োজন করে তবে সমাজ থেকে মাদক নিয়ন্ত্রণ হয়ে যাবে। আমি নারী হয়ে প্রতিবাদ করে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে টিকে আছি। আমাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে বিতারিত করার অনেক চেষ্টা হয়েছে কিন্তু পারেনি। আর পারবেও না। যেখানে অনিয়ম আমি সেখানে প্রতিবাদ করেই যাব। গতকাল শুক্রবার বিকেলে বন্দরের কদম রসুল কলেজ মাঠে বন্দর উপজেলা ক্রীড়া কল্যাণ পরিষদ আয়োজিত নূওউদ্দিন আহম্মেদ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। খেলার উদ্বোধন করেন ইপিলিয়ন প্রুপের চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন আল মামুন। বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আাউর রহমান মুকুলের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী খেলায় অংশ গ্রহণ করেন নারায়ণগঞ্জ বঙ্গবীর সংসদ ও বন্দরের নৌবাহিনী ডক ইয়ার্ড। খেরা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌ-বাহিনীর ক্যাপ্টেন এম. নিয়ামত আলী, লায়ন প্রকৌশলী এম.এ ওহাব, মোঃ জুনাইদ আবু সারেহ মুসা, আশরাফ আলী চৌধুরী, অধ্যক্ষ মাহতাব উদ্দিন, কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহাম্মেদ দুলাল প্রধান, হান্নান সরকার। খেলার আহেবায়ক ছিলেন রফিকুর রহমান কাজল, ক্রীড়া সম্পাদক শিপলু ভূইয়া, ক্রড়া কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আলী আজহার তৌফিক, সাধারণ সম্পাদক বাবু সারোয়ার।

দল যাকে মনোনয়ন দিবেন তার পক্ষে কাজ করার ঘোষনা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস আজকের নয়, ব্রিটিশ আমলের। বর্তমানে দেশে এ সরকারের কারণে কোন গণতন্ত্র নেই। ভোটবিহীন নির্বাচনে বিশ্বাসী এ শেখ হাসিনার সরকার। আর ১টাকা বৃদ্ধি করে দেন ৭১ টাকা কেজিতে দেশের মানুষ চাল ক্রয় করুক। এ সরকারের সময় দেশে ৭৪ সালে দুর্ভিক্ষ লেগেছিল আবার দেশকে সেদিকে এগিয়ে নিচ্ছে তারা। তাই এসব থেকে দেশের মানুষকে মুক্ত করতে সুষ্ঠুভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে নাসিক ২৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকার পতনের আন্দোলনে মামলা হামলাকে এখন দেশের মানুষ আর ভয় করেনা। আপনাদের কাছে তথা বন্দরবাসীর কাছে আমি নাসিক মেয়র হিসেবে যে ভোট চেয়েছিলাম এবং আপনারা আমার পাশে থেকেছেন সেজন্য আপনাদের কাছে ধন্যবাদ। আগামীতেও এ আসনের সংসদ নির্বাচনে যে ধানের শীষের প্রার্থী হবেন তাকে ভোট দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি। সাখাওয়াত বলেন, নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যাকে মনোনয়ন দিবেন তার পক্ষে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো। দল যদি আমাকে বা অন্য কাউকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন তাহলে তাকে নিয়েই মাঠে নামবো। আগামীতে সরকার পতন আন্দোলনে দলের সকলকে ঐক্যের আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে এখন জাল ফেললে মাছ নয় লাশ উঠে। আপনারা জানেন আলোচিত সাত হত্যা মামলায় সরকার আসামীদের বাঁচাতে চেয়েছিলেন। আমরা আন্দোলন করে হত্যাকারীদের বিচার থেকে বাঁচতে দেইনি। বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সকল নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকার পতন আন্দোলনের যে কোর মামলায় সকলকে বিনা পয়সায় সহায়তা দেয়া হবেঅ আমি আপনাদের পাশে থাকবো। দল করতে গেলে সকল আইনী সমস্যার সহায়তা দেয়া হবে। দেশকে বর্তমান সরকার সন্ত্রাসের রাজ্য বানিয়ে রেখেছে। বন্দর থানা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান বক্তা বন্দর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মাজহারুল হক, বিএনপি নেতা কফিলউদ্দিন, আব্দুল মজিদ, রফিকুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, সলিমুল্লাহ বাবুল, ইকবাল উদ্দিন, আমিরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, পারভেজ মল্লিক, সুমন প্রধান, সুমন হাওলাদার প্রমুখ।

নারায়ণগঞ্জ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির লীলাভূমি

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
শহরের টানবাজার বঙ্কঁবিহারী জিউর আখড়া ও হনুমান বিগ্রহ জিউর মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। গত বৃহস্পতিবার রাতে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে তিনি টানবাজার বঙ্কঁবিহারী জিউর আখড়া পূজা মন্ডপ পরিদর্শন কালে ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির লীলাভূমি নারায়ণগঞ্জে সকল ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীন ভাবে পালন করছেন। শুধু নারায়ণগঞ্জ নয় সাড়া দেশেই সকল ধর্মের মানুষ ধর্মীয় উৎসব গুলো একমাত্র আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে পালন করতে পারে। বিশ্বে মানবতার জননী হিসেবে স্বীকৃত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা আসার পর থেকে প্রমান করেছেন ধর্ম যার যার-উৎসব সবার। এসময় সাংসদ শামীম ওসমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি লিটন সাহাসহ বাসু দেব চক্রবর্তী, সানাউল্লাহ প্রমুখ। এসময় শামীম ওসমান পূজা কমিটির সদস্যরা যেভাবে অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রত্যন্ত এই এলাকার পূজা মন্ডপের পরিবেশ সুন্দর ও নিরাপদ রেখেছেন, তাতে করে সকলের প্রশংসা করেন। ধর্মীয় সম্প্রীতির যে ঐতিহ্য রয়েছে নারায়ণগঞ্জের, তা ভবিষ্যতের অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশা করছি এবং সকলকে শারদীয় দূর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

বিতর্কিত হাসানকে নিল কালাম!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
শহর কেন্দ্রীক বিএনপির রাজনীতিতে মূলত দেওভোগ এলাকার ভুমিকা থাকে উল্লেখ্যযোগ্য। মূলত জাকির খান এবং আব্দুল মজিদ ও তার ভাই হাসান আহমেদদের দুটি বলয় রয়েছে। ইতোমধ্যে জাকির খানের লোকজন কাজ করছেন সাখাওয়াতের সঙ্গে। আর জাকির খানকে ঠেকাতে এবার হাসান বাহিনীকে টেনে নিয়েছেন সাবেক এমপি আবুল কালাম। জাকির খান রয়েছেন পলাতক। হাসান আহমেদও অতীতের বিভিন্ন কর্মকান্ডে বিতর্কিত। তবে হাসানদের চেয়ে জাকির খানের সমর্থক বেশি। তবে আবুল কালাম কৌশলে হাসান ও জাকির খানকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। শহরের রাজনীতিতে সাখাওয়াত যখন প্রভাব বিস্তার করেছেন তখন হাসানকে নিয়ে অবস্থান ধরে রাখতে চাচ্ছেন আবুল কালাম। এমনটাই জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা। নেতাকমীরা জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-৫(শহর-বন্দর) আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা নিয়ে নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায় কর্মসূচি পালন করছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। সাখাওয়াত হোসেন খানকে সহযোগীতা করছেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানের কর্মী সমর্থকরা। এ আসন থেকে বেশকবার নির্বাচিত হয়েছিলেন সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম।ফলে শহর কেন্দ্রীক রাজনীতিতে আবুল কালাম পিছিয়ে পড়েছেন। যদিও এক সময় হাসান আহমেদ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলয়ে রাজনীতি করেছিলেন। মহানগর বিএনপিতে জাকির খানের সমর্থকদের স্থান না দেয়ার বিষয়ে ক্ষুব্দ হয়ে ওঠে জাকির খান সমর্থকরা। শহর ছাড়াও বন্দর এলাকায় জাকির খানের লোকজনদের নিয়ে বিএনপির কর্মসূচি পালন করছেন সাখাওয়াত খান। ত বৃহস্পতিবার রাতে শহর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহমেদ মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালামের হাতে ফুল দিয়ে মুলধারায় ফিরে যান। ওই সময় হাসান আহমেদের সঙ্গে ছিলেন ভূমিদস্যূ এসএম আসলাম, যুবদল নেতা সরকার আলম সহ বেশকজন নেতাকর্মীরা যারা হাসানের বলয়ে রাজনীতি করেন। তবে নেতাকর্মীরা বলেছেন, জাকির খান ও হাসান সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধিয়ে দিতেই আবুল কালাম এ কৌশল নিয়েছেন। জাকির খানের সমর্থকদের ঠেকাতে হাসানকে টেনেছেন আবুল কালাম।