প্রতারক চক্রের ছয় সদস্য গ্রেফতার

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

টাকার বিপরীতে ডলার ডাবল করার যাদু দেখিয়ে ব্যবসায়ীর ২ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় সাবেক চেয়ারম্যানসহ জালিয়াত চক্রের ৬ সদস্যকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশ। এসময় তাদের কাছে থাকা ২৬ হাজার ইউএস ডলার, নগদ ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা, পাসপোর্ট উদ্ধার এবং তাদের ব্যবহৃত ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করা হয়। গতকাল শুক্রবার সকালে নগরীর খানপুরস্থ জেলা গোয়েন্দা শাখা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য জানান, ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মাহবুবুর রহমান। তিনি জানান, গত ২৭ জুলাই শহরের বিবি রোডস্থ গ্র্যান্ডহল রেস্টুরেন্ট ও ঢাকা বারিধারায় “সুপ্তি সুয়েটার কোম্পানী ” মালিক মোস্তাফিজুর রহমান মামুন এর নিকট হতে টাকার বিপরীতে ডলার ডাবল বানানোর যাদু দেখিয়ে ২ কোটি ১ লাখ ৫০ পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রতারণা করে নিয়ে যায় একটি জালিয়াত চক্র। এরপর এই সংক্রান্তে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা হয়। মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ সুপার মঈনুল হক, পিপিএম তা ডিবিতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।  পরবর্তীতে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মাহাবুবুর রহমান এর তত্ত্বাবধানে এসআই মফিজুল ইসলাম (পিপিএম), এসআই মনিরুজ্জামান, এসআই আরিফুল ইসলাম ও সঙ্গীয় ফোর্স চাঁদপুর মতলব থানা, গাজীপুর জেলার শ্রীপুর, কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর থানা এবং ডিএমপি খিলগাঁও, ডেমরা থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গত বৃহস্পতিবার  রাতে প্রতারক চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কিশোরগঞ্জ জেলাধীন বাজিতপুর থানার বাগপাড়া গ্রামের মৃত ওয়ালি খাঁনের পুত্র মিজবাহ উদ্দিন খাঁন শাফি চেয়ারম্যান ওরফে শামীম ওরফে ফারুক হুজুর (৬০) ও তার পুত্র আমিরুল খান (৩০), কুলিয়ারচর থানাধীন বড়চারা গ্রামের মৃত মোমতাজ উদ্দিন খানের পুত্র মজিবুর খান (৫৪), চাঁদপুর জেলার উত্তর মতলব থানাধীন ইমামপুর গ্রামের আব্দুর রব দেওয়ানের পুত্র মফিজুল ইসলাম শান্ত ওরফে ইসলাম (৩১), গাজীপুর জেলাধীন শ্রীপুর থানার সাতখামাইর এলাকার মৃত আনোয়ার উদ্দিন আকন্দ ওরফে আনুর দুই পুত্র এমদাদুল হক আকন্দ (৪৫), কামরুজ্জামান আকন্দ (৪০)।  মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মফিজুল ইসলাম (পিপিএম) জানান, প্রতারক চক্রটি দেশের বিভিন্ন বড় বড় ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে প্রথমে তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেন। এরপর তারা বিদেশী এনজিও প্রতিষ্ঠানের সদস্য পরিচয় দিয়ে বিদেশী কাল টাকা সাদা করার জন্য ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে ঋণ প্রদানের জন্য তাদের ভূয়া এনজিও প্রতিষ্ঠানের সদস্য বানান। পরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদেরকে টাকার বিপরীতে ডলার ডাবল করার যাদু দেখান। টাকা/ডলারের সাথে কাগজ মিশিয়ে স্প্রে করে একটি কসটেপ দ্বারা মোড়ানো কাঁচের বাক্সে টাকাগুলো রাখেন। চোখের পলকে বাক্স পরিবর্তন করে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা কে ১ লাখে রূপান্তরিত করে তাক্ লাগিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রলোব্ধ করেন। পরে মোটা অংকের টাকা অর্থাৎ কোটি কোটি টাকা ডলারে পরিবর্তন করিয়ে ডলারকে ডাবল করার কথা বলে বাক্স পরিবর্তন করে প্রতারণা পূর্বক টাকা আত্মসাৎ করে উধাও হয়ে যায় চক্রটি।’ মামলার বিবরনীতে জানা যায়, গত ২০ জুলাই নারায়নগঞ্জ শহরের গ্র্যান্ডহল রেস্টুরেন্টে বাদী মামুনের সাথে প্রতারক চক্রের সাক্ষাত হয়। সেখানে তার সামনে প্রথমে ৫০ হাজারকে ১ লাখে রূপান্তরিত করে প্রলোব্ধ করে প্রতারক চক্রটি। পরে গত ২৯ জুলাই ঢাকাস্থ বারিধারায় বাদীর অফিস কক্ষে ২ কোটি টাকার সম পরিমান ডলারকে ডাবল করার যাদু দেখিয়ে প্রতারণা পূর্বক ডলারগুলো আত্মসাৎ করে লাপাত্তা হন এই আসামীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *