আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:০৮
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

উদ্যোগের অভাবে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কোন্দল নিরসন হচ্ছেনা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কোন্দল দিন দিন বেড়েই চলছে। বিশেষ করে আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এই কোন্দলকে আরো বেশি চাঙ্গা হচ্ছে। এর ফলে সাংগঠনিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। তবে এই কোন্দল নিরসনে এখনো কাউকে উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। বরং কেউ কেউ এই কোন্দলকে আরো চাঙ্গা করে নিজস্ব ফায়দা আদায় করার অপেক্ষায় রয়েছে। অনুসন্ধানে জানাগেছে, দীর্ঘ বছর টানা আন্দোলন সংগ্রাম করে জিমিয়ে পরেছিল নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। পরবর্তিতে জেলা ও মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি গঠনের পরই নারায়ণগঞ্জ বিএনপি আবারো চাঙ্গা হতে শুরু করে। রাজপথে দেখা মিলে তৃণমূল পর্যায়ের সকল নেতাকর্মীর। তবে তা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। শুরু হয়ে যায় দলীয় কোন্দল। সাধারণ নেতাকর্মী বলছে, নতুন করে এই কোন্দল সৃষ্টির মূলেই রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার ও সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন। অভিযোগে রয়েছে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির তৈমূর আলম খন্দকারের নিয়ন্ত্রনে থাকলেও নতুন আংশিক কমিটিতে তাকে সদস্য পদেও রাখা হয়নি। কেননা নারায়ণগঞ্জ বিএনপির ধ্বংশের মহা নায়ক হিসেবে তৈমূরকে দায়ী করা হয়। এছাড়াও তৃণমূলের দাবীও ছিল তৈমূর মুক্ত নারায়ণগঞ্জ বিএনপি চাই। আর তৃণমূলের এই চাওয়া পূরণের পরই তৈমূর তার নিয়ন্ত্রন আবারো ফিরে পেতে তারই কিছু অনুসারিদের দিয়ে জেলা বিএনপিতে কোন্দল সৃষ্টি করছে। এরই মধ্যে তৈমূর এখন শহর ছেড়ে রূপগঞ্জে গিয়ে রাজনীতি করছে। অপরদিকে ফতুল্লায় কেন্দ্রীয় নেতারা এসে যখন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী হিসেবে শাহ্ আলমকে যোগ্য বলে ঘোষনা করে বক্তব্য দিচ্ছেন তখন চিন্তিত হয়ে পরেন এই আসনের সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন। নিজের বলয় কিছু লোকদের দিয়ে দলীয় কোন্দল সৃষ্টি করে ফায়দা আদায়ের চেষ্টা করছেন। আর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মনোনয়ন নিয়ে এরই মধ্যে মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি আবুল কালাম নতুন করে দলের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি করছেন।
জানাগেছে, শীর্ষ নেতাদের কোন্দলের কারণে দলীয় অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের উপস্থিত তেমন চোখে পড়ছে না। পাশাপাশি অনেকে নেতাই কেন্দ্রীয় কর্মসূচী পৃথক ভাবে পালন করাছেন। নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ না থাকায় কর্মসূচীতে পুলিশের হানায় সফল হচ্ছে না। যার প্রমান পাওয়া গেছে গত বুধবার নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মহানগর বিএনপির অনুষ্ঠানে। নেতাকর্মীদের অপস্থিতি কম থাকায় খুব সহজেই পুলিশ প্রতিবাদ সমাবেশ পন্ড করে দেয়। এর আগে একই স্থানে জেলা বিএনপির একটি অনুষ্ঠানে হানা দেওয়ার সাথে সাথেই জেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান নেতাকর্মীদের রেখেই মটর সাইকেল যোগে পালিয়ে যান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শীষ নেতাদের কোন্দলের কারণে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির যে কোন কর্মসূচী সফল করতে সকল নেতাকর্মীরা উপস্থিত হচ্ছে না। যদি সকল নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ ভাবে উপস্থিত থাকলে পুলিলের পক্ষে অনুষ্ঠান পন্ড করা কঠিক হয়ে দাঁড়াতো। অথচ এই কোন্দল নিরসনে এখনো পর্যন্ত কেউ উদ্যোগী ভূমিকা পালন করছেন না। আর এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে অনেকটা টান-পোরার মধ্যে পড়তে হবে।

স্থবির হয়ে পড়েছে জেলা আ’লীগের সদস্য সংগ্রহ অভিযান

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে তৃণমূল পর্যায়ে দলকে আরো সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক ভাবে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটির অভাবে এখনো তৃণমূল পর্যায়ে সেই কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে সদস্য সংগ্রহ অভিযান। জানাগেছে, তৃণমূলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে গত ৩০ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের ঢাকা বিভাগীয় যুগ্ম সম্পাদক ডা: দিপু মনি এমপি। কিন্তু উদ্বোধনের প্রায় আড়াই মাস অতিবাহিত হতে চললেও উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন পর্যায়ে এখনো নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করতে পারেনি জেলা আওয়ামীলীগ। কারন হিসেবে জানাগেছে, গত বছর ৯ অক্টোবর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইকে সভাপতি, এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদলকে সাধারন সম্পাদক ও ডা: সেলিনা হায়াত আইভীকে সিনিয়র সহ-সভাপতি করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। কিন্তু এই আংশিক কমিটির এক বছর পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয়নি। যদিও সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই দাবী করেছিলেন, ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দিয়ে দিয়েছেন। ফলে যে কোন মূহুর্তেই ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে পূর্ণাঙ্গ কমিটির। তাহলে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনের পরেও কেন তৃণমূল পর্যায়ে এখনো শুরু করতে পারেনি জেলা আওয়ামীলীগ, এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল হাই বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ কমিটির অভাবেই সদস্য সংগ্রহ অভিযান স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে শীঘ্রই কমিটি ঘোষণা হওয়ার পরপরই তৃণমূল পর্যায়ে সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হবে।’

নৌযান শ্রমিকদের উপর হামলা ও চাঁদাবাজীর প্রতিবাদে জেলা প্রশাসককে স্মারক লিপি

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
গত ১৫ অক্টোবর বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশন নারায়ণগঞ্জ শাখা কার্যালয়ে বহিরাগত সন্ত্রাসী হামলা ও বিভিন্ন দাবীতে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন বিক্ষোভ মিছিল শেষে স্মারক লিপি প্রদান করে জেলা প্রশাসকের নিকট। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন নেতৃবন্দ এ কর্মসূচী পালন করে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, একদল সন্ত্রাসী কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে কার্যালয়ে অবস্থানরত নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক রউফুজ্জামান মিন্টু মাষ্টার ও শ্রমিক নেতা মোফাজ্জল হোসেন মাষ্টারকে দৈহিক ভাবে লাঞ্চিত ও অফিসের আসবাবপত্র ভাংচুর করে জোর পূর্বক বের করে দিয়ে কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেয়। কার্যালয় খোলা হলে প্রাণে মেরে মেলারও হুমকী প্রদান করে সন্ত্রাসীরা। বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করলে ুপুলিশ ঘটনাস্থল পরিমদর্শন করে কার্যালয় খুলে দেয়। পরবর্তীতে মামলা করতে গেলে অজ্ঞাত কারনে পুলিশ মামলা গ্রহন করা থেকে বিরত থাকে। নেতৃবৃন্দ লাঞ্চিত হওয়ার সংবাদ পেয়ে কার্যালয়ে সমবেত হওয়া শ্রমিকরা কর্মস্থলে ফিরে যাবার সময় সন্ত্রাসীরা পূণরায় রেলষ্টেশন ও খেয়াঘাট সহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে তাজুল ইসলাম মাষ্টার ও হেলাল ড্রাইভার সহ বেশ কিছু শ্রমিককে আহত করে। ঐঘটনার প্রতিবাদে ১৬ অক্টোবর কার্যালয়ে সভা করতে গেলে আবারো সন্ত্রাসীরা হামলা করে বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ হাবিবুল্লাহ বাহার মাষ্টার ও বাল্কহেড শাখার সম্পাদক বজলুর রহমান সুকানী, আবু তালেব মাষ্টার সহ নেতৃবৃন্দকে লাঞ্চিত করে। সারা দেশে বিভিন্ন নৌপথে চাঁদাবাজি, হয়রানী ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে নৌযান শ্রমিকরা। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের প্রাণপ্রিয় নৌ সেক্টর ও শ্রমিকরা চরম বিপর্যয়কর অবস্থার সম্মুখীন হবে। তাই কেন্দ্রীয় কর্মসূচী অনুযায়ী জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে স্বারক লিপি পেশ করি। এরপর সমস্যার সমাধান না হলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কর্র্মবিরতি সহ বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষনা করা হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন, লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান, লাইটার্স শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা মোঃ নূর আলম, ড্রাইভার আবুল খায়ের প্রমুখ।

বিচার প্রার্থীদের ন্যায় পাওয়ার জন্য কাজ করবেন-জেলা জজ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
জেলা ও দায়রা জজ বেগম হোসনে আরা আকতার বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনে দেশের আইনজীবীরা আইন পেশায় ন্যায় ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আইনজীবী ভবনে আইনজীবী সন্তানদের জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের পুরস্কার বিতরণ ও সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের ২৫ বছর আইন পেশায় পূর্তী উপলক্ষ্যে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, আপনারা যারা আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন দলমত নির্বিশেষে বিচার প্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য সঠিক ভাবে দ্বায়িত্ব পালন করবেন বলে আমি আশাকরি। আর তা না হলে এর জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে জবাবদিহি করতে হবে। তিনি আইনজীবীদের উদ্যোশ্যে বলেন, চার মাস হলো নারায়ণগঞ্জে এসেছি। বিচার প্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য সমন্বয় করে কাজ করছি। কারন দেশের সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে, কোনরকম অন্যায় ও বেআইনি কাজকে প্রশ্রয় দিবেননা। আপনারা খেলাধুলার আয়োজন করে পুরস্কারের যে ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন তা প্রশংসার দাবী রাখে। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ আমজাদ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রাব্বী মিয়া, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ শহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মোঃ শরফুদ্দিন আহম্মেদ, পিপি এড. ওয়াজেদ আলী খোকন। এড. আলাউদ্দিন আহম্মেদ এর সভাপতিত্বে ও এড. হাবিব আল মুজাহিদ পলুর সঞ্চালনায় প্রবিন ৮জন আইনজীবীকে সম্মাননা প্রদান করেন। এরা হলেন, এড. আমিনুল ইসলাম, এড. আব্দুর রশিদ ভূইয়া, এড. আব্দুল বারী ভূইয়া, এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, এড. জাকির হোসেন, এড. খোকন সাহা, এড. আসাদুজ্জামান, এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল সহ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের।

খেলাঘরের অবহেলা চাষাড়ায় ঘন্টাব্যাপী যানজট

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে চাষাড়া শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ খেলাঘরের আয়োজনে শিশু স্বার্থ বিষয়ে না সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সমাবেশকে উপলক্ষ্য করে আয়োজকরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এনে জড়ো করেন। সেই সমস্ত শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য বেশকিছু বাস ভাড়া করে নিয়ে আসে চাষাড়ায়। সেই সময় সরেজমিনে দেখা গেল, ঐসমস্ত যানবাহনগুলো এলোপাতাড়ি ভাবে রেখে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বন্ধ করে দেয়। এরফলে প্রায় ঘন্টাব্যাপী নগরীতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, দূর্ভোগ পোহাতে হয় নগর বাসীকে। পরবর্তীতে গণমাধ্যমের কর্মীরা ট্রাফিক পুলিশকে বিষয়টি অবগত করলেও তারা কোন কর্নপাত করেনি। এরপর তারা এ অবস্থা দেখে আয়োজকদের জানালে তারা দ্রুত মাইকে ঘোষনা দিয়ে গাড়িগুলোকে একপাশে নিয়ে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নগরবাসী তাদের ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, বিষয়টি আয়োজকদের আরো আগেই ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজন ছিলো। কারন নগরীর সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত চাষাড়া গোল চত্বর। এমনিতেই প্রায় সময় আমাদেরকে যানজটে পরতে হয়। যাকে বলে, মরার উপর খাঁড়ার ঘাঁ।

শিশুদের বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে হবে

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের অনেক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ‘স্বৈরাচারী’ কর্মকা- করছে অভিযোগ তুলে এর কড়া সমালোচনা করেছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তাঁর অভিযোগ, নিজ সন্তানকে একটি স্কুলের কোচিং পড়াতে গিয়ে এ তিক্ত অভিজ্ঞতা গ্রহণ করেছেন। এসব কারণ তিনি নারায়ণগঞ্জের ইংলিশ মিডিয়াম সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন শিক্ষক নিয়োগের তাগিদ দিয়েছেন যারা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সঠিক পাঠদানে বিচ্যুতি হয় না।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে খেলাঘর আসরের উদ্যোগে শিশুস্বার্থ বিরোধী স্লোগান নিয়ে ‘না’ বিরোধী সমাবেশে অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
আইভী বলেন, ‘আমার এক ছেলে ক্লাস নাইনে পড়ে। কিন্তু তাকে তার সেই ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে আইসিটি ক্লাসে সঠিকভাবে ক্লাশ করাচ্ছেন না শিক্ষক। এসব কারণে প্রতি শুক্রবার ঢাকা থেকে একজন শিক্ষক নারায়ণগঞ্জ আসেন যার কোচিং করে সে। অথচ শুক্রবার তার ছুটি থাকার কথা। কিন্তু আমার ছেলের জবাব, ‘স্যার যে শুক্রবার ঢাকা থেকে আসে এটাই বড় পাওনা।’
শহীদ মিনারে তখন শত শত ক্ষুদে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি। তাদের উদ্দেশ্যে আইভী বলেন, ‘তোমরা ছোট তাই বলে অন্যায় সহ্য করবে না। তোমাদের বাবা মাও ভুল করতে পারে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তোমাদের উচিত এটাকে সাবলীলভাবে তাদের বোঝানো যে তোমাদের কাজটি ভুল হচ্ছে অন্যায় হচ্ছে। সব অন্যায় মুখ বুঝে সহ্য করতে নাই।’
‘শিশুদের সৎ সাহসী হয়ে বেড়ে উঠার’ আহবান রেখে আইভী বলেন, ‘শত প্রতিকূলতার মধ্যে যারা পজেটিভ কাজ করে যাচ্ছে তাদেরকেই সাহসী বলা হয়। তোমাদেরও এমন সাহসী হতে হবে। পজেটিভ চিন্তাভাবনা রাখতে হবে। আমাদের এসব শিশুস্বার্থ বিরোধী কাজে না বলতে হবে। প্রতিবাদী হতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার থাকতে হবে।’
২০১৩ সালের ৮মার্চে নিখোঁজের পর উদ্ধার হওয়া মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাকা- প্রসঙ্গে টেনে এর বিচার দাবীতে আন্দোলনে সোচ্চার আইভী বলেন, ‘ত্বকীর পরে অনেক হত্যার বিচার হয়েছে। দ্রুত অনেক হত্যাকা-ের রায়ও হয়েছে। ত্বকী হত্যার পরেও নারায়ণগঞ্জে বেশ কিছু হত্যাকান্ড হয়েছে। তবে ত্বকীর বিচার হলে খুনীদের গ্রেপ্তার করা হলে এসব হত্যাকান্ড কম হতো।’
আইভী সাম্প্রতিক একটি ইস্যু টেনে বলেন, সম্প্রতি এক কিশোরী নিজের বাল্য বিয়ে ঠেকিয়ে ওই গ্রামের আরো বেশ কয়েকটি বাল্য বিয়ে ঠেকিয়ে দেয়। আমাদের এ ধরনের প্রতিবাদী হতে হবে। ওই উদহারণ আমাদের মধ্যেও টেনে আনতে হবে। জেলা খেলাঘরের সভাপতি রথীন চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন খেলাঘরের কেন্দ্রীয় চেয়ারপারসন প্রফেসর মাহফুজা, কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম মেম্বার লায়লা হাসান, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক রফিউর রাব্বি, কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।
খেলাঘর আসর নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে ব্যতিক্রম এ কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছিল। জেলা খেলাঘরের সভাপতি রথীন চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন খেলাঘরের কেন্দ্রীয় চেয়ারপারসন প্রফেসর মাহফুজা, পরে এসব শিশুদের পেছনে উপরোক্ত অতিথিদের পাশাপাশি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটের (আর্ট কলেজ) অধ্যক্ষ সামসুল আলম আজাদ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি রোকনউদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এবি সিদ্দিক, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক রফিউর রাব্বী, কেন্দ্রীয় সদস্য লায়লা হাসান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি লক্ষ্মী চক্রবর্তী প্রমুখ।

দেয়াল ধসে চার জনের মৃত্যু নিয়ে আপোষের চেষ্টা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
ফতুল্লায় দেয়াল ধসে একই পরিবারের তিন বোন সহ চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর অনেকেই ঘটনাস্থলে ছুটে গেছেন সান্তনা দিয়েছেন। গণমাধ্যমে তাদের নামও বেশ ফলাও করে ছাপা হয়েছে। কিন্তু ৪জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর চেয়েও বড় বেদনায়দায়ক ঘটনা গেছে দাফন নিয়ে। এদিকে ৪জনের মৃত্যুর ঘটনার মামলার পর সেটা আপোষের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে।
নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ৩জন ছিলেন। তাদের গ্রামে বাড়ি ছিল পটুয়াখালীতে। পাগলায় বস্তিতে বসবাস করতো নিহতরা। বাবা মা স্বল্প আয়ের মানুষ। মৃত্যুর পর লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাবেন সে টাকাটাও যোগাড় করতে পারছিল না। কিন্তু কেউ তাদের পক্ষে দাঁড়ায়নি।
অথচ অনেকেই মেহনতি মানুষের পক্ষে স্লোগান দেন। কিন্তু এ নিহত পরিবারের পাশে কাউকেই দেখা যায়নি। কারণ তারা কোন চাঁদা দিতে পারে না। তারা কোন সংগঠনের অধিভুক্ত না।
গত বুধবার রাতে ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক দিদারুল আলম বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়। তবে নিহতদের পরিবারের পক্ষ হতে মামলা দায়ের না করায় পুলিশ মামলাটি দায়ের করে।
মামলায় আসামী করা হয়, ফতুল্লা দেলপাড়ার বাসিন্দা জমির মালিক চাঁন মিয়া, ঠিকাদার ইসমাইল ও হাজী আব্দুল মালেক, রফিককে। এদিকে একটি মহল প্রভাবশালীদের বাঁচানোর জন্য আপোষের নামে নিজেরে ফায়দা হাসিলে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে দেয়াল চাপায় তিন শিশুসহ চারজন মারা যাওয়ার ঘটনায় লাশগুলো গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ির ভাড়ার খরচ যোগাতে পারছিল না তখনই ফতুল্লা মডেল থানার ওসি কামালউদ্দিন নিজ উদ্যোগে কফিনের খরচ সহ সার্বিক খরচ দিয়ে লাশ নিহতদের গ্রামের বাড়িতে পাঠানো ব্যবস্থা করেন।
প্রসঙ্গত ২৩ অক্টোবর বেলা ১১টায় ফতুল্লার পাগলা শান্তি নিবাস এলাকা সংলগ্ন চাঁন মিয়ার মালিকানাধীন পুরানো একটি ভবন ভাঙ্গার কাজ করার সময় দেয়াল ধসে একই পরিবারের তিন বোনসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতরা হলো পটুয়াখালী গলাচিপার চিঙ্গুরার ট্রাক হেলপাড় সাইফুল ইসলামের তিন মেয়ে লামিয়া (১২), লাবনী (৮) ও লিমা (৩)। তারা পাগলা শান্তি নিবাস এলাকা সংলগ্ন জসিম উদ্দিনের কলোনীতে বসবাস করে। আর শরিয়তপুরে আব্দুর রশিদ খা’র ছেলে আলমগীর (২৫)। আহত হয়েছে শাহআলম। তারা পাগলা একই কলোনীতে বসবাস করে।
এদিকে এলাকাতে গুঞ্জন রয়েছে প্রভাবশালীরা এ মামলায় আপোষের চেষ্টা করছে। শুরু থেকেই নিহতের পরিবারকে মামলা না করতে চাপ সৃষ্টি করে। তাদেরকে চাঁন মিয়ার সাথে আপোষ করার চেষ্টা করেছে। যার কারনে ভয়ে নিহতের পরিবার চাঁন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করতে অনিহা প্রকাশ করেন। তার জন্য পুলিশ বাধ্য হয়ে মামলা দায়ের করেন। এমনকি পুলিশের খরচে নিহতদের লাশ কফিনে ভরে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন।

নারায়ণগঞ্জে কাজ করতে পেরে আমি গর্বিত: ডিসি

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া বলেছেন, আমি আল্লাহর কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যেদিন আমার দ্বারা একজনের অধিকার অন্যজনের কাছে চলে যায় আল্লাহ যেন সেদিনই আমাকে পৃথিবী থেকে নিয়ে যায়। আমি শুধু এটুকু বলবো পেশাগত কারণে আইনজীবারা মামলা নিবেন, কিন্তু বিচার যেন সঠিক ভাবে হয়। কারণ যে যেই ধর্মই বিশ্বাস করি না কেন মৃত্যুর পরে সকলকেই এই রকম বিচারের সামনেই সম্মুখিন হতে হবে। তাই মানুষ হিসেবে একটাই অনুরোধ বিবেক অনুযায়ী জাজমেন্টটা যেন সঠিকভাবে হয়। আপনাদের প্রতি আমার আরেকটি অনুরোধ রাজনৈতিকভাবে যে যেই দল করুন না কেন প্রত্যেকের মাঝে যেন ব্যক্তিগত সম্পর্কটি সুন্দর থাকে।’তিনি আরো বলেন, ’পেশাগত জীবনে আমার লাকি ওয়ার্কিং প্লেস হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ। নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সম্প্রীতি ও অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা। তাই নারায়ণগঞ্জের স্ট্যান্ডার্ডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আপনাদের জেলা প্রশাসক কনফারেন্স রুম এমনভাবে সমুন্নত করা হচ্ছে যেন আপানার বলতে পারেন যেন বাংলাদেশের অন্যতম জেলা প্রশাসকের কনফারেন্স রুম।’ গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পুরস্কার বিতরণী, আইনজীবী সন্তানদের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত, আইন পেশায় ২৫ বছর পূর্তি, সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সমিতির সিনিয়র সহ সভাপতি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে অ্যাডভোকেট মোঃ আলাউদ্দিন আহম্মেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ বেগম হোসনে আরা আকতার, বিশেষ অতিথি ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক মোঃ আমজাদ হোসেন, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সহিদুল ইসলাম ও জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরফুদ্দিন আহম্মেদ প্রমুখ।

ইনু আওয়ামীলীগের পরগাছা মন্তব্য নারায়ণগঞ্জ বিএনপির

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
দলের ৪৫ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে নারায়ণগঞ্জে এসে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সম্বন্ধে নানা মন্তব্য করেছেন। রাজাকার, জঙ্গী সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনেছেন ওই নেত্রীর বিরুদ্ধে। তার এমন বক্তব্যে ক্ষুব্দ হয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, আওয়ামীলীগের পরগাছা ইনুর মুখে এমন কথা শোভা পায় না।
বুধবার শহরের ডিআইটি এলাকায় এক জনসভায় জাসদ সভাপতি ও সরকারের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন ‘জিয়াউর রহমান রাজাকারদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়েছে আর খালেদা জিয়া এখনো তাদের সাথে আছে। তার সাথে যখন জঙ্গী ও রাজাকার দেখি তখন আমি চুপ থাকতে পারিনা। নির্বাচনের সময়ে সহায়ক সরকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন ‘খালেদা নির্বাচন বানচাল করতে সকালে এক কথা ও বিকেলে আরেক কথা বলেন’। এদিকে মন্ত্রী ইনুর এমন বক্তব্যে ক্ষুব্দ বিএনপি নেতাকর্মীরা তার কঠোর সমালোচনা করেছেন। কেউ বলেছেন, জাসদ করে আওয়ামীলীগের মন্ত্রী হয়ে এখন ক্ষমতা হারানো ভয় নাগাল পেয়েছে ইনুকে। ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে আর তা ছাড়তে মন চাইছে না তার। তাই বিএনপি ও বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে আবোল তাবল বকছেন। এ ব্যাপারে মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, হাসানুল হক ইনু একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি। তিনি সরকারের একজন মন্ত্রী। তার অবস্থান থেকে দেশের একজন জনপ্রিয় নেত্রী সম্বন্ধে এমন বক্তব্য প্রত্যাশা করা যায় না। তার এসব কথায় নারায়ণগঞ্জের মানুষ খুশী হতে পারেনি।
দলের অনেক নেতাকর্মীরে মতে, সরকারের একজন মন্ত্রী এলে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশায় থাকেন যে তিনি সমস্যা সমাধানের বক্তব্য দিবেন। নারায়ণগঞ্জে অনেক সমস্যা রয়েছে। এসব কথা না বলে তিনি বিএনপির নেত্রীকে নিয়ে কটুবাক্য বলায় অবাক হয়েছে অনেকে।
এ বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল খবর প্রতিদিনকে জানান, একজন মন্ত্রীর সমাবেশে অনেক লোকজন আসার কথা। জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু আওয়ামীলীগ সরকারের মন্ত্রী। তার সমাবেশে যখন ৮০/৯০ জনের বেশী লোক আসে না তখনই বুঝা যায় তার অবস্থান। তার মতো লোকের দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে মন্তব্য করা শোভা পায় না। তিনি আরো বলেন, বিএনপির জনপ্রিয়তায় সরকার এখন ঈর্ষাম্বিত হয়ে পড়েছে। তাই ইনুরা এখন যা খুশী তাই বলছে।
সচেতন মহলের মতে, সভা সমাবেশে অযাচিত বক্তব্য দেয়ার রেওয়াজ অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে। বিষয় ভিত্তিক বক্তব্য না দিয়ে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলা রাজনীতির নিজস্ব ঢঙে পরিণত হয়েছে। তাই শুধু কথামালার রাজনীতিই চলে এদেশে। বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে মন্ত্রী ইনুর বক্তব্যে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ইনু আওয়ামীলীগের পরগাছা। তার কোন ব্যক্তি জনপ্রিয়তা নেই। আওয়ামীলীগের উপর ভর করেই চলছেন তিনি। অথচ এই ইনুরাই বঙ্গবন্ধু হত্যার গ্রাউন্ডফিল্ড তৈরী করেছে। এটা আওয়ামীলীগ এখন ভুলে গেছে।

রোহিঙ্গাদের পাশে থাকার আহবান জানান খালেদা জিয়ার

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি
বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াই প্রথম অসুস্থ্য অবস্থায় লন্ডন থেকেই বিভিন্ন দূতাবাসে চিঠি দিয়ে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিল হাজী রজ্জব আলী মার্কেটস্থ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। আগামী কাল শনিবার বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কক্সবাজার সফরকে কেন্দ্র করে এ প্রস্তুতি সভার আয়োজন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাহিদ হাসান রোজেলের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মনিরুল ইসলাম রবি, আব্দুল হাই রাজু, আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রুহুল আমিন সিকদার, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি প্রত্যাশী মাহবুবুর রহমান মাহবুব, নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক প্রত্যাশী সালাউদ্দিন সালু, সিদ্দিরগঞ্জ থানা যুবদলের সভাপতি মন্তাজউদ্দিন মন্তু ও বিএনপি নেতা রিয়াজুল ইসলাম প্রমূখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ আরো বলেছেন, সরকার এখনও রোহিঙ্গাদের পাশে ত্রান নিয়ে দাড়ায়নি। অসুস্থ্য অবস্থায় লন্ডন থেকে বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিঠি বিভিন্ন দূতাবাসে দেওয়ায় এবং বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিঠি পাওয়ার পরই রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে ত্রান পাঠানো হচ্ছে।
এছাড়াও তিনি বলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজি মনিরুজ্জামান মনির ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের নেতৃত্বে সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আগামীকাল শনিবার বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পাশে চান। সভাপতির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, আগামীকাল শনিবার ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে মেঘনা পর্যন্ত জেলা বিএনপির নেতৃত্বে সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।