হাসপাতালে চিকিৎসক যখন দালাল

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
কয়েক মাস পূর্বে মাথায় আঘাত পেয়েছিল মো. আবুল হোসেন নামের ফতুল্লার এক ব্যক্তি। সে সময় কপালের একটি অংশ ফুলে যায়। পরবর্তীতে সুস্থ না হওয়ায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর ৩‘শ শয্যায় চিকিৎসায় নিতে দ্বারস্ত হন ওই হাসপাতালের অর্থপেডিক সার্জারী ডা. এফ এম মাহবুবুল আলমের কাছে। তিনি রোগী আবুল হোসেনকে দেখে পরামর্শ দেন চাষাড়ার গ্রীণ লাইফ ডায়াগনষ্টিক এন্ড কনসাল্টেশন সেন্টারে গিয়ে এফএনএসি ও রক্ত পরীক্ষা করতে। তখন রক্ত পরীক্ষাটি খানপুর হাসপাতালে করলেও এফএনএসির জন্য গ্রীণ লাইফ ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে এক প্রকার যেতে বাধ্যই হয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু সেখানে গেলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রের অভাব থাকায় তাকে চাষাড়াতেই অবস্থিত অন্য আরেকটি প্রতিষ্ঠানে (আলফা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার) পরীক্ষ করাতে পাঠান গ্রীণ লাইফ কর্তৃপক্ষ। আর পরীক্ষাটি করতে নেয়া হয় ১৩‘শ টাকা। সূত্র বলছে, রোগী আবুল হোসেনকে ডা. এফ এম মাহবুবুল আলম যে দু’টি পরীক্ষা দিয়েছিল। খানপুর ৩‘শ শয্যা হাসপাতালেই তা করানো সম্ভব। এছাড়া গ্রীণ লাইফ ডায়াগনষ্টিক এন্ড কনসাল্টেশন সেন্টারে প্রয়োজনীয় যন্ত্রের অভাব থাকার পরেও কেন তাকে ওই ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে পাঠানো হলো সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় অনুসন্ধানের পর। সোমবার (২ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে ৩‘শ শয্যার বর্হি বিভাগে প্রবেশ করতেই চোখে পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে রোগীদের সচেতন করা নানা ধরণের মাইকিং। এছাড়া বিভাগটির বাহিরে আনাগোনা করতে দেখা যায়নি কোন ডায়াগনিষ্টক সেন্টার বা ক্লিনিকের দালালদের। এসময় অন্য এক রোগি নিয়ে ডা. মাহবুবুল আলমের কাছে যান এই প্রতিবেদক। তখন দেখতে পায় শুধু আবুল হোসেনকেই নয়, ডা. এফ এম মাহবুবুল আলমের কাছে যত রোগি চিকিৎসা নিতে আসছেন, হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকার পরেও বেশির ভাগ রোগীকেই পাঠানো হয় ওই গ্রীণ লাইফ ডায়াগনষ্টিক এন্ড কনসাল্টেশন সেন্টারে।
তার কক্ষের ভিতরে দাড়িয়ে থাকা বহিরাগত এবং হাসপাতালের কর্মচারী বেশে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কৌশলী দালালের হাত ধরে পাঠিয়ে দেন রোগীদের। আর যাওয়ার সময় চিকিৎসক নিজেই বলেন, ‘বিকেল ৫টার পরে আমি ওই খানে বসি, ওখানে আসবেন।’
বাহিরে বের হওয়ার সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগী লাইভ নারায়ণগঞ্জের এই প্রতিবেদকের কাছে প্রশ্ন রাখেন, ‘যখন চিকিৎসক নিজেই ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের দালাল, তখন কেনো দালালদের বাহিরে ঘুরাঘুরি করতে হবে?’
পাশে থাকা আল আমিন নামের এক রোগীর স্বজন অনেকটা অভিযোগ করেই বলেন, ‘ভাই ডাক্তাররা বহুরূপী, সরকারি হাসপাতালে আসলে তাকায়ও না আর ক্লিনিকে গেলে আদরের কমতি নাই।’ এব্যাপারে অর্থপেডিক সার্জারী ডা. এফ এম মাহবুবুল আলম জানান, হাসপাতালের বাহিরে বিভিন্ন দালালদের দৌরাত্ব। দালালরাই হয়ত রোগীদের বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। আর আমি কখনোই রোগীকে বলি না গ্রীণ লাইফে যেতে।
একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, যে পরীক্ষা গুলো ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে করার পরামর্শদেন, তার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ অর্থ পান চিকিৎসকরা। হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ব বিষয়ে চিকিৎসক মাহবুবুল আলমের আনা অভিযোগ ৩‘শ শয্যার নতুন তত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মতালেব মিয়া নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, হয়তো ওই চিকিৎসক বাড়িয়ে বলেছে। বিষয়টি সঠিক নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *