ডিএনডির উন্নয়ন ঘটলে পাল্টে যাবে দৃশ্যপট

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা ডিএনডি বাধের ভেতরে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির অবসান ঘটতে যাচ্ছে। চলতি অক্টোবরেই শুরু হতে যাচ্ছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণে নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজ। দুই বছরেরও বেশী সময়ে এ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই অন্তত জলাবদ্ধতা হবে না এমনটাই আশা করা যাচ্ছে। আর এ উন্নয়ন কাজ যার প্রচেষ্টায় সম্ভব হয়েছে সেই এমপি শামীম ওসমানের ধারণা প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে শেষ হলে ঢাকার অনেক অভিজাত এলাকা থেকে ডিএনডির ভেতরের পরিবেশ ও দৃশ্যপট পাল্টে যাবে। আর এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তবে এ প্রসঙ্গে শামীম নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রতি কিছু আবেদনও রেখেছেন। আগামী ১৫ অক্টোবর সিদ্ধিরগঞ্জ ও ১৯ অক্টোবর ফতুল্লা এলাকাতে ডিএনডির এ প্রকল্প উদ্বোধনের আগে সুধী সমাবেশ হতে যাচ্ছে। এ দুটি এলাকা নিয়েই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন গঠিন যার এমপি শামীম ওসমান। ৫৭বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যে ডিএনডি বাধ তার মধ্যে ফতুল্লা এলাকাটিই প্রায় ৬০ শতাংশ। আর সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাটিও ডিএনডি বাধের ভেতরে। এটা আবার সিটি করপোরেশন এলাকাতেও। বিগত দিনে এ আসনের এমপিরা বার বার ডিএনডি নিয়ে আশার আলো দেখালেও সেটা কাজে আসেনি। প্রতি বছর বর্ষা আসলেই দুর্ভোগ আর বিড়ম্বনার শিকার হতো ডিএনডি এলাকার অন্তত ২০ লাখেরও বেশী মানুষের। বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত হতো বিভিন্ন কল কারখানার বিষাক্ত কেমিক্যালযুক্ত পানি। থাকতো বসত বাড়ির পয়ঃনিস্কাশনের পানি। সর্বশেষ এবার ঈদ উল ফিতর ও ঈদ উল আজহার সময়েও অবর্ণনীয় দুর্ভোগে মানুষের আনন্দ পানিতে ধুয়ে যায়।
শামীম ওসমান এ দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘শুধু পানি থাকলে সমস্যা হতো না। দেশের অনেক স্থানেই এ ধরনের পানিবন্দী মানুষ বসবাস করে। কিন্তু এটা এমন কঠিন বিষ যা অকল্পনীয়।’ শামীম ওসমান জানান, ‘এখন ৫শ ৮০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হলেও আমাদের ধারণা সেটা এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। কারণ শুধু খাল উদ্ধার নিস্কাশনের ব্যবস্থা না। বরং পাশাপাশি প্রত্যেক এলাকা ও বসত বাড়ির সুয়ারেজ লাইন সংযুক্ত হবে।’
‘রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকা বলতে আমরা বনানী, গুলশান, বারিধারাকে বুঝি। কিন্তু সেনাবাহিনী, পরিকল্পনা ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় হতে আমাকে যে ভিডিও দেখানো হয়েছে। সেটা দেখে আমি অভিভূত। কারণ এটা বাস্তবায়ন হলে এসব এলাকার চেয়েও বেশী উন্নত হবে আমার এলাকা। এতেই আমি তৃপ্ত। এটা যে কত বড় পাওয়া হবে সেটা বাস্তবায়ন না হলে কেউ বুঝতে পারবে না’ বক্তব্যে যোগ করেন শামীম ওসমান। ১৯৯৬ হতে ২০০১ সাল পর্যন্ত একই আসনের এমপি ছিলেন শামীম ওসমান। তখন প্রায় ২৬শ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করে আলোচনায় থাকা শামীম ওসমানের দাবী এবারও তিনি ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাতে আরো অনেক কাজ বাকি থাকবে। সবচেয়ে বেশী উন্নয়ন বরাদ্দ তিনি এনেছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাতে সাধারণত এমপির কোটায় কাজ করতে হলে সিটি করপোরেশনের ‘নো অবজেকশন’ লেটার প্রয়োজন। এদিকে এমপি শামীম ওসমানের উন্নয়ন ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাচ্ছে ফতুল্লা থানা এলাকাটি। শামীম ওসমান বলেন, ‘সাড়ে ৩শ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডটি ৮লেনে উন্নীত করা হবে। দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে চাষাঢ়া থেকে আদমজী পর্যন্ত বিলুপ্ত রেললাইনে সড়ক হবে, ২শ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ট্রেন রুট ডাবল লাইন করা হবে। ফতুল্লাতে আরো ২শ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ হবে।’‘আমি এত উন্নয়ন করলাম, কিন্তু ডিএনডির ভেতরে রাস্তা থাকলো পানির নিচে, মানুষের দুর্ভোগ কমলো না। তাহলে সে উন্নয়নের কোন ফলপ্রসূ থাকবে না’ জানিয়ে শামীম ওসমান বলেন, ‘এসব কারণে ডিএনডির মানুষের দুর্ভোগ আমাকে বেশ পীড়া দিত। প্রধানমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী ও পানি সম্পদ মন্ত্রীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এ প্রকল্প পাশ হওয়ায় সবচেয়ে বেশী খুশী আমি। কারণ আমি অনেক প্রকল্প পাশ করিয়েছি যা কষ্ট না হয়েছে তার চেয়ে ১০ গুণ বেশী কষ্ট হয়েছে ডিএনডির প্রকল্প নিয়ে।’শামীম ওসমান বলেন, ‘১৫ অক্টোবর সিদ্ধিরগঞ্জ ও ১৯ অক্টোবর ফতুল্লাতে যে সমাবেশ হবে সেখানে আমি সব শ্রেণির মানুষের উপস্থিতি চাচ্ছি। কারণ এ উন্নয়নে কোন ভেদাভেদ নাই। সব শ্রেণির মানুষ এক প্লাটফরমে আসলে ঢাকা থেকে যারা আসবে তারা অন্তত বুঝবে ডিএনডির জন্য সবার আক্ষেপের বিষয়টি। এতে করে এখন যে ৫শ ৮০ কোটি টাকার প্রকল্প যেন হাজার কোটি টাকার বাজেট ছাড়াতেও কোন ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। সবার উপস্থিতি থাকলে আমি আরো দাবী জানাতে পারবো। এমপি থাকি না থাকি সেটা বড় কথা না। ২০ লাখ মানুষ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে সেটাই বড় কথা। এটাই তো রাজনীতি।’ প্রসঙ্গত প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করবে সেনাবাহিনী। শামীম ওসমানের মতে, সেনাবাহিনী এ কাজে কোন লাভ করবে না। তারা দেশপ্রেমিক। জনগণের কল্যাণে কাজ করবে। সে কারণেই আমাদের সবার আস্থা এ সেনাবাহিনীর উপর। শুধু পানি নিস্কাশন না যাতে পুরো কাজটি বিশেষ করে সুয়ারেজের লাইন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সব করতে পারে সেটা যেন হয়।
ডিএনডি বাধের ভেতরে পানি নিস্কাশনের যেসব খাল আছে তার বেশীরভাগই দখলে চলে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি পাম্প অবধি যেতে পারে না। এতে করেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় যা বৃষ্টি হলেই বাড়তে থাকে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে কাজটি হলে এসব অবৈধ খাল দখলদারদেরও উচ্ছেদ করে খালগুলো পুনরুদ্ধার হবে মনে করেন এখানকার অধিবাসীরা। এসব কারণেই সেনাবাহিনী কাজটি করায় স্বস্তি পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে বসবাস করা লাখ লাখ মানুষের।
প্রকল্প চুক্তি
ডিএনডি (ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা) প্রকল্পের অভ্যন্তরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণে নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ২১ সেপ্টেম্বর ‘ডিএনডি এলাকার, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে এ সমঝোতা হয়েছে।৫শ ৮১৯ দশমিক ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া প্রকল্পের ডিপিপি গত বছরের ৯ আগস্ট একনেকে অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ১ জুলাই ২০১৬ হতে ৩০ জুন ২০২০।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *