নিতাইগঞ্জে দিনের বেলায় আবারও লোড-আনলোড

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
শহরের নিতাইগঞ্জে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ড ব্যবহারে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দিনের বেলায় বঙ্গবন্ধু সড়কে দুই পাশে ট্রাক করে পন্য লোড-আনলোড করা হচ্ছে। এতে করে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠন সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যৌথ সভায় গৃহিত সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হচ্ছে বলে মনে করছেন উক্ত এলাকা দিয়ে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রী সাধারণেরা।
এছাড়াও দিনের বেলায় বঙ্গবন্ধু সড়কের দুপাশে ট্রাক রেখে পন্য লোড আনলোড করার সুযোগ করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে চলছে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি। এ নিয়ে গত ৯ অক্টোবর নিতাইগঞ্জে দিনের বেলায় রাস্তায় ট্রাক রেখে পন্য লোড-আনলোড করতে বাঁধা দেওয়ায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পরে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।
গত মঙ্গল ও বুধবার সরেজমিনে নিতাইগঞ্জ ট্রাক স্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মন্ডলপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও নগর ভবন সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই পাশে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি ট্রাক ও কভার্টভ্যান রেখে পন্য লোড আনলোড করা হচ্ছে।
জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাজেট অধিবেশনে সিটি মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী নিতাইগঞ্জে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ডটি সরিয়ে ওই এলাকাকে যানজট মুক্ত রাখতে বাজেট অধিবেশনে যোগ দেওয়া নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে তার বড় ভাই সম্বোধন করে নিতাইগঞ্জকে যানজট মুক্ত রাখতে সেখান থেকে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ডটি অপসারনের জন্য তার সহযোগীতা কামনা করেন।
মেয়রের আহবানে সাড়া দিয়ে পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রি, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি, নিতাইগঞ্জের ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের সাথে নিয়ে বেশ কয়েকটি যৌথ সভা করেন। যেখানে সর্ব সম্মতিক্রমে নিতাইগঞ্জে দিনের বেলায় শুধুমাত্র খালঘাট এলাকায় নিদিষ্ট সংখ্যক ট্রাক দিয়ে পন্য লোড আনলোড করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। গৃহিত সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়ন করতে এবং ওই এলাকায় লোড আনলোড কর্মকান্ড শৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করার জন্য তখন এমপি সেলিম ওসমানের নিজস্ব আর্থিক সহযোগীতা গত ২ মাস ৪০ জন আনসার সদস্য সেখানে দায়িত্ব পালন করেন। আর তাদের পারিশ্রমিক হিসেবে মোট ১৬ লাখ টাকার চেক আনসার উপজেলা কমান্ডারের কাছে হস্তান্তর করে ছিলেন এমপি সেলিম ওসমান।
কিন্তু দুই মাস দায়িত্ব পালন শেষে আনসার সদস্যরা চলে গেলে ধীরে ধীরে পুরনো রূপে ফিরতে শুরু করেছে নিতাইগঞ্জের অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ডটি। প্রথমে দুই একটি করে ট্রাক রেখে রাস্তায় পন্য লোড আনলোড করা হলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। আর নিয়ে কেউ কোন প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে কিছু সংখ্যক শ্রমিক সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, নিতাইগঞ্জ ট্রাক স্ট্যান্ডটি পূর্বে সে সকল নেতারা নিয়ন্ত্রন করে আসছিলো তারা জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু গত কয়েকমাস ধরে সেখানে জৈনক সুজন নামের একজন ছিচকে সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে তার অনুসারীরা দিনের বেলায় রাস্তায় ট্রাক দাঁড় করিয়ে পন্য লোড আনলোড করাচ্ছে। এ মধ্য দিয়ে তারা মিল মালিক ও ট্রাকের চালকদের কাছ থেকে ১ থেকে দেড় হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেছে। তাদের এ অনৈতিক কাজে কেউ বাধা প্রদান করলেই সেখানে কিছু উচ্ছৃঙ্খল শ্রমিকের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ সকল কর্মকান্ডের পেছনে রয়েছে ভিন্ন উদ্দেশ্য। জৈনক সুজন ও তার সহযোগীরা উচ্ছৃঙ্খল শ্রমিক সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মধ্য দিয়ে সেখানে নতুন এক নেতার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। সুজন মহানগর বিএনপির একজন শীর্ষ নেতার ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবেই পরিচিত। আর এ সব কর্মকান্ডে পেছন থেকে মদদ দিচ্ছেন সিটি করপোরেশনের একজন কাউন্সিলর। নিতাইগঞ্জ এলাকায় সুজনের নেতৃত্বে শুধু ট্রাক থেকেই নয় বঙ্গবন্ধু সড়কের বর্ধিত অংশে ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। ইজি বাইকের কোন চালক চাঁদা দিতে না চাইলে রাস্তায় তাকে মারধর করা হচ্ছে। এমনকি ইজি বাইকের চাবিও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন ইজি বাইকের চালক। এমন অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে সুজন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন ইজি বাইকের চালকেরা।
অপরদিকে নিতাইগঞ্জে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ডটি তদারকির ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোন ভূমিকা না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা। তারা বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আহবানে সাড়া দিয়ে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দরা উদ্যোগ নিয়ে নিতাইগঞ্জ থেকে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ডটি অপসারন করে সেখানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে ছিলেন। গত দুই মাস ওই এলাকা দিয়ে যাতায়াত কালে নগরবাসী যার সুফল ভোগ করেছেন। কিন্তু এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তেমন কোন তদারকি লক্ষ্য করা যায়নি এবং বর্তমানেও লক্ষ্যনীয় নয়। অথচ সিটি করপোরেশনের মেয়র নিজেই স্থানীয় সংসদ সদস্যদের কাছে এ ব্যাপারে সহযোগীতা কামনা করে ছিলেন এবং সংসদ সদস্য তার আহবানে সাড়া দিয়ে সেটা বাস্তবায়ন করেছেন। কিন্তু সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সেটি ধরে রাখার ব্যাপারে তেমন কোন ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *