সাবধান: জামাত-শিবিরের আড়ালে জঙ্গীরা তৎপর!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
সারা দেশে যেমন জেএমবি’র জঙ্গীরা তৎপর, তেমন গ্রেফতারও হচ্ছে একে একে জঙ্গী ও তাদের সহযোগিরা। আর জঙ্গীদের গোপনে গোপানে মদদ যোগাচ্ছে জামাত-শিবির এমনই তথ্য রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে। শুধু তাই নয় অনেক জঙ্গী জামাতের সাথে মিশে দেশে অস্থিশীল পরিস্থিতি তৈরী করতে নাশকতার ছক আঁকছে বলেও গোয়েন্দা সূত্রে জানাগেছে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা গ্রেফতার হওয়ার অজুহাতে জামাতের ডাকা হরতালে জঙ্গীরা নাশকতা করতে পারে বলেও অনেকে ধারণা করছে। জেএমবির বর্তমান আমির নারায়ণগঞ্জ বন্দরের জামাইপাড়া এলাকার সালাউদ্দিন ওরফে সালেহীনের দীর্ঘ দিন অবস্থান কালে অসংখ্য অনুসারি গড়ে তুলে। যারা ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। জঙ্গীরা এমনসব পেশা বেছে নিয়েছে তারা অতিসহজে মানুষের বাড়ি বা অফিস এমনকি প্রশাসনের দপ্তরে পৌছতে পারে। এ সুবাধে তারা প্রশাসনের গোপনীয়তা বা পরিস্থিতি অবলোকন করে তাদের কেন্দীয় জেএমবি নেতাদের কাছে প্রেরণ করে। আর সেই সূত্র ধরেই জেএমবিরা নাশকতার ছক আঁকেন। র্যাব কয়েক মাসে বেশ ক’জন জঙ্গীকে গ্রেফতার করেছে। তারা বিভিন্ন সময় ফেরিওয়ারা, হকার, মাছ বিক্রেতা এমনকি কারো বাসা বাড়িতে লজিং মাস্টারের পেশা নিয়ে অবস্থান করছে। আর জামাতের ডাকা হরতালের সুযোগে সারা দেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে নাশকতা ও সহিংসতার মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের পতন ঘটাতে ছক কষে মাঠে নেমেছে জামায়াত-শিবিরের পাশাপাশি জঙ্গীরা। একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুস সুবহান ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের উচ্চ আদালতে ফাঁসির রায় যাতে বহাল না থাকে সেজন্য দেশের অন্যান্য স্থানের ন্যায় নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে গোপন বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন জামায়াত-শিবির ক্যাডাররা। তাদের সাথে যোগ হয়েছে জেএমবির সদস্যরা। এরই অংশ হিসেবে দীর্ঘদীন ঝিমিয়ে থাকা জামায়াত ক্যাডাররা একত্রিত হয়ে শহরে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে তারা জানান দিয়েছে তারা মাঠে আছে। সরকারকে বিব্রত ও দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য নাশকতা ও সহিংসতার নীলনকশা বাস্তবায়নে জামায়াত-শিবির জঙ্গী সংগঠনগুলোর সঙ্গে কানেকশন গড়ে তুলেছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার দাবি। গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে জেলা জুড়ে নাশকতা ও সহিংসতার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। জামায়াত শিবিরের ক্যাডাররা প্রকাশ্যে আশার পর পরই জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসনের সূত্রে এ খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত-শিবিরের নেতৃত্বে নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনগুলো সংগঠিত হয়ে নারায়ণগঞ্জে নাশকতা ও সহিংসতা করতে পারে বলে আশঙ্কা করার পরই জামায়াত-শিবির ও জঙ্গী বিরোধী অভিযানে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জেএমবি ও হুজিসহ দেশী-বিদেশী একাধিক জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে জামায়াত গোপন যোগসাজশ করে দেশের নাশকতা ও সহিংসতা চেষ্টার ছক কষা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা গ্রেফতার হওয়ার পর দলের বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচীতে এসব জঙ্গী সংগঠনের নেতারাই মূলত নেতৃত্ব দিচ্ছে। জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে মিশে তারা বিভিন্ন নাশকতায় অংশ নিচ্ছে। উদ্বেগজনক এ পরিস্থিতিতে জামায়াতের জঙ্গী কানেকশন খতিয়ে দেখার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে সরকারের নীতি নির্ধারক মহল। এদিকে গত কয়েক মাসে নারায়ণগঞ্জের আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে নব্য জেএমবি সারোয়ার-তামিম গ্রুপের একাধিক ক্যাডারকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল ধ্বংসাত্বক মূলক সরঞ্জাম।
এদিকে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াত-শিবিরের হাত ধরে জঙ্গী উত্থান বৃদ্ধি পেয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত আট বছর ধরে জামায়াত-শিবিরের প্রকাশ্য তৎপরতা বন্ধ থাকলেও তারা চুপসে যায়নি। নাম-পরিচয় বদলে নানা কায়দায় তারা সরব হওয়ার চেষ্টা করছে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী জঙ্গী সম্পৃক্ততায় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছে এমন একটি তালিকা তৈরি করেছে গোয়েন্দা সংস্থা। এই তালিকায় আছে আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন, বাংলাদেশ ইসলাম রক্ষা কমিটি, বাংলাদেশ সন্ত্রাসবিরোধী দল, বিশ্ব ইসলামিক ফ্রন্ট, ছাত্র জামায়াত, দাওয়াতে ইসলাম, ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অব আরাকান, হিযবুত তাহরীর, হিযবা আবু ওমর, হিযবুল মাহাদী, এবতাদাতুল আল মুসলামিন, এহসার বাহিনী, ফারইস্ট ইসলামী, হরকাতে ইসলাম আল জিহাদ, হরকাতুল জিহাদ, হায়াতুল ইগাছা, আফগান পরিষদ, আহলে হাদিস আন্দোলন, আহলে হাদিস যুব সংঘ, আহলে হাদিস তাবলিগ ইসলাম, আহসাব বাহিনী, আল হারামাইন, আল ইসলাম মার্টিয়াস ব্রিগেড, আল ইসলাম সংহতি পরিষদ, আলজাজিরা, আল জিহাদ বাংলাদেশ, আল খেদমত, আল মার্কাজুল আল ইসলামী, আল মুজাহিদ, আল-কায়েদা, আল সৈয়দ মুজাহিদ বাহিনী, আল তানজিব, আল্লাহর দল, আল্লাহর দল ব্রিগেড, আমানাতুল ফোকান আল খাইরিয়া, আমিরাতে দ্বীন, আঞ্জুমানে তালামিজা ইসলামিয়া, আরাকান আর্মি, আরাকান লিবারেশন ফ্রন্ট, আরাকান লিবারেশন পার্টি, আরাকান মুজাহিদ পার্টি, আরাকান পিপলস আর্মি, আরাকান রোহিঙ্গা ফোর্স, আরাকান রোহিঙ্গা ইসলামিক ফ্রন্ট, হেফাজতে খতমে নবুওয়ত, হিযবুল্লাহ আদলে বাংলাদেশ, হিযবুল্লাহ ইসলামী সমাজ ও জামা’আতুল ফালিয়া, জামায়াতে মোদাচ্ছেরীন বাংলাদেশ, জামায়াতে তুলবা, জামায়াতে আহিয়া, জামায়াতে ফালিয়া, জামাতুল ইসলাম মুজাহিদ, জামায়াতে আহলে হাদিস, জামায়াতে ইসলামী সলিডারিটি ফ্রন্ট, জামায়াতুল আহিয়া উত-তুরাজ, ও খতমে নবুওয়ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *