আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:০৬
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

সরকার পতনের সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকুন

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, নেতাকর্মীদের সংগঠিত হতে হবে। আপনারা দ্রুত সংগঠিত হন। দেশের মানুষ আজ ভালো নাই। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এখন আকাশচুম্বী, গ্যাস বিদ্যুৎ সহ সকল কিছুর মুল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে। মানুষ আজ নাভিশ্বাস ফেলছে। সামনে এ সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে সবাইকে মাঠে নামতে হবে। সংগ্রামের জন্য সকলকে প্রস্তুত থাকতে হবে। আগামীতে নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে আন্দোলনের ডাক দিবেন তাতে সকলকে ঝাপিয়ে পড়ে দেশের গনতন্ত্র উদ্ধার করতে হবে। গতকাল বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব মার্কেটে সাখাওয়াত হোসেন খানের অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। শ্রমিক দল, ট্যাংক লরী ও ট্রাক শ্রমিক দলের সদস্য সংগ্রহের জন্য নেয়া বই পূরণ করে সকল সদস্যরা এসে উক্ত বই জমা দেয়ার জন্য উক্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে মহানগর শ্রমিক দলের যুগ্ম আহবায়ক লুৎফর রহমান মন্টুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর শ্রমিক দল নেতা নজরুল ইসলাম, মহানগর যুবদল নেতা ফারুক আহমেদ, মহানগর শ্রমিক দল নেতা আলমগীর হোসেন প্রমুখ।

উত্তর মেরু-দক্ষিণ মেরুর বিরোধ আরও চাঙ্গা!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
সম্প্রতি নারায়নগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ৭৪ সদস্য বিশিষ্ট পুর্নাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। পুর্নাঙ্গ কমিটির ঘোষনার পর থেকে কে কার লোক হিসাবে কমিটিতে সুযোগ পেয়েছে আর আগামীতে কে এমপি শামীম ওসমানের নিয়ন্ত্রনে রাজনীতি করবেন আবার কে মেয়র আইভীর আস্থা ভাজন হিসাবে রাজনীতিতে মাঠে অবস্থান করবেন এসব নিয়ে গোটা জেলা জুড়ে আওয়ামী নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা অংক কষছে। তৃনমূল নেতাদের কারো কাছে এবার কমিটি হয়েছে কর্মী বান্ধব নেতাদের নিয়েই আবার কারো কারো অভিযোগ দলের ত্যাগী, পরীক্ষিত, নিবেদিতদের যথার্থ মূল্যয়ান করা হয়নি। ইতিমধ্যে কমিটির পদ পেয়েও কেউ সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করছেন আবার কেউ মনের আগুনে জ্বলছেন। ইতিমধ্যে জেলা আওয়ামীলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় শ্রমিকলীগের কল্যান ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহাম্মেদ পলাশ। এছাড়ও জেলা কমিটির সহ সভাপতি পদ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন জেলা যুবলীগের সভাপতি আঃ কাদির। যথার্থ মূল্যায়ন হয়নি বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন কোষাধ্যক্ষ পদ পাওয়া মনিরুজ্জামান মনিরও। এসবে নেতা-কর্মীদের খুব মাঝে খুব বেশী আলোচনা-সমালোচনা না হলেও এই জেলায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি দুটি ধারায় প্রকাশ্য। একটি হলো শামীম ওসমান তথা ওসমান পরিবার অপরটি হলো চুনকার মেয়ে আইভী তথা ওসমান পরিবার বিরোধী ধারা। দুজনেই দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার আস্থাভাজন। কিন্তুু নারায়নগঞ্জের আওয়ামী রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই দুই নেতার দুই মেরুতে অবস্থান। দীর্ঘ দিন নারায়নগঞ্জ জেলার আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রন, দলের কমিটিতে আধিপত্য সব কিছুতেই ছিল শামীম ওসমানের একক প্রাধান্য। যে কারনে আওয়ামী লীগে নিবেদিত, ত্যাগী, পরীক্ষিত, যোগ্য হয়েও দলের পদ পদবীতে স্থান হয়নি একাংশের। গত বছরের ৯ অক্টোবর কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নারায়নগঞ্জ আওয়ামী লীগের আংশিক কমিটি গঠন করেন এতে সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল হাই, সাধারন সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোঃ বাদল এবং সিনিয়র সহ সভাপতি ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভী। এই কমিটির সাধারন সম্পাদক বাদল এমপি শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ লোক, এরপরে গত শনিবার রাতে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা ৭৪ সদস্য বিশিষ্ট আওয়ামী লীগের পুর্নাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন এর পর থেকে শামীম ওসমান আর আইভী কিংবা ওসমান বিরোধী লোক হিসাবে কে কোন পদে সুযোগ পেয়েছেন এসব কথা এই জেলার আওয়ামী লীগারদের মুখে মুখে। অতীত সময়ে এই জেলার আওয়ামী লীগের রাজনীতি পর্যালোচনা করে এবং বর্তমান অবস্থানের নিরিখে জানা গেছে। নারায়নগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি পদে সুযোগ পাওয়া নেতাদের মধ্যে থাকা মিজানুর রহমান বাচ্চু,আরজু ভূঁইয়া, এড.আসাদুজ্জামান আসাদ, মোহাম্মদ সানাউল্ল্যাহ্, খবির উদ্দীন, আঃ কাদির, শিকদার মোঃ গোলাম রসুল, আদিনাথ বসু, খাজা রহমত উল্ল্যাহ্ (প্রয়াত)। এদের মধ্যে মোঃ সানাউল্ল্যাহ্ ও খবির উদ্দীন এরা সরাসরি শামীম ওসমানের সাথে রাজনীতিতে যুক্ত তবে শিকদার মোঃ গোলাম রসুল। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কুতুবপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন অভিযোগ রয়েছে ওই নির্বাচনে এমপি শামীম ওসমান পর্দার অন্তরালে বিএনপির নেতা মনিরুল আলম সেন্টুকে সমর্থন করেন এবং সেই নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে গোলাম রসুল শোচনীয় ভাবে পরাজিত হয়। এরপর থেকে ওসমানের সাথে তার সম্পর্কে ঘাটতি হয়েছে বলে স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ মনে করছেন। উল্লেখ্য গোলাম রসুল এক সময় বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে কুতুবপুর ইউপির চেয়ারম্যানও ছিলেন। যুগ্ন সাধারন সম্পাদক পদে থাকা জাহাঙ্গীর আলম (যিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য) ডাঃ আবু জাফর চৌধুরী বিরু, এডভোকেট ইকবাল পারভেজ। এদের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম শামীম ওসমানের বন্ধু হিসাবে পরিচিত। শামীম ওসমান যখন তোলারাম কলেজের ছাত্র-ছাত্রী সংসদের ভিপি ছিলেন তখন জাহাঙ্গীর ছিলেন জিএস। কিন্তুু জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে আইভীর ঘনিষ্ঠ লোক হিসাবে রাজনৈতিক মাঠে পরিচিত। আর ডাঃ আবু জাফর চৌধুরী বিরু ও এড.ইকবাল পারভেজ এরা দুজন সরাসরি ওসমান ও আইভী কারো নিয়ন্ত্রনাধীন নয়। দুজনের সাথে সমান তালে সম্পর্ক রয়েছে তাদের। সাংগঠনিক সম্পাদক সুন্দর আলী, মীর সোহেল আলী, এ কে আবু সুফিয়ান। এদের মধ্যে মীর সোহেল আলী সরাসরি শামীম ওসমানের সাথে রাজনীতিতে যুক্ত আর আবু সুফিয়ান মেয়র আইভীর ঘনিষ্ঠ এটা গোটা জেলা বাসী অবগত তবে সুন্দর আলী সরাসরি কোনো পন্থীতে নেই। কমিটিতে থাকা আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মাসুদ-উর-রউফ শামীম ওসমানের নেতৃত্বাধীন রাজনীতিতে যুক্ত হলেও আইভীর সাথে তার সম্পর্ক খারাপ নয়। বন ও পরিবেশ সম্পাদক রানু খন্দকার, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মরিয়ম আক্তার কল্পনা এরা দুজনকে সব সময় মেয়র আইভীর সাথে দেখা যায় দলীয় রাজনীতিতে। মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট নূরুল হুদা এমপি শামীম ওসমানের অনুসারী হিসাবে পরিচিতি রয়েছে তবে তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক খালিদ হাসান, এান ও সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক আলমাজ ভূঁইয়া, দপ্তর সম্পাদক এম এ রাসেল, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক মিয়া, প্রচার-প্রচারনা বিষয়ক সম্পাদক শেখ সাইফুল ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মানজারী আলম টুটুল, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ফেরদৌসি আলম নীলা, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহম্মেদ পলাশ, জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ নিজাম আলী, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নূর হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মনির এরা সকলেই এমপি শামীম ওসমানের নিয়ন্ত্রনের বাইরে থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে উপ-দপ্তর সম্পাদক হাবিবুর রহমান (হাবিব), উপ-প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ নাসির উদ্দীন। এরা দীর্ঘ দিন ধরে শামীম ওসমানের সাথে সরাসরি রাজনীতিতে জড়িত রয়েছে বলে জানা গেছে। সদস্য হিসাবে থাকা গাজী দস্তগীর হোসেন এমপি, নজরুল ইসলাম বাবু এমপি, এডভোকেট হোসনে আরা বাবলী সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি, সাবেক এমপি এমদাদুল হক ভূইঁয়া, সাবেক এমপি কায়সার আব্দুল্লাহ্ হাসনাত, মাহবুবুল ইসলাম রাজন, মোশারফ হোসেন, আমজাদ হোসেন, মির্জা মোঃ সোহেল, আবুল বাশার টুকু, এম সাইফুল্লাহ্ বাদল, এম এ শওকত আলী, মতিউর রহমান, হালিম শিকদার, আব্দুল কাদের ডিয়াল, বিএম কামরুজ্জামান ফারুক, তোফাজ্জল হোসেন, শাহজাহান ভূঁইয়া, শাহজালাল মিয়া, হেলো সরকার, সামছুল ইসলাম ভূঁইয়া, মাহফুজুর রহমান কালাম, আঃ রশীদ, সিরাজুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন সাজনু, মোঃ শহীদুল্লাহ্, শীলা রানী পাল, এড.ইসহাক, সামছুজ্জামান ভাসানী, মেজর (অব.)মশিউর রহমান, সাদেকুর রহমান সাদেক, মজিবুর রহমান মন্ডল, মাসুম রহমান, ইউসুফ ভূঁইয়া। এদের মধ্যে ৭/৮ জন কে দেখা যায় এমপি শামীম ওসমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী রাজনীতিতে সভা-সমাবেশে এবং দলীয় ফোরামে। জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে একজন সহ সভাপতি খাজা রহমত উল্ল্যাহ্ মৃত্যুবরন করায় তার পদ শূন্য ছাড়াও একজন সহ সভাপতি পদে খালি রয়েছে। এছাড়াও কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক, তথ্য প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক এবং একটি সদস্য পদ খালি রয়েছে এখনো। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী সমর্থকদের মাঝে এখন একটাই প্রশ্ন নারায়নগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটি এমপি শামীম ওসমান না মেয়র আইভীর কার নিয়ন্ত্রনে এখন?

সুগন্ধা হাসপাতলে চিকিৎসা নয় যেন মরন ফাঁদ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
সিদ্ধিরগঞ্জে গড়ে উঠেছে অবৈধ শতাধিক হাসপাতাল। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে নামিদামি ডাক্তারদের সাইনবোড লাগিয়ে সাধারন মানুষের সাথে করছে প্রতারনা। তেমনি চিটাগাংরোড অবস্থিত হালিমা মার্কেটে সুগন্ধা হাসপাতাল চিকিৎসার নামে যেন রোগীদের জন্য মরন ফাঁদ। সুগন্ধা হাসপাতালের বিরুদ্ধে একাধীক অভিযোগ থাকলেও কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করেনি কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসার নামে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। সুগন্ধা হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা অনেক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। মৃত্যুর ঘটনার বিষয়ে গনমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও ব্যবস্থা নেয়নি নারায়নগঞ্জ সিভিল সার্জেন্ট। দিনদিন যেন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সাধারন একজন রোগী সুগন্ধা হাসপাতালে আসলে প্রয়োজন ছাড়া তাদের বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। পেট ব্যাথার কোন ধরনের রোগী সুগন্ধা হাসপাতালে আসলে তাদের অপারেশন করতে হবে এ ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ড দেখে এলাকাবাসী হতাশ। সাধারন চিকিৎসার বিষয়ে রোগীরা আসলে ৫শত থেকে ১হাজার টাকা পর্যন্ত ফ্রি নিচ্ছে। চিটাগাংরোড সুগন্ধা হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নোংরা পরিবেশ, অপারেশন থিয়েটারের অবস্থতা বেহাল দশা। নামি আর দামি ডাক্তার সাইনবোড লাগিয়ে রোগীদের দৃষ্টি আর্কষন করে তাদের হয়রানি করছে। গত এক বছরে বিভিন্ন এলাকার গর্ভবতি নারীদের অদক্ষ ডাক্তারের ধারায় অপারেশন করার সময়ে অনেক নারী মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে এই হাসপাতালে। শুধু নারী ক্ষেত্রে এসব হচ্ছেনা পুরুষের ক্ষেত্রে হচ্ছে। গত ৬ মাস আগে চিটাগাংরোড আহসান উল্যাহ সুপার মার্কেটের এক ব্যবসায়ী অসুস্থ হয়ে আসলে তাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই একটি ইনজেকশন ফুস করা হলে তার কিছু কখন পরে তার মৃত্যু হয়। পরে আহসান উল্যাহ সুপার মার্কেটের মালিক হাবিবুল্যাহ হবুল বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে দেন। প্রতিদিন ঘটছে এ ধরনের ঘটনা। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেন রোগী ষ্ট্রোক করে মারা গিয়েছেন বলে সবাইকে জানান। সুগন্ধা হাসপাতালে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার মেশিন ভালো না বলে গোপন একটি সূত্রে জানাযায়। হাসপাতালে আসা কয়েকজন রোগীর স্বজনরা বলেন, সুগন্ধা হাসপাতালে রোগী নিয়ে এসে এখন তারা খুব বিপদে আছেন। হাসপাতালের চিকিৎসার মান এত খারাপ তা তারা আগে বুঝতে পারেনি। রোগী নিয়ে এক থেকে দু দিন হাসপাতালে রোগী নিয়ে থাকার পরে ২০ হাজার টাকা একটি ভাউছার ধরিয়ে দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এত টাকার হিসাব জানতে চাইলে তারা বিভিন্ন ভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছে। রোগী এব স্বজনদের সাথে দূর্ব্যবহার করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাই রোগী সুগন্ধা হাসপাতালের নাম দিয়েছেন কসাইখানা। ভুক্তভোগী রোগীরা এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন সুগন্ধা হাসপাতালে চিকিৎসা না নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন পাশাপাশি এ হাসপাতালের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান। এবং সুগন্ধা হাসপাতালটি সিলগালা করা দাবি তোলেন। সুগন্ধা হাসপাতাল শেল্টার দিচ্ছে এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। ফায়দা লুটছেন তারা ক্ষতি করছেন সাধারন মানুষের। সুগন্ধা হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তা করা সম্ভাব হয়নি। এ বিষয়ে নারায়নগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, সুগন্ধা হাসপাতালের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। যত বড় প্রভাবশালী হোক না কেন কোন ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

রূপগঞ্জ থেকে জেএমবি’র সক্রিয় সদস্য ইসহাক গ্রেফতার

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
রূপগঞ্জ থেকে জেএমবি’র সারোয়ার-তামীম গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হাফেজ সৈয়দ মো: ইসহাক ওরফে মাওলানা ইসহাক ওরফে হাফেজ মাওলানা ইসহাক (৫০) কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১। গতকাল বুধবার দুপুরে র্যাব-১১’র সদর দপ্তর থেকে প্রেরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। গত মঙ্গলবার রাতে র্যাব-১১’র একটি আভিযানিক দল রূপগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। এসময় গ্রেফতারকৃত ইসহাকের দেয়া স্বীকারোক্তিতে তার নিজ বাসা এবং দোকান হতে বিপুল সংখ্যক জঙ্গীবাদী বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়।
ধৃত ইসহাক নরসিংদী জেলার বেলাব থানা এলাকার স্থায়ী বাসিন্ধা। সে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানায় দায়েরকৃত একটি মামলার এজাহার নামীয় পলাতক আসামী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জেএমবি‘র (সারোয়ার-তামিম গ্রুপের) সক্রিয় সদস্য। মামলা নং-৬৯, তাং ২২/ ৮/১৭ইং।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব আরো জানায়, হাফেজ সৈয়দ মো: ইসহাক ওরফে মাওলানা ইসহাক ওরফে হাফেজ মাওলানা ইসহাক ১৯৯৬ সালে বরিশালের একটি মাদ্রাসায় দাখিল পর্যন্ত পড়াশুনা করে। পরে ঢাকায় এসে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করে। ২০০২ সালে সে জনৈক ইজাজ এর মাধ্যমে জঙ্গীবাদে উদ্বুদ্ধ হয়। ২০০৮ সালে ধানমন্ডির হাতেমবাগ মসজিদে জসিম উদ্দিন রাহমানির সাথে তার প্রথম সাক্ষাত হয়। পরবর্তীতে ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মোহাম্মদপুরের বসিলাস্থ জসিম উদ্দিন রাহমানির মসজিদের ১০ সদস্যের পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সে জসিম উদ্দিন রাহমানির একান্ত সহকারী হিসেবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দাওয়াতী কাজের জন্য ভ্রমণ করেছে। ২০১৩ সালে জসিম উদ্দিন রাহমানি গ্রেফতার হওয়ার পর সে বেশ কিছুদিন আত্মগোপনে থাকে, পরে তার নিকট আত্মীয় মাওলানা আব্দুল হাকিমের সাথে জেএমবির সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় হয়। ২০১৬ সালে মাওলানা আব্দুল হাকিম গ্রেফতার হওয়ার পর সে পুনরায় আত্মগোপনে চলে যায়। মাওলানা ইসহাকের কাছে জসিম উদ্দিন রাহমানি নিয়মিত সাংগঠনিক নির্দেশনা স¤¦লিত চিঠি পাঠাত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে। জনৈক মোমেনা নামের সংগঠনের এক নারী সদস্যসহ অন্য কয়েকজনের মাধ্যমে মাওলানা ইসহাকের সাথে জসিম উদ্দিন রাহমানি চিঠিগুলো আদান-প্রদান করত। জসিমউদ্দিন রাহমানির নির্দেশে জেএমবির শীর্ষনেতা তাসলিম জেল থেকে জামিনে বের হয়ে এসে মাওলানা ইসহাকের সাথে সাক্ষাত করে এবং সাংগঠনিক বিষয়সমূহ সমন্বয় করে। পরবর্তীতে সংগঠনের কিছু বিষয়ে জেএমবির (সারোয়ার-তামিম গ্রুপ) দাওয়াতী শাখার শীর্ষ নেতা শায়েখ আরিফের সাথে তার দ্বন্দে¡র সৃষ্টি হয়। সে জেএমবির শীর্ষ নেতা তাসলিমের ভাইয়ের মাধ্যমে জেলখানাসহ বিভিন্ন স্থানে জসিম উদ্দিন রাহমানিকে ভাগে ভাগে মোট ২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা প্রদান করেছে বলে স্বীকার করেছে। জেলখানা থেকে জসিম উদ্দিন রাহমানির পাঠানো নির্দেশনা স¤¦লিত চিঠিপত্র সংগঠনের অন্যান্যদের কাছে প্রেরণের মাধ্যমে সে জেএমবির কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
এ সংক্রান্তে গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও র্যাব জানিয়েছে।

নেতাকর্মীদের মাঠে নেমে কাজের তাগিদ আওয়ামীলীগ-বিএনপির

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে মাঠে নেমে সাধারন মানুষ ও দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করার তাগিদ দেয়া হচ্ছে বিএনপি ও আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে। সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ও দলের বিভিন্ন কর্মকা-ের কারনে সাধারন মানুষের কাছে নিজেদের জনমত তুলে ধরতে মাঠে কাজের তাগিদ দিয়েছেন আওয়ামীলীগের কেন্দ্র। শুধু নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী নয়, দলের জেলা ও মহানগর সহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কাছেও এমন বার্তা দেয়া হচ্ছে। আবার আওয়ামীলীগের গুম খুন ও দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি তুলে ধরে মানুষের কাছে পৌছাতে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীদের। জানা গেছে, আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি বলেছেন সাধারণ মানুষের কাছে সকল নেতাকর্মীদের যেতে। মানুষের কাছে গিয়ে বিএনপি জামায়াতের সন্ত্রাস তুলে ধরে এবং দলের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকা- তুলে ধরে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে যতটা সম্ভব মানুষের কাছে গিয়ে মানুষকে নিয়ে জনমত গড়তে। দলের অনেক নৈতিবাচক কর্মকা-ে দলের নেতাকর্মী থেকে শুধু করে সাধারন মানুষও অনে ক্ষিপ্ত তাই দলের সকল নেতাকর্মীদের মানুষকে নিয়ে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আবার একই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীদেরকেও। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে দলের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে। দলের নেতাকর্মীদের মাঠের কর্মীদের সাথে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারন মানুষের জনমত সৃষ্টি করতে বলা হয়েছে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও এ কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করছেন। এ নিয়ে দলীয় প্রধান বিভিন্ন মাধ্যমে দলের জেলা ও মহানগরের নেতৃত্ব, সাবেক সংসদ সদস্য, নির্বাচন করতে ইচ্ছুক প্রার্থী ও দলে জেলা থেকে প্রাপ্ত কেন্দ্রের বিভিন্ন পদের নেতাদের কাছেও এমন বার্তা দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই বার্তা মেনে দলের একাধিক নেতারা মাঠে নেমে পড়েছেন। তারা দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারন মানুষের সাথেও যোগাযোগ বৃদ্ধি করছেন। জানা যায়, দলের কেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে শেয়ার বাজার লুট,পদ্মাসেতু কেলেঙ্কারি, হলমার্ক,ডেসটিনি, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, সোনালী ব্যাংক, বেসিকব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি, এটিএম বুথে অভিনব চুরি, সরকারের ছত্রছায়ায় নারায়ণগঞ্জে সেভেন মার্ডার ভোটারদের মনে সরকার বিরোধী মনোভাব গড়ে তুলেছে। এছাড়া ৫ জানুয়ারি ভোট দিতে না পারার মনোবেদনা, বিশ্বজিৎ হত্যা, তনু হত্যা, খাদিজা নির্যাতনসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্তৃক সারাদেশে চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডে ভোটাররা বেজায় নাখোশ। হালের তুফান কর্তৃক ধর্ষণ ও মা-মেয়েকে নির্যাতন এবং সিদ্দিকুরের চোখ উপড়ানোর ঘটনাও মানুষের মনে নাড়া দিয়েছে। এমন অনেক ঘটনাই ঘটেছে নারায়ণগঞ্জে। সাত খুনসহ বিভিন্ন অপরাধ ও সরকারের এই দীর্ঘ সময়ে তেমন উন্নয়ন না হওয়াকেই তুলে ধরে মানুষের কাছে বার্তা পৌছাতে বলেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। দলের নেতাদের জানানো হয়েছে, মানুষের ভোটের অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের ব্যাপারে মানূষের সাথে সম্পৃক্ততা বাড়ানো। তাদেরকে বিএনপির পাশে টানা। এসব কাজে ও সাংগঠনিক কাজে দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি নিজেদের ও সাধারন মানুষের কার্যক্রম বাড়ানোর উপর জোর দেয়া হয়েছে। বিগত সময়ের মত ঘরে বসে আর কেন্দ্রে যোগাযোগ করে এবার আর মনোনয়ন পাওয়া যাবেনা বলে দলীয় বিভিন্ন পর্যায় থেকে নেতাদের জানানো হয়েছে। পেশিশক্তি ও অর্থবিত্তের অধিকারীরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন না। ক্ষমতাসীন দল থেকে মনোনয়ন পেতে হলে প্রার্থীকে অবশ্যই জনসম্পৃক্ত হতে হবে। একইসঙ্গে মনোনয়ন-প্রত্যাশীকে হতে হবে শিক্ষিত-মার্জিত। থাকতে হবে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাও। এসব গুণের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ত্যাগী-অভিজ্ঞ নেতারাই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দৃষ্টিতে মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য হবেন। দলের বিভিন্ন ফোরামে নেতাদের উদ্দেশে এমন কথা জানিয়েছেন খোদ শেখ হাসিনাই। তিনি মনে করেন, আগামী নির্বাচন ভীষণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। এ কারণে উল্লিখিত গুণাবলি না থাকলে দলের পক্ষে বিজয়ী হয়ে আসা কঠিন হবে। ক্ষমতাসীন একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, প্রচুর অর্থবিত্ত আছে, কিন্তু এলাকায় পরিচিতি নেই, জনসম্পৃক্ততা শূন্যের কোটায়, কর্মী-সমর্থকদের খোঁজ-খবর রাখেন না, এমন নেতাদের নৌকার মনোনয়ন দেবেন না আওয়ামী লীগ সভাপতি। ইতোমধ্যেই শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি কাউকে জিতিয়ে আনতে পারব না। এবার যার যার যোগ্যতায় জিতে আসতে হবে।’ ওই সভায় বর্তমান এমপি ও মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের উদ্দেশ্যে দলীয় তিনি আরও বলেছেন, ‘প্রত্যেককে স্ব-স্ব নির্বাচনি এলাকার পুরো ভোটার তালিকা হাতে নিয়ে প্রত্যেক ভোটারের কাছে যেতে হবে। তাদের কাছে ভোট চাইতে হবে। ভোটারদের দরজায় যেতে চিন্তা করা যাবে না, কে কোন দলের। ‘শুধু উন্নয়নের কথা বলে ভোট আদায় করা যাবে না। ভোট আদায় করতে ভোটারদের সংস্পর্শে যেতে হবে।’ পাশাপাশি প্রত্যেক মনোনয়ন-প্রত্যাশী নেতার কাছে এ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

সাংসদ সেলিম ওসমানের তৈরী বাগান এখন ময়লা আবর্জনার ভাগাড়

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে বহু কষ্টে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পাড়ে অবস্থিত ময়মনসিংহপট্টিকে উদ্ধার করে ছিলো বিআইডব্লিউটিএ। এ জন্য নিতে হয়েছিলো স্থানীয় সাংসদ সেলিম ওসমানের সহযোগীতা। সেই সময় সিদ্ধান্ত হয়েছিলো ‘নির্মাণ করা হবে মনোরম পার্ক, থাকবে বাগানও’। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের সঠিক নজরদারির অভাবে এখন সেই স্থান পরিণত হয়েছে ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে। একই হাল নদীর পশ্চিম পারেও। গত মঙ্গলবার সরেজমিনে নদীর পূর্বপাড়ে গিয়ে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর বিভিন্ন স্পটে গৃহস্থলীর ময়লা আবর্জনা স্তুপ। কুকুর ওই ময়লা আবর্জনা নাড়ছে, আর ময়লা স্তুপের একটু খানি দুরেই কিছু মানুষ নদীতে নেমে গোসল করছে। আবর্জনার মধ্যে বাজারের উচ্ছিষ্ট থেকে শুরু করে বাসাবাড়ির ময়লাও রয়েছে। জানা গেছে, বন্দর উপজেলায় ৫৪.৩৯ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় গ্রাম রয়েছে ১৭২ টি। গ্রামগুলোতে প্রায় ৩ লাখ ১৩ হাজার মানুষের বসবাস। অথচ, এমন একটি ঘনবসতি উপজেলার মানুষগুলোর জন্য সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ কোন ময়লা ফেলার স্থান নির্ধারণ করেনি। ফলে শহরের নাগরিকদের মতোই বন্দরবাসীর গৃহস্থালি বর্জ্য পড়ছে শীতলক্ষ্যায়। শ্যামল নামের এক ব্যক্তি বলেন, এ ঘাটটি বন্দরের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ শহরে যাতায়াতের সবচেয়ে বড় বা প্রধান ঘাট। এখান দিয়ে বন্দরের লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জ শহরে যাতায়াত করে থাকে। কিন্তু ঘাটের পাশেই এভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখায় তা পচে পুরো এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। কিছু দিন আগে ওই স্থানের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করলেও আবর্জনা ফেলে সরকারের সে উদ্যোগ নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে।এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক বলেছেন, লোকবল সংকট থাকায় পুরোপুরি নজর রাখা সম্ভব হয় না। তবে নদীর তীর সুন্দর রাখার চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি নতুন কমিটিও তৃর্ণমূলেরা বিচ্ছিন্ন

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি নির্বাচনী আসনেই আওয়ামীলীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের সাথে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দূরত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিন অবহেলা ও তাদের সাথে দলীয় কোন ব্যাপারে আলাপ আলোচনা না করার কারনেই তারা দিন দিন দূরে সরে যাচ্ছেন। এ ছাড়া দুটি দলেরই নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই দলের পদ পদবিহীন অবস্থায় রয়েছেন। দলের কমিটি হবে হবে করেও বছরের পর বছর পার হলেও দলের কমিটির দেখা মিলেনি এতদিন। যাও আওয়ামীলীগের কমিটি হয়েছে উক্ত কমিটি একেবারেই তৃণমূল বিছিন্ন ও মাঠের নেতাদের বাইরের কমিটি হয়েছে বলে জানা গেছে। মাঠের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামীলীগের বর্তমান অবস্থা মূলত তৃণমূল বিচ্ছিন্ন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে তাদের যোগাযোগ অনেক কম। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি উভয় দলই তাদের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে শুরু করেছে। এই উদ্যোগের মধ্যে মাঠের সক্রিয় নেতাকর্মীদের রেখে ও বিগত সময়ে যারা বিএনপি জামায়াতের আন্দোলন সংগ্রামের বিরুদ্ধে কাজ করেছে তাদেরকে দিয়ে কমিটি করাতে একেবারেই হতাশা বিরাজ করেছে তৃণমূল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে। যার প্রতিফলন দেখা গেছে কমিটি হবার পর নেতাকর্মীদের কোন উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি। আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দলের বিভিন্ন থানা ও উপজেলার কমিটি নেই দীর্ঘদিন ধরেই। দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ দেখাচ্ছে, যদিও নেতাকর্মীদের ক্ষোভের পরেও দলের কমিটি করতে নেতাদের কোন আগ্রহ নেই। অপরদিকে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা দলটি বর্তমানেও দলের নেতাকর্মীদের তেমন একটা কাজের সুযোগ দিচ্ছেনা। দলের নেতারাই বিভিন্ন পর্যায়ের অর্থ সংশ্লিষ্ট কাজ করছে এতে তৃণমূলের নেতাকর্মী যারা মাঠে কাজ করেন তাদের কোন ভাগও থাকছেনা। তার উপরে জেলা আওয়ামীলীগ নতুন কমিটি হয়েছে একেবারেই হাইব্রিড নেতাদের দিয়ে যা দলের নেতাকর্মীদের জন্য হতাশাজনক বলে জানা গেছে। জানা যায়, দলের নেতারা দীর্ঘ এ সময়ে অর্থনৈতিকভাবে ফুলে ফেপে উঠলেও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যেই তিমির সেই তিমিরেই রয়ে গেছেন। দলের নেতাদের অবস্থার রাতারাতি পরিবর্তন হলেও পরিবর্তন হয়নি দলের কর্মীদের। এ নিয়ে কর্মীদের চাঙ্গা করতে তাদের কাছে ঘেষলেও তারা তাই তেমন একটা সাড়া দিচ্ছেন না। আবার অনেক স্থানে আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্যের পরিবর্তে মহাজোটের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য থাকায় সেখানে একেবারেই সুবিধা করতে পারেনি আওয়ামীলীগ। আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের এসব স্থানে খুব বেশি একটা সুবিধাও করে দিতে পারেনি দলের নেতারা। অনেকে আবার নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থেকেছেন। ১৩ মাস পর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ৭৪ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। রোববার ২৬ নভেম্বর ওই কমিটি অনুমোদনের খবর জানায় জেলা আওয়ামীলীগ। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের হাতেই উক্ত কমিটির পূর্ণ তালিকা পাঠানো হয়। এর আগে ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর আবদুল হাইকে সভাপতি, সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সহ সভাপতি এবং আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে গত এক বছর ধরেই নানা সমীকরণ চলছিল। এর মধ্যে আবদুল হাই, আইভী ও বাদল তাদের পছন্দের লোকজনদের নাম কেন্দ্রে সুপারিশ করে। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ। দলের নেতাকর্মীদের মতে, সামনে নির্বাচন ও বিএনপি জামায়াতের আন্দোলন ঠেকাতে দলের যেসব নেতাকর্মীদের প্রয়োজন হবে তাদেরকে এই কমিটি কখনোই কাছে পাবেনা। বিগত সময়ে বিএনপি জামায়াতের আন্দোলন কর্মসূচী যারা প্রতিহত করেছেন সেসব নেতাকর্মীদেরকেও এবার মূল্যায়ন করা হয়নি। মাঠের কাজের কোন আমলনামা না দেখে শুধুমাত্র নেতাদের তদবিরে এবার আওয়ামীলীগের জেলা কমিটিতে অনেক নেতার পদ হয়েছে। এসব আওয়ামীলীগের আগামীর রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে। বিএনপি জামায়াতের আন্দোলন কিংবা নির্বাচনে কাজ করার তেমন সাংগঠনিক শক্তি আওয়ামীলীগের এই হাইব্রিড কমিটির হবেনা বলে জানা গেছে।

‘সীলগালা’ তালিকা নারায়ণগঞ্জে এখনো পৌঁছায়নি

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
কেন্দ্র থেকে কমিটির তালিকা প্রেরণের প্রায় ৭২ ঘন্টা অতিবাহিত হতে চলেলেও এখনো পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা হাতে পাননি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই। ডাক বিভাগে কোন পাশের্^ল পাঠালে দেরী হয় বিধায়, দ্রুততম সময়ের মধ্যে হস্তগত হওয়ার জন্য কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে কেন্দ্র থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রেরণ করা হলেও এখনো পর্যন্ত সেটি সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের নারায়ণগঞ্জ শাখায় এসে পৌঁছায়নি। বিধায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের ৮১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের পর কেন্দ্র থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে পাঠালেও তা এখন সুন্দরবনেই আটকে আছে বলে মন্তব্য করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দরা। আর কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠানোর ২৪ ঘন্টার মধ্যে যেকোন পাশের্^ল হস্তগত হওয়ার নিয়ম থাকলেও ৭২ ঘন্টা পেরিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্র থেকে পাঠানো জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির ‘সীলগালা’ তালিকা নারায়ণগঞ্জে এসে না পৌঁছায় কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই। গতকাল বুধবার বিকেলে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে আব্দুল হাই জানান, গত ২৫ নভেম্বর রাতে আওয়ামীলীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের ৮১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের পর তা পরদিন ২৬ নভেম্বর কেন্দ্র থেকে আমার বরাবর সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু আমি হতবাক হয়ে গেলাম, ২৪ ঘন্টার মধ্যে কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠানো পাশের্^ল গ্রাহকের কাছে পৌঁছে যাওয়ার নিয়ম থাকলেও প্রায় ৭২ ঘন্টা অতিবাহিত হতে চলেছে, কিন্তু এখনো অবদি আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা হাতে পাইনি। যার ফলে আনুষ্ঠানিক ভাবে পূর্ণাঙ্গ কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছে না।’ আর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘কুরিয়ার সার্ভিসে কমিটির তালিকা পাঠানোর পরেও এখনো অবদি নারায়ণগঞ্জে এসে কেন পাশের্^ল পৌঁছায়নি, তা নিয়ে ক্রমশই রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। এর পেছনে কি কারো কোন চক্রান্ত আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখার তাগিদ দেন জেলা কমিটিতে পদ পাওয়া একাধিক নেতা। জানাগেছে, গত ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইকে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীকে সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণার প্রায় বছর খানেক পর অবশেষে চলতি বছরের গত ২৫ নভেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৮১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্নাঙ্গ কমিটির মধ্যে ১০টি পদ শূণ্য রয়েছে। তন্মধ্যে একজন সহ-সভাপতি খাজা রহমত উল্লাহ সম্প্রতি ইন্তেকাল করেছেন। গত রবিবার কেন্দ্র থেকে ডাক যোগে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইয়ের বরাবর প্রেরণ করা হয়। এরআগে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের এ পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জেলা আওয়ামীলীগের ৭০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ তালিকা:
সভাপতি: আব্দুল হাই। সিনিয়র সহ- সভাপতি মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী, সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বাচ্চু, এড. আসাদুজ্জামান আসাদ, আরজু রহমান ভূঁইয়া, মুক্তিযোদ্ধা খবির উদ্দিন, মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, আব্দুল কাদির, শিকদার গোলাম রসুল, আদিনাথ বসু ও খাজা রহমত উল্লাহ।
সাধারন সম্পাদক: আবু হাসনাত শহীদ মোঃ বাদল, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক: আলহাজ¦ জাহাঙ্গীর আলম, ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু ও ইকবাল পারভেজ। আইন বিষয়ক সম্পাদক: এড. মাসুদ উর রউফ, তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক: খলিল হাসান, ত্রান ও সম্পজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক: আলমাছ ভূঁইয়া, দপ্তর সম্পাদক: এম এ রাসেল, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক: ইসহাক মিয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক: শেখ সাইফুল ইসলাম, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক: রানু খন্দকার, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক: মরিয়ম কল্পনা, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক: এড. নুরুল হুদা, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক: মোহাম্মদ মানজারী আলম (টুটুল), শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক: ফেরদৌসী আলম নিলা, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক: এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক: কাউসার আহমেদ পলাশ, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক: নুর হোসেন, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক: ডাঃ মো. নিজাম আলী। সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন তিনজন। এরা হলেন, সুন্দর আলী, মীর সোহেল আলী, একেএম আবু সুফিয়ান। উপ দপ্তর সম্পাদক: মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব, উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক: মো. নাসির উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ: মনিরুজ্জামান মনির। কার্যকরী সদস্য হয়েছেন ৩৪ জন। এরা হলেন, গাজী গোলাম দস্তগীর এমপি (বীর প্রতিক), নজরুল ইসলাম বাবু এমপি, হোসনে আরা বাবলী এমপি, এমদাদুল হক ভুঁইয়া, আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, মাহবুবুল ইসলাম রাজন, মোশারফ হোসেন, হাজ্বী আমজাদ হোসেন, মো. মির্জা সোহেল, আবুল বাশার টুকু, সাইফুল্লাহ বাদল, মোহাম্মদ মতিউর রহমান, শওকত আলী, মাসুম রহমান, হালিম শিকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের ডিলার, বিএম কামরুজ্জামান ফারুক, তোফাজ্জল হোসেন মোল্লা, শাহজাহান ভূঁইয়া, শাহজালাল মিয়া, হেলো সরকার, অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, মহফুজুর রহমান কালাম, আব্দুর রশিদ, সিরাজুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন সাজনু, মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, শীলা রাণী পাল, অ্যাডভোকেট ইসহাক, শামসুজ্জামান ভাষানী, মেজর (অব.) মশিউর রহমান, সাদেকুর রহমান, মজিবুর মন্ডল, ইউসুফ ভূইয়া। জানাগেছে, নবীণ ও প্রবীণদের নিয়েই জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে তৃণমূলের অনেক মাঠ পর্যায়ের নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। এদের মধ্যে উপ দপ্তর সম্পাদক: মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব উল্লেখ যোগ্য। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে আসছেন। কাশীপুর ইউনিয়ণ ছাত্রলীগের আহবায়ক থেকে শুরু করে সরকারি তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছেন। দীর্ঘ বছর ধরে রাজনীতি করলেও তেমন কোন মূল্যায় পাননি তিনি। তবে জেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতে তার মত একজন ত্যাগী নেতাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি কমিটি পুন:গঠনের দাবী তৃর্ণমূলের

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনার দাবী ক্রমেই জোড়ালো হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মাঝে। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি তৈরী হওয়ার পর এটা সময়ের দাবীতে পরিনত হয়েছে বলে মনে করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। ঘটনা সূত্রে প্রকাশ, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারীতে কাজী মনিুরুজ্জামানকে সভাপতি ও অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে সাধারন সম্পাদক করে জেলা বিএনপি এবং এড. আবুল কালামকে সভাপতি ও এটিএম কামালকে সাধারন সম্পাদক করে মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হলেও বিতর্কিত ব্যাক্তিদের কমিটিতে স্থান দেয়া, মূল দলের সাথে অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দদের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টিসহ নানাবিধ স্থবিরতার কারনে পূর্ণাঙ্গের পরিবর্তে আংশিক কমিটিই ফের পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। মূলত দলের মধ্যে থাকা কোন্দল সৃষ্টিকারী, নিষ্ক্রিয় ও সংগঠনের স্বার্থবিরোধী কাজে লিপ্ত নেতাদের এবার কোণঠাসা করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলের হাই কমান্ড। তবে হাই কমান্ড জেনেছে মাত্র গুটি কয়েকজন নেতা নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কোন্দল সৃষ্টি করে রেখেছে। যাদের অধিকাংশই এই কমিটির সদস্য পদই নেই। তৃণমূলের অভিযোগ নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কোন্দলে কাজ করে যাচ্ছেন কয়েকজন নেতা। এদের জন্য দলীয় কোন্দল নিরসন হচ্ছে না। এরা হলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার, সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু, ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু , সুবিধাবাদি নেতা আবুল কালাম আজাদ, মহানগর যুবদলের আহবায়ক খোরশেদসহ বেশ কয়েকজন নেতা। তাই এদেরকে বাদ দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ করার দাবী জানিয়েছে তৃণমূল। পাশাপাশি দ্রুত থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি গুলো পুন:গঠনের দাবীও উঠেছে। উল্লেখ্য, মহানগর বিএনপির ২৩ সদস্যের মহানগর কমিটিতে সহ-সভাপতি হলেন, এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, নুরুল ইসলাম সরদার, আতাউর রহমান মুকুল, হাজী নূরউদ্দিন, এড. জাকির হোসেন, এড.সরকার হুমায়ূন কবির, ফখরুল ইসলাম মজনু, বেগম আয়েশা আক্তার। যুগ্ম সম্পাদক ২ জন হলেন, আজহারুল ইসলাম বুলবুল ও মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। সাংগঠনিক সম্পাদক তিনজন হলেন আবদুস সবুর খান সেন্টু, ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু ও আবু আল ইউসুফ খান টিপু। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আওলাদ হোসেন, মনিরুল ইসলাম সজল, মাহাবুবউল্লাহ তপন। কোষাধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মনির। দপ্তর সম্পাদক হান্নান সরকার ও প্রচার সম্পাদক সুরুজ্জামান। আর ২৬ সদস্যের জেলা কমিটিতে সহ-সভাপতি হলেন শাহ আলম, খন্দকার আবু জাফর, জান্নাতুল ফেরদৌস, শাসমসুজ্জামান, আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, আজহারুল ইসলাম মান্নান, আবদুল হাই রাজু, মনিরুল ইসলাম রবি, ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদ ও লুৎফর রহমান। যুগ্ম সম্পাদক লৎফর রহমান খোকা, এম এ আকবর। সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, নজরুল ইসলাম পান্না, মাসুকুল ইসলাম রাজীব। সহ সাংঠনিক সম্পাদক উজ্জল হোসেন, এড. মাহমুদুল হাসান ও রুহুল আমিন শিকদার। সদস্য হলেন, সাবেক এমপি রেজাউল করীম, গিয়াস উদ্দিন, বদিরউজ্জামান খান খসরু, নজরুল ইসলাম আজাদ, আতাউর রহমান আঙ্গুর ও মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়া। এখনো পর্যন্ত কোন থানা বা ইউনিয়নের কমিটি পুন:গঠন করা হয়নি।

এসপির কঠোরতায় প্রত্যাশার তুলনায় প্রাপ্তি বেশী

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
প্রত্যাশার চেয়ে নারায়ণগঞ্জবাসীকে বেশী কিছুই দিয়ে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো: মঈনুল হক পিপিএম। গত বছর আগষ্টেই শিল্প নগরীতে দায়িত্ব গ্রহনের পর এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেই পরিচিতি সভায় ঘোষনা দিয়েছিলেন, শীঘ্রই নারায়ণগঞ্জ কে তিনি মাদক ও সন্ত্রাসী মুক্ত করবেন। ঠিক তেমনি বিগত দিন গুলোতে তার দু:সাহসিক কর্মকান্ড ও একের পর এক অভাবনীয় সাফল্য তার প্রতি নারায়ণগঞ্জবাসীকে আস্থা রাখতে বাধ্য করছে বলে অভিমত সচেতন মহলের। শুধু তাই নয় মঈনুল হক পুলিশ সুপার হিসাবে যোগদানের পর থেকে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক ভালো বলে মন্তব্য করছেন জেলার সাধারন জনগন। যেখানে অপরাধীরা এখন অপরাধ করা তো দূরের কথা, উল্টো এই চৌকস পুলিশ সুপারের আক্রমনাত্মক উদ্যোগে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে তারা। রাজধানীর নিকটবর্তী প্রাচ্যের ডান্ডিখ্যাত এই জেলায় দায়িত্ব গ্রহনের পরপরই পাল্টে গেছে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। আর তার সফলতায় অন্যতম একটি দৃষ্টান্ত হচ্ছে জেলার মাদকের মুকুটহীন স¤্রাট খ্যাত বন্দুক শাহীনের পতন ও রূপগঞ্জ উপজেলায় বিশাল অস্ত্রের ভান্ডার উদ্ধারসহ জড়িতদের গ্রেফতার। এছাড়াও প্রতিদিনই তালিকা ভুক্ত অনেক সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হচ্ছে। এছাড়া নাশকতার পরিকল্পনা কারী জামায়াত শিবির কর্মীদের বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার করে এসপির নির্দেশে পুলিশ কর্মকর্তারা নারায়ণগঞ্জবাসীকে কিছুটা শান্তিতে হলেও বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছেন বলে অভিমত সচেতন মহলের। জানাগেছে, জেলার আলোচিত দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী মাসদাইরের মনিরুজ্জামান শাহীন ওরফে বন্দুক শাহীন বিগত দিনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ধুলা দিয়ে জেলায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছিল। একাধিকবার আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা তার বাড়ীতে হানা দিয়েও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। কিন্তু শেষতক জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হকের কঠোর নির্দেশনায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মাহবুবুর রহমানের নেৃতত্বে ডিবির একটি বিশেষ টিম গত ১৩ অক্টোবর বন্দুক শাহীনকে গ্রেফতারে সক্ষম হন। কিন্তু দূভার্গ বশ:ত বন্দক শাহীনের সন্ত্রাসী বাহিনী তাকে ছাড়িয়ে নিতে ডিবির সাথে গোলাগুলিতে লিপ্ত হলে তখন বন্দুক যুদ্ধে নিহত হন বন্দুক শাহীন। আর জেলার দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী বন্দুক শাহীন নিহত হওয়ার পর পুলিশ সুপার ও জেলা ডিবির ওসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য স্থানীয় জনসাধারন মন্দির মসজিদ প্রাঙ্গনে দোয়া প্রার্থণা করেন। এদিকে নারায়ণগঞ্জবাসী দাবি করেন, এসপি মঈনুল হক পিপিএম নারায়ণগঞ্জ এর দায়িত্ব গ্রহনের পর পরই জেলার মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রসী কর্মকান্ড অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। তাছাড়া অনেক গুলো চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডসহ মামলার রহস্য উদঘাটনসহ আসামীদের গ্রেফতারে সক্ষম হয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। আর পুলিশ সদস্যদের প্রতি মাসে কল্যাণ সভায় কৃতিত্ব স্বরূপ পুরস্কার প্রদান করে সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে পুলিশ কর্মকর্তাদের আরো বেশী উৎসাহিত করে তুলেছেন জেলা পুলিশ সুপার মো: মঈনুল হক পিপিএম, বলে মন্তব্য করেন পুলিশ সদস্যরা।