রূপগঞ্জ থেকে জেএমবি’র সক্রিয় সদস্য ইসহাক গ্রেফতার

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
রূপগঞ্জ থেকে জেএমবি’র সারোয়ার-তামীম গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হাফেজ সৈয়দ মো: ইসহাক ওরফে মাওলানা ইসহাক ওরফে হাফেজ মাওলানা ইসহাক (৫০) কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১। গতকাল বুধবার দুপুরে র্যাব-১১’র সদর দপ্তর থেকে প্রেরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। গত মঙ্গলবার রাতে র্যাব-১১’র একটি আভিযানিক দল রূপগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। এসময় গ্রেফতারকৃত ইসহাকের দেয়া স্বীকারোক্তিতে তার নিজ বাসা এবং দোকান হতে বিপুল সংখ্যক জঙ্গীবাদী বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়।
ধৃত ইসহাক নরসিংদী জেলার বেলাব থানা এলাকার স্থায়ী বাসিন্ধা। সে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানায় দায়েরকৃত একটি মামলার এজাহার নামীয় পলাতক আসামী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জেএমবি‘র (সারোয়ার-তামিম গ্রুপের) সক্রিয় সদস্য। মামলা নং-৬৯, তাং ২২/ ৮/১৭ইং।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব আরো জানায়, হাফেজ সৈয়দ মো: ইসহাক ওরফে মাওলানা ইসহাক ওরফে হাফেজ মাওলানা ইসহাক ১৯৯৬ সালে বরিশালের একটি মাদ্রাসায় দাখিল পর্যন্ত পড়াশুনা করে। পরে ঢাকায় এসে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করে। ২০০২ সালে সে জনৈক ইজাজ এর মাধ্যমে জঙ্গীবাদে উদ্বুদ্ধ হয়। ২০০৮ সালে ধানমন্ডির হাতেমবাগ মসজিদে জসিম উদ্দিন রাহমানির সাথে তার প্রথম সাক্ষাত হয়। পরবর্তীতে ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মোহাম্মদপুরের বসিলাস্থ জসিম উদ্দিন রাহমানির মসজিদের ১০ সদস্যের পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সে জসিম উদ্দিন রাহমানির একান্ত সহকারী হিসেবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দাওয়াতী কাজের জন্য ভ্রমণ করেছে। ২০১৩ সালে জসিম উদ্দিন রাহমানি গ্রেফতার হওয়ার পর সে বেশ কিছুদিন আত্মগোপনে থাকে, পরে তার নিকট আত্মীয় মাওলানা আব্দুল হাকিমের সাথে জেএমবির সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় হয়। ২০১৬ সালে মাওলানা আব্দুল হাকিম গ্রেফতার হওয়ার পর সে পুনরায় আত্মগোপনে চলে যায়। মাওলানা ইসহাকের কাছে জসিম উদ্দিন রাহমানি নিয়মিত সাংগঠনিক নির্দেশনা স¤¦লিত চিঠি পাঠাত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে। জনৈক মোমেনা নামের সংগঠনের এক নারী সদস্যসহ অন্য কয়েকজনের মাধ্যমে মাওলানা ইসহাকের সাথে জসিম উদ্দিন রাহমানি চিঠিগুলো আদান-প্রদান করত। জসিমউদ্দিন রাহমানির নির্দেশে জেএমবির শীর্ষনেতা তাসলিম জেল থেকে জামিনে বের হয়ে এসে মাওলানা ইসহাকের সাথে সাক্ষাত করে এবং সাংগঠনিক বিষয়সমূহ সমন্বয় করে। পরবর্তীতে সংগঠনের কিছু বিষয়ে জেএমবির (সারোয়ার-তামিম গ্রুপ) দাওয়াতী শাখার শীর্ষ নেতা শায়েখ আরিফের সাথে তার দ্বন্দে¡র সৃষ্টি হয়। সে জেএমবির শীর্ষ নেতা তাসলিমের ভাইয়ের মাধ্যমে জেলখানাসহ বিভিন্ন স্থানে জসিম উদ্দিন রাহমানিকে ভাগে ভাগে মোট ২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা প্রদান করেছে বলে স্বীকার করেছে। জেলখানা থেকে জসিম উদ্দিন রাহমানির পাঠানো নির্দেশনা স¤¦লিত চিঠিপত্র সংগঠনের অন্যান্যদের কাছে প্রেরণের মাধ্যমে সে জেএমবির কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
এ সংক্রান্তে গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও র্যাব জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *