আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:০৭
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

আসুন না-অতীতের সব কিছু ভুলে নতুন বছরে এক হই

মন্তব্য প্রতিবেদন
হাবিবুর রহমান বাদল
আজ রবিবার সূর্য্যাস্তের সাথে সাথে বিদায় নিবে আরও একটি বছর। গতবছর নারায়ণগঞ্জে ঘটনা বহুল অনেক ঘটনাই ঘটেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় দুই দলের কোন্দল কলহ আর বিভাজন বেড়েছে। দুইদলের মধ্যে একাধিক মেরু করণ ঘটেছে। বিভক্ত শিবির ধারণ করেছে প্রকট আকার। জন্ম নিয়েছে নানা কাহিনী। তৈরী হয়েছে ইতিহাস। নেতিবাচক ঘটনার পাশাপাশি ইতিবাচক ঘটনা যে ঘটেনি তা বলা যাবে না। পরিকল্পনা আর ব্যক্তিগত একগুয়েমীর কারণে আমাদের জনপ্রতিনিধিরা এক টেবিলে বসতে না পারায় নারায়ণগঞ্জ যানজটের কারণে চলাচলের অযোগ্য শহরে পরিনত হয়েছে। অথচ বিশে^র অধিকাংশ উন্নত দেশে আমাদের চাইতে প্রধান সড়ক গুলি অনেক সরু। সেখানে যত্র-তত্র পাকিং না করার ফলে যানজট হয়না বললেই চলে। অথচ আমাদের প্রাণের শহর নারায়ণগঞ্জে যানজট অনেকটা জনপ্রতিনিধি তথা প্রশাসনের খামখেয়ালীর কারণে নিরশন হচ্ছে না। আর এর খেসারত দিতে হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের লাখ লাখ মানুষকে। সাংসদ সেলিম ওসমান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই জনপ্রতিনিধি প্রতিনিধিত্বশীল পেশাজীবী সংগঠন ও প্রশাসনকে এক টেবিলে বসার বার বার আবেদন নিবেদন জানিয়েছে। যানজট নিরসনে সাংসদ সেলিম ওসমান ব্যক্তিগত তহবীল থেকে অর্থ দিয়ে সেচ্ছসেবক নিয়োহ করেছিলেন। সাংসদ শামীম ওসমান ঘটা করে বিশাল পরিকল্পনা মিডিয়ার সামনে তুলে ধরে রাজপথে যুবলীগ-ছাত্রলীগকে দিয়ে যানজট নিরসনের চেষ্টা করেছিলেন। সিটি করপোরেশনও চেষ্টা করেছে। কিন্তু নারায়নগঞ্জের প্রধান প্রধান সড়কগুলির পাশে গড়ে উঠা বহুতল ভবনগুলির পার্কিং ব্যবস্থা না থাকার ফলে সড়কের অর্ধেক পথই দখল করে রাখে অবৈধ ভাবে গাড়ির মালিকরা। আর এক্ষেত্রে আইনের শাসন প্রয়োগ করতে প্রশাসন কঠোর না হওয়ায় নারায়ণগঞ্জবাসীকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে আটকে থেকে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে নগরবাসী। অথচ কঠোর ভাবে আইনের শাসন প্রয়োগ করা হলে নারায়ণগঞ্জ হতে পারতো একটি আধুনিক শহর। পাশাপাশি ক্ষমতাশীন দলের রাজনীতিবিদদের কোন্দলের কারণে এক টেবিলে বসতে পারেনি তারা। যে কারণে বাস্তবতা হলো প্রশাসন ছিল অনেকটা অসহায়। যার প্রমান প্রশাসন কঠোর বলেই অবৈধ দোকানীদের উচ্ছেদ করা সম্ভব হচ্ছে। শুধু মাত্র প্রচালিত আইনকে অনুস্বরণ করলে প্রশাসন নারায়ণগঞ্জকে দেশের এক নম্বর শহরে পরিচিতি করতে পারে। যার প্রমান জেলা কারাগারে কয়েদীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে গামের্ন্টন্স ও জামদানী শাড়ি তৈরীর ব্যবস্থা করে জেলা প্রশাসক শুধু দৃষ্টান্ত স্থাপনই করেননি বরং শুধু দেশেই নয় বিদেশেও এই প্রকল্পটি মিডিয়ায় প্রসংশিত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিকদের মধ্যে অনৈক্যের সুযোগ গ্রহণ করেছে ক্ষতাশীন দলের বিবধমান পক্ষ। পাশাপাশি পেশাদার সাংবাদিকদের চাইতে নাম সর্বস্ব সাংবাদিকদের দাপটে পেশাদার সাংবাদিকরা কোনঠাসা হয়ে চলেছে। ক্ষমতাশীন দলের কোন্দলের খবর প্রকাশ করতে গিয়ে পেশাদার সাংবাদিকরা গতবছর সবচেয়ে বেশী মানুষিক ও শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন বেশী। আর এ ব্যপারে সাংবাদিকদের জন্য যাদের বেশী সোচ্চার হওয়ার কথা তারা পেশাদার না হওয়ায় রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনও সুযোগ নিয়েছে। এক কথায় গতবছর পেশাদার সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বেশী দুঃসময়ের বছর। আমার চার দশকের পেশাগত জীবনে এমন অসহায় অবস্থায় পেশাদার সাংবাদিকদের দেখিনি। পেশাদর সাংবাদিকদের উপর হামলা মামলা হয়েছে অথচ সাংবাদিকদের নেতৃত্বদানকারীরা ছিল পক্ষপাত দোষে দুষ্ট। এ অবস্থার অবসান না হলে পেশাদার সাংবাদিকদের আগামী দিনগুলিতে আরো কঠিন সময় পার হতে হবে বলে আমার বিশ^াস। কারণ পেশাদার সাংবাদিকদের কখনও উমুক পন্থি আবার কখনও বা তমুক পন্থি বলে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চলেছে। আর এর খেসারত দিতে হয়েছে পেশাদার সাংবাদিকদের। তাদের কোন্দলের জের হিসেবে একাধিক পক্ষের হামলা-মামলার শিকার হয়েছে সাংবাদিকরা। আবার কখনও উভয় পক্ষ পেশাদার সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয়েছে। আর তথা কথিত সাংবাদিক নেতারা দুর থেকে মজা লুটেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে সমাজের বিবেক বলে যারা পরিচিত তারা বিবেক বন্ধক দিতে বাধ্য হবে। সাংবাদিকতার মতো মহান পেশায় থেকে অবৈধ পন্থায় কেউ যদি কোটিপতি হয় তবে আইনের দৃষ্টিতে সেও অপরাধী বলে আমি মনে করি। তাই আইনের দৃষ্টিতে যেহেতু সবাই সমান এ কারণে দুদকের উচিত সাংবাদিকতা পেশাকে পুঁজি করে যারা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা। অন্তত দেড় দশক কিংবা প্রয়োজন বোধে দুদক একটি সময় নির্ধারণ করে কথিত সাংবাদিকদের এমনকি আমারও সম্পদের খোঁজ খবর নেয়া নারায়ণগঞ্জে জরুরী বলে আমি মনে করি। জানি এ লেখা প্রকাশ পাওয়ার পর আমার উপর অনেক সতির্থই নাখোশ হবেন। কিন্তু দুর্নীতি কিংবা ঘুষখোরের কালিমা থেকে পেশাদার সাংবাদিকদের রক্ষার জন্যই আমি এ কথা বলছি। অনেক কিছু বলার ছিল কিন্তু আমরা যারা প্রকৃত অর্থে পেশাদার তারা কোন গোষ্ঠি কিংবা ব্যক্তির তল্পিবাহক নই। আমি মনে করি পেশাদার সাংবাদিকরা সাদাকে সাদা ও কালোকে কালো বলে এ জন্যই বলা হয় ‘সৎ সাংবাদিকের কখনও স্থায়ী বন্ধু কিংবা শত্রু থাকেনা’ নারায়ণগঞ্জের স্বার্থে প্রশাসন কঠোর হস্তে আইনের শাসন কায়েম করবেন এই প্রত্যাশা রেখে পেশাদার সকল সাংবাদিকদের দলমত বিভাজন ও অতীতের দুঃখ কষ্ট ভুলে এক হওয়ার জন্য আমি বছরের শেষ দিনে বিনীত অনুরোধ করছি। আশা করি নিজেদের স্বার্থেই নিষ্ঠাবান ও পেশাদার সাংবাদিকরা অতীতের সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হবেন এই আহবান সকল পেশাদার সাংবাদিকদের প্রতি আমার রইল।

রেল লাইনের উত্তর পাশে হকাররা বহাল তবিয়তে

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
শহরের কোথাও নেই ফুটপাতের কোন ভ্রাম্যমান দোকানপাট। আবার কোথাও কেউ বসার চেষ্টা করলেই পুলিশ দেখা মাত্রই হকার দিচ্ছেন দৌঁড়। পুলিশের কঠোরতায় অবশেষে শহরকে হকার মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। মূলত ফুটপাত ইস্যুতে দায়িত্বে অবহেলার কারনে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মীর শাহীন শাহ্ পারভেজ গত ২৫ ডিসেম্বর ক্লোজড্ হওয়ার পর থেকেই নগরীর ফুটপাতে হকার উচ্ছেদ অভিযানে নামে পুলিশ প্রশাসন। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এদিকে ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে নগরীর ১নং রেল গেইট হতে ২নং রেল গেইট পর্যন্ত রেল লাইনের পাশে থাকা হকারদেরও উচ্ছেদ করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। তবে রেল লাইনের দক্ষিন সাইডের হকার উচ্ছেদ করা হলেও উত্তর সাইডের হকাররা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে। জানাগেছে, রেল গেইট হতে ২নং রেল গেইট পর্যন্ত রেল লাইনের পাশে থাকা হকারদেও কাছ থেকে নিয়তিন চাঁদা নেয় রেলওয়ে পুলিশ। তাই মডেল থানা পুলিশ রেল লাইনের দক্ষিন সাইডের হকার উচ্ছেদ করলেও উত্তর সাইড এখন হকারদের দখলে। রেল লাইনের পাশে বসে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভ্রাম্যমান দোকান বসানো হয়েছে। যা এখনো পুলিশ উচ্ছেদ করতে পারেনি। তাই দ্রুত রেল লাইনের উত্তর সাইডের হকারদের উচ্ছেদের দাবী জানিয়েছে পথচারীরা।

আড়াইহাজারে এমপি প্রার্থী ইকবাল পারভেজের জনসংযোগ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা ইকবাল পারভেজ আড়াইহাজারে খাগকান্দা ইউনিয়নের বাহেরচড়, চম্পকনগর ও কাকাইলমোড়া এবং ডোমারচর গ্রামে ও বিভিন্ন বাজারে নির্বাচর্নী প্রচারনা ও জনসংযোগ করেছেন। স্থানীয় লোকজন ইকবাল পারভেজকে পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। এলাকাবাসী মিছিলে মিছিলে, স্লোগানে বাহারচর-চম্পকনগরের বাজার এলাকা মুখরিত হয়ে উঠে। এলাকাবাসী জানান, এমপি বাবুর প্রভাবে মিথ্যা মামলা, হয়রানী ও নিযার্তনের প্রতিবাদের জবাব জনতা ইকবাল পরভেজের পক্ষে এসে জড়ো হয়। ইকবাল পারভেজ গণসংযোগ করতে গেলে স্থানীয় লোকজন তার সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং তার পক্ষে শ্লোগান দেন। এ সময় ইকবাল পারভেজকে তার কর্মীরা জানান, দীর্ঘ দিন যাবৎ এমপি বাবু যুবলীগ নেতা ইকবাল পারভেজের কর্মী সমর্থকরা মিথ্যা মামলা-হামলা-বাড়িঘর লুটপাটের মাধ্যমে হয়রানী করে আসছে। এছাড়া ইকবাল পারভেজকে প্রতিহত জন্য সকল চেষ্টা তদবির করে যাচ্ছেন এমপি বাবু। কিন্তু জনতার সমর্থনের ফলে ইকবাল পারভেজকে প্রতিহত করতে পারেনি বাবু। তাকে যতই বাধা দিচ্ছে ততই জনগন ইকবাল পারভেজের বলয়ে স্থান নিচ্ছেন। জানাগেছে ভৌগলিক ও আঞ্চলিক কারনে আড়াইহাজার দু’ভাগে বিভক্ত। দুটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮ টি পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। রাজনৈতিক ইজমের ফলে ১৯৬৩ সাল থেকে শুরু করে ২০০৮ সালের আগ পযর্ন্ত পূবাঞ্চলের সাংসদ কিংবা এমএলএ ছিল। সে ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য ইকবাল পারভেজকে এমপি নিবার্চিত করার জন্য সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। উপস্থিত জনতাদের উদ্যোশে ইকবাল পরভেজ বলেন, আমি জনতার প্রতিনিধি হতে চাই। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়া ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে আজ জনতার কাতারে এসেছি। এ দেশটা আমাদের। বহু রক্তর বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এ বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু এ দেশকে ভালবেসে কারাবরণ করেছেন। কিন্তু তিনি পাকিস্তানিদের কাছে মাথা নত করেননি। যে বঙ্গবন্ধু দেশকে ও দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় সংগ্রাম করে এবং তার নেতৃত্বে দেশে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছে সেই স্বাধীন দেশের মানুষের প্রকৃত স্বাধীনতা ভোগ করার অধিকার রয়েছে। সেই অধিকারের জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আড়াইহাজার আসনটি উপহার দেয়ার জন্য জনতার কাতরে এসেছি। জনতা চায় নিরাপদে থাকতে। কোন নেতা দ্বারা নির্যাতিত হতে নয়। আপনারা আমাকে সেবা করার দায়িত্ব দিলে আমি তখন আপনাদের পক্ষে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে লড়াই করে আমাদের এলাকাকে উন্নয়শীল করে রাখব। আপনারা আড়াইহাজারে দলীয় এমপি পেয়েও নিরাপদে ছিলেন না বলে অনেক অভিযোগ রয়েছে। আমাকে আপনারা দায়িত্ব দিলে এ অভিযোগ করার সুযোগই পাবেন না। আমি আপনাদের সন্তান, আপনাদের ভাই, আপনাদের বন্ধু। যাতে আপনাদের কাছে মানুষ হয়ে থাকতে পারি সে দোয়া চাই। সব শেষে এ দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে হলে আবারও আওয়ামীলীগেকে ভোট দিয়ে ক্ষতায় আনতে হবে। কারণ বাংলাদেশের ইতিহাসে যত উন্নয়ন হয়েছে তা আওয়ামীলীগ সরকারের মাধ্যমে। আজ মানুষ দ’ুবেলা পেট ভরে ভাত খেতে পারে। দেশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করছে তার অবধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই আমি আপনাদের কাছে দাবি আবাও আপনারা নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষতায় বসিয়ে দেশে উন্নয়ণ তরাম্বিত করবেন। পরিশেষে প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য কামনা করে সকলের দোয়া প্রার্থনা করছি। গণসংযোগে তিনি বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সাধারণ মানুষের আস্থা ও সারা পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করে বলেন, আমি চাই জনতগণের সেবা ও নিরিহ মানুষের পাশে থাকতে। গণসংযোগ শেষ করে তিনি তার নিজ এলাকায় ফিরে যান।

জুতা ও ঝাড়– মিছিল ॥ আ’লীগ নেত্রী রুমা আটক

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি
শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় ভুমিদস্যুরা জোরপুর্বক ভাবে নিরীহ মানুষের জমি জবরদখল করতে গেলে কৃষকরা প্রতিবাদ করে। প্রতিবাদ করায় ভুমিদস্যু জয়নাল হাজারী ও মহিলালীগনেত্রী রুমাসহ তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী দুটি বসতঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এসময় ভুমিদস্যুরা ৮/১০ জনকে পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার গোলাকান্দাইল ৫ নং ক্যানেল এলাকায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জুতা ও ঝাড়– মিছিল বের করে। এ ঘটনায় আওয়ামীলীগ নেত্রী রুমাকে আটক করেছে পুলিশ। এলাবাবাসী অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় ভুসিদস্যু জয়নাল হাজারী, লেডি বাহিনীর প্রধান মহিলালীগ নেত্রী রুমা, মোহাম্মদ আলী, নুরে আলম, সন্ত্রাসী কাজলসহ তাদের লোকজন শুক্রবার দুপুরে গোলাকান্দাইল ৫নং ক্যানেল এলাকার নিরীহ মানুষের বেশ কয়েক বিঘা জোরপুর্বক জবরদখলের চেষ্টা চালায়। জমি জোরপুর্বক জবরদখলের চেষ্টা চালালে এলাকাবাসীর বাঁধার মুখে জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে চলে যায় দখলবাজরা। রাত ১০টার দিকে ভুমিদস্যুরা প্রতিবাদীদের মধ্যে মমতা ও বিউটি বেগমের বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় সিরাজুল ইসলাম, নুরুজ্জামান, গনি মিয়া, আব্দুল কাদির, সুমন, পারভিন, মমতা, বিউটি, হেনাসহ অন্তত ৮/১০ জন আহত হয়। পরে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অভিযুক্ত মহিলালীগ নেত্রী রুমাকে আটক করে। এ ব্যপারে জয়নাল হাজারীসহ অভিযুক্তরা বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী তারা ৫নং ক্যানেল এলাকায় প্রায় ৭ বিঘা জমির মালিক। নিজের জমিতে তারা সেচ পাম্প লাগিয়ে পানি সেচতে গেলে বাঁধা দেয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন।

হকার উচ্ছেদে অনড় মেয়র-এসপি!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
ফুটপাতে হকার বসলে জনভোগান্তি বাড়ে, সেটি অনুধাবন করলেও পুনর্বাসনের পূর্বে উচ্ছেদ না করার পক্ষেই সহমত পোষণ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো: রাব্বী মিয়া। পক্ষান্তরে, পুনর্বাসনের পূর্বেই ফুটপাতের হকার উচ্ছেদে সহবস্থানে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ক্ষমতাসীন দলের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো: মঈনুল হক। যার ফলে সম্প্রতি উচ্ছেদের শিকার হয়ে ঋনগ্রস্থ হকাররা এখন মাথা গোজার ঠাঁই পেতে কখনো এমপি থেকে মেয়র, আবার কখনো বা ডিসি থেকে এসপি অবদি ছুটে বেড়াচ্ছেন। এমপি ডিসি হকারদের পুনর্বাসনের পক্ষে আশ^স্ত করলেও উচ্ছেদের ক্ষেত্রে অনড় অবস্থানে রয়েছেন এসপি মেয়র।
তাই পেটের তাগিদে শেষতক নগরীর ফুটপাতের হকাররা কোন পথে হাঁটে, সেটাই হচ্ছে এখন দেখার বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল। জানাগেছে, সাম্প্রতিক সময়ে নগরীর ফুটপাতে হকার উচ্ছেদে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ছাড়াও স্বয়ং মেয়র আইভীই একদিন সকালে ফুটপাতে হাজির হয়ে হকারদের মালামাল ক্রোকসহ তাদের মালামাল রাখার কারনে বিভিন্ন বিপনী বিতানের মালিক পক্ষকে শাসিয়ে যান। কিন্তু পরবর্তীতে শর্ত সাপেক্ষে হকারদের বিকেল ৫টার পর ফুটপাতের একপাশে জনসাধারনের চলাচলের পথ রেখে বসার সাময়িক অনুমতি দেন।
তারপর কিছুদিন বেশ ভালভাবেই বিকেলের পর থেকে হকাররা ফুটপাতে ব্যবসা পরিচালনা করে আসলেও বিপত্তি ঘটে গত ২৫ ডিসেম্বর। ঐদিন সকালে শহরের বি. বি. রোডস্থ সাধুপৌলের গীর্জায় শুভ বড়দিন উপলক্ষে জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের আগমনকে কেন্দ্র করে ফুটপাত হকারমুক্ত রাখতে সদর মডেল থানার তৎকালীন ওসিকে ওয়্যারলেসে নির্দেশ পুলিশ সুপার।
কিন্তু এসপির নির্দেশনা বুঝতে না পেরে ওসি ট্রাফিক ইনচার্জের নির্দেশনা ভেবে প্রতিউত্তরে বিরূপ মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে দায়িত্ব অবহেলা এবং অসদাচরনের অবিযোগে ওসি মীর শাহীন শাহ্ পারভেজকে তাৎক্ষনিক প্রত্যাহার করা হয়। এরপরই শুরু হয় নগরীর ফুটপাত জুড়ে পুলিশের হকার উচ্ছেদ অভিযান। দিন কিংবা রাত, যখনই ফুটপাতে হকার দেখছে, তখন তাদের মালামাল জব্দসহ ধাওয়া করছে পুলিশ। সর্বশেষ গত ২৯ ডিসেম্বর শহরের রেল লাইনের দু’ধারে থাকা ফলের দোকান গুলোও উচ্ছেদ করা হয়। আর পুলিশের এমন উচ্ছেদ অভিযানের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ অসহায় প্রায় ৪ হাজার হকার বাধ্য হয়ে পুনর্বাসনের পূর্বে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধের দাবীতে সহযোগিতা চাইতে গত শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস্ ক্লাবে আগত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের দ্বারস্থ হন। কিন্তু ফুটপাতে কেউ ব্যবসা করুক তিনি সেটা না চাইলেও শামীম ওসমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথার উদ্বৃত্তি টেনে আগে বিকল্প ব্যবস্থা করেই হকার উচ্ছেদের পক্ষে নিজের অভিমত ব্যাক্ত করেন। পাশাপাশি শামীম ওসমান হকারদের প্রথমে সিটি মেয়র আইভীর দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেন। যদি তিনি কোন ব্যবস্থা না নেন তাহলে পরবর্তীতে করনীয় বিষয়ে সহযোগিতা করার আশ^াস দেন।
শামীম ওসমান হকারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘অনেকের ধারণা যে, হকার যারা বসে তারা আমার লোক এবং এখানে আমার কোনো স্বার্থ আছে। হ্যাঁ এটা সত্য যে এরা আমার লোক, এই কারণে যে সব গরীব মানুষই আমার লোক। আমি কোনো বড়লোকের গোষ্ঠীও মানি না, আমি গরীবের পক্ষে ছিলাম, আছি আর যে কয়দিন রাজনীতি করবো তাঁদের পক্ষেই থাকবো।’ তবে তিনি এও বলেন, ‘আপনারা নিজেরাও বোঝেন ফুটপাতে ব্যাবসা করলে জনগণের ভোগান্তি বাড়ে। তাই আমি চাইনা নারায়ণগঞ্জের ফুটপাতে কেউ ব্যবসা করুক। তবে আমি বারবার প্রশাসনের কাছে বলছি, সিটি কর্পোরেশনকে মিডিয়ার মাধ্যমে বলছি যে, এই লোকগুলো যাবে কোথায়। একটা বিকল্প ব্যবস্থা করুন। যে ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এই লোক গুলোর সংসারটা টিকে থাকবে। নয়তো এই লোক গুলো কি করবে? মাদক বেঁচবে নাকি? হ্যাঁ ঠিক আছে নিয়মটা অনিয়ম। ফুটপাতে ব্যবসা করাটা অনিয়ম। কিন্তু আমি এখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথাই পুনারাবৃত্তি করবো, আগে বিকল্প ব্যবস্থা করে তবেই উচ্ছেদ করো।’ এরপর শামীম ওসমান হকারদের এই সমস্যা সমাধানের জন্য মেয়রের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আপনারা মেয়রকে বোঝান। যদি সে কোন পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে পরবর্তীতে আমি কিছু করার চেষ্টা করবো।’ এরআগে, উচ্ছেদের পূর্বে পুনর্বাসনের দাবীতে গত বৃহস্পতিবার সকালে কয়েক হাজার হকার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
তখন জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়াও হকারদের উচ্ছেদের পূর্বে পুনর্বাসনের পক্ষে মত দিয়ে তাদের আশ^স্ত করে বলেন, ‘ফুটপাতে ব্যবসা করা হকাররাও মানুষ। তাই আপনাদের বিষয়টিও আমাদেরকে চিন্তা ভাবনা ও বিবেচনা করতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারী মানের ফুটপাত ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার বিষয়ে আমরা বসে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহন করবো।’

অনেক বাঁধা অতিক্রম করে কাজ করতে হয় : আইভী

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, ‘আমাকে অনেক বাধা অতিক্রম করে কাজ করতে হয়। এটা আমার স্বভাবজাত হয়ে গিয়েছে। বাধা না আসলেও যেন কাজ করার মধ্যে আনন্দ নাই।’ গতকাল শুক্রবার সকালে শহরের ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকার আলী আহম্মদ চুনকা পাঠাগারের সামনে ক্রান্তি খেলাঘর আসরের ৩০বছর পূর্তি উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি ক্রান্তি খেলাঘর আসরের ৩০ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠান ও সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। মেয়র আইভী বলেন, ‘২০০৩ সালে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই আমি খেলাঘরের সঙ্গে আছি। শুধু খেলাঘর নয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে আমি নিজে ডেকে ডেকে পরিচিত হয়েছি। এক আত্মিক বন্ধন আজ ১৫ বছর ধরে হয়েছে। আপনার সবাই আমার আত্মার আতীয়। আমি এ সম্পর্ক আজীব আমৃত্যু রাখতে চাই। আমি আপনাদের ডাকে সাড়া দিয়ে যখন যা বলেছেন আপনাদের মন মতো করে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমি সব সময় আমার জায়গা দাঁড়িয়ে যতটুকু করা সম্ভব হয়েছে করে দিয়েছি। আমি আপনাদের সঙ্গে এখনও আছি ভবিষ্যতেও থাকবো।’ এর আগে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খেলাঘর আসরের সঙ্গীতের লেখক ও বিশিষ্ট ছড়াকার আক্তার হোসেন মেয়র আইভীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ছোটদের বিকাশের জন্য একটি মঞ্চ করে দিবেন। যেখানে শুধু বাচ্চাদের অনুষ্ঠান করা হবে। এ বাচ্চাদের জন্য মিলনায়তন করবেন সেটা আপনার বাবা আলী আহম্মদ চুনকার নামে করেন সেই দ্বায়িতটা অর্পন করে গেলাম।’ ওই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আক্তার হোসেনকে স্যার সম্বোধন করে মেয়র আইভী বলেন, ‘বাচ্চাদের জন্য আমার অগনিত চিন্তা আছে। শহর অনেক অগোছালো ছিল। অনেক পুরানো একটা শহর। ঐতিহ্যবাহী একটা শহর যেখানে অনেক কিছুই ছিল আবার অনেক কিছু মলিন হয়ে গেছে। এখন চেষ্টা করছি সে কাজগুলো করে দেওয়ার জন্য। খেলার মাঠ থেকে শুরু করে অনেক কিছু বেদখল হয়ে গিয়েছিল। ১৮ থেকে ১৯ বছর এখানে প্রশাসক ছিল সেই মতো কাজ হয়নি। রাস্তাঘাটের অবস্থাও ছিল খারাপ। আমার বিগত ১২ থেকে ১৩ বছর রাস্তা ও ড্রেনের কাজই করতে হয়েছে। মানুষকে স্বাচ্ছন্দ দিয়ে এবার আমরা সিটি করপোরেশন খুব বেশি মনযোগ দিয়েছি খেলার মাঠ, বাচ্চাদের জন্য পার্ক করা, পুকুরগুলো সংরক্ষণ করা, খালগুলো রাখা। ইতোমধ্যে এ চুনকা পাঠাগার করার জন্য সাতটা বছর আমাকে মামলার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। যার জন্য আমি পাশের এ বিল্ডিং (বিনোদন সুপার মার্কেট) ভেঙে দিতে বাধ্য হয়েছি। পাশে ছিল বিএনপির অফিস সেটাও আমরা মামলার কারণে পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। যার জন্য আমাদের পাঠাগারও ছোট হয়েছে এর গ্যালারিও ছোট হয়েছে। এখানেও বাচ্চাদের জন্য অডিটোরিয়াম করে রেখেছি। বাচ্চাদের জন্য আলাদা পাঠাগার আছে এবং বাচ্চারা যেন বসে সুন্দর করে নিজেদের আকাশ বৃষ্টি দেখতে পারে সেই ব্যবস্থাটাও এখানে রাখা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘পাঠাগার থেকে হেঁটে গেলে চারুকলা আছে তার পাশে বিশাল একটা জায়গা প্রায় ১০ একরের মধ্যে ৬ একরের মধ্যে একটা ঝিল আছে ওইটা আমরা সৌন্দর্য্য বর্ধন করে দিচ্ছি এবং উন্মুক্ত মঞ্চ করে দিয়েছি। বাচ্চাদের জন্য আলাদা জায়গা আছে খেলার মাঠ আছে আমি চেষ্টা করবো ওদের জন্য আরেকটা আলাদা মঞ্চ করা যায় কিনা। যেখানে ওরাই সারাদিন অনুষ্ঠান করবো। যেহেতু এটা শহরের মধ্যে। শিশুদের উদ্দেশ্যে মেয়র আইভী বলেন, তোমরা আমার পাশে থাকবা এবং আমার জন্য দোয়া করবা। আমিও তোমাদের জন্য কাজ করার চেষ্টা করবো। নারায়ণগঞ্জবাসীর উদ্দেশ্যে মেয়র আইভী বলেন, ‘কাল অনেকেই আমাকে দেখেছেন এখানে দাঁড়িয়ে আমি কিছুটা রাগান্বিত মনোভাবেই ছিলাম। যখন ভাঙচুর করতে আসি তখন মন মানসিকতাও ওই রকমই থাকে। অতএব আমি ওই রকমই। আমরা ভুল হয়ে গেছে আমাকে ৫ বছর আগেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার উচিত ছিল। তাহলে সাংস্কৃতিককর্মীদের জন্য, নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য এ আলী আহম্মদ চুনকা পাঠাগারটা একটা মাইলফলক হয়ে থাকতো। সেটা আমার সিদ্ধান্তে ভুল ছিল। আমি ৫বছর দেরি করেছি। নারায়ণগঞ্জবাসীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়র আইভী আরো বলেন, ‘যারা শহরের বাসবাস করেন, কে কোন দল করেন সিটি করপোরেশনে বসে সেটা আমার দেখা ব্যপার নয়। আমি আপনাদের সেবা করতে চাই। সেই সুযোগটা চাই। সেটা সাংস্কৃতিক অঙ্গনে হোক, খেলাধুলাতেই হোক, রাজনীতিতে হোক, সামাজিকতাই হোক আপনাদের পাশে থাকতে চাই। ক্রান্তি খেলাঘর আসরে সভাপতি নাঈমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা খেলাঘর আসরের সভাপতি রথিন চক্রবর্তী, সিটি করপোরেশনের ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজল প্রমুখ। পরে বেলা সাড়ে ১১টায় চুনকা পাঠাগারের সামনে থেকে ‘মানুষ গড়ার ৩ দশক’ লেখা ৩০ বছর পূর্তি উৎসব ও সম্মেলন উপলক্ষে র‌্যালী বের হয়। র‌্যালীর মেয়র আইভী সহ অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। পরে র‌্যালীটি শহরের ম-লপাড়া ঘুরে পুনরায় চুনকা পাঠাগারের সামনে এসে শেষ হয়।

দুদকের মুখোমুখি হচ্ছেন জেলা জজ হোসনে আরা!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার আমলে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকারী এক কর্মকর্তা (জেলা জজ) হোসনে আরা আকতারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শিগগিরই তাকে দুদকের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দুয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাকে দুদকে তলব করা হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। এর আগে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ ডিসেম্বর অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ওই বিচারক ও তার স্বামী-সন্তানসহ চারজনের ২ কোটি ২৮ লাখ টাকার ব্যাংক হিসাব জব্দ (ফ্রিজ) করা হয়। এ ছাড়া ওই বিচারকের নামে দেশের কোন কোন ব্যাংকে হিসাব রয়েছে, ওই হিসাবে গত দুই বছরে কত টাকা লেনদেন হয়েছে, সেই তথ্য জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক। জানা গেছে, জেলা জজ হোসনে আরা আকতার এর আগে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার আমলে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনে বিশেষ কর্মকর্তা (স্পেশাল অফিসার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিচারপতি সিনহা প্রধান বিচারপতি থাকাবস্থায় গত জুন মাসে তিনি নারায়ণগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলার জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে নিয়োগ পান। এর পর গত ১০ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার পদত্যাগের পর পরই ১৫ নভেম্বর বিচারক হোসনে আরাকে সাতক্ষীরায় বদলি করা হয়। এর আগে প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের আমলেও বিচারক হোসনে আরা আকতার সুপ্রিমকোর্টের প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দুদকের কাছে আসা অভিযোগে বলা হয়, বিচারক হোসনে আরা তার একাধিক ব্যাংক হিসাবে কোটি কোটি টাকার লেনদেন করছেন। তিনি অবৈধ উপায়ে নেওয়া অর্থ তার হিসাবে রাখছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। অভিযোগটি পাওয়ার পর দুদক থেকে কমিশনের উপপরিচালক ফরিদুর রহমানকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রাপ্ত অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে তাকে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। কমিশনের নির্দেশে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা প্রাথমিক অনুসন্ধান কাজ শুরু করেছেন। অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে ওই বিচারক, তার স্বামী ও দুই সন্তানসহ মোট চারজনের নামে অগ্রণী ব্যাংক প্রেসক্লাব শাখায় ২ কোটি ২৮ লাখ টাকার সাতটি স্থায়ী আমানতের সন্ধান মেলে। পরে ওই টাকা জব্দ করার জন্য দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে আবেদন করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গত ২০ ডিসেম্বর ওই টাকা জব্দ করার নির্দেশ দেন। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের পর দুদকের আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন জাহাঙ্গীর সাংবাদিকদের বলেন, সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ওই বিচারকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগবাণিজ্যসহ নানাভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। আইনজীবী আরও জানান, বিচারক হোসনে আরা, তার স্বামী ইমদাদুল দস্তগীর ও দুই সন্তানের নামে অগ্রণী ব্যাংক প্রেসক্লাব শাখায় সাতটি স্থায়ী আমানত রয়েছে। এগুলো জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, বিচারক হোসনে আরার বিরুদ্ধে আসা এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এখন শিগগিরই তাকে দুদকে তলব করা হবে। দুয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাকে তলব করা হতে পারে বলেও সূত্রটি জানায়। এসব অভিযোগের ব্যাপারে ওই বিচারকের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মোবাইলে বারবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি (ফোন রিসিভ করেননি)।

ফতুল্লায় স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী নিহত-স্বামী আটক

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
ফতুল্লায় পারিবারিক কলহে তালাক দেয়া স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করে পালানোর সময় নিজাম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ফতুল্লার পাগলা ভাবী বাজার এলাকায় এঘটনার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত ফেরদৌসী বেগম সাবিহা (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১টায় মারা যায়। আটক নিজাম উদ্দিন চৌধুরী (৫০) রাজধানীর ৯৩/৩ নবাবপুর এলাকার মৃত.গোলাম কিবরিয়া চৌধুরীর ছেলে। নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর দাবী, সে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করতেন। বর্তমানে বেকার। ১৯৯১ সালে ফেরদৌসী বেগম সাবিহাকে বিয়ে করেছেন। বিয়ের পর তাদের তিন কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। এদের মধ্যে ২ মেয়েকে বিয়ে দেয় এবং এক মেয়ে লেখা পড়া করে। এরমধ্যে তার শ্যালক ইমরানুল হক মিঠু ব্যবসার জন্য তার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা ধার নেয়। সে টাকা না দিয়ে উল্টো তার স্ত্রীর কাছ থেকে ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে বিক্রি করে দেয় শ্যালক মিঠু। এনিয়ে তাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এতে ১৪ সেপ্টেম্বর স্ত্রীকে তালাক দিয়ে পাগলা ভাবী বাজার এলাকায় একটি ম্যাসে থাকেন। আর এক মেয়েকে নিয়ে তার স্ত্রী ম্যাসের পাশে রতন মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তিনি আরো জানান, তাদের স্বামী স্ত্রীর পাগলা ভাবী বাজার এলাকায় ৬ শতাংশ জমিতে একটি বাড়ি রয়েছে পরিত্যাক্ত অবস্থায়। সে বাড়ির অর্ধেকের মালিক তার স্ত্রী আর অর্ধেক তার। দুপুর সাড়ে ১১টায় স্থানীয় লোকজন জানান তার বাড়ি দখলের জন্য তার স্ত্রী ও শ্যালক বাড়ির গেইটের তালা ভাঙ্গছে। এখবর পেয়ে দৌড়ে ওই বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী ও শ্যালককে পেয়ে তর্কে ঝড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তার স্ত্রীকে এলোপাতারি ছুরিকাঘাত করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিজাম উদ্দিন তার তালাক দেয়া স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করে পালানোর সময় এলাকাবাসী তাকে আটক করে গাছের সাথে বেধে রাখে। পরে পুলিশ আসলে তাকে সোর্পদ করে। ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার এসআই আমিনুল ইসলাম জানান, নিজাম উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। তার স্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারাগেছেন। সেখান থেকে লাশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সড়কে পনের কিলোমিটার যানজট

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ সড়কের দীর্ঘ ১৫ কিলোমিটার রাস্তায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে হাজার হাজার যানবাহন আটকে জনসাধারণসহ বিভিন্ন পরিবহনের চালকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। গতকাল শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সড়কের কাশিপুরে একটি ট্রাক বিকল হয়ে যাওয়ার পর রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সড়কে আটকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পাগলা সড়কের যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুটি সড়কের প্রায় ১৫ কিলোমিটার রাস্তায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। যানজটে পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর, পোস্তখোলা ও চাষাড়া পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। ফলে মহিলা ও শিশুরা চরম দুর্ভোগের যান বাহনে অবস্থান করছে। বগুড়ার শেরপুর থেকে আসা ট্রাকচালক বকুল বলেন, ভোর ৪টার সময় ফতুল্লার পঞ্চবটি এসে আটকা পড়েছি। কোথাও যেতে পারছি না। রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশকে কাজ করতেও দেখা যাচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের ইনস্পেক্টর (টিআই) শরফুদ্দিন জানান, বিকল হওয়া গাড়ি সরাতে রেকার পাঠানো হয়েছে। বিকল গাড়ি সরাতে পারলেই যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

শহর ছেড়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি এখন গ্রামমুখী

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন শহর ছেড়ে গ্রামমুখী হচ্ছে। শহরে জেলা বিএনপি নেতাদের প্রভাব না থাকায় অনেকটা ভয়েই এখন জেলায় কর্মসূচী পালনে ভয় পাচ্ছে জেলার বর্তমান নেতারা। আর তাই শহর ছেড়ে এখন রূপগঞ্জমুখী হতে চাচ্ছে দলটি। মূলত দলের পক্ষ থেকে প্রতিটি জেলায় সাংগঠনিক সফরকে কেন্দ্র করে দলের নতুন কর্মী সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী নির্বাচনের প্রার্থী ও দলের আন্দোলন সংগ্রামের ব্যাপারে ও রাজনীতি জেলা ও মহানগরের কমিটিগুলোর ব্যাপারে এ সম্মেলন থেকে তথ্য নিয়ে নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তথ্য দেবেন সাংগঠনিক নেতা। দলের এ সভাটি জেলা বিএনপির হলেও এখন থানামুখী হচ্ছে দলটি। জানা যায়, দলের জেলার এ সম্মেলনটি রূপগঞ্জে ১৩ জানুয়ারি ও মহানগরের সভাটি ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। জেলার এ সভায় জন্য জেলার প্রায় সকল থানা থেকে নেতাদের হতে হবে রূপগঞ্জমুখী। কিভাবে জেলার একটি সভা রূপগঞ্জে হয় আর তা কিভাবে দলের এখন স্থায়ী কমিটির নেতা মেনে নেন সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে দলের নেতাকর্মীদের। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ে সফরে যাচ্ছে বিএনপি। দল পুনর্গঠনের পাশাপাশি নির্বাচন ও আন্দোলনের বার্তা পৌঁছাতেই কেন্দ্রীয় নেতাদের এই তৃণমূল সফর। একই সঙ্গে আগামী নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী সম্পর্কেও একটি ধারণা পেতে চান বিএনপির নেতৃত্ব, মূলত এ কারনেই দলের এ সাংগঠনিক সফর। সফর শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সংশ্লিষ্ট এলাকার একটি রিপোর্ট দেবেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি নির্বাচনে গেলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই ও দলের নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হতে পারে বলে জানা গেছে। জানা যায়, ১৪ ডিসেম্বর থেকে মাঠ পর্যায়ের এই সফর শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে জেলা পর্যায়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর থেকে শুরু করে স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও যুগ্ম-মহাসচিব পর্যায়ের নেতাদের টিমপ্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সাংগঠনিক টিমের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যরিস্টার মওদুদ আহমেদ। এ টিমে সদস্য হিসেবে রয়েছেন দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির জন্য গঠিত সাংগঠনিক টিমের সকল সদস্যদের নিয়ে মঙ্গলবার দলের নয়াপল্টন কার্যালয়ে বৈঠক হয় টিমের প্রধান মওদুদ আহমেদের। সেখানে দলের জেলা ও মহানগরের কর্মী সম্মেলন কবে কোথায় হবে, কিভাবে হবে, কিভাবে দলের নেতারা একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করবেন এবং আগামীতে মাঠে কিভাবে কাজ করে সাধারন মানুষের কাছে পৌছাবেন তা নিয়ে আলোচনা হয়। সর্বপরি একে অপরের জন্য ছাড় দেয়ার মনোভাব তৈরী করে কিভাবে দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এক করে কাজ করবেন তা নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। সাংগঠনিক টিমের সদস্য হিসেবে আরো রয়েছেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বদরুজ্জামান খসরু, সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, কার্যকরী সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন, শাহ আলম, আজহারুল ইসলাম মান্নান, সাবেক এমপি রেজাউল করিম, এফ এম ইকবাল, সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সাধারন সম্পাদক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম, সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল। মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল জানান, শুধু দলকে শক্তিশালীই নয়, আগামী নির্বাচন ও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠের কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। কিভাবে দাবিগুলোও জনসাধারণের মধ্যে তুলে ধরা হবে সেটাও জানিয়েছেন। মূলত এই সফরের মাধ্যমে বিএনপির নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের আরও কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছে দল। এর আগে জেলা বিএনপির কর্মী সম্মেলন জেলার লিংক রোডের পাশে হিমালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দলের নেতাকর্মীদের তুমুল চাপের মুখে পড়ে জেলা বিএনপি নেতারা। জেলা বিএনপির সভাপতি থেকে শুরু করে দলের দালালখ্যাত নেতারাও সেদিন কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হন। এবার সেই লাঞ্ছনার ভয়েই রুপগঞ্জে দলের কর্মীসভার স্থান নির্ধারন করেছে দলের সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয়টি ভেঙ্গে ফেলার নয় মাস অতিবাহিত হলেও দলের জেলার নেতাকর্মীদের জন্য একটি অস্থায়ী কার্যালয় ব্যবস্থা করতে পারেনি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা। কার্যালয় ছাড়া দলীয় বৈঠকও হয়েছে একাধিকবার আর তা হয়েছে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে। কর্মচারীর মত দলের কেউ কেউ সেখানে গেলেও জেলার নেতাকর্মীরা এখন আর সেখানে যেতে চাচ্ছেন না। প্রথম দিকে কিছু নেতা গেলেও এখন আর তাও হচ্ছেনা ফলে জেলা বিএনপির নিয়মিত বৈঠকও হয়না দলের। জেলা বিএনপির এই কার্যালয় থেকেই বিএনপির বিভিন্ন নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল বিগত সময়ে। দলের অনেক সভা সমাবেশ, দলীয় কর্মকান্ডও পরিচালিত হয়েছে এখানে। এই কার্যালয়কে ঘিরেই বিগত দিনে বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামসহ নানা কর্মসূচী পালিত হতো। দলের যেকোন কর্মসূচীতে দলের নেতাকর্মীদের মিছিল, সমাবেশের ডাক আসলেই পুলিশ প্রশাসনেরও বিশেষ প্রস্তুতি থাকতো এ কার্যালয়কে ঘিরেই। আর সেই কার্যালয়ের অভাবে এখন জেলা বিএনপির প্রায় সকল কর্মসুচীতেই ভাটা পড়েছে বলে মনে করছেন জেলা বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। বর্তমানে দলের নেতাকর্মীদের কোন সভা সমাবেশ হলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের নিচেই সেটি সম্পন্ন করে দলের নেতাকর্মীরা। যদিও পুলিশের বাধায়, ভয়ে হাতেগোনা কয়েকটি কর্মসূচীর বেশী সেখানে পালন করতে পারেনি দলটি। আর কার্যালয়হীন জেলা বিএনপির বর্তমান কার্যক্রম চালানো হয় দলের সভাপতি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মাক্স সোয়েটার্সে। সেখানেই হাতেগোনা দলের তিন চারজন নিজের অনুগত নেতাকে নিয়েই বৈঠক করে দলের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন তারা। আদালত পর্যন্ত গড়িয়েও শেষ পর্যন্ত আটকাতে না পারা জেলা বিএনপির কার্যালয় শেষ পর্যন্ত ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয় চলতি বছরের মার্চে। এ কার্যালয়টি না ভাঙ্গার জন্য আদালতে মামলা পর্যন্ত করেছিল বিএনপি যদিও সে মামলায় শেষ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন জয়ী হয়েছে। অবশেষে মামলায় পরাজিত বিএনপির নেতাকর্মীরা নাসিক মেয়র আইভীর সাথে সাক্ষাৎ করে অস্থায়ী কার্যালয়ের জন্য বললে আইভী তাদেরকে অস্থায়ী কার্যালয়ের জন্য স্থান দেখতে বলেন কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও এখনো সে স্থান ঠিক করতে পারেনি জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। আর কার্যালয় না থাকায় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন বসার কোন স্থান পাচ্ছেনা।