আগাম নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি নেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
একাদশ জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জোড়ালো হচ্ছে আগাম নির্বাচনের গুঞ্জন। রাজনীতি সচেতন মহল বলছে ক্ষমতাসীন দল গোপনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, নিজেদের সুবিধাজনক যে কোন সময়ে ঘোষণা আসতে পারে আগাম নির্বাচনে। প্রধানমন্ত্রী চাইলে আগাম নির্বাচন দেয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে ইসি। তবে সেই নির্বাচনে অংশ গ্রহনের প্রস্তুতি নেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির। বলছেন দলটির তৃণমূল ও একাধিক নেতা। আগাম নির্বাচন সম্পর্কে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আগাম নির্বাচন ঘোষণা করেন তবে সেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হতে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী তারা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, সরকার চাইলে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রস্তুত রয়েছে। তবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে তাদের কোন প্রস্তুতি নেই বলেও জানান তিনি। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি নেতারাও বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, শীর্ষ নেতাদের মামলায় ব্যস্ত রেখে সরকার নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছেন। মেয়াদ শেষে অথবা আগাম-যে সময়েই নির্বাচন হোক সুষ্ঠু নির্দলীয় নির্বাচন হলে তারা অবশ্যই নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে। আগাম নির্বাচনের এমন গুঞ্জন চলাকালীন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন দলটির তৃণমূল। তারা বলছে, দলের স্বার্থবাদী নেতৃত্বের ফলে নেতায় নেতায় কাঁদা ছোড়াছুড়ি চলছে। এই অবস্থায় নেতারা দলকে সংগঠিত করতে একদমই ব্যর্থ। নির্বাচন যখন দড়জায় কড়া নাড়ছে তখন তারা জনসম্পৃক্ত স্থানীয় ইস্যু গুলোতে আন্দোলন না করে নিজেদের মনোনয়ন নিয়ে দৌড়াচ্ছে। এমনকি কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীগুলোতেও নিরব কিংবা দায়সাড়া অবস্থান নিয়েছে। তৃণমূল আরও বলছে, কর্মসূচীগুলোতে যতই হামলা করা হোক নেতৃত্বের উচিৎ ছিল সর্বোচ্চ সংখ্যক নেতা কর্মী নিয়ে রাজপথে অবস্থান নেয়া। এতে করে ভোটাররা যেমন বিএনপির জনপ্রিয়তার কথা জানতে পারতো তেমনি তৃণমূল কর্মীরাও আরো বেশি অনুপ্রানিত হতো। এতে দলের সাংগঠনিক দূর্বলতা কাটার পাশাপাশি নির্বচানের পূর্বে নেতৃত্বের যোগ্যতা প্রমাণ হতো বলেও তারা মন্তব্য করেন। তৃণমূল বলছে, জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও নারায়ণগঞ্জের বিএনপি নেতাদের অযোগ্যতায় আগামী নির্বাচনে ভড়াডুবি হতে পারে দলটির। সঠিক সময়ে নির্বাচন হলেও তারা এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কেন্দ্রিক প্রস্তুতি শুরু করতে পারেনি। সেখানে আগাম নির্বাচনে অংশগ্রহন করাটা তাদের জন্য অসম্ভব। জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ আগাম নির্বাচন প্রস্তুতি সম্পর্কে বলেন, বিএনপি সবসময় একটি নির্বাচনমূখী দল, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি যেহেতু আলাদা কোন সংগঠন নয় সেহেতু আলাদা কোন প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই। আগাম নির্বাচন হলে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে জয়লাভ করতে সাংগঠনিক প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, অন্দোলন সংগ্রামের ধারাবহিকতায় তারা নির্বাচনের জন্যও প্রস্তুত। দল ও দলের অঙ্গ সংগঠনগুলোর নেতাদের প্রকাশ্য বিরোধ সম্পর্কে বলেন নেতাদের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। যা আছে তা হলো গণতন্ত্র। ‘নেতাদের মধ্যে বিরোধ নেই’ জেলা সাধারন সম্পাদকের এমন বক্তব্যের পর, মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন, বিএনপি কোন ব্যক্তির দল নয়, আদর্শিক দল। ধানের শীষের আদর্শে সকলে দল করে। এখন ক্ষমতার জন্য নেতায় নেতায় বিরোধ থাকলেও বিএনপি যখন নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে এবং প্রার্থী মনোনয়ন দেবে তখন আর কোন বিরোধ থাকবে না। নির্বাচনে সকলেই ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের জন্য কাজ করবে উল্লেখ করে আগাম নির্বাচনের জন্য তারা প্রস্তুত বলে দাবী করেন। এখন বিরোধে থাকা শীর্ষ নেতাদের লবিং এ চলতে গিয়েই এবং পুলিশের মারমূখী অবস্থানের কারনে বিএনপির কর্মসূচী গুলোতে কর্মী সংকট বলে তিনি মন্তব্য করেন। নেতায় নেতায় এতো বিরোধ ও কাঁদা ছোড়াছুড়ির পরেও কেমন করে নির্বাচনের আগে হঠাৎ করে ঐক্য বদ্ধ হবে জানতে চাইলে বলেন, এটা হঠাৎ করে নয়। এমনটাই সবসময় হয়ে আসছে। নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, ব্যাক্তিগতভাবে তিনি মহানগর যুবদলকে নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে প্রস্তুত। তবে সাংগঠনিকভাবে বিএনপির প্রস্তুতি নিয়ে যথেষ্ঠ সন্দেহ আছে বলে জানান তিনি। বিএনপি নেতারা আরো বেশি সক্রীয়ভাবে তৃণমূলকে চাঙ্গা না করতে পারলে আগাম নির্বাচনে অংশগ্রহন অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। নির্বাচন প্রস্তুতি জানতে কথা বলার জন্য জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনির এবং মহানগর সভাপতি এড. আবুল কালামকে বারাবার ফোন করলেও তারা ফোন রিসিভ করেন নি। অভিযোগ রয়েছে এই দুজন সভাপতি গুটি কয়েক নেতা ছাড়া কখনোই কারো ফোন রিসিভ করেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *