নারায়ণগঞ্জে শতাধিক অবৈধ ইটভাটা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শতাধিক ইটভাটার কালো ধোঁয়ার বিষাক্ত গ্যাসে অস্থির হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। নিঃশ্বাস নিলেই ঝাঁজালো ধোঁয়া প্রবেশ করে দেহে। এতে হাঁচি কাশি আর শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেছে অনেকের। এছাড়া ফসল নষ্ট হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকেরা। ফতুল্লার পাগলা, ধর্মগঞ্জ, বক্তাবলী ও আলীরটেক এলাকায় বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে প্রকাশ্যে চলছে প্রায় শতাধিক ইট ভাটা। এলাকাবাসী এসব ইট ভাটার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠলেও নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন অভিযান। পরিবেশ অধিদপ্তর অবৈধ ইটভাটার অস্তিত্ব স্বীকার করে বলেন, মামলার জটিলতার কারনে তারা এই সব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের দাবী, আইনী জটিলতা ও প্রভাবশালীদের কারনে অবৈধ প্রায় ৮০টি ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছেনা। ভুক্তভোগীরা জানান, ফতুল্লার পাগলা, ধর্মগঞ্জ, বক্তাবলী ও আলীরটেক এলাকায় প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রনে চলছে প্রায় শতাধিক ইটভাটা। এসব ইট ভাটায় সরাসরি কাঠ ও কয়লা পুড়ানো হয়। যার ফলে ইট ভাটার বিষাক্ত কালো ধোয়া এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে পশু পাঁখি গাছপালাসহ মানব দেহের মারাত্মক ক্ষতি করছে। গাছে ফুল ধরে ঝড়ে পড়ে। এছাড়া ধোয়া যখন নাকে মুখে প্রবেশ করে তখন বুক গলায় ঝালাযন্ত্রনা হয়। হাঁচি কাশি বেড়ে যায়। যাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে উঠে। পাগলা এলাকার রফিকুল ইসলাম জানান, ইট ভাটার ধোয়া শুধু শ্বাস কষ্টের যন্ত্রনা বাড়ায় না শিশুদের মারাত্মক ক্ষতি করছে। ভোরে ঘুম থেকে উঠলে শিশুদের নাকের ভিতর কালি জমে থাকতে দেখা যায়। কাশি বেড়ে গিয়ে নাক মুখ লাল হয়ে যায়। বক্তাবলী এলাকার মোখলেছুর রহমান জানান, শীতের সবজি শীম, টমেটোসহ অনেক ফসল আবাদ করা হয় বুড়িগঙ্গা নদী বেষ্টিত বক্তাবলীতে। এখানকার সবজি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জে রপ্তানী করা হয়। কিন্তু এবছর ইট ভাটা গুলো কালো ধোয়া ছড়িয়ে ২৪ ঘন্টাই চলছে। এতে সবজির আবাদ অনেকটাই ধ্বংস হয়েগেছে। সবজি গাছগুলো আগের মত শক্তি পাচ্ছেনা। ধর্মগঞ্জ এলাকার ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন জানান, গ্রামের স্কুল গুলোর খুব কাছে একাধীক ইটভাটা চলছে। বাতাসে এসব ইট ভাটার কালো ধোয়া স্কুলের কমলমতি শিক্ষার্থীদের শ্বাস কষ্টের সমস্যা করছে। এতে শিশুদের হাচি কাশি ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। প্রায় সময় শিশুদের অসুস্থ হয়ে বিশ্রামে থাকতে হয়। যারা এসব ইট ভাটা চালাচ্ছে তারা প্রভাবশালী হওয়ায় কোন প্রতিবাদ কেউ করতে পারছেন।
আলীরটেক এলাকার কাওছার হোসেন জানান, যারা প্রকাশ্যে কালো ধোয়া ছড়িয়ে ইট ভাটা চালাচ্ছে তারা সব কিছু ম্যানেজ করেই চালাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে কোন লাভ হয়না। উল্টো বিপদে পড়তে হয়। একই এলাকার আলী আহম্মদ জানান, নারায়ণগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয় রয়েছে। তারা কেন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এটা বুজলে আর কিছু বুজাতে হয়না। এক মাস যাবত দিন আর রাত নেই ২৪টি ঘণ্টা দূষিত কালো ধোয়া ফতুল্লায় উড়ে বেড়াচ্ছে। আর পরিবেশ অধিদপ্তরের কেউ কোন খোজ খবর নিচ্ছেনা। নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র কেমিস্ট মোঃ নয়ন মিয়া জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলায় মোট ২৯০টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে ১২০ ফুট চিমনী ইটভাটার সংখ্যা ১৪২টি আর জিগজাগ ইটভাটা রয়েছে ১৮০টি। এছাড়া আরো ৮০টি ইটভাটা রয়েছে অবৈধ। আর অবৈধ এসব ইটভাটার মালিকরা উচ্চ আদালতে রীট করেছে। যার ফলে আইনগত জটিলতার কারনে এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে কোন অভিযান চালানো যাচ্ছেনা। তিনি আরো জানান, আমাদের কাছে অনেক অভিযোগই আছে কিন্তু ইটভাটা গুলো প্রভাবশালীরা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এতে নিরাপত্তার কারনে সবসময় ইটভাটা পরিদর্শন করা যায়না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *