নৌকায় বিশ^াসী দিপুমনি লাঙ্গলের পক্ষে সেতুমন্ত্রী!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
বিগত নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে আওয়ামীলীগের ছাড়ের কারনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ একেএম নাসিম ওসমান। এরপর বিগত ২০১৪ সালের জুনে নাসিম ওসমান ইহলোকের মায়া ত্যাগ করে পরলোকে চলে যাওয়ার পর তার শূণ্য আসনে প্রথমে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করলেও পরবর্তীতে জাতীয় পার্টিকেই উক্ত আসনটি ছাড় দেয়ায় পুনরায় জাতীয় পার্টির মনোনয়নে নাসিম ওসমানের অনুজ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ একেএম সেলিম ওসমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শুধুমাত্র নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনকে আর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনও জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেয়ায় আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন সংসদীয় কোন আসনকেই আর জাতীয় পার্টিকে ছাড় না দেয়ার জোরালো দাবী উঠে স্থানীয় আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের মাঝে। যার ফলশ্রতিতে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ‘নৌকা’ প্রত্যাশায় সোনারগাঁয়ের তুলনায় সদর-বন্দর আসনে প্রতিনিয়ত সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীদের তালিকা দীর্ঘায়িত হতে থাকে। একপর্যায়ে গত ৩০ জুলাই সদরে দলীয় কার্যালয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ণ কার্যক্রম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আওয়ামীলীগের ঢাকা বিভাগীয় যুগ্ম সম্পাদক ডা: দিপুমনি এমপির নিকট আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের সকল আসনে ‘নৌকা’ প্রতীকে প্রার্থী দেয়ার জোরালো দাবী জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী, সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল, আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. আনিসুর রহমান দিপু, সহ আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা। পরবর্তীতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের দাবীর প্রেক্ষিতে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে সব গুলো আসেনই যেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী দেয়া হয়, সেজন্য দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে আবহিত করবেন বলে উক্ত অনুষ্ঠানে ডা: দিপুমনি আশ^াস দিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, দিপুমনি এরজন্য আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে সব গুলো আসনেই ‘নৌকা’র প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ শুরু করে দেয়ার আহ্বানও জানিয়ে যান। এরপর থেকে জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দদের পাশাপাশি মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সম্ভাব্য নৌকা প্রত্যাশী এড. খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাহমুদা মালাও সদর-বন্দর তথা নারায়ণগঞ্জের সকল আসনে দলীয় প্রার্থী দেয়ার জোর দাবী তুলতে থাকেন। সদরে এসে ডা: দিপুমনি ‘নৌকা’ ভাসিয়ে যাওয়ার পর আগামী নির্বাচনকে ঘিরে সদর-বন্দর আসন থেকে ‘নৌকা’ প্রত্যাশীরা আরো বেশী উজ্জীবিত হয়ে উঠেন। কোমর বেঁধে নেমে পড়েন থানা থেকে ইউনিয়ন তৃণমূল পর্যায়ে। আওয়ামীলীগ সরকারের উন্নয়ণ কর্মকান্ড তুলে ধরার পাশাপাশি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে নিজেদের নির্বাচনী সালামও জনগণের দ্বারে দ্বারে পৌঁছাতে শুরু করেন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।
কিন্তু সদরে দিপুমনি ‘নৌকা’ ভাসিয়ে দিয়ে গেলেও সম্প্রতি বন্দরে জাতীয় পার্টির এমপির অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে খোদ আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ‘নৌকার’ পরবির্তে ‘লাঙ্গল’ উঠিয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারন হিসেবে তারা বলেন, স্থানীয় নেতৃবৃন্দের দাবীর প্রেক্ষিতে যখন দিপুমনি আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের সকল আসনে দলীয় প্রার্থী দেয়ার পাশাপাশি তাদের বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে গিয়েছিলেন, এরপরই সদর-বন্দর আসনের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মাঝে একধরনের নির্বাচনী উত্তাপ বইতে শুরু করেছিল। দল যাকেই মনোনয়ন দেক না কেন, সকলেই ‘নৌকা’র বিজয় নিশ্চিত করতে জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে রুঁখে দাঁড়াতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু গত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম সেলিম ওসমানের অর্থায়নে বন্দরে নির্মিত তিনটি স্কুলের উদ্বোধনীতে এসে সুধী সমাজের মাঝে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উক্ত আসন থেকে সেলিম ওসমানকেই যেন মনোনয়ন দেয়া হয়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের কাছে অনুরোধ জানাবেন। যা স্পষ্টতই বন্দরের মাটিতে ‘লাঙ্গল’ ঠুকিয়ে ‘নৌকা’ ডুবিয়ে দেয়ার সামিল বলে মন্তব্য করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অথচ, উক্ত অনুষ্ঠানের আয়োজক সেলিম ওসমানই তারপূর্বে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটি সভায় বক্তব্যকালে বলেছিলেন, ওবায়দুল কাদের তার স্কুল গুলো উদ্বোধনে নারায়ণগঞ্জ আসবেন, কিন্তু এটি যেন কোন রাজনৈতিক সমাবেশ না হয় সেই ব্যাপারেও নাকি তাকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষতক ওবায়দুল কাদেরই তার কথা রাখতে পারলেন না। স্থানীয়দের দাবী প্রেক্ষিতে এবং ভালবাসায় মুগ্ধ হয়ে ওবায়দুল কাদের সেলিম ওসমানের প্রশংসা করে আগামী নির্বাচনে তাকেই উক্ত আসন থেকে মনোনয়ন দেয়ার দাবী জানানোর আশ^াস দিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে যান। আর এরপর থেকে স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দদের মাঝে উচ্ছাস বইলেও কিছুটা হতাশ হয়ে যান সদর-বন্দর আসনে আগামী নির্বাচনে ‘নৌকা’ প্রত্যাশী আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য এমপি পদ প্রার্থীরা। তবে কেউ কেউ দাবী করেন, সেলিম ওসমানের জন্য মনোনয়ন প্রাাপ্তির লক্ষ্যে দাবী জানানোর আশ^াস দেয়াটা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী ওবায়দুল কাদেরের রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে। কারন, এক দলের একজন কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারক কখনো অন্য দলের এমপির মনোনয়ন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দাবী জানানোর মত আশ^াস দিতে পারেন না। আবার সেলিম ওসমান এমপি হয়ে স্বল্প সময়ে নিজ অর্থায়নে যা করেছেন জনসাধারনের জন্য, তা কোন এমপি আদৌ নারায়ণগঞ্জে করে নাই। এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যতার কথা বিবেচনা করে সেলিম ওসমানকে পুনরায় মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারে কারো সুপারিশ করাটাও ভুল কিছু হবে না বলে অভিমত তৃণমূলের। উল্লেখ্য, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে ‘নৌকা’ প্রত্যাশায় মাঠ ঘাট চষে বেড়াচ্ছেন প্রায় ডজন খানেক সম্ভাব্য প্রার্থী। যাদের মধ্যে আলোচনায় আছেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু, জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ¦ শুক্কুর মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদল, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম আবু সফিয়ান, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম আরাফাত, বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া, জেলা যুবলীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির, শহর যুবলীগ সাধারন সম্পাদক আলী আহাম্মদ রেজা উজ্জল ও জেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক থেকে পদত্যাগকারী নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি এস এম আকরাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *