সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগে যড়যন্ত্র চলছেই

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের মধ্যে ক্রেন্দল চলছেই। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একে এম শামীম ওসমান থানা আওয়ামীলীগের বর্ধিত আলোচনা সভায় আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সকল ক্রোন্দল ভুলে সকল আওয়ামীলীগের কর্মীদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানালেও এতে কোনরুপ কর্নপাতই করছেন না স্থানীয় থানা আওয়ামীলীগের কর্মীরা। উল্টো একে অপরের মধ্যে কাঁদা ছুড়াছুড়িতে ব্যতিব্যস্ত লক্ষ্য করাগেছে। গত কয়েকদিন আগে থানা আওয়ামীলীগের এক কর্মীর চেহলামে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মজিবুর রহমানকে নাজেহাল করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের কয়েকজন নেতৃবৃন্দর। এ চক্রের অন্যতম মূল কলকাঠি নাড়ছেন সদ্য নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য পদ পাওয়া সাদেকুর রহমান, তার সহযোগী হিসেবে দলটিতে বিশৃংখলা করছেন রিয়াজ উদ্দিন রেনু, মতি বেপারী। স্থানীয় আওয়ামীলীগের কয়েকজন থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমানের সুনাম ক্ষুর্ণে উঠেপরে লেগেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের একজন সিনিয়র নেতা বলেন, বর্তমান সভাপতি মজিবুর রহমান আছে বলেই সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামীলীগ সরকারের ঘোষিত সকল কর্মকান্ডে শতস্ফুর্ত অংশগ্রহন করতে পারে। তিনি বলেন, মজিবুর রহমানের আপাদমস্তক আওয়ামীলীগ তাইতো তাকে নিয়ে আমাদের মধ্যে থেকে একটি মহল তার সন্মানহানিতে উঠেপরে লেগেছে। জানাগেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের তিন তিন বারের সভাপতি আলহাজ্ব মজিবুর রহমান, ১৯৬৫ সালে তৎকালে ছাত্র রাজনীতিতে যিনি ছিলেন অতি পরিচিত মুখ, তাইতো সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৬৬-১৯৭১ পর্যন্ত তোলারাম মহাবিদ্যালয়(বর্তমান তোলারাম কলেজ)’র কার্যকরি পরিষদের সদস্য ছিলেন, ৬৬’র ছয় দফা, ৬৯’র গণ আন্দোলন, ৭০’র নির্বাচনে ছাত্র নেতা হিসেবে রাজনীতিতে বলিষ্ট ভুমিকা পালন করেন। স্বাধীনতার পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি ও থানা আওয়ামীলীগের যুব সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ হতে থানা আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পান পর পর তিন বার নির্বাচিত হয়ে অদ্যবধি তিনি আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্বে আছেন। গত ৩০ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের সদস্য হিসেবে রয়েছেন। মিজমিমি পাইনাদী রেকমত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন মজিবুর রহমান। মিজমিজি পশ্চিমপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে খেদমত করেছেন। সভাপতি ও মোতাওয়াল্লী মজিববাগ বাইতুল ফালাহ জামে মসজিদ। সৈরাচারী জিয়া, এরশাদ, ও খালেদা বিরুধী আন্দোলনে কাজ করেছেন সর্বজন স্বীকৃত। বিএনপি,জামাত, স্বাধীনতা বিরোধী, মানবতা বিরোধী, ৩ মাস ব্যাপী জ্বালাও পোড়াও আন্দোলনে নিজে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসগকে দাড়িয়ে থেকে প্রতিহত করেছন আলহাজ্ব মজিবুর রহমান। তারপরও থেমে নেই কুচক্রি মহল। তার সন্মানহানী করতে নানামূখী পদক্ষেপ নেন সবসময়। আওয়ামী বিশ্লেষকরা বলছেন, ৭৫’র পর সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামীলীগের হাল ধরার কেউ ছিলো না, মজিবুর রহমানই হাল ধরেছেন আওয়ামীলীগের। বর্তমানে আওয়ামীলীগের ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকা আর এ কাজটিএ সফল করেছেন সভাপতি আলহ্বাজ মজিবুর রহমান। বিষয়টি নিয়ে বর্তমান সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ মজিবুর রহমান বলেন, সব সময়ের আওয়ামীলীগের ভোট ব্যাংক সিদ্ধিরগঞ্জ। এ অঞ্চলের মানুষ একে এম শামীম ওসমানকে ভালোবাসে, তার উন্নয়ণের রাজনীতিতে তারা বিশ্বাসী। তাই এ সকল অঞ্চলে উন্নয়ণও হয়েছে বেশ। তিনি বলেন, সব কিছু ছাপিয়ে আবারো আগামী নির্বাচনে এ আসন থেকে আওয়ামীলীগই বিজয়ী হবে সেটা নিশ্চিত করবে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগ। তারপরও কিছু কুচক্রি মহল রয়েছে এদের ব্যাপারে দল সিদ্ধান্তেই তিনি অটল। এদিকে দেশজুড়ে আলোচিত সাত হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী নূর হোসেনের অণ্যতম সহযোগী সাদেকুর রহমান ওরফে ভলেনটিয়ার সাদেক জেলা আওয়ামীলীগের সদস্যপদ পাওয়ায় সিদ্ধিরগঞ্জ জুড়ে নানামূখী গুঞ্জণ চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *