আজ : মঙ্গলবার: ৮ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ইং | ২ জমাদিউস-সানি ১৪৩৯ হিজরী | ভোর ৫:৫২
fevro
শিরোনাম
7

আসুন না-অতীতের সব কিছু ভুলে নতুন বছরে এক হই

Badal-nj | ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭ | ৪:৫২ অপরাহ্ণ

মন্তব্য প্রতিবেদন
হাবিবুর রহমান বাদল
আজ রবিবার সূর্য্যাস্তের সাথে সাথে বিদায় নিবে আরও একটি বছর। গতবছর নারায়ণগঞ্জে ঘটনা বহুল অনেক ঘটনাই ঘটেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় দুই দলের কোন্দল কলহ আর বিভাজন বেড়েছে। দুইদলের মধ্যে একাধিক মেরু করণ ঘটেছে। বিভক্ত শিবির ধারণ করেছে প্রকট আকার। জন্ম নিয়েছে নানা কাহিনী। তৈরী হয়েছে ইতিহাস। নেতিবাচক ঘটনার পাশাপাশি ইতিবাচক ঘটনা যে ঘটেনি তা বলা যাবে না। পরিকল্পনা আর ব্যক্তিগত একগুয়েমীর কারণে আমাদের জনপ্রতিনিধিরা এক টেবিলে বসতে না পারায় নারায়ণগঞ্জ যানজটের কারণে চলাচলের অযোগ্য শহরে পরিনত হয়েছে। অথচ বিশে^র অধিকাংশ উন্নত দেশে আমাদের চাইতে প্রধান সড়ক গুলি অনেক সরু। সেখানে যত্র-তত্র পাকিং না করার ফলে যানজট হয়না বললেই চলে। অথচ আমাদের প্রাণের শহর নারায়ণগঞ্জে যানজট অনেকটা জনপ্রতিনিধি তথা প্রশাসনের খামখেয়ালীর কারণে নিরশন হচ্ছে না। আর এর খেসারত দিতে হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের লাখ লাখ মানুষকে। সাংসদ সেলিম ওসমান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই জনপ্রতিনিধি প্রতিনিধিত্বশীল পেশাজীবী সংগঠন ও প্রশাসনকে এক টেবিলে বসার বার বার আবেদন নিবেদন জানিয়েছে। যানজট নিরসনে সাংসদ সেলিম ওসমান ব্যক্তিগত তহবীল থেকে অর্থ দিয়ে সেচ্ছসেবক নিয়োহ করেছিলেন। সাংসদ শামীম ওসমান ঘটা করে বিশাল পরিকল্পনা মিডিয়ার সামনে তুলে ধরে রাজপথে যুবলীগ-ছাত্রলীগকে দিয়ে যানজট নিরসনের চেষ্টা করেছিলেন। সিটি করপোরেশনও চেষ্টা করেছে। কিন্তু নারায়নগঞ্জের প্রধান প্রধান সড়কগুলির পাশে গড়ে উঠা বহুতল ভবনগুলির পার্কিং ব্যবস্থা না থাকার ফলে সড়কের অর্ধেক পথই দখল করে রাখে অবৈধ ভাবে গাড়ির মালিকরা। আর এক্ষেত্রে আইনের শাসন প্রয়োগ করতে প্রশাসন কঠোর না হওয়ায় নারায়ণগঞ্জবাসীকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে আটকে থেকে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে নগরবাসী। অথচ কঠোর ভাবে আইনের শাসন প্রয়োগ করা হলে নারায়ণগঞ্জ হতে পারতো একটি আধুনিক শহর। পাশাপাশি ক্ষমতাশীন দলের রাজনীতিবিদদের কোন্দলের কারণে এক টেবিলে বসতে পারেনি তারা। যে কারণে বাস্তবতা হলো প্রশাসন ছিল অনেকটা অসহায়। যার প্রমান প্রশাসন কঠোর বলেই অবৈধ দোকানীদের উচ্ছেদ করা সম্ভব হচ্ছে। শুধু মাত্র প্রচালিত আইনকে অনুস্বরণ করলে প্রশাসন নারায়ণগঞ্জকে দেশের এক নম্বর শহরে পরিচিতি করতে পারে। যার প্রমান জেলা কারাগারে কয়েদীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে গামের্ন্টন্স ও জামদানী শাড়ি তৈরীর ব্যবস্থা করে জেলা প্রশাসক শুধু দৃষ্টান্ত স্থাপনই করেননি বরং শুধু দেশেই নয় বিদেশেও এই প্রকল্পটি মিডিয়ায় প্রসংশিত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিকদের মধ্যে অনৈক্যের সুযোগ গ্রহণ করেছে ক্ষতাশীন দলের বিবধমান পক্ষ। পাশাপাশি পেশাদার সাংবাদিকদের চাইতে নাম সর্বস্ব সাংবাদিকদের দাপটে পেশাদার সাংবাদিকরা কোনঠাসা হয়ে চলেছে। ক্ষমতাশীন দলের কোন্দলের খবর প্রকাশ করতে গিয়ে পেশাদার সাংবাদিকরা গতবছর সবচেয়ে বেশী মানুষিক ও শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন বেশী। আর এ ব্যপারে সাংবাদিকদের জন্য যাদের বেশী সোচ্চার হওয়ার কথা তারা পেশাদার না হওয়ায় রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনও সুযোগ নিয়েছে। এক কথায় গতবছর পেশাদার সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বেশী দুঃসময়ের বছর। আমার চার দশকের পেশাগত জীবনে এমন অসহায় অবস্থায় পেশাদার সাংবাদিকদের দেখিনি। পেশাদর সাংবাদিকদের উপর হামলা মামলা হয়েছে অথচ সাংবাদিকদের নেতৃত্বদানকারীরা ছিল পক্ষপাত দোষে দুষ্ট। এ অবস্থার অবসান না হলে পেশাদার সাংবাদিকদের আগামী দিনগুলিতে আরো কঠিন সময় পার হতে হবে বলে আমার বিশ^াস। কারণ পেশাদার সাংবাদিকদের কখনও উমুক পন্থি আবার কখনও বা তমুক পন্থি বলে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চলেছে। আর এর খেসারত দিতে হয়েছে পেশাদার সাংবাদিকদের। তাদের কোন্দলের জের হিসেবে একাধিক পক্ষের হামলা-মামলার শিকার হয়েছে সাংবাদিকরা। আবার কখনও উভয় পক্ষ পেশাদার সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয়েছে। আর তথা কথিত সাংবাদিক নেতারা দুর থেকে মজা লুটেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে সমাজের বিবেক বলে যারা পরিচিত তারা বিবেক বন্ধক দিতে বাধ্য হবে। সাংবাদিকতার মতো মহান পেশায় থেকে অবৈধ পন্থায় কেউ যদি কোটিপতি হয় তবে আইনের দৃষ্টিতে সেও অপরাধী বলে আমি মনে করি। তাই আইনের দৃষ্টিতে যেহেতু সবাই সমান এ কারণে দুদকের উচিত সাংবাদিকতা পেশাকে পুঁজি করে যারা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা। অন্তত দেড় দশক কিংবা প্রয়োজন বোধে দুদক একটি সময় নির্ধারণ করে কথিত সাংবাদিকদের এমনকি আমারও সম্পদের খোঁজ খবর নেয়া নারায়ণগঞ্জে জরুরী বলে আমি মনে করি। জানি এ লেখা প্রকাশ পাওয়ার পর আমার উপর অনেক সতির্থই নাখোশ হবেন। কিন্তু দুর্নীতি কিংবা ঘুষখোরের কালিমা থেকে পেশাদার সাংবাদিকদের রক্ষার জন্যই আমি এ কথা বলছি। অনেক কিছু বলার ছিল কিন্তু আমরা যারা প্রকৃত অর্থে পেশাদার তারা কোন গোষ্ঠি কিংবা ব্যক্তির তল্পিবাহক নই। আমি মনে করি পেশাদার সাংবাদিকরা সাদাকে সাদা ও কালোকে কালো বলে এ জন্যই বলা হয় ‘সৎ সাংবাদিকের কখনও স্থায়ী বন্ধু কিংবা শত্রু থাকেনা’ নারায়ণগঞ্জের স্বার্থে প্রশাসন কঠোর হস্তে আইনের শাসন কায়েম করবেন এই প্রত্যাশা রেখে পেশাদার সকল সাংবাদিকদের দলমত বিভাজন ও অতীতের দুঃখ কষ্ট ভুলে এক হওয়ার জন্য আমি বছরের শেষ দিনে বিনীত অনুরোধ করছি। আশা করি নিজেদের স্বার্থেই নিষ্ঠাবান ও পেশাদার সাংবাদিকরা অতীতের সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হবেন এই আহবান সকল পেশাদার সাংবাদিকদের প্রতি আমার রইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *