আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:০৮
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

মুড়াপারার ঐতিহ্য বরবক শাহী মসজিদ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
কারুকার্য ও নির্মাণশৈলী বিবেচনায় স্থাপত্যশিল্পের অনন্য নিদর্শন শাহী মসজিদ। মোগল স্থাপত্যের নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম এ শাহি মসজিদ। প্রায় সাড়ে পাচ’শ বছরের পুরনো এই মসজিদটির স্থাপত্যরীতিতে মোগল ভাবধারার ছাপও সুস্পষ্ট। অবস্থান রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া বাজার ঘেষা শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে। এ মসজিদ নিয়ে রয়েছে অনেক রোমাঞ্চকর কাহিনী। রয়েছে নানা ইতিহাস। বিভিন্ন ইতিহাস ও বইপত্র ঘেটে জানা যায়, ১৪৬৫ খ্রিস্টাব্দে গৌড়ের ইলিয়াস শাহী বংশের উত্তরাধিকার নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের ছেলে রুকনউদ্দিন বরবক শাহ আছিয়া খাতুনের পরগনা শীতলক্ষ্যা তীরের মুড়াপাড়া এলাকায় আসেন। তার সফরসঙ্গী ছিলেন জৌনপুরের শাসনকর্তা মাহমুদ শর্কী, মুসলমান সাহিত্যিক আমীর জয়েনউদ্দীন, আমীর শিহাবউদ্দীন কিরমানী, মনসুর সিরাজী ও দেহরক্ষী বাসুদেব বসু। তিনি কয়েক মাস এ পরগনায় থেকে ঘুরে ঘুরে এলাকা দেখেন। আছিয়া খাতুনের আথিতিয়েতাও তাকে মুগ্ধ করে। তিনি এলাকাটি দেখে খুবই পছন্দ করেন। পরে তিনি এ পরগনায় মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। এরপর আছিয়া খাতুনের সঙ্গে আলোচনা করে মসজিদের কাজ শুরু করেন। মসজিদটি দেখাশোনার কাজে নিয়োজিত ছিলেন ঐসময়কার তার পৃষ্ঠপোষক মুসলমান সাহিত্যিক আমীর জয়েনউদ্দিন, আমীর শিহাবউদ্দিন কিরমানী ও মনসুর সিরাজী। একপর্যায়ে জৌনপুরের শাসনকর্তা মাহমুদ শর্কী ও দেহরক্ষী বাসুদেব বসুকে নিয়ে বরবক শাহ তার রাজ্য গৌড়ে ফিরে যান। এরপর ১৪৭৪ খ্রিস্টাব্দে বরবক শাহ পরলোক গমন করেন। পরে জৌনপুরের মাহমুদ শর্কী ও দেহরক্ষী বাসুদেব বসুর মুখে পিতার মসজিদের অসমাপ্ত কাজের বর্ণণা শুনে বরবক শাহের পুত্র সামসুদ্দিন আবু মুজাফফর ইউসুফ শাহ মসজিদটির নির্মাণ কাজ শেষ করার তাগিদ দেন। ১৪৭৭ খ্রিস্টাব্দে ইউসুফ শাহ দেহরক্ষী বাসুদেব বসুকে সঙ্গে নিয়ে আছিয়া খাতুনের পরগনায় ফিরেন। এসময় তিনি পৃষ্ঠপোষকদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত মসজিদ নির্মাণের কাজ শেষ করার তাগিদ দেন। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর বরবক শাহের নামানুসারে মসজিদটির নামকরণ করা হয় শাহী মসজিদ। একপর্যায়ে পরগনার ১৮ বিঘা জমি মসজিদের নামে দিয়ে দেওয়া হয়। এসময় মসজিদের দায়িত্বভার আমীর জয়েনউদ্দিন হারাভী, আমীর শিহাবউদ্দিন ও মনসুর সিরাজীকে বুঝিয়ে দিয়ে ইউসুফ শাহ পৃষ্ঠপোষক বাসুদেব বসুকে নিয়ে তার রাজ্য উড়িষ্যায় ফিরে যান। বরবক শাহ’র আমলে চট্রগ্রাম ও পটুয়াখালীর মীর্জাগঞ্জেও দুটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়। জানা যায়, শাহী মসজিদের পাশে রয়েছে ৫ টি কবর। এলাকার বর্ষীয়ান মুরুব্বিদের মতে, এখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন পরগনার মালিক আছিয়া খাতুন, মুসলমান সাহিত্যিক আমীর জয়েনউদ্দিন হারাভী, আমীর শিহাবউদ্দিন ও মনসুর সিরাজী। আরেকজন শমসের মিয়া নামে এক পথচারী। জানা যায়, মোগল আমলের পতনের পরে ১৮৮৬ সালে ইংরেজ শাসনামলে তৎকালীন জমিদার জগদীশচন্দ্র বসু মসজিদটি মাটি দিয়ে ঢেকে ফেলেন। পরে এর পাশেই জমিদাররা হিন্দুদের তীর্থস্থান তৈরি করেন। একপর্যায়ে মসজিদটি জঙ্গল দিয়ে ঢেকে যায়। এর চিহ্ন পর্যন্ত দেখা যায়নি। ১৯২৫ সালের দিকে সাত ফুট উচ্চতা সম্পন্ন শমসের মিয়া নামে এক পথচারী একদিন এর পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছিলেন। এসময় তিনি পাশ থেকে সুমধুর কন্ঠে কোরআন তেলওয়াত ও আজানের গায়েবী ধ্বনি শুনতে পেয়ে থমকে দাঁড়ান। এনিয়ে তার কৌতুহলও বেড়ে যায়। একদিন সে জঙ্গল পরিষ্কার করে ও মাটি খোদাই শুরু করে। পরে গম্বুজ দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজনকে ডেকে আনেন। কিন্তু তখন জমিদারদের ভয়ে অনেকে জুবুথুবু হয়ে থাকতো। পরে শমসের মিয়া পরিষ্কার করে মিনারে দাঁড়িয়ে আজান দেন। এসময় জমিদারদের নির্দেশে তাদের পাইক-পেয়েদা তাকে গুলি করে। পরে শমসের মিয়াকে পরগনার মালিক আছিয়া খাতুন ও মুসলমান তিন সাহিত্যিকের পাশেই দাফন করা হয়। এনিয়ে কলকাতা আদালতে শমসের মিয়ার মা জমিলা খাতুন মামলাও দায়ের করেন। জানা যায়, বর্গাকার মসজিদটির দৈর্ঘ্য-প্রস্থ ৪০ ফুট করে। চারপাশের দেয়াল ছয় ফুট আট ইঞ্চি চওড়া। পূর্বপাশে রয়েছে খিলান আকৃতির প্রবেশপথ। এর ইটের দৈর্ঘ্য ১২ ইঞ্চি, প্রস্থ ১০ ইঞ্চি এবং চওড়া ২ ইঞ্চি। বর্তমান যুগের ইটের চেয়ে এর আকৃতি একেবারেই আলাদা। মসজিদের গম্বুজ খাজকাটা। গম্বুজের চূড়া গোলাকার ও সুচালো। খিলানের চারপাশ লতাপাতার কারুকাজ। ঐতিহ্যের সাক্ষী হিসাবে টিকে থাকা এই শৈল্পিক স্থাপনার শরীরজুড়ে এখন শুধুই অযতœ আর অবহেলার ছাপ। তবে এ পর্যন্ত প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের কারো পা পড়েনি এই স্থাপনায়। মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন মিয়া বলেন, বাপ-দাদাগো মুখে হুনছি এই মসজিদের বয়স সাড়ে ৫০০ বছরের মতো।

ক্ষমতাশীনরা চেলা-চামুন্ডাদের থামান!

মন্তব্য প্রতিবেদন
হাবিবুর রহমান বাদল
নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দলের চেলা-চামুন্ডারা এখন নারায়ণগঞ্জের হাট, ঘাট, মাঠ থেকে শুরু করে সর্বত্র তাদের দাপটে প্রকৃত ব্যবসায়ীরাও এখন কোনঠাসা। নারায়ণগঞ্জে এমন কোন সেক্টর নেই যে সেক্টরে ক্ষমতাসীদের কর্তৃত্ব নেই। ঝুট ব্যবসা থেকে বালু মহাল, চাঁদাবাজী থেকে টেন্ডারবাজী, অবৈধ ভাবে ভূমি দখল থেকে শুরু করে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী পর্যন্ত ক্ষমতাসীনদের দখলে। এ অবস্থার পরিত্রাণ চায় নারায়ণগঞ্জবাসী। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিবিদদের এব্যাপারে সজাগ হওয়ার সময় এসেছে। কারন অবৈধ ভাবে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে ও নেতাদের পরিচয় বিক্রি করে অর্থবিত্তের মালিক হবে আর দায়-দায়িত্ব গিয়ে পরবে দলের উপর কিংবা ক্ষমতাসীন দলের ঐসব প্রভাবশালী নেতাদের উপর এঅবস্থার অবসানকল্পে দলে দায়িত্বশীল নেতাদের কঠোর হওয়া জরুরী বলে সাধারণ ভোটাররা মনে করে। শুধু তাই নয় হাতেগুনা কিছু লোক দলের ও নেতাদের নাম বিক্রি করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ায় খোদ ক্ষমতাসীন দলের ত্যাগী ও মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার নয় বছরে কাদের অবস্থান উঠা নামা করেছে এটা নগরবাসী ভাল ভাবেই জানে। দলীয় প্রভাবশালী নেতাদের অন্ধকারে রেখে রাতারাতি টোকাই থেকে কোটিপতি বনে যাওয়া এইসব মানুষগুলিকে চিহিৃত করতে না পারলে আগামীতে সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চাইতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। কারাকারা গত নয় বছরে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা তাদের ভাল করেই চিনে এবং জানে। নিজের স্বার্থে এইসব নামধারীরা দলকে সাংগঠনিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এসকল নামধারী ও পদধারী কিছু নেতার অত্যাচারে সাধারণ ভোটররা এখন অতিষ্ট্য হয়ে পড়েছে। আর এমন অবস্থা চলতে থাকলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনেই আওয়ামীলীগের প্রার্থীর বিজয় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, যারা আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নিজেদের স্বার্থ আদায় করতে অথবা অর্থ উপর্জনের জন্য এমপি ও অথবা নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের ঘনিষ্টজন পরিচয়ে তারা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। যদিও এমপি অথবা শীর্ষ নেতারা সরাসরি এ বিষয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অবগত থাকেন না। তবে সাধারণ মানুষের ধারণা যারা এসকল অপকর্ম করছে তাদের সম্পর্কে সবই জানেন এমপি অথবা শীর্ষ নেতারা। তারপরও এদের বিরুদ্ধে তারা কোন প্রকার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। এ অবস্থা পরিবর্তন না হলে ভোটররাও এর জবাব দিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে। অত্যাচারের পৃষ্ট হওয়া সাধারণ মানুষগুলোর হাতে ভোটের ক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচন আসলেই সেই ক্ষমতা ফিরে পাবে সাধারণ মানুষ। তখন এরাই আবার তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন তারা।
তাই নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাশীন ও আওয়ামীলীগের চেলা-চামুন্ডাদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন রাজনৈতি বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, যারা এমপি অথবা দলের শীর্ষ নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে অপকর্ম করছে তারা শুরু সাধারণ মানুষেরই না দলেরও শত্রু। আর শত্রু সর্বদাই ক্ষতি করার অপেক্ষায় থাকে। শত্রুদের চিহিৃত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। নয়তো আগামীতে এর পরিনাম ভাল হবে না। কারণ নির্বাচনী হাওয়া শুরু হয়ে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার থেকে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী সিলেটের ৩টি মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করে দিয়েছেন। এই মূহুর্তে ক্ষমতাশীনরা যদি তাদের চেলা-চামুন্ডাদের শান্ত না করে কিংবা রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার কারণ খুঁজে বের না করেন তবে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক চেহারা পাল্টে গেলে বলার কিছু থাকবে না। অতএব সাধু সাবধান।

শামীম ওসমানকে তৈমূরের এক হাজার টাকা বকশিষ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের কাছ থেকে টাকা নিলেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান। নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ভোট চলাকালীন সময়ে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ২টায় এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, সমিতির ভোট উপলক্ষ্যে দুপুরে আদালতপাড়ায় আসেন শামীম ওসমান। আর সকাল থেকেই ছিলেন তৈমূর আলম খন্দকার। দুপুর সোয়া ২টায় সার্কিট হাউজের সামনের গেটে দুইজনের দেখা হয়। তখন তৈমূরকে সালাম দিয়ে শামীম ওসমান বলেন, ‘আপনাকে তো নেতা বানিয়ে দিলাম। এরেস্টের পর বলেছিলেন আমার সঙ্গে টক শোর কারণে নাকি গ্রেপ্তার হয়েছেন। তৈমূর ভাই আমাকে বকশিষ দেন। তখন তৈমূর পকেট থেকে ১ হাজার টাকা বের করে শামীম ওসমানের হাতে দেন।’ ওই সময়ে দুইজন কুশল বিনিময় করেন। এর আগে ২৩ জানুয়ারী তৈমূর আলম খন্দকারকে আদালতপাড়ার বাইরে থেকে পুলিশ টেনে হিচড়ে গ্রেপ্তার করে। তখন তৈমূর অভিযোগ করেছিলেন, শামীম ওসমানের সঙ্গে টক শোতে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের কারণেই তাকে পুলিশ হেনস্থা করে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে ২২ জানুয়ারী ও ২১ জানুয়ারি পৃথক দুটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলে টক শোতে একত্রে আলোচক ছিলেন শামীম ওসমান ও তৈমূর। তারা নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক হকার ইস্যুতে স্ব স্ব অবস্থান তুলে ধরেন। জানা গেছে, সরকারী তোলারাম কলেজে পড়াশোনার সময়েই মাঝেমধ্যে তৈমুর আলমের কাছ থেকে টাকা চাইতেন শামীম ওসমান। ছোট ভাই আর বড় ভাইয়ের সম্পর্কের সূত্র ধরে সে সময়েই শামীম ওসমানকে কিছু টাকা দিতেন তৈমুর। তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, ‘কলেজ জীবন থেকে আমাদের সরাসরি দেখা হয়ে গেলে শামীম ওসমান আমার কাছে ছোট ভাই হিসেবে বড় ভাইয়ের কাছে আবদার করে টাকা চান। আগে এমন আবদারে ১শ টাকা দিতাম। তার এমন শিশু সুলভ আচরণ আমি খুব এনজয় করি।’ এর আগেও দুই বছর আগে নির্বাচনের সময়ে শামীম ওসমানকে ১হাজার টাকা প্রদান করেছিলেন তৈমূর আলম খন্দকার।

শহীদ মিনারেই যেন ওদের সংসার!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
ফাতেমা,সীমা,আফসানা ও আকলিমা, ওদের বয়স হবে ৮ থেকে ১০ বছর। আফসানার বাসা শহরের তল্লা এলাকায় হলেও বাকী তিনজনের বাসা ফতুল্লা স্টেশন এলাকাতে। শুধুমাত্র রাতটুকু যার যার বাড়িতে কাটলেও বাকী সময়টুকু ওদের কাটে চাষাড়া শহীদ মিনারের পাদদেশে। সময় বিকেল ৪টা, শহীদ মিনারে আগত বিভিন্ন মানুষের কাছে হাত পেতে সংগৃহিত টাকা নিয়ে ভাত কিনে একে-অপরের সাথে একত্রিত হয়েই ভাত খাচ্ছে শহীদ মিনারের ভেতরে অবস্থিত ফোয়ারার উপরে বসে ওরা ৪জন। ওদের ৪ জনের মধুর এ সম্পর্ক দেখে হতবাক শহীদ মিনারের অভ্যন্তরে উপস্থিত সাধারণ মানুষ। ফাতেমার সাথে কথা বলতে চাইলে সে বলে উঠে মামা, যে কয় টাকা পাইছি তাই দিয়াই আমরা খাওন কিন্না খাইতাছি। এত টাকা কোথায় পেলে তোমরা, জানতে চাইলে ওরা বলে, শহীদ মিনারে যেই ছেলে-মেয়েরা আহে হেগোরে মামা আর আন্টি কইলে হেরা কিছু টাকা দেয় হেই টাকা দিয়াই এগুলান কিনছি। তোরা তো শহীদ মিনারের ভিতরে সংসার পেতেছিস এমন প্রশ্নের জবাবে ওরা বলে, মামা রাইত ৯টা বাজে বাসায় যাই আবার সকালে ৭/৮টার মধ্যে এইহানে চইলা আহি। অহন কনতো মামা এইডা কি আমাগো সংসারের চেয়ে কোনো কম কিছু। তোদের মা-বাবা কোথায় জানতে চাইলে ওরা বলে, আমাগো মায় কাগজ টুকায় আর বাবা রিক্সা চালায়, হেগো টেকা দিয়া ভাই বইন লইয়া সংসার চলতে কস্ট হয় তাই এহানে চইলা আসি। লেখাপড়া করিস না কেন জানতে চাইলে সীমা বলেন, মামা লেহাপড়া করতে অনেক টেকা লাগে এত টেকা আমাগো নাই।

যেভাবে ছাত্র তুহিন হত্যাকারীরা শনাক্ত হলো

আড়াইহাজার প্রতিনিধি
আড়াইহাজারের বগাদী কান্দাপাড়া এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র তুহিনকে হত্যার পর অপহরণের নাটক করতে গিয়ে নিহতের পরিবারের সন্দেহে আসেন মামলার প্রধান আসামি মাহফুজ। মাহফুজ তার চাচাতো ভাই তুহিনকে আম কুড়াঁনোর কথা বলে তার ঘরে নিয়ে গলা টিপে হত্যা করে একটি ড্রামের ভিতরে গুম করে রাখেন। নাসির উদ্দিন জানান, তার ছেলে তুহিনকে ২০১৫ সালের ৯ মে বিকালে আম কুঁড়ানোর কথা বলে তার বড় ভাইয়ের ছেলে মাহফুজ তার ঘরে নিয়ে গলা টিপে হত্যা করে একটি নীল রংয়ের প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে গুম করে রাখেন। পরে তার অনেক খোঁজাখুঁজি করা হয়। এক পর্যায়ে মাহফুজ নিজেই একটি মোবাইল থেকে তার কাছে ১০ মে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করেন। এতে তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন। পরের দিন একই নাম্বার থেকে তাকে বলা হয় মুক্তি পণ্যের টাকা না পেলে তার ভাতীজা মাহফুজকে অপহরণ করা হবে। পরে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়। নাসির উদ্দিন আরো জানান, এ ঘটনার পরের দিন তুহিন নিখোঁজের খবর একালায় মাইকিং করেই মাহফুজ তরিগড়ি করে বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যায়। পরে তার প্রতি আমার সন্দেহ হয়। মোবাইল ফোনের সূত্রধরে পুলিশ মাদ্রসার ছাত্র মাহফুজকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তুহিনকে গলা টিপে হত্যার দায় স্বীকার করেন। তবে এ মামলার পুলিশের তদন্তের গাফিলতি ছিল বলে অভিযোগ করেন মামলার বাদী নাসির উদ্দিন। প্রসঙ্গত, নিহত তুহিনের আপন চাচা বিল্লাল হোসেন (৫৫) তার ছেলে মাহফুজুর রহমান (২৫) কে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মরদেহ গুমের চেষ্টার অপরাধে প্রত্যেককে তিন বছর করে সশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাস করে কারাদন্ড দেয়া হয়। এছাড়া শিশুটিকে অপহরণের অভিযোগে আসামিদের সাত বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার নারায়ণগঞ্জ প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইন এ রায় প্রদান করেন।

বাচ্চু চৌধুরী হত্যার নেপথ্য কাহিনী

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
গোয়েন্দা কাহিনী নারায়ণগঞ্জ নিয়ে কাহিনী। সেখানে বলা হয়েছে, দেশের দুর্ধর্ষ একটি ডাকাত দলকে ধরতে পুলিশ প্রস্তুত। গোয়েন্দাদের কাছে খবর রয়েছে ফরিদপুর গোয়ালন্দ পতিতা পল্লীতে অবস্থান নিয়েছে সেই ডাকাত দল। এরা রাজধানী শুধু নয়, সারা দেশে ঘুরে ঘুরে ডাকাতি করে বেড়াচ্ছে। পুলিশের দল ঢাকা থেকে রওনা হয় গোয়ালন্দের উদ্দেশে। ভোরে তারা পৌঁছে যায় সেখানে। ছদ্মবেশে তারা পতিতা পল্লীর ভিতর। গোয়েন্দাদের অধিকাংশ সদস্য লুঙ্গি পরা। কারও মাথায় গামছা। প্রত্যেকেই সশস্ত্র। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। বিভিন্ন কক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে স্থানীয় সোর্স। ১৯৮৭ সালে গোয়েন্দা পুলিশের একজন এসি আকরামের নেতৃত্বে ডাকাত দল অধীর আগ্রহে পতিতা পল্লীতে। হঠাৎ এক সোর্স এসে এসি আকরামকে একটি তথ্য দেয়। সোর্স জানায়, সেখানে একজন নারী আছেন। নাম শিউলি। যার কাছে মূল্যবান একটি হীরার আংটি রয়েছে। এই হীরার আংটি ঢাকা থেকে নিয়ে আসা। এসি আকরাম বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে শিউলির সঙ্গে দেখা করেন। আকরামের দৃষ্টি যায় শিউলির হাতে। হ্যাঁ, দামি একটি হীরার আংটি তা তার আঙ্গুলে শোভা পাচ্ছে। আকরাম তাকে প্রশ্ন করেন, ‘তোমার এই আংটি কোথা থেকে এনেছ?’ জবাবে সেই শিউলি জানায়, ‘তার প্রেমিক তাকে আংটি দিয়েছে। নাম বুড্ডা।’ এসি আকরামের কাছে বুড্ডা নামটি খুব পরিচিত। পেশাদার কিলার। ঢাকার বহু খুনে জড়িত সেই বুড্ডা। কখন আসবে বুড্ডা? জানতে চায় আকরাম। শিউলি তাকে জানায়, ঢাকায় আছে। সন্ধ্যার মধ্যে আসার কথা। এসি আকরাম তার পরিকল্পনা পাল্টে ফেলে। ডাকাত ধরবে না। তার দরকার এখন বুড্ডাকে। এসি আকরাম শিউলিকে জানায়, তারা সেখানেই আছে। বুড্ডার সঙ্গে তার প্রয়োজন। একটা কাজ করাবে তাকে দিয়ে। শিউলি বলে, ঠিক আছে, আপনারা থাকেন। বুড্ডা আসলে আপনাদের খবর দিব। এসি আকরাম তার দলবল নিয়ে পতিতা পল্লী থেকে বেরিয়ে আশপাশে গিয়ে সময় কাটান। তারা নতুন করে পরিকল্পনা আঁটেন। এসি আকরাম ভাবছে, আংটির কথা। কোথা থেকে এই দামি আংটি পেল। হয়তো কোনো তথ্য পাওয়া যেতে পারে। দুপুর গড়িয়ে বিকাল। সন্ধ্যায় খবর আসে বুড্ডা চলে এসেছে। এসি আকরাম তার ফোর্স নিয়ে আবারও ঢুকে পড়ে পল্লীতে। শিউলির রুমে। বুড্ডা সেখানে অবস্থান করছেন। আগে থেকে তাদের জন্য সেখানে খাওয়া দাওয়ার বড় আয়োজন করে রেখেছে শিউলি। বুড্ডা তাকে দেখে বসতে বলেন। কিন্তু এসি আকরামের চিন্তা, এখানে বেশি দেরি করা যাবে না। বুড্ডা মদপান করার আমন্ত্রণ জানায়। এসি আকরাম বলেন, এগুলো পড়ে হবে। আগে আমাদের সঙ্গে চল। বুড্ডা মুখ তুলেই দেখে তার চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে সশস্ত্র পুলিশ। বুড্ডা এবং শিউলিকে নিয়ে পুলিশ রওনা হয় ঢাকার উদ্দেশে। গাড়ির ভিতরেই জেরা শুরু। বুড্ডা এ সময় পুলিশের দলকে হুমকি দেয়। বলে, আপনারা চাকরি হারাবেন। বুঝতে পারছেন না, কাকে ধরেছেন। এসব কথা বলতে বলতেই গাড়ি ঢাকায়। গোয়েন্দা দফতরে নিয়ে জেরা করা হয়। আংটি কার? গোয়েন্দাদের প্রশ্ন। মুখ খোলে না বুড্ডা। যেন পণ করে এসেছেন। মুখ খুলবেন না। কিন্তু এসি আকরামের মতো একজন চৌকস গোয়েন্দার কাছে মুখ না খোলার মতো অপরাধী নেই। কৌশলের কাছে পরাস্ত হয়ে মুখ খুলতেই হয়। বুড্ডাকেও খুলতে হয়েছিল মুখ। গোয়েন্দারা যা জানতে পারল, তা ছিল কল্পনার বাইরে। ঘটনা শুনে গোয়েন্দারা স্তব্ধ। বিশ্বাস করতে পারছিল না। বুড্ডার তথ্য পেয়ে পুলিশ প্রশাসন শুধু নয়, সরকারের ভিতরেও তখন শুরু হয় তোলপাড়। ১৯৮৬ সালের নভেম্বর। আরিচা ঘাটের টয়লেটের কাছে পার্ক করা আছে একটি প্রাইভেট কার। কুয়াশায় ভিজে আছে গাড়ি। গাড়ির ব্যাকডালা থেকে টপ টপ রক্ত পড়ছে। প্রচন্ড দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে। পরিবহন শ্রমিকদের চোখে পড়ে প্রথম। মালিকবিহীন গাড়িটি পড়ে আছে আগের দিন সন্ধ্যা থেকে। পরদিন দিনের বেলা সেটি থেকে রক্ত পড়ছে। পরিবহন শ্রমিকেরা পুলিশকে খবর দেয়। আসে মানিকগঞ্জের শিবালয় থানা পুলিশ। ব্যাকডালা ভাঙে। ভিতরে পুরুষের লাশ। মাথায় তিনটি পেরেক ঢোকানো। গলায় গুলির মতো ক্ষত। মুখে তুলা গোঁজা। নাক কেটে দেওয়া হয়েছে। পুরো শরীর অ্যাসিডে ঝলসানো। পা দুটি পেছন দিক থেকে ভেঙে কাঠের সঙ্গে শক্ত করে হাতসহ বাঁধা। পরনে মোজা ও একটি অন্তর্বাস। লাশ ছিল বস্তাবন্দী। পিঠমোড়া বাঁধা মৃতদেহটি প্রথমে একটি পলিথিনে মুড়িয়ে দুই মণের চটের বস্তায় ভরে ফুল আঁকা একটি চাদর দিয়ে প্যাক করা ছিল। মৃতদেহটি এতটাই বিকৃত হয়ে আছে, আপনজন ছাড়া আর কেউ লাশটি শনাক্ত করা সম্ভব নয়। সঙ্গে ছিল একটি চিরকুট। চিরকুটে লেখা, এই লাশ নারায়ণগঞ্জের বাচ্চুর। বাচ্চু ভাইকে মারলাম। আরও নয়জনকে খাব। …ইত্যাদি। হ্যাঁ, লাশটি ছিল নারায়ণগঞ্জের নুরু মিয়া চৌধুরী বাচ্চুর। তিনি সেই সময়ে বাংলাদেশের ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে ছিলেন একজন। বাচ্চুর লাশ এমনভাবে উদ্ধার হওয়ায় সারা দেশে এনিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। নারায়ণগঞ্জে হরতাল পালন করা হয়। সকালে একটি ফোন কল পেয়ে ব্যতিব্যস্ত বাচ্চু ধানমন্ডির বাসা থেকে নিজ গাড়ি নিয়ে বের হয়েই নিখোঁজ হন বাচ্চু। সোবহানবাগ এলাকায় ড্রাইভার জাহাঙ্গীরকে নামিয়ে দিয়ে একাই তিনি গাড়ি নিয়ে যান। মোহাম্মদপুরে একটি বাসায় গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন। ওই বাসাটি তিনি কাউকে চেনাতেন না। ড্রাইভারও চিনত না। দুপুরের ভিতর বাসায় ফেরার কথা থাকলেও বাচ্চু ফিরেননি। রাত পেরিয়ে নতুন দিন। সারা দিনেও ফিরেনি। তারপরের দিন তার লাশ মিলে আরিচায়। পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জের ধরে তিনি খুন হতে পারেন বলে পুলিশের ধারণা। থানা পুলিশের পর এ মামলার তদন্ত করে সিআইডি। সিআইডি তদন্তে এগিয়ে না নিতে পারলে তদন্তের ভার দেওয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশকে। গোয়েন্দা পুলিশও হয় ব্যর্থ। নারায়ণগঞ্জের অত্যন্ত প্রভাবশালী বাচ্চুর মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে পুলিশ খুব একটা এগোতে পারে না। আর এ খুন নিয়ে চাঞ্চল্যকর বহু ঘটনার জন্ম দেয়। পত্রপত্রিকায় একের পর এক উড়ো চিঠি পাঠানো হয়। এ নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি না করতেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এভাবেই মাসের পর মাস কাটে। বছর ঘুরে আসামি ধরা পড়ে না। এক বছর পর ধরা পড়ে বুড্ডা। সে স্বীকার বরে, এই আংটি ছিল বাচ্চুর। মোহাম্মদপুরের বাসায় তাকে মাথায় পেরেক ঠুকে হত্যা করা হয়। সেসময় বাচ্চুর আঙ্গুল থেকে খুলে নেওয়া হয় সেই আংটি। সে পুলিশকে জানায়, এর পেছনে ছিল বাচ্চুর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ব্যবসায়িক পার্টনারও। বুড্ডা গ্রেফতারের পর সেই ব্যবসায়ী গাঢাকা দেয়। কিন্তু সে একসময় ধরা পড়ে পুলিশের হাতে। একটি আংটি খুলে দিল চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য। সূত্র বাংলাদেশ প্রতিদিন

শামীম ওসমানের সমাবেশ স্থগিত

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
আগামী ৩ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জে অনুষ্ঠিতব্য নিজ আয়োজিত সমাবেশ স্থগিত ঘোষণা করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সাংসদ আলহাজ¦ এ কে এম শামীম ওসমান। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়ায় আইনজীবী সমিতির নির্বাচনী পরিবেশ পর্যবেক্ষনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এই ঘোষণা দেন তিনি। শামীম ওসমান বলেন, ‘আগামী ৮ ফেব্রুয়ারী বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার রায়কে কেন্দ্র করে অশুভ শক্তি সারাদেশে নাশকতার পাঁয়তারা করছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সেই লক্ষ্যে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারীর সমাবেশটি স্থগিত করা হয়েছে। এখানে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত আছেন। সমাবেশ নিয়ে তাদের সাথেও তেমন ভাবে আলোচনা হয়নি। তাই তাদের সাথে আলোচনা করে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারীর পর সমাবেশের দিনক্ষণ পুনরায় নির্ধারন করা হবে।’ এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের সাংসদ আলহাজ¦ লিয়াকত হোসেন খোকা, সংরক্ষিত আসনের সাংসদ এড. হোসনে আরা বাবলী, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল। এরআগে, গত ২৭ জানুয়ারী ফতুল্লা পৌর ওসমানী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কর্মী সম্মেলনে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারী বৃহৎ সমাবেশ করার ঘোষণা দেন শামীম ওসমান। তিনি বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ ছিল আছে ও থাকবে। এখানে অন্য কেউ কর্তৃত্ব দেখাতে পারবে না। যারা স্বপ্ন দেখছেন আগামীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে না তারা বোকা। আগামীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে এবং শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে। এজনই আমাদের লড়াই। সেজন্যই ঐক্যবদ্ধতা প্রমাণে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারী শহরের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে বৃহৎ সমাবেশ করা হবে। সেখানে আমি সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই, মহানগরের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সেক্রেটারী খোকন সাহা সহ স্বাধীনতার স্বপক্ষের সবাইকে দাওয়াত দিলাম।’ শামীম ওসমান প্রত্যাশা করে এও বলেন, ‘আমি এমন সমাবেশ করতে চাই, যা দেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বুকটা ভরে যায়। তাই আসেন একত্রে বসি, দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখি। গ্রুপিং করতে চাইলে নির্বাচনের পরে করেন। আগে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনেন। যারা আওয়ামী লীগ করে তাদের সঙ্গে আমার কোন বিভেদ থাকবে না। আমাদের দলের সেক্রেটারীর মতে অনেক হাইব্রীড ঢুকে গেছে। তাই আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি তাহলে নারায়ণগঞ্জে তাদের স্থান হবে না।’ তিনি দাবী করে বলেন, ‘যদি কেউ মনে করেন সমাবেশটি হবে নরমাল তাহলে সেটা যথার্থ না। সে কারণেই ৩ ফেব্রুয়ারীর সমাবেশ আমাদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সেদিন অনেক কিছুই বলবো।’

ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ হবে প্রথম প্রহরে

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
মহান বিজয় দিবসে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বীর শহীদদের প্রতি গত বছর প্রভাতে পুস্পস্তর্বক অর্পণ করা হলেও এবছর আগামী ২১ ফেব্রুয়ারী মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরেই শহীদদের স্মরণে নগরীর চাষাড়াস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তর্বক অর্পণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৮ উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসক মো: রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত। সভার শুরুতে প্রথমে ভাষা শহীদদের প্রতি এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়। এরপর শুরু হয় আলোচনা সভা। জেলা প্রশাসক নারায়ণগঞ্জে ভাষা দিবস উদযাপনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশিষ্ট পুলিশ প্রশাসনকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি ২১ ফেব্রুয়ারী দিনব্যাপী ৩ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার নির্দেশনা দেন। রাব্বী মিয়া জানান, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আগামী ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে চিত্রাংক ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ২১ ফেব্রুয়ারী দিবাগত রাত ১২ টা ১ মিনিটে শহীদ মিনারে পুস্পাস্তর্বক অর্পণ করা হবে। প্রভাতে র্যালী এবং বিকেলে নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস্ ক্লাবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো: আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: আব্দুল হামিদ মিয়া, ডিবির অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মো: মনিরুল হক, এনডিসি জ্যোতি চন্দ্র বিকাশ, জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক এম এ রাসেল, এনজিও নেটওয়ার্কসের সাধারন সম্পাদক প্রদীপ কুমার দাস, নারায়ণগঞ্জ কলেজের শারীরিক বিষয়ক শিক্ষক আরিফ মিহির প্রমুখ।

ক্ষমতাশীনরা চেলা-চামুন্ডাদের থামান!

মন্তব্য প্রতিবেদন
হাবিবুর রহমান বাদল
নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দলের চেলা-চামুন্ডারা এখন নারায়ণগঞ্জের হাট, ঘাট, মাঠ থেকে শুরু করে সর্বত্র তাদের দাপটে প্রকৃত ব্যবসায়ীরাও এখন কোনঠাসা। নারায়ণগঞ্জে এমন কোন সেক্টর নেই যে সেক্টরে ক্ষমতাসীদের কর্তৃত্ব নেই। ঝুট ব্যবসা থেকে বালু মহাল, চাঁদাবাজী থেকে টেন্ডারবাজী, অবৈধ ভাবে ভূমি দখল থেকে শুরু করে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী পর্যন্ত ক্ষমতাসীনদের দখলে। এ অবস্থার পরিত্রাণ চায় নারায়ণগঞ্জবাসী। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিবিদদের এব্যাপারে সজাগ হওয়ার সময় এসেছে। কারন অবৈধ ভাবে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে ও নেতাদের পরিচয় বিক্রি করে অর্থবিত্তের মালিক হবে আর দায়-দায়িত্ব গিয়ে পরবে দলের উপর কিংবা ক্ষমতাসীন দলের ঐসব প্রভাবশালী নেতাদের উপর এঅবস্থার অবসানকল্পে দলে দায়িত্বশীল নেতাদের কঠোর হওয়া জরুরী বলে সাধারণ ভোটাররা মনে করে। শুধু তাই নয় হাতেগুনা কিছু লোক দলের ও নেতাদের নাম বিক্রি করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ায় খোদ ক্ষমতাসীন দলের ত্যাগী ও মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার নয় বছরে কাদের অবস্থান উঠা নামা করেছে এটা নগরবাসী ভাল ভাবেই জানে। দলীয় প্রভাবশালী নেতাদের অন্ধকারে রেখে রাতারাতি টোকাই থেকে কোটিপতি বনে যাওয়া এইসব মানুষগুলিকে চিহিৃত করতে না পারলে আগামীতে সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চাইতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। কারাকারা গত নয় বছরে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা তাদের ভাল করেই চিনে এবং জানে। নিজের স্বার্থে এইসব নামধারীরা দলকে সাংগঠনিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এসকল নামধারী ও পদধারী কিছু নেতার অত্যাচারে সাধারণ ভোটররা এখন অতিষ্ট্য হয়ে পড়েছে। আর এমন অবস্থা চলতে থাকলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনেই আওয়ামীলীগের প্রার্থীর বিজয় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, যারা আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নিজেদের স্বার্থ আদায় করতে অথবা অর্থ উপর্জনের জন্য এমপি ও অথবা নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের ঘনিষ্টজন পরিচয়ে তারা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। যদিও এমপি অথবা শীর্ষ নেতারা সরাসরি এ বিষয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অবগত থাকেন না। তবে সাধারণ মানুষের ধারণা যারা এসকল অপকর্ম করছে তাদের সম্পর্কে সবই জানেন এমপি অথবা শীর্ষ নেতারা। তারপরও এদের বিরুদ্ধে তারা কোন প্রকার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। এ অবস্থা পরিবর্তন না হলে ভোটররাও এর জবাব দিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে। অত্যাচারের পৃষ্ট হওয়া সাধারণ মানুষগুলোর হাতে ভোটের ক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচন আসলেই সেই ক্ষমতা ফিরে পাবে সাধারণ মানুষ। তখন এরাই আবার তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন তারা।
তাই নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাশীন ও আওয়ামীলীগের চেলা-চামুন্ডাদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন রাজনৈতি বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, যারা এমপি অথবা দলের শীর্ষ নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে অপকর্ম করছে তারা শুরু সাধারণ মানুষেরই না দলেরও শত্রু। আর শত্রু সর্বদাই ক্ষতি করার অপেক্ষায় থাকে। শত্রুদের চিহিৃত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। নয়তো আগামীতে এর পরিনাম ভাল হবে না। কারণ নির্বাচনী হাওয়া শুরু হয়ে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার থেকে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী সিলেটের ৩টি মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করে দিয়েছেন। এই মূহুর্তে ক্ষমতাশীনরা যদি তাদের চেলা-চামুন্ডাদের শান্ত না করে কিংবা রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার কারণ খুঁজে বের না করেন তবে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক চেহারা পাল্টে গেলে বলার কিছু থাকবে না। অতএব সাধু সাবধান।

মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার দায়িত্ব গ্রহণ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল এন্ড কলেজকে শুধু নারায়ণগঞ্জেই নয় সারাদেশের মধ্যে একটি উন্নত এবং স্বযংসম্পূর্ণ নামিদামী কলেজে রূপান্তরিত করা হবে বলে উল্লেখ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। এ জন্য তিনি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটি, শিক্ষকমন্ডলী এবং শিক্ষার্থীদের সহযোগীতা কামনা করেছেন। সেই লক্ষ্যে স্কুলটির উন্নয়নে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা অনুদান বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি প্রয়োজনে ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্কুল শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের বসার জন্য একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। স্কুলের মূল ফটকের সামনের জায়গায় আগামী জুন মাসের মধ্যেই অভিভাবকদের জন্য ওয়েটিং রুম নির্মাণ করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন। এজন্য বর্তমানে ওই স্থানে থাকা দোকানপাট গুলোতে ব্যবসা পরিচালনাকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সাময়িক সময়ের জন্য জায়গা গুলো ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ রেখেছেন তিনি। এছাড়াও সরকারী অর্থায়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নতুন একটি বহুতল ভবন অথবা বুয়েটের প্রৌকশলী দ্ধারা পুরাতন ভবন পরীক্ষা করে উর্ধমুখী সম্প্রসারনের কথা উল্লেখ করেন।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জেলার শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল এন্ড কলেজ এর নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা উল্লেখ করেছেন। স্কুল পরিচালনা কমিটির নবনির্বাচিত সভাপতি চন্দন শীল এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমপি সেলিম ওসমানের সহধর্মিনী মিসেস নাসরিন ওসমান।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এমপি সেলিম ওসমান আরো বলেন, সবাইকে তোমরা যারা সামনে পরীক্ষা দিবে তারা পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ মোবাইল বা ফেসবুক ব্যবহার করবে না। তোমরা ফেসবুকে কোন প্রকার প্রশ্নপত্র খুঁজার চেষ্টা করবে না। যতটুকুই পারো নিজের মেধায় পরীক্ষায় দিবে। ফলাফল খারাপ হলে প্রয়োজনে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিবে। তবুও অসৎ পন্থা অবলম্বন করবে না। আমরা চাই তোমরা প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হও। জিপিএ-৫ পাওয়াটাই আমার কাছে মূখ্য বিষয় না। সবাই প্রথম হবে এমনতো নয়। যতটুকুই শিখবে তোমাদের মেধা বিকাশের মাধ্যমে। শুধু লেখাপড়াই করলে চলবে না তোমাদেরকে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধূলা ও আনন্দ করতে হবে। এ সময় তিনি স্কুলের সকল শিক্ষার্থীদের নিয়ে শহরের বরফকল এলাকায় চৌরাঙ্গী ফ্যান্টাসি পার্কে কোন একদিন আনন্দ উদযাপন আয়োজন করার ঘোষণা দেন। স্কুল কর্তৃপক্ষকে সেই দিন নির্ধারন করার জন্য অনুরোধ রাখেন তিনি। সেই সাথে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারী মাসে শিক্ষার্থীদের মাঝে আবৃত্তি, নৃত্য ও সংঙ্গীত প্রতিযোগীতার মাধ্যমে গোল্ড মেডেল পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দেন তিনি। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অনেক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন স্কুলের নাকি বেতন বেশি। কিন্তু স্কুলে বর্তমানে ১২ লাখ টাকার ঘাটতি রয়েছে। স্কুলের উন্নয়ন করতে গেলে ভাল সেবা প্রদান করতে গেলে স্কুলে ব্যয় বৃদ্ধি পাবেই। এ বিষয়টি অভিভাবকদের বুঝতে হবে। প্রয়োজনে অভিভাবকদের সাথে বসে আলোচনা করতে হবে। সেই সাথে সেলিম ওসমান স্কুলটির পরিচালনা কমিটি সাবেক সভাপতি কাশেম জামালের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন। আজকে শিক্ষার্থীরা বলছেন কাশেম জামাল সভাপতি হওয়ার পর স্কুলটির উন্নয়ন হয়েছে। সারা বাংলাদেশে মধ্যে পিএসসি পরীক্ষা এই স্কুল থেকে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন রিক্ত রায়। এ জন্য আমি কাশেম জামালকে ধন্যবাদ জানাই। সেই সাথে পিএসসি পরীক্ষায় সারা বাংলাদেশে প্রথম স্থান অধিকার করা রিক্ত রায় নারায়ণগঞ্জের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে মন্তব্য করে, ভবিষ্যতে আরো বড় গৌরব অর্জনের লক্ষ্যে এসএসসি পর্যন্ত লেখা পড়ার করার সম্পূর্ন ব্যয় বহন করার ঘোষণা দিয়ে সহধর্মিনী মিসেস নাসরিন ওসমানকে সেই দায়িত্ব গ্রহনের অনুরোধ করেন এমপি সেলিম ওসমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মিসেস নাসরিন ওসমান রিক্ত রায়ের এসএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত ভবিষ্যত লেখাপড়ার ব্যয় ভার বহনের দায়িত্ব নেন। সেই সাথে তিনি বলেন, স্কুলটির লেখাপড়ার মান, ফলাফল পাশাপাশি খেলাধূলায় কৃতিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি আরো বলেন, এই স্কুলটির প্রতি আমার আলাদা টান রয়েছে। কারণ আমার মেয়ের এসএসসি পরীক্ষার সেন্টার এই স্কুলে পড়ে ছিল। সে সময় অনেকবার আমি এই স্কুলে এসেছি। আমি মাননীয় সাংসদের প্রতি অনুরোধ রাখবো উনি যেন এই স্কুলের উন্নয়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মিসেস নাসরিন ওসমান বলেন, আজকে একদিকে যেমন আনন্দ। অন্য দিকে বেদনা। তোমরা যারা বিদায় নিচ্ছো তাদের একটা জিনিস বুঝতে হবে তোমরা তোমাদের জুনিয়রদের জন্য কি রেখে যাচ্ছো। তোমরা সবাই বড়দের সম্মান করবে শ্রদ্ধা করবে। তোমরা বড়দের সম্মান করলে তোমরা সম্মানিত হবে। মানুষকে সম্মান করার বিষয়টি আমি তোমাদের এমপি সাহেবের কাছ থেকে শিখেছি। উনি মানুষকে অনেক বেশি সম্মান করেন অনেক বেশি ক্ষমা করেন। আমি উনার কাছ থেকেই মানুষকে সম্মান করা শিখেছি। আমি তোমাদের দোয়া করছি আগামীতে তোমরাই দেশের ভবিষ্যত। তোমাদের মধ্য থেকে এমপি মন্ত্রী হবে। তোমরা ভাল করে লেখাপড়া করবে আমরা তোমাদের পাশে আছি। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ কমল কান্তি সাহা, স্কুল পরিচালনা কমিটি সদস্য আব্দুস সালাম, হুমায়ন কবির খান শিল্প সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ সহ স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা সহ দুই সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।