মোহাম্মদ আলী হত্যার ঘটনায় ফেঁসে যাচ্ছেন মামা পলিথিন জাকির

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
সোনারগাঁয়ে রিপন, সাধন ও গোলজার হত্যাসহ প্রায় এক ডজন মামলার আসামী মোহাম্মদ আলী হত্যার ঘটনায় রহস্যের ধূ¤্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে নিহতের মামা ও উপজেলার শীর্ষ নৌ-চাঁদাবাজ জাকির ওরফে পলিথিন জাকিরের সেকেন্ড ইন কমান্ড শামীম সরকারসহ মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করা হলেও শুক্রবার রাত ৮টা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। এদিকে নিহত সন্ত্রাসী মোহাম্মদ আলীর নানা অপকর্মের ব্যাপারে মুখ খুলতে শুরু করেছে স্থানীয় জনসাধারণ। তবে নিহতের স্বজনরা এই হত্যাকান্ডের সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার সাহাপুর গ্রামের মৃত আরজান আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী তার মামা পিরোজপুর ইউনিয়নের কান্দারগাঁও গ্রামের মন্তাজউদ্দিনের ছেলে জাকির হোসেন ওরফে পলিথিন জাকিরের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন যাবত মেঘনা নদীতে চলাচলরত নৌযান থেকে চাঁদাবাজি, গণপরিবহনে ডাকাতি, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীমূলক কার্যকলাপ করে আসছিলো। দুটি হত্যা ও নৌ-চাঁদাবাজীসহ প্রায় ডজনখানেক মামলার আসামী পলিথিন জাকিরের নির্দেশে তার সেকেন্ড ইন কমান্ড শামীম সরকার ও ভাগিনা মোহাম্মদ আলী ২০১২ সালে রিপন হত্যা, ২০১৪ সাথে সাধন হত্যা ও ২০১৫ সালে গোলজার হত্যায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। এ ঘটনায় মোহাম্মদ আলী ও অন্যান্য আসামীদের বিরুদ্ধে ১২/০৭/২০১২ইং তারিখে রিপন হত্যা মামলা (সিআর মামলা নং ২৩৬/২০১২), ১৭/০৬/২০১৪ইং তারিখে সাধন হত্যা মামলা (নং ৯৩) এবং ১১/০৫/২০১৫ইং তারিখে গোলজার হত্যা মামলা (নং ২০) দায়ের করা হয়। এছাড়া মেঘনা নদীতে চাঁদাবাজীসহ অন্যান্য অপরাধের ঘটনায় মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে ১৫/০৬/২০১৪ইং তারিখে একটি চাঁদাবাজী মামলা (নং ৩৭), ১৪/০২/২০১৫ইং তারিখে বজলুর অঙ্গহানী মামলা (নং ৮৫), ১৭/০২/২০১৭ইং তারিখে চাঁদাবাজী মামলা (নং ২০)সহ প্রায় এক ডজন মামলা দায়ের করা হয়। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে উক্ত সাধন হত্যা মামলার রায় হওয়ার কথা রয়েছে। এই মামলার আসামী মোহাম্মদ আলী ও শামীম সরকারকে বাঁচাতে গডফাদার ‘জাকির ওরফে পলিথিন জাকির’ সাধনের পরিবারের সাথে ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ের মিমাংশা করার চুক্তি করেছিলো বলে জানা গেছে। কিন্তু শেষঅব্দি সাধনের পরিবারকে উক্ত টাকা পরিশোধ না করায় এনিয়ে মামা জাকিরের উপর ভাগিনা মোহাম্মদ আলী ক্ষুব্ধ ছিলো। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ৩ জানুয়ারি বুধবার সন্ধ্যায় পিরোজপুর ইউনিয়নের কান্দারগাঁও এলাকায় মামা জাকিরের সাথে ভাগিনা মোহাম্মদ আলীর বাকবিতন্ডা হয়। এসময় মোহাম্মদ আলী মামা জাকিরকে উক্ত টাকা পরিশোধ করে মিমাংশা না করলে তাকেও হত্যা করার হুমকি দেয়। এরপর রাত ১১টার দিকে জাকিরের সেকেন্ড ইন কমান্ড শামীম সরকার মোহাম্মদ আলীকে ডেকে নিয়ে কান্দারগাঁও এলাকায় ইউনিক গ্রুপের নির্জন বালুর মাঠে নিয়ে যায় এবং সেখানে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দিয়ে নিরাপদে সটকে পড়ে। এসময় সন্ত্রাসীরা মোহাম্মদ আলীর উপর হামলা চালিয়ে তাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। এদিকে খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মূমূর্ষ অবস্থায় মোহাম্মদ আলীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত মোহাম্মদ আলীর সাথে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পুলিশ বুধবার রাতেই পিরোজপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোশারফ হোসেন, জসিম উদ্দিন, আব্দুল হামিদ, শহিদুল্লাহ ও হাবিবুর রহমান নামে ৫জনকে গ্রেফতার করে এবং পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে পলিথিন জাকিরের সেকেন্ড ইন কমান্ড শামীম সরকারকে গ্রেফতার করে। এছাড়া শুক্রবার পুলিশ আরো একজনকে গ্রেফতার করলেও তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তার নাম প্রকাশ করেনি।
এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামবাসীরা জানান, জাকির হোসেন ওরফে পলিথিন জাকির মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পিরোজপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি পদ পেয়েছেন। উক্ত পদের জন্য তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন অত্র ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোশারফ হোসেন। ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতির পদকে কেন্দ্র করে তখন থেকেই জাকিরের সাথে মোশারফ মেম্বারের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। আর এই দ্বন্দ্বকে কাজে লাগিয়ে জাকির তার ভাগিনা মোহাম্মদ আলীকে হত্যা করিয়ে মোশারফ মেম্বার ও তার ঘনিষ্ঠজনদেরকে ফাঁসানোর চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুর পূর্বের জবানবন্দী অনুযায়ী পুলিশ জাকিরের সেকেন্ড ইন কমান্ড শামীম সরকারকে গ্রেফতার করায় এখন রহস্যের জট খোলার সময় হয়েছে। পুলিশ এখন শামীম সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই প্রকৃত খুনীরা বেরিয়ে আসবে। আর এতেই ফেঁসে যেতে পারেন উপজেলার শীর্ষ নৌ-চাঁদাবাজ ও আন্ডার ওয়ার্ল্ডের গডফাদার মামা জাকির হোসেন ওরফে পলিথিন জাকির। এ ব্যাপারে সোনারগাঁ থানার ওসি (অপারেশন) আব্দুল জব্বার জানান, মোহাম্মদ আলী হত্যার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শুক্রবার আরো একজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এসময় তিনি গ্রেফতারকৃতের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *