চ্যালেঞ্জের মুখে জাপার প্রার্থী সেলিম-খোকা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে দু’টি আসনে জাতীয় পার্টি ছেড়ে দিয়েছিলো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে এবার সেই ছাড় না দেয়ার পক্ষেই দলটির পক্ষ থেকে জোড়ালো দাবি ওঠে আসছে। প্রথমে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এমন দাবি তুলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর উপস্থিতিতে। এরপর একই দাবি তুলেছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। তাঁদের পাশাপাশি এমন দাবি অ্যাড. খোকন সাহাসহ আরও অনেকেই তুলেছেন। সবার কণ্ঠে একই সুর ছিলো, “নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকার প্রার্থী চাই। নৌকার প্রার্থী ছাড়া আর কাউকেই মেনে নেয়া হবে না।” এদিকে একটু দেরিতে হলেও একই সুরে সুর মিলিয়ে এবার বক্তব্য দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগ সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ। গত বৃহস্পতিবার হকারদের প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে দেয়া এক বক্তব্যে এ নেতা দৃঢ়তার সাথেই বলেছেন, “নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকার প্রার্থী চাই।” এক্ষেত্রে এটুকু এখন অনেকটাই অনুমেয় যে, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতাকর্মীই একজোট নৌকার প্রার্থী প্রশ্নে। আগামী একাদশ নির্বাচনে তাঁরা নিজেদের আসন অন্য কোনো দলের প্রার্থীর হাতে তুলে দিবেন না বা জোটবদ্ধ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ছাড় দিবে না। আর শেষ পর্যন্ত এ ধারা অব্যহত থাকলে জেলার দুই আসনে থাকা জাতীয় পার্টির দুই এমপি’র জন্য নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে থাকাটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠতে পাওে বলে মনে করছেন অনেকে। সূত্র বলছে, দশম জাতীয় সংসদে নারায়ণগঞ্জ (বন্দর-সদর)-৫ আসনটি জাতীয় পার্টি নাসিম ওসমান (প্রয়াত) ও নারায়ণগঞ্জ (সোনারগাঁ)-৩ আসন লিয়াকত হোসেন খোকাকে ছাড় দেয় আওয়ামী লীগ। ফলে এই দুই আসনেই জাপার এমপি এখনও রয়েছে। এরমধ্যে নাসিম ওসমান প্রয়াত হলে তার শূন্য আসনে নির্বাচন করেন তাঁরই ভাই সেলিম ওসমান। বর্তমানে তিনি এই আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আগামীতে জাপা’র এই দুই এমপি যে নির্বাচন করবেন সেটা অনেকটা নিশ্চিত। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যে মনোভাব পোষণ করছেন, এতে করে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে এই দু’টি আসনে ছাড় পাওয়াটা তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে ওঠবে। তাই প্রশ্ন ওঠেছে, শেষতক যদি আওয়ামী লীগ এই দু’টি আসন ছাড় না-ই দেয় তবে, আগামী নির্বাচনে সেলিম ওসমান ও লিয়াকত হোসেন খোকা কী করবেন? স্থানীয়দের মতে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে স্থানীয় জাপা’র এমপিদের অদৃশ্য দূরত্ব দীর্ঘদিন ধরেই সৃষ্টি হয়েছে। এক্ষেত্রে সেলিম ওসমান কিছুটা দূরত্ব ঘুচিয়ে আনলেও লিয়াকত হোসেন খোকা প্রতি মুহূর্তই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। যে কারণে তাঁর প্রতি সন্তুষ্টু নন তৃণমূল আওয়ামী লীগ। আবার সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টির ব্যানারে এমপি নির্বাচিত হলেও তিনি আপদমস্তক আওয়ামী লীগ। এর আগে কখনো সক্রিয় রাজনীতিতে না থাকলেও তিনি বরাবরই আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। সে সুবাধে হয়তো তিনি জাপা ছেড়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হলেও হতে পারেন। এবং এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরাও তাঁকে গ্রহণ করে নিতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকে। তবে মূল সমস্যায় পড়বেন লিয়াকত হোসেন খোকা। কেননা, তিনি শুরু থেকেই জাতীয় পার্টি’র রাজনীতির সাথে জড়িত। আগামীতে নির্বাচনের জন্য দল ছাড়লেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ তাঁকে মেনে নিবে না বলেই অভিমত ব্যক্ত করেছেন অনেকে। ফলে তাঁর শেষ পরিণিতি কী হবে, সে নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *