প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারীকে মানছে না আইভী

ডান্ডিবার্তা রিপোট
সম্প্রতি দলীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী একাদশ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ও যে সকল নেতা বর্তমান এমপিদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছেন তাদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছিলেন। গত ৬ জানুয়ারী গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় সকল স্তরের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক দল। দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে। কিন্তু বর্তমান দলীয় সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে যারা কুৎসা রটাচ্ছে , তাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। কোন নেতা যেন, দলীয় সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে কোন বক্তব্য না দেন। কারন, সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে যদি আওয়ামীলীগের কোন নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন, তাহলে তা সরকারের বিরুদ্ধে বলা হবে।’ এছাড়া দলের মধ্যে কোনো ধরণের কোন্দল সহ্য করা হবে না বলেও সেদিন হুঁশিয়ারী উচ্চারন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। আর এই হুঁশিয়ারী তিনি আওয়ামীলীগের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যেই করেছিলেন বলে জানান কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন নেতা। প্রধানমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারী বার্তা বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই সতর্ক হয়ে যান নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের অনেক নেতা। কিন্তু আওয়ামীলীগের একজন প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি তথা নেত্রী হওয়া সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর সেই হুঁশিয়ারীকে পাত্তাই দেননি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী বলে দাবী করেছেন স্থানীয় আওয়ামীলীগের একাধিক শীর্ষ নেতা। কারন হিসেবে তারা বলেন, ‘শামীম ওসমান আর আইভীর মধ্যকার বিরোধ শুধু নারায়ণগঞ্জবাসী নয়, গোটা দেশবাসীই জানতেন। কিন্তু তারপরেও বিগত ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের দ্বিতীয় মেয়াদের নির্বাচনকে ঘিরে সেই বছরের ২৩ নভেম্বর যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে শামীম ওসমান ও আইভীকে তলব করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে উভয়ের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তি করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন, তারপর থেকে শামীম ওসমান সকল মান অভিমান ভুলে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী আইভীর পক্ষেই নির্বাচনে কাজ করেছিলেন।’ ‘কিন্তু তন্মধ্যেও নির্বাচনের প্রাক্কালে ২৭ নভেম্বর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে নাসিক নির্বাচন নিয়ে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কৌশল নির্ধারণী এক বৈঠকে আইভী শামীম ওসমানের মরহুম ভাষা সৈনিক পিতা এ কে এম শামসুজ্জোহাকে নিয়ে কটু মন্তব্য করেছিলেন বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। আইভী নাকি সেদিন বলেছিল, ‘পারিবারিক ঐতিহ্যের কথাও যদি ওঠে, আমি বলব, তার (শামীম ওসমান) বাবার অবদানের চেয়ে আমার বাবার (আলী আহম্মদ চুনকা) অবদান কম কি ছিল? তার বাবা (শামীম ওসমান) দল করে টাকা কামাই করেছেন। আর আমার বাবা (আলী আহম্মদ চুনকা) দল করে অর্থ-সম্পদ খুঁইয়েছেন।’ ‘এরপরেও আইভীর কটু মন্তব্যে সাময়িক মনক্ষুন্ন হলেও শামীম ওসমান ঠিকই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অমান্য না করে উল্টো আইভীর পক্ষেই নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীদের কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এমনকি শামীম ওসমান আইভীকে ¯েœহের ছোট বোন আখ্যায়িত করে নৌকা প্রতীক সম্বলিত দু’টি শাড়ী উপহার দেয়ার পাশাপাশি নির্বাচনের দিন বেআইনী সত্ত্বেও প্রকাশ্যেই আইভীর নির্বাচনী প্রতীক নৌকার ব্যালটে সীল মেরে সমালোচিত হন।’ ‘তারপর থেকে অদ্যবধি শামীম ওসমানের আইভীর সাথে কোন বিরোধ নেই দাবী করে তার সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এমনকি গত বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত শামীম ওসমানের একমাত্র পুত্র অয়ন ওসমানের বিয়ের দাওয়াত পত্র পর্যন্ত তিনি নিজে নিয়ে আইভীর বাড়ী গিয়েছিলেন। কিন্তু অয়ন ওসমানের বিয়েতে তো আইভী যান ই নি। উপরন্তু সদ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় সাংসদদের বিরুদ্ধে কোন নেতাকে বেফাঁস মন্তব্য করতে হুঁশিয়ারী উচ্চারন করা সত্ত্বেও আইভী শামীম ওসমানের পুত্রের বিয়ের খরচ নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়েছেন।’ যা কিনা প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারীকে আইভীর ড্যামকেয়ার বলে দাবী করেন শামীম ওসমানের অনুসারী নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা। কেননা, ‘গত ৯ জানুয়ারী দ্বিতীয় মেয়াদে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে জিমখানা লেকে স্বচ্ছাতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরনে আয়োজিত ‘জনতার মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা: সেলিনা হায়াত আইভী বক্তব্যকালে বলেছিলেন, ‘এমপি শামীম ওসমান হকারদের জন্য মায়াকান্না করেন। দুবাইতে কোটি কোটি টাকা পাচার করছেন। তিনি যদি তার পুত্রের বিয়েতে ২৫ কোটি টাকা খরচ করতে পারেন, তাহলে রাজউকের নামে দখলকৃত জমিতেও তো হকারদের জন্য কয়েকটি মার্কেট নির্মান করে দিতে পারেন।’ আর আইভীর এহেন বেফাঁস মন্তব্যে আবারো দৃশ্যমান হয়ে উঠে শামীম ওসমানের সাথে আইভীর মধ্যকার দ্বন্দের। উত্তপ্ত হয়ে উঠে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গন। কিন্তু সম্প্রতি দলীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দেয়া হুঁশিয়ারী সম্পর্কে অবগত ছিলেন কিনা, জানতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *