ফাউন্ডেশনের পুরো এলাকায় বর্নাঢ্যভাবে সাজানো হয়েছে

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন চত্বরে আগামীকাল রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী লোক কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব। মেলা উপলক্ষে ইতিমধ্যে ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ সকল প্রস্তুতি শেষ করেছেন। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুজ্জামন নূর এমপি। ফাউন্ডেশনের পরিচালক কবি রবীন্দ্র গোপের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ইব্রাহিম হোসেন খাঁন, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া প্রমুখ। গতকাল শুক্রবার সকালে ফাউন্ডেশনের লাইব্রেরী মিলনায়তনে সাংবাদিক সম্মেলনে ফাউন্ডেশনের পরিচালক কবি রবীন্দ্র গোপ এসব কথা সাংবাদিকদের জানান। তিনি আরো জানান, এবারের মেলার আকর্ষণ গ্রামীন লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম মাধ্যম “কাঠের কারুশিল্পের প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন” শিরোনামে বিশেষ প্রদর্শনী। প্রদর্শনী উপলক্ষে গবেষনামূলক একটি ক্যাটালগ প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহন করেছেন ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ। এবারের মেলায় বাজেট ধরা হয়েছে ৭০ লাখ টাকা। অন্যান্য বছরের মতো এবছরও মেলা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোড়দার করা হয়েছে। এদিকে মেলা উপলক্ষে মেলা চত্বরে চলছে নানা প্রস্তুতি। ফাউন্ডেশনের পুরো এলাকায় বর্নাঢ্যভাবে সাজানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, সকাল ১১টায় ফাউন্ডেশন চত্বরে সোনারতরী লোকজ মঞ্চে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধান অতিথি মন্ত্রী আসাদুজ্জামন নূর এমপি। মেলা চত্বর প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। আগামীকাল রবিবার থেকে শুরু হওয়া মেলা চলবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। ফাউন্ডেশন সূূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের পল্লী অঞ্চল থেকে ৬০জন কারুশিল্পী মেলায় প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন। তাদের জন্য ফ্রি ৩০টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঝিনাইদহ ও মা-রার শোলা শিল্প, রাজশাহীর শখের হাড়ি, চট্টগ্রামের নক্শি পাখা, রংপুরের শতরঞ্জি, সোনারগাঁয়ের হাতি ঘোড়া পুতুল ও কাঠের কারুশিল্প, নক্শিকাঁথা, নক্শি হাতপাখা, মুন্সিগঞ্জের শীতল পাটি, মানিকগঞ্জের তামা-কাঁসা পিতলের কারুশিল্প, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর কারু পণ্য, কিশোরগঞ্জের টেরা কোটা শিল্প, সোনারগাঁয়ের পাটের কারুশিল্প, নাটোরের শোলার মুখোস শিল্প, মুন্সিগঞ্জের পটচিত্র, ঢাকার কাগজের হস্ত শিল্পসহ মোট ১৮০টি স্টল থাকছে। এছাড়াও লোক কারু শিল্প মেলা ও লোকজউৎসবে বাউলগান, পালাগান, কবিগান, ভাওয়াইয়া ও ভাটিয়ালী গান, জারি-সারি ও হাছন রাজার গান, লালন সংগীত, মাইজভান্ডারী গান, মুর্শিদী গান, আলকাপ গান, গাঁয়ে হলুদের গান, বান্দরবান, বিরিশিরি, কমলগঞ্জের-মণিপুরী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শরিয়ত-মারফতি গান, ছড়া পাঠের আসর, পুঁথিপাঠ, গ্রামীণ খেলা, লাঠি খেলা, দোক খেলা, ঘুড়ি ওড়ানো, লোকজ জীবন প্রদর্শনী, লোকজ গল্প বলা, পিঠা প্রদর্শনী ইত্যাদি থাকবে। সরজমিনে গতকাল শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের মেলার মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ইতোমধ্যে মেলার বিভিন্ন স্টলের দোকানীরা তাদের পণ্য সাজাতে শুরু করেছেন। এছাড়া মেলার মুড়ি, মুরকির দোকান সাজিয়ে বসেছেন। যারা এখনও স্টল সাজাতে পারেননি তারা দোকান সাজানোর জন্য ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিন থাকার কারনে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের দর্শনার্থীদের ভীড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ফাউন্ডেশনে আগত দর্শনার্থীরা মেলা উদ্বোধনের একদিন আগেই তাদের কেনাকাটা সেরে নিয়েছেন। এ বিষয়ে ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক রবিউল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে মেলার প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। বাংলাদেশের লোক ও কারুশিল্পের ঐতিহ্য, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিলুপ্ত প্রায় লোকজ ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, গবেষণা, প্রদর্শন এবং পুনরুজ্জীবন এ মেলার মূল উদ্দেশ্য। আগত দর্শনার্থিদের যাতে কোন প্রকার কষ্ট না হয় আমরা পর্যাপ্ত পরিমান নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহন করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *