বিএনপির কর্মীসভা স্থগিত করার বিষয়টি পূর্ব পরিকল্পিত

ডান্ডিবার্তা রিপোট
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠিত করার লক্ষ্যে এবং নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি’র কর্মী সম্মেলন নিয়ে নেতারা কর্মী সমর্থকদের সাথে উপহাস করায় ক্ষোভে ফেটে পরছে নেতাকর্মীরা। ১৩ ও ২০ জানুয়ারী সিনেট নির্বাচন জানার পরও এ দুটি দিনকে চুড়ান্ত করায় শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তৃণমূল মনে করে, কর্মী সম্মেলন স্থগিত করার বিষয়টি পূর্ব পরিকল্পিত, নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করতে এমনটা করা হয়েছে। এদিকে, ১৩ জানুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র কর্মী সম্মেলন স্থগিত হওয়ার পর অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র ২০ তারিখের কর্মী সভাও। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সিনেট নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ভোট গ্রহন ১৩ তারিখে অনুষ্ঠিত হওয়ার কারনে স্থগিত করা হয়েছে জেলা বিএনপি’র কর্মী সভা। সেই সিনেট নির্বাচনে ঢাকার ভোট গ্রহন ২০ জুনুয়ারী নির্ধারিত হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে মহানগর বিএনপি’র কর্মী সভাও আয়োজিত হচ্ছে না। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, ১৩ জানুয়ারী সিনেট নির্বাচনের বিষয়টি আমরা জানতাম। আমরা আলোচনায় প্রসঙ্গটি এনেছিলামও। কিন্তু আমাদের টিম লিডার বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ বলেছিলেন, ১৩ ও ২০ জানুয়ারী ছাড়া তার হাতে আর কোন তারিখ নেই। তাই সে মিটিংয়ে উপস্থিত সকলের সম্মতিতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেউ না। এখন কর্মী সম্মেলন স্থগিত হয়েছে, সেটাতেও আমাদের কোন হাত নেই। আমাদের টিমের দ্বিতীয় প্রধাণ ব্যক্তি বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন সিনেট নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মওদুদ সাহেবকে অনুরোধ করেছেন, তখন ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ আমাদেরকে ফোন করে স্থগিত করার বিষয়টি জানিয়েছেন। আগামী ২০ জানুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র কর্মী সম্মেলনও নির্দিষ্ট সময়ে হচ্ছে না জানিয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন, সিনেট নির্বাচনের বিষয়টি আমরা জানতাম। কিন্তু এ নির্বাচনটাতো সার্বজনীন না, সবাই এতে অংশগ্রহনও করেনা। তাই তখন এটা আমরা এতটা গুরুত্বের সাথে দেখিনি। এখন আমরা আমাদের টিম লিডার ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদসহ টিমের অন্যান্য সদস্যদের সাথে কথা বলবো, আলোচনা করবো। তাদের পরামর্শ মতো পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে, তবে দু’একদিন এদিক ওদিক হতে পারে। সূত্রে প্রকাশ, দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থাকার ফলে সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের অবস্থাও নাজেহাল। সরকারী দলের মামলা হামলায় জর্জরিত হয়ে ঘর বাড়ি ছেড়ে যাযাবর জীবন যাপণ করছে। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মাঠ পর্যায়ের এসব তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে দলকে সাংগঠনিকভাবে গতিশীল করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি টিম সারাদেশে ঘুরে বেড়াবে। আর নারায়ণগঞ্জ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত টিম লিডার হচ্ছেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ। এ লক্ষ্যে ১৩ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি ও ২০ জানুয়ারী আয়োজিত নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র কর্মী সম্মেলনে প্রধাণ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিলো ব্যারিষ্টার মওদুদের। যদিও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারীতে কমিটি গঠনের পর মে মাসে কর্মীসভার আয়োজন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি। কিন্তু আয়োজনের দুর্বলতার কারনে দুটি সভাতেই চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। দায়িত্ব পাওয়ার পর সর্বপ্রথম জেলা বিএনপি’র বড় আয়োজন কর্মীসভার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিলো নতুন কোর্ট এলাকায় অবস্থিত হিমালয় চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে। এতো ছোট পরিসরে জেলা বিএনপি’র মতো একটি বৃহৎ সংগঠনের কর্মীসভার আয়োজনের কারনে নেতাকর্মীদের স্থান সংকৃলানের ব্যবস্থা করতে পারেনি আয়োজকরা। তাছাড়া জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ^াস সে অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের দ্বারা লাঞ্ছিত হন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই ঘটে এসকল অপ্রীতিকর ঘটনা। প্রসঙ্গত, জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার দ্রুত সাজা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। তাই উদ্ভূত ওই পরিস্থিতি মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে বিএনপির ৭৭ সাংগঠনিক টিম জেলা সফর শুরু করেছেন। এর মূল উদ্দেশ্য আন্দোলনের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত রাখা। দলের নীতিনির্ধারণী সূত্র বলছে, নির্বাচনের বছর আগে সাংগঠনিক টিমগুলোর এ সফর থেকে নির্বাচনী আসনভিত্তিক একটি ধারণা পাওয়া যাবে। সফর শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিবেদন দলীয় চেয়ারপার্সনকে দিতে বলা হয়েছে। প্রতি টিম প্রধানকে দেয়া বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছেÑ ‘দেশব্যাপী জেলা ও মহানগর পর্যায়ে কর্মীসভার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধির জন্য এই সভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সভা সাফল্যমন্ডিত করতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত টিম সারা দেশের জেলা/মহানগরে সাংগঠনিক সফরের জন্য আপনাকে দলনেতা করে টিম গঠন করা হয়েছে। কর্মীসভা সাফল্যমন্ডিত করতে আপনার নেতৃত্বে গঠিত টিমকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশিত হয়ে অনুরোধ করছি।’ চিঠি সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট জেলা বা মহানগর এলাকার কেন্দ্রীয় নেতা, সংশ্লিষ্ট কমিটির কর্মকর্তা ও সদস্য, সাবেক এমপি, বিগত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, পৌর মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান, অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মওদুদ আহম্মেদকে প্রধান করে নারায়ণগঞ্জ জেলায় সাংগঠনিক সফরের জন্য একটি টিম গঠন করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এই টিমের অন্যান্য সদস্যরা হলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এড. আব্দুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদরুজ্জামান খসরু, কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য সাবেক সাংসদ আলহাজ¦ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ, শাহ আলম, সাবেক সাংসদ অধ্যাপক রেজাউল করিম, আজহারুল ইসলাম মান্নান ও মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম, সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল। আর এই কর্মীসভা সফলের লক্ষ্যে গত ২৪ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দদের সাথে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলার সাংগঠনিক টিমের প্রধান ব্যারিষ্টার মওদুদ আহম্মেদ। পরবর্তীতে আবারো নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করে ১৩ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি ও ২০ জানুয়ারী মহানগর এিনপির কর্মী সভার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেছিলেন ব্যারিষ্টার মওদুদ আহম্মেদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *