মেয়র আইভী ও পুলিশ প্রশাসন বামদের কাছে জিম্মি?

বিশেষ প্রতিবেদন
হাবিবুর রহমান বাদল
নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ণে সরকার যখন একের পর এক প্রকল্প গ্রহণ করছেন, যখন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারায়নগঞ্জের উন্নয়ণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে একের পর এক প্রকল্পের অনুমোদন দিচ্ছেন তখন নারায়ণগঞ্জের একটি চিহ্নিত মহল নারায়ণগঞ্জকে উত্তপ্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর এর পিছনে ইন্ধন দিচ্ছে রাজনীতিতে পরিত্যক্ত এক বিশেষ ব্যক্তি। গত এক বছর নারায়ণগঞ্জ ছিল শান্ত। রাজনৈতিক হানাহানিতো দুরের কথা ক্ষমতাশীন এমনকি বিরোধী দল বিএনপি মধ্যে শত কোন্দল থাকা সত্বেও তার বহিঃপ্রকাশ খুব একটা দৃশ্যমান হয়নি। নেতায় নেতায় কোন্দল আর রেশারেশী চললেও তার প্রভাব দলীয় কর্মী কিংবা সাধারণ মানুষের মাঝে পড়েনি। হঠাৎ করে হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের বাম রাজনীতিকরা শহরকে উত্তপ্ত করার জন্য মাঠে নেমেছে বলে নগরবাসীর স্পষ্ট বক্তব্য। হকার মুক্ত নারায়ণগঞ্জ উপহার দেওয়ার পর নগরবাসী পুলিশ প্রশাসনকে অনেকটা প্রকাশ্যে ধন্যাবাদ জানিয়েছে। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে। নারায়ণগঞ্জের জঞ্জাল পরিস্কার করায় জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনকেও সাধুবাদ দিয়েছে নগরবাসী। শুধু তাই নয় সাংসদ শামীম ওসমান ও সাংসদ সেলিম ওসমান হকারদের উচ্ছেদে অনেকটা মৌন সমর্থন জানিয়েছিল। সাংসদ সেলিম ওসমান প্রকাশ্যেই বিবৃতি দিয়ে সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। যদিও উচ্ছেদের পুরো প্রক্রিয়টি সম্পন্ন করেছে পুলিশ প্রশাসন। তারপরও মেয়র আইভীর হকার উচ্ছেদ প্রশ্নে দৃঢ়তা ও সাহসী পদক্ষেপের কারণে বাহবা কুড়িয়েছেন নগরবাসীর। নারায়ণগঞ্জ যখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। তখন ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করে জেলা পুলিশ ও সিটি করপোরেশন নারায়ণগঞ্জকে নগরবাসীর চলাচলের উপযোগি করে তুলে। এ অবস্থায় গত ৯ জানুয়ারি মেয়র আইভীর দায়িত্ব গ্রহণের দিনে জনতার মুখোমুখি অনুষ্ঠানে শামীম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে কিছু মন্তব্য ক্ষমতাশীন দলের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াতে সহায়ক ভুমিকা পালন করে। যদিও একই অনুষ্ঠানে মেয়র আইভী কিছু অপ্রিয় সত্য কথা বলে ব্যক্তি বিশেষের মুখোশ খুলে দিয়েছেন। আর এর পর থেকে চলছে ক্ষমতাসীন দলের দুই গ্রুপে বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য। আর এই সুযোগে তৃতীয় পক্ষটি নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়ে পড়েছেন। অপর দিকে নারায়ণগঞ্জে হাতেগুনা কিছু বাম ঘড়ানার লোক রয়েছে যারা নিজেদের বলে বেড়ায় গরীবের বন্ধু, বাস্তবে তারা অধিকাংশই বিভিন্ন কায়দায় শ্রমিক ও মেহনতি মানুষকে ব্যবহার করে কোটিপতি বনে গেছে। এইসব বাম ঘড়ানার হাতেগুনা কিছু নেতা সকাল বিকাল হকারদের ব্যবহার করে শহর উত্তপ্ত করে তুলেছে। এরাই নাকি আবার মেয়র আইভীর কাছের লোক। যদিও মেয়র আইভী স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, শহরের ফুটপাতে কোন হকার বসতে পারবেনা। এই হকারদের সিটি করপোরেশন পূর্নবাসন করেছিল। কিন্তু তারা হকার মার্কেটে নিজেদের দোকান বিক্রি করে জনতার পথ দখল করে বসে আছে। এখন বলছে তাদের পেটে নাকি লাথি পড়েছে। হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাম নেতারা শুধু ক্ষমতাশীন দলে বিরোধই সৃষ্টি করেনি বরং গত বৃহস্পতিবার শহীদ মিনারে অনশনের নামে প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেছে। অথচ প্রশাসন এইসব বাম নেতাদের বিষয়ে রহস্যজনক কারণে আইনগত কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এদিকে হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাশীন দলে বিরোধের সুযোগে আবার হকাররা ফুটপাত দখলের পায়তারা করছে। মীরজুমলা সড়কে ইতিমধ্যে দোকান বসা শুরু হয়ে গেছে। সনাতন পাল লেনের ১ নং রেল গেইট থেকে ২নং রেল গেইট পর্যন্ত রেল লাইন ঘেষে শত শত দোকান বসেছে। প্রতিরাতে চাঁদা উঠছে হাজার হাজার টাকা। কারা তুলছে এই চাঁদা আর কেনই বা পুলিশ ও সিটি করপোরেশন গুরুত্ব হারিয়ে ফেলতে শুরু করেছে হকার উচ্ছেদে এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে নগরবাসীর মনে। অনেকে প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে, তবে কি মেয়র আইভী ও পুলিশ প্রশাসন বাম ঘড়ানার হাতেগুনা কয়েক জন নেতার কাছে জিম্মি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *