আজ : মঙ্গলবার: ৮ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ইং | ২ জমাদিউস-সানি ১৪৩৯ হিজরী | ভোর ৫:৫৪
fevro
শিরোনাম
3

না’গঞ্জে প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ হবে কবে?

Badal-nj | ২৪ জানুয়ারি, ২০১৮ | ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

বিশেষ প্রতিবেদন
হাবিবুর রহমান বাদল
ক্ষমতাসীন দলের কোন্দলের কারণে নারায়ণগঞ্জে দু’টি আসন হারাতে পারে আওয়ামীলীগ। ৪ দশকের কোন্দল গত এক বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে শান্ত হলেও হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে আবারও কোন্দল মাথা চড়াও দিয়ে উঠেছে। এবার প্রকাশ্যে দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েছে শহরের ক্ষমতাসীন দলের দু’টি অংশ। চলতি বছরেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর নির্বাচনের বছরে ক্ষমতাশীন দলের শহর কেন্দ্রিক দুই প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান ও সেলিনা হায়াত আইভী যেভাবে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে তাতে আগামী নির্বাচনে বিরোধী দল বিএনপি এর ফসল তুলতে পারে বলে দলের নেতা-কর্মীদের ধারণা। গত মঙ্গলবার হকারদের সাথে আইভী পন্থিদের সংঘর্ষ ও পড়ে শামীম ওসমানের সমর্থকরা এ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার নেপথ্যে একটি বিশেষ মহল কাজ করছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। কারণ মেয়র আইভী ঘটনার পরও একাধিকবার বলেছেন, তিনি সাংবাদিকদের সাথে আলাপ করার জন্য প্রেসক্লাবে যাচ্ছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো প্রেসক্লাব থেকে শতগজ উত্তরে অর্থাৎ চাষাঢ়ার কাছাকাছি যাওয়ার পথে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ঘটে। সদ্য পদোন্নতী পাওয়া পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান সংবাদ কর্মীদের ঘটনার পর বলেছেন, কিছু লোক অনেকটা জোর করে মেয়র আইভীকে চাষাঢ়ার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। এদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দারকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটি গত বৃহস্পতিবার থেকে তদন্ত কাজ শুরুর পর বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র ও একাধিক লোকের সাথে আলাপ করে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য পেয়েছে। কারা কারা জোর পূর্বক মেয়র আইভীকে চাষাঢ়ার দিকে ঠেলে নেয়ার চেষ্টা করেছেন। সংঘর্ষের সূত্রপাত কিভাবে ঘটলো আর কারাই বা আগে সংঘর্ষ শুরু করলো এ থেকে শুরু করে সংঘর্ষ কালে নূর মসজিদের নিকট কারা একাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে এবং কারা কারা সংঘর্ষকালে অস্ত্র ব্যবহার করেছে সব তথ্যই এখন গোয়েন্দাদের হাতে। গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছে বর্তমান সরকারের ইমেজ নষ্টের উদ্দেশ্যে একটি মহল অনেকটা অযাচিত কারণে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটায়। সংঘর্ষকালে অন্তত পনেরজন আগ্নেআস্ত্র ব্যবহার করে। যাদের ১২জনকে ইতিমধ্যে চিহিৃত করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার আগে ও পরে মিডিয়ার একটি অংশকে বিশেষ কায়দায় ম্যানেজ করা হয়। শামীম ওসমান এ সংঘর্ষের জন্য দায়ি এটাই প্রমানের চেষ্টা চলে। শুধু তাই নয়, শুধু মাত্র নিয়াজুলের অস্ত্রের ছবি ছাড়া অন্যকোন ছবি যাতে মিডিয়াতে প্রকাশ না পায় এ জন্য একজন নাটের গুরু ছবি অপ্রকাশের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করেন। উক্ত নাটের গুরু পর্দার অন্তরালে থেকে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন অপকর্মের উৎসাহ যোগান বলে গোয়েন্দা সংস্থার হাতে প্রমাণ এসেছে। এদিকে পুলিশের পক্ষ হতে দাবি করা হয়েছে সংঘর্ষের দিন দুপুরে একাধিকবার মেয়র আইভীকে নগরভবন ছেড়ে প্রেসক্লাবে না যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত কমিটির একজন কর্মকর্তা জানান, গত মঙ্গলবার সংঘর্ষের ঘটনার পর ভিডিও ফুটেজ দেখে নানা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে ঘটনার দিন মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী চাষাড়ার দিকে আসতে না চাইলেও বেশকজন ব্যক্তি আইভীকে টেনে টেনে সায়াম প্লাজার সামনে নিয়ে আসে। ফলশ্রুতিতে যা ঘটার তাই ঘটেছে। ওই সময় আওয়ামীলীগের বেশকজন নেতাও আইভী সহ নেতাকর্মীদের ঘুরিয়ে নেয়ার চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছেন। আইভীর ওই মিছিলে বাম ঘরণার বেশকজন নেতাকেও দেখা গেছে। মিছিলে ছিলেন যাদের মধ্যে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের নেতা মাহবুবুর রহমান মাসুম, আওলাদ হোসেন, শরিফ উদ্দিন সবুজ অন্যতম। আইভীকে টেনে নিয়ে আসার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্তি পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন,‘আমরা আগে মেয়রকে জানিয়েছিলাম। তবে তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা তাকে ঠেলে নিয়ে আসে।’ গত মঙ্গলবার সকাল থেকেই মেয়রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল মেয়র নগর ভবন থেকে চাষাঢ়া প্রেস ক্লাবের সামনে আসবেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন। এর আগে তিন হেঁটে হেঁটে সাধারণ মানুষ ও হকারদের বুঝানোর চেষ্টা করবেন। কিন্তু ওইদিন বামঘরণার কিছু নেতা ও অতি উৎসাহি কিছু লোকজন আইভীকে সায়াম প্লাজা পর্যন্ত টেনে নিয়ে আসেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ও সহ-সভাপতি আবদুল কাদির আইভীকে মুক্তি জেনারেল হাসপাতালের সামনে থেকেই প্রেস ক্লাবের দিকে ঘুরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তারা পারেননি। কারণ বামঘরণার নেতা ও অতি উৎসাহি লোকজন আইভীকে ঠেলে ঠেলে সায়াম প্লাজার সামনে টেনে নিয়ে আসেন। আইভীর সঙ্গে বিএনপির বেশকজন পরিচিতমুখ নেতাদেরকেও দেখা গেছে। আর বামপন্থী যে সব নেতা আইভীকে ঠেলে ঠেলে নিয়ে আসেন তারা মূলত এমপি শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে নিয়মিত নানা ইস্যু তৈরি করে বক্তব্য দিয়ে থাকেন। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, তাদের কাজের অনেক অগ্রগতি হয়েছে আগামী রবিবারের মধ্যে তারা তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে পারবেন বলে আশা করছেন। অপর একটি সূত্র জানায়, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট ও শামীম ওসমানকে সন্ত্রাসী হিসাবে চিহ্নিত করে আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসীদের লালন পালন করে এটাই প্রতিপক্ষ মহলের উদ্দেশ্য ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *