আজ : মঙ্গলবার: ৮ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ইং | ২ জমাদিউস-সানি ১৪৩৯ হিজরী | ভোর ৫:৫৪
fevro
শিরোনাম
19

ক্ষমতাশীনরা চেলা-চামুন্ডাদের থামান!

Badal-nj | ৩১ জানুয়ারি, ২০১৮ | ১২:৪৬ অপরাহ্ণ

মন্তব্য প্রতিবেদন
হাবিবুর রহমান বাদল
নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দলের চেলা-চামুন্ডারা এখন নারায়ণগঞ্জের হাট, ঘাট, মাঠ থেকে শুরু করে সর্বত্র তাদের দাপটে প্রকৃত ব্যবসায়ীরাও এখন কোনঠাসা। নারায়ণগঞ্জে এমন কোন সেক্টর নেই যে সেক্টরে ক্ষমতাসীদের কর্তৃত্ব নেই। ঝুট ব্যবসা থেকে বালু মহাল, চাঁদাবাজী থেকে টেন্ডারবাজী, অবৈধ ভাবে ভূমি দখল থেকে শুরু করে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী পর্যন্ত ক্ষমতাসীনদের দখলে। এ অবস্থার পরিত্রাণ চায় নারায়ণগঞ্জবাসী। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিবিদদের এব্যাপারে সজাগ হওয়ার সময় এসেছে। কারন অবৈধ ভাবে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে ও নেতাদের পরিচয় বিক্রি করে অর্থবিত্তের মালিক হবে আর দায়-দায়িত্ব গিয়ে পরবে দলের উপর কিংবা ক্ষমতাসীন দলের ঐসব প্রভাবশালী নেতাদের উপর এঅবস্থার অবসানকল্পে দলে দায়িত্বশীল নেতাদের কঠোর হওয়া জরুরী বলে সাধারণ ভোটাররা মনে করে। শুধু তাই নয় হাতেগুনা কিছু লোক দলের ও নেতাদের নাম বিক্রি করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ায় খোদ ক্ষমতাসীন দলের ত্যাগী ও মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার নয় বছরে কাদের অবস্থান উঠা নামা করেছে এটা নগরবাসী ভাল ভাবেই জানে। দলীয় প্রভাবশালী নেতাদের অন্ধকারে রেখে রাতারাতি টোকাই থেকে কোটিপতি বনে যাওয়া এইসব মানুষগুলিকে চিহিৃত করতে না পারলে আগামীতে সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চাইতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। কারাকারা গত নয় বছরে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা তাদের ভাল করেই চিনে এবং জানে। নিজের স্বার্থে এইসব নামধারীরা দলকে সাংগঠনিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এসকল নামধারী ও পদধারী কিছু নেতার অত্যাচারে সাধারণ ভোটররা এখন অতিষ্ট্য হয়ে পড়েছে। আর এমন অবস্থা চলতে থাকলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনেই আওয়ামীলীগের প্রার্থীর বিজয় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, যারা আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নিজেদের স্বার্থ আদায় করতে অথবা অর্থ উপর্জনের জন্য এমপি ও অথবা নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের ঘনিষ্টজন পরিচয়ে তারা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। যদিও এমপি অথবা শীর্ষ নেতারা সরাসরি এ বিষয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অবগত থাকেন না। তবে সাধারণ মানুষের ধারণা যারা এসকল অপকর্ম করছে তাদের সম্পর্কে সবই জানেন এমপি অথবা শীর্ষ নেতারা। তারপরও এদের বিরুদ্ধে তারা কোন প্রকার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। এ অবস্থা পরিবর্তন না হলে ভোটররাও এর জবাব দিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে। অত্যাচারের পৃষ্ট হওয়া সাধারণ মানুষগুলোর হাতে ভোটের ক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচন আসলেই সেই ক্ষমতা ফিরে পাবে সাধারণ মানুষ। তখন এরাই আবার তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন তারা।
তাই নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাশীন ও আওয়ামীলীগের চেলা-চামুন্ডাদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন রাজনৈতি বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, যারা এমপি অথবা দলের শীর্ষ নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে অপকর্ম করছে তারা শুরু সাধারণ মানুষেরই না দলেরও শত্রু। আর শত্রু সর্বদাই ক্ষতি করার অপেক্ষায় থাকে। শত্রুদের চিহিৃত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। নয়তো আগামীতে এর পরিনাম ভাল হবে না। কারণ নির্বাচনী হাওয়া শুরু হয়ে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার থেকে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী সিলেটের ৩টি মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করে দিয়েছেন। এই মূহুর্তে ক্ষমতাশীনরা যদি তাদের চেলা-চামুন্ডাদের শান্ত না করে কিংবা রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার কারণ খুঁজে বের না করেন তবে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক চেহারা পাল্টে গেলে বলার কিছু থাকবে না। অতএব সাধু সাবধান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *