আজ : মঙ্গলবার: ৮ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ইং | ২ জমাদিউস-সানি ১৪৩৯ হিজরী | ভোর ৫:৫১
fevro
শিরোনাম

নারায়ণগঞ্জে নাশকতা রোধে প্রস্তুত প্রশাসন

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

চলতি বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের জঙ্গিরাসহ সরকার উৎখাতের প্রচেষ্টাকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। দেশে অরাজকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তারা নানা পরিকল্পনা করছে বলে একাধিক গোয়েন্দা সূত্রে জানাগেছে। আর পরিকল্পনাকারীদের মূল টার্গেট রাজধানী ঢাকাকে অচল করে দেওয়া। ঢাকার সীমান্তবর্র্তী ও শিল্প এলাকা নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করার প্রস্তুতিও চলছে এই মহলটির। জঙ্গিদের পাশাপাশি জামাত-শিবিরের ক্যাডাররাও নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মরণ কামড় দেওয়ার অপেক্ষা রয়েছে। চলছে গোপনে গোপনে তাদের প্রস্তুতি। এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানে নারায়ণগঞ্জ থেকে একাধিক জঙ্গি সদস্য ও জামাত-শিবিরের গ্রেফতার হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কারাগারে যাওয়ার পর এ পর্যন্ত বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অচিরেই জোটগত ভাবে আন্দোলনে কর্মসূচী দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধিন ২০ দলীয় জোটের। ইতিমধ্যে ২০ দলীয় জোটের যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে সেই বৈঠকে জামাত উপস্থিত ছিল। জামাতের সংশ্লিষ্টতার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আবার নড়েচড়ে বসেছে। কারণ গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচন বয়কটের ঘোষনা দিলে দেশ ব্যাপী সহিংস ঘটনা ঘটে। যার সিংহ ভাগের সাথে জামাত-শিবির প্রত্যক্ষ জরিত থাকলেও বিএনপির কাঁধে দায় চাপে। তাই আবারো যাতে বিএনপির কাঁধে ভর করে আবারো জামাত-শিবির দেশে নাশকতা চালাতে পারে এমন পরিকল্পনার আলামত পেয়েছেন গোয়েন্দারা। যে কারণে জামাত-শিবির নারায়ণগঞ্জে অনেকটাই নিশ্চুপ। তারা ভিন্ন কায়দায় এগুতে চাইছেন বলে জামাতের সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র স্বীকার করেছে। এর ক্ষেত্র হিসেবে জামাত-শিবির নারায়ণগঞ্জের হাতে গুনা কয়েকটি মিডিয়াকে আর্থিক ভাবে সহায়তা করে তাদের পক্ষে সংবাদ প্রকাশ না করলেও ভিন্ন কায়দায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি অন্যদিকে ধাবিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এব্যাপারে বিএনপির একাধিক নেতা নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, নারায়ণগঞ্জে যাতে জামাত-শিবির কোন অবস্থাতেই আন্দোলনে সম্পৃক্ত হতে না পারে আমরা সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছি। কারণ জামাত-শিবির নাশকতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। আর আমরা যারা বিএনপি করি তারা গনতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী বলে উক্ত বিএনপির নেতারা দাবী করে বলেন, রহস্য জনক কারণে আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে গেলেও আমাদের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে গায়েবি মামলা হয়েছে। আর যারা নাশকতায় অভ্যস্থ সেই সব জামাত-শিবির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এখনও কোন মামলা হয়নি। তবে নারায়ণগঞ্জে যেকোন নাশকতা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত বলে পুলিশ সুপার মঈনুল হক জানিয়েছে। গতকাল বিকেলে পুলিশ লাইনে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে গাড়ি উপহার প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলেন, চলতি বছর নির্বাচনের বছর। আমরা যেকোন নাশকতা রোধে বদ্ধ পরিকর। তিনি বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট ও রাজনীতিকে কলুষীতসহ নারায়ণগঞ্জকে উত্তপ্ত করার যে কোন পরিকল্পনা নস্যাতের সকল প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।

ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে না’গঞ্জ বিএনপি রাজপথ দখলে নেয়ার প্রত্যয়

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সকল কিছুকে পেছনে ফেলে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের মত এবার দলের সকল কর্মসূচীতে দলের সকল নেতাদেরকে দেখা যাবে একসাথে। ঐক্যবদ্ধ হয়েই দলের সকল কর্মসূচী পালনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের নেতারা। খালেদার জিয়ার মুক্তির দাবিতে দলের প্রতিবাদ কর্মসূচী ও দলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে একত্রে বসলেও সেখানে সকলে দলের সকল বিভাজন ভুলে এক হবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। গতকাল সোমবার বিকেলে দলের গুলশান কার্যালয়ে দলের নেতারা বসে বৈঠক করেছেন। সেখানে দলের সকল কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে সকলেই কথা বলেন এবং নিজেদের ছাড় দেয়ার মানসিকতা প্রতিষ্ঠা করার কথা বলেন। সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, জেল খেটেছি প্রয়োজনে আবার খাটবো। এখন  আমাদের লক্ষ্য একটাই আমাদের নেত্রীর মুক্তি। বিভেদ বিভাজনের সময় এখন আর নেই। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আবারো দেশের প্রধানমন্ত্রীর আসন তাকে উপহার দেয়াই এখন জাতীয়তাবাদের মূল লক্ষ্য। জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই রাজপথে দলের কর্মসূচীগুলো সফল করতে হবে। সবাইকে এক হতে হবে। একতাবদ্ধ হবার এখনই সময়। নেত্রীর জন্য নিজেদের সবটুকু নিয়ে কাজ করতে হবে। মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, এখন আর মনোনয়ন নিয়ে আমাদের কোন্দল বিভাজনের সময় বা সুযোগ কোনটাই নেই। নেত্রীর মুক্তিই আমাদের সকলের একমাত্র উদ্দেশ্য হোক। সকলে একসাথে মিলে হাতে হাত রেখে রাজপথে কাজ করতে হবে।  মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন, সবাইকে নিয়েই আমরা এক হয়েছি। নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে আর কোন বিভেদ থাকবেনা। এটা আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল, সকল কিছু ভুলে বিএনপির সবাই এক হবো। আমাদের কোন কোন্দল থাকবেনা, আমাদের একটাই পরিচয় আমরা বিএনপির কর্মী। নেত্রীর মুক্তির মধ্যেই আমাদের সকলের অস্তিত্ব। নেত্রীকে মুক্ত করতে না পারলে আমরা সকলেই বিলীন হয়ে যাবো। সভায় জেলার সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার নেতাকর্মীদের জামিনের কাজে ব্যস্ত থাকায় আসতে পারেননি। একই সাথে মামলায় জর্জরিত থাকায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুও উপস্থিত হতে পারেননি।

আশার আলো দেখছে বিএনপি নেতাকর্মীরা

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর দিয়ে ঝড় বয়ে গেল। দুই সপ্তাহে জেলার সাতটি থানায় ১৩টি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় আসামি হয়েছেন কয়েক হাজার নেতাকর্মী। কারাগারে গিয়েছেন প্রায় ৮০ জন নেতাকর্মী। পুলিশি অভিযান কিছুটা শিথিল অবস্থাতে কারাগার থেকে জামিন পেতে শুরু করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। জেলায় ১৩টি মামলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে হুলুস্থল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। কেউ কারাগারে কেউ গ্রেপ্তার কেউ বাড়ি ছাড়া কেউ আত্মগোপনে-এমন পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে এখানকার বিএনপি নেতাকর্মীরা। জানাগেছে, গতকাল সোমবার নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাউদ্দীন মোল্লা ও আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জুয়েল হোসেন সহ ৮ জন বিএনপি নেতাকর্মী। আড়াইহাজার থানার একটি বিস্ফোরক আইনের মামলায় আগের দিন রোববার উচ্চ আদালত থেকে এ ৮ জন নেতাকর্মী জামিন লাভ করেন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি এসব নেতাকর্মীরা আড়াইহাজার থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এছাড়াও গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এইচএম আনোয়ার প্রধান ও আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট মাইনুদ্দীন রেজা। এ তিনজন গত ৫ ফেব্রুয়ারি সানারপাড় এলাকা হতে পুলিশের হাতে আটক হন। এছাড়াও জানা গেছে, সোমবার উচ্চ আদালত থেকে সোনারগাঁ থানার তিনটি মামলায় কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আজহারুল ইসলাম মান্নান সহ ৭৫ জন বিএনপি নেতাকর্মী ২মাসের জামিন নিয়েছেন। গত সপ্তাহে জামিন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা শিল্পপতি মুহাম্মদ শাহআলম। মামলার হওয়ার পরপরই আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। জামিন পেয়েছেন মহানগর বিএনপির সেক্রেটারি এটিএম কামাল, অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ খান ভাসানী সহ বেশকজন নেতাকর্মীরা। গতকাল সোমবার উচ্চ আদালত থেকে আরো জামিন পেয়েছেন কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, মোঃ ফারুক আহম্মেদ, আকরাম প্রধান, আনোয়ার হোসেন আনু, অধ্যাপক খন্দকার মনিরুল ইসলাম, মঈনুল হোসেন, মোঃ ইকবাল, মোঃ মনির হোসেন, মোঃ জনি, মাসুদুর রহমান আসলাম, সাদেকুর রহমান সাদেক, মজিবর রহমান দেওয়ান, এস এম নুরুল ইসলাম, মাজাহারুল ইসলাম ভূইয়া, নুর মোহাম্মদ পনেজ, মাহবুবুর রহমান, শাহান শাহ আহম্মেদ, মনির হোসেন টিটু, আকতার হোসেন, মোঃ মোহসিন, ইকবাল হোসেন, সোহেল খান বাবু, মোঃ বিল্লাল হোসেন, সহিউদ্দিন সাউদ, কাজী বাদল, সাইফুল ইসলাম ভূইয়া, কামাল হোসেন মিন্টু, কাজী মাহাবুবুর রহমান সোহাগ, ইমাম উদ্দিন তোহা, হুমায়ুন কবির, মোঃ মহিউদ্দিন শিশির, কাউসার হামিদ খান সহ ৩৪ জন নেতাকর্মী। তবে কারাগারে থাকা প্রায় ৮০ জন নেতাকর্মীদের মধ্যে জামিন পেয়েছেন মাত্র ১৫ জনের মত। এখনও কারাগারে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব সহ  অন্যান্য নেতাকর্মীরা। তবে এদিকে মামলায় জামিন পাওয়ায়  আশার আলো দেখছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। সেই সঙ্গে সোমবার বেগম খালেদা জিয়ার রায়ের কপি অনুলিপি হাতে পেয়েছেন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী। যে কারনে বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করছেন রাজনৈতিক পরিস্থিতি শিথিল হয়ে আসছে। এদিকে আপাতত জেলার কোথাও গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।

পুলিশকে ছয়টি পিকআপ ভ্যান প্রদান অনুষ্ঠানে: সেলিম ওসমান কান কথায় অপরাজনীতিকে উস্কে দেওয়া ঠিক নয়

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সদর-বন্দর আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান বলেছেন, আমি একটা জায়গাতেই ব্যর্থ হয়েছি। বার বার আহবান জানানোর পরেও আমি নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী মহল, আইনজীবী সমিতি, ও নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের একত্রে বসাতে পারেনি। অপরদিকে সকল জনপ্রতিনিধিদেরকেও এক টেবিলে বসাতে পারিনি। আমি গত ২২ বছর যাবত বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের নেতৃত্ব দিয়ে আসছি। নারায়ণগঞ্জে আমরা ৮টি জাতীয় ভিত্তিক ও ৩৩টি জেলা ভিত্তিক সংগঠন একটি প্লাটফর্মে এসে কাজ করে যাচ্ছি এবং আমাদের মাঝে কোন বিভেদ বা মতবিরোধ নেই। যদি ব্যবসায়ী মহল, আইনজীবী সমিতি এবং প্রেসক্লাব একসাথে বসে আলোচনার মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে কাজ করে তাহলে একটি শহরের যেকোন সমস্যার সমাধান সম্ভব। পাশাপাশি যদি নারায়ণগঞ্জের সকল জনপ্রতিনিধিরা সম্মিলিতভাবে কাজ করে তাহলে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন এবং জনগনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে একজনের সাথে অপরজনের ব্যক্তিগত বিরোধ থাকতে পারে। রাজনৈতিক মাঠে সেটা যেকোন জায়গায় করা যেতে পারে। কিন্তু জনগনের কল্যাণে উন্নয়নের স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে একত্রে কাজ করতে কোন বাধাঁ আছে বলে আমি মনে করি না। গতকাল সোমবার বিকেলে জেলা পুলিশ লাইনসে জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক এর কাছে  ৬টি পিকাপভ্যান হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি সেলিম ওসমান এসব কথা বলেন। সাংবাদিকদের প্রতি আহবান রেখে বলেন, আলোচনায় অনেক সমস্যাই সমাধান করা সম্ভব। নিতাইগঞ্জে দীর্ঘদিনের সৃষ্ট দুর্ভোগের সমস্যা আমরা আলোচনার টেবিলে বসেই সমাধান করতে পেরেছি। নারায়ণগঞ্জ বাস টার্মিনালকে আলোচনার মাধ্যমে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আলোচনা হয়েছিলো বলেই নারায়ণগঞ্জে এখন আর গার্মেন্টস গুলোতে শ্রমিক অসন্তোষ নেই। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে শিল্পপুলিশের খুব একটা প্রয়োজন পড়ে না। আলোচনার মাধ্যমে আমরা হকার সমস্যার একটি সুষ্ঠু সমাধান করতে পারবো বলে আশা করছি। তাই আমি সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ রাখবো  জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার, বিকেএমইএ, ইর্য়ান মার্চেন্ট সহ আলোচনার জন্য বেশ কয়েকটি সম্মেলন কক্ষ রয়েছে। আপনারা যখন যেখানে খুশি আলোচনার বসতে পারেন। নিজের মাঝে কোন ভুল বুঝাবুঝি থাকলে তা দরজা বন্ধ করে শেষ করে নারায়ণগঞ্জের সমস্যা গুলো সমাধান এবং উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে সহযোগীতা করুন। একটি সুন্দর ও আধুনিক নারায়ণগঞ্জ গড়ার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সহযোগীতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের প্রতি আহবান রেখে তিনি বলেন, একটা সময় নারায়ণগঞ্জ পাটের জন্য বিখ্যাত ছিল। কিন্তু আদমজী, বাওয়া জুট মিল, লক্ষ্মী নারায়ণ, চিত্তরঞ্জন, আর্দশ, ঢাকেশ্বরী মিল বন্ধ করার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে নীটওয়্যার ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আমরা নীটওয়্যারে এগিয়ে যাচ্ছি এবং পন্য রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছি। হোসিয়ারী থেকেই নীটওয়্যারের সৃষ্টি। আর হোসিয়ারী শিল্পের জন্ম এই নারায়ণগঞ্জেই। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকেএমইএ এর সকল কার্যক্রম নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীক করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে বিকেএমইএ চাষাঢ়ায় খাজা সুপার মার্কেটের পেছনে জমি কিনে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে। জমি কেনার সময় আমরা সেখানে ১৬ ফুটের রাস্তা দেখলেও এখন দেখতে পাচ্ছি আসলে রাস্তা নেই। কখনো শুনি এটা ব্যক্তি মালিকানার জায়গা, কখনো শুনি সিটি কর্পোরেশনের, আবার কখনো শুনি রাজউকের জমি। এ ব্যাপারে আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করি এবং জমিটির কেনার জন্য আবেদন করলে রাজউক থেকে বিকেএমইএকে টেন্ডারের মাধ্যমে জমিটি বিক্রি করার কথা বলেন।  বিকেএমইএ কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ১৫ কোটি টাকা ইজিএম করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা নির্মাণ কাজে ৩ কোটি টাকা ব্যয় করে ফেলেছি। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন একটি মামলা দায়ের করে সমস্ত কিছু আটকে রেখেছে। বিকেএমইএ শুধু একটি সংগঠন নয় এটি সমস্ত দেশের অর্থনৈতিক চালিকা শক্তির একটি অংশ। আমরা লিখিতভাবে মেয়রের কাছে আবেদন করবো হয়তো দেশের অর্থনীতি এবং নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থে বৈধ উপায়ে ওই জমিটুকু বিকেএমইএকে পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন নয়তো জমিটি আপনাদের প্রয়োজন হলে বিকেএমইএ এর কাছ থেকে কিনে নিয়ে যান ক্ষতিপূরণ সহ। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অনেকের কাছে এটা নির্বাচনের বছর। কিন্তু আমি সেটা মনে করি না। একজন জনপ্রতিনিধিদের কোন নির্বাচনী বছর নেই। নির্বাচন হতে এখনো অনেক সময় বাকি। জনগনের জন্য এখনো অনেক কিছু করার রয়েছে। আমি বহুবার বলেছি আগামী জুন মাসের ৩০ তারিখে আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবো নির্বাচন করবো কিনা। ইতোমধ্যে অনেকে প্রার্থী হওয়ার জন্য বলে বেড়াচ্ছেন নৌকা চাই। আমি বলবো শুধু নৌকা চাই বললেই হবে না। আসলে মার্কা কি সেটা বড় কথা নয়। এলাকার উন্নয়নটাই মূখ্য বিষয়। বন্দরের মানুষে সেই বৃটিশ আমল থেকে নৌকা করে নদী পারাপার হচ্ছে। আমরা ফেরী সার্ভিসের ব্যবস্থা করছি। রাস্তা হয়েছে কিন্তু দপ্তরে ফাইল নড়তে চায় না। আমরা সেখানে আরেকটি সেতু নির্মাণের চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে শীতলক্ষ্যা সেতু-৩ এর কাজ চলছে। শান্তিরচরে নীটপল্লী সহ সকল শিল্পকারখানার মাধ্যমে বৃহৎ অর্থনৈতিক জোন নির্মাণের কাজ চলছে। লাঙ্গলবন্দে মেগা প্রকল্প করা হচ্ছে, ৭টি ইউনিয়নে ৭টি স্কুল নির্মাণ সহ গ্রামীন অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছি। সব শেষে বলবো নির্বাচন যখন হবে তখন হবে। যতটুকু সময় আছে সবাই মিলে একত্রে এলাকার উন্নয়নে অংশীদার হই। সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদলে কাজ করুন। বন্দরে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বেশ কয়েকটি ভাল রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে রাস্তার মাঝ থেকে বিভিন্ন স্থাপনার কারণে উন্নয়নের সঠিক ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে। ওই সকল সমস্যা গুলো সমাধানে সহযোগীতা করুন। কারো নাম উল্লেখ না করে নিজেকে নিয়ে করা একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অনেকে বলেন আমি বিদেশে টাকা পাচার করছি। আমি বলবো, না জেনে কোন কথা বলা ঠিক না। যান আমার ব্যাংকের দরজা খুলে দিলাম, আমি বিদেশে টাকা পাচার করেছি নাকি বিদেশ থেকে বাংলাদেশে টাকা এনেছি একটু হিসেবটা দেখে আসুন। কত রেমিট্যান্স জমা হয়েছে আমার একাউন্টে। লাভের হিসেবটা আপনারাই নির্ধারণ করে দিবেন। আমার পরিবারের ছেলে বিয়েতে কত কোটি টাকা খরচ হয়েছে। সেটা নিয়ে কথা বলাও আপনার ঠিক নয়। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমাদের যেমন দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমি মনে করি ঠিক তেমনি সকল জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। অযথা কান কথা শুনে অপরাজনীতিকে উস্কে দেওয়া ঠিক নয়। তার থেকে ভাল হবে ভবিষ্যত উন্নয়ন নিয়ে পরিকল্পনা করা। শহরের বেশ কিছু স্থানে ফুটওভার বিজ্রের প্রয়োজন, বঙ্গবন্ধু সড়কের পাশাপাশি বিকল্প রাস্তা চালু, যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, চারারগোপ এলাকায় রেলওয়ের বিশাল জমি রয়েছে সেখানে বাসস্ট্যান্ডটি স্থানান্তর করা যায় কিনা সেটি নিয়ে কাজ করা, ডাবল রেললাইন, সাংস্কৃতিক চর্চায় শিল্পকলা একাডেমী, নগরবাসীর উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল কলেজ নির্মাণ, ভবিষ্যত প্রজন্মকে উন্নত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে একটি উন্নত মানের বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ সহ বহু কাজ করা বাকি রয়েছে। প্রয়োজনে সবার সাথে আলোচনার বসে সেগুলো সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করুন। আমি বহুবার আহবান জানিয়েছি। আবারো আহবান জানাচ্ছি। পাশাপাশি বলবো যদি উন্নয়নের স্বার্থে আমার কোন সহযোগীতার প্রয়োজন হয় আমাকে ডাকা হলে আমি অবশ্যই সহযোগীতা করবো। এই নারায়ণগঞ্জ থেকেই আওয়ামীলীগের জন্ম ভাষা আন্দোলন, ৬ দফা, মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছে। যুদ্ধে বিজয় লাভের পর আমার বাবাই প্রথম রেডিওতে ঘোষণা দিয়ে ছিলেন। এই নারায়ণগঞ্জের মানুষ আমার দাদা বাবা ও ভাইয়ের অপরিসীম ভালবাসা দিয়েছেন। সেই অর্থে নারায়ণগঞ্জের মানুষের জন্য আমার অনেক দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাই নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের সব ধরনের সহযোগীতা করতে প্রস্তুত আছি। আমাকে যখন ডাকা হবে আমি উপস্থিত হবো। এক্ষেত্রে অনেকের অভিযোগ আমার সাথে নাকি দেখা করা কঠিন। ডাকলে পাওয়া যায় না। আমি বলবো আমি একজন জনপ্রতিনিধি হওয়ার পাশাপাশি দেশের একটি বৃহৎ ব্যবসায়ী সংগঠন পরিচালনা করছি। দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সার্বক্ষনিক কাজ করে যাচ্ছি। তাই আমাকে হাতে একদিন সময় রেখে ডেকে আপনাদের ডাকা সাড়া দিয়ে আপনাদের সাথে যোগ দেওয়ার সুযোগ করে দিবেন। জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিকেএমইএ এর প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মঞ্জুরুল হক, পরিচালক আবু আহম্মদ সিদ্দিক, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল প্রমুখ।

হকারদের পক্ষেই আছেন শামীম  আইভীর পক্ষে সেলিম ওসমান

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নগরীর ফুটপাতে হকার বসাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘাতে নিন্দুকের কাছে সমালোচিত হলেও ফের সেই গরীব হকারদের পক্ষেই নিজের অবস্থানের কথা তুলে ধরলেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ এ কে এম শামীম ওসমান। কিন্তু হকার ইস্যুতে তারই ভাই শামীম ওসমানের পরিবর্তে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর পক্ষে আছেন জাতীয় পার্টির নেতা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ এ কে এম সেলিম ওসমান। গত মাসে হকার ইস্যুতে সংঘটিত অনাকাঙ্খিত ঘটনায় মেয়র আইভীকে চরম ভাবে অপমানিত করা হয়েছে দাবী করেন সেলিম ওসমান। সেজন্য লজ্জাবোধ ও দু:খ প্রকাশ করেন তিনি। আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের অর্পিত দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যেই সেলিম ওসমান এখন আইভীর মুরুব্বি হিসেবে নিজের গ্রহণযোগ্যতা তৈরী করতেই হকার ইস্যুতে মেয়রের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। কারন, হকার ইস্যুতে আওয়ামীলীগের দুই প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি শামীম ওসমান ও আইভী ফের মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যায় কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ। তাই আগামী একাদশ নির্বাচনের পূর্বে এই দুই নেতার দ্বন্দ্বে যেন আর দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন না হয়, সেজন্য স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের পরিবর্তে শামীম ও আইভীর দ্বন্দ্ব নিরসনে জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমানকেই মুরুব্বি হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে যান কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গত ২৮ জানুয়ারী দুপুরে নারায়ণগঞ্জের গোগনগর এলাকায় তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর পাইলিং নির্মান কাজের উদ্বোধন শেষে ঢাকায় রওনা দেওয়ার আগ মূর্হুতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি সেলিম ওসমানকে বলেন, ‘আপনি শামীম ও আইভীর মধ্যকার চলমান দ্বন্দ্ব নিরসন করবেন। আমি জানি, আপনি আইভী ও শামীম ওসমানের মুরুব্বি। ওরা দু’জন আপনার কথা মানবে। তাই আমার বিশ্বাস আপনিই পারবেন।’ নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থে শামীম ওসমান ও আইভীর দ্বন্দ্ব নিরসন করা খুবই জরুরী মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের সেলিম ওসমানকে আরো বলেন, ‘এটা কোনো নেতা হিসাবে নয়, ওদের দু’জনের বড় ভাই হিসাবে আমি আপনাকে দায়িত্ব দিলাম। তাদের দু’জনকে এক সাথে বসিয়ে আলোচনার মাধ্যমে ওদের সম্পর্কটা ভালো করে তুলেন।’ এরপর গত ১৩ ফেব্রুয়ারী বিকেল সাড়ে ৪টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে হকার সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন এবং নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে বসতে না পারা আন্দোলনরত হকারদের সাথে আলোচনা সভায় এমপি সেলিম ওসমান মেয়র আইভীর উন্নয়ণ কাজের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমিও একজন হকার ছিলাম। বর্তমানে আল্লাহ আমাকে অনেক উপর স্থানে উঠিয়েছেন। আমি হকারদেরর কষ্ট বুঝি। তাই হকার ইস্যুটি নিয়ে সুষ্ঠু আলোচনা চলছিলো। কিন্তু একটি ভুল বুঝাবুঝির মধ্য দিয়ে গত ১৬ জানুয়ারীর ঘটনায় মেয়রকে চরমভাবে অপমানিত করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এটা কোন ভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। ওই ঘটনার জন্য একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি লজ্জিত এবং মেয়রের কাছে দু:খ প্রকাশ করছি।’ আর মেয়র আইভীর সাথে সহমত পোষণ করে কোন অবস্থায়ই শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে হকার বসতে পারবে না বলে সেলিম ওসমান পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন। তবে সভায় হকার নেতারা সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার হলিডে মার্কেটের মত বঙ্গবন্ধু সড়কে হকারদের বসতে দেওয়ার দাবী রাখলে, সেক্ষেত্রেও সেলিম ওসমান এরজন্য মেয়র আইভীর কাছ থেকে অনুমতি নেয়ার পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, ‘শুক্র ও শনিবার বঙ্গবন্ধু সড়কে হকারদের বসার দাবীটি সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের কাছে লিখিত ভাবে জানাতে হবে। সিটি মেয়র অনুমতি দিলেই কেবল ওই দুই দিন বঙ্গবন্ধু সড়কে হকার বসতে পারবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই প্রকৃত হকার হতে হবে এবং তাদের কাছে পরিচয় পত্র থাকতে হবে। জেলা পুলিশ প্রশাসন সেই পরিচয় পত্র তৈরি করে দিবেন। অন্যথায় কোন অবস্থায় বঙ্গবন্ধু সড়কে হকার বসতে পারবে না। আর যারা হলিডে মার্কেটের মত বঙ্গবন্ধু সড়কে সপ্তাহে দুই দিন দোকান বসিয়ে ব্যবসা করবে তাদেরকে বন্দরে ময়মনসিংহ পট্টিতে হকারদের জন্য মার্কেট করা হলে সেখানে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে না।’ কিন্তু সেলিম ওসমান হকার ইস্যুতে আইভীর পক্ষে অবস্থান করলেও আদৌ গরীব হকারদের পক্ষেই অনড় অবস্থানে রয়েছেন গরীবের নেতা শামীম ওসমান। গত শনিবার রাতে চাষাড়ায় সরকারী মহিলা কলেজের পাশে বালুর মাঠে অনুষ্ঠিত একটি ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে শামীম ওসমান আক্ষেপের সুরে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরীব মানুষের কথা ভেবে পুনর্বাসনের পূর্বে হকার উচ্ছেদের কথা নিষেধ করলেও আজকে নারায়ণগঞ্জের গরীব মেহনতী হকারদের উপর নির্যাতন করা হচ্ছে। তাদের রুটি রুজি কেড়ে নেয় হয়েছে। কিন্তু একবার কি কেউ ভেবে দেখেছে, এতোগুলো মানুষের সংসার কিভাবে চলে?’ গত ১৬ জানুয়ারী হকার ইস্যুতে সংঘাতের সময় মেয়র আইভী আহত হওয়ার ঘটনায় তথাকথিত সুশীলদের মায়াকান্নার প্রেক্ষিতে শামীম ওসমান আরো বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের কোন এক নেতা রাস্তায় পড়ে গিয়ে ব্যাথা পেয়েছে, সেটা দেখে সবার ব্যাথা লাগে। অথচ, এতগুলো মানুষের উপরে গুলি ছোড়া হলো, এতে অনেক মানুষ আহত হলো, কিন্তু তাতে কারো ব্যাথা লাগে না।’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজ লাখ লাখ অসহায় রোহিঙ্গাদের এদেশে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। অথচ আমাদের দেশের গরীব হকারদের নারায়ণগঞ্জে কাজ করার সুযোগ হচ্ছেনা। কারন, এসব গরীব মানুষদের এখন আর তাদের দরকার পড়বে না। তবে নির্বাচনের আগে ঠিকই তাদের দরকার পড়ে। নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা তাদের মাথায় হাত রেখে মা-বাবা ডাকে, আর নির্বাচনে জয়লাভের পর এসব মানুষদেরকে প্রজা আর নিজেকে রাজা ভাবে। কিন্তু ভুলে গেলে চলবেনা যে, আমাদের মত মানুষদের এমপি বা জনপ্রতিনিধি বানানো হয়েছে মানুষের সেবা করার জন্য আর গরীব দু:খী মানুষদের পাশে এগিয়ে আসার জন্য।’ এসময় শামীম ওসমান গরীবের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘গরীর মানুষদের উপর অত্যাচার নির্যাতন আল্লাহ পছন্দ করেন না। ইসলামে আছে কোথাও অন্যায় হলে তার প্রতিবাদ করতে হয়। আর যদি কেউ অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে তাহলে সে মুসলমান থাকে না। তাই যে কয়দিন বেঁচে আছি, ন্যায্য কথা বলে যাব। আমি দুর্বলের পক্ষে ছিলাম, আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো। কে কোন দল করে তাতে আমার কিছু আসে যায় না। সর্বদা দুর্বলের পক্ষে থাকবো আর অন্যয়ের প্রতিবাদ করবো। আর যদি তা করতে না পারি, তাহলে ঘৃণা করবো।’ তখন সেই ওয়াজ মাহফিলে উপস্থিত বেশ কয়েকজন হকার নেতা মন্তব্য করেন, ‘শামীম ওসমানই গরীবের আসল নেতা। আর আমাদের সদরের এমপি এখন মেয়রের মুরুব্বি হয়ে গেছেন।’

 

 

শীতলক্ষ্যার দুই তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

কাঁচপুর ব্রীজ সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব ও পশ্চিম তীরে অবৈধ দখলমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করেছে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর। এতে সোনালী পেপার মিল, স্ক্যান সিমেন্টের অবৈধ স্থাপনা এবং ১০টি জেটিসহ সর্বমোট ২৭টি অবৈধ স্থাপনা একদিনে উচ্ছেদ করা হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফিটনেস না থাকায় ১০টি বাল্কহেডের মালিকপক্ষকে সর্বমোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া এমভি জেনিয়া নামের একটি বাল্কহেডকে জব্দ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল রোববার উচ্ছেদ অভিযানের প্রথম দিনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম বানু শান্তির নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মোঃ গুলজার আলী, উপপরিচালক মোঃ শহিদুল্লাহ, সহকারী পরিচালক পারভেজ আহাম্মেদ, শাহআলম, কাঁচপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) নেওয়াজ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। উচ্ছেদ অভিযানে বিআইডব্লিউটিএ’র জাহাজ অগ্রদূত, একটি এক্সাভেটর (ভেকু), একটি টাগবোট, সহ বিপুল সংখ্যক উচ্ছেদ কর্মী, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। গতকাল রোববার কাঁচপুর, ডেমরা ও রূপগঞ্জের টাটকী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলী জানান, দখলদাররা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন তাদেরকে কোন ধরনের ছাড় দেয়া হবেনা। দখলদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। শীঘ্রই শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী ও মেঘনা নদীর যেসকল স্থানে নদী অবৈধ দখল হয়েছে সেগুলোতে অভিযান পরিচালিত হবে।

 

 

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কোন্দলের কারিগরদের চিহ্নিত করেছে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হতে পারলো না। মাঠ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে ঐক্য থাকলেও জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাদের মধ্যে ঐক্য গড়ে উঠাতো দূরের কথা গতকাল রোববার কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালনকালে তাদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট দেখা গিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি ও মহানগর বিএনপি আলাদা আলাদা ভাবে ও এড. তৈমূর আলম খন্দকার আলাদা ভাবে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। কাজী মনির অনেকটা নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্বারক লিপি দিয়ে চলে যান। জেলা পর্যায়ের নেতাদের অভিযোগ তাদেরকে স্বারক লিপি প্রদানের আগে ডাকাই হয়নি। অপরদিকে মহানগর কমিটি বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুককে সঙ্গে নিয়ে স্বারক লিপি প্রদান করে। এখানেও নেতা-কর্মীরাতো বটেই খোদ বিএনপি পন্থি আইনজীবীরাও ডাক পাননি। অপর দিকে নারায়ণগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত তৈমূর আলম খন্দকার আলাদা ভাবে তার কয়েকজন অনুসারি নিয়ে স্বারক লিপি প্রদান করেন। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির জেলা ও মহানগর কমিটির কেউই তৈমূর আলম খন্দকারকে ডাকেননি বলে জানা গেছে। এ নিয়ে দলের মধ্যে সাধারণ কর্মীরা ঐক্যের যে প্রত্যাশা করেছিল তা শুধু বেস্তেই যায়নি বরং দলের মধ্যে কোন্দল আরও বেড়েছে। নেতা-কর্মীদের মতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির মূল কোন্দলের কারিগর হলেন মনিরুজ্জামান মনির। জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বক্তব্য জেলা বিএনপির সভাপতি হিসাবে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঘোষিত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দলে যে, ঐক্যের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল কাজী মনির ও আবুল কালাম দলের ঐক্য আরও নষ্ট করছে। কয়েক জন নেতা ক্ষোভের সংগে বলেন, এরা ক্ষমতাশীনদের সাথে আতাঁত করে দলে বিভাজন সৃষ্টি করতে অপচেষ্টা শুরু করেছে। এ ব্যপারে কাজী মনির ও আবুল কালামের মোবাইলে  একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। জেলা বিএনপি ও মহানগর বিএনপি। এসময় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী আদালত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। তবে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ৫ থেকে ৭ জন নেতাকে তার কক্ষে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়া হয়। ফলে প্রথমে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজি মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে স্মারক লিপি দেয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল হাই রাজু, মনিরুল ইসলাম রবি, মহানগর সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, বিএনপি নেতা আব্দুল হামিদ ভাষানী, নজরুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ। এরপর বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুকের নেতৃত্বে মহানগর বিএনপি স্মারক লিপি দেয়া হয়। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগর বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট ভাষানী, অ্যাড. রাকিবুল হাসান শিমুল প্রমুখ। কিন্তু স্মারক লিপি প্রদানের সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের ৬১নং উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকারকে দেখা যায়নি। তাকে বাদ দিয়েই জেলা ও মহানগর বিএনপি স্মারক লিপি প্রদান সম্পন্ন করেন। এ নিয়ে আদালত প্রাঙ্গনে নানা আলোচনা ঢালপালা ছড়ায়।

 

 

 

নাশকতার মামলায় বন্দরে জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার

বন্দর প্রতিনিধি
বন্দরে পুলিশের উপর হামলার মামলায় জামায়াত নেতা কাজী মামুন (৩৬)কে গ্রেপ্তার করেছে বন্দর ফাঁড়ি পুলিশ। গত শনিবার রাতে বন্দর আমিন আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জামায়াত নেতা কাজী মামুন বন্দর থানার ২২ নং ওয়ার্ডস্থ সোনাকান্দা চৌধুরীপাড়া এলাকার সিরাজ মুন্সির ছেলে। জানা গেছে, গত ৮ ফেব্রুয়ারী ভোর ৬টায় বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিএনপি চেয়ারর্পাসন বেগম খালেদা জিয়ার দূনির্তী মামলার রায়কে কেন্দ্র করে কাজী মামুনসহ মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউছার আশা, মদনপুর এলাকার বিএনপি নেতা মাজহারুল ভূইয়া হিরন, বন্দর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা সাইফুল ইসলাম, সোনাকান্দা এলাকার বিএনপি নেতা পনেছ, নবীগঞ্জ কবিলেরমোড় এলাকার যুবদল নেতা নাজমুল হক রানা, একই এলাকার সেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোস্তাকুর, ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহাম্মেদ, পুরান বন্দর মোল্লাবাড়ি এলাকার ছাত্রদল নেতা হুমায়ন কবির মোল্লা, দক্ষিন লক্ষনখোলা এলাকার সেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাইদুর রহমান, চৌরাপাড়া এলাকার বিএনপি নেতা নেছার উদ্দিন, মালিবাগ এলাকার বিএনপি নেতা কালা মনির, সোনাকান্দা এলাকার জামায়াত নেতা কাজী মামুন, সালেহনগর এলাকার ছাত্রদল নেতা পিংকি, হরিপুর এলাকার যুবদল নেতা বালু মনির, একই এলাকার গ্যাস কাউছার ও মহানগর বিএনপি সহ-সভাপতি হাজী নূর উদ্দিনসহ অজ্ঞাত ৭০/৮০ জন বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মী মদনগঞ্জ-মদনপুর সড়কে গাছ ফেলে অরাজগতা সৃষ্টির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে নেতা-কর্মীরা পুলিশের উপর ইটপাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপ করে। এ ব্যাপারে বন্দর ফাঁড়ি উপ-পরিদর্শক অজয় কুমার পাল বাদী হয়ে বন্দর থানায় নাশকতা আইনে মামলা দায়ের করে। এ মামলায় পুলিশ জামায়াত নেতা মামুনকে গ্রেপ্তার করে ৭ দিনের রিমান্ডের চেয়ে দুপুরে দুপুরে আদালতে প্রেরণ করে ।

ঘুষ দূর্নীতির অভিযোগে ইউএনও’র প্রত্যাহার  দাবীতে ডিসি অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসমিন বিনতে জেবিন শেখের প্রত্যাহার দাবীতে জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। গতকাল রোববার সকালে ফতুল্লার সস্তাপুর, কোতালেরবাগ, কুতুবআইল ও ইসদাইরসহ ৪টি এলাকার ব্যবসায়ী, কর্মজীবী, মসজিদের ইমাম ও জনসাধারন এ বিক্ষোভে অংশ নেয়। বিক্ষোভকারীরা ইউএনও’র বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অসদচারণ, ফাইল আটকিয়ে ঘুষ দাবী ও দুর্নীতির একাধীক অভিযোগ এনে মন্ত্রী পরিষদ সচিব, বিভাগীয় কমিশনার ও দুদকে দেয়া গণসাক্ষর সম্বলিত অভিযোগপত্রের একটি অনুলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় নির্বাহী অফিসার তাসমিন বিনতে জেবিন শেখ যোগদানের পর থেকে এলাকাবাসী চরম হয়রানীর শিকার হচ্ছে। ঘুষ ছাড়া ইউএনও তাসমিন বিনতে জেবিন শেখ কোন ফাইল ছাড়েন না। জনসাধারনের ব্যবসায়ীক ও সামাজিক বিভিন্ন কাজের ও আবেদনের যেকোন ফাইল মাসের পর মাস ঘুষের জন্য আটকিয়ে রাখেন। এছাড়া অনেক ফাইল রয়েছে চাহিদা মত ঘুষের টাকা না পেয়ে এক বছর ধরে তার অফিসে ফেলে রেখেছেন। সদরের ৫৯ জন গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসের পর মাস সরকারী ভাতা না দিয়ে ঘুরাচ্ছেন। ফলে অনাহারে- অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গ। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে কর্মরত নৈশপ্রহরী শ্যামল বৈদ্য নারায়ণগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা না হয়েও সরকারী চাকুরী নিয়েছেন। তথ্য গোপন রেখে স্থায়ী বাসিন্দা উল্লেখ করে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ন প্রতিষ্ঠান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে চাকুরী করছে। একই সঙ্গে ইউএনও’র যোগশাযোশে সরকারী জমি একসোনা লীজ নিয়ে তা অন্যত্রে বিক্রি করে দিচ্ছে। এবিষয়ে ইউএনও’র কাছে অভিযোগ করা হলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে একাধীক সরকারী জমি লীজ নিয়ে তা বিক্রি করে দিয়েছে। ইউএনও তার এক আত্মীয়কে প্রতিদিন সরকারী গাড়ি দিয়ে ঢাকায় বেসরকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্থানে নামিয়ে দিতে গাড়ি চালককে চাপ প্রয়োগ করেন। ফলে বাধ্য হয়ে অবৈধ আদেশ পালন করেন সরকারী গাড়ি চালক রাজকুমার। সদর উপজেলা কমপ্লেক্সের পাশে ফতুল্লার সস্তাপুরে বিক্রি করে দেয়া দেড় শতাংশ সরকারী জমি উদ্ধার করে একটি তালিমুল কোরআন নামে একটি এমিতখানা ও মাদ্রাসার পক্ষ থেকে ইউএনও’র কাছে লিজ দাবী করা হয়। ইউএনও তাসমিন বিনতে জেবিন শেখ সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে ফতুল্লা ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের দিয়ে দুই দফা তদন্ত করিয়ে সরকারি জমি বিক্রি করে দেয়ার প্রমান পায়। এরপর এমিতখানা ও মাদ্রাসার আবেদনকারীর কাছে লিজ দেয়ার জন্য দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবী করেন ইউএনও। এতে ওই এমিতখানা ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অস্বীকৃতি জানালে তাদের আবেদন প্রায় এক বছর যাবত ফাইলবন্দি করে রেখেছেন। এভাবে একাধীক লোকের ফাইলবন্ধি আছে ইউএনওর কাছে।

এলাকাবাসী কোন সমস্যা নিয়ে ইউএনও’র সাথে দেখা করলে তিনি অসৌজন্যমূলক ও রূঢ় আচরণ করে তাড়িয়ে দেন। কথায় কথায় উপজেলায় কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা বন্ধ করে দেয়। নৈশ প্রহরী মাহবুবকে ইউএনও তার কোয়াটারে নিয়ে বাবুর্চির কাজ করায়। এতে রান্নায় কোন সমস্যা হলে মাহবুবের বেতন থেকে টাকা কেটে রাখেন। দীর্ঘদিন ধরে এমন নির্যাতনের মুখে থাকলেও চাকুরী হারানোর ভয়ে কোন প্রতিবাদ করেনা। ফতুল্লায় পশু জবাইখানা (পিলখানা) না থাকলেও একটি সন্ত্রাসী বাহিনীকে বছরের পর বছর ধরে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে ইজারা দিয়ে যাচ্ছে ইউএনও। এ নিয়ে প্রায় সময় বিভিন্ন বাজারে মাংস বিক্রেতাদের সঙ্গে কথিত ইজারাদাদের বাগবিতন্ডা হয়। উপজেলা কমপ্লেক্সের ভিতরে মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীদের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে ইউএনও’র কাছে একাধিকবার মৌখিক ভাবে জানালেও তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। সম্প্রতি সদর উপজেলা পরিষদ মসজিদের ইমাম ও খতিব ফয়জুল্লাহ এলাকাবাসীর কাছে একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি। রহস্যজনক কারনে ইমাম ফয়জুল্লাহকে সেচ্চায় অব্যহতি নিয়ে আত্মগোপন করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছে ইউএনও। সেচ্ছায় অব্যাহতি পত্র ইউএনওর কাছে জমা না দিলে বড় ধরনের ক্ষতি করবে বলে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তাকে দিয়ে হুমকিও দেয়া হয়। এর প্রতিবাদে কয়েক দফা মুসল্লিরা বিক্ষোভও করেছে। ইউএনও তাসমিন বিনতে জেবিন শেখ সদর উপজেলায় যোগদানের পর উপজেলা কমপ্লেক্সের ভিতরে এলাকাবাসীর টাকা নির্মিত তিন তলা বিশিষ্ট মসজিদের নির্মান কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। ইউপির জনপ্রতিনিধিরাও তার প্রতি অসুন্তুষ্ট। যেকোন কাজে ইউএনও কমিশনের নামে ঘুষ দাবী করে বসেন। ফলে ইউএনও’র ঘুষ দিয়ে চাহিদা মত উন্নয়ন কাজ করতে পারেনা জনপ্রতিনিধিরা। নানা সমস্যার কারনে জনপ্রতিনিধিরা ইউএনও’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারেননা। উপজেলা কার্যালয়ের কাজে ব্যবহৃত চিঠির খাম ইউএনও নিজেই ক্রয় করে এনে মোটা অঙ্কের টাকার বিল পাশ করিয়ে নিয়েছেন। এনিয়ে উপজেলায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমালোচনায় এলাকাবাসীর মধ্যে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। নারায়ণগঞ্জ শহরতলীতে অল্পবৃস্টি হলেই হাটু পানিতে তলিয়ে যায় গুরুত্বপূর্ন সড়ক গুলো। এবিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ইউএনও তাসমিন বিনতে জেবিন শেখের কাছে এলাকাবাসী একাধিকবার গিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য দাবী জানালেও তিনি কোন কথাই কানে নেননি। উল্টো পূর্বের ইউএনও আফরোজা আক্তার চৌধুরীর ৬০ লাখ টাকার দুর্নীতির কথা শুনিয়েছেন। পূর্বের ইউএনওর দুর্নীতির কারণে তিনি দুর্ভোগের বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নিবেন না বলে গোঁ ধরে থাকেন। কয়েক মাস এলাকাবাসী পরিবার পরিজন নিয়ে পানিবন্দি হয়ে থাকলেও ইউএনও একটি বারের জন্যও খোঁজ খবরটি পর্যন্ত  নেয়নি। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে ঘুষ বানিজ্য করেন ইউএনও। দাবীকৃত ঘুষের টাকা না পেলে নির্বাচনের প্রার্থীদের নানা ভাবে হয়রানী করেন।

এ ব্যপারে সদর ইউএনও বলেন, ‘সদর উপজেলা কমপ্লেক্সের পাশে ফতুল্লার সস্তাপুরে ১ শতাংশ ৮০ পয়েন্টের একটি সরকারী জমি তৎকালীন সদর ইউএনও মো: গাউছুল আজম স্যার তার পিয়ন শ্যামল বৈদ্যকে লীজ দিয়ে যান। সেই জমিটি লীজ পুনরায় নবায়ণের জন্য শ্যামল বৈদ্য আবেদন করার পর তালিমুল কোরআন নামে একটি এমিতখানা ও মাদ্রাসার নামে জনৈক আলামিন প্রধান একই জমির লীজ প্রদানের আবেদন করেন। পরবর্তীতে জমির বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে এসিল্যান্ডকে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু এসিল্যান্ড থেকে এখনো আমি কোন প্রতিবেদন পাইনি। অথচ, দোষারোপ করা হচ্ছে আমি ঘুষের জন্য ফাইল আটকে রেখেছি।’ প্রকৃত পক্ষে এখতিয়ার বহির্ভূত ভাবে সরকারী জমি লীজ না দেয়ার আক্রোশেই ফতুল্লার স্থানীয় কিছু লোকজন নিয়ে জনৈক আলমিন প্রধান জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছেন বলে দাবী করেছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসনীম জেবিন বিনতে শেখ। গতকাল রবিবার দুপুরে ঘুষ, দুর্নীতির অভিযোগে সদর ইউএনও’র প্রত্যাহার দাবীতে জেলা প্রশাসকের নিকট ফতুল্লার কয়েকটি এলাকাবাসীর একটি স্মারকলিপি প্রদানের প্রেক্ষিতে তাসনীম জেবিন বিনতে শেখ এই দাবী করেন।

রূপগঞ্জে গাড়িচোর চক্র সক্রিয়

 

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

উপজেলার পূর্বাচল উপশহর থেকে হরহামেশা খোয়া যাচ্ছে দামী দামী গাড়ি। রাজধানী থেকে পূর্বাচলে ঘুরতে আসা লোকজনের গাড়ি মূহূর্তে উধাও করে দিচ্ছে চোর সিন্ডিকেট। পূর্বাচলের ১নং সেক্টরে ষ্টেডিয়ামের জন্য বরাদ্ধকৃত জমিতে অস্থায়ীভাবে গড়ে উঠা নীলা মার্কেট থেকে লোপাট হয়ে যাচ্ছে এসব গাড়ি। চুরির কবলে পরেছেন সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে ভিআইপিদের গাড়ি পর্যন্ত। এ কারনে ক্রমেই কমছে পূর্বাচলে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীর সংখ্যা।জানা যায়, উপজেলার ভোলানাথপুর এলাকার পূর্বাচল উপশহরের ১ নং সেক্টরে ষ্টেডিয়ামের জন্য বরাদ্ধকৃত জমিতে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দা ফেরদৌসী আলম নীলা গড়ে তুলেছেন তার ‘ নীলা মার্কেট’। এই  মার্কেটে অর্ধশতাধিক রেষ্টুরেন্ট ছাড়াও প্রায় ৩‘ শতাধিক দোকানপাট রয়েছে। এছাড়া ব্যাক্তি উদ্যোগে আশেপাশের বিভিন্ন প্লটে গড়ে উঠেছে আরো কিছু দোকানপাট রেষ্টুরেন্ট। নগর জীবনের যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তির খোজে কিংবা পরিবার প্রিয়জনদের সাথে একান্তে কিছু সময় কাটাতে। কেউ কেউ তাজা আনাজ তরকারি, মাছ মাংস ফলমূল ক্রয় করতে। কেউ কেউ সভা সেমিনার অথবা বন্ধু বান্দবদের ট্রিট দিতে ভীড়  জমায় এসব দোকান পাটে। লোকজন যখন খাওয়া দাওয়া অথবা কেনাকাটায় ব্যস্ত ঠিক সেসময় কৌশলী চোর লোপাট করে দিচ্ছে তার মূল্যবান গাড়ি। চুরি যাওয়া গাড়ি তালিকায় নাম রয়েছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মেয়ের জামাতা আদনান সাবের, ঢাকা সেনানিবাসে কমর্রত মেজর এমএ রাজ্জাক, চিকিৎসক খন্দকার তানভীর, গাজীপুরের  ব্যবসায়ী তৌহিদ বাশার, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মঞ্জুর মাহবুবসহ অসংখ্য ভিআইপি আর সাধারন মানুষের। খোজ নিয়ে জানা গেছে, নীলা মার্কেটের ভিতর অবস্থিত পূর্বাচল আমানউল্লাহর হোটেলে খেতে বসে সর্বাধিক গাড়ি খুইয়েছেন গাড়ির মালিকরা। এই হোটেলসহ আশেপাশের হোটেল গুলোতে পার্কিং স্পেস না থাকায় খোয়া যাচ্ছে গাড়ি। অনেকে বলে আমার উল্লাহর হোটেলের লোকজনদের সাথে আতাত রয়েছে গাড়িচোর চক্রের। নীলার আত্মীয় বলে কেউ আমানউল্লাহকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করারও সাহস রাখেন না। নীলা মার্কেট থেকে একটু এদিক সেদিক হলেই আবার অনেকটা নিরাপদ থাকে ব্যক্তি মালিকানাহীন বাহনগুলো। আশেপাশের প্লটে গড়ে উঠা দোকান-রেষ্টুরেন্টে রয়েছে নিজস্ব ব্যবস্থপনায় গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থাসহ প্রহরাকর্মী। নীলা মার্কেটের একটু পশ্চিমপাশে মসজিদের সামনে ‘উৎসব রেষ্টুরেন্ট’ এ গিয়ে দেখা গেছে এমন চিত্র। তাদের রেষ্টুরেন্টে ২০টি গাড়ি পার্কিংসহ রয়েছে একাধিক প্রহরা কর্মী। এছাড়া চাপ-চাপাই, খাওয়া দাওয়া, পূর্বাচল আড্ডাসহ অনেক রেষ্টুরেন্টে গাড়ি পাহারা দেয়ার দারোয়ান আছে। জানা গেছে, নীলা মার্কেট থেকে একের পর এক গাড়ি চুরি গেলেও রূপগঞ্জ থানা পুলিশ  আজ অবধি কোন গাড়ি উদ্ধার অথবা চোর চক্রকে সনাক্ত করতে পারেননি। গত মে মাসে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ হবিগঞ্জের বাহুবল এলাকা থেকে আন্তজেলা গাড়ি চোর চক্রের সদস্য হবিগঞ্জের মাদমপুর থানার পাটুলী এলাকার মিল্লাত হোসেনের ছেলে ইমন ও শায়েস্তাগঞ্জ থানার কদমতলী এলাকার আজিজ মিয়া ওরফে লুহাতের ছেলে জিল্লর রহমান ওরফে দীলকে আটক করে। এ সময় তাদের হেফাজতে থাকা ডা. খন্দকার তানভীর হোসেনের ব্যবহƒত (ঢাকা মেট্রো গ-১৪-৪৭৫৫) প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করেন তারা। তাছাড়া আজ অবধি সন্ধান পাওয়া যায়নি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মেয়ের জামাতা আদনান সাবেরের নীল রংয়ের গাড়ি (ঢাকা-মেট্রো-গ-১২-৭০৯০), মেজর এমএ রাজ্জাকের সাদা রংয়ের প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-১৫-৮৫১৫)সহ নীলা মার্কেট থেকে চুরি যাওয়া প্রায় অর্ধশতাধিক গাড়ির। এ কারনে ক্রমেই কমছে পূর্বাচলে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীর সংখ্যা। এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ইসমাইল হোসেন জানান, আমরা যে কয়টা গাড়ি চুরির অভিযোগ পেয়েছি সবগুলো ঘটনা গভীরভাবে তদন্ত কাজ চলছে। রাজধানী থেকে সক্রিয় চোর সিন্ডিকেট এসে এসব অপকর্ম করে চলে যাচ্ছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। আশা করছি শিঘ্রই চোর সিন্ডিকেট আটকসহ চুরি হওয়া গাড়ি উদ্ধার করা সম্ভব হবে। তাছাড়া আমরা মার্কেট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবো পুরো বাজারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে।