আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:০৭
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

যানবাহনের চালকরা আইন মানছে না !

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

শহরসহ সর্বত্র যানবাহনের চালকদের আইন না মানার প্রবণতা বাড়ছে দিন দিন। কোথাও কোথাও এই প্রবণতা মারাত্মক আকার ধারণ করছে। আর এই প্রবণতায় এগিয়ে আছে শহরবাসী সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও। যারা এই বিষয়ে দেখভাল করার দায়িত্বে তারাও নির্বিকার ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা ছাড়া কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এ পরিস্থিতির প্রমাণ মিলেছে হকারদের দৌরাত্ম্যে। অটোবাইক, ব্যাটারী চালিত রিক্সাসহ অবৈধ রিক্সা ও পার্কিং নিয়ে যত্রতত্র বাণিজ্য চলছে দেদারছে। শহরের বিবি রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে হকারদের বসা নিয়ে গত কয়েক মাসধরে আলোচনা চলে আসছে। এই হকারদের বসা নিয়ে গত ১৬ জানুয়ারী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মত ঘটনা ঘটেছে। যে ঘটনায় আহত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ অনেকেই। অথচ এই হকাররাই সবচেয়ে বেশি নিয়ম ভঙ্গ করে চলছে। প্রশাসন এবং সিটি করপোরেশন কিছু নিয়ম বেঁধে সাময়িক সময়ের জন্য হকারদের বসতে দিলেও তারা প্রতিনিয়ত এই আইন ভঙ্গ করে চলছে। নিয়ম অনুযায়ী বিবি রোডের কোথাও হকার বসতে পারবে না। অন্যান্য সড়কে বসলেও ফুটপাতের এক পাশে বসতে পারবে। সন্ধ্যার পরে বসার কথা থাকলেও তারা সকাল থেকেই ফুটপাত দখল করে বসে যায়। কে শোনে কার কথা। বিবি রোডের উপরেই বসছে ভাসমান অস্থায়ী ফুটের দোকান। কোথাওবা ভবনের গ্রীলের ফাঁক গলে পসরা সাজিয়ে বসে আছে দোকানীরা। এই হকারদের কথা বাদ দিলেও ফুটপাত দখল করে আছে পার্শ্বের দোকান দাররা। তারা তাদের মালা মাল সাজাতে গিয়ে দোকানের বাইরে এসে ফুটপাত দখল করে ফেলে। কোথাওবা রেস্টুরেন্টের টেবিল বসিয়ে দখল করছে। আর এগুলো দেখেও না দেখার ভান করছে পুলিশ। আবার বিনা বাধার কারনে উৎকোচ কামিয়ে নেয়ার এমন অভিযোগ করছেন কেউ কেউ। হকার উচ্ছেদের মূল কারন হিসেবে দেখানো হয়েছিল সড়কের যানজট। অথচ হকার উচ্ছেদ হলেও যানজটের  খরগ নিয়ে নতুন করে চেপে বসেছে পার্কিং। বিবি রোডের দু’পাশে এই পার্কিং এর জন্য উভয় মুখি যানজটে নাকাল এলাকাবাসী ও পথচারীরা। ঘন্টার পর ঘন্টা পার্কিং করে রাখছে আবার এলোপাথারী ভাবে গাড়ী পার্কিং করে যানজট অসহনিয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এই পার্কিং এর বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে অভিযানে নামলেও স্থায়ী ভাবে কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না সিটি করপোরেশন বা পুলিশকে। এর পেছনেও দায়ী করা হচ্ছে অনৈতিক অর্থ লেনদেনকে। নিয়মিত টহলে থাকা বাহিনী হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ যার প্রেক্ষিতে যানজটের সমস্যা সেই তিমিরেই থেকে যায়। ভোগান্তিতে পরে নগরবাসী। এই যানজটে নতুন করে ঘি ঢালছে শহরের বাইরে থেকে আসা রিক্সাভ্যান, ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা, অটোবাইকসহ চলাচলে অযোগ্য যানবাহন। যাদের শহরে ঢুকতে দেয়ার কথা না। সেই যানবাহন একদিকে যেমন শহরে চাপ সৃষ্টি করছে ঠিক তেমনি নিয়মের তোয়াক্কা না করায় যানজটসহ দুর্ঘটনার শিকাড় হচ্ছে পথচারীরা। এসব নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে অনৈতিক অর্থ উপার্জন করছে দায়িত্বে থাকা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। আর দেখভাল করা সিটি করপোরেশন এর কর্তা ব্যাক্তিরা নির্বিকার রয়েছে। আর এই ফাঁকে চরম বিশৃঙ্খলায় দিনযাপন করছে নগরবাসীসহ পথচারীরা। এ অবস্থায় কেউ হতাশ আবার কেউ প্রতিবাদি হয়ে উঠছে। কিছু বিপত্ত্বি দেখা দিচ্ছে কোন কোন সময়। তবে বড় কিছু না ঘটার আগেই ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছেন কেউ কেউ। ডিসি অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক। তিনি বলেন, যেই-সেই। কোন পরিবর্তন হওয়ার লক্ষণ নেই। মাঝে ভোগান্তি আমাদের। অথচ একটু সচেতন হলে সবাই আমরা ভাল থাকতে পারি। এ জন্য সচেতনতার পাশাপাশি দরকার কঠোর নজরদারি। ব্যাংকার রফিকুল ইসলাম বলেন, হকার উচ্ছেদ এর বিষয়টি নাটক মনে হয়। সন্ধ্যার পর সমানে হকার বসছে বিবি রোডে। নিয়ম মানার শপথ নিচ্ছে হকাররা আবার সেই হকাররাই নিয়ম ভঙ্গ করছে। এ যেন লুকোচুরির খেলা। এ খেলা বন্ধ না হলে ভোগান্তি শেষ হবে না। শিক্ষার্থী ফাতেমা বেগম বলেন, শহরে ব্যাটারী চালিত রিক্সা ঢুকতে দেয় না, আবার টাকা দিলে দেদারছে ঢুকে পড়ছে। কিসের নিয়ম, কার নিয়ম সবই অনিয়মের বেড়াজালে একাকার হয়ে যাচ্ছে। দেখার যেন কেউ নাই।

 

মশা বড়ই পাজি-অতিষ্ট নগরবাসী কোথায় নগরমাতা আইভী?

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

“মশা মুক্ত নারায়ণগঞ্জ চাই” দাবীতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর দৃষ্টি আকর্ষনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এখন জনমত গড়ে তুলছে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম মশার অত্যাচার আর সইতে না পেরে এখন ফেসবুকে নানা মন্তব্য ও দাবী উথাপন করে আসছেন। কিন্তু তাতেও টনক নড়ছেনা নাসিকের। দিন কিংবা রাত, বাসা-বাড়ী থেকে কর্মস্থল কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে হাসপাতাল, এমন কোথাও বাদ নেই, যেখানে মশার উপদ্রব নেই। সর্বত্রই এখন মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী। আর তাই নানা প্রতিকূলতাকে প্রতিহত করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র আইভীসহ ৩৬ কাউন্সিলর জনপ্রতিনিধি নিবাচিত হলেও তারা নগন্য প্রাণী মশার কাছে এখন পরাজিত হয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের দাবী, গত বছরে চিকনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর সিটি কর্পোরেশন নামমাত্র ঔষধ ছিটালেও বর্তমানে নগরী জুড়ে মশার উপদ্রব বেড়ে গেলেও ভ্রুক্ষেপ নেই সিটি কর্পোরেশনের। নগরবাসীকে মশার কবল থেকে রক্ষার দায়িত্ব মেয়রসহ কাউন্সিলরদের হলেও তারাও কোন পদক্ষেপ নেননি। কোন ওয়ার্ডেই ছিটানো হচ্ছেনা মশক নিধনের স্প্রে। যার ফলে মশক নিধনে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে নাসিক মেয়রসহ কাউন্সিলরদের হসএক্ষপ কামনা করেছেন সচেতন মহল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নারায়ণগঞ্জ বিশ^বিদ্যালয় কলেজের ছাত্র সাগর আহম্মেদ ফেসবুকে দাবী করেন “মশা মুক্ত নারায়ণগঞ্জ চাই”। জনৈক সজীব হোসেনই মন্তব্য করেন, “মেয়র মহোদয়, গরীব হকারদের উচ্ছেদ করার জন্য তো অনেক নাটক করলেন। এবার মশা উচ্ছেদ করার জন্য কিছু করেন।” খানপুর কিন্ডার গার্টেনের মালিক সিরাজুল মাহাদ বলেন, “বেড রুমে মশা, ড্রয়িং রুমে মশা, এমনকি বাথরুম করতে গেলেও মশার কামড় খেতে হচ্ছে। মশা থেকে বাঁচতে চাই, বাঁচাও বিধাতা!” জনৈক রনি ঘোষ পোস্ট করেছেন, “মশার কামড়ে অবস্থা খারাপ, আইভী আপা আমাদের বাঁচান।”  জনৈক অনু খান মন্তব্য করেছেন, “নারায়ণগঞ্জের রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে সর্বত্রই এখন মশা আর মশা।” তার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মাজমুল শাকিব মন্তব্য করেছেন, “মশার যন্ত্রনায় মন চায় পানির নীচে ঘর বানিয়ে থাকি।” ব্যবসায়ী রাব্বী দেওয়ান রসিকতার সুরে মন্তব্য করেন, “ব্যাপরটাকে আপনিও কি করেছেন লক্ষ্য, ইদানিং মশাগুলো কয়েলের সাথে গড়ছে কি দারুন সখ্য!” সজল মন্ডল প্রশ্ন করেন, “নারায়ণগঞ্জে মশার উৎপাদ বাড়ছে, কিন্তু কি করছেন বড় বড় মাথারা?” শ্রাবন্তী সাহা মন্তব্য করেছেন, “মশা জাতি বড়ই পাজি, কোথায় নগরমাতা আইভী?”

আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের প্রার্থী তালিকায় চমক থাকছে !

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী মাঠে বিচরণ করলেও সাংগঠনিক ভাবে এদের তেমন কোন তৎপরতা না থাকায় দলীয় হাইকমান্ড এইসব প্রার্থীদের উপর অনেকটাই নাখোশ। ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ে দলীয় নেতাদের দিয়ে জরীপ চালানো ছাড়াও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরী করেছেন বলে দলের একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এই তালিকায় শুধুমাত্র আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের নাম প্রস্তুত করা হয়েছে। দেশের তিনশ’ আসনেই প্রাথমিক ভাবে দলের প্রার্থী তালিকা তৈরী করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনে জাতীয়পার্টির সাথে আওয়ামীলীগ জোট বেধে নির্বাচন করলে অনেক আসনে প্রার্থী তালিকা পরিবর্তন ঘটবে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়। এক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগ তাদের জোটের পরিধি আরও বাড়ানোর চিন্তা ভাবনা করছে। আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যে নাগরীক ঐক্যের মতো দলকে আওয়ামীলীগের সাথে জোট বেধে নির্বাচনে অংশ নিলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা তার অত্যন্ত বিশ^স্থ দু’একজনকে নিয়ে একটি খসড়া তালিকা প্রস্তুত করেছেন বলে জানা গেছে। আগামী জাতীয় সংসদের প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে ইত্যমধ্যেই এই খসড়া তালিকা প্রস্তুত করে ফেলেছেন প্রধানমন্ত্রী। একান্ত গোপন একটি জরিপ টিমের সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রণীত মাঠভিত্তিক রিপোটের্র সমন্বয়ে এ প্রার্থী তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। যা এখনও পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোডের্র সভায় উত্থাপিত হয়নি। এমনকি সংসদীয় বোডের্র সদস্যরাও এখন পর্যন্ত প্রার্থী তালিকা সম্পর্কে অবগত নন। অচিরেই অনুমোদনের জন্য প্রার্থী তালিকাটটি উত্থাপন করা হবে বলে হাইকমান্ড সূত্র জানা গেছে। জাতীয় সংসদের প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবেই ওই খসড়া তালিকা প্রস্তুত করে ফেলেছেন তিনি। বিএনপি’র আসন্ন একাদশ নির্বাচনে অংশ নেয়া-না নেয়ার ওপর নিভর্র করছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকার যোগবিয়োগের বিষয়টি। তবে এ মুহূর্তে হাইকমান্ড মনে করছেন, বিএনপি কোন অবস্থায়ই নির্বাচন বর্জন করবে না। বিএনপিকে মোকাবেলার দৃষ্টিভঙ্গিতে থেকেই প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সূত্র মতে এবার গত নির্বচনের মতো জাতীয়পার্টিকে আওয়ামীলীগ তেমন একটা ছাড় নাও দিতে পারে। তাই এমন ভাবে আগামী নির্বাচনের ছক আঁকা হয়েছে যাতে বিএনপি নির্বাচনে আসতে বাধ্য হয়। বিশে^র কাছে আওয়ামীলীগ প্রমাণ করতে চায়, সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই তারা ক্ষমতায় এসেছে। ২০১৪ সালের মতো এবার বিএনপি বিহীন নির্বাচন করতে আওয়ামীলীগ ইচ্ছুক নয়। এ কারণে আগামী নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি দলটি সম্পন্ন করে ফেলেছে প্রায়। এক্ষেত্রে নির্বাচনের কাছাকাছি এসে বিএনপির কিছু কিছু দাবি আওয়ামীলীগ মেনে নিবে যার ফলে বিএনপি বাধ্য হবে দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নির্বাচনে আসতে। সেক্ষেত্রে সময়টা এমন ভাবে করা হবে যাতে বিএনপি ৩শ’ আসনে সঠিক প্রার্থী দিতে হিমশিম খাবে। এক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের জন্য আওয়ামীলীগের চমক থাকছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ৫টি আসনের মধ্যে বেশ কয়েকটি আসনে প্রার্থী তালিকায় আওয়ামীলীগ রদবদল ঘটাবে। জনসমর্থহীন ও দলীয় কোন্দলের সাথে সরাসরি জড়িত এবং দলে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের সাথে যোগাযোগ নাই এমন প্রার্থীরা আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাচ্ছেন না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রটি জানায়। নারায়ণগঞ্জকে আওয়ামীলীগ অত্যন্ত গুরুত্বের চোখে দেখছে। আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ও তাদের মিত্ররা যাতে ৫টি আসনেই জয়লাভ করে এ চিন্তা ভাবনা থেকে আসন মিত্রদের ছাড়া হবে। তবে বিগত নির্বচনের মতো এবারের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের একটি আসন ছাড়া বাকি চারটি আসনই আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন দিতে চাইছে। এক্ষেত্রে রূপগঞ্জ আসনে গোলাম দস্তগীর গাজী ও আড়াইহাজার আসনে নজরুল ইসলাম বাবুর অবস্থা তেমন শক্ত নয়। অন্য আসন গুলিতেও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সব চেয়ে মজার ব্যপার হলো সদর-বন্দর আসনে এবারের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ চমক দেখাতে পারে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার উপর। পাশাপাশি জাতীয়পার্টির গুরুত্ব আগামী নির্বাচনে গতবারের  চাইতে অনেকটাই কমবে বলে জানা গেছে। আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের প্রার্থী তালিকায় এতোটাই চমক থাকছে যা নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগের অনেক শীর্ষ নেতারা কল্পনাও করছে না বলে বিশ^স্ত সূত্রে জানা গেছে।

চালকের কারণে দশটি প্রাণ ঝড়ে গেলেও ঘাতকের সন্ধান পায়নি পুলিশ

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁয়ের ত্রিবর্দী এলাকায় চালকের খামখেয়ালীপনার কারণে ১০ যাত্রীর মৃত্যুর পরও এই সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালকদের চেতনা ফিরেনি। গতকাল মঙ্গলবারও এই সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলিকে নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে চলাচল করতে দেখা গেছে। গত সোমবার দুপুরে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গামী ‘সিডিএম’ পরিবহন নামক একটি যাত্রীবাহী বাস মালবাহী কন্টেইনারকে পিছন থেকে ধাক্কা দিলে বাসটি ধুমড়ে মুচরে যায়। এই দুঘর্টনায় বাসের যাত্রী একই পরিবারের ৪জনসহ ১০জন নিহত হয়। গতকালও নিহতদের স্বজনদের অনেকেই থানার সামনে আহাজারি করেছে। এই দুঘর্টনায় নিহত ১০ জনের মধ্যে ৯ জনের নাম পাওয়া গেছে। এরা হলোন, কাতার প্রবাসী ইলিয়াস হোসেন (২৮), তার বড় ভাই মফিজ উদ্দিন (৪৭), পুত্র ইমন(৮) ও বোন মিনুয়ারা বেগম (৩৬)। এদের বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা থানার বেড়েরা উত্তপাড়া এলাকায়। এছাড়া কিশোরগঞ্জের হেনা আক্তার (১৮), দেবর রামিম (৫), চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের সুভ সাহা (১৮), গামের্ন্টস কর্মী জিয়াসমীন (৩৮) ও নারায়ণগঞ্জের জালকুড়ির মিলনী বেগম (৫১)। একজনের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।  কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম জানান, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মালিকের নাম ঠিকানা পাওয়া না যাওয়ায় চালকের পরিচয়ও মিলেনি। যাত্রীদের উদৃতি দিয়ে তিনি স্বীকার করেন, বেপোরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর ফলে এই দুঘর্টনা ঘটেছে। সিডিএম পরিবহনের বাসটি সায়েদাবাদ থেকে রওনা দিয়ে চট্টগ্রাম যাচ্ছিল। সিদ্ধিরগঞ্জের কাঁচপুর থেকে যাত্রী উঠানোর পর ৪৭টি সীট পূর্ন হওয়ার পরও ১৫/২০ জন যাত্রী দাড়াঁনো অবস্থায় ছিল। এখান থেকে যাত্রী তোলার সময় চালক পান ক্রয় করে খায়। এক পর্যায়ে বাসটি মদনপুর ছাড়ানোর পর বেপোরোয়া গতিতে চালাতে থাকে। এ সময় গাড়ি চালানোর পাশাপাশি সে মোবাইল ফোনে কথা বলছিল। আহত কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেন, তারা কয়েক দফা চালককে দ্রুত গতিতে গাড়ি না চালানোর এবং মোবাইল ফোনে কথা না বলার জন্য অনুরোধ জানানোর পরও চালক যাত্রীদের কথা শুনেনি। এক পর্যায়ে দুঘর্টনাস্থলের কয়েক হাত আগে একটি রিকশাকে ধাক্কা মেরে ১৬ চাকার একটি কন্টেইনারকে পিছন থেকে ধাক্কা মারলে গাড়িটি ধুমড়ে মুচরে যায়। দুঘর্টনার পর চালক পালিয়ে গেলেও ৩ নারী, ২ শিশু ও ৫জন পুরুষ মিলিয়ে ১০ জন নিহত হয়। বাসের প্রায়  সকল যাত্রীই কম বেশী আহত হয়। এই দুঘর্টনায় কাতার প্রবাসী ইলিয়াসের পরিবারের সেসহ ৪জন নিহত হয়। ইলিয়াস হোসেন কাতার থেকে কয়েক মাস আগে দেশে ফিরেছেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছুটি কাটিয়ে হাসি খুশিতে আবার গত সোমবার ফিরে যাচ্ছেন প্রবাসে নিজের কর্মস্থলে। পরিবারের সদস্যরা তাকে বিদায় জানাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে যায়। তবে ইলিয়াসের ফ্লাইটের তারিখ পরিবর্তণ হওয়ায় পরিবারের ৬ জনকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সড়ক দুঘর্টনায় ছেলে, দুইভাই বোনকে নিয়ে সে নিজেও চলে গেছেন না ফেরার দেশে। গত সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ত্রিবর্দী ক্যান্টাকী গার্মেন্টের সামনে সিডিএম পরিবহন নামের (ঢাকা মেট্রো ভ-১১-০৮২৬) চট্টগ্রামগামী যাত্রীবাহী বাসটি বেপোরোয়া গতিতে ওভারটেকিং করতে গিয়ে মহাসড়কের পাশে থামানো (ঢাকা-মেট্রো-ঢ-৮১-০২৭৯) লরিকে পিছন দিক দিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কায় বাসের এক তৃতীয়াংশ ভেঙ্গে লরির ভেতরে ঢুকে যায়। এই ঘটনায় ১০জন যাত্রী নিহত হয়। গতকাল মঙ্গলবার রাতে নারায়ণগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ূম জানান, এ ব্যপারে মামলা হলেও কোন কাগজপত্র না পাওয়ায় মালিক কিংবা চালকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তবে তিনি জানান, মালিক ও চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

 

বিএনপি নেতা-কর্মীরা পলাতক রাজনীতিতে গাটছাড়া আ’লীগ

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জে ১৩টি মামলায় জর্জরিত ফেরারী বিএনপির সামনেও কোন্দলের কারনে দুর্বল হয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ। জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে আওয়ামীলীগের প্রায় ২৫ জন মনোনয়ন প্রত্যাশি মাঠে নেমেছেন। ৫টি আসনের মধ্যে দু’টি আসনেই রয়েছে জাতীয়পার্টির তথা মহাজোটের এমপি। ওইসব জাপার দুজন এমপির সঙ্গে আবার স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত আওয়ামীলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। সম্প্রতি বিএনপির নেতাকর্মীরা জেলার সাতটি থানায় ১৩টি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় আসামি হয়ে ফেরারি জীবন যাপন করছেন। গত ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী দুজন আওয়ামীলীগ নেতা এমপি একেএম শামীম ওসমান ও মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী অনুসারিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে গেল। দুদিক থেকে ওঠে আসা দুটি রাজনৈতিক দলের এ দুজনের নেতার মধ্যে বিরোধ নতুন কিছু নয়। তাদের পুর্ব পুরুষদের আমলেও এ বিরোধ দ্বন্দ্ব সংঘাতের সৃষ্টি। এক সময় শ্লোগান হতো দেওভোগ বনাম চাষাঢ়া। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগ উত্তর দক্ষিন মেরুতে বিভক্ত হয়। শহর কেন্দ্রীক এ রাজনীতিতে ঢুকে পড়েছে জেলার অন্যান্য থানার শীর্ষ নেতারাও। ওইসব নেতারাও উত্তর কিংবা দক্ষিন মেরুতে জোটবদ্ধ হচ্ছেন। আবার অনেকে কৌশলি ভুমিকায় দুদিকে হাত রেখে চলেছেন। এমপি শামীম ওসমানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও বন্ধুরাও বিরোধীতা করে আইভীর দিকে ঝুঁকছেন। একইভাবে অন্যান্য থানার নেতারাও আইভীর দিকে ভীড় করছেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমানের শক্ত অবস্থানও এতটা দুর্বল নয় যে এখনি শামীম ওসমান থমকে যাবেন। কারন মাঠের রাজনীতিতে শামীম ওসমানের অগ্রনী ভুমিকা রয়েছে। অতীতেও শামীম ওসমান প্রমান করেছেন রাজপথে আন্দোলন করতে হলে শামীম ওসমান ও তার বিশাল কর্মী বাহিনী প্রয়োজন। আবার সামনেও আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে প্রয়োজন হতে পারে। আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে যখন আওয়ামীলীগে উতপ্ত পরিস্থিতি তখন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায় নিয়ে আওয়ামীলীগে কিছুটা ফিরে আসে স্বস্থি। গত ৮ ফেব্রয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায়ে তর ৫ বছরের সাঁজা হয়। এছাড়াও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দশ বছর সাঁজা হয়। ওই ঘটনার আগে থেকেই গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় নাশকতার অভিযোগে মামলা দায়ের করে পুলিশ। গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত জেলার সাতটি থানায় ১৩টি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় সাত শতাধিক নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ্য করে আরো কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে আসামি করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ইতিমধ্যে জেলায় বিএনপির শীর্ষ নেতা সহ ৮০ জনের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যারা কারাগারে রয়েছেন। ইতিমধ্যে ১১ জন নেতাকর্মীরা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এসব মামলা হওয়ার পর জেলার সাতটি থানার কয়েক হাজার নেতাকর্মী পলাতক। মামলায় আসামি হয়ে গ্রেপ্তার ভয়ে দৌড়াচ্ছে বিএনপি নেতারা। কিন্তু খালি মাঠেও আওয়ামীলীগ শক্তিশালী হতে পারছেনা। বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির, সেক্রেটারি অধ্যাপক মামুন মাহামুদ, সহ-সভাপতি শাহআলম, খন্দকার আবু জাফর, আজহারুল ইসলাম মান্নান, আবদু, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, মাসুকুল ইসলাম রাজীব, নজরুল ইসলাম পান্না মোল্লা, মহানগর বিএনপির সেক্রেটারি এটিএম কামাল, সিনিয়র সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান, সহ-সভাপতি নুরউদ্দীন আহমেদ সহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী আসামি হয়ে ফেরারি। তখন আওয়ামীলীগে বিরোধ দ্বন্ধ বিভক্তি। এদের মধ্যে নজরুল ইসলাম আজাদ, অধ্যাপক মামুন মাহামুদ, সাখাওয়াত হোসেন খান, মাসুকুল ইসলাম রাজীব সহ প্রায় ৮০ জন নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। এমন ফেরারি বিএনপির কাছেও দুর্বল নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ।

 

মামলায় জর্জড়িত না’গঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

চরম অস্থিরতার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা। গত রোববার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি হলেও জামিন পাননি দলটির চেয়ারপারসন। আশা দেখেছিল ওইদিন দলের নেত্রী জামিন পাবেন। কিন্তু আদালত জানিয়েছেন বিচারিক আদালত থেকে মামলার রায়ের কপি আদালতে আসার পর আদেশ দিবেন। ফলে ঝুলে গেছে বেগম খালেদা জিয়ার জামিন। এমন পরিস্থিতিতে হতাশায় পড়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতাকর্মীরা। মামলার ঘানি টানছে কয়েক হাজার নেতাকর্মী। প্রায় ৭০ জন নেতাকর্মী এখনও নারায়ণগঞ্জ কারাগারে। জামিন মিলছেনা অনেকের। আত্মগোপনে হাজার হাজার নেতাকর্মী। প্রতিদিন উচ্চ আদালত থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আগাম জামিন নিচ্ছেন। নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নারায়ণগঞ্জে নাশকতা এড়াতে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার শুরু করে। এ পর্যন্ত জেলার সাতটি থানায় ১৩টি বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ। এতে ৬ শতাধিক নেতার নাম উল্ল্যেখ সহ আরো কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় প্রায় ৮০ জনের বেশি নেতাকর্মীকে। এর মধ্যে তিনজন আইনজীবী সহ মাত্র ১১ জন নেতাকর্মী জামিনে কারামুক্ত হন। প্রায় ২৫দিন যাবত কারাগারে রয়েছে অর্ধশতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীকে। একাধিকবার জামিন আবেদনের শুনানি হলেও জামিন মিলছে না এসব নেতাকর্মীদের। জানা গেছে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি সোনারগাঁ এলাকা থেকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় পৌর বিএনপি নেতা সালাউদ্দীন, কাউন্সিলর নাসিম পাশা, ছাত্রদল নেতা ওমর ফারুক টিটু সহ আরো বেশকজন। এরপর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম টিটুকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৪ ফেব্রুয়ারি মিশনপাড়ার বাসা থেকে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীবকে গ্রেপ্তার করে সদর মডেল থানা পুলিশ। এরপর কদিন পর সোনারগাঁও থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জেলা বিএনপির সেক্রেটারি অধ্যাপক মামুন মাহামুদকে। ৫ ফেব্রুয়ারি আড়াইহাজারের পাঁচরুখী এলাকা হতে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাউদ্দীন মোল্লা, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জুয়েল হোসেন সহ বিএনপির ৮ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই দিন সিদ্ধিরগঞ্জ সানারপাড় এলাকা থেকে মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার প্রধান ও আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট মাইনুদ্দীন রেজাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইতিমধ্যে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রবিবার হাইকোর্ট থেকে জামিন পান নজরুল ইসলাম আজাদ, সালাউদ্দীন মোল্লা, জুয়েল হোসেন, ছাত্রদল নেতা রাজীব মিয়া, এমডি মনির হোসেন, গাজী আহসান উল্লাহ, সুজন খান ও সুলতান উদ্দীন। এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ আদালত থেকে জামিন পেলে কারামুক্ত হন সাখাওয়াত হোসেন, আনোয়ার প্রধান ও মাইনুদ্দীন রেজা। মাত্র ১১ জন নেতাকর্মী জামিনে মুক্তি পেলেও বাকি প্রায় ৭০ জনের মত নেতাকর্মীরা এখনও রয়েছেন কারাগারে। কনডেম সেলে রাখা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীবকে। যেখানে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের রাখা হয়। একই স্থানে রাখা হয়েছে মামুন মাহামুদকে। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর সাখাওয়াত হোসেন খানও জানিয়েছিলেন বিএনপি নেতাকর্মীদের অন্ধকার কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। এদিকে আত্মগোপনে থাকা পলাতক নেতাকর্মীরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিচ্ছেন। এখনও অনেক নেতাকর্মীরা পলাতক রয়েছেন। বন্দর, সদর ও ফতুল্লার থানার প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী জামিন পেয়েছেন। সোনারগাঁয়ে ৭৫ জন নেতাকর্মী জামিন নিয়েছেন। মঙ্গলবার উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর সহ ১৩ জন নেতাকর্মী জামিন নিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে এক অস্থিরতার মধ্যে সময় পার করছে নারায়ণগঞ্জের বিএনপির নেতাকর্মীরা। বেগম খালেদা জিয়ার জামিন না হওয়ার কারনে নেতাকর্মীরা আরো বেশি হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন।

পানি সংকট নিরসনে ওয়াসার সাথে বসবেন সেলিম ওসমান

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২২নং ওয়ার্ড এলাকায় বিদ্যমান পানির সংকট নিরসনে আগামী বৃহস্পতিবার ওয়াসা কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনায় বসবেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। ওই দিন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ওয়াসা কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনায় বসে বন্দরে বিদ্যমান পানি সংকটের কারণ এবং সমস্যা সমাধানের সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাইবেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিনিধিদের সাথে বন্দরে বিদ্যমান পানির সংকট নিয়ে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন। এমপি সেলিম ওসমান সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি যে আপনারা এমন একটি সমস্যার কথা তুলে ধরতে আমার কাছে এসেছেন। আমার এলাকাবাসীর পক্ষে আপনারা কথা বলতে এসেছেন। আমি এইটুকুই বলবো আগামী বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে নিয়ে বসবো। তাদের কাছে জানতে চাইবো কেন সমস্যা সমাধানে বিলম্ব হচ্ছে। হয়তো বৃহস্পতিবার আলোচনার পর বলতো পারবে সত্যিকার অর্থে কতদিনে এই সমস্যার সমাধান হবে। সেই সাথে তিনি উল্লেখ করেন, এখনো পর্যন্ত স্থানীয় কোন জনপ্রতিনিধি ওয়াসার সমস্যা নিয়ে আমার কাছে আসেনি। বিভিন্ন সময় পত্রিকায় এবং সাংবাদিক ভাইদের সহযোগীতায় আমি বিষয়টি দেখেছি। যার পরিপ্রেক্ষিতে আমি ওয়াসা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। কথা বলার পর প্রতিবারই আমাকে আশ্বস্ত করা হয় যে আগামী সপ্তাহের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমার কাছে যখন সমস্যা নিয়ে আসা হবে তখন আমি কাজটি করতে পারবো। এমন ধরনের সমস্যা অথবা সিটি করপোরেশন এলাকার কোন সমস্যা যখনই আমার কাছে আবেদন করা হয় তখন আমরা করতে পারি। এ সমস্ত সমস্যা গুলোর সমাধান করতে হয়তো তাদের একটি ডিমান্ড আমার কাছে আসতে হবে অথবা তাদের নিজে গিয়ে এটি সমাধান করতে হবে। এটা সত্যি কথা যে ভোট সিটি করপোরেশনেরও আছে আবার একজন সংসদ সদস্যের আছে। জনগন আমাদের। আমরা জনগনের প্রতিনিধি।

সোনারগাঁয়ের শিক্ষার্থীদের পিকনিক বাস কুমিল্লার চান্দিনায় খাদে পড়ে পচিশ শিক্ষার্থী আহত

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সোনারগাঁয়ের পাড়াবো আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পিকনিক বাস খাদে পড়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ অন্তত ২৫জন আহত হয়েছে। তবে ওই পিকনিক বাসে বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক বা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছিল না। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলাধীন নূরীতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে সাত জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা ও ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীরা হলো নূরে আলম, শিলা, সুমনআরা, রিয়া, সুমাইয়া, সানজিদা, সাজিদ, শামীম, ঈশা, সুমন, সাইদুল ইসলাম, মাসুদ, ইমরান, সজিব, রিয়েল এবং অভিভাবক শিলা (২৫) ও  ড্রাইভার জাকির (২৮) সহ অজ্ঞাত আরও ৭-৮জন। শিক্ষার্থী মাসুদ জানায়, তারা সকলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পাড়াবো আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এবারের এসএসসি পরীক্ষা শেষে গতকাল মঙ্গলবার সকালে তারা ৪২জন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক কুমিল্লার কোটবাড়িস্থ শালবল বিহারে পিকনিকে আসে। পিকনিক শেষে ফেরার পথে নূরীতলা এলাকায় পৌঁছলে পিছন দিক থেকে দ্রুতগামী একটি বাস ওভারটেক করার সময় ধাক্কা দেয়। তখন বাসটি উল্টে খাদে পড়ে যায়। চান্দিনা থানার উপ-পরিদর্শক ডালিম জানান, হাইওয়ে পুলিশ ও চান্দিনা থানা পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। এদের মধ্যে ৭জনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির ইন-চার্জ জীবন কৃষ্ণ হাজারী জানান, দুর্ঘটনাস্থলে কোন শিক্ষার্থী বা অভিবাবক নিহত হয়নি। দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে।

টিপুর সাথে ছাত্রদল  নেতার হাতাহাতি !

 

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সাথে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদল নেতা রাফিউদ্দিন রিয়াদের সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতপ্রাঙ্গনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, সকালে মহানগর যুবদলের কয়েকজন নেতার সাথে আদালতে হাজিরা ও জামিনের কাজে যান রিয়াদ। এ সময় টিপুর সাথে দেখা হলে দুজনের মধ্যে কোন একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রিয়াদ টিপুকে মারতে উদ্যত হলে টিপু ও রিয়াদকে দুপাশে সরিয়ে দেয়া হয়। মহানগর ছাত্রদল নেতা রাফিউদ্দিন রিয়াদ জানান, আমি যুবদল ছাত্রদলের কয়েক নেতা জামিন ও হাজিরার জন্য আদালতপাড়ায় দাড়িয়ে ছিলাম। এমন সময় টিপু ভাই কথা বলতে থাকলে তাকে বলি, আপনারা মহানগর বিএনপি বিজ্ঞপ্তিতে যে মহিলা দলের নেত্রীদের গ্রেফতারের ঘটনায় পত্রিকায় ও ফেসবুকে নিন্দা ও প্রতিবাদ দিয়েছেন। তাতে আপনার আইডিতে সেখানে আমার মায়ের (নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলা দলের সাবেক আহবায়ক রাশিদা জামাল) পদ পদবি দেননি কেন? আমার মা তার জীবনের বেশীরভাগ সময়ই তো দলের জন্য ব্যয় করেছে। তখন টিপু ভাই আমাকে বলে, আমি এগুলি দেই নাই, আর তর মা’য় বিএনপি করে নাকি করলে তো মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালামের সাথে যোগাযোগ করতো দেখতাম, তার সাথে রাজনীতি করতো কর্মসূচী করতো। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে রিয়াদ বলেন, এসব কথা কি কালাম কাকা বলেছেন? আমি তাকে জিজ্ঞাসা করবো। তখন টিপু বলে জিজ্ঞাসা কর, পরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে পৌঁছালে উপস্থিত সকলে তাদেরকে দুইপাশে সরিয়ে দেয়। এ ব্যাপারে আবু আল ইউসুফ খান টিপুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কে বলে এসব কথা? আমি কি আমার দলের কর্মীদের সাথে কথা বলতে পারব না। কথা বর্ণণা আর হাতাহাতি করা তো আর এক না? এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রিয়াদ বলেন, জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটির শীর্ষ নেতাদের কাছে বিচার দাবি জানায়। একই সাথে আবুল কালাম এ ধরনের কোন কথা বলেছেন কিনা তাও তিনি প্রশ্ন রয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে আদালপাড়া বাহিরে একটি গলি আবু আল ইউসুফ খান টিপু-কে কে বা কাহার মারধর করে ছিল। তিনি এ ব্যাপারে ফতুল্লা থানা জিডিও করে ছিলেন। তৎকালীন গুঞ্জন ছিল বিএনপি এক নেতা ইশা রায় তাকে এই মারধর করে হয়েছিল।

 

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা আ’লীগের উদ্যোগে সামসুজ্জোহা ও চুনকা’র স্মরণসভা আজ

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ও ভাষা সৈনিক এ কে এম সামসুজ্জোহা ও সাবেক পৌরপিতা আলী আহম্মদ চুনকার স্মরণ সভা করবে জেলা আওয়ামী লীগ। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাইয়ের সভাপতিত্বে আজ মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর দুই নং গেট দলীয় কার্যালয়ে এই স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। সদর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন এই তথ নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানা, এই স্মরণ সভা আরও আগেই করার কথা ছিলো। নানা কারণে সেটি হয়নি। আজ মঙ্গলবার জেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে এটি অনুষ্ঠিত হবে।