আজ : মঙ্গলবার: ৮ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ইং | ২ জমাদিউস-সানি ১৪৩৯ হিজরী | ভোর ৫:৫৬
fevro
শিরোনাম
1

না’গঞ্জের উন্নয়নে এমপি-মেয়রের কাছে যাব

Badal-nj | ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ | ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন তাদের পরিষদে ২৪টি প্রকল্প ইতোমধ্যে গৃহীত হয়েছে যার মধ্যে অনেকগুলো বাস্তবায়ন হয়েছে অনেকগুলোর প্রকল্প চলমান আছে। এছাড়া তিনি আরো ১৮টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে জেলা পরিষদের বিগত এক বছরের কর্মকান্ড তুলে ধরতে আয়োজিত সভায় তিনি এসব উন্নয়নের খবর জানান। তিনি আরও বলেন, নারায়নগঞ্জের উন্নয়ন কাজ শেষ করতে মেয়র ও এমপির সহযোগিতা প্রয়োজন হবে কী না জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘যখন যাঁর কাছে যাওয়া প্রয়োজন যাবো। আমি আশাবাদী তাঁরা আমাকে সহযোগিতা করবেন।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সদর ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. আলাউদ্দিন, ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সোনারগাঁ ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম, ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. ফারুক হোসেন, ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. নূরে আলম খাঁন, আড়াইহাজার ১১নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান রোমান, ১২নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. সিরাজুল ইসলাম ভূঞা, আড়াইহাজার ৪নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য অ্যাডভোকেট পারভিন আক্তার কবিতা প্রমুখ। আনোয়ার হোসেন জানান, ২০১৬ ও ১৭ অর্থ বছরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদে রাজস্ব বরাদ্দ ছিল ২০ কোটি ৯০ লাখ টাকা আর এশিয়ান উন্নয়ন সংস্থা (এডিপি) কর্তৃক ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৮০ মিটারের ১০টি ড্রেন, ১৫ হাজার ৫৯০ মিটারের ৭৩টি রাস্তা, ৮০২ মিটারের ৪টি বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। ১৬টি স্কুল, ৩৯টি মসজিদ, ঈদগাহ, ৮টি মন্দির, ২৩টি মাদ্রসা, ৮টি কবরস্থান প্রকল্পের উন্নয়ন করা হয়েছে। ৯৫ জোড়া আসবাবপত্র বিভিন্ন স্কুল কলেজকে অনুদান দেওয়া হয়েছে। ১২টি ঘাটলা, ২টি কালভার্ট, ৮৬০ মিটারের ৩টি গাইড ওয়াল, ৭টি ল্যাট্রিন করা হয়েছে। গরীব অসহায় মানুষের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষে ৪৫টি রিকশা ও ভ্যান বিতরণ, প্রতিবন্ধী অসহায় মানুষের মধ্যে ৮৭টি হুইল চেয়ার, নারীদের প্রশিক্ষণ শেষে স্বাবলম্বী করার জন্য ৫৭টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। যার চলমান পক্রিয়া। বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করতে ৫টি সাবমারসিবল পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও নির্মাণাধীন ও প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে ১টি বধ্যভূমি, ২টি কলেজ উন্নয়ন, ২২টি কম্পিউটার প্রদান, ৩টি ডাকবাংলো, ২টি বিজয়স্তম্ভ, ২টি কলেজ ও ২টি ব্রীজ নির্মাণ। চলমান ও বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প সম্পর্কে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘চাষাঢ়া গোলচত্বরের বিজয়স্তম্ভ জেলা পরিষদের নির্মাণাধীন হলেও এর কোন স্মৃতিফলক নেই। অব্যবস্থাপনায়, অবহেলায় নোংরা আর্বজনায় নষ্ট হচ্ছে। এটা আধুনিক ভাবে করতে প্রকল্প করা হচ্ছে। একটি বধ্যভূমি সংরক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন এসেছে। এর কাজও চলমান আছে। রূপগঞ্জে ২ কোটি ২৯ লাখ টাকায় ডাক বাংলো নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শেষের পর্যায়। যা কিছুদিন পর উদ্বোধন করা হবে। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে কালভার্ট নির্মাণ কাজ চলমান আছে। যার ফলে জেলা প্রশাসকের সামনে দৃষ্টিনন্দন হবে। নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদে একটি আধুনিক কনফারেন্স রুম করতে চাই। মন্ত্রণালয়ে বাজেট দিয়ে আসছি। যার অনুমোদন হয়ে আসছে। এটা টেন্ডার পক্রিয়ায় যাবো। নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ অফিসটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান কিন্তু বাইরে থেকে এটা বোঝা যায় না। তাই জেলা পরিষদ অফিসের সামনে দৃষ্টিনন্দন ফটক সহ বাগন ও সৌন্দর্য বর্ধন করা হবে। নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের সামনে জেলা পরিষদের ৭ শতাংশ জায়গা আছে। সেখানে বাণিজ্যিক ভবন করবো। এর ডিজাইনের কাজ শেষ। মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। এ বাণিজ্যিক ভবনের জন্য রাস্তায় যেন যানজট সৃষ্টি না হয় সেই জন্য গাড়ি পাকিংয়ের জন্য সুব্যবস্থা থাকবে। আর এ বাণিজ্যিক ভবনের আয় দিয়ে জেলা পরিষদে বিভিন্ন খরচ করা হবে। চাষাঢ়া ডাক বাংলো থেকে গর্ভমেন্ট গালর্স স্কুল পর্যন্ত রাস্তাটির অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে পার্ক করা হবে। তবে সরকারি এখান দিয়ে ৮ লেনের একটি রাস্তা করার প্রকল্প রয়েছে। ওই প্রকল্পের জন্য এখনই এর কাজ ধরা সম্ভব হচ্ছে না। সরকার যদি এখান দিয়ে রাস্তা করে তাহলে রাস্তার জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়া হবে। এজন্য এখনই কোন প্রকার অভিযান শুরু হবে না।’ জেলা পরিষদের অনেক জায়গা আছে যেগুলো অবৈধ ভাবে দখলদারদের কাছে রয়েছে। সেসব জায়গাগুলো অনুসন্ধান করে বের করে সেই সব জায়গাগুলোতে ভাস্কর্য ও স্মৃতির মিনার নির্মাণ সহ বিভিন্ন কাজ করা হবে। আমরা চাই নারায়ণগঞ্জ সুন্দর করতে। পানম নগরী, হাজীগঞ্জ দুর্গ, সোনাকান্দা দুর্গ, গিয়াসউদ্দিন আযম সাহের মাজার, কদমরসুল দরগা, লোকনাথ মন্দির সহ পুরানো ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে নতুন ভাবে কিছু করার জন্য চেষ্টা করবো। ২০১৭ সালে জেলা পরিষদের উদ্যোগে ৬০জন অস্বচ্ছল ও অসহায় মুক্তিযোদ্ধাকে ১০ হাজার টাকা সম্মানী স্বরূপ অনুদান প্রদান করা হয়। তবে এবার তা বাড়িয়ে আরো ৭০ জনকে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হবে। এজন্য কৃতি শিক্ষার্থীদের আবেদন পত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। যার জন্য জেলা পরিষদের সদস্যরা সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলায় আবাসন সমস্যা সমাধানের জন্য ডনচেম্বার এলাকায় জেলা পরিষদের নিজস্ব জায়গায় ২০ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। এজন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছ, পেশিশক্তির নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসীদের প্রভাব বিস্তার করতো। তবে ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া অনলাইনে শুরু হয়েছে। যার মাধ্যমে ৫টি টেন্ডার কাজও করা হয়েছে। এখনও আর পেশিশক্তির নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাসীদের প্রভাব ও ব্যবসায়ীদের কোন প্রকার প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এসব কিছুর জন্য সকলের সহযোগিতা চাই। শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *