আজ : মঙ্গলবার: ৮ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ইং | ২ জমাদিউস-সানি ১৪৩৯ হিজরী | ভোর ৫:৫৮
fevro
শিরোনাম
11

নারায়ণগঞ্জে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা আত্মগোপনে

Badal-nj | ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ | ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে গ্রেফতার আতংক দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার বেগম খালেদা জিয়া আদালত থেকে ফেরার পথে পুলিশের সাথে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার রাত থেকে রাজধানীতে ধরপাকড় শুরু হয়। বিভিন্ন নেতার বাড়িতে পুলিশ হানা দেয়া ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ^র চন্দ্র রায়সহ একাধিক নেতা গ্রেফতারের পর নারায়ণগঞ্জের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা মঙ্গলবার রাতেই বাড়ি ছাড়তে শুরু করেন। ইতিমধ্যে অনেকেই আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। যে কারণে কেন্দ্রীয় নেতার গ্রেফতারের পরও পর নারায়ণগঞ্জে কোন প্রতিবাদ সমাবেশ হতে দেখা যাচ্ছে না। এদিকে দলের একাধিক নেতা গ্রেফতার আতংকে নিজের অবস্থানসহ কোন প্রকার মন্তব্য করতে রাহি হচ্ছেন না। জানা যায়, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা একসাথে বৈঠক করে করনীয় ঠিক করার কথা থাকলেও দলের শীর্ষ নেতাদের বাড়িতে গ্রেফতার অভিযান ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে গ্রেফতারের পর উক্ত বৈঠকও বাতিল করা হয়েছে। দিনটিকে ঘিরে সারাদেশের মত নারায়ণগঞ্জের মানুষের মধ্যেও কাজ করছেন উদ্বেগ উৎকণ্ঠা। তার উপর এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন রায়ের তারিখ পড়ায় দলের কর্মসূচী নিয়েও চিন্তায় রয়েছেন দলটির নেতারা। এদিকে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে এদিন কোন অঘটন ঘটানোর চেষ্টা করা হলে কঠোরভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। তিনি বলেছেন, রায়কে ঘিরে নৈরাজ্য করার পরিকল্পনা হচ্ছে, নারায়ণগঞ্জে এ ধরনের কোন কিছু করার চিন্তা করা হলে রাজপথে আমি থাকবো, আওয়ামীলীগের সবাইকে নিয়ে থাকবো। দলের অন্যান্য নেতারা তেমন সরব না থাকলেও শামীম ওসমান ও তার অনুগামীরা বিএনপির যে কোন কর্মসূচি বানচাল করতে মাঠে থাকবে বলে ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন। বিএনপির একাধিক নেতা জানান, তাদের মধ্যে মারাত্মক গ্রেফতার ও আটক আতংক রয়েছে। কারণ নারায়ণগঞ্জের বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সবার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে। কারো কারো বিরুদ্ধে কয়েক ডজন মামলাও আছে। এসব মামলায় পুলিশ তাদের হয়রানি করবে সে আশংকা তাড়া করে বেড়াচ্ছে। ছাত্রদলের একজন নেতা জানান, তাদের যে কোন সময়ে গ্রেপ্তার করা হতে পারে আগাম বার্তা এসেছে। সে কারণে তারা গ্রেপ্তার আতংকে ভুগছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৮ ফেব্রুয়ারী দিন ধার্য করেছেন আদালত। মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ দিন ধার্য করেন। এর আগে ২৩৬ কার্যদিবসে ৩২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, ২৮ কার্য দিবস আত্মপক্ষ সমর্থন ও ১৬ কার্য দিবস যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে বিচারক রায়ের জন্য এ দিন নির্ধারণ করেন। মামলা দায়েরের ১০ বছর পর এ রায় ঘোষণা করা হচ্ছে। সাবেক কোনো প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতির বিচারের রায় বাংলাদেশে এটাই প্রথম। এর আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। তিনি প্রায় ছয় বছর সাজা খেটেছেন। নারায়ণগঞ্জ পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, নাশকতা করবে কিংবা নাশকতায় জড়িত ছিল এমন অনেক নেতাকে টার্গেট করা হয়েছে। তাদের গতিবিধি নজরে রাখা হয়েছে। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে কোন প্রকার নাশকতা মূলক কর্মকান্ড করার চেষ্টা করা হলে কঠোর হস্তে তা দমন করা হবে। এ জন্য বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনসহ বিশদলীয় মোর্চর নেতা-কর্মীদের উপর নজরধারী বৃদ্ধি করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *