আজ : মঙ্গলবার: ৮ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ইং | ২ জমাদিউস-সানি ১৪৩৯ হিজরী | ভোর ৫:৫৬
fevro
শিরোনাম
24

নূর হোসেন জেল থেকেও নিয়ন্ত্রণ করছে তার সা¤্রাজ্য

Badal-nj | ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ | ১:০০ পূর্বাহ্ণ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
আলোচিত সাত খুন মামলায় ফাঁসির দ- হয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জের ‘নব্য এরশাদ শিকদার’খ্যাত আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেনের। বর্তমানে তিনি ফাঁসির আসামী হয়ে কনডেম সেলে মৃত্যুর প্রহর গুণছেন। তবে, এই নূর হোসেন জেলে থাকলেও তাঁর সা¤্রাজ্য ঠিকই চলছে। আর সেসব চালাচ্ছেন তাঁর ভাই, ভাতিজা, ভগ্নিপতিসহ তাঁর ক্যাশিয়ার! অবৈধ ব্যবসা, সরকারি জায়গা দখল করে লেগুনা স্ট্যান্ড, দোকান, বালুর ব্যবসা, ট্রাকস্ট্যান্ড থেকে এখনও নিয়মিত চাঁদা পেয়ে থাকে নূর হোসেন বাহিনীর ওই সদস্যরা। ধারণা করা হচ্ছে, এসব অবৈধ টাকার ভাগ এখনও নূর হোসেনের কাছে পাঠানো হয়। স্থানীয়রা বলছে, ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ লোক হওয়ার সুবাধে নূর হোসেন বাহিনী এখনও এলাকার মধ্যে রামরাজত্ব কায়েম করে চলেছে। তাঁদের কাছে সাধারণ মানুষও একরকম জিম্মি। সম্প্রতি নূর হোসেন বাহিনীর কাউন্সিলর আরিফুল হাসানের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে কিডনি নষ্ট করে ফেলার অভিযোগ ওঠেছে। এ অভিযোগে ভুক্তভোগিরা সাংবাদিক সম্মেলনও করেছে। এদিকে এই বাহিনীর সদস্য নূর হোসেনের শ্যালক নূরে আলম খান সোনারগাঁ থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। গত বছর রাজধানীর মহাখালীতে লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাওয়া পিস্তলসহ ধরা পড়লেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় পালিয়ে বাঁচেন তিনি। গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি ৯নং ওয়ার্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হয়েছেন। যা অনেককেই হতবাক করেছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২নং ওয়ার্ডে নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া আসামি ইকবাল হোসেনের কাছে হেরে গেছেন। ৭ খুনের মামলার এজাহারে ইকবাল ছাড়াও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি ইয়াছিনকে আসামি করা হয়েছিলো। এ নিয়ে বিরোধ দেখা দেয় পরে। ইয়াছিনসহ একটি পক্ষ বিউটির বিরোধিতা করে। নূর হোসেনের অনুসারীরাও তাঁদের পক্ষ নেয়ায় বিজয়ী হন ইকবাল। অপরদিকে ৩নং ওয়ার্ডে সর্বশেষ নির্বাচনে আবারও জিতেছেন নূর হোসেনের ভাতিজা শাহ জালাল বাদল। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক। ৭ খুনের পর তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে এলাকায় ফিরে এলে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। ৪নং ওয়ার্ডে নূর হোসেনের ক্যাশিয়ার আরিফুল হক হাসানও এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জিতেছেন। গত বছরের ২৮ এপ্রিল মদসহ আরিফুলকে গ্রেফতার করেছিল র্যা ব। কাউন্সিলর হওয়ার পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। সবশেষ তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করা হয়েছে, তিনি তাঁর বাহিনী সমেত এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে কিডনি নষ্ট করে দিয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগি সংবাদ সম্মেলনও করেন। কিন্তু পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেই অভিযোগ ওঠেছে। নূর হোসেনের ভাই নুরুজ্জামান জজ এলাকায় ফিরেই কাঁচপুর সেতুর ঢালে ‘মেসার্স জেরিন ট্রেডার্স’ নামে সাইনবোর্ড দিয়ে বালুর ব্যবসা শুরু করেছেন। শিমরাইল ট্রাক টার্মিনালটির নিয়ন্ত্রণ ছিল নূর হোসেনের সহযোগী মনিরের ভাই ছোট নজরুল ও জহিরুলের হাতে। তাঁর ভাতিজা কাউন্সিলর আরিফুল ও কাউন্সিলর বাদলের হাতে এখন ট্রাকস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ। কাউন্সিলর নূর হোসেনের দখলে থাকা শিমরাইলের টেম্পো ও লেগুনাস্ট্যান্ড এখন তাঁর আপন ভাতিজা সোহেল ও তাঁর সাথে রয়েছে নূর হোসেনের ছোট ভাই বিএনপি নেতা নুরউদ্দিন। শিমরাইল স্ট্যান্ডে টেম্পো চলে ১০০টি, লেগুনা ৬০টি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা ৫০টি। সরেজমিনে দেখা যায়, টেম্পোচালকদের কাছ থেকে সোহেলের কর্মচারী চাঁদা আদায় করছেন। দিনে প্রতিটি টেম্পো থেকে ৮০ টাকা, লেগুনা থেকে ১০০ টাকা এবং অটোরিকশা থেকে ১০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। মনা বলেন, ‘সোহেল ভাই এই স্ট্যান্ড লিজ নিয়েছেন। টেম্পো ও লেগুনা থেকে প্রতিদিন টাকা আদায় করা হয়।’ এছাড়া এখানকার পরিবহন সেক্টরের দখল নিয়েছেন নূর হোসেনের ভগ্নিপতি রতন মোল্লা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে ব্যস্ততম মুক্তি সরণির মোড়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) জলাশয় ভরাট করে প্রাইভেট কারের স্ট্যান্ড গড়ে তোলেন নূর হোসেন। এখন এই স্ট্যান্ড দখলে নিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী আমিনুল হক ওরফে রাজু। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতিও। জানা গেছে, এই স্ট্যান্ডে গাড়ি আছে ১৪০টি। প্রতি মাসে প্রতিটি গাড়ি থেকে তিন হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *