আজ : মঙ্গলবার: ৮ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ইং | ২ জমাদিউস-সানি ১৪৩৯ হিজরী | ভোর ৫:৫৩
fevro
শিরোনাম
3

রাজনৈতিক চর্চার অভাব ফতুল্লা আওয়ামীলীগে

Badal-nj | ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ | ২:২৮ পূর্বাহ্ণ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
দীর্ঘদিন ধরে একই কমিটি’র ওপর ভর করে চলছে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগ। এছাড়া এই অঞ্চলে নেই রাজনৈতিক চর্চা। ফলে নতুন নেতৃত্বও সৃষ্টি হচ্ছে না। আর এসব কারণে ক্ষমতাসীন এই দলটি আগামীতে নেতৃত্ব সঙ্কটে পড়বে, এমনটাই মনে করছেন অনেকে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামীতে নতুন করে কমিটি গঠন করতে গেলেই ফতুল্লা আওয়ামী লীগ’র মধ্যকার নেতৃত্ব সঙ্কট স্পষ্ট হয়ে ওঠবে। যদি এমন পরিস্থিতি হয়, তবে বয়সের ভারে ন্যূব্জ এম সাইফউল্লাহ বাদলের কাঁধেই পুনরায় ভর করতে পারে থানা আওয়ামী লীগের কমিটি। আর তা-ই যদি হয়, তবে থানা আওয়ামী লীগ কমিটি গতিশীল হবে না বলেও মনে করা হচ্ছে। সূত্র বলছে, দলকে গতিশীল করতে নেতৃত্বের বলিষ্ঠতা প্রয়োজন, যা বয়ঃবৃদ্ধদের ক্ষেত্রে এটা বেমানান। এ জন্য উদ্যোমী নেতৃত্ব দলে অত্যাবশ্যক। আর তা না হলে ভবিষ্যতে আন্দোলন সংগ্রামে মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কেননা, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগ কমিটি’র সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে বয়সের ভারে ন্যূব্জ। তাঁদের দ্বারা আগামীতে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব সম্ভব নয় বলে মনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সভাপতির কারণে অনেক ত্যাগী নেতা এখন রাজনীতি ছেড়ে নিয়েছে। কেননা সভাপতি বাদলের বিরুদ্ধে কথা বললেই তিনি হয়ে যান বিএনপি-জামাতের লোক। অথচ এক সময়কার বিএনপি-জামাতের ক্যাডাররা তার শেল্টারে নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে বলে সাধারণ নেতাকর্মীদের অভিযোগ। এছাড়া ফতুল্লায় তাদের শেল্টারে থাকা নামধারী আওয়ামীলীগাররা এখন দাপুটের সাথে দিন কাটাচ্ছে। রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে, দলের স্বার্থে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। নতুনদের জন্য জায়গা ছেড়ে দেয়ার চর্চা করতে হবে। চেয়ার আকড়ে বসে থাকলে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হবে না। রাজনীতিতে আগ্রহ হারাবে অনেকে। তাই শুদ্ধ রাজনীতির চর্চার মধ্য দিয়ে দলের স্বার্থে নতুন নেতৃত্বের বিকল্প নেই। অপরদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ’র অভিযোগ, এখানকার নেতাদের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির প্রবণতা নেই। তাঁরা মৃত্যুর শেষ দিন পর্যন্ত চেয়ার আকড়ে থাকতে চায়। এ কারণে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছে না। ফলে পুরনোদের একচেটিয়া আধিপত্যই থাকে দলের ভেতরে। আর দুর্দিনে দলের অবস্থা থাকে খাপছাড়া। দলটির স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, যে কোনো সময় ফতুল্লা থানাসহ জেলা সব থানা কমিটিই ভেঙ্গে দেয়া হবে। তবে অন্যত্র নেতৃত্ব বদল হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ফতুল্লা থানার ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রম ঘটতে পারে। এবারও এম সাইফউল্লাহ বাদলই সভাপতি পদ আকড়ে রাখবেন। সাধারণ সম্পাদক সেই একই অবস্থা। তাঁদের মতে, তাঁদের ছাড়া এখানকার আওয়ামী লীগেরও কোনো গতি নেই। কেননা, তারা কখনোই তাঁদের বিকল্প কোনো নেতা তৈরি করেন নি। যা তাঁদেরই অদূরদর্শিতা। পাশাপাশি নেতৃত্ব আকড়ে ধরার লোভও রয়েছে তাঁদের। এ কারণে তাঁরাও চায়নি নতুন নেতৃত্ব তৈরী হোক। নারাযণগঞ্জের প্রতিটি থানার মধ্যে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক ভাবে সব চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *