আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:১৪
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

তৃনমূলের কাছে শামীম ওসমান

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এমপি শামীম ওসমানের কাছে তাদের হতাশা আর ক্ষোভ বলতে শুরু করেছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কয়েকটি কর্মী সভায় মাঠ পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকর্মী ওই ক্ষোভের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। শামীম ওসমানও এসব নেতাদের কথা শ্রবণ করেন এবং বিষয়গুলো নোট করেন। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, ইতোমধ্যে গত ১২ মার্চ পাগলা সিসিলি কমিউনিটি সেন্টারে কুতুবপুর ইউনিয়ন, গত ১৩ মার্চ পাইলট স্কুল মাঠে ফতুল্লা ইউনিনের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মী সভায় উঠে আসে অনেক নেতাকর্মীরা হতাশার কথা। কেউ কেউ তুলে ধরেন এলাকার উন্নয়নের চিত্র। কেউ বা তুলে ধরেন আরো কী করা যেত, কি বাকি আছে সেসব একটি পরিকল্পনা। বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আবার শামীম ওসমানের সামনে তুলে ধরেছেন অবমূল্যায়নের বিষয়গুলো। মিডিয়া দ্বারা কখনো আক্রমনের শিকারও হচ্ছেন উঠে আসে কয়েকজনের কণ্ঠে। প্রসঙ্গত তৃণমূল নেতাকর্মীদের আরো কাছাকাছি েিয় তাদের কাছ থেকে বক্তব্য শুনে সামনের রাজনীতি ও উন্নয়নের পথ তৈরি করতে যাচ্ছেন এমপি শামীম ওসমান। সেই সঙ্গে তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুত হচ্ছেন। এসব কারণে এখন থেকেই তিনি ঘর গোছাতে শুরু করেছেন। চাচ্ছেন নির্বাচনের আগে নিজ নির্বাচনী এলাকার সবগুলো ইউনিয়ন, থানা ও পাড়া মহল্লার তৃণমূল নেতাকর্মীদের বক্তব্য শুনে তাঁদের আরো কাছাকাছি যেতে। এ লক্ষ্যে আপাতত কর্মীসভা শুরু করেছেন তিনি। শামীম ওসমানের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফউল্লাহ বাদল জানান. আজ বৃহস্পতিবার ইসদাইর হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ে ফতুল্লা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ২য় দফা, শুক্রবার কুতুবপুর প্রাইমারী স্কুলে কুতুবপুর ইউনিয়ন, শনিবার হরিহরপাড়া স্কুলে এনায়েতনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, রবিবার দেওভোগ হাজী উজির আলী স্কুলে কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, সোমবার পশ্চিম মাসদাইর প্রাইমারী স্কুলে এনায়েতনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ২য় দফা, ২০ মার্চ বক্তাবলী মাদ্রাসায় বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও ২১ মার্চ বাংলা ভবনে ফতুল্লা থানা মহিলা আওয়ামীলীগের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হবে।

কালাম-সাখাওয়াতের দ্বন্দ্বের নেপথ্যে সুবিধাবাদীরা

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালাম ও সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের মাঝে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক অনেক আগে থেকেই। কিন্তু গত প্রায় এক বছর যাবত সে সম্পর্কে অনেকটাই ভাটা পরেছিলো। সম্পর্কের অবনতি এতোটাই হয়েছিলো যে, কেউ কারো মুখ পর্যন্ত দেখতো না, কথা বলাতো দুরে থাক। আর মধুর এই সম্পর্কের মাঝে ফাটল ধরানোর জন্য দলের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কয়েকটা কাল সাপকে দায়ী করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। সুবিধাবাদী এই শ্রেণীর স্বর্থ সিদ্ধির জন্য তাদের দুজনের মাঝে বৈরীতার সৃষ্টি করেছিলো বলে মত তৃণমূলের। যার প্রমাণ সে কাল সাপদের সকল ষড়যন্ত্র পিছনে ফেলে আবারো সেই পুরানো সম্পর্কে ফিরে যাচ্ছেন আবুল কালাম ও সাখাওয়াত, এক সাথে কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন আর হাস্যোজ্জল মুখে করছেন মত বিনিময়। সূত্র মতে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালাম ও সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান দলীয় ও সাংগঠনিকভাবে ছিলেন এক ও অভিন্ন। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দীতার জন্য প্রথমে চেয়ারপার্সণের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার ও পরে এড. আবুল কালাম ও মো: গিয়াসউদ্দিনকে কেন্দ্রে থেকে বলা হয়। কিন্তু তারা তিন জনই নির্বাচনে অংশ নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তখন প্রস্তাব দেওয়া হয় নারায়ণগঞ্জ বারের সাবেক সভাপতি ও চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলার প্রধাণ কৌশলী এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে। কেন্দ্রের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে সাখাওয়াতও রাজি হয়ে যান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করতে এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে হেরে যান সরকার দলীয় মেয়র প্রার্থী ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর কাছে। সিটি নির্বাচনের পর দেশে শুরু হয় রাজনৈতিক টানাপোড়েন। সেই অস্থির অবস্থায়ও এড. আবুল কালাম ও এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের মাঝে কোন বিভেদ পরীলক্ষিত হয়নি। কিন্তু অকষ্মাৎ তৃতয়ি একটি পক্ষের উস্কানীতে সে সম্পর্কে ফাটল ধরতে শুরু করে। আবুল কালামের কাছে ঘনিষ্ট হতে সে কুচক্রি মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধমসহ নানাভাবে সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে অপ প্রচারে মেতে উঠে। আর এতে করে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে দীর্ঘদিন একসাথে রাজনীতি করা আবুল কালাম ও সাখাওয়াত হোসেন খানের মাঝে। একটা সময় সে বিভেদ এতোটাই চরম আকার ধারন করে যে, এক অনুষ্ঠানে আর এ দুজনকে একসাথে দেখা মিলেনি বহুদিন। কিন্তু সকল ষড়যন্ত্র আর চরাই উৎরাই পেরিয়ে দলীয় চেয়ারপার্সণের সাজার প্রতিবাদে ডাকা কর্মসূচিতে আবারো এক সাথে দেখা মিলে এড. আবুল কালাম ও এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের। যদিও তাদের এ মিলনে গাত্রদাহ শুরু হয়ে যায় সে কুচক্রি মহলের। আর তাই নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে মহানগর বিএনপি’র মানববন্ধনে সাখাওয়াতকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে মাত্র আড়াই মিনিটেই শেষ করা হয় সে মানববন্ধন, যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে রাজনৈতিক অঙ্গণে। কিন্তু কাল সাপের ছোবলকে উপেক্ষা করে প্রকৃতির নিয়মেই মিলে যান এড. আবুল কালাম ও এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। এখন যে কোন কর্মসূচিতে তারা এক সাথে অংশগ্রহন করেন এবং করেন মত বিনিময়। তাই এ সম্পর্ক বজায় রাখতে সে কাল সাপদের চিহ্নিত করে তাদের কাছ থেকে এ দুজনকে সাবধান থাকার অনুরোধ জানিয়েছে দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

বঙ্গবন্ধুর কৃতিত্ব মুছতে চেয়েছিল কাপুরুষেরা : সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেছেন, এই মার্চ মাসেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলো। আর আর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু এদেশের অবহেলিত, নিপীড়িত পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংবিধান প্রতিষ্ঠিত করেন। কিন্তু যারা আমাদের সার্বভৌমত্ব স্বাধীন রাষ্ট্র কে মেনে নিতে পারিনি সেই কাপুরুষের দল স্বপরিবারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে হত্যা করে। তারা বঙ্গবন্ধু কে হত্যার মধ্য দিয়ে তার কৃতিত্ব মুছে ফেলতে চেয়েছিল। গতকাল বুধবার বিকেলে ফতুল্লা ইসদাইরস্থ পৌর ওসমানী স্টেডিয়ামে সমাজসেবা অধিদফতরধীন ঢাকা বিভাগীয় প্রতিষ্ঠান সমূহের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথাগুলো বলেন।  মন্ত্রী আরো বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর পর জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর পিতৃ মাতৃহীন ছেলে মেয়েদের কথা বিগত দিনে কখনো কোন সরকার আসলেও চিন্তা করেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় এসে পিতৃত্ব মাতৃত্বহীন এই ছেলে মেয়েদের মানুষের মত মানুষ গড়ার সুমহান প্রত্যয় নিয়ে তিনি আগামী দিনের আলোর পথে নিয়ে যাওয়ার সকল উদ্যোগ গ্রহণ করেন। দেশের অবহেলিত ও নিপীড়িত মানুষের জন্য কাজ করে তিনি আজ বিশ্বের কাছে নারী নেত্রী হিসেবে প্রশংসিত। তাই তোমাদের কে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়তে ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মিশন ও ভিশন বাস্তবায়ন করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। ঢাকা বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক তপন কুমার সাহা’র সভাপতিত্বে ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ মিয়া, এএসপি (ক-সার্কেল) মো: শরফুদ্দীন, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তাজমীন জেবিন বিনতে শেখ, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রীর পিএস মো: হাবিবুর রহমান, এপিএস মো: নাসিম আহমেদ প্রমুখ। পরে সমাজসেবা অধিদফতরধীন ঢাকা বিভাগীয় প্রতিষ্ঠান সমূহের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

জেলা আ’লীগের তিন নেতাকে নিয়ে ধুম্রজাল

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

কথায় আছে- পাটাপোঁতার ঘষাঘষি, মরিচের মরণ! ঠিক যেন তেমনটাই হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগে শীর্ষ তিন নেতার ক্ষেত্রে বলে দাবী করেছে তৃণমূল। অর্থাৎ, টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল আর যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ¦ জাহাঙ্গীর আলমের মাঝে মনমালিন্যের সৃষ্টি হলেও বদনামী হতে হয়েছে সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইকে। শুধুমাত্র জাহাঙ্গীর আলমের একটি বেফাঁস মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই আব্দুল হাইকে সমালোচিত হতে হয়েছে বলে দাবী করেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দরা। অথচ, সেই ভিপি বাদলের সাথেই পরক্ষণে এক টেবিলে বসে চা পান করা থেকে আড্ডায় মগ্ন থাকতে দেখা গেছে জাহাঙ্গীর আলমকে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জাহাঙ্গীর আলমের একটি পোস্ট করা ছবি দেখে তৃণমূলের নেতৃবৃন্দরা এমনই মন্তব্য করেন। তারা বলেন, পাটা-পোঁতার ঘষাঘষির মত বিপি বাদল ও জাহাঙ্গীর আলম ঝগড়া করলেও তাদের সেই ঘষাঘষিতে আব্দুল হাইকে মরিচের মত পড়ে সমালোচনার ভাগিদার হতে হচ্ছে। যা দলের জন্য শুভকর নয়। দলীয় সূত্রে জানাগেছে, বিগত ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইকে সভাপতি, এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদলকে সাধারন সম্পাদক ও ডা: সেলিনা হায়াত আইভীকে সিনিয়র সহ-সভাপতি করে তিন সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটির ঘোষণার প্রায় বছর খানেক পর ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর গত ১৫ জানুয়ারী সকাল সাড়ে ১০ টায় শহরের ২ নং রেলগেটস্থ কার্যালয়ে সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির ওয়ার্কিং কমিটির প্রথম বৈঠকে ১০ ফেব্রুয়ারী টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। কিন্তু অনিবার্য কারনে এদিন আর টুঙ্গিপাড়ায় যেতে পারেনি জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা। পরবর্তীতে ১৭ ফেব্রুয়ারী টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণের সিদ্ধান্ত নেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই। কিন্তু সেই কর্মসূচীও স্থগিত করা হয়। সর্বশেষ সর্বসম্মতিক্রমে ৩ মার্চ টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা আওয়ামীলীগ। যার প্রেক্ষিতে গত ৩ মার্চ সকাল ৭ টায় শহরের ২ নং রেলগেটস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিশাল বহর নিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা। টুঙ্গিপাড়ায় পৌছানোর পর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদল ও সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর নেতৃত্বে জেলার নেতৃবৃন্দরা স্বাধীন বাংলার স্থপতি ও স্বপ্নদ্রষ্টা তথা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করে দোয়া মোনাজাত করেন। কিন্তু সেইদিন টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারতে ঐক্যের শপথ করে উল্টো ভাঙ্গনের কবলে পড়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ! নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার পর তাকে রেখেই পৃথকভাবে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই ও সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রথমে বঙ্গবন্ধুর মাজারে পুস্পস্তর্বক অর্পণ করায় যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ¦ জাহাঙ্গীর আলমের করা একটি মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এখন দলে ভাঙ্গনের শংকা করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। মেয়র আইভীকে নিয়েই বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করা হলেও আব্দুল হাইয়ের এই দাবীকে মিথ্যা দাবী করেন জাহাঙ্গীর আলম। আর আইভীকে রেখেই জেলা আওয়ামীলীগের একক শ্রদ্ধাঞ্জলীর নেপথ্যে এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদলের একগুয়েমিকেও দায়ী করেন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি অভিযোগ করেন, আব্দুল হাই মত না দিলে মেয়রকে রেখে কিছুতেই শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারতো না জেলা আওয়ামী লীগ। তিনি সম্মতি দিয়েছেন বলেই সেদিন মেয়রকে রেখেই শ্রদ্ধা জানানোর পর্বটি শেষ হয়েছে। জাহাঙ্গীর আলম আরো অভিযোগ করেছিলেন, শুধু টুঙ্গিপাড়াতেই নয়, ধানমন্ডির ৩২ নম্বরেও একই কাজ করেছিলেন আব্দুল হাই ও আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল। আর এসব কিছুর নেপথ্যে জড়িত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল। তিনিই আব্দুল হাইকে দিয়ে এই বিভাজনের কাজ করাচ্ছেন। আর আব্দুল হাই বাদলকে ভয় পান বলেই কোন প্রতিবাদ করেন না। তখন জাহাঙ্গীর আলমের এমন মন্তব্যে জেলা আওয়ামীলীগে বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হলে বিনাদোষে সমালোচিত হন আব্দুল হাই।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে লক্করঝক্কর গাড়ির হিড়িক

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ির এ যেন এক নতুন মেলা। গাড়ি চালনোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, এমন আইন থাকলেও সে আইনের তোয়াক্কা করছে না ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন গণপরিবহনের চালকেরা। এর ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে নানা রকম দুর্ঘটনায় ঘটছে প্রানহানি। আর এ ব্যাপারে দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগও কোনো নজরদারি করছেন না। যার ফলে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলরত গাড়ি চালকেরা। সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা, চিটাগাং রোড (শিমরাইল) পর্যন্ত বেশ ক’টি পরিবহন চলাচল করে। এরমধ্যে, বন্ধন, উৎসব, হিমাচল, আনন্দ, বোরাক, আল্লাহ ভরসা, শীতলক্ষ্যা ও দুরন্ত। এসব গাড়ির অধিকাংশেরই নেই ফিটনেস। চালকদের নেই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স। যাদের লাইসেন্স আছে, তারাও ঠিক প্রশিক্ষিত নন। এদের মধ্যে ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতাও লক্ষণীয়। শুধু তাই নয়, চট্টগ্রামে মোবাইলে কথা বলার সময় এক দুর্ঘটনায় প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় চালকদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ আইন করে। এই আইন বর্তমানেও চলমান। কিন্তু তা মানছে না কেউই। যার ফলে নিত্য ঘটছে দুর্ঘটনা। তবে এই আইনটি না মানার প্রবণতা বেশি দুরন্ত, আনন্দ, বোরাক ও শীতলক্ষ্যা পরিবহনের চালকদের মধ্যে। সূত্র বলছে, গাড়ি চালানোর সময় হরহামেশাই মোবাইল ফোনে কথা বলতে থাকেন এসব পরিবহনের চালকেরা। যার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। ট্রাফিক বিভাগও এসব ব্যাপারে নজরদারি করছে না। কথিত আছে, ফিটনেসবিহীন, লাইসেন্সবিহীন ও অবৈধ স্ট্যান্ড করার কারণে দুরন্ত, শীতলক্ষ্যা, আনন্দ ও বোরাক পরিবহন নিয়মিতই মাসোয়ারা দিয়ে থাকে ট্রাফিক বিভাগকে। যার জন্য তারা এসব দিকে কোনো ভ্রক্ষেপই করেন না। যাত্রীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, চাষাড়া হতে শিমরাইল পর্যন্ত চলাচলরত দুরন্ত পরিবহন ও পঞ্চবটি হতে ঢাকাগামী বোরাক পরিবহনের প্রায় ৯৫ শতাংশ চালকেরই কোনো লাইসেন্স নেই। এ ছাড়াও এ গাড়িগুলোর ফিটনেস নেই বলেও জানা যায়। তারমধ্যে অধিকাংশ চালকই মাদকাসক্ত। মাদক সেবন করেই এরা গাড়ি চালাচ্ছে। যার কারণে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে তারা। শুধু তাই নয়, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইলে কথা বলা নিষিদ্ধ থাকলেও তারা সে আইন মানছে না। একহাতে ড্রাইভিং হুইল ধরে আরেক হাতে মোবাইল ফোন কানে ধরে গাড়ি চালাচ্ছে। যাত্রীরা এসব নিয়ে প্রতিবাদ করলে উল্টো যাত্রীদের সাথে অশোভন আচরণে লিপ্ত হচ্ছে চালকেরা। পাশাপাশি চালকেরা নিজস্ব বন্ধুবান্ধব নিজেদের পাশে বসিয়ে হাসি-ঠাট্টা করতে করতে গাড়ি চালিয়ে থাকে। যার জন্য দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে যাত্রী সাধারণ। এদিকে একযাত্রী এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করলে জনৈক চালক দাম্ভিকতা নিয়ে বলে, ‘ভাই ড্রাইভিং করতে গেলে কেউ যদি মারা যায় ৩০ হাজার টাকা দিলেই ছুটে আসা যায়, না হয় এর বেশি হলে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা লাগবে। এর থেকে বেশি কি আর হবে? ফাঁসি তো হবে না?’ ভূক্তভোগী মহলের দাবী এব্যাপারে সংশ্লিংষ্ট বিভাগের আশু দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।

 

 

না’গঞ্জ রক্ষায় শীতলক্ষ্যাকে বাঁচান

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শীতলক্ষ্যা নদীকে ‘হত্যা করা হচ্ছে’ অভিযোগ করে দ্রুত এটাকে রক্ষার দাবী জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক, সামাজিক, নাগরিক সহ পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা। তাঁরা বলেছেন, এখনো সময় আছে শীতলক্ষ্যাকে বাঁচান। নতুবা নারায়ণগঞ্জও মরে যাবে। দিন দিন শীতলক্ষ্যার যে করুণ দশা তাতে করে নারায়ণগঞ্জের ভবিষ্যৎও ভালো না। বিশ্ব নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টাব্যাপী শহরের সেন্ট্রাল খেয়াঘাট এলাকায় ওই মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা।

বাপা নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি এ বি সিদ্দিকের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হাবিব, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক রফিউর রাব্বী, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠনের সভাপতি নূর উদ্দিন, বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, কাউন্সিলল শারমিন হাবিব বিন্নী, লেখক ও কলামিস্ট এসএম শহীদুল্লাহ, বাপা নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক তারেক বাবু, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি জাহিদুল হক প্রমুখ। বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হাবিব বলেন, ‘নদীর যেসব পয়েন্টে দখল, দূষন হচ্ছে এসবের তালিকা করে আন্দোলন করতে হবে। রূপকল্প করে এগিয়ে গেলে অবশ্যই সমাধান আসবে।’ শীতলক্ষ্যা নদী ঘিরে স্মৃতিচারণায় মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন বলেন, ‘একসময় শীতলক্ষ্যার পানি মানুষ পান করতো, রান্নার কাজে ব্যবহার করতো, গোসল সহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হতো। কিন্তু এখন শীতলক্ষ্যার পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা যায় না।’ এটিএম কামাল বলেন, ‘নদীই আমাদের অস্তিত্ব। কিছু মানুষ এ নদীকে ব্যবহার করে বিদেশী টাকা আয় করেছে ঠিকই কিন্তু তারা সেই টাকা নিজেদের ভোগবিলাসে ব্যয় করেছে। নদীর জন্য কিছুই করেনি। এ বৈদেশিক মুদ্য দিয়ে ভোগ বিলাস করা গেলেও নদী বাঁচানো যাবে না। তাই শীতলক্ষ্যা পাড়ের বাসিন্দাদের জাগতে হবে। নদী হত্যাকারী মিলকারখানার বন্ধে কঠোর আন্দোলন করতে হবে।’ নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, ‘বিজিএমইএ ও বিএকএমইএ সদস্যরা নদী দূষণ করছে। কোন গার্মেন্টস ইটিপি নির্মাণ করলেও ঠিক ভাবে ব্যবহার করছে না। যার ফলে সরাসরি নদী ফেলা হচ্ছে শিল্পকারখানার বর্জ্য। একই ভাবে সিটি করপোরেশনের গৃহস্থালি বর্জ্যও ইটিপি ছাড়াই ড্রেন দিয়ে নদীতে ফেলছে।

না’গঞ্জে লাশের মিছিল আর কত ? আড়াই মাসে পঁচিশ খুন !

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হচ্ছে। নানা ধরণের অপরাধ কর্মাকা- বৃদ্ধিসহ বাড়ছে খুনের মতো নৃশংস ঘটনা। গত আড়াই মাসে (জানুয়ারি-মার্চের ১৪ তারিখ) জেলার ৭টি থানার মধ্যে ৬টি থানা এলাকায় ২৫ জন নৃশংস হত্যার শিকার হয়েছে। এছাড়াও নানাবিধ অপরাধ কর্মকা- তথা চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে। এরমধ্যে রূপগঞ্জ ও ফতুল্লা থানার অবস্থা অন্য ৫টি থানা থেকে অত্যন্ত নাজুক। এ দু’টি থানায় হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে ৬টি করে। এরপরই আছে সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁ থানা। এ দুই থানায় ৫টি করে এবং বন্দরে ২টি ও আড়াইহাজারে একটি হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে। তবে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা এলাকায় বিগত আড়াই মাসে কোনো ধরণের হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়াও তুলনামূলক ভাবে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও অরাজকতা এ থানায় তেমন একটা হয়নি বলা চলে। তবে এরমধ্যে ১৬ জানুয়ারি হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে সব থেকে বড় সংঘর্ষের ঘটনাটি এ থানাতেই সংঘটিত হয়। যা দেশব্যাপী আলোচিত। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে সর্বশেষ ১৩ মার্চ হত্যার শিকার মুসফিক জয় (১৮) নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী। যাত্রাবাড়ি এলাকার দনিয়া কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র এবং সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিলস্থ ব্যবসায়ী আকরাম হোসেনের ছেলে জয়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এদিন ভোরে তাঁর লাশ নয়াআটি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ মাসের ১২ মার্চ বন্দরে অপপহরনের ৭দিন পর স্কুলছাত্র এলেম (৮) এর অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নবীগঞ্জ বাগবাড়ি ব্রিজের নিচের ডোবা ময়লার আবর্জণার স্তুপে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ১০ মার্চ ফতুল¬ার দেলপাড়া এলাকার স্টার প্যাকেজিং কারখানার নৈশপ্রহরী আবুল কাশেম চৌধুরীকে (৬০) পিটিয়ে হত্যা করে একই ফ্যাক্টরীর মালিক সেলিম পাঠান। ১ মার্চে শুরু দিকে প্রথম হত্যাকা-ের শিকার হয় সোনারগাঁয়ের খোরশেদ আলম (৩৫) নামের এক ব্যবসায়ী। জমিসক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে প্রকাশ্যেই কুপিয়ে হত্যা করে। নারায়ণগঞ্জে গত ফেব্রুয়ারি মাসেই নৃশংস হত্যাকা-ের শিকার হয় ৮ জন। এরমধ্যে ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলের ডাচ বাংলা ব্যাংকের মোড়ে আজমেরি আরিফকে কুপিয়ে হত্যা করে মানিক ওরফে মেন্টাল মানিক (২৫), মো. আল আমিন (২৩) ও মো. রাব্বী (২৪)। ১৫ ফেব্রুয়ারি ফতুল্লার পাগলা দেলপাড়া এলাকায় এক বছর বয়সী অজ্ঞাত এক শিশুকে হত্যার পর মরদেহ রাস্তায় ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। পুলিশ খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করে। তবে গত এক মাসেও এ হত্যার রহস্য উদঘাটনসহ হত্যাকারীদের চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ। ১৫ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজের ৪দিন পর রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়নের হাটাবো এলাকার একটি পুকুর থেকে পাপিয়া আক্তার নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে একই এলাকার হাসিব রাজের মেয়ে এবং আলীম পরীক্ষার্থী। ১৪ ফেব্রুয়ারি রূপগঞ্জে এমরান মোল¬া (২৫) কে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা বালুর টাকার ভাগভাটোয়ারার দ্বন্দ্বেই হাত-পা ও গলা কেটে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবারের। হারিন্দা এলাকার কোট বাড়ির গোপ এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর মাছের ঘেরের ঝোপ থেকে হাত-পা ও গলা কাটা ইমরানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে ২০১৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর হারিন্দার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন এমরান মোল্লা। ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর রূপগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন। এছাড়া ১০ ফেব্রুয়ারি রূপগঞ্জে নেশার টাকা না দেয়ায় মাধবী আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মাদকাসক্ত স্বামী মিজানুর রহমান আত্মহত্যা করেন। একই দিন শহরের জামতলা এলাকায় প্রভাবশালী এক সাংসদের ছেলের বাহিনীর বিরুদ্ধে মো. আলী রাজুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ওঠে সংঘবব্ধ একটি চক্র মো. আলী রাজুকে রাতভর পিটিয়ে ভোরের দিকে ফতুল্লা থানা পুলিশে তুলে দেয়ার পর সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। অপরদিকে ৮ ফেব্রুয়ারি রূপগঞ্জ উপজেলার হাবিবনগর এলাকার কাঞ্চন-কুড়িল বিশ্বরোড সড়কে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপ ও পুলিশের সংঙ্গে ত্রিমুখী সংঘর্ষে সুমন আহমেদ (৩০) নামে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ১নং ওয়ার্ডের নেতা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। অভিযোগ ওঠেছে প্রতিপক্ষ কায়েতপাড়া ইউনিয়ণ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ওরফে আন্ডা রফিকের বন্দুক দিয়ে তাঁরই গানম্যান গুলি করে সুমনকে হত্যা করে। এছাড়া ফেব্রুয়ারি মাসে অত্যন্ত মর্মান্তি হত্যাকা-ের ঘটনাটি ঘটে ফতুল্লা থানার কাশিপুর বাংলাবাজার এলাকাতে। এ মাসের ৩ তারিখে মোনালিসা (১২) নামে ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখে পালায় ধর্ষক সাইদুল। এখন পর্যন্ত ধর্ষক ও ঘাতক সাইদুলকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। জেলায় বছরের শুরুতেই খুনের ঘটনা ছিলো সব থেকে বেশি। শুরুর মাস জানুয়ারিতে এ জেলায় ১৩ টি নৃশংস হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। যা ছিলো গত আড়াই মাসের পরিসংখানের দিক দিয়ে সর্বোচ্চ হত্যাকা-। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ৩১ জানুয়ারি রূপগঞ্জে জাকির হোসেন (৩০) নামে এক যুবলীগ কর্মীকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এদিন সকাল সাড়ে ৭টায় উপজেলার ভুলতা তাঁতবাজার এলাকায় এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। এর চারদিন আগে ২৬ জানুয়ারি সোনারগাঁ উপজেলায় সিদ্ধিরগঞ্জের স্কুল ছাত্রী রোকসানা (১২)’র বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে। ধর্ষণ শেষে ঘাতক তাঁর মরদেহ বস্তায় ভরে মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাইকারটেক ব্রিজের পূর্বপাশ ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনার দু’দিন আগে ২২ জানুয়ারি রূপগঞ্জে উপজেলার শীতলক্ষ্যা নদী থেকে পারভেজ আহাম্মেদ জয় (২৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযোগে জানা গেছে বালু ভরাটের দ্বন্দ্বে তাঁকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। এছাড়া এ ঘটনার আগের দিন ২১ জানুয়ারি ফতুল্লায় চোর আখ্যা দিয়ে রাসেল নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এদিন সকালে ফতুল্লা থানার ভোলাইল মরা খালপার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাসেল সৈয়দপুর সরদার বাড়ি এলাকার মৃত আলী বকসের ছেলে। এর আগের দিন ২০ জানুয়ারি বন্দরে সালাউদ্দিন ওরফে চায়না (৫২) নামের এক মাদক ব্যবসায়ির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষরা তাঁকে হত্যা করে লাশ থানার চর ঘারমোড়া এলাকার সরকারি খালে ফেলে যায়। এছাড়া ১৪ জানুয়ারি সোনারগাঁ উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় তাঁর মামাতো ভাই সুলতান আহমেদ মিন্টুকে (৩৫) পিটিয়ে হত্যা করেছে জাকির হোসেন নামে এক বখাটে। এর তিনদিন আগে ১১ জানুয়ারি সোনারগাঁ উপজেলায় মাইক্রোবাসে ডাকাতদের হামলায় জাহিদুর রহমান শাহীন (৩৫) নামে এক যুবক খুন হন। এছাড়াও ৯ জানুয়ারি আড়াইহাজারে নিখোঁজের ১২ দিন পর সুরাইয়া (৮) নামে এক মাদ্রাসার ছাত্রীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গোপালদী তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ ইসলামপুর এলাকা থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে। ৬ জানুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকায় নিখোঁজের একদিন পর আসমা আক্তার নামে অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদিন সকাল সাড়ে ৮টায় স্থানীয় আরব আলী মিয়ার বাড়ির পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। অপরদিকে ৫ জানুয়ারি ফতুল্লায় দেলোয়ার হোসেন (৩৫) নামে এক ট্রলিচালককে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এদিন সকালে বক্তাবলীর লক্ষ্মীনগর পূর্বপাড়া এলাকার আশিক ব্রিকস ফিল্ডে এ ঘটনা ঘটে। এর আগের দিন ৪ জানুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জে নিখোঁজের ৬ দিন পর নানি-নাতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদিন বেলা ১১টায় পাইনাদী মধ্যপাড়ার ইতালী প্রবাসী তোফাজ্জলের বাড়ির তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন, নানি পারভীন আক্তার (৫০) ও নাতী মেহেদী হাসান (৯)। বছরের শুরুরতে তথা ৩ জানুয়ারি রাতে সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর এলাকাতে বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের বিরোধের জের ধরে মোহাম্মদ আলী (৩০) নামে যুবলীগের এক কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এসব হত্যাকা- কেন, এর কারণ কি? এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয় সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বির কাছে। তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। আড়াই মাসের এই পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ। ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে’ বলে পুলিশ চালিয়ে দিতে চায়। কিন্তি সাম্প্রতিক পরিস্থিতিই প্রমাণ করে আইনশৃঙ্খলা কতটা খারাপ।” তিনি আরও বলেন, “প্রশাসন ব্যর্থ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে। অপরাধিরা অপরাধ করেও পাড় পেয়ে যাচ্ছে বলে অন্যরাও খুনের মতো নৃশংস ঘটনা ঘটাতে উৎসাহিত হচ্ছে। এমনকি আমরা অনেক সময় দেখি নারায়ণগঞ্জের বাইরে থেকে এসে এখানে খুন করে লাশ ফেলে যায়। তারা জানে যে নারায়ণগঞ্জে নিরাপদে এসব ঘটনা ঘটানো যায়। তাই তারা উৎসাহিত হচ্ছে। এর পরিবর্তন হওয়া খুবই জরুরী।” রফিউর রাব্বির মতে, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর অর্পিত দায়িত্ব যদি তারা সঠিক ভাবে পালন করে তবেই সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হবে। স্বাভাবিক থাকবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি।” “নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন বরাবরই দাবি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ভিন্ন। এই আড়াই মাসে যে জেলাতে এতগুলো হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে সেখানে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক নয়। বরং খুবই খারাপ অবস্থা।” তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন প্রভাবশালী মহলের কাছে জিম্মি হয়ে গেছে। প্রতিটি হত্যাকা-েই কোনো না কোনোভাবে কোনো না কোনো প্রভাবশালী মহল জড়িত। এই যে জামতলাতে রাজু নামের একটি ছেলে পিটিয়ে হত্যা করলো প্রভাবশালী একটি মহল, পুলিশ এখনও এর কোনো সুরাহ করতে পারেনি। মেয়রের উপর হামলা হলো পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এতেই বোঝা যায় প্রশাসন কতটা নিরপেক্ষ আর কতটা পক্ষপাতিত্ব করছে। আমরা এর পরিবর্তন চাই।”

 

 

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মসূচি…

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯ তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। গত ১১ মার্চ থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা, গল্প বলা এবং রচনা প্রতিযোগিতা। আগামী ১৭ মার্চ সকাল সাড়ে আটটায় চাষাঢ়া বিজয়স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পন। ৯ টায় চাষাঢ়া থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অভিমুখে র‌্যালি। সাড়ে ৯ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কেক কাটা, শিশু সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শহীদ মিনার, নগর ভবন, বরফকল মাঠ, পঞ্চবটি মোড় ও বিসিক শিল্পনগরীতে বঙ্গবন্ধুর জীবনীভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন। এদিন সকল মসজিদ, মন্দির ও গীর্জায় বিশেষ প্রার্থনা। জেলখানা, শিশু সদন ও শিশু পরিবার গুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর জীবনী সম্পর্কে আলোচনা সভা, রচনা প্রতিযোগীতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে।  এসকল অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া।

নতুন কৌশলে ফুটপাতে বসছে হকাররা…

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে হকার সহকারীদের প্রহরায় ফুটপাতে হকার বসছে। আর পুলিশের হানা পড়লেই প্রহরায় থাকা হকারদের সহকারীরা আগে থেকেই সংকেত দিয়ে দিচ্ছে। এতে করে পুলিশের হানা পড়ার আগে সংকেত পেয়ে সটকে পড়ছে হকাররা। আর পুলিশ চলে গেলেই আবারো ফিরে আসছে নিজেদের জায়গা দখল করতে। এভাবেই প্রহরার মধ্য দিয়ে হকাররা ফের ফুটপাত দখল করে বসেছে। গতকাল বুধবার বিকেলে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে হকার পুলিশদের মধ্যে ইঁদুর-বিড়াল খেলার এই দৃশ্য দেখা যায়। তবে হকার ও পুলিশদের মধ্যকার এই খেলায় তৃতীয় পক্ষ হিসেবে হকারদের সহকারীরা প্রহরার মধ্য দিয়ে এক নতুন ভূমিকা পালন করছে। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু সড়কের বিভিন্ন অলিগলিতে হকারদের সারিবদ্ধভাবে বসতে দেখা যাচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ‘শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের সোনালী ব্যাংকের মোড় থেকে শুরু করে মুক্তি জেনারেল হাসপাতাল ছাড়িয়ে বিভিন্ন পয়েন্টে হকারদের বসতে দেখা গেছে। কিন্তু মাঝে মাঝে পুলিশের হানার কারণে এক নতুন কৌশল অবলম্বন করে হকারেরা ফুটপাতে বসেছে। আর সেই নতুন কৌশলের মাধ্যমে হকারেরা তাদের সহকারীদের প্রহরার কাজে লাগিয়ে দিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে। এতে বিকেলে পৌনে ৬টায় সময় পুলিশের হানা পড়লে প্রহরায় থাকা লোকদের সংকেতের কারণে পুলিশ হকাদের কাছে এসে পৌঁছানোর আগেই হকারেরা মালামাল গুছিয়ে সটকে পড়ে। আর কিছুক্ষণ পরে পুলিশ চলে গেলে হকারেরা আবার তাদের নিজ নিজ জায়গা দখল করে ব্যবসা শুরু করে। এভাবে হকাদের ব্যবসা চলতে থাকে। হকারদের নতুন কৌশল হিসেবে হকাদের সাথে থাকা সহকারীদের পুলিশ প্রহরার জন্য বিভিন্ন দিকে নজর রাখতে দেয়া হয়। আর এ সময় একেকজন প্রহরীদার একের দিকের নজর রাখতে শুরু করে। এসময় পুলিশ যেই দিক থেকে আসুক না কেন। পুলিশ আসার আগেই তাদের চোখে পড়ে যায়। এতে প্রহরীরা সব হকারদের পুলিশ আসার সংকেত দিয়ে দেয়। অন্যদিকে হকারেরা বড় চাদর কিংবা প্লাস্টিকের ব্যাগ বিছিয়ে তাতে মালামাল নিয়ে ফুটপাতে বসে যাতে করে পুলিশের হানা পড়লে খুব সহজে মালামাল নিয়ে সটকে পড়া যায়। তাই প্রহরীদের সংকেতের পর হকারেরা মালামাল নিয়ে অনায়াসে সটকে পড়ে অনত্র। আর এভাবেই চলতে থাকে তাদের ব্যবসা। একাধিক সূত্র জানায়, ‘শহরের ফুটপাতে পুলিশের টহল আগের তুলনায় অনেকটা কমে গেছে। আগের মত জোরদার টহল দেখা যাচ্ছেনা। যেকারণে হকারেরা ফুটপাতে বসার সুযোগ পাচ্ছে। পুলিশ আগের তুলনায় ছাড় দিচ্ছে বলে হকারেরা ফুটপাতে বসার সুযোগ পাচ্ছে।’ এদিকে হকাদের কারণে শহরের ফুটপাত সহ সড়কগুলোতে ফের জটলা দেখা দিচ্ছে। এতে করে নগরবাসীর হাঁটা-চলাফেরাতে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এমনকি জটলার কারণে সেখান দিয়ে যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একারণে ফুটপাত ছেড়ে নগরবাসীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক দিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে। নগরবাসী জানায়, ‘হকার উচ্ছেদের পর কিছুদিন খুব স্বস্তিতে ফুটপাত দিয়ে চলাফেরা করতে পেরেছি। কিন্তু এখন সেই আগের চিত্রে ফিরে যাচ্ছে। এতে করে এখন হকারদের কারণে ফের জটলার সৃষ্টি হচ্ছে; যেকারণে ফুটপাত দিয়ে চলাফেরা কষ্টকর হয়ে উঠেছে। তবে পুলিশ প্রশাসন আগের মত কঠোর অবস্থানে থাকলে ফুটপাতে কোন অবস্থাতেই হকার থাকতে পারবেনা। পুলিশ প্রশাসনের নমনীয়তার কারণেই হকারেরা ফুটপাতে বসতে পারছে। এর আগে পুলিশ প্রশাসন হার্ডলাইনে থাকার কারণে এই সড়কের ফুটপাতে হকারেরা কোন ভাবেই বসতে পারেনি। কিন্তু এখন হকার বসতে পারছে এর দায়ভার অবশ্যই পুলিশের। উল্লেখ্য গত ২৫ ডিসেম্বর শহরের ফুটপাতে হকার উচ্ছেদ শুরু হয়। এর পর থেকে হকারেরা আন্দোলনে নামলেও পুলিশ হার্ডলাইনে চলে গেলে হকাদের ফুটপাত ছাড়তে হয়। এরপর হকারদের আন্দোলনের জের ধরে গত ১৬ জানুয়ারীতে হকার ও এমপি শামীম ওসমান সমর্থকদের সাথে মেয়র আইভী সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এরপর থেকে শহরের মূল সড়ক অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু সড়কে হকারদের বসতে নিষেধ করে দেয়া হয়েছে। এরপর হকারেরা আন্দোলন করতে চাইলেও এমপি সেলিম ওসমানের আশ্বাসে হকারের আন্দোলন থেকে সরে আসে। কিন্তু হকাদের দুই দফা আশ্বাস দিয়েও এমপি সেলিম ওসমান হকারদের দাবি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বরং তিনি উল্টো বলে দিয়েছেন, মেয়র আইভী অনুমতি দিয়ে কেবল হকারেরা বসতে পারবে নতুবা পারবেনা। এরপর থেকে হকার ইস্যুটি চাপা পড়ে যায়। আর হকারেরা এদিকে সেদিক করে কোন রকমে দিন কাটাচ্ছেন।

মামুন মাহমুদের কোমড়ে দড়ি ইস্যুতে অশোভন আচরনের বিচার দাবী

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে কোমরে দড়ি বেঁধে আদালতে নিয়ে আসায় ক্ষুব্দ নারায়ণগঞ্জ আদালতের বিএনপি পন্থী আইনজীবীরা নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মতিয়ার রহমানের সাথে দেখা করেছেন এবং পুলিশের এ ধরনের অশোভন আচরনের বিচার দাবী করেছেন। এ সময় এএসপি আইনজীবীদের কথা মন দিয়ে শুনে প্রতিকারের আশ^াস দেন। গতকাল বুধবার দুপুরে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফেরামের নেতৃবৃন্দরা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে গিয়ে এএসপি মতিয়ার রহমানের সাথে সাক্ষাত করেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের নেতৃত্বে আইনজীবীরা এএসপি মতিয়ার রহমানকে মঙ্গলবারের ঘটনা অবহিত করেন এবং রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের প্রতি মানবিক আচরণ করতে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান, সেই সাথে মঙ্গলবারের ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবী করেন। আইনজীবীদের আশ^স্ত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মতিয়ার রহমান বলেন, ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সহ সভাপতি এড. রেজাউল করিম রেজা, সহ সভাপতি আজিজ আল মামুন, সিনিয়র আইনজীবী এড. মশিউর রহমান শাহীন, এড. রকিবুল হাসান শিমুল, এড. আবুল কালাম আজাদ জাকির, এড. এইচএম আনোয়ার প্রধান, এড. উমর ফারুক নয়ন, এড. শারমিন আকতার, এড. আমেনা আকতার শিল্পিসহ বিএনপি পন্থী আইনজীবীরা। উল্লেখ্য, গত ১৩ মার্চ ফতুল্লা মডেল থানার দু’টি মামলার রিমান্ড শুনানীর পূর্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে কোমড়ে দড়ি বেঁধে আদালতে নিয়ে আসে পুলিশ। যা দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির নেতৃবৃন্দরা।