আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:০৯
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি..

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

পুলিশ হেফাজতে অসুস্থ হয়ে ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন মিলনের মৃত্যুর প্রতিবাদে দেশব্যাপী দু’দিনের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। দলীয় চেয়ারপার্সণের মুক্তির দাবীতে চলমান আন্দোলন সংগ্রামের পাশাপাশি ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে ডাকা এই কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। সেই সাথে একটি স্বাধীণ দেশে রাজনীতি করার অপরাধে পুলিশী নির্যাতনে ছাত্র মৃত্যুর বিষয়টি মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায় বলে উল্লেখ করেছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। দুই দিনের কর্মসূচি পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন, একজন রাজনীতিবীদের রাজনীতিতে হাতে খড়ি হয় ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে। যারা আজ ছাত্র সংগঠন করছে, তারাই আগামী দিনে দেশ পরিচালনা করবে। আর দেশের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি’র ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা জাকির হোসেন মিলনকে শুধুমাত্র রাজনীতি করার অপরাধে পুলিশী নির্যাতনে প্রাণ বিসর্জণ দিতে হলো, যা পুরো জাতির জন্য দু:খজনক। মুখে চেতনার কথা বলে বর্তমান সরকার চেতনাকে হত্যা করছে। তাই এই নির্মম মৃত্যুর প্রতিবাদে ডাকা কর্মসূচি অবশ্যই পালন করা হবে। নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে কর্মসূচির সময় ও স্থান নির্ধারণ করা হবে। তেজগাঁও থানা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন মিলনের মৃত্যুকে দেশের আইন ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, জাকির হোসেন মিলন ছিলেন একজন সৎ ও নির্ভিক ছাত্রনেতা। শুধুমাত্র রাজনীতি করার অপরাধে তাকে এরকম নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হলো, যা দেশের আইন ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি। পুলিশ হচ্ছে একটি দেশে জনগনের নিরাপত্তার প্রতীক। সেই পুলিশের হেফাজতে একজন ছাত্রনেতাকে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করে এই সরকার জনমনে ভীতি সঞ্চারের চেষ্টা করছে, যাতে করে সরকার বিরোধী আন্দোলন দানা বাঁধতে না পারে। এটা সরকারের অগণতান্ত্রীক কর্মকান্ডের বহি:প্রকাশ। আমরা এই নিমৃম হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে পালন করবো। প্রসঙ্গত, পুলিশ হেফাজতে অসুস্থ হয়ে ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন মিলনের মৃত্যুর প্রতিবাদে দেশব্যাপী দুদিনের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। শুক্রবার মসজিদে দোয়া মাহফিল ও রোববার ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল হবে বলে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তেজগাঁও থানা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন মিলনকে ‘রিমান্ডে নিয়ে পাশবিক অত্যাচারে হত্যার’ প্রতিবাদে রোববার ঢাকাসহ সারাদেশে দলের নেতাকর্মীরা বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করবেন এবং ঢাকা মহানগরীর থানায় থানায় এবং সারা দেশে জেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল করবে।“একইসঙ্গে এ যাবত সরকারের পরিকল্পিত হত্যা ও খুনের যারা শিকার হয়েছেন এবং পুলিশি হেফাজতে মারা যাওয়া জাকির হোসেন মিলনের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় শুক্রবার বাদ জুমআ ঢাকাসহ দেশব্যাপী সকল মসজিদে বিএনপির উদ্যোগে দোয়া মাহফিল হবে।”

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে না’গঞ্জে নানা আয়োজন

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আগামীকাল ১৭ মার্চ বাঙ্গালী জাতির অন্যতম মহান নেতা ও স্বাধীন বাংলার স্থপতি তথা বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯ তম জন্মবার্ষিকী।  ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান তদানীন্তন ভারতীয় উপমহাদেশের বঙ্গ প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা শেখ লুৎফর রহমান গোপালগঞ্জ দায়রা আদালতের সেরেস্তাদার (যিনি আদালতের হিসাব সংরক্ষণ করেন) ছিলেন এবং মা’র নাম সায়েরা খাতুন। চার কন্যা এবং দুই পুত্রের সংসারে তিনি ছিলেন তৃতীয় সন্তান।  ১৯২৭ সালে শেখ মুজিব গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়শোনা শুরু করেন যখন তার বয়স সাত বছর। নয় বছর বয়সে তথা ১৯২৯ সালে গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন এবং এখানেই ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ১৯৩৭ সালে গোপালগঞ্জে মাথুরানাথ ইনস্টিটিউট মিশন স্কুলে সপ্তম শ্রেনীতে ভর্তি হন। ১৯৩৪ থেকে চার বছর তিনি বিদ্যালয়ের পাঠ চালিয়ে যেতে পারেন নি। কারণ তার চোখে জটিল রোগের কারণে সার্জারী করাতে হয়েছিল এবং এ থেকে সম্পূর্ণ সেরে উঠতে বেশ সময় লেগেছিল। গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। ১৯৩৮ সনে আঠারো বছর বয়সে তার সাথে ফজিলাতুন্নেসার বিয়ে হয়। এই দম্পতির ঘরে দুই কন্যা এবং তিন পুত্রের জন্ম হয়। কন্যারা হলেন শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা। আর পুত্রদের নাম শেখ কামাল, শেখ জামাল এবং শেখ রাসেল। তিনজন পুত্রই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে স্বপরিবারে আততাঁয়ীর হাতে নিহত হন। এবছর জাতির জনকের ৯৯ তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ, জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ৯ টায় নগরীর চাষাড়াস্থ বিজয় স্তম্ভে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্থাপতি বঙ্গবন্ধুর অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করবে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো: রাব্বী মিয়াসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ। আর সকাল ১০ টায় নগরীর ২ নং রেলগেটস্থ দলীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তর্বক অর্পণ করবে জেলা আওয়ামীলীগ। এরপর দলীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানিয়েছেন, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই। মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন জানান, সকালে দলীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তর্বক অর্পণ এবং বাদ আছর দলীয় কার্যালয়ে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে সকাল ১০ টায় শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরন করবেন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী। জেলা পরিষদের উদ্যোগে ১১ থেকে ১৭ ই মার্চ পর্যন্ত শহরের সকল বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের মাঝে চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃত্তি ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ১৭ মার্চ চাষাড়া বিজয়স্তম্ভে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তর্বক অর্পন সহ চাষাড়া বিজয়স্তম্ভ থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ পর্যন্ত র‌্যালী, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে কেক কাটা, শিশু সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন এর আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠান, সকল শিশু সদন, শিশু পরিবার ও জেলখানায় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে।

 

রাজপথে শামীম, বিতর্কিতদের নিয়ে ক্ষোভ

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতি যখন অনেকটা স্থবির বলা চলে ঠিক সেই সময় সাংসদ শামীম ওসমান রাজনীতির মাঠ গরম করতে মাঠে নেমেছেন। গতকাল থেকে পুরোদমে রাজনীতির মাঠে শামীম ওসমান সরব পদচারনা শুরু করেছেন। জেলায় ক্ষমতাসীন দলের নেতারা আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে দৌড়ঝাপ চালিয়ে গেলেও রাজনীতির মাঠে নেতাকর্মীদের সাথে তাদের তেমন একটা সম্পৃক্ততা নেই বললেই চলে। এই যখন নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অবস্থা ঠিক তখনই শামীম ওসমান দীর্ঘ নীরবতা ভেঙ্গে রাজনৈতিক মাঠে কর্মী সমর্থকদের একত্রিত করতে সরব হয়েছেন। শামীম ওসমানেরে রাজনৈতিক মাঠ চাঙ্গা করার উদ্যোগকে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলকে রাজনৈতিক ভাবেই তারা মোকাবেলা করতে চায়। শামীম ওসমানের বক্তব্য রাজনীতির মাঠে কাউকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে যারা অলিক স্বপ্নে বিভোর তাদেরকে রাজনীতির মাঠে মোকাবেলা করার আহবান জানিয়েছেন শামীম ওসমান। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি প্লাটফর্মে এনে আন্দোলন সংগ্রামের সূতিকাগার নারায়ণগঞ্জকে আবারো পুরানো অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে তিনি সকলের ঐক্য কামনা করেছেন। সূত্রে জানাগেছে, আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার পাশাপাশি ভোটারদের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছেন সাংসদ শামীম ওসমান। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রচারণায় নামলেও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের নেতারা এখনো মাঠে নামেনি। সেক্ষেত্রে প্রথম সাংসদ শামীম ওসমানই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আওয়ামীলীগের উন্নয়নের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌছে দেওয়াসহ নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে মাঠে নেমেছেন। এতে করে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও শামীম ওসমানকে কাছে পেয়ে তাদের সমস্যার কথাগুলো জানাতে পারছেন। আর তা সমাধানেরও আশ্বাস দিচ্ছেন শামীম ওসমান। তবে এই কর্মী সভায় বিতর্কিত বা সুবিধাবাদি নেতাদের দেখে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দাবী, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জের বেশ কয়েকজন নেতা রয়েছেন যারা দলের নাম ভাঙ্গিয়ে নিজেদের পকেট ভারি করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে। সাধারণ কর্মীদের খবর না রেখে সাধারণ মানুষদের অত্যাচার করে আওয়ামীলীগের ইমেজ ক্ষুন্ন করেছে। তারাই আবার কর্মী সভায় বড় বড় কথা বলছেন। এই বিষয়টি শামীম ওসমানের নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে সাধারণ কর্মীরা মনে করছেন। কেননা এই সকল সুবিধাবাদি বিতর্কিতরা সাধারণ মানুষের কাছে গেলে আওয়ামীলীগের ভোট নষ্ট হবে। দৈনিক ডান্ডিবার্তার প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে জানাগেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ফতুল্লাস্থ ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়সহ পৃথক স্থানে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের সাথে মত বিনিময় সভা করেছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সভাতে সাধারণ মানুষের দুয়ারে আওয়ামীলীগের উন্নয়নের বার্তা পৌছে দিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিচ্ছেন শামীম ওসমান। একই সাথে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানাচ্ছেন। পাশাপাশি বিতর্কিতদের সাবধান হওয়ার আহবানও জানান তিনি।

একত্রে তারা তিনজন

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

বিএনপির রাজনীতিতে তৈমূর আলম খন্দকারের প্রায় দুই যুগ পার হয়ে গেছে। এরিমধ্যে এক সময় যাদেরকেই তৈমূর আলম খন্দকারের দুই পাশে দেখা যেতো পরবর্তীতে তারাই তৈমূর আলম খন্দকারের বিরোধীতা করতেন। অনেকেই বিরোধীতা করছেন আবার কেউ কেউ তৈমূরের আশপাশেই রয়েছেন। মূলত তৈমূর আলম খন্দকারের নানা সিদ্ধান্তের বিষয়ে দ্বিমত হলেই সম্পর্কে ফাটল ধরে। তৈমূর আলম খন্দকারকে ছেড়ে অন্য কারো নেতার দিকে গেলেও পর্যাপ্ত সম্মানটুকু পায়নি। অনেকের প্রতি আস্থা রাখতে পারেনি নেতারা। তৈমূর আলম খন্দকার কারো জন্য ক্ষমিকারক নয় যে কারণে তৈমূর আলমের পরের সারির নেতারা তৈমূরকেই নিরাপদ মনে করেন। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতপাড়ায় তৈমূর আলমের পাশেই দেখা গেল এক সময়কার তার প্রধান দুই সেনাপতিকে। আদালতপাড়ায় এক সময় সকল সিদ্ধান্ত সাখাওয়াত হোসেন খানকে জানিয়ে নিতেন। আদালতের বাহিরের প্রায় সকল সিদ্ধান্তই বর্তমান মহানগর বিএনপির সেক্রেটারি এটিএম কামালের সঙ্গে আলোচনা করেই গ্রহণ করতেন। কিন্তু সঙ্গত কারণে এ দুজন নেতা তৈমূর আলমের প্রতি ফুঁসে ওঠে। নেতাকর্মীরা বলছেন-কিছু চাওয়া পাওয়া না পাওয়া থেকেই তৈমূরের সঙ্গে তাদের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। জানা গেছে, আদালতপাড়ার রাজনীতি দিয়ে আজকের আলোচিত আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান। এক সময় তৈমূর আলম খন্দকারের পাশে থেকেই ধীরে ধীরে আজকের সাখাওয়াত হোসেন খান পরিণত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় মনে করা হতো তৈমূর আলম খন্দকারের বিকল্প একটি গ্রুপ তৈরি করেছেন সাখাওয়াত হোসেন খান। যে কারলে দুটি পক্ষ প্রায়শই দেখা যায় আদালতপাড়ায়। আবারো সেই তৈমূরের পাশেই রয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন খান। তেমনটাই দেখা গেল বৃহস্পতিবার আদালতপাড়ায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতপাড়ায় পাশাপাশি দেখা গেল তৈমূর আলম ও সাখাওয়াত হোসেন খানকে। রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাও হয়। তাদের দুজনের আচরণে বুঝা যায়নি তারা কেউ কারো অমঙ্গল চান। বাংলাদেশ সুুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি প্যানেলের পক্ষে ভোট প্রার্থনা ও গণসংযোগেও ছিলেন তারা দুজন। এক সময়ের তৈমূর আলমের ঘনিষ্টজন অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবিরও তৈমূর আলমকে নিয়ে গণসংযোগ করেছেন। এর আগে এটিএম কামালও তৈমূর আলমের পাশেই বসেছিলেন। এ তিনজন নেতা বৃহস্পতিবার নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। পরে সাখাওয়াত হোসেন খান ও সরকার হুমায়ুন সহ অন্য আইনজীবীরা তৈমূর আলমকে নিয়ে সুপ্রীম কোর্ট বারের নির্বাচনে ভোট প্রার্থনা করেন।

 

সদস্য সংগ্রহ অভিযানে আলো জাগাতে পারেনি আওয়ামীলীগ

 

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জে সদস্য সংগ্রহ অভিযানে তেমন সাড়া জাগাতে পারেনি আওয়ামী লীগ। মহানগর আওয়ামী লীগের কয়েকটি ওয়ার্ড ও জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকটি ওয়ার্ডে সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হলেও আশার আলো জাগাতে পারেনি। বরং জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের দুটি সদস্য সংগ্রহের অভিযানেই দেখা গেছে জামায়াত ও শিবির সংশ্লিষ্ট অনেক নেতার হাতেই আওয়ামী লীগের ফরম তুলে দিতে। আর এ নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ নিয়ে শুরুতে বেশ উচ্ছ্বাস ছিল। তাছাড়া জেলার সদস্য সংগ্রহের অনুষ্ঠানে শুরুতে কেন্দ্রীয় নেতারাও এসেছিলেন। আর মহানগর শুরু করলেও ছিল বিতর্ক। তাছাড়া জেলার এ প্রস্তুতিও তেমন সাড়া জাগাতে পারেনি। জেলার বিভিন্ন থানাতেও এ নিয়ে তেমন কোন আগ্রহ দেখা যায়নি। এরই মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হলেও নেতায় নেতায় বিরোধ ও থানা কমিটিগুলোর বয়স দীর্ঘ বছর থাকায় ওই নেতারাও এসব নিয়ে আগ্রহ দেখায়নি। জানা যায়, ২০১৭ সালের মে মাসজুড়ে প্রতিটি ওয়ার্ডের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হলেও কার্যত তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। মহানগর আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নিজেদের অন্তঃকোন্দলের কারণেই এখন পর্যন্ত কোন কমিটি গঠনের কাজে হাত দিতে পারেনি দলটি। এদিকে কোন্দলে অনেকটাই বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগ। এর আগে গেল বছরের ১৭ এপ্রিল বিকাল ৫টায় জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা বলেছিলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মে মাস জুড়ে মহানগরের ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা শুরু হবে। সেটা হবে সম্মেলনের মাধ্যমে, যে যোগ্য তাকে নেতৃত্বে আনবে তৃণমূল। এদিকে মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটি গঠনে যেমন ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে ঠিক তেমনি অভিযোগ রয়েছে দলের সদস্য সংগ্রহ অভিযানেও বর্তমান মহানগর কমিটি তাদের সফলতা দেখাতে পারেনি। সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করার কথা থাকলেও এ কার্যক্রম আগাতে পারেনি দলের নেতারা। নিজেদের মধ্যাকার কোন্দল ও সাংগঠনিক দূর্বলতার কারনেই কমিটি গঠনে জোর পায়নি তারা। এর আগে গেল বছরের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় শহরের দুই নং রেল গেটস্থ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ ফরম বিতরণে তুমুল হট্টগোলের ঘটনার পর নেতাকর্মীদের অভিযোগ এ দল ও কতিপয় নেতারা এখন আদর্শচ্যুত হয়ে গেছে। তাঁরা বলছেন, আওয়ামী লীগের সদস্য ফরম এখন বিএনপি ও জামায়াতের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। যারা প্রকৃত আওয়ামী লীগ করেছে নির্যাতিত হয়েছে তাদের হাতে সেই ফরম তুলে দেওয়া হয়নি। সদস্য সংগ্রহের ফরম বিতরণের সময়ে একটি ওয়ার্ডের সদস্য সংগ্রহ ফরম বই বিএনপি নেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় অভিযোগ উঠে। ওই সময়ে ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতারা তুমুল হৈ চৈ শুরু করলে প্রবল চাপে শীর্ষ নেতারা তড়িগড়ি করে ওইস্থান ত্যাগ করে। তখন মহানগর আওয়ামী লীগে ‘বিএনপি ও জামায়াত’ নেতারা প্রবেশ করেছে বলে স্লোগান দেয় একদল বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা। এদিকে মহানগর আওয়ামীলীগের সদস্য সংগ্রহ অভিযান গোপনে চলছে বলে দলের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে। যদিও কেউ প্রকাশ্যে এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাননি। তবে নেতারা জানান, সদস্য সংগ্রহ অভিযান প্রকাশ্যে করতে গেলে দলের মধ্যাকার কিছু নেতাকর্মী তা বানচালের চেষ্টায় রত রয়েছেন তাই গোপনে এ সদস্য সংগ্রহ অভিযান চালানো হচ্ছে যা শিগ্রই সমাপ্ত করা হবে।

নিষেধাজ্ঞা জারির পরও শহরে দিনের বেলায় ট্রাক প্রবেশ

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নগরীতে দিনের বেলায় ট্রাক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন। তবে কয়েকমাস যেতে না যেতেই আবার শুরু হয়েছে সকাল থেকেই নগরীতে ট্রাক প্রবেশ। ছোট বড় বিভিন্ন ধরনের ট্রাক নগরীতে প্রবেশে নতুন করে শুরু হয়েছে নগরীতে যানজট। তার সঙ্গে জনগণের ভোগান্তিতো আছেই। এসব ট্রাক প্রবেশ বন্ধ হলে যানজট বন্ধ হয়ে মিলবে শান্তি এমনটাই আশা নগরবাসীর। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের ট্রাক প্রবেশ করতে দেখা গেছে। এছাড়াও কিছু ট্রাক ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড হয়ে ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ (পুরাতন) সড়ক দিয়েও চলাচল করতে দেখা গেছে। এ রাস্তায় ট্রাক চলাচলের জন্য নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট চাষাঢ়া মোড় ঘুরে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে যানজট যা চাষাঢ়া গোল চত্ত্বর থেকে নগরীর ২নং রেলগেট পর্যন্ত লেগে যায়। এছাড়াও নগরীতে প্রবেশের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন উভয় সড়কেও সৃষ্টি হয় যানজট। আর মূল সড়কের যানজট গিয়ে পড়ে নগরীর শাখা সড়কগুলোতেও। জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকার পাইকারী ব্যবসার জন্য মূলত দিনের বেলায় শহরে ট্রাক প্রবেশ করে চলে যায় নিতাইগঞ্জ এলাকার বঙ্গবন্ধু সড়কের উপরে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাজেট অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় এমপি সেলিম ওসমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শহরের নিতাইগঞ্জে ট্রাক স্ট্যান্ড উঠানো ও ফুটপাত হকারমুক্ত রাখার দাবী করেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এর প্রেক্ষিতে গত ৩১ জুলাই নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এমপি সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে নিতাইগঞ্জের ট্রাকস্ট্যান্ড নিয়ে ব্যবসায়ী ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যাতে সিদ্ধান্ত হয় ১ আগষ্ট থেকে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে পাইকারী মোকামে লোক আনলোড রাতের বেলায় চলবে। দিনের বেলায় কোন ট্রাক থাকতে পারবেনা এমনকি তাদেরকে শহরের বঙ্গবন্ধু ও সিরাজদ্দৌলা সড়ক দিয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হবেনা। রাত ৯টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত নিতাইগঞ্জের বোটখালের উপরে লোড আনলোড করবে ব্যবসায়ীরা। এর পর ১ আগস্ট থেকেই শহরের যানজটের চিত্রই বদলাতে শুরু হয়। নগরীর চিরচেনা যানজটের দুর্ভোগ ভুলতে শুরু করে নগরবাসী। কিন্তু নতুন করে সেই দুর্ভোগ আবারও দেখা দিতে শুরু করেছে। শহরের নিতাইগঞ্জে ট্রাক স্ট্যান্ড বসতে শুরু করেছে যার জন্য প্রতিনিয়িত শহরে ঢুকছে ট্রাক আর এ সুবাদে নগরীর চাষাঢ়া মোড় ঘুড়ার সুযোগ নিচ্ছে অন্যন্য জেলার ও এলাকার ট্রাকগুলোও। এতে করেই নগরীতে বেশি সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। উৎসব পরিবহনের বাস চালক শফিক আহমেদ বলেন, ‘ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকলে মূলত যানজটের ভোগান্তি হয় না। এগুলো এসব রাস্তায় ধীর গতিতে চলে যার জন্য মোড় ঘুরাতে গিয়ে যানজট সৃষ্টি হয়। আর বেশি গতিতে চলছে দূর্ঘটনা ঘটে।’ তিনি আরো বলেন, ‘নগরীর বেশি কয়েক মাস যানজট ছিল না। শুধু মাত্র ট্রাক না থাকায় যানজট ৮০ ভাগ কমে গেছে। কারণ ট্রাকগুলোই মূলত যানজট বেশি সৃষ্টি হয়। এর সঙ্গে অবৈধ রিকশাও আছে। শহরের দিনের বেলায় ট্রাক পুরোপুরি বন্ধ রাখতে পারলে যানজট হবে না। যেমন শুক্রবার কিংবা শনিবার দিনের বেলায় তেমন কোন যানজট দেখা যায় না। তবে যানজট দেখা যায় বাকি ৫দিনই। সেই তুলনায় বেশি থাকে মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে পাগলা পুরাতন সড়ক দিয়ে আসা যাওয়াকারী শহরের খানপুর এলাকার বাসিন্দা হৃদয় খান বলেন, ‘প্রতিনিয়ত ট্রাকের জন্য পঞ্চবটি এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। এ যানজট ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে থাকে। পরে যখন শহরের চাষাঢ়া হয়ে বের হয়ে যেতে আসে তখনও চাষাঢ়া মোড়ে যানজট হয়। এজন্য কখনো কোন ট্রাফিক পুলিশকে বাধা দিতে দেখি না।’ গলাচিপা এলাকার বাসিন্দা লোকমান হোসেন বলেন, ‘যানজট শুধু ট্রাকের জন্য হয় তা না। সব পরিবহনের জন্যই যানজট হয়। এক্ষেত্রে ট্রাক ৫০ থেকে ৬০ ভাগ যানজট বেশি হয়। বড় বড় ট্রাক প্রবেশ করলে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। আবার এগুলো চাষাঢ়া ঘুরে বের হতে গেলেও লাগে যানজট। দুই মিলে নগরীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট ভোগান্তি। তবে এসব ট্রাক বন্ধ হলেই মিলবে প্রশান্তি।’

রোগীর মৃত্যুর পর আপোষরফায় বিশ লাখ টাকা কার পকেটে ?

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

শহরের একটি বেসরকারী হাসপাতালে নারী রোগীর মৃত্যুর পর আপোষরফায় ২০ লাখ লেনদেনের পর ওই টাকা কার পকেটে ঢুকেছে তা নিয়ে এখন চলছে আলোচনা। ডাক্তারদের একটি অংশ জানান, মূলত গাইনি ডাক্তার অমল রায়ের কাছ থেকে ওই টাকা হাতিয়ে নেওয়া হলেও সে টাকার সুষ্ঠু বন্টন হয়নি। পরিবারকে যেমন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি তেমনি অমল রায়কে মামলা থেকে বাঁচিয়ে দেওয়ার নাম করে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) এর কতিপয় শীর্ষ নেতা ওই টাকা হাতিয়ে নেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের সলিমুল্লাহ সড়কে ঝুমা আক্তার নামের প্রসূতির মৃত্যুর পরেই বিএমএ এর দুইজন শীর্ষ নেতা সহ ওই ক্লিনিকের পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন মিলে সভা করে। সেখান থেকেই সিদ্ধান্ত আসে অমল রায়ের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া। ওই হাসপাতালের কাছে অমল রায়ের পাওনা ছিল ১৩ লাখ টাকা। বিভিন্ন সময়ে পাওনা টাকা প্রদান নিয়ে গড়িমসি শুরু করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ৮ মার্চ রোগী মৃত্যুর পর অমল রায়কে পুলিশ ধরে নেওয়ার পরে বিষয়টি আলোচনায় চলে আসে। তখন বিএমএ এর একজন শীর্ষ নেতা বিষয়টি আপোষের জন্য ২০ লাখ টাকার প্রস্তাব দেয়। নতুবা হত্যা মামলায় অমল রায়কে গ্রেফতার ও মামলা ঠুকে দেওয়া হবে জানানো হয়। পরে রাতেই সদর থানায় আটক বিএমএ এর একজন শীর্ষ নেতা অমল রায়ের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতায় বসেন। বিএমএর শীর্ষ নেতা তখন মুঠোফোনে থানায় পাঠানো অপর নেতার মাধ্যমে অমল রায়কে ২০ লাখ টাকার প্রস্তাব দেন। শর্ত ছিল মেডিস্টার হাসপাতাল থেকে যে পাওনা ১৩ লাখ সেটা বাদ দিয়ে নতুন করে আরো ৭ লাখ দিতে হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএমএ নেতাদের কপাল খুলে কোন ক্লিনিক বা হাসপাতালে কারো মৃত্যু কিংবা কোন ধরনের ঝামেলা সৃষ্টি হলে। গত ৮ মার্চ মেডিস্টার ক্লিনিকে ঝুমা আক্তার নামের এক রোগীর মৃত্যুর পরেও সে কাজটিই হয়েছে। সেদিন রাতেই সদর মডেল থানায় গিয়ে বিএমএ এর একজন নেতাকে দেখা গেছে ঘুরাফেরা করতে। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে পুলিশের একজন কর্মকর্তার রুমে বসে থাকা গাইনি ডাক্তার অমল রায় সহ আটক ৫জনের সঙ্গে কথা বলেন বিএমএ এর ওই প্রভাবশালী নেতা। পরে যখন গণমাধ্যমের একজন কর্মী বিষয়টি দেখে ফেলে তখন পুলিশের কয়েকজন সদস্য দ্রুত সেখানে গিয়ে বিএমএ নেতাকে বেরিয়ে আসতে বলেন। কিন্তু ততক্ষণে ওই কক্ষে আর কেউ ছিল না পুলিশের। ‘আমি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএমএ এর নেতা। যেহেতু অমল বাবুকে এখনো গ্রেফতার করা হয়নি সেহেতু তার সঙ্গে আমি দেখা করতেই পারি। যে কোন কথা বলতে পারি।’ সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় গিয়ে এভাবেই পুলিশের সঙ্গে দাপটে আচরণ করেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) নারায়ণগঞ্জ জেলার একজন প্রভাবশালী নেতা। থানায় পুলিশের সঙ্গে ওই আচরণের একটি ভিডিও ক্লিপ এসেছে এ প্রতিবেদকের কাছে। সংশ্লিষ্ট ডাক্তারদের অনেকেই জানান, সে আচরণ যেটা রেকর্ড হয়েছে তাতেই ওই ডাক্তারকে বেশ আগ্রাসী দেখা গেছে পুলিশের সঙ্গে আচরণ করতে। কিন্তু এর আগে ও পরে সে আচরণ ও দাপুটে মনোভাব ছিল আরো বেপরোয়া। একজন ওই ভিডিও ধারণের অন্তত ঘণ্টাখানেক আগে থেকেই পুলিশের একজন কর্মকর্তার রুমেই ছিলেন বিএমএ ওই নেতা। তার সঙ্গে আরো ছিলেন কয়েকজন ডাক্তার। ডাক্তারদের একজন জানান, নারায়ণগঞ্জে যারা বিএমএকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেখানে সভাপতি ডা. শাহনেওয়াজ কর্তৃত্ব ধরে রেখেছেন বছরের পর বছর ধরে। সেক্রেটারী পদে কদাচিৎ পরিবর্তন আসলেও সভাপতি পদে আদৌ আসছেন না। বিএমএ এর ওয়েব সাইট অনুযায়ী বর্তমানে সেক্রেটারী ডা. দেবাশীষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ক্লিনিক মালিক জানান, বিএমএ এর নেতাদের কাজই হলো এখন কোন ক্লিনিক ও বেসরকারী হাসপাতালে কেউ মারা গেলে সেটা রফাদফা করা। মাঝে অভিযুক্ত ওই ক্লিনিক ও হাসপাতাল মালিক কিংবা ডাক্তারের কাছ থেকে মোটা অংকের একটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া। বিএমএএর একজন প্রভাবশালী নেতা জানান, নারায়ণগঞ্জে বিএমএ মূলত কুক্ষিগত আছে। এখানে কমিটিতে রদবদল খুব একটা হচ্ছে না। বরং কোন রোগীর মৃত্যু হলেই বিএমএ এর নেতারা সরব হয়ে উঠেন। বসেন আপোষ মিমাংসাতে। গত ৮ মার্চ দুপুরে শহরের মেডিস্টার জেনারেল হাসপাতালে ঝুমা আকার (২৪) নামের রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাংচুরের ঘটনা ঘটায় স্বজনরা। তাদের অভিযোগ ডাক্তারের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ একজন গাইনি ডাক্তার অমল কুমার সহ ৫ জনকে আটক করে। বিক্ষুব্দ রোগীর স্বজনরা ওইসময় হাসপাতালটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই ঘটনার পরেই এলিট শ্রেণির ক্লাব হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেডে সমঝোতায় বসে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন তথা বিএমএ এর শীর্ষ নেতারা। সেখানে প্রশাসনের কয়েকজন কর্তাব্যক্তিও ছিলেন। প্রায় ১৫ লাখ টাকার একটি রফাদফা ঘটে সেখানে। পরে রাতেই বিএমএএর প্রভাবশালী কয়েকজন নেতাকে দেখা গেছে রাতেই সদর মডেল থানায় গিয়ে আটককৃতদের সঙ্গে দেখা করতে। সেখানে পুলিশের সঙ্গেও বেশ দাপট দেখান এসব বিএমএ নেতারা। সঙ্গে ছিলেন স্বাচিপেরও (স্বাধীনতা চিকিৎসক ফোরাম) কয়েকজন নেতাকে। ডাক্তারদের একটি সূত্র জানান, সে রাতে ক্লাব বসে রফাদফার পর টাকার একটি অংশ চলে যায় বিএমএ নেতাদের পকেটে। আর কিছু টাকা পায় প্রশাসনের একটি অংশ। সিভিল সার্জন অফিসকে ম্যানেজের কথা বলে হাতিয়ে নেওয়া হয় টাকার একটি ভাগ। শেষে সব মিলে মৃতের পরিবারকে চাপ দেয় ও মামলা না করার কথা বলে। ওই ডাক্তার আরো জানান, শুধু ঝুমা আক্তার না এর আগেও আরো অনেক ঘটনায় এভাবে টাকা লেনদেনের ঘটনা ঘটে। কোন ক্লিনিকে ঘটনা ঘটলেই তৎপর হয়ে উঠে বিএমএ নেতারা। আর সে কারণেই এ সংগঠনটি কুক্ষিগত করে রেখেছে কয়েকজন ডাক্তার।

ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জের অনেক প্রার্থীর স্বপ্নভঙ্গ

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে আশা পূরণ না হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের অনেক সম্ভাব্য প্রার্থীর স্বপ্ন ভঙ্গ হতে চলেছে। কারণ বেশ কয়েকজন রাজনীতিকের প্রত্যাশা ছিল বিগত সময়ের মত ফতুল্লা নিয়েই আবারো নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থাকবে। সে ক্ষেত্রে সিদ্ধিরগঞ্জ হয়তো নারায়ণগঞ্জ-৩ তথা সোনারগাঁয়ের সঙ্গে সংযুক্ত হবে নতুবা নতুন একটি আসন হবে। কিন্তু এর কোনটিই বাস্তবায়িত না হওয়ায় ওইসব প্রার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকজন রাজনীতিকের সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে এসব হতাশার কথা। ওইসব রাজনীতিকেরা দুই দলের সমর্থক। গত বুধবার নির্বাচন কমিশন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সীমানা বর্তমান তথা ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ কেন্দ্রীক রেখে দেয়। এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডগুলোকে নির্ধারণ করে দেওয়া জয়। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনকে রাখা হয়েছে আগের মতই। আলীরটেক ও গোগনগর ছাড়া সদর উপজেলার বাকি ইউনিয়ন (ফতুল্লা, এনায়েতনগর, কাশীপুর, বক্তাবলী, কুতুবপুর) এবং সিটি করপোরেশনের ১ হতে ১০ নাম্বার ওয়ার্ড। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনকেও আগের মতই রাখা হয়েছে। এতে আলীরটেক, গোগনগর, বন্দর উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ১১ হতে ২৭ নাম্বার ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত আছে। স্বাধীনতার পর থেকে নারায়ণগঞ্জে ৫টি সংসদীয় আসনেই ভোট হচ্ছে। এর মধ্যে ২০০৮ সালের ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি গঠন করা হয় শুধুমাত্র ফতুল্লা থানা কেন্দ্রীক। আর তখন সিদ্ধিরগঞ্জকে যুক্ত করা হয় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে সোনারগাঁও থানার সঙ্গে। তবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের আগে আবারও আগের মত ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ ও সোনারগাঁও নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ গঠন করা হয়। এর আগের নির্বাচন কমিশন ভোটার সংখ্যা আনুপাতহারে নারায়ণগঞ্জে একটি সংসদীয় আসন বাড়ানোর চিন্তা করেছিল। তখন বলা হয়েছিল ফতুল্লা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থাকবে আর সিদ্ধিরগঞ্জ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৬ আসন হবে। কিন্তু মাঝের অনেকটা সময় ধরেই এ নিয়ে নানা ধরনের হিসেব নিকেশ চলে। রাজনৈতিক দলের নেতারাও এটা নিয়ে বেশ লবিং করে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পাগলার শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ চেয়েছিলেন আসন একটি বাড়–ক। তাহলে তিনি ও শামীম ওসমান মিলে দুটি আসন ভাগাভাগি করে নিবেন। ফতুল্লাতে থাকবেন পলাশ আর শামীম ওসমান থাকবেন সিদ্ধিরগঞ্জে। পলাশের পক্ষে একটি আবেদনও নির্বাচন কমিশনে পড়েছিল জানা গেছে। তবে সেটা পলাশ নিজেই দিয়েছেন নাকি তার পক্ষে কেউ দিয়েছেন সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নির্বাচন কমিশন সূত্র এটা নিশ্চিত করেছে যে, আওয়ামী লীগ ও শ্রমিকলীগের একজন নেতার পক্ষে আবেদন জমা পড়েছিল। অপরদিকে আসন বাড়লে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন ও জেলা বিএনপির সেক্রেটারী মামুন মাহমুদও প্রার্থী হতে পারে। তবে আসন না বাড়লেও এ দুইজন মনোনয়ন চাইতেন এতে কোন সন্দেহ ছিল না।

দেশের পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কিত শামীম ওসমান

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আগামী সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে দেশের পরিস্থিতি অন্য রকম হয়ে যাবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান। তিনি বলেন, এর মধ্যে হতে পারে আমি মরেও যেতে পারি। তাই আমাদের কে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। যারা দলের প্রকৃত কর্মী তাদের কে অমূল্যায়ণ করছে। তাই দলের এই প্রকৃত কর্মীদের আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ফতুল্লাস্থ ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ফতুল্লা ইউনিয়নের (৬,৭,৮,৯) নং ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের সাথে মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই শংকা প্রকাশ করেন। ফতুল্লা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোহাম্মদ মিছির আলীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন আহমেদ, কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এম. সাইফুল্লাহ বাদল, বক্তাবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী শওকত আলী। আরোও উপস্থিত ছিলেন, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি ইব্রাহিম চেঙ্গিস, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়ালী মাহমুদ, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হক নিপু, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজন প্রমুখ ।

ফতুল্লায় কর্মী সভায় শামীম ওসমান আমি এমপি না হলেও চলবে

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে আওয়ামীলীগের জন্য ফাইনাল খেলা। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমি এমপি না হলেও চলবে, কিন্তু দলকে ক্ষমতায় আসতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) বিকেলে ফতুল্লাস্থ ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ফতুল্লা ইউনিয়নের (৬,৭,৮,৯) নং ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের সাথে মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  শামীম ওসমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে। জঙ্গিবাদ দমন করেছেন।  আমরা যেমন বঙ্গবন্ধু ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি, তারাও তেমনি তাদের নেতাদের মৃত্যুদন্ডের দায়ে আমাদের উপর চড়াও হবে। দূর্নীতির দায়ে বিএনপির নেত্রী জেলে আর তার ছেলে দেশ ছেড়ে চলে গেছে। তারাও এর প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা করবো। বিদেশি ও সাম্প্রদায়িক শক্তিরা এদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।  তিনি আরো বলেন, গত ৯৬ নির্বাচনে এই ইসদাইরের আপামর জনসাধারণ যেভাবে আমাকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে, আমি তার ঋণ কোনদিনও শোধ করতে পারবো না। আমি মোটামুটি আমার আসনের কাজ শেষ করেছি  আগামী অক্টোবরের মধ্যে সকল উন্নয়নের কাজ শেষ হয়ে যাবে। এখন আমার একটাই চাওয়া, তাহলো একটি মেডিকেল কলেজ। আর সামসুজ্জোহা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ আরম্ভ করা। তাহলে আমি আমার আসনের এমপি হিসেবে নিজেকে স্বার্থক মনে করবো। ফতুল্লা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোহাম্মদ মিছির আলীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন আহমেদ, কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এম. সাইফুল্লাহ বাদল, বক্তাবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী শওকত আলী। আরোও উপস্থিত ছিলেন, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি ইব্রাহিম চেঙ্গিস, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়ালী মাহমুদ, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হক নিপু, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজন প্রমুখ ।