আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:১৪
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

ফতুল্লায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নতুন কমিটি দাবি

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান পর্যায়ক্রমে ফতুল্লায় ইউনিয়ন ভিত্তিক মতবিনিময় সভা করে যাচ্ছেন। এ মত বিনিময় সভায় তৃনমূল নেতাকর্মীরা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ ছাড়াও যুবলীগ, ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের আহবান করা হয়েছে। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের হাতে বন্দী রয়েছে। আর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য কোন পদের নেতাদের নাম গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে না। যার কারণে তাদের নিজস্ব বলয়ের লোক ছাড়া অন্য কোন নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিচ্ছে না তারা। যারা জিন্দাবাদ বলে শ্লোগান দিতে পারবে তারাই হবে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের লোক। এ হচ্ছে ফতুল্লা থানা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির হালচাল। তাই যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে হলে নতুন কমিটি গঠন করা হলে নতুনরাই যুবলীগ ছাত্রলীগকে নতুন রূপে সাজাতে পারবে। তবে ব্যক্তির হাত থেকে রেহায় পেতে চায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাধারন নেতাকর্মীরা। এদিকে গত কয়েকদিন শামীম ওসমানের আহবানে পর্যায়ক্রমে মতবিনিময়ে সভা অনুষ্ঠিত হলেও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে যে ধরনের ক্ষোভ রয়েছে মন খুলে দলের এমপির কাছে প্রকাশ করতে পারছে না অনেকেই এমন অভিযোগ করছেন। তারা চায় এমপির কাছে তাদের দীর্ঘদিন ক্ষোভ ও হতাশার কথাগুলো তুলে ধরা। কিন্তু দলের প্রতিবাদী নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেয়ার তেমন একটা সুযোগ পাচ্ছে না। যার কারণে তাদের হতাশা ও ক্ষোভ দূর হচ্ছে না। আর যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির শুধু মাত্র ব্যক্তির হাতে সীমাবদ্ধ রয়েছে। সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক তারা তাদের মনগড়া ভাবে রাজনীতি করছে এবং দলের পদ ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারও করছে। তারা পদ ব্যবহার করে নিজেরা নিজেদের সুবিধা গ্রহন করলেও দল লাভবান হচ্ছে না। যার কারণে নতুনদের হাতে নেতৃত্ব দিলে আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ন এ দুটি অঙ্গসংগঠনের রাজনীতি শক্তিশালী হবে বলে সাধারন নেতাকর্মীরা মনে করছেন।  দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লা থানা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কমিটি গঠিত হয়েছিল গত একযুগ হয়। কমিটিতে যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল আলী, সাধারন সম্পাদক ফাইজুল ইসলাম। আর ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মোহাম্মদ শরীফুল হক, সাধারন সম্পাদক এমএ মান্নান। এ দুটি অঙ্গসংগঠনের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকদের মধ্যে কোন ধরনের ঐক্য নাই। তারা তাদের বলয়ে রাজনীতি করে এবং দলের পদ ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করছে। এমনকি তারা তাদের নিজস্ব বলয় তৈরি করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে ‘নিজস্ব লীগ’ হিসাবে গড়ে তুলেছেন। যার কারণে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতিতে ভাল লোকদের দেখা যাচ্ছে না। বেশির ভাগই লোক দেখা যায় তারা ওমুক ভাইয়ের লোক আবার তমুক ভাইয়ের লোক। আর যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক ছাড়া অন্য কোন পদের নেতাদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সভা সমাবেশে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদককেই মঞ্চের সারিতে দেখা যায়। মাইকে আর কারো নাম বলতে শোনা যায় না। তাহলে কি যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক নিয়েই কমিটি গঠন করা হয়েছিল এমন অভিযোগ অনেকের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুবলীগের এক নেতা জানান, ১৩ মার্চ মঙ্গলবার বিকেলে ফতুল্লার পাইলট স্কুলে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের উদ্দেগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান। আর যুবলীগের সভাপতি, সাধারন সম্পাদক, ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারন সম্পাদক ছাড়া আর মাইকে কোন পদের নেতার নাম বলতে শোনা যায়নি। আর এমপির মুখ থেকে এ চারজন নেতার নাম শোনা যায়। তাহলে চারজন দিয়েই কি যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির কার্যক্রম চলে। যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল নিজস্ব বলয় তৈরি করে রেখেছে। সেই লোকজন শুধু সোহেল ভাই বলে শ্লোগান দিয়ে থাকে। আর সাধারন সম্পাদক ফাইজুল ইসলামও নিজস্ব বলয় তৈরি করে রেখেছেন। যারা মীর সোহেল ও ফাইজুল ভাইয়ের নাম নিয়ে শ্লোগান না দিবে তারা যুবলীগের লোক হতে পারবে না। এমন প্রচলনে চলছে যুবলীগের রাজনীতি। থানা যুবলীগের সভাপতি এখন জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন। উনি এখনো যুবলীগের ছেলেদের নিয়ে ফতুল্লার রাজনীতি করছেন। তাই এখনই ফতুল্লার যুবলীগের রাজনীতিতে পরিবর্তন হওয়া দরকার।

জনদুর্ভোগ দেখছে না জনপ্রতিনিধিরা

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট, মশা ও বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রবসহ নানাবিধ জনদুর্ভোগে ক্রমশই আস্থা হারাচ্ছেন জনপ্রতিনিধিরা। গত কিছুদিন ধরেই নানাবিধ জনদুর্ভোগে বিক্ষুব্দ হয়ে উঠছে জনসাধারণ। এর মধ্যে বন্দরে ওয়াসার পানি সঙ্কটের প্রতিবাদে বিক্ষুব্দ হয়ে উঠেছেন বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। তারা ইতিমধ্যে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়ায়ও ব্যক্ত করেছেন। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জের জেলা জুড়েই মশা ও কুকুরের উপদ্রবে জনসাধারণ অতীষ্ট হলেও দেখার যেন কেউ নেই। এছাড়া বিগত বছরে নারায়ণগঞ্জবাসীর অন্যতম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছিল জলাবদ্ধতা, ভাঙাচোরা সড়ক ও অসহনীয় যানজট। যার কোনটিরই সমাধানে নেই দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ। জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে গত কয়েক মাস ধরেই মহানগরের বন্দরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিরাজ করছে ওয়াসার পানির তীব্র সঙ্কট। এছাড়া শহর ও সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ওয়াসার পানির সঙ্কটতো রয়েছেই। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে ঢাকা ওয়াসা শতকরা ১৫ ভাগ এলাকায় পানি সরবরাহ ঠিকমত করতে পারছেনা যার কারণে ৮৫ ভাগ জনগণ প্রয়োজনীয় পানি বঞ্চিত রয়েছে। আর যেখানে পানি সরবরাহ কর হয় সেখানে নর্দমা ও ড্রেনের দুর্গন্ধযুক্ত, নোংরা পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এ পানি খাওয়া তো দূরের কথা ব্যবহারেরও অনুপযোগী। ওয়াসার পানি সরবাহের মেইন পাইপে অসংখ্য লিকেজ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে যেমনি পানি অপচয় হচ্ছে তেমনি নর্দমার পানিও প্রবেশ করছে ওয়াসার পানি সরবরাহের লাইনে। এতে করে ডায়ারিয়াসহ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা করছে এলাকাবাসী। এছাড়াও শহরের বিভিন্ন স্থানেও ওয়াসার পানি সরবরাহের লাইনে অসংখ্য লিকেজের কারণে নর্দমা ও ড্রেনের দুর্গন্ধযুক্ত, নোংরা পানি প্রবেশ করছে। তার উপর লিকেজগুলোর কারণে মাটি সরে গিয়ে সিটি করপোরেশনের রাস্তাগুলোতেও পরিণত হচ্ছে ছোট আকারের নর্দমায়। এর আগে ২০১৩ সালের আগষ্টের শুরুতে বন্দর থানার লক্ষণখোলায় ওয়াসার দূষিত পানি পান করে শিশুসহ ৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়। অসুস্থ্য হয়েছিল অন্তত ৭ শতাধিক। ওই সময় বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। জানা গেছে, বন্দরের বিভিন্ন এলাকার অধিবাসীরা দীর্ঘ ৭ মাসেরও বেশী সময় ধরে পানির সঙ্কটে ভুগতে থাকলেও সমস্যা নিরসনে তেমন একটা উদ্যোগী হতে দেখা যায়নি নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনের এমপি সেলিম ওসমান এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে। বরং বন্দরের বাসিন্দা না হয়েও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বন্দরবাসীর দুর্দশা লাঘবের দাবিতে ওয়াসার কাছে জবাব চেয়ে পোস্টার সাটিয়েছিলেন।  পরে ১ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক সভায় ওয়াসা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীর উপর প্রচন্ড ক্ষুদ্ধ হয় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। ওয়াসা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী উত্তরে বলেন, আমার কাজের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমি বিষয়টি আমার উপরের মহলকে অবহিত করেছি। কিন্তু সেখান থেকে কোন সমাধান পাইনি। পরিপ্রেক্ষিতে এমপি সেলিম ওসমান তার কাছে জানতে চান ওয়াসা কোন মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন। ৭ মাস পরে খবর নেয়ায় সেলিম ওসমানের প্রতি ক্ষুব্দ নবীগঞ্জবাসী : এদিকে গত কয়েকদিন ধরেই বন্দরের বিভিন্ন এলাকার অধিবাসীরা ওয়াসার বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটের প্রতিবাদে বিক্ষুব্দ হয়ে উঠছে। গত ৪ মার্চ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৪ নং ওয়ার্ডের নবীগঞ্জ খেয়াঘাট এলাকাতে ওয়াসার পানি সংকটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখিয়েছে ভুক্তভোগীরা। মানববন্ধনে পানির কলস নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন অনেক গৃহবধুরা। ওই মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২৪নং ওয়ার্ডবাসী দীর্ঘ ৭ মাস ধরে পানির অভাবে ভুগছে। মানুষের কষ্টের সীমা নেই। যেই পানি না হলে মানুষ বাঁচতে পারেনা সেই পানিই মিলছেনা ২৪নং ওয়ার্ডবাসীর ভাগ্যে। আমরা আর বরদাশতঃ করবোনা। যাকে আমরা ভোট দিয়ে এমপি নির্বাচিত করেছি সেই এমপি ৭ মাস পরে এসে খবর নেন আমাদের এটা দুর্ভাগ্য। আমাদের বক্তব্য এমপি সাহেব এই ৭ মাস আপনি কোথায় ছিলেন? আপনার কোন প্রতিনিধি দিয়ে এলাকাবাসীর কোন খোঁজ খবর নিয়েছিলেন। আপনি ভুলে যাবেননা আমাদের ভোটে আপনি এমপি হয়েছেন সুতরাং আমাদের দুঃখ-কষ্টভাগ করে নেয়া আপনার উচিত। আমরা মেয়রের সহযোগিতা কামনা করছি। আপনারা যার যার অবস্থান থেকে সহযোগিতা করলে আজকে আমাদের এই দূরাবস্থা হতোনা। আমরা এই সংকট থেকে বাঁচতে চাই। আমাদেরকে মুক্তি দিন। ওয়াসাকে ৭দিনের আল্টিমেটাম দিচ্ছি যদি ৭দিনের মধ্যে এই ২৪নং ওয়ার্ডবাসীর পানির সমস্যা সমাধাণ না করা হয় তাহলে আমরা কঠোর থেকে কঠোর আন্দোলনে নামবো। আপনারা পানি নিয়ে তামাশা বন্ধ করুন। নয়তো পরিণতি খুব ভয়াবহ হবে তখন নিয়ন্ত্রণ করা কারো সাধ্য হবেনা। এমপি মেয়রকে এক গ্লাস পানি পানের আহবান সোনাকান্দাবাসীর: ১৩ মার্চ বিকেলে ‘পানি নাই, পানি চাই, বিশুদ্ধ পানি কবে পাব জানতে চাই’ এ শ্লোগানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ২০ নং ওয়ার্ডস্থ সোনাকান্দা পানির ট্যাংকি এলাকায় বৃহত্তর সোনাকান্দা এলাকাবাসীর উদ্যোগে দূর্গন্ধযুক্ত বিষাক্ত পানি বন্ধ এবং বিশুদ্ধ পানি সরবারাহের দাবিতে মানববন্ধন ও ওয়াসা অফিস ঘেরাও কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানব বন্ধনে বক্তারা বলেন, ওয়াসার পানি সেবন করে সোনাকান্দা এলাকাসহ এর আশে পাশের  বহু মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। আমরা এই মানববন্ধন থেকে এমপি সেলিম ওমসান ও নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভিকে জানাতে চাই। আপনারা এ ওয়ার্ডে আসুন এবং সরেজমিনে দেখুন এ ওয়ার্ডের বাসিন্দারা পানির জন্য কত কষ্টে রয়েছে। এ ওয়ার্ডে প্রায় ৩৫ হাজার জনগণ দীর্ঘদিন ধরে পানির কষ্টে ভুগছে।  সে সাথে স্থানীয় বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী স্থানীয় এমপি ও মেয়রকে এ ওয়ার্ড থেকে এক গ্লাস পানি খেয়ে যাওয়ার আমন্ত্রন জানানো হয়। এদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর এলাকা ছাড়াও জেলা জুড়েই মশা ও কুকুরের উপদ্রবে অতীষ্ট এলাকাবাসী। নারায়ণগঞ্জ শহরে মশা ও বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রুব ক্রমশ বাড়তে থাকায়ে নগরবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম অসন্তোষ। সিটি করপোরেশন মশা নিধনের ক্ষেত্রে তাদের নিয়মিত অভিযানের কথা বললেও ভুক্তভোগী নগরবাসী বলছে তারা রীতিমত অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। অপরদিকে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার কারণে কুকুর নিধন করা যাচ্ছে না অজুহাত সিটি করপোরেশনের। ফলে শহরে প্রায়শই কুকুরে কামড়ানো রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শহরের সরকারী হাসপাতালগুলোতে মাঝেমধ্যে ভ্যাকসিনের সংকট থাকায় দেখা দেয় দুর্ভোগ। শহরের চাষাঢ়া সলিমউল্লাহ সড়কের বেসরকারী অফিসের চাকরিজীবি কবির হোসেন জানান, মূল সড়ক থেকে বাসায় যেতে কয়েকটি স্থানেই কুকুরের উপদ্রুব দেখা যায়। হাতে কোন ব্যাগ কিংবা খাবার থাকলে কুকুর পেছনে লাগে। এটা বেশ আতংকের। কলেজ রোড এলাকার মাজহারুল ইসলাম জানান, তিনি প্রতিদিন রাতে বাড়ি ফেরেন। বাইরে কুকুরের কারণে ভীত হয়ে থাকতে হয়। আর ঘরে ঢুকলে মশার কামড়ে অতিষ্ঠ থাকতে হচ্ছে। শীতের সময়ে রাতে মশারি টানিয়ে ঘুমানো যেত। কিন্তু এখন গরম আসছে এখনো মশার কারণে যদি মশারি টানাতে হয় তাহলে তাপদাহে টিকে থাকা বেশ কঠিন হবে। নগরবাসী জানান, ইতোমধ্যে বিগত কয়েক মাস হতে নারায়ণগঞ্জ মহানগরে মশার অসহনীয় উপদ্রবে নগরবাসী অতিষ্ঠ। দিনের বেলাতেও মশার আক্রমনে ও ভনভন শব্দে অতিষ্ঠ নগরবাসী ক্ষুব্ধ ও সেই সাথে ছেলে মেয়েরা পড়াশোনা করতে পারছে না এবং চিকনগুনিয়া রোগের ভয়ে মানুষ আতংকগ্রস্ত। অন্যদিকে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রপে ভীত নগরবাসী। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির প্রত্যাশা নগরবাসীর। সেই সাথে অবৈধ পলিথিনের অবাধ ব্যবহার ও এর উচ্ছিষ্ট পরিবেশের অবনতিতে আতংকগ্রস্ত নগরবাসী। নগরবাসী আরো জানান, আমরা ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশনের মেয়রের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। মেয়র আমাদের জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে মশা নিধনের কাজ শুরু হয়েছে। কুকুর নিধনে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সে কারণে এটা সম্ভব হচ্ছে না।

 

 

 

মরণ ফাঁদে পরিণত ঢাকা-না’গঞ্জ লিংক রোড

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

যতই দিন যাচ্ছে ততই মরণ ফাঁদে পরিণত হচ্ছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড। প্রতিনিয়ত এই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটেই চলছে। তবে তা এখন বৃদ্ধি পেয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। তারপরও মানুষ প্রয়োজনে ছুটে চলছে এই সড়ক দিয়ে। অথচ দেখার যেন কেউ নাই। সাইনবোর্ড থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার লিংক রোডের সবটাই এবড়ো থেবড়ো। কোথাও এমন গর্ত যে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী। বেশির ভাগ মোড় এবং ইউটার্নের অবস্থা এমনই দেখা গেছে। সড়কে মাঝে মাঝে পিচ উপরে উঠে গিয়ে টিউমারের মত ফুলে গেছে। গাড়িগুলো এসব টিউমারের উপরে উঠে আছড়ে পরে। আর এতে গাড়ির যেমন ক্ষতি হয়, তেমনি ক্ষতি হয় যাত্রীদের। কয়েক মাস আগে থেকে সৃষ্টি হয়েছে আরেকটি নতুন সমস্যা। সড়কের উপর বৈদ্যুতিক তারের বিশাল আকৃতির রোল জমা করে রেখেছে সড়কের উপরেই। সারিবদ্ধভাবে প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে এই রোল রেখে গোডভউন হিসেবে ব্যবহার করছে লিংক রোডকে। আর এতে দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে যানবাহন। গোলাকার এবং ভারী হওয়ায় যে কোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভবনা খুব বেশি রয়েছে বলে মনে করেন ভুক্তোভোগীরা। বর্তমানে সড়কের পশ্চিম লেনে সংস্কারের কাজ চলছে একমাস ধরে। সংস্কারের জন্য পিচের প্রায় দুই ইঞ্চি উঠিয়ে ফেলছে মেশিনের সাহায্যে। এতে সড়ক জুড়ে রেখার সৃষ্টি হয়েছে। আর এই রেখায় যানবাহনের গতি কমে গেছে। বাস যাত্রী কারিমুন বলেন, সংস্কারের কাজ চলছেতো চলছেই। কবে শেষ হবে সংস্কার সে আশায় থাকতে থাকতে দেখা যাবে আবার সড়ক সংস্কারের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। মানুষের এই ভোগান্তি কবে শেষ হবে কেউ জানে না। বাস চালক মোনায়েম বলেন, সড়কটি চলাচলের তুলনায় খুবই সরু। তার উপর বৈদ্যুতিক তারের বড় বড় রোল সড়কের উপর রেখে দেয়ায় ঝুঁকি বেড়েগেছে কয়েক গুণ। মাসের পর মাস পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যাথা নাই। বড় একটি দুর্ঘটনা ঘটার পরে তাদের টনক নড়বে। তখন ক্ষতি হয়ে যাবে বিশাল। যা সামাল দেয়া যাবে না। এলাকাবাসী মামুনুর রশিদ বলেন, দুর্ঘটনা নয়, বড় ধরণের দুর্ঘটনা হলেই টনক নড়ে। এই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। যে কোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সড়কের যে অবস্থা তাতে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। দেখার কেউ থাকলে দ্রুত দেখার আবেদন মানুষের।

মামলায় জর্জড়িত বিএনপি নেতারা এখন পরিবারের চাপের মুখে যারা খবর নেয়না তাদের রাজনীতি ছাড়

 

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তার এ রায়কে কেন্দ্র করে ফেব্রুয়ারির ৪ তারিখ থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যাপক ধরপাকড় করে পুলিশ। এতে গ্রেফতার হন দলের অনেক নেতাকর্মী, আত্মগোপনে চলে যান বেশিরভাগ নেতাই।  দলের জন্য কাজ করতে গিয়ে গ্রেফতার, মামলার শিকার হবার পর নেতাকর্মীদের পরিবাদের সদস্যরা খুবই খারাপ অবস্থা পার করছে। বিগত ৯ বছরের মধ্যে দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের পরিবার পরিজনরা এখন যেমন সবচেয়ে দুঃসময় পার করছেন তেমনি তার পরিবাররাও রয়েছেন দুঃশ্চিন্তায়। একদিকে কেমন আছে আপনজন, অন্যদিকে পরিবারে তাকে ছাড়া চলা সময়। দুটি দিকই বিবেচনা করে নেতাকর্মীদের পাশে দীর্ঘ সময় সমর্থন করা পরিবারের সদস্যরাও এখন আর বুঝে উঠতে পারছেন না। এর মধ্যে দলের পক্ষ থেকে সবচেয়ে এই করুন সময়ে দলের সিনিয়র কেউ নেতাকর্মীদের যেমন খোঁজ খবর রাখছেন না তেমনি খোঁজ খবর রাখছেন না তাদের পরিবারেরও। নারায়ণগঞ্জের অনেক নেতাকর্মীরা কারাগারে থাকলেও তাদের পাশে দলের কাউকেই পায়নি তাদের পরিবাররা। পরিবারের দলপাগল নেতা কিংবা উক্ত কর্মী কারাগারে বা পলাতক থাকায় পর একেবারেই খারাপ সময়ে পড়ে যান পরিবারের এসব সদস্যরা। আর তাই সবকিছু এবং রাজনীতি বাদ দিয়ে এখন তাই পরিবারের কাছে ফিরতে দলের নেতাকর্মীরা চাপ দেয়া শুরু করেছেন অনেকেই। দলের এমন কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, দীর্ঘ ৯ বছরের নির্যাতনেও দল ছাড়িনি। এখন পরিবার বলছে তোমার দল তো তোমার খবর নিচ্ছেনা। তুমি মামলা খাচ্ছ, পলাতক থাকছো কিন্তু তোমার কোন খবর নিচ্ছেনা তোমার দল। এসব কথার উত্তর দিয়েও দল না ছেড়ে দলের জন্য কাজ করছেন তারা। তবে এমন চাপের মধ্যেও দলের জন্য, দলের নেত্রী খালেদা জিয়ার জন্য শেষ পর্যন্ত কাজ করার কথাই বলছেন নেতাকর্মীরা। বিএনপির একাধিক নেতা জানান, রাজনীতি করে শুধু বিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। উল্টো মামলার আসামী হয়ে কারাগারে আবার কখনো পলাতক আত্মগোপনে থাকতে হয়। এতে পরিবারের লোকজন নাখোশ। বাড়িতে পুলিশ ডিবির সদস্যরা আসে। তখন পরিবারের লোকজন ভীত হয়ে পড়ে। এসব নিয়ে লোকজন বেশ বেকায়দায়। তাছাড়া আত্মগোপনে থাকতে গেলেও অনেক সমস্যা। স্বজনও কতদিন একজনকে থাকতে দিবে। এসব কারণে পরিবারের লোকজন রাজনীতি ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। তাছাড়া মামলা হলেও যায় অঢেল টাকা খরচ।

সরোয়ার্দীও কি পার পেয়ে যাবে?

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

৮০ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্য করেও পার পেয়ে গেছেন এএসআই শাহাবুদ্দিন এবার তাঁরই পথ ধরে ৪৯ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার অপর এএসআই সরোয়ার্দীর পার পাওয়াটা এখন সময়ের ব্যাপার বলেই মনে করছেন অনেকে। স্থানীয়রা বলছেন, ৮০ লাখ টাকা ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনায় বন্দর থানায় মামলা দায়ের হলেও এই মামলার তদন্তের দায়ভার পড়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক রাশেদ মোবারকের কাছে। তিনি এই মামলায় শাহাবুদ্দিনকে গ্রেফতারও করেছিলেন। তবে এই গ্রেফতার নিয়ে নানা লুকোচুরি করার অভিযোগও ওঠে। বলা হচ্ছে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই এমন লুকোচুরি। শুধু তাই নয়, অসুস্থ না হওয়ার পরও ঢাকার একটি অভিজাত বেসরকারি মেডিক্যালে রাখা হয়েছিলো অভিযুক্ত এএসআই শাহাবুদ্দিনকে। এরপর গোপনীয়তা রক্ষা করে তাঁকে আদালতে ওঠানো হয় এবং মামলার বাদির সঙ্গে আপোষ মিমাংসা করে জামিনেও মুক্ত করা হয়। তবে এসব কিছুই জানা গেছে জামিন পাওয়ার ৪দিন পর। শাহাবুদ্দিনকে নিয়ে এমন লুকোচুরির কারণে নারায়ণগঞ্জবাসীর মাঝে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। সচেতন মহল বলছে, এভাবে অপরাধ করার পরও যদি একজন মানুষ পার পেয়ে যায় তবে, অন্যান্য অপরাধীরাও উৎসাহিত হবে। এমনকি পুলিশে থাকা অন্য সদস্যরাও এমন দুর্ণীতির আশ্রয় নিতে দু’বারও ভাববে না।  এদিকে শাহাবুদ্দিন অপরাধ করেও পার পাওয়ার পর আলোচনায় আছে ৪৯ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার সদর মডেল থানা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক আলম সরোয়ার্দী রুবেল। বলা হচ্ছে কোনো না কোনো ভাবে এই সরোয়ার্দীও পার পেয়ে যাবেন। অথবা তিনি যেন পার পান তেমন অবস্থাও হয়তো তৈরি হয়ে যাবে আর সেটি পুলিশের মধ্য থেকেই তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র বলছে, সরোয়ার্দী গ্রেফতারের পর বন্দর থানাতেই মাদক মামলা দায়ের করা হয়। নিয়ম অনুসারে তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা সদর মডেল থানায় হওয়ার কথা। কেননা, বন্দর থেকে ৪৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের পর সদর থানায় ডিউটিরত অবস্থায় সরোয়ার্দীর সঙ্গে থাকা আরও ৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ফলে নিয়ম মোতাবেক এই থানাতেও এই ৫ হাজার পিস ইয়াবার জন্য একটি মামলা হওয়ার কথা। কিন্তু সেটি হয়নি। আর তাই এ নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্নের।

রাজনীতি করি আল্লাহকে খুশি করতে : ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলে সাংসদ শামীম ওসমান

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান বলেছেন, আগে নিজের জন্য হলেও এখন আল্লাহকে খুশি করার জন্য রাজনীতি করি। ক্ষমতা দেওয়ার ও নেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ। আল্লাহর হুকুম ছাড়া গাছের একটি পাতাও নড়েনা। যদি তাই হয়, তাহলে এত অহংকার কিসের। যদি পৃথিবীর ৭’শ কোটি মানুষও আমার বিপক্ষে থাকে আর আল্লাহর রহমত আমার উপর থাকলে আমাকে কেউ কিছু করতে পারবেনা। আর আল্লাহর রহমত আমার উপর না থাকে তাহলে কেউ আমার কোন উপকার করতে পারবেনা। গত বৃহস্পতিবার রাতে ফতুল্লার কায়েমপুর ফয়জুননেছা রোমান দাখিল মাদ্রাসা ও এতিম খানার উদ্যোগে ২ দিনব্যাপী ১৪ তম ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ শামীম ওসমান একথা বলেন। ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান বক্তা ছিলেন জৈনপুরের পীর সাহেব ড. এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী ওয়াসিদ্দিকী।  সাংসদ শামীম ওসমান আরো বলেন, আল্লাহর হাবিবকে যদি এত কষ্ট করতে হয় তাহলে আপনি আর আমি কি ? রাসুলের জীবনী পড়তে হবে। তার জীবনী থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। আমার ভাই নাসিম ওসমান আমাকে বলতেন, নামাজ পড় আর আল্লাহকে চেনার চেষ্টা কর। আমার রাসূল যখন হেরা পর্বতের গুহায় আল্লাহকে স্মরণ করতেন তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রথম বানী আসে ইকরা, যার অর্থ পড় তোমার প্রভুর নামে। রাসূল বলেছিলেন, আমিতো নিরক্ষর পড়তে জানিনা। এভাবে ৩ বার ওহি আসলো। ঐ কথার দ্বারা আমি এটাই বুুঝলাম, আল্লাহকে চিনতে হলে কোরআন পড়তে হবে। আমি কোরআন পড়া শুরু করলাম। কিন্তু আমিতো কিছুই বুঝতে পারলাম না, এখনো বুঝিনা। কারন কোরআন হচ্ছে জ্ঞানীদের জন্য। সুদখোর, ঘুষখোর ড. ইউনুস এর জন্য না, এটা হচ্ছে আল্লাহর পীর আউলিয়াদের জন্য। তিনি বলেন, আল্লাহ কোরআনে বলেছেন- বান্দা আমি তোমার ঘাড়ের সবচাইতে নিকটতম স্থানে অবস্থান করি। তাই আল্লাহকে ভয় করুন, যাদের এখনো বাবা মা জীবীত আছে তাদেরকে বলবো তাদের প্রতি সদয় আচরণ করুন। যে ব্যক্তি তার মায়ের দিকে এবার পূর্ণ মমতার দৃষ্টিতে তাকাবে সে একটি কবুল হজে¦র সওয়াব পাবে। ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলে পিঠালী পুল রি-রোলিং মিলস্ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ নুরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, মাদ্রাসা কমিটির পরিচালক মোঃ নিজামুল ইসলাম বকুল, সহ-সভাপতি মোঃ মনির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোক্তার হোসেন। সার্বিক পরিচালনা ও সহযোগীতায় ছিলেন, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ ফাইজুল ইসলাম।

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে সেলিম ওসমানের ৫শ’ পাউন্ডের কেক

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের উদ্যোগে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে বন্দর উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ সহ সকলের অংশ গ্রহনে ৫০০ পাউন্ডের কেক কেটে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উদযাপন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ নানা আয়োজনে শনিবার ১৭মার্চ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব কর্মসূচী পালন করা হবে। আজ শনিবার সকাল ৯টায় নারায়ণগঞ্জ কলেজ কর্তৃপক্ষের আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষ্যে কেক কাটা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন এমপি সেলিম ওসমান। তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। পরে সকাল ১১টায় এমপি সেলিম ওসমানের উদ্যোগে এবং বন্দর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বন্দর সমরক্ষেত্র মাঠে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন। সেখানে উপজেলার দুটি কলেজ, ২৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭৫টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডার গার্টেন, মাদ্রাসা সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি সহ সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের অংশ গ্রহনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ৫০০ পাউন্ডের কেক কেটে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের আনন্দ উদযাপন করা হবে। কেক কাটা, আলোচনা সভার পর পর অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দর্শক মাতাবেন পাওয়ার বয়েজ ব্যান্ড দলের কন্ঠ শিল্পীরা। ইতোমধ্যে সমরক্ষেত্র মাঠে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে এমপি সেলিম ওসমানের উদ্যোগে ও বন্দর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বন্দর সমরক্ষেত্র মাঠে ২০১৬ এবং ২০১৭ সাথে যথাক্রমে ৩০০ এবং ৪০০ পাউন্ডে কেক কেটে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের আনন্দ উদযাপন করা হয়েছে। যা রীতিমত নারায়ণগঞ্জ সহ সারা দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচিত হয়েছিলো। ওই অনুষ্ঠানে গুলো উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো থেকে দশ হাজারের অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ছিলো।

 

 

মাঠ গোছাতে ব্যর্থ নারায়ণগঞ্জ বিএনপি…

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ অনেকটা ঘর গুছানোর কাজ শেষ করে আনলেও মাঠের প্রধান বিরোধীদল হিসেবে পরিচিত বিএনপির তেমন কোন প্রস্তুতি নেই বললেই চলে। বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাসের পর বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও পুলিশের দাবড়ানীতে অধিকাংশ শীর্ষ নেতা আত্মগোপন করায় সাধারণ কর্মী সমর্থকরা অনেকটাই হতাশ। নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কর্মী-সমর্থকদের সাথে মত বিনিময় তো দুরের কথা আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথেই দাঁড়াতে পারছেনা। এনিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ নেতারা অনেকটাই সাধারণ নেতা-কর্মীদের কাছে হালকা হয়ে পড়ছে। অপর দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানান, নির্বাচনের প্রস্তুুতি নেয়ার মতো অবস্থা আমাদের নেই। কারণ একদিকে পুলিশের যন্ত্রণা, অপরদিকে  মামলার কারণে বাড়িঘর ছাড়া। এ অবস্থায় নির্বাচনী প্রচারণা করা আমাদের পক্ষে কি সম্ভ্যব? এ অবস্থার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি কোনদিকে এগুবে, এনিয়ে বিপাকে পড়েছেন সম্ভাব্য ‘ধানের শীষ’ মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেখানে ইতিমধ্যেই প্রচারণায় নেমে পড়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ, সেখানে দীর্ঘ বছর যাবৎ ক্ষমতার বাইরে থাকা দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতাকর্মীদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরিবর্তে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে চলতি বছরের শুরুতেই নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন সংসদীয় ৫টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করলেও গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী হয়ে বর্তমানে কারাগারে বন্দি থাকায় আসন্ন নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ যেমন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, তেমনি তার মুক্তির দাবীতে আন্দোলনে নামার পূর্ব থেকেই নতুন করে পুলিশের দায়েরকৃত নাশকতার মামলায় আসামী হওয়ার পাশাপাশি বেশীর ভাগ প্রার্থীদেরই যেতে হয়েছে কারাগারে। তারপরেও নেত্রীর মুক্তির দাবীতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন কর্মসূচী চালিয়ে যাওয়ার কারণে প্রায়ই শীর্ষস্থানীয় সম্ভাব্য প্রার্থীদের বাড়িতে পুলিশের তল্লাশী অভিযান অব্যাহত থাকায় অনেককেই এখন পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। সদর মডেল থানায় দায়েরকৃত নাশকতার মামলায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার হয়ে এড. সাখাওয়াত প্রায় দু’সপ্তাহ কারাভোগ করে জামিনে বের হয়ে এসেছেন। কিন্তু জামিনে আসার পরই কারাগারে থাকা বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীদের জামিনের ব্যবস্থা করতে তিনি আদালতে চেষ্টা চালানোয় পুলিশ তাকে পুনরায় গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। আর এ আসনে ‘ধানের শীষের’ মনোনয়নের আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ নাশকতার তিনটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিলেও ফের পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার আতংকে তিনিও রাজপথে বের হওয়া নিয়ে পড়েছেন শংকায়। তারপরেও ভয় উপেক্ষা করেই দলীয় কর্মসূচী পালনসহ কৌশলে নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন খোরশেদ বলে জানান তার স্বজনরা। কিন্তু অদৃশ্য ইশারায় নাশকতার মামলায় কোন থানাতেই আসামী না হলেও পুলিশের ঝামেলা এড়াতে নিরাপদে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। অপরদিকে, নাশকতার মামলায় সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিলেও গত ২ মার্চ নগরীর মিশনপাড়াস্থ নিজ বাসভবনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রত্যাশী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকে খুঁজতে তল্লাশী চালিয়েছে পুলিশ বলে তার পরিবার জানায়। আর এ আসনে আরো দুই সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম এবং সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাশকতার মামলার আসামী হয়ে সদ্য উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিলেও নির্বাচনী প্রচারণায় নামা নিয়ে পড়েছেন দু’টানায়। এ ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে ‘ধানের শীষ’ মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ও জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনির নাশকতার মামলার আসামী হয়ে উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিলেও আরেক প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবদলের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়া রূপগঞ্জসহ ঢাকার একাধিক থানায় পুলিশের দায়েরকৃত নাশকতার মামলার আসামী হয়ে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে তার স্বজনেরা জানান। তবে নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে ‘ধানের শীষ’ মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ গত ৫ ফেব্রুয়ারি আড়াইহাজার থানায় পুলিশের দায়েরকৃত নাশকতার মামলার প্রধান আসামী হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ শেষে জামিনে বেরিয়ে আসলেও মনোনয়ন প্রত্যাশী আরো দুই প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বদরুজ্জামান খসরু এবং আড়াইহাজার থানা বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান আঙ্গুর নাশকতার মামলায় আসামী না হলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে করতে পারছেন না নির্বাচনের মাঠ গুছানোর কাজ। আর নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) ‘ধানের শীষ’ মনোনয়ন প্রত্যাশী দুই সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শাহ আলম সদর মডেল থানায় দায়েরকৃত নাশকতার মামলার আসামী হয়ে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। চেয়ারপারসনের কারামুক্তির দাবীতে চলমান আন্দোলন করতে গিয়ে নতুন করে নাশকতার মামলার আসামী বনে যাওয়ার পাশাপাশি গ্রেফতার আতঙ্ক নিয়ে কিভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিবে, তা নিয়ে বিপাকে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সম্ভাব্য ‘ধানের শীষ’ মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তারা এখন কোন পথে এগুবেন, তা নিয়ে পড়েছেন দু’টানায় বলে জানান মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতারা।