আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:১৪
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারীর ভাই রিমান্ডে

প্রখ্যাত লেখক, সিলেটের শাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী ফয়জুর হাসানের ভাই এনামূল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে সিলেটের মহানগর হাকিম তৃতীয় আদালতের বিচারক হরিদাস কুমারের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে বিচারক তার ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সিলেট মহানগর হাকিম আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত পিপি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান মানবকণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার হামলাকারী ফয়জুরের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এছাড়া গত রোববার ফয়জুরের বাবা আতিকুর রহমান, মামা ফজলুর রহমানের ৫ দিনের এবং মা মিনারা বেগমের দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত ৩ মার্চ বিকেলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান চলাকালে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে পেছন থেকে মাথায় ছুরিকাঘাত করে ফয়জুর ওরফে ফয়জুল। আহত অবস্থায় ড. জাফর ইকবালকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে শাবি কর্তৃপক্ষ।

একরাম হত্যায় ৩৯ জনের ফাঁসি

ফেনীর চাঞ্চল্যকর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা একরামুল হক হত্যা মামলায় জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মো: আদেল ও ফুলগাজি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ চৌধুরীসহ ৩৯ আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। এছাড়া এ মামলায় বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী মিনার ও যুবলীগ নেতা জিয়াউল আলম মিষ্টার সহ ১৬ আসামিকে বেকুসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

ফেনী জেলা ও দায়রা জজ মো. আমিনুল হক মঙ্গলবার বিকেল তিনটা পনের মিনিটে জনার্কীণ আদালতে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

প্রায় চার বছর আগে ২০১৪ সালে ২০ মে ফেনী শহরের বিলাসী হল এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে একরামকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার পর গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং তার মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়। এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়। জাতীয় ও আন্তজাতিক গণমাধ্যমে শিরোনাম হয় । বিচারক মো. আমিনুল হক বহু প্রতীক্ষিত এ মামলার রায় ঘোষণা করতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় নেন। রায়ে আসামিদের সাজার অংশটি কেবল তিনি পড়িয়ে শুনান।

এ মামলার প্রধান আসামি জেলা তাঁতী দলের সভাপতি মিনার চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির আদেল , যুবলীগ নেতা জিয়াউল আলম মিস্টার, ফেনী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর আবদুল্লাহ হিল মাহমুদ শিবলুসহ পয়ত্রিশ আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। বাকি একুশ আসামি এখনো পলাতক।

জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আদেল ও জেলা কৃষক দল নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী রায় ঘোষণার সময় আদালতের কাঠগড়ায় ছিলেন নির্লিপ্ত। বিচারক রায় পড়া শেষ দণ্ডিতদের কেউ কেউ কাঁদতে শুরু করেন।

এদিকে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহত একরামের স্ত্রী তাসমীন আক্তার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমরা সন্তুষ্ট। কিন্তু আমরা চাই, এই রায় দ্রুত কার্যকর হোক।

একরামের ভাই মামলার বাদী জসিম উদ্দিন রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তবে তিনি মুঠো ফোনে বলেন, আসামিদের সাজা দ্রুত কার্যকর হোক- এটাই তাদের চাওয়া।

সাজাপ্রাপ্তরা রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত থাকলেও তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাননি। তবে মিনারের আইনজীবীরা বলেন ন্যায় বিচার পেয়েছি। সাধারণ মানুষ এই রায় ‘মানুষের আতঙ্ক ও অসহায়ত্ব’ দূর করতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।

সকার পক্ষ হয়ে এ মামলা লড়েন পিপি অ্যাডভোকেট হাফেজ আহমেদ রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই রায়ে আমরা আনন্দিত। আমরা খুশি হয়েছি। ৩৫ জন আসামির মধ্যে সবার মৃত্যদণ্ড হলে আরো বেশি খুশি হতাম। যে ১৬ জনের ফাঁসির রায় হয়নি, পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর তা দেখে প্রয়োজনে আপিল করার সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।

২০১৪ সালের ২০ মে ফেনীর বিলাসী সিনেমা হলের সামনে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি একরামুল হককে প্রকাশ্যে গুলি করে, কুপিয়ে ও গাড়িসহ পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই রেজাউল হক জসিম বাদী হয়ে বিএনপি নেতা মাহাতাব উদ্দিনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৩০-৩৫ জনকে আসামি করে ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন। ওই বছরের ২৮ অগাস্ট ৫৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। হত্যার প্রায় দুই বছর পর ২০১৬ এর ১৫ মার্চ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু করে আদালত। এ বছরের ২৮ জানুয়ারি এ মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হয়।

এ মামলায় বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৪৪ জনকে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ১৫ জন। আসামিদের মধ্যে কারাগারে রয়েছেন মিনার চৌধুরীসহ ৩৬ জন। আর জামিনে বেরিয়ে পলাতক রয়েছেন নয়জন। এছাড়া মামলার শুরু থেকে ১০ আসামি পলাতক এবং সোহেল ওরফে রুটি সোহেল নামে এক আসামি র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

শিরোপা জেতা এবারো হলো না বাংলাদেশের

ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। শিরোপা জেতার পাণ্ডুলিপিতে যে বাংলাদেশের নাম লেখা হয়নি। সেখানে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে ম্যাচে টান টান উত্তেজনা থাকবে। জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হবে বাংলাদেশের দিকে। কিন্তু শেষ হাসি হাসবে ভারত। যদি তাই না হবে তাহলে শেষ বলে ৫ রানের দরকার। দৌড়ে এই রান করা সম্ভব নয়। ছক্কাই একমাত্র ভরসা। সেই ছক্কাই কেন হবে? যে ছক্কায় অক্কা গেছে ৪ উইকেটে হেরে বাংলাদেশের শিরোপা জেতার স্বপ্ন। বাংলাদেশের ৮ উইকেটে করা ১৬৬ রান ভারত পাড়ি দিয়েছে ৬ উইকেটে ১৬৮ রান করে।

এই নিয়ে বাংলাদেশের ৫ বার ফাইনালে উঠে কখনোই শিরোপা জেতা হয়নি। শুধুই কি শেষ বল বাংলাদেশের স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে? শেষ ২ ওভার বা ১২ বলে ভারতের প্রয়োজন পড়ে ৩৪ রানের। আইপিএলের কল্যাণে ভারতের যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার অভিজ্ঞতা আছে। সেখানে তাদের সাফল্যের পাল্লাই ভারি। তারপরও ১২ বলে ৩৪ রান। আগের ওভারের (১৭ নম্বর ওভার) মোস্তাফিজ আগুনঝরা বোলিং করেন। মাত্র এক রান দিয়ে শেষ বলে মানিষ পান্ডেকে ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচকে সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের দিকে নিয়ে আসেন। উইকেটে নতুন ব্যাটসম্যান দিনেশ কার্তিক।

অপরপ্রান্তে বিজয় শঙ্কার ১৫ বলে ১২ রান করে থাকলেও মোস্তাফিজের করা সেই ওভারে তিনি বেশ ভালোই ভুগেছেন। জয়ের যে টার্গেট, তাতে সেট ব্যাটসম্যান থাকলেও তা জয় করা অসম্ভব। কিন্তু ক্রিকেট যে কখনো কখনো এ সব পূর্বানুমানকে মোটেই পাত্তা দেয় না। মাঝে মাঝে হাজির হয় রাজ্যের সব উত্তজনার পারদ নিয়ে। গতকাল কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আরেকবার তা মঞ্চস্থ হয়েছে।

দলপতি সাকিবের হাতে নিয়মিত বোলার ছিলেন একজনই রুবেল। যিনি আগের তিন ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন। সাকিব, নাজমুল, মোস্তাফিজ তাদের কোটা শেষ করে ফেলেছেন। অপর বোলার মেহেদী হাসান মিরাজ তার প্রথম ওভারে ১৭ রান দিলে সাকিবকে তার আক্রমণেই সাহস করেননি। তার ওভারই তিনি করাতে শুরু করেন সৌম্য সরকারকে দিয়ে। ১৫ ও ১৭ নম্বর ওভার সৌম্য বোলিং করে ২০ রান দেন। মাহমুদউল্লাহকে দিয়ে তিনি এদিন আর বোলিংই করাননি। ফলে সাকিবের হাতে বোলার অবশিষ্ট থাকে রুবেল ছাড়া এই সৌম্য সরকারই। ভাবনার বিষয় হয়ে ওঠে কোন ওভার কাকে দিয়ে করাবেন। সাকিব খেলেন জুয়া।

অনিয়মিত বোলার হওয়ার পরও সৌম্যকে তিনি রেখে দেন শেষ ওভারের জন্য। হয়তো ভেবেছিলেন নতুন ব্যাটসম্যান উইকেটে আসাতে রুবেলের বল ঠিকমতো খেলতে পারবেন না। রুবেল যদি রান কমে দেন আবার বোনাস হিসাবে উইকেট তুলে নেন তাতে শেষ ওভারে গিয়ে ভারত আরো বেশি চাপে পড়বে। তখন টার্গেটও বেড়ে যাবে। সেই টার্গেট অনিয়মিত বোলার হিসেবে সৌম্যকে দিয়ে করালেও ঝুঁকি থাকবে কম। কিন্তু এ সব ছিল বাংলাদেশ দলের পাণ্ডুলিপি। কিন্তু বিধাতা তো পাণ্ডুলিপি লিখেছেন অন্যভাবে। যদি তাই না হবে তাহলে শেষ ১২ বলের ৮ বলে খেলে দিনেশ কার্তিকই বা কেন একা অপরজিত ২৯ রান করে বাংলাদেশের মুখের খাবার কেড়ে নেবেন।

রুবেলের প্রতি দলপতি সাকিব আস্থা রেখেছিলেন। আস্থার পালে আরো বেশি করে হাওয়া লেগেছিল তার করা আগের ৩ ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নেয়াতে। কিন্তু রুবেল যে এত বাজে বোলিং করবেন তা হয়তো ঘূর্ণাক্ষরেও সাকিব ভাবেননি। যদি বুঝতে পারতেন, তাহলে হয়তো তিনি সৌম্যকে দিয়েই সেই ওভার করাতেন। প্রথম বল তিনি লো ফুলটস দিয়েছিলেন। কার্তিক আকাশে ভাসিয়ে মারেন। প্রথম বলেই ছক্কা মারাতে কার্তিকের মনের জোর বেড়ে যায়। বিপরীতে রুবেলের আত্মবিশ্বাসে হয়তো ঘাটতি দেখা দেয়। যে কারণে পরের বলে বাউন্ডারি খান।

কিন্তু তখনো ম্যাচ বাংলাদেশের। কারণ ১০ বলে ২৪ রান। বাকি ৪ বল নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে শেষ ওভারে বড় টার্গেট ধরে রাখা সম্ভব হবে। কিন্তু না তৃতীয় বল আবার ছক্কা। এ সময় রুবেলকে নিয়ে সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ বেশ কি সময় পরামর্শ দেন। তাতে কাজ হয়। পরের বলে কোনো রান নিতে পারেননি কার্তিক। পঞ্চম বলে আসে ২ রান। ফলে ৭ বলে ১৬ রানের প্রয়োজন হয়। কিন্তু শেষ বলে কার্তিক আবার চার মারলে সেই ব্যবধান নেমে আসে ১২ রানে। এ সময় ম্যাচ ভারতের দিকে বেশি হেলে পড়লেও বাংলাদেশও লড়াইয়ে ছিল। কারণ ১২ রানও আটকানো সম্ভব। যদি সেভাবে বোলিং করা সম্ভব হয়। সৌম্য কিন্তু সে পথেই হাঁটেন। ব্যাটসম্যান বিজয় শঙ্কার।

প্রথম বল ওয়াইড দিলেও পরের বলে কোনো রান না দিয়ে ম্যাচে তিনি আবার দলের পাল্লা ভারি করে তুলেন। ৪ বলে ১০ রান। কার্তিক সিঙ্গেল রান নেন। চতুর্থ বলে শঙ্কার চার মেরে ম্যাচকে টানটান উত্তেজনার দিকে নিয়ে যান। শেষ ২ বলে ৫ রান। কিন্তু এ সময় ছয় মারতে গিয়ে লং অফ দুই ফিল্ডার একত্রে ক্যাচ ধরতে যান। প্রথমে একজনের হাত থেকে ফসকে গেলেও পরে মেহেদী দ্বিতীয়বারের প্রচেষ্টায় ক্যাচ ধরলে শেষ বলে ৫ রানেই থেকে যায়। ভারতের জন্য কঠিন। শেষ বলে ছক্কা মেরে জয়ের রেকর্ড খুব বেশি নেই।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগের ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ ছক্কা মেরে দলকে জেতালেও তখন বাকি ছিল ১ বল। এবার শেষ বল। ছক্কা হলে ভারতের জয়। চার হলে ম্যাচ টাই। সুপার ওভারে গড়াবে ম্যাচ। দৌড়ে ৫ রান সম্ভব নয়। অন্য কোনো সমীকরণ হলে বাংলাদেশই চ্যাম্পিয়ন হবে। জেতা হবে প্রথম শিরোপা। কিন্তু না বাংলাদেশের আর শিরোপা জেতা হলো না। অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বল কভার দিয়ে ছক্কা হাঁকান কার্তিক। জয়ের পর ভারতীয় দলের সবাই যেভাবে কার্তিকের ওপর উঠে পড়ে উল্লাসে মাতোয়ারা হন, তাতে কার্তিকের ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বলা কথা মিত্যে প্রমাণিত হয়েছে।

এর আগে বাংলাদেশকে এমন লড়াই করার পুঁজি করে দিয়েছিলেন ব্যাটসম্যানরা। বিশেষ করে সাব্বিরের ৫০ বলে ৪ ছক্কা ও ৭ চারে ৭৭ রানের ইনিংস ছিল উল্লেখ করার মতো। বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ছিল মাহমুদউল্লাহর ২১। এ ছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ শেষ ওভারে ১৬ রানসহ ৭ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত থাকেন।

দেশে ফিরল বাংলাদেশ দল

না পাওয়ার বেদনা নিয়ে নিহাদাস ট্রফি শেষে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। শ্রীলঙ্কান ‍‌এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সকাল ১১.৩৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে টাইগারদের বহনকারী বিমানটি।

স্বাধীনতার ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ ও ভারতকে নিয়ে ত্রিদেশীয় এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছিল শ্রীলঙ্কা। গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচেই ভারতের কাছে হেরে যায় বাংলাদেশ। তবে শ্রীলঙ্কাকে দুবারই হারায় টাইগাররা। প্রথম ম্যাচে ২১৫ রান তাড়া করে টাইগারদের জয় এনে দেন মুশফিক আর অলিখিত সেমিতে বাংলাদেশকে দারুণ আরেকটি জয় উপহার দেন মাহমুদউল্লাহ।

ফলে জায়গা করে নেয় ফাইনালে। স্বপ্নপূরণের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ম্যাচে শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে টাইগারদের কাঁদালেন দিনেশ কার্তিক। তার দুর্দান্ত এক ইনিংসে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়ে নিদাহাস ট্রফির শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে ভারত।

কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরলেন তারা

নেপালে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ২৩ বাংলাদেশির মরদেহ কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরেছে। সোমবার বিকেল ৪টার দিকে কফিনবন্দি লাশগুলো নিয়ে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে কাঠমান্ডু থেকে ছেড়ে আসা বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজটি। সেখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিহতদের মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করবেন।

এর আগে নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত যাত্রীদের স্বজনরা সোমবার বেলা ২টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এতে হতাহত যাত্রীর ৫১ স্বজন ছিলেন। ছিলেন দুই আহতও। তারা হলেন- কবীর হোসেন ও আব্দুল্লাহ (মালদ্বীপ)। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস২১১ গত ১২ মার্চ ঢাকা থেকে রওনা হয়েছিল চার ক্রুসহ ৭১জন আরোহী নিয়ে, সেদিনও ছিল সোমবার। কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হলে ২৬ জন বাংলাদেশিসহ ৪৯ আরোহীর মৃত্যু হয়।

নিহতদের মধ্যে ২৩ জনের মরদেহ শনাক্ত করার পর নেপালি কর্তৃপক্ষ কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃপক্ষের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে। সোমবার সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে প্রবাসী বাংলাদেশি, বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ইউএস-বাংলার উপস্থিত কর্মকর্তারা তাদের জানাজায় অংশ নেন।

জানাজা শেষে ২৩টি কফিন পাঠানো হয় সেই ত্রিভুবন বিমানবন্দরে। সেখান থেকেই ঠিক এক সোমবার পর দেশের পথে তাদের ফিরতি যাত্রা শুরু হয় বেলা আড়াইটায়, বিমানবাহিনীর কার্গো ফ্লাইটে চড়ে।

এই ২৩ জনের মধ্যে ইউএস-বাংলার পাইলট আবিদ সুলতান, কো-পাইলট পৃথুলা রশীদ এবং কেবিন ক্রু খাজা হোসেন মো. শফি ও শারমিন আক্তার নাবিলা রয়েছেন।

আর যাত্রীদের মধ্যে আছেন- ফয়সাল আহমেদ, বিলকিস আরা, বেগম হুরুন নাহার বিলকিস বানু, আখতারা বেগম, নাজিয়া আফরিন চৌধুরী, রকিবুল হাসান, হাসান ইমাম, আঁখি মনি, মিনহাজ বিন নাসির, ফারুক হোসেন প্রিয়ক, তার মেয়ে প্রিয়ন্ময়ী তামারা, মতিউর রহমান, এস এম মাহমুদুর রহমান, তাহিরা তানভিন শশী রেজা, বেগম উম্মে সালমা, মো. নুরুজ্জামান, রফিক জামান, তার স্ত্রী সানজিদা হক বিপাশা, তাদের ছেলে অনিরুদ্ধ জামান।

আর ঢাকায় আর্মি স্টেডিয়ামে চলছে জানাজার প্রস্তুতি; সেখানেই আত্মীয়, বন্ধু, স্বজনদের সঙ্গে শেষবার মিলিত হবেন না ফেরার দেশের এই ২৩ যাত্রী।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আলমগীর কবির জানান, বিমানবন্দর থেকে কফিন নিয়ে যাওয়া হবে আর্মি স্টেডিয়ামে। সেখানে বিকেলে হবে জানাজা। ওই দুর্ঘটনায় নিহত ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে আলিফুজ্জামান, পিয়াস রায় ও নজরুল ইসলামের মরদেহ রোববার পর্যন্ত শনাক্ত করা বাকি ছিল।

ভরিতে সোনার দাম কমল ১৩ শ টাকা

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার কারণে দেশের বাজারেও বিভিন্ন ধরনের সোনার দাম ভরিপ্রতি ১৩ শ টাকা পর্যন্ত কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। রোববার বাজুসের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, যা আগামীকাল সোমবার থেকে কার্যকর হবে।

নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট সোনা ৫০ হাজার ৯৫৪ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪৮ হাজার ৬৮০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম হবে ৪৩ হাজার ৬০৮ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি দাঁড়াবে ২৬ হাজার ৪০৯ টাকা।

সারা দেশে রোববার পর্যন্ত প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনা ৫২ হাজার ২৩৬ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪৯ হাজার ৯২১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪৪ হাজার ৬৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি ২৭ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দাম সমন্বয়ের কারণে সোমবার থেকে ২২ ক্যারেট সোনার ভরিতে ১২৮২ টাকা, ২১ ক্যারেটে ১২২৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ১০৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরিতে ৪৯১ টাকা কমছে।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগারওয়ালা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে বাজুস দর কমানোর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন দর সোমবার থেকে কার্যকর হবে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানী জোহানেসবার্গের মেফেয়ার এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে মো. আবু সুফিয়ান স্বপন (৪৩) নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত স্বপন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে হাজী আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। তিনি একজন ব্যবসায়ী।

জানা গেছে, সন্ধ্যায় জোহানেসবার্গের মেফেয়ার এলাকায় বাসা থেকে বের হয়ে নিজের গাড়ি নিয়ে মার্কেটে যাচ্ছিলেন। এসময় কৃষ্ণাঙ্গ কয়েকজন সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়লে গুলিবিদ্ধ হয়ে গাড়িতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাশ্ববর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ছোট ভাই আবুল হোসেন জানান, আবু সুফিয়ান স্বপন ১৪ বছর পূর্বে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। প্রথমে তিনি বেলকম শহরে থাকনে। পরে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানী জোহানেসবার্গে ও সুয়েটু শহরে ব্যবসা চালু করেন। কয়েকদিন আগে আমাদেরকে ফোন করে বলেন, কয়েকদিনের মধ্যে দেশে আসবো, তাই তাকে ঢাকা থেকে রিসিভ করে আনতে হবে। তার এক ছেলে এক মেয়ে রয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৩মার্চ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জোহানেসবার্গে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয় নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভার ভিমপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদের ছেলে মিজানুর রহমান মিজান (২৬)। এরপর ১৫ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে সুয়েটুর থেপিসং শহরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন কুমিল্লা জেলার বরুডা থানার আড্ডা গ্রামের মোবারক হোসেনের ছেলে হেলাল উদ্দিন (৩০)।

দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন রুবেল

আরো একটি আবেগের হারের স্বাদ গ্রহণ করলো বাংলাদেশ। নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে ভারতের কাছে ৪ উইকেটের এই পরাজয়ের পর বেশির ভাগ মানুষই একরকম জয়ী ঘোষণা করেছেন টাইগারদের। আসলে দুর্দান্ত পারফর্মেন্সে সবার মন জিতে নিয়েছে সাকিব-সাব্বিব-রুবেলরা। কিন্তু এ পরাজয়ে নিজেকে দায়ী ভেবে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন ক্রিকেটার রুবেল হোসেন।

সোমবার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে রুবেল লিখেছেন, ‘ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকেই খুব খারাপ লাগছে। সত্যি বলতে আমি কখনোই ভাবিনি আমার কারণে বাংলাদেশ দল জয়ের এত কাছে এসেও ম্যাচ থেকে এভাবে ছিটকে যাবে। সবার কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন সবাই।’

রোববার ভারতকে ১৬৬ রানের টার্গেট দিয়ে শেষ বলে হেরেছে বাংলাদেশ। এই লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত করতে সব থেকে বেশি অবদান ছিলো রুবেল হোসেনের। তিন ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে তুলে নিয়েছিলেন ২ উইকেট। শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ৩৪ রান। শেষের আগের ওভারে ২২ রান দেন দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য এই পেসার। এরপরই মূলত ম্যাচ ভারতের হাতে চলে যায়। তাই স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের পরাজয়ে রুবেলের উপরই ক্ষিপ্ত ভক্তরা। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাকে তিরস্কার ও গালিগালাজে ভরিয়ে তোলে ভক্তরা। এরই প্রেক্ষিতে রুবেল হোসেন দুপুরে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন।

পোশাক কারখানার সময় ও অর্থ বাঁচাবে সফটওয়্যার….

 

অতিথি কলাম

অমিত কুমার বিশ্বাস

পোশাক শিল্পে ‘সময়ের সঙ্গে সঠিক উৎপাদন’ পেতে দুটি সহায়ক সফটওয়্যার বাংলাদেশে নিয়ে এসেছে বিশ্বখ্যাত রোমানিয়ান কোম্পনি ডাটাএস রোমানিয়া। আরএমজি কারখানাবান্ধব সফটওয়্যার দুটি বাজারজাতে ডাটাএস-এর ব্যবসায়িক সঙ্গী হোসান্না রিসোর্সেস-বাংলাদেশ। সফটওয়্যার দুটির নাম হচ্ছে ‘টাইমএসএসডি’ (ঞরসবঝঝউ) এবং জিপিডি (এচউ)- গার্মেন্টস প্রডাকশন ডাটা। সফটওয়্যার দুটি বাংলাদেশে পোশাক কারখানায় পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক যে সময় মান রয়েছে তার ভিত্তিতে বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মপরিমাপক যন্ত্র হিসেবে কাজ করবে। ‘টাইমএসসডি’ সফটওয়্যার কর্মীর দক্ষতা নিখুঁতভাবে হিসেবে করে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিতে পারবে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোথায় সীমাবদ্ধতা তাও শনাক্ত করতে সক্ষম হবে। ফলে একই সময়, শ্রম ও খরচে উৎপাদন অনেক বাড়ানো যাবে। আর ‘জিপিডি’ সফটওয়্যারটি হলো রিয়েল টাইম ট্র্যাকিং। এটা মার্চেন্ডাইজিং থেকে শুরু করে কস্টিং, ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্ল্যানিং, প্রডাকশন মনিটরিং এসব করতে পারে। যা একটি কারখানার কাজকে অনেকটাই সহজ এবং দক্ষতার সঙ্গে সম্পাদনে সক্ষম করে তোলে।  বাংলাদেশে সফটওয়্যার দুটির আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণ উপলক্ষে গত শুক্রবার  উত্তরার ম্যারিনো রয়্যাল হোটেলের সুরমা হলে আয়োজন করা হয় টেকনিক্যাল সেমিনারসহ নানা  অনুষ্ঠানের।  সেমিনারে অংশ নেন দেশ-বিদেশের আরএমজি খাতের কর্মকর্তা, প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ, পোশাক ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিসহ দুই শতাধিক অংশগ্রহণকারী।  সেমিনারে সফটওয়্যার দুটির উপযোগিতা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন ডাটাএস রোমানিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর লাজলো জাবো, ডাটাএস-এর সিনিয়র কনসালটেন্ট জিলার্ড ভার্গা এবং হোসান্না রিসোর্সেস, বাংলাদেশের সিইও জুয়েল বৈদ্য। সেমিনারে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে অংশ নেয় বাংলা-ইংরেজি উভয় ভাষায় প্রকাশিত গার্মেন্ট-টেক্সটাইল বিষয়ক পত্রিকা দ্যা অ্যাপারেল নিউজ।

 

 

 

সাংসদ সেলিম ওসমানের আহবান, নৌকার মাঝিদের ডেমকেয়ার…

 

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সেন্ট্রাল ঘাটে মাঝিদের বাড়তি ৫ টাকা ভাড়া আদায়ে এমপি সেলিম ওসমানের নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্তা করছে না। এমপি সেলিম ওসমানের নিষেধাজ্ঞার ১৮ দিন অতিক্রম হলেও এখন পর্যন্ত মাঝিদের বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছেনা। এতে করে ঘাটের মাঝিরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। আর যাত্রীদেরকে কয়েকগুণ বাড়তি ভাড়া গুণে এর চরম খেসারত দিতে হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি সেন্ট্রাল ঘাটে নৌকার মাঝিদের বাড়তি ভাড়া আদায়ে কোন ব্যবস্থা না নেয়ার কারণে যাত্রীদের চরম ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। সরেজমিনে ঘুরে নৌকা মাঝিদের সেই বাড়তি ভাড়া ৫ টাকা করে আদায় করতে দেখা যাচ্ছে। যেকারণে যাত্রীরা ক্রমশ ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে। নারায়ণগঞ্জ সেন্ট্রাল ঘাটের নৌকা ভাড়া কয়েকগুণ হারে বেশি আদায় করছে নৌকা চালকেরা। জনপ্রতি ২ টাকার পরিবর্তে বাড়তি ৫ টাকা গুণতে হচ্ছে যাত্রীদের। নৌকা চালকদের কাছে অনেকটা জিম্মি হয়ে বাড়তি ভাড়া গুণেই নদী পারাপার হতে হচ্ছে যাত্রীদের। স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমানের নানা সুযোগ সুবিধা দেয়া সত্ত্বেও নৌকা মাঝিরা একের পর এক কয়েকগুণ ভাড়া বাড়িয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। তবে সেই নৈরাজ্য বন্ধে সংশ্লিষ্টরা কেউ এগিয়ে আসছেনা। এর প্রেক্ষিতে গত ২৭ ফেব্রুয়ারীতে এমপি সেলিম ওসমান সেন্ট্রাল ঘাটের নৈরাজ্য বন্ধে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, নৌকার মাঝিরা যাত্রীদের কাছ থেকে ৫টাকা করে ভাড়া আদায় করা বন্ধ না করেন তাহলে ঘাটের ইজারাদারের সাথে আলোচনার করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ২০১৪ সালে তিনি যাত্রীদের টোল ফ্রি করে দেওয়ার পাশাপাশি মাঝিদের প্রতিদিন ঘাট জমার ৩০টাকা সম্পূর্ন ফ্রি করে দেন। সেই সময় উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নৌকার মাঝিরা যাত্রীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২টাকা করে ভাড়া নিবেন। আর রিজার্ভের ক্ষেত্রে ৩০টাকা। প্রতিটি নৌকায় তারা ১৫ জনের বেশি যাত্রী তুলবেন না। কয়েক দফার আলোচনায় মাঝিদের সম্মতিক্রমে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই নিয়মনীতি ভুলে গিয়ে মাঝিরা বেপরোয়া হয়ে যাত্রীদের পকেট কেটে বাড়তি ভাড়া আদায়ের মহোৎসবে মেতে উঠে। তবে সবশেষে এমপি সেলিম ওসমানের নির্দেশনার এতদিন অতিক্রম হলেও এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অনেক যাত্রী ইচ্ছে থাকলেও ট্রলারে যাতায়াত করতে পারেনা। কারণ ফ্রি টলার কখনো চলে আবার কখনো চলে না। আর সে সুযোগে ২ টাকা ভাড়া নেওয়া হয় ইঞ্জিন চালিত অপর ট্রলারে। আর সেই সুযোগে নৌকা মাঝিরা ৫ টাকা করে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করে যাত্রীদের পকেট কাটছে। এমপি সেলিম ওসমান ঘাটের টোল ফ্রি করে দেয়ার সময় নৌকার জমা খরচ ফ্রি করে দিয়েছে। এতে করে নৌকা মাঝিদের এখন কোন খরচ নেই। কিন্তু এরপরও তাদের সাধ মিটে না। এরা ভাড়া বাড়াতে বাড়াতে ৫ টাকা করেছে। তারা এমপি সেলিম ওসমানের নির্দেশনা উপেক্ষা করে এসব নৈরাজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এখন কি এসব দেখার কেউ নেই।  সফিক নামের এক ভার্সিটি ছাত্র জানায়, ‘এতোদিন জানতাম এমপি সেলিম ওসমানের তত্ত্বাবধায়নে ঘাট পরিচালনা হয়। কিন্তু এখনতো দেখছি এমপি সেলিম ওসমানকে তোয়াক্তা না করেই নৌকার মাঝিরা সেই ৫ টাকা করে ভাড়া আদায় করে যাচ্ছেন। আর যাত্রীরাও বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া গুণছেন। তবে যেহেতু তিনি এই আসনের এমপি এবং এই ঘাট তার তত্ত্বাবধায়নে পরিচালিত হয় তাই এর দায়ভার তাকেই নিতে হবে। তিনি টোল ফ্রি করে যতটুকু ইম্যেজ তৈরি করেছেন এই ঘাটের নৈরাজ্যের মধ্য দিয়ে তা ধুলিস্বাত হয়ে যাবে যদি তিনি এখনই এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ না নেন। আর আসন্ন নির্বাচনে বন্দরবাসী ভোটের মধ্যদিয়ে এর উচিত জবাব দিবে।