আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:১২
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী
01-42

শিরোপা জেতা এবারো হলো না বাংলাদেশের

Badal-nj | ১৯ মার্চ, ২০১৮ | ৪:৪১ অপরাহ্ণ

ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। শিরোপা জেতার পাণ্ডুলিপিতে যে বাংলাদেশের নাম লেখা হয়নি। সেখানে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে ম্যাচে টান টান উত্তেজনা থাকবে। জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হবে বাংলাদেশের দিকে। কিন্তু শেষ হাসি হাসবে ভারত। যদি তাই না হবে তাহলে শেষ বলে ৫ রানের দরকার। দৌড়ে এই রান করা সম্ভব নয়। ছক্কাই একমাত্র ভরসা। সেই ছক্কাই কেন হবে? যে ছক্কায় অক্কা গেছে ৪ উইকেটে হেরে বাংলাদেশের শিরোপা জেতার স্বপ্ন। বাংলাদেশের ৮ উইকেটে করা ১৬৬ রান ভারত পাড়ি দিয়েছে ৬ উইকেটে ১৬৮ রান করে।

এই নিয়ে বাংলাদেশের ৫ বার ফাইনালে উঠে কখনোই শিরোপা জেতা হয়নি। শুধুই কি শেষ বল বাংলাদেশের স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে? শেষ ২ ওভার বা ১২ বলে ভারতের প্রয়োজন পড়ে ৩৪ রানের। আইপিএলের কল্যাণে ভারতের যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার অভিজ্ঞতা আছে। সেখানে তাদের সাফল্যের পাল্লাই ভারি। তারপরও ১২ বলে ৩৪ রান। আগের ওভারের (১৭ নম্বর ওভার) মোস্তাফিজ আগুনঝরা বোলিং করেন। মাত্র এক রান দিয়ে শেষ বলে মানিষ পান্ডেকে ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচকে সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের দিকে নিয়ে আসেন। উইকেটে নতুন ব্যাটসম্যান দিনেশ কার্তিক।

অপরপ্রান্তে বিজয় শঙ্কার ১৫ বলে ১২ রান করে থাকলেও মোস্তাফিজের করা সেই ওভারে তিনি বেশ ভালোই ভুগেছেন। জয়ের যে টার্গেট, তাতে সেট ব্যাটসম্যান থাকলেও তা জয় করা অসম্ভব। কিন্তু ক্রিকেট যে কখনো কখনো এ সব পূর্বানুমানকে মোটেই পাত্তা দেয় না। মাঝে মাঝে হাজির হয় রাজ্যের সব উত্তজনার পারদ নিয়ে। গতকাল কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আরেকবার তা মঞ্চস্থ হয়েছে।

দলপতি সাকিবের হাতে নিয়মিত বোলার ছিলেন একজনই রুবেল। যিনি আগের তিন ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন। সাকিব, নাজমুল, মোস্তাফিজ তাদের কোটা শেষ করে ফেলেছেন। অপর বোলার মেহেদী হাসান মিরাজ তার প্রথম ওভারে ১৭ রান দিলে সাকিবকে তার আক্রমণেই সাহস করেননি। তার ওভারই তিনি করাতে শুরু করেন সৌম্য সরকারকে দিয়ে। ১৫ ও ১৭ নম্বর ওভার সৌম্য বোলিং করে ২০ রান দেন। মাহমুদউল্লাহকে দিয়ে তিনি এদিন আর বোলিংই করাননি। ফলে সাকিবের হাতে বোলার অবশিষ্ট থাকে রুবেল ছাড়া এই সৌম্য সরকারই। ভাবনার বিষয় হয়ে ওঠে কোন ওভার কাকে দিয়ে করাবেন। সাকিব খেলেন জুয়া।

অনিয়মিত বোলার হওয়ার পরও সৌম্যকে তিনি রেখে দেন শেষ ওভারের জন্য। হয়তো ভেবেছিলেন নতুন ব্যাটসম্যান উইকেটে আসাতে রুবেলের বল ঠিকমতো খেলতে পারবেন না। রুবেল যদি রান কমে দেন আবার বোনাস হিসাবে উইকেট তুলে নেন তাতে শেষ ওভারে গিয়ে ভারত আরো বেশি চাপে পড়বে। তখন টার্গেটও বেড়ে যাবে। সেই টার্গেট অনিয়মিত বোলার হিসেবে সৌম্যকে দিয়ে করালেও ঝুঁকি থাকবে কম। কিন্তু এ সব ছিল বাংলাদেশ দলের পাণ্ডুলিপি। কিন্তু বিধাতা তো পাণ্ডুলিপি লিখেছেন অন্যভাবে। যদি তাই না হবে তাহলে শেষ ১২ বলের ৮ বলে খেলে দিনেশ কার্তিকই বা কেন একা অপরজিত ২৯ রান করে বাংলাদেশের মুখের খাবার কেড়ে নেবেন।

রুবেলের প্রতি দলপতি সাকিব আস্থা রেখেছিলেন। আস্থার পালে আরো বেশি করে হাওয়া লেগেছিল তার করা আগের ৩ ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নেয়াতে। কিন্তু রুবেল যে এত বাজে বোলিং করবেন তা হয়তো ঘূর্ণাক্ষরেও সাকিব ভাবেননি। যদি বুঝতে পারতেন, তাহলে হয়তো তিনি সৌম্যকে দিয়েই সেই ওভার করাতেন। প্রথম বল তিনি লো ফুলটস দিয়েছিলেন। কার্তিক আকাশে ভাসিয়ে মারেন। প্রথম বলেই ছক্কা মারাতে কার্তিকের মনের জোর বেড়ে যায়। বিপরীতে রুবেলের আত্মবিশ্বাসে হয়তো ঘাটতি দেখা দেয়। যে কারণে পরের বলে বাউন্ডারি খান।

কিন্তু তখনো ম্যাচ বাংলাদেশের। কারণ ১০ বলে ২৪ রান। বাকি ৪ বল নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে শেষ ওভারে বড় টার্গেট ধরে রাখা সম্ভব হবে। কিন্তু না তৃতীয় বল আবার ছক্কা। এ সময় রুবেলকে নিয়ে সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ বেশ কি সময় পরামর্শ দেন। তাতে কাজ হয়। পরের বলে কোনো রান নিতে পারেননি কার্তিক। পঞ্চম বলে আসে ২ রান। ফলে ৭ বলে ১৬ রানের প্রয়োজন হয়। কিন্তু শেষ বলে কার্তিক আবার চার মারলে সেই ব্যবধান নেমে আসে ১২ রানে। এ সময় ম্যাচ ভারতের দিকে বেশি হেলে পড়লেও বাংলাদেশও লড়াইয়ে ছিল। কারণ ১২ রানও আটকানো সম্ভব। যদি সেভাবে বোলিং করা সম্ভব হয়। সৌম্য কিন্তু সে পথেই হাঁটেন। ব্যাটসম্যান বিজয় শঙ্কার।

প্রথম বল ওয়াইড দিলেও পরের বলে কোনো রান না দিয়ে ম্যাচে তিনি আবার দলের পাল্লা ভারি করে তুলেন। ৪ বলে ১০ রান। কার্তিক সিঙ্গেল রান নেন। চতুর্থ বলে শঙ্কার চার মেরে ম্যাচকে টানটান উত্তেজনার দিকে নিয়ে যান। শেষ ২ বলে ৫ রান। কিন্তু এ সময় ছয় মারতে গিয়ে লং অফ দুই ফিল্ডার একত্রে ক্যাচ ধরতে যান। প্রথমে একজনের হাত থেকে ফসকে গেলেও পরে মেহেদী দ্বিতীয়বারের প্রচেষ্টায় ক্যাচ ধরলে শেষ বলে ৫ রানেই থেকে যায়। ভারতের জন্য কঠিন। শেষ বলে ছক্কা মেরে জয়ের রেকর্ড খুব বেশি নেই।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগের ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ ছক্কা মেরে দলকে জেতালেও তখন বাকি ছিল ১ বল। এবার শেষ বল। ছক্কা হলে ভারতের জয়। চার হলে ম্যাচ টাই। সুপার ওভারে গড়াবে ম্যাচ। দৌড়ে ৫ রান সম্ভব নয়। অন্য কোনো সমীকরণ হলে বাংলাদেশই চ্যাম্পিয়ন হবে। জেতা হবে প্রথম শিরোপা। কিন্তু না বাংলাদেশের আর শিরোপা জেতা হলো না। অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বল কভার দিয়ে ছক্কা হাঁকান কার্তিক। জয়ের পর ভারতীয় দলের সবাই যেভাবে কার্তিকের ওপর উঠে পড়ে উল্লাসে মাতোয়ারা হন, তাতে কার্তিকের ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বলা কথা মিত্যে প্রমাণিত হয়েছে।

এর আগে বাংলাদেশকে এমন লড়াই করার পুঁজি করে দিয়েছিলেন ব্যাটসম্যানরা। বিশেষ করে সাব্বিরের ৫০ বলে ৪ ছক্কা ও ৭ চারে ৭৭ রানের ইনিংস ছিল উল্লেখ করার মতো। বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ছিল মাহমুদউল্লাহর ২১। এ ছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ শেষ ওভারে ১৬ রানসহ ৭ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *