আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:১৪
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

হাইব্রিডরা দলকে ধ্বংস করছে : শামীম ওসমান

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে চান। তার মতে, হাইব্রিডরা এসে দলকে বারবার ধ্বংস করেছে। আর তাই তিনি একজন কর্মীর আরএস, সিএস, এসএ এই তিন পর্চা দেখে নির্বাচনী-কেন্দ্র কমিটি গঠন করবেন। গতকাল সোমবার বিকেলে মাসদাইর এলাকায় এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের নির্বাচনী কেন্দ্র কমিটি গঠন উপলক্ষে কর্মীসভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলে। শামীম ওসমান বলেন, কমিটির পদ দেয়ার আগে কর্মীর সমস্ত জীবন বৃত্তান্ত দেখে যাচাই বাছাই করা হবে। আমরা একমণ দুধের মধ্যে এক ফোটা চুন মিশাবো না। এজন্য একটি ফর্ম করা হয়েছে। ওই ফর্মে জীবনের সকল কিছু উল্লেখ করতে হবে। পরবর্তীতে এসব ফর্মের সকল তথ্য কম্পিউটারে কম্পোজ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। যাতে করে যেকোন সময় তাদের সাথে যোগাযোগ করা যায়। এমনও হতে পারে এসব কর্মীদের সাথে প্রধানমন্ত্রী নিজে কথা বলেবেন। তিনি বলেন, সবকিছু যাচাই-বাছাই করে কমিটি দেয়া হবে। আমরা একমণ দুধের মধ্যে এক ফোটা চুন মিশাবো না। হাইব্রিডরা এসে বারবার দলকে ধ্বংস করেছে। তূণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ণ করা হোক এটা আমি চাই। তূণমূল নেতাকর্মীরা মাঠে থাকলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেউ ঠেকাতে পারবে না। এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সভাপতি মতিউর রহমান প্রধানের সভাপতিত্বে কর্মী সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাইফউল্লাহ বাদল ও সাধারন সম্পাদক মো. শওকত আলী।

 

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে কাউন্সিলর খোরশেদ আটক

 

ডান্ডিবার্কা রিপোর্ট

মহান স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু ও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কটুক্তির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে আটক করেছে ফতুল্লা থানা পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুর আড়াইটায় শহরের মাসদাইরে নারায়ণগঞ্জ আদর্শ স্কুলে ১৩ নং ওয়ার্ডের ভোটারদের মাঝে স্মার্ট কার্ড বিতরনের সময় তাকে আটক করে পুলিশ। কটূক্তির বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের বলেন, ‘স্মার্ট কার্ড বিতরনের সময় বঙ্গবন্ধু ও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে গালাগালি করেছেন একাধিক ব্যক্তি মোবাইলে আমাদের কাছে অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা রয়েছে।’ এদিকে খোরশেদ আটকের সময়ে সাংবাদিকদের জানান, কিছু লোকজন এসে লাইন ছাড়াই আগে গিয়ে কার্ড সংগ্রহ করতে যায়। তখন আমি তাদের সিরিয়ালি লাইন মেইনটেইন করতে বলি। এ কারণেই আমাকে আটক করা হয়েছে। বেআইনি কাজের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বেআইনিভাবেই আমাকে আটক করা হয়েছে। খোরশেদের স্ত্রী আফরোজা আক্তার লুনা অভিযোগ করেন, স্কুলের ভেতরে শতাধিক সিসি ক্যামেরা আছে। আমি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলতে পারবো খোরশেদ কোথাও এ ধরনের কটূক্তি করেনি। এটা বানানো একটি নাটক।

 

 

প্রবাসেও সোনারগাঁয়ের তানভীনার সাফল্য

 

ডান্ডিবার্তা ডেক্স

সফলতার জন্য প্রয়োজন দৃঢ় মনোবল এবং কঠোর পরিশ্রম। আর এসবের মাধ্যমেই একজন মানুষ হয়ে ওঠে সেরাদের সেরা। তেমনি একজন হচ্ছেন তানভীনা মহসিন। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এর মেয়ে তানভীনা ১২ বছর বয়সে পারিবারিক সূত্রে পাড়ি জমান সুইডেনে। সেখানের একটি কলেজে পড়াশোনা শেষ করে যোগদান করেন ইনসুরেন্স কোম্পানিতে। বছর দেড়েক সেখানে কাজ করলেও নিজের মধ্যে একটি অস্থিরতা কাজ করতো সবসময়। কারণ কলেজে পড়াকালীন সময় থেকেই নিজে কিছু করতে চাইতেন। এরই মধ্যে বিয়ে করেন সিলেটের ছেলে করিম রেজাউলকে। নতুন সংসারে ভালোই সময় কাটছিল দুজনের। সেসময় স্বামী করিম রেজাউল কাজ করতেন একটি হোটেলে। হঠাৎ তানভীনা ভাবলেন, নিজেই একটা রেস্টুরেন্ট দিলে কেমন হয়? সেই ভাবনা থেকেই ইনসুরেন্স কোম্পানির চাকরি ছেড়ে দেন তিনি এবং ‘থ্রি ইন্ডিয়া’ নামক একটি রেষ্টুরেন্টে স্বামীসহ যোগ দেন অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য। সেই সঙ্গে খুঁজতে থাকেন পছন্দমত জায়গা, যেখানে রেস্টুরেন্ট করতে পারবেন।অভিজ্ঞতা অর্জনের দেড় বছরের মাথায় পেয়ে যান পছন্দমত জায়গাসহ চলমান একটি রেস্টুরেন্ট। কিন্তু মালিকের শর্ত একটাই, রেস্টুরেন্ট নাম পরিবর্তন করা যাবে না। তবেই তিনি বিক্রি করবেন। শর্ত মতে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ২০০১ সালে ‘ইন্ডিয়ান গার্ডেন’ নামের সেই রেস্টুরেন্টটি ক্রয় করে আবার নতুনভাবে চালু করেন তানভীনা ও রেজাউল। এটিই ছিল তাদের প্রথম রেস্টুরেন্ট।‘ইন্ডিয়ান গার্ডেন’ শুরুর দিকে খুব একটা ভালো করে উঠতে পারেনি। সেসময় অনেকটা ধৈর্যের পরিচয় দিতে হয়েছে তানভীনাকে। বছর দেড়েক বাদে ঘুরে দাঁড়ায় ইন্ডিয়ান গার্ডেন। নাম অপরিবর্তিত থাকলেও নিজস্ব ধাঁচে পরিবেশন করা ও মান বজায় রেখে তৈরি করা হয় খাবার। রেস্টুরেন্টে সুইডিশ কাস্টমারদের গুরুত্ব দিয়ে বিশেষভাবে সুইডিশ পরিবেশ তৈরি করেছিলেন তিনি।

এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তানভীনা-রেজাউলকে। বর্তমানে স্টকহোমেই ইন্ডিয়ান গার্ডেন নামে তাদের রয়েছে মোট ছয়টি রেস্টুরেন্টসহ একটি ফুড ইন্ডাস্ট্রি। এই ফুড ইন্ডাস্ট্রি থেকেই মূলত তাদের ছয়টি রেস্টুরেন্টের প্রয়োজনীয় কাচাঁমালের সরবরাহ করা হয়।এই সতের বছরের রেস্টুরেন্ট পরিচালনায় তানভীনা অর্জন করেছেন বেশ কয়েকটি পুরস্কার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গোল্ড ড্রাগন পুরস্কার, ব্রিটিশ অ্যাওয়ার্ড, সেরা ইউরোপিয়ান কারি শেফ পুরস্কার, লন্ডনে সেরা ইউরোপিয়ান কারি শেফ পুরস্কার। তিনি বর্তমানে সুইডেনে বাঙালি সফল নারীদের আইডল হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে তাদের ছয়টি রেস্টুরেন্টে সাড়ে চার’শ মানুষ কাজ করে। এর মধ্যে বাঙালি আছেন ২০০ জন।এই সফল নারীর মাতৃভূমি বাংলাদেশকে নিয়ে সামনে আছে একটি বড় পরিকল্পনা। আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশে সুইডিশ স্টাইলে বড় একটা রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠা করবেন তিনি। যেখানে কেবল মাত্র শিক্ষিত মেয়েরাই কাজ করবে। তার রেষ্টুরেন্টের শেফদের নিয়ে আসবেন সুইডেন থেকে। আর রেষ্টুরেন্টের নামকরণ করবেন অবশ্যই বাংলাতেই।

 

নারীরা সারাবিশ্বে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে : মেয়র আইভী

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

মেয়র আইভী নারীদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন ,নিজেদের কখনো ছোট ভাববেন না। আগে একটা ব্যাপার ছিল, পুরুষরা কাজ করবে আর নারীরা বসে বসে খাবে। এই ট্রেন্ড আর এখন নাই।এখন নারী পুরুষ একত্রে কাজ করে।মেয়র আইভী আরও বলেন,‘নারীরা সারাদেশ, সারাবিশ্ব দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে। একজন নারীর ক্ষমতায়নে অর্থাৎ শেখ হাসিনার ক্ষমতায়নে আজকে বাংলাদেশ গরিব দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হয়েছে। আজ অধিকাংশ নারীরা গার্মেন্ট’স এ কাজ করতেছে। তাই বলবো, আপনারা ধারনা পরিবর্তন করে সাবলম্বী হতে শিখুন। সন্তান নেবার সময় খেয়াল করবেন।দুইটা সন্তানের বেশি নয়।সবাই ছেলে চায় অথচ ছেলেরা মায়েরে ভাত দেয় না, মেয়েরাই দেখে।তাই সন্তান নেবার ব্যাপারে সচেতন হবেন। ব্র্যাকের আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের উদ্যোগে দরিদ্র ও হত দরিদ্র নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে বস্ত্র, ব্যাগ, সেলাই মেশিন ও বিভিন্ন জীবিকা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে আগত নারীদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল সোমবার সকালে নগর ভবন মিলনায়তন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, ১৬, ১৭ ও ১৮নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত কাউন্সিলর আফসানা আফরোজ বিভা, ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, প্রধান সমাজকল্যান ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা কে এম ফরিদুল মিরাজ, নারায়ণগঞ্জ জেলা ব্র্যাক প্রতিনিধি সরকার হাসান ওয়াইজ, ব্র্যাক আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী আসাদুজ্জামান, ব্র্যাক মানসী প্রোগ্রামের রিজিওনাল ম্যানেজার চিত্তরঞ্জন হাওলাদার ও প্রমুখ।এ সময় নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী ব্র্যাকের উদ্দেশ্যে বলেন, একজন নারীকে পরিপূর্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা যায়, সাবলম্বি করে তোলা যায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। অর্থনৈতিক অঙ্গনে যে নারীদের ভূমিকা রয়েছে সে সম্পর্কে তাদেরকে ধারনা দিতে হবে।একজন নারীকে মানসিক, শারীরিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে সাবলম্বী করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন তা আপনারা করবেন। আপনাদের বাজেট শেষ হলেই যে কাজ শেষ হয়ে যাবে তা কিন্তু নয়। আপনারা প্রজেক্টটা ধরে রাখবেন। প্রসঙ্গত, গত বছর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের একটি সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে ব্র্যাক আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের যাত্রা শুরু হয়। সে অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৭টা ওয়ার্ডে ২৮টি কমিউনিটিতে ২৫ জনের একটি প্রাথমিক দল কাজ করবে। ইতোমধ্যে প্রতিটি দলে একটি করে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (সিডিও) তৈরি করা হয়েছে। এই সিডিও গুলো কিভাবে কাজ করতে পারে সে লক্ষ্যে নিয়মত প্রশিক্ষন প্রদান করা হচ্ছে।তদানুযায়ী আজ দরিদ্র ও হতদরিদ্র নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন, বিক্রির জন্য কাপড়, ব্যাগ, থ্রি পিছ ও অন্যান্য জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন সামগ্রী প্রদান করা হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য শেষে মিছিল আকারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে এলাকাবাসীর স্বাক্ষর সহ লিখিত স্মারক লিপি প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, প্রতি বছর বৃষ্টি মৌসুমেই রাস্তাটি পানির নিচে তলিয়ে গেলেও ধীরে ধীরে নেমে যেত। কিন্তু গত বছরের বৃষ্টি মৌসুমের পানি এখনও রাস্তা থেকে নামেনি। পুরো রাস্তাটি এখনো হাটু সমান পানিতে তলিয়ে আছে। মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসী মিলে কয়েকবার পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে বালির বস্তা ফেলে ও বাঁশের সাঁকো বানিয়ে চলাচল করছেন এলাকাবাসী। বস্তা পিচ্ছিল হওয়ায় পার হতে গিয়ে অনেকেই পা পিছলে পরে যাচ্ছেন। কর্মসময়ে পার হতে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে সময়। তাই এলাকাবাসীর প্রত্যাশা বৃষ্টি মৌসুমের পূর্বেই যাতে রাস্তাটি সংস্কার করা হয়।

 

ভাষা সৈনিক ওসমান আলীর ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে  দু:স্থদের মাঝে কাপড় বিতরণ ও দোয়া

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

অবিভক্ত বাংলার এম.এল.এ বিশ্বকবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রশংসিত “সবুজ বাংলা” পত্রিকার সম্পাদক,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, ৫২ বাংলা ভাষা আন্দোলনের নির্যাতিত সৈনিক নারায়ণগঞ্জ এর খান সাহেব এম.ওসমান আলীর ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষেগরীব ও দুস্থদের মাঝে কাপড় বিতরণ করেছে তার পরিবার। গতকাল সোমবার দুপরে চাষাঢ়াস্থ নিজ বাসভবন ঐতিহ্যবাহী বাইতুল আমানে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শেষে কাপড় বিতরণ করেন তার পরিবারের সদস্যরা।এসময় উপস্থিত ছিলেন,ভাষা সৈনিক এম ওসমান আলীর ২পুত্র আল মামুন সারোয়ার ননি, পল্লু সারোয়ার, নাতী নারায়ণগঞ্জ সদর-বন্দর আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও বিকেএমইএ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ একেএম সেলিম ওসমানের সহধমির্নী নাসরিন ওসমান, নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমানের সহধমির্নী সালমা ওসমান লিপি, নাতীন নীগার সুলতানা,মেয়ে লিলা সারোয়ার, টুনটুন সারোয়ার, পুত্রবধূ আলেয়া সারোয়ার, ডেইজী সারোয়ার, জাহানারা আমীরসহ পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব উপস্থিত ছিলেন এবং মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। উল্লেখ, নারায়ণগঞ্জেরই কৃতী সন্তান ছিলেন ওসমান আলী। তিনি একাধারে ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী এবং একজন শিক্ষানুরাগী এমএলএ। ছাত্রজীবনে ১৯২০ সালে কলকাতায় বেকার হোস্টেলে থাকতেন।সে সময়ে তরুণ ব্যারিস্টার শহীদ সোহরাওয়ার্দী সাহেবের ইংরেজিতে তুখোড় বক্তৃতা শুনে ওসমান আলীসহ অনেকেই মুগ্ধ হন। পরবর্তীতে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন ও সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে ব্রিটিশবিরোধী অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন এবং ডিগ্রি পরীক্ষা বর্জন করেন। শুধু তাই নয়, ডিগ্রি পাস করে তত্কালীন মুসলমান কোটা অনুযায়ী লোভনীয় সরকারি চাকরি, বিশেষত শেরে বাংলার সহযোগিতায় সাব রেজিস্ট্রি অফিসের চাকরির সুযোগ গ্রহণ না করে বরং তিনি সাংবাদিকতা এবং ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি শিল্প এবং সাহিত্যে অনুরাগী ছিলেন। যার ফলে ৩০-এর দশকে সাংবাদিক হিসেবে নারায়ণগঞ্জ থেকে ‘সবুজ বাংলা’ নামে মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ কিছুদিন এই পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন। সেই সময়ে ওসমান আলী রচিত আট ইয়ারের বৈঠক নামক ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন সাহিত্যিক গল্প প্রকাশ করতে থাকেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল, সাহিত্যিক আবুল মনসুর আহমেদ, কবি বেনজীর আহমেদ, পল্লীকবি জসিম উদ্দীন, বন্দে আলী মিয়া, সাহিত্যিক মোহিতলাল মজুমদার, আব্দুল ওয়াদুদ প্রমুখের রচনায় সমৃদ্ধ ছিল সবুজ বাংলা। পাট ব্যবসার কেন্দ্র এইরূপ সমৃদ্ধ ‘সবুজ বাংলা’র প্রকাশক ওসমান আলীকে বিশ্বকবি লিখেছিলেন: ‘ভেবেছিলুম নারায়ণগঞ্জ শহরটি একটি ব্যবসা কেন্দ্র। কিন্তু এখান থেকেও সুন্দর সাহিত্য প্রকাশনা দেখে মুগ্ধ হলুম। সবুজ দেশের অঙ্গে অঙ্গে সবুজ বাংলা মুখরিত হয়ে উঠুক, এই কামনা করি’। আশীর্বাদক শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সবুজ বাংলার কার্যালয় ছিল নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়াস্থ তার নিজস্ব বাসভবন ‘বাইতুল আমান’। কবি-সাহিত্যিকদের নিয়মিত প্রকাশনা ছাড়াও তখন প্রায়ই কবি-সাহিত্যিক এবং সংগীতের আসর বসতো এই বাইতুল আমানে। কবি জসিম উদ্দীন এবং সংগীত স¤্রাট আব্বাসউদ্দীন এই আসরে প্রায়ই আসতেন। সাহিত্যের পাশাপাশি তিনি অত্যন্ত শিক্ষানুরাগীও ছিলেন। ১৯৩৮ সালে তার নিজ জেলা কুমিল্লার জামালকান্দিতে তিনি ওসমানিয়া হাইস্কুল ও মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন।

 

আজও কি ফটোসেশন করবে না’গঞ্জ বিএনপি ?

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

দলীয় চেয়ারপার্সণের মুক্তির দাবীতে কেন্দ্র আহূত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনে আজ সকাল-বিকাল ফের রাজপথে নামছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। তবে আজও কি কর্মসূচী পালনের নামে ফটোসেশন করবে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-এমন প্রশ্ন সাধারণ কর্মীদের। কারাবন্দি খালেদা জিয়ার জামিন আদেশ আগামী ৮ মে পর্যন্ত আপিল বিভাগে স্থগিত করায় দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই লক্ষে দলীয় বিক্ষোভ কর্মসূচী পালনে আজ মঙ্গলবার সকালে নগরীর চাষাড়া বালুর মাঠ এলাকায় পৃথক সময়ে রাজপথে নামবে জেলা ও মহানগর বিএনপি। তবে বরাবরই কয়েক মিনিটের ফটোসেশনে কর্মসূচী সমাপ্ত হয় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির। দলীয় সূত্রে জানাগেছে, জেলা বিএনপি সকাল ১১ টায় এবং মহানগর বিএনপি দুপুর ৩ টায় পালন করবে বিক্ষোভ কর্মসূচী। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল জানান,  দলীয় চেয়ারপার্সনের মুক্তির দাবীতে মহানগর বিএনপি দুপুর ৩ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব চত্ত্বরে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করবে। সূত্রে প্রকাশ, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র শীর্ষ নেতারা নিজেদের মধ্যকার ব্যক্তিগত কোন্দলে জর্জরিত থাকায় দলের মাঝে সৃষ্টি হয়েছিলো বিভাজন। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকার, সাবেক এমপি মো: গিয়াসউদ্দিন, জেলা বিএনপি’র সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালাম, সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানসহ নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের মাঝে বিভক্তি ছিলো চরম আকারের। দলীয় বা জাতীয় কোন কর্মসূচিতে এসব নেতাদের এক কাতারে দেখা যায়নি কখনো। তবে এই কোন্দলের মহা নায়ক হিসেবে তৈমূরকে দায়ী করছেন সাধারণ কর্মীরা।

 

জামিন স্থগিতে ক্ষুব্ধ নারায়ণগঞ্জ বিএনপি

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

বিএনপি চেয়ারপার্সণ খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন আগামী ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করায় ক্ষোভে ফেটে পরেছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। সরকার বিচার বিভাগের উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ করে খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রকৃয়াকে বিলম্বিত করছে বলে মনে করছেন তারা। সেই সাথে আইন ও বিচার ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টার ফলে সরকারের পায়ের নীচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে এবং একদিন জনগনের আদালতে এ জন্য সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে হুঁশিয়ারী জানিয়েছেন তারা। বিএনপি’র চেয়ারপার্সণ বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন স্থগিত করায় ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়ায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকার বিএনপি’র চেয়ারপার্সণ ও সাবেক প্রধাণমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে জেলে আটকে রেখে ২০১৪ সালের মতো একটি সাজানো নির্বাচনের পায়তারা করছে। আর তাই বিচার বিভাগের উপর প্রভাব খাটিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রকৃয়াকে বিলম্বিত করছে। কিন্তুৃ সরকারের এই ষড়যন্ত্রের ফল শুভ হবে না, এর ফলে সরকারের পায়ের নীচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। দেশের আপামর জনগন এই সরকারের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে এবং যে কোন সময় তা গন বিস্ফোরণে রূপ নেবে। জনগনের প্রতিরোধের মুখে সরকার খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে বাধ্য হবে এবং একটি অবাধ সুষ্ঠ নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার পুনরুদ্ধার করা হবে। এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন, আমরা খুবই মর্মাহত, এ ধরনের আদেশ সারা জাতির জন্য হৃদয়বিদারক। এ ঘটনার প্রতিবাদে আমরা নিয়মতান্ত্রীকভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাবো। খালেদা জিয়ার মুক্তির মাধ্যমে দেশের মানুষের মুক্তির সূচনা হবে। বিএনপি চেয়ারপার্সণ বেগম খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করার প্রতিবাদ জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজিব বলেন, সরকারের অন্যায় জুলুম সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সরকারের এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে হবে। তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে সংগঠনকে শক্তিশালী করে এ বৈরী পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।

অলি গলিই না’গঞ্জ বিএনপির একমাত্র ভরসা

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

অলিগলিতে মিছিল আর ফটোসেশন করেই বর্তমানে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন করছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। আবার কেউ কেউ কেউ ক্ষমতাসীন দলের সাথে আতাঁত করে বিএনপির রাজনীতি করছেন। এতে করে দিন দিন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে। কয়দিন আগেও বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের নারায়ণগঞ্জের রাজপথে দেখা যেত। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পরও এক-দুইটা কর্মসূচীতে রাজপথেই তারা সক্রীয় থেকে প্রতিবাদ সভা করেছে। যা গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার কারণে নারায়ণগঞ্জবাসী জানতে পেরেছে। কিন্তু ইদানিং কেন্দ্র ঘোষিত কয়েকটি কর্মসূচী পালনে রাজপথে আর বিএনপিকে দেখা যাচ্ছে না। তাদের অবস্থান অলিতে গলিতে। নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে থেকে এখন পিছনে গিয়ে তারা কর্মসূচী পালন  করছে। তাও উপস্থিতি যেমন নগন্য তেমনি কর্মসুচীর স্থায়ীত্বও স্বল্প। নিজস্ব ভাড়া করা লোক দিয়ে ফটোসেশনের মধ্যদিয়েই কর্মসূচী সমাপ্ত হয়। বিএনপির এমন দৈন্যদশা দেখে হতাশ নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গন। একই সঙ্গে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। কারো কারো মনে প্রশ্ন, বিএনপি কি নিষিদ্ধ কোন রাজনৈতিক দল? যার কারণে অলিতে গলিতে কোনমতে ফটোশেসন করে সটকে পড়ছে! গত রোববারও জেলা ও মহানগর বিএনপি গলির মধ্যে কর্মসুচী পালন করেছে। তবে বিএনপির নেতারা বলছেন, পুলিশ তাদের রাজপথে দাঁড়াতে দিচ্ছে না। ফলে তারা অলিতে গলিতে কর্মসূচী পালন করতে বাধ্য হচ্ছে। অথচ সাধারণ কর্মীরা বলছেন, অধিকাংশ শীর্ষ নেতা রাজপথে না থাকায় কর্মীরাও কর্মসূচীতে অংশ নিচ্ছে না। বিএনপির মাঠ পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, বিএনপির শীর্ষনেতাদের মধ্যে আভ্যন্তরিন কোন্দল, গ্রুপিং, রেষারেষি, মতানৈক্য এসব কারণেই বিএনপির কোন কর্মসূচিতে লোক সমাগম হচ্ছে না। ৫০/৬০ জন লোক নিয়ে তো আর সমাবেশ হয় না। অল্প সংখ্যক লোক দেখে পুলিশও তেড়ে আসে। কর্মসুচীতে যদি ২/৩ হাজার লোকের সমাগম হতো তাহলে পুলিশ সাহস পেতে না যা ইচ্ছে তাই করতে। বরং শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ শেষ করার অনুরোধ জানাতো। আর এখন কি হচ্ছে, অল্প সংখ্যক নেতাকর্মী ফটোশেসন মার্কা কর্মসূচি পালন করছে। এতে দলের কি কোন লাভ হচ্ছে? হচ্ছে না। বরং দলের দেউলিয়াত্ব প্রমান পাচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছে। তাছাড়া দলের শীর্ষ নেতাদের একটি অংশ ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আঁতাত করে লোক দেখানো ভাবে দলের কর্মকান্ড চালাচ্ছে। ত্যাগি বা রাজপথের নেতাকর্মীরা মামলা হামলার শিকার হলেও সুবিধাবাদী নেতারা নিরাপদেই থাকেন সব সময়। এছাড়া টাকা আর লবিংয়ের জোরে সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেপ্তারকৃতরা বেরিয়ে আসলেও পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ জেলে। একের পর এক মামলা দিয়ে তাকে কাবু করা হচ্ছে জেলা বিএনপির এই সাধারণ সম্পাদককে। নেয়া হচ্ছে রিমান্ডে। কিন্তু এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির কোন প্রতিবাদ নাই রাজপথে। শুধু গণমাধ্যমে লোক দেখানো বিবৃতি পাঠিয়েই ক’য়েক নেতা তাদের দায়িত্ব শেষ করেছেন। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ রয়েছে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে। ওই নেতারা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম, সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন, আতাউর রহমান খান আঙ্গুর, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা বদরুজ্জামান খসরু, নজরুল ইসলাম আজাদ, কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপু, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান, ে আজহারুল ইসলাম মান্নান, ফতুল্লার মনিরুল আলম সেন্টুসহ শীর্ষ নেতারা যদি এক সঙ্গে মাঠে নামতো তাহলে কর্মীদের ঢল নামতো রাজপথে। কিন্তু তারা নামেননি। যে যার মতো গা-বাচিয়ে রাজনীতি করে যাচ্ছেন। এদের কারণে সহযোগি সংগঠনগুলোর কার্যক্রমও অনেকটা নিস্ক্রীয় হয়ে পড়ছে। মজার বিষয় হলো, খালেদা জিয়ার রায় ঘোষনার আগে নারায়ণগঞ্জের বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ডেকে বলে দিয়েছেন সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য। দলের মহাসচিবও বলেছেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা। ফলে নিষিদ্ধ সংগঠনের মতো ২০/২৫ জন নেতাকর্মী নিয়ে কয়েক মিনিট রাস্তায় দাড়িয়ে দ্রুত সটকে পড়ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতারা। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, শুধু ফটোশেসন করার জন্যই যেন কর্মসূচিতে অংশ নেয়া। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে একসময় বিএনপির অবস্থা মুসলীগের মতো হয়ে যাবে। মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন, এটাকে ঠিক প্রেসক্লাবের পেছনের অংশ বা গলি বলা যাবে না। প্রেসক্লাবের দক্ষিন দিকের সড়কে অবস্থান নিয়ে বর্তমান সময়ে আমরা আমাদের কর্মসূচীগুলো পালন করে থাকি। আর আমরা যে ইচ্ছেকৃতভাবে এখানে কর্মসূচী করি, তা নয়। আপনারা দেখেছেন বিভিন্ন সময়ে আমাদের কর্মসূচীতে পুলিশ কীভাবে ব্যারিকেড দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। কিংবা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে থাকে। এছাড়া কিছুদিন পূর্বেও আমাদের অধিকাংশ নেতাকর্মীর নামে মিথ্যে মামলা দায়ের করে তাদের কারাগারে প্রেরণ করার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে। তাই এ সকল অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাগুলো এড়ানোর জন্যেই আমরা এসব স্থানে কর্মসূচীগুলো পালন করতে বাধ্য হচ্ছি। এদিকে গলিতে অবস্থান নেওয়াতে রাজপথে বিএনপির অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেননা বর্তমানে কোন কর্মসূচী পালনে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাদের রাজপথে দেখা যয় না।

 

না’গঞ্জে উন্নয়ণ করেও পিছিয়ে ক্ষমতাসীনরা

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের শক্ত অবস্থান রয়েছে অনেক আগে থেকেই। আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠা এই নারায়ণগঞ্জ থেকেই হয়েছে। টানা দুইবার আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকায় ব্যাপক উন্নয়ণ হয়েছে নারায়ণগঞ্জে। গত কয়েক বছরের উন্নয়ণে পাল্টে গেছে নারায়ণগঞ্জের দৃশ্যপট। দেশের মধ্যে উন্নয়ণের মডেল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ। তবে ব্যাপক উন্নয়ণেও নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের নেতারা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে রাজনীতির মাঠে আগাছা ও বিতর্কিত নেতাদের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ। টানা দ্বিতীয় বার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পুরো জেলা জুড়ে উন্নয়ণ মূলক কাজ করলেও শুধু মাত্র কিছু আগাছা ও বিতর্কিত নেতাদের জন্যই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। এমনকি আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা যখন মাঠে নামছে তখনও সুবিধাবাদি ও বিতর্কিতরা তাদের ম্যাকানিজম শুরু করে দিয়েছে।  এছাড়াও বিতর্কিতদের কারণে আওয়ামীলীগ থেকে আস্থা হারাচ্ছে জনসাধারণ। জানাগেছে, টানা দ্বিতীয় বারের ন্যায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় অন্য রাজনৈতিক দলের কিছু সুবিধাবাদি নেতা এখন আওয়ামীলীগে যোগ দিয়ে বড় আওয়ামীলীগার দাবী করছে। কামাল মৃধার মত অনেক আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সুবিধাবাদি আগাছারা নিজেদের স্বার্থ আদায়ের জন্য আওয়ামীলীগে যোগ দিয়েছে। আবার অনেক আগাছা আছে যারা আওয়ামীলীগে যোগ না দিয়েও আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের সাথে আতাঁত করে নিজেদের স্বার্থ আদাই করছে। অপরদিকে ক্ষোদ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের অনেক নেতা রয়েছে যারা আওয়ামীলীগের ইমেজ ক্ষুন্ন করছে। দলের নাম ও নিজের পদবী ভাঙ্গিয়ে করে বেড়াচ্ছে নানা অপকর্ম। সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার চালিয়ে নিজেদের পকেট ভারি করেছে। মতে নির্বাচনকে সামনে রেখে সুবিধাবাদি ও বিতর্কিত নেতাদের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা। শীর্ষ একাধিক নেতার সাথে আলাপ কালে জানাগেছে, যারা পদ-পদবী ব্যবহার করে নানা অপকর্ম করছে এবং আওয়ামীলীগের ইমেজ ক্ষুন্ন করেছে তাদের চিহিৃত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্রমতে, নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি কমিটিতে এমন কিছু নেতা রয়েছেন যারা মাদক ব্যবসা ও মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার দেওয়া থেকে শুরু করে, ভূমিদস্যুতা, চাদাঁবাজী, টেন্ডারবাজীসহ নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। ঐসকল বিতর্কিত নেতাদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে জনসাধারণ। আর এরাই যদি আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চায় তাহলে ভোটাররা যে নৌকা মার্কায় ভোট দিবে না এটা এখন স্পষ্ট। তাই নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ ব্যাপক উন্নয়ণ করেও জনসাধারণের আস্থা অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে। যদিও নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে মাঠে নেমেছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান। তার নির্বাচনী একাকায় ইতিমধ্যে তিনি কর্মী সভা করছেন নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে। প্রতিদিনই কোন না কোন এলাকায় সভা করছেন। তবে ঐ সভাতেও  ভূমিদস্যুতা, চাদাঁবাজীসহ বিতর্কিতদের দেখা যাচ্ছে। যদিও এই বিষয়টি সাংসদ শামীম ওসমানের জানা নেই। তবে বিয়য়টির উপর নজর দিতে সাংসদ শামীম ওসমানের প্রতি আহবান জানিয়েছেন সাধারণ ভোটাররা। কেননা বিতর্কিতরা পাশে থাকলে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন তো দূরের কথা উল্টো জনসমর্থন কমবে সাংসদ শামীম ওসমানের।

ফ্যাশন ওয়ার্ড টোকিও মেলায় অংশ গ্রহণ নিয়ে বিকেএমইএর প্রস্তুতি মূলক সভায় সেলিম ওসমান জাপানে বাংলাদেশী নীট পণ্যের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ফ্যাশন ওয়ার্ড টোকিও-২০১৮ মেলায় বাংলাদেশের নীট শিল্পকে উপস্থাপন করতে বিকেএমইএ এর নেতৃত্বে মোট ৮৫জন ব্যবসায়ীর একটি দল মেলায় অংশ গ্রহন করতে যাচ্ছে। আগামী ৪ থেকে ৬ এপ্রিল জাপানের টোকিওতে এ ফ্যাশন মেলা অনুষ্ঠিত হবে। মেলায় অংশ গ্রহনের মধ্য দিয়ে জাপানে বাংলাদেশের নীটওয়্যার পণ্যের বাজার সম্প্রসারন হবে বলে প্রত্যাশা করছেন দেশের নীট ব্যবসায়ীরা। গতকাল সোমবার রাতে ঢাকার গুলশানে ওয়েস্টিন হোটেলে বিকেএমইএ এর উদ্যোগে মেলায় অংশ গ্রহনকারীদের প্রস্তুতি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেএমইএ এর সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেলিম ওসমান বক্তব্যে, মেলায় অংশগ্রহন করতে যাওয়া বিকেএমইএ পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ সহ নীটওয়্যার ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে জাপানে বাংলাদেশের নীটওয়্যার পণ্যের বাজার সম্প্রসারনে করনী সম্পর্কে দিক নির্দেশনা সহ বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ সময় তিনি জাপানী বায়ারদেরকে আকৃষ্ট করার ব্যাপারে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেন। ২০১৭ সালে জাপান বিশ্বের অন্যান্য দেশ গুলো থেকে ১২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের নীটওয়্যার পন্য আমদানী করে থাকে। আর বাংলাদেশ থেকে শুধুমাত্র ৪ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ডলারের নীটওয়্যার পন্য আমদানী করেছে। সেই হিসেবে জাপানে বাংলাদেশী নীটওয়্যার পণ্যের বাজার সৃষ্টি করার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন নীটপন্য রপ্তানিকারকরা। প্রসঙ্গত ২০১২ সালে বিকেএমইএ তৎকালীন এবং বর্তমান সভাপতি সেলিম ওসমানের নেতৃত্বে ১১০ জনের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল ফ্যাশন ওয়ার্ড টোকিও-২০১২ ফেয়ারে অংশ নিয়ে ছিলো বাংলাদেশ। ওই মেলায় অংশ গ্রহনের গত কয়েক বছরে জাপানে বাংলাদেশী নীটওয়্যার পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ১০০ গুনের বেশি। এছাড়া বর্তমানে জাপানে বাংলাদেশী নীটওয়্যার পন্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করার ঘোষণা দিয়েছেন। এতে করে বাংলাদেশ থেকে যতটুকু সম্ভব স্বল্পমূল্যে জাপানে নীটপন্য রপ্তানি করতে পারবে বাংলাদেশ। এতে করে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সামনে জাপানে বাজার সৃষ্টি অপার সম্ভবনা দ্বার উন্মোচন হতে যাচ্ছে। মত বিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, বিকেএমইএ এর প্রথম সহসভাপতি মনসুর আহম্মেদ, দ্বিতীয় সহ সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, পরিচালক শেখ হোসেইন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ, পরিচালক মহিবুর রহমান, শামীম আহম্মেদ, উইজডম অ্যাটায়ার্স লিমিটেড এর নির্বাহী পরিচালক আক্তার হোসেন অপূর্ব, আল-আমিন এক্সপোর্ট লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকারিয়া ওয়াহিদ, ইউএসবি ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিপ্লব হোসেন হাওলাদার, বাবুল হোসেন জনি, সাইফুল ইসলাম, মাহাবুর রহমান স্বপন, রতন কুমার সাহা, দিলীপ কুমার সাহা, দেওয়ান মোহাম্মদ ইসমাইল, সাইদুর রহমান, হারুন অর রশিদ, আশিকুর রহমান, বেলায়েত হোসেন মহিবুর রহমান সহ অন্যান্য পরিচালক এবং রপ্তানিকারী প্রতিষ্ঠানে উদ্যোক্তাগন।