আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:১২
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

ঢাকায় রেলের নিচে ঝাপ দিয়ে ইঞ্জিনিয়ার ফারুকের আত্মহত্যার কারণ উদঘাটনে রেলওয়ের পুলিশ বন্দরে

 

 

বন্দর প্রতিনিধি

বন্দরের ইঞ্জিনিয়ার ফারুক ঢাকা মগবাজারের রেল গেইটে রেলের নিচে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যার কারণ জানতে কমলাপুর থেকে রেলওয়ে পুলিশের একটি টিম গতকাল বুধবার বন্দরে তদন্তে এসেছে। রেলওয়ে পুলিশের দারোগা আনিছের নেতৃত্বে ৫জন পুলিশ নিহত ইঞ্জিনিয়ার ফারুকের বাসাসহ স্থানীয় এলাকাবাসী ও পাওনাদারদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এদিকে গতকাল বুধবার সকালে নিহত ইঞ্জিনিয়ার ফারুকের কাছ থেকে পাওনাদাররা তার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ করেছে। গত ১১ মার্চ ইঞ্জিনিয়ার পারুক ঢাকা মগবাজার রেল গেইটে রেলের নিচে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করে। মৃত্যুর আগে সে একটি চিরকুটে লেখে গেছে পাওনাদারদের চাপে সে আত্মহত্যা করেছে। তার মৃত্যুর পরেই নারায়ণগঞ্জ মার্কেস্টাইল ব্যাংক বাড়ির সামনে সাইন বোর্ড লাগিয়ে দিয়েছে এ বাড়িটি ব্যাংকের নিকট দায়বদ্ধ।

এলাকাবাসী জানান, ইঞ্জিনিয়ার ফারুক ৩৬০ ডিগ্রী এঙ্গেল নামক মাল্টিপারর্পাস নামক ঋনদান প্রতিষ্ঠান খুলে ৭শত ৩৭ জনের কাছ থেকে ঋন দেয়ার পট্রলোভন দেখিয়ে লোকদের কাছ প্রাথমিক জমা বাবদ প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। নামে মাত্র কয়েক জনকে ঋন দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে শত শত লোকের কাছ থেকে ২০ হাজার ১০ হাজার ৩০ হাজার টাকা করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকসহ বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে ব্যবসার নাম করে প্রায় ৭/৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। দীর্ঘ দিনে ঋন পরিশোধ না করায় চলতি মাসেই বন্দরের বিভিন্ন গন্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে একটি সালিশ বৈঠক হয়। বৈঠকে একই এলাকার সাবেক জাতীয় খেলোয়ার মিয়ার সোহেলের পাওনা ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ১০ মাসে পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত হয়। সে সিদ্ধান্ত মেনে নেয়। এলাকাবাসী আরও জানান, ইঞ্জিনিয়ার ফারুকের সাথে তার গোপন স্ত্রীর মধ্যে মামলা মোকদ্দমা চলছিল। সেই গোপন স্ত্রীর গর্ভের সন্তান সে অস্বীকার করায় ডিএনএ টেস্টে তার সন্তান বলে প্রতিয়মান হয়। বিষয়টিও এলাকায় জানাজানি হয়। সে মৃত্যুর কয়েক দিন আগে একটি চেক জালিয়াতি মামলার ওয়ারেন্টে জেল খেটে বেরিয়ে আসে। এর কয়েকদিন পরই সে আত্মহত্যা করে। এ ব্যাপারে ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা পাওনাদার সিয়া সোহেল বলেন, আমি বিপুল পরিমান টাকা পাই। এ নিয়ে বিচার সালিশ হয়। সে বিচারে যা সিদ্ধান্ত হয় তা আমি মেনে নেই। আমরা বিচার সালিশ থেকে বেরিয়ে এলে অন্যান্য পাওনাদারদের সাথে তার বাক বিতন্ডাও হয়। এ ব্যপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা রেলওয়ে পুলিশের দারোড়া আনিছ জানান, রেলের নিচে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে তদন্ত চলছে। আমরা বিভিন্ন লোকদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তবে সে বিপুল প্ররিমান টাকা ঋন ছিল তা প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবু আমরা আত্মহত্যার কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছি। সকালে বিক্ষোভকারী পাওনাদার আলী আকবার জানান, তাকে অধিক মুনাফা ও ঋণ দেয়ার কথা বলে ১ লাখ ১৫ হাজার, সুমনের কাছ থেকে ১৫ হাজার, পারুল বেগমের কাছ থেকে ১০ হাজার, আলম সিকদারের কাছ থেকে ১৫ হাজার, ফয়সালের কাছ থেকে ১৮ হাজার, ইয়াসুছ মিয়ার কাছ থেকে ১৫ হাজার সজিব মিয়ার কাছ থেকে ১৫ হাজারসহ প্রায় ৭ শতাধিক লোকের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়া উঞ্জিনিয়ার ফারুক আত্মহত্যার কারণ উদঘাটন করতে মাঠে র‌্যাব নেমেছে বলে জানা গেছে।

 

চাঁদাবাজির দুই কোটি টাকা যায় কার পকেটে?

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলে সপ্তাহে বিভিন্ন মিল কারখানা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী ও অবৈধ পরিবহন এবং স্ট্যান্ড থেকে দুই কোটি টাকার উপরে চাঁদা আদায় হচ্ছে বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। এসব চাঁদাবাজির সাথে শুধু ক্ষমতাশীন দলের নেতারাই জড়িত নয়, বরং বিভিন্ন দলের শ্রমিক নেতারা এই চাঁদাবাজির সাথে জড়িত বলে সূত্র জানায়। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এইসব চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করে একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে বলে জানা গেছে। তালিকায় ক্ষমতাশীন দলের নেতারাসহ বিভিন্ন বামঘড়ানার শ্রমিক নেতারাও রয়েছে বলে সূত্র দাবি করেছে। জানা গেছে, ফতুল্লার আলীগঞ্জ থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে আছে অসংখ্য কল কারখানা। এ সড়কের পাশেই বুড়িগঙ্গা নদী। ওই নদী থেকে হয় মালামাল লোড আনলোড। এ সড়কের পাশে আছে অসংখ্য স্টিল মিল ও বিভিন্ন কারখানা। এছাড়া দেশের বৃহত্তম নীট গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী রয়েছে এই ফতুল্লায়। এখানে আছে ট্রাকের একটি স্ট্যান্ডও। কয়েক কিলোমিটার এলাকা থেকে প্রতি সপ্তাহে উঠছে অন্তত ২ কোটি টাকা। একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে এ টাকা। আর সেটার ভাগ যাচ্ছে প্রভাবশালী অনেকের কাছে। যে কারণে নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক নেতারা রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। এমন কোন পরিচিত শ্রমিক নেতা নেই যার নিজস্ব কোন গাড়ি নেই। রয়েছে স্বনামে-বেনামে একাধিক বাড়ি। শ্রমিক নেতা নামধারী এদের অত্যচারে অনেক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী ইতিমধ্যে ফতুল্লা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো শ্রমিক আন্দোলনের কারণে বর্তমান সরকারের একজন প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রী তার গামেন্টস ফ্যাক্টরী বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। অপর দিকে একজন শিল্পপতি দু:খ করে বলেন, বড় আশা করে আমার অন্যন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ফতুল্লায় একটি গামেন্টন্স ও সুয়েটার ফ্যাক্টরী করেছিলাম। সরকারি নিয়মনীতির বাইরে শ্রমিকদের অতিরিক্ত মুজুরী দেয়ার পরও শ্রমিক নেতাদের খুশি রাখতে পারিনি বলে তাদের আন্দোলনের মুখে বাধ্য হয়ে ফ্যাক্টরী বন্ধ করে অন্যত্র চলে গেছি। এমন অবস্থা নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ শিল্পকারখানার। অবস্থা বেগতীক দেখলে কেউ কেউ বিকেএমইএ’র স্বরণাপন্ন হয়। তখন বিএকএমইএ ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকরা বিকেএমইএ’র স্বরণাপন্ন না হয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। সম্প্রতি একটি সংস্থা চাঁদাবাজদের খোঁজ খবর নিতে শুরু করে। খোঁজ নিতে গিয়ে তারা পায় চাঁদাবাজীর ভয়ংকর চিত্র। তবে এখানে এ চাঁদাবাজী হচ্ছে মূলত শ্রমিক নেতাদের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ ইন্ধনে। চাঁদাবাজির শীর্ষে রয়েছে জনৈক শ্রমিকলীগ নেতা। এই শ্রমিক লীগ নেতার ৬জনের একটি দল আছে যারা চাঁদাবাজীর এসব সেক্টর নিয়ন্ত্রন করে আসছে। পাশাপাশি ক্ষমতাশীন দলের ক্যাডাররাও চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা জানান, গত সংসদ নির্বাচনের আগে একজন শ্রমিক লীগ নেতা ব্যাপক তৎপর হয়ে উঠেন। তখন এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা হয়। সেখানে ওই শ্রমিক লীগ নেতাকে রাজধানীর শ্যামপরের শেষ অংশ নারায়ণগঞ্জের আলীগঞ্জ থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত স্থানটি অঘোষিতভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়। বলা হয় এ সড়কের পঞ্চবটি থেকে আলীগঞ্জ পর্যন্ত কোন সেক্টরে কেউ হস্তক্ষেপ করবে না।  সংশ্লিষ্টরা জানান, এ সড়কের দুই পাশে লোড আনলোড সেক্টর নিয়ন্ত্রন করে জেলার বাইরের একজন মূর্খ লোক। তিনি থাকেন নারায়ণগঞ্জ শহরের জামতলা এলাকাতে। আলিশান ফ্ল্যাটেই শুধু থাকেন না চড়েন কোটি টাকা মূল্যের পাজারো গাড়িতেও। ওই নেতার নিয়ন্ত্রনে মূলত লোড আনলোড। বুড়িগঙ্গা নদী থেকে মালামাল লোড আনলোডে প্রতিটি বস্তা কিংবা পন্য হতে সমিতি ও ইউনিয়নের নামে আদায় করা হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। একাধিক শ্রমিক বলেন, ‘আমরা দিনমজুর হিসেবে কাজ করি। এখানে একজন নেতার কল্যাণে কাজ করে থাকি। তবে আমাদের শর্ত থাকে বিভিন্ন শ্রমিক দিবসে মিছিল করতে হবে। সেদিন আমাদের রোজগার হয় না। এখানে সিন্ডিকেট ছাড়া কাজ করা যায় না। পেটের দায়েই কাজ করে যাচ্ছি। তবে যা আয় করি তার অর্ধে দিতে হয় চাঁদা হিসেবে।’ ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা যিনি নিয়ন্ত্রন করেন তিনিই আবার গার্মেন্ট সেক্টরের একটি অংশও দেখভাল করেন। এজন্য আলাদা কমিটিও আছে। অটো রিকশা হতে প্রতিদিন শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে এক থেকে দেড় শ টাকা। বলা হচ্ছে এ টাকার একটি অংশ দেওয়া হয় প্রশাসনকেও। সে কারণেই নাকি প্রশাসন ঝামেলা করে না। আর যখন প্রশাসন এ ব্যাপারে অভিযান চালায় তখন ম্যানেজের কথা বলে এ চাঁদার হার বাড়িয়ে দেওয়া হয় কয়েক গুণ। বেশ কয়েকটি গার্মেন্ট ছিল এ সড়কের পাশে। অব্যাহত চাঁদাবাজীর কারণে অনেক গার্মেন্ট এখান থেকে গুটিয়ে চলে গেছে। পঞ্চবটিতে রপ্তানিমুখী গার্মেন্ট কারখানা পাইওনিয়ার ও পোস্ট অফিস রোডের বিপরীতে হামিদ ফ্যাশন বন্ধ হয়ে গেছে ওই শ্রমিক নেতার কারণে। এসব কারখানায় কিছুদিন পর পর যে ঝামেলার সৃষ্টি হতো তার নেপথ্যে ছিল একজন শ্রমিক নেতা। স্থানীয়রা জানান, জেলা পরিষদের অনেক জায়গা বেদখল আছে শ্রমিক নেতার নামে। গার্মেন্ট কারখানা, বিভিন্ন কারখানা, লোড আনলোড, পাথরের গদি, অটো রিকশা থেকে প্রতি মাসে ২ কোটি টাকারও বেশী চাঁদাবাজী হচ্ছে। গত নির্বাচনে সমঝোতায় পঞ্চবটি থেকে আলীগঞ্জ পর্যন্ত শ্রমিক নেতার কব্জায় থাকলেও আগামী নির্বাচনের আগে চাহিদা বেড়েছে। এখন চাহিদা আলীগঞ্জ থেকে পঞ্চবটি, আর পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত এরিয়া। নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক আন্দোলনের নামে চাঁদাবাজি বন্ধে একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। জানা গেছে অচিরেই এ তালিকা অনুযায়ী ফতুল্লায় বিভিন্ন মিল কারখানায় চাঁদাবাজির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানে নামছে। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্চুক পুলিশের উর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা জানান, চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে যেসব মিল কারখানা ও ফ্যাক্টরীর মালিক নিয়মিত চাঁদা দিচ্ছে তারা মুখ খুলছে না।

 

ক্ষমতাশীন সিন্ডিকেটের অবৈধ হাট..

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আড়াইহাজারে সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ হাট বসিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের ২৫জনের একটি সিন্ডিকেট। এই অবৈধ হাটটি উচ্ছেদের জন্য স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছে। উপজেলা ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের মারুয়াদী চৌরাস্তা এলাকায় প্রকাশ্যে টিনের কয়েকটি শেড নির্মাণ করে অবৈধ হাট বসালেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তবে ইউএনও বলছেন, অবৈধ হাট উচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ সূত্রে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা ছোট ফাউসা এলাকায় একটি সরকারি ইজারা দেওয়া হাট-বাজার রয়েছে। শত বছরের পুরনো এই স্থানটিতে প্রতিদিন সকালে বাজার এবং রবি ও বুধবার বিকেলে সাপ্তাহিক হাট বসে। এখান থেকেই আশপাশের গ্রামের লোকজন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনাবেচা করে থাকেন। সরকার প্রতি বছর এ হাট থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ইজারাবাবদ পেয়ে থাকেন। চলতি বছর ছোট ফাউসা হাটের পাঁচশ মিটারের মধ্যে মারুয়াদী চৌরাস্তায় সরকারি জায়গা দখল করে ওই এলাকার ক্ষমতাসীন দলের টোয়েন্টি ফাইভ স্টার নামে পঁচিশ জনের একটি চক্র অবৈধ হাট বসায়। এ জন্য সরকারি জায়গায় তারা কয়েকটি শেড নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছে। ফলে শত বছরের পুরনো ছোট ফাউসা বাজারটির জন্য এ বছর পত্রিকায় পরপর কয়েকবার ইজারা বিজ্ঞপ্তি দিলেও ক্ষতির আশঙ্কায় কেউ ইজারা নিতে রাজি হচ্ছে না। স্থানীয়রা অবৈধ বাজারটি বসানোর সময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সিন্ডিকেট চক্র তাদের আতঙ্কের মধ্যে রাখেন। ফাউসার বাসিন্দা শুক্কুর আলী, আমিনুর রহমান, জাহাঙ্গীর হোসেন ও শাহজাহান জানান, মারুয়াদী চৌরাস্তায় অবৈধ হাট বসানোর ফলে এর পাশে শত বছরের পুরনো ছোট ফাউসার হাট-বাজারে ক্রেতা বিক্রেতার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। চৌরাস্তার অবৈধ বাজারটি উচ্ছেদ না করলে ঐতিহ্যবাহী ছোট ফাউসা বাজারটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। সরকারি অনুমোদন ছাড়া মারুয়াদী চৌরাস্তায় হাট বসানোর বিষয়টি স্বীকার করে টোয়েন্টি ফাইভ স্টারের সভাপতি মিজানুর রহমান প্রধান বলেন, পাশের ছোট ফাউসার সাপ্তাহিক হাটের দিন বাদে তারা এখানে হাট বসিয়ে থাকেন। সরকারি অনুমোদনের জন্য টোয়েন্টি ফাইভ স্টারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া খান বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি জায়গায় অনুমোদন ছাড়া হাট বসানোর বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে এসিল্যান্ড একটি প্রতিবেদন দিয়েছেন। এতে সরকারি জায়গায় শেড নির্মাণ করে অবৈধ হাট স্থাপনের সত্যতা পাওয়া গেছে। শিগগিরই অবৈধ হাটটি উচ্ছেদসহ সংশ্নিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শামীম ওসমানের বক্তব্য গুরুত্ব দেই না: তৈমূর

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

‘খালেদা জিয়ার জন্য বিএনপি নেতারা কেবল পত্রিকাতেই কাঁন্দে আর তলে তলে আওয়ামী লীগের যোগ দেয়ার জন্য লাইন ধরে’ ‘শামীম ওসমানের এমন কথাকে পোলাপাইনের হাবাগোবা কথা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারার্সনের উপদেষ্টা অ্যাড. তৈমূর আলম খন্দকার।’ মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেনের দাবি, ‘শামীম ওসমান আলোচনায় থাকার জন্যই এমন বিভ্রান্তমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন।’ একই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেছেন, ‘এসব বক্তব্য শামীম ওসমানের রাজনৈতিক স্টান্টবাজি। এর সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।’ জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেলের মতে, ‘শামীম ওসমান ভয়ের মধ্যে আছে তাই তিনি আবোল-তাবোল কথা বলে লোক হাসাচ্ছেন।’ তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, “শামীম ওসমান সবসময়ই এসব কথা বলে, এটা তাঁর স্বভাবসূলভ বক্তব্য। তাঁর এসব কথা আমরা গুরুত্বও দিই না, কানও দিই না। এসব কথা পোলাপাইনের হাবাগোবা কথা। এগুলোকে আমরা গুরুত্বও দিই না।” এছাড়াও তিনি বলেন, “বিএনপি বিরোধী দলে আছে ১০ বছর ধরে। বাংলাদেশের কোথাও কোনো নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়নি। দিবেও না। এরপরও কেউ যদি তলে তলে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার জন্য লাইন ধরে থাকে তাহলে তাঁকে নিয়ে নিক, এত কথা বলার কি আছে? আমরাও দেখবো কারা যায়, কারা যাচ্ছে। তবেও ওয়ান ইলাভেনের মতো সুবিধাবাদীরা গেলেও যেতে পারে। এরা বিএনপির না। এরা সবসময় সুবিধাবাদী।” অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “শামীম ওসমানের এই বক্তব্য বিভ্রান্তিমূলক। বিএনপি গত দশ বছর ধরে বিরোধী দলে আছে, সারা বাংলাদেশে কোনো নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করছে এমন তথ্য প্রমাণ খুব কমই আছে। আসলে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার কথা তিনি যেটা বলেছেন সেটা তাঁর দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বলেছেন। শামীম ওসমান অনেক সময় অনেক বক্তব্য দেন, যার মাধ্যমে নিজেকে আলোচনায় আনতে চান, এই বক্তব্যটাও তেমন। তিনি নিজেকে আলোচনায় রাখার জন্যই এমন বক্তব্য দিয়েছেন। এর কোনো ভিত্তি নেই।” মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন, “শামীম ওসমান অনেক সময় অনেক কল্পকাহিনী বলেন যা বাস্তবতার সাথে কোনো মিল নেই। বিএনপির কোনো নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে গিয়েছে সে পরিসংখ্যান অত্যন্ত নগন্য বরং আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে এসেছে এই পরিসংখ্যান বলার অপেক্ষা রাখে না। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতাকর্মীরা এত জেল জুলুম সহ্য করেও বিএনপিতে আছে, বিএনপিতেই থাকবে আওয়ামী লীগে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। শামীম ওসমানের বক্তব্য রাজনৈতিক স্টান্টবাজি এর সাথে বাস্তবতার মিল নেই।” জাহিদ হাসান রোজেল বলেন, “মানুষ যখন ভয়ের মধ্যে থাকে, জনশূন্য হয়ে যায় তখন সে আবোল তাবোল বলতে থাকে। শামীম ওসমানের বক্তব্যও হচ্ছে তেমন। তিনি একজন বিচক্ষণ ব্যক্তি। এছাড়া তিনি ভালো একটি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। সে হিসেবে এসব আবোল তাবোল বলে লোক না হাসালেও পারেন।”

 

জেলা পরিষদের সেই বির্তকিত কর্মকর্তা বরখাস্ত

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান সহকারী রেজাউল করিমকে চাকরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জাল সার্টিফিকেটে ১৭ বছর চাকরী করা এই কর্মকর্তা দুদকের মামলায় কারাভোগ করে বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। বরখান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পষিদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম নজরুল ইসলাম। এবং সরকারী চাকরীর বিধি অনুযায়ী প্রধান সহকারী রেজাউল করিম যেদিন কারাগারে গিয়েছেন সেদিন থেকে তার বরখাস্ত কার্যকর হবে বলে জেলা পরিষদ সূত্র জানিয়েছে। জানা যায়, চাঁদপুর জেলার মতলব থানার চরলক্ষীপুর গ্রামের আবু বকর সিদ্দীকের ছেলে রেজাউল করিম ¯œাতক পাশ না হয়েও তিনি ¯œাতক পাশের যোগ্যতায় সরকারী চাকরী ভাগিয়ে নেন। শুধু তাই নয়, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে চাকরীতে যোগদানের ২৪ দিনের মাথায় অন্য জেলায় বদলী হয়ে যান। এমনকি যাওয়ার সময় কর্মস্থলের অফিস থেকে নিজের নথি গায়েব করে দিয়েছেন।  প্রতারণা করে মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদে উচ্চমান সহকারী পদে চাকরি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান সহকারী রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-২ এর উপ সহকারী পরিচালক গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন। চাকরি নেয়ার প্রায় ১৭ বছর পর দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চাঁদপুর জেলার মতলব থানার চরলক্ষীপুর গ্রামের আবু বকর সিদ্দীকের ছেলে রেজাউল করিমের সার্টিফিকেট না দিয়ে চাকরি নেয়ার বিষয়টি। এদিকে মামলা হওয়ার পর রেজাউল করিম গত ৮ জানুয়ারি উচ্চ আদালতে গেলে হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও কৃঞ্চ দেবনাথের বেঞ্চ তাকে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়ে মুন্সীগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পন করার নির্দেশ দেন। এরপর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আদালতে জামিনের আবেদন করলে মুন্সীগঞ্জ সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শওকত আলী চৌধুরী তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এই তথ্য জানিয়েছেন, মুন্সীগঞ্জের দুদকের আইনজীবী মো. আশরাফ-উল-ইসলাম। মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে মুন্সীগঞ্জের উচ্চমান সহকারীর ৫জনের শুন্য পদে লোক নিয়োগের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়। স্থানীয় সরকার জেলা পরিষদ কর্মকর্তা ও কর্মচারী চাকরি বিধিমালা ১৯৯০তে উচ্চমান সহকারী পদে নিয়োগের শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে ¯œাতক পাশের উল্লেখ ছিলো। কিন্তু রেজাউল করিম মিথ্যাভাবে নিজেকে ¯œাতক পাশ উল্লেখ করে উচ্চমান সহকারী পদে আবেদন করে। জেলা পরিষদ, মুন্সীগঞ্জের তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহীদুল্লাহ কর্তৃক রেজাউল করিমকে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয় এবং ২০০১ সালের ৩০ শে সেপ্টেম্বর রেজাউল করিম মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদে উচ্চমান সহকারী পদে যোগদান করে। যোগদানের ২৪ দিনের মাথায় একই বছরের ২৪ অক্টোবর রেজাউল করিম বদলী হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদে যোগদান করে। দুদকের তদন্তকালে রেজাউল করিমের ব্যক্তিগত নথি মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদে খুঁজে পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানকালে রেজাউল করিমের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র সরবরাহ করার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ করা হয় এবং জেলা পরিষদ দুদককে জানায়, রেজাউল করিম তার ¯œাতক পাশের সনদপত্র জমা প্রদানের জন্য ১৫দিনের লিখিত সময়ের আবেদন করেও দিতে পারেনি। দুদক আরও জানান, চাকরিতে আবেদন ও যোগদানের যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও এবং ¯œাতক পাশ না হয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে জেনে বুঝে মিথ্যাভাবে চাকরিতে যোগদানের পর প্রতারণা ও সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি ২১ লাখ ২০ হাজার ৯৮০ টাকা বেতনভাতা গ্রহণ করে আত্মসাত করেছে। এ ঘটনায় রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে দ-বিধির ৪১০/৪৬৬/৪৬৮/৪৭১/২০১ ধারায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় গত বছরের ১৬ই ডিসেম্বর দুদক মামলাটি দায়ের করে।

ত্বকী হত্যার ইস্যু নিয়ে মাঠে কামাল মৃধা যেন মা’র চেয়ে মাসির দরদ বেশী !

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জের বির্তকিত ও কোন্দলের কারিগড় খ্যাত কামাল মৃধা আবারও নতুন ইস্যু নিয়ে মাঠে নেমেছে। এক সময়ের আওয়ামী লীগের ডাকসাইটের এ নেতা সুযোগ সন্ধানী হয়ে বিএনপিতে যোগ দিলেও বিএনপির সাথে সম্পর্ক ছেদ না করেই আবারও আওয়ামী লীগে যুক্ত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ ছাড়লেও বিএনপিতে যোগ দিয়েও কোন পদ পায়নি। ১৯ বছর পর ফের আওয়ামী লীগে যুক্ত হয়েছেন কামাল মৃধা যিনি এক সময়ে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি এখন মাঠে নেমেছেন আলোচিত ত্বকী হত্যা ইস্যুতে। ‘নারায়ণগঞ্জের তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার বিচার ৫ বছরেও শুরু না হওয়াটা সরকারের বিচারহীনতার একটি সংস্কৃতি। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় আটকে আছে বিচার।’ নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি ও নারায়ণগঞ্জে তাঁর অনুগামী বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন যখন নিয়মিত এসব বক্তব্য দিয়ে আসছে। এই কামাল মৃধার একটি মামলায় ৭ বছরের জেল হলে তৎকালিন রাষ্টপতির অনুকম্পায় জেল থেকে মুক্তিপায়।  জেল থেকে বেরিয়েই সে বিএনপিতে যোগ দেন। নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের একটি অংশ ইতোমধ্যে এ ত্বকী হত্যার এ বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছেও ধর্না দিচ্ছে।  সবশেষ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য কামাল মৃধার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গত মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই সময়ে কামাল মৃধার সঙ্গে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা ও ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ, মনির হোসেন, রাসেল আহাম্মেদ প্রমুখ। কামাল মৃধা জানান, মেট্রো রেল নিয়ে মূলত আমাদের আলোচনা ছিল। সেখানে নারায়ণগঞ্জের তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা কেন্দ্রকে বুঝানোর চেষ্টা করেছি যে আগামী নির্বাচনের আগে ত্বকী হত্যার বিচার হতে হবে। নতুবা নিহতের পরিবার যে কথাটি বলে আসছে যে সরকার কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিচারহীনতার সংস্কৃতি কায়েম করেছে সেটা প্রতিষ্ঠিত হবে। সে তকমা যাতে লাগতে না পারে সেটাই আমাদের লক্ষ্য। নির্বাচনের আগে যাতে অন্তত নারায়ণগঞ্জে কেউ বলতে না পারে যে, ‘বর্তমান সরকার ত্বকী হত্যার বিচার করছে না কিংবা আটকে রেখেছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি এ সরকারের আছে।’ এ কথা বলার সুযোগ দেওয়া যাবে না। সে জন্যই আমরা মূলত চাচ্ছি নির্বাচনের আগেই বিচার হউক। তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটি জেলা শাখার আহবায়ক রফিউর রাব্বির দুই ছেলের মধ্যে ছেলে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। সে শহরের চাষাঢ়ায় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল এবিসি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ছাত্র ছিল। এ ব্যপারে শহরের একজন রাজনীতিবিদ বলেন, কামাল মৃধার যখন যা মনে চায় সে তাই করে। বিচার বিভাগকে নিয়ে প্রশ্ন তুলে সে সরকারের ও সংবিধানের অপমান করেছে। সে দলের মধ্যে একজন কোন্দল সৃষ্টিকারী। ত্বকী হত্যার বিষয় নিয়ে সে নাকি মাঠে নেমেছে। শুনতে ভালই লাগে। মনে হচ্ছে যেমন মার চেয়ে মাসির দরদ বেড়েছে।

দূর্ভোগের আরেক নাম যানজট

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সারা দেশের মধ্যে রেকর্ড করা দূষণের নগরী নারায়ণগঞ্জ এবার যানজটময় নগরীতে পরিণত হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে সকাল থেকে শুরু করে প্রায় বিকেল পর্যন্ত পুরো সময়জুড়েই লেগে থাকে যানজট। আর এতে করে চৈত্রের কাঠফাটা রোদে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সূত্র মতে, বাংলা বর্ষ অনুযায়ী এখন চৈত্র মাস অতিবাহিত হচ্ছে। এই চৈত্রমাসে সারাদেশেই কাঠফাটা রোদ বিরজমান থাকে। ফলে এই রোদে বাইরে বের হওয়া মানে রোদের তীব্রতায় ভোগা। মাথার উপর তীব্র রোদ আর রাস্তায় তীব্র যানজট। ফলে সহজেই অনুমেয় কতটা বিপর্যস্ত জনজীবন। ছোট ছোট সোনামনিদের কথা তো বলার অপেক্ষাই রাখে না। দুপুর বেলা স্কুল ছুটিতে বাড়ি ফিরতে গিয়ে রক্তের মতো লাল হয়ে যায় মায়া মাখানো মুখখানি। জানা যায়, গত কয়েকদিন নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় দিনের বেলায় চলে ড্রেন খোড়াখুড়ি। একই সাথে চাঁদমারী এলাকায় সড়ক ও জনপদের চলছে রাস্তা খোড়াখুড়ি কাজ। অন্যদিকে ২নং রেলগেইট এলাকায়ও চলছে বিদ্যুতের তার টানানোর কাজ। এছাড়াও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চলছে ছোট ছোট খোড়াকুড়ি। ফলে ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকা থেকে শুরু করে নিতাইগঞ্জ পর্যন্ত অন্যদিকে মেট্রো সিনেমা হল থেকে শুরু করে অক্টোঅফিস পর্যন্ত নিয়মিত যানজট লেগে থাকে। রাস্তায় যানবাহন চলাচল করে কচ্ছপ গতিতে। অনেক সময় ট্রাপিক পুলিশের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সাথে সাধারণ যাত্রীদের বাক-বিতন্ডার ঘটনাও ঘটে থাকে। আশফাকুর রহমান নারায়ণগঞ্জ কলেজ থেকে রিকশাযোগে বাসায় ফিরছিলেন। চাষাঢ়া এলাকায় কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই এই অবস্থা চলছে। প্রায় প্রতিদিনই আমাদেরকে চৈত্র মাসের এই কাঠফাটা রোদে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করলে রাস্তার কাজগুলো দিনের বেলা না করে রাতের বেলা করতে পারতো। তাহলে আমাদেরকে এই ভোগান্তির শিকার হতো না। চাষাঢ়ার বেইলী স্কুলে পড়া ৫বছরের ছোট শিশু নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন আছমা বেগম। তার বাসা হচ্ছে শিবু মার্কেট এলাকায়। তিনি বলেন, দুপুর বেলায় বাসায় ফিরার পথে তীব্র যানজটে শিশুর শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যায়। সকালে প্রায় দেড়ঘন্টা সময় হাতে নিয়েও স্কুলে সময়মতো পৌছানো সম্ভব হয় না।

দলীয় কোন্দলে আবারও রক্তাক্ত হতে পারে রূপগঞ্জ

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আওয়ামী লীগের ক্ষমতার ৯ বছরে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী রূপগঞ্জে দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে দুই হাজার ৭০০-এর বেশি। এই অভিযোগ আর কারও নয়, রূপগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান ভূইয়ার। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলের ভিতরে থেকে দলের ক্ষতি সাধনকারীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান না নেওয়া হলে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সর্বনাশ হবে আওয়ামী লীগকে দিয়েই। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার দুই মেয়াদে ঢাকার পার্শ্ববর্তী রূপগঞ্জে দলীয় নেতা কর্মীরাই হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন বেশি। এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৭০০ মামলা হয়েছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে। এ প্রসঙ্গে রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূইয়া বলেন, ‘গত ৯ বছরে রূপগঞ্জে সবচেয়ে বেশি মামলা-হামলার শিকার হয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। স্থানীয় এমপি গোলাম দস্তগীরের অন্যায়ের বিপক্ষে কথা বললেই তাদেরকে মামলায় জড়ানো হয়। এ পর্যন্ত দলীয় নেতা কর্মীদের নামে হত্যা, বিস্ফোরক, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ অসংখ্য মামলা করা হয়েছে এমপির নির্দেশে।’ গত ৮ মার্চ রূপগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী সুমন গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে হাসপাতালে মারা যান। এই ঘটনায় স্থানীয় এমপি নিজ দলের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতাকে ফাঁসাতে মামলায় আসামি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী সুমন মিয়া হত্যা মামলার বাদী কাজলরেখা বলেছেন, রূপগঞ্জের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী আওয়ামী লীগে তার প্রতিপক্ষের রাজনীতিবিদদের ঘায়েল করতেই সুমন মিয়া হত্যা মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছেন। গত ৯ বছরে রূপগঞ্জে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে কমপক্ষে ২৫ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। জানা গেছে, গত কয়েক বছরে রূপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান ভূইয়া, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম রফিক, মুড়াপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলিমুদ্দিন মিঞা, রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তাবিবুল কাদির তমাল ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাছুম চৌধুরী অপু, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোকন, মুড়াপাড়া কলেজের সাবেক ভিপি মনির হোসেন ও সাবেক ভিপি শাহরিয়ার পান্না সোহেল, তারাব পৌরসভা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল, গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি লুত্ফর রহমান মুন্নাসহ প্রায় দুইশ নেতা-কর্মীর নামে হত্যা, ছিনতাইসহ বিভিন্ন মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আরও ৯ মাস সময় বর্তমান সরকারের হাতে রয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন এবং ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। লাগাম টানতে হবে ওইসব এমপি-মন্ত্রীদের, যারা বিনাভোটে এমপি হয়ে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের দমন-নিপীড়নেই বেশি মনোযোগী হয়েছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের মতো পরিস্থিতি পুনরায় ঘটনার সম্ভাবনা খুবই কম। এসব এমপি-মন্ত্রীর কারণে দলের চরম দুর্দিনে দলের হাল ধরে থাকা নেতা-কর্মীরা অভিমান করে বা কেউ কেউ হামলা-মামলার শিকার হয়ে দল থেকে দূরে সরে গেছে। তাদেরকে ভোটের আগে দলের সক্রিয় করতে হবে। তা না হলে নির্বাচনে ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করেন তারা।

ঊনিশ মাসেও শেষ হলো না রাস্তার কাজ

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আড়াইহাজার উপজেলার রামচন্দ্রদী থেকে উচিতপুরা পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণের ছয় মাসের কাজ ১৯ মাসেও শেষ হয়নি। এ কারণে পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলজিইডি আড়াইহাজার কার্যালয় সূত্র জানায়, ইন্টারন্যাশনাল রোড ডায়নামিক (আইআরডি) এলজিইডি মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন উচিতপুরা থেকে রামচন্দ্রদী চার কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি প্রশস্ত এবং আধুনিকায়নের কাজ  নূর এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাধারী প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০১৬ মালের ২২ আগষ্ট স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু এ রাস্তা নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রায় এক কোটি টাকা বরাদ্দের এই রাস্তাটি আধুনিকায়নের কাজ ছয় মাসের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও ঊনিশ মাসেও শেষ করেনি ঠিকাধারী প্রতিষ্ঠান। সরেজিমনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি সংস্কার না করায় সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে। সড়কের অধিকাংশ স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। স্থানীয়রা এ রাস্তা দিয়ে এখন আর হেঁটে চলতে পারেন না। গোপালদী পৌরসভার মেয়র আলহাজ এম এ হালিম শিকদার বলেন, রামচন্দ্রদী থেকে উচিতপুরা পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে আশপাশের লোকজনহ পাশ্ববর্তী উপজেলা সোনাগাঁও পাঁচ হাজারের অধিক লোকজন প্রতিদিন চলাচল করে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না করায় বিপুল সংখ্যক জনসাধারণ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। রামচন্দ্রদী গ্রামের নজরুল ইসলাম, কৃষক আব্দুল বারেক, পাঁচানি গ্রামের মজিবুর রহমান জানান, হাড়িধোয়া নদীর পাশে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ন সড়কটি দিয়ে তিনশ’ বছরের পুরনো গোপালদী বাজারে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়। বছরখানেক আগে সড়কটি আধুনিকায়নের জন্য সংস্কার করার কথা ছিল। কিন্ত দীর্ঘ সময়েও রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় এ সড়কে চলাচলকারী লোকজন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রকৌশলী নাশির উদ্দিন আড়াইহাজারে যোগদান করার পর থেকেই উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডে স্থবিবরতা বিরাজ করছে। তিনি নিয়মিত অফিস করেন না। নামে মাত্র কোয়াটারে  থাকলেও ঢাকা থেকে এসে অফিস করেন। তাই তিনি সপ্তাহে ২/৩ দিন অফিস কামাই করেন। উপজেলা প্রকৌশলী নাসিরউদ্দিন জানান, চলতি মে মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর আগে সময় বৃদ্ধি করে আরও চারবার চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন না করলে তাদের কার্যাদেশ বাতিল করা হবে। নূর এন্টারপ্রাইজ স্বত্তাধিকারী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান রিপনের সাথে মোবাইলে (০১৭১১৩৬৪২৬১) একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ও মেয়র আইভীর সমঝোতা স্মারক সই, নারায়ণগঞ্জে হচ্ছে বর্জ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

প্রাচ্যের ডান্ডি খ্যাত নারায়ণগঞ্জে নিমিত হচ্ছে দেশের প্রথম বর্জ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য থেকে উৎপাদন হবে এই বিদ্যুৎ। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের জালকুড়ি এলাকায় এই বর্জ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। গতকাল বুধবার বিদ্যুৎ বিভাগে এই প্রকল্প নির্মানের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কপোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা কয়েক বছর ধরে দেশের সিটি কর্পোরেশনগুলোতে বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট বসানোর চিন্তা-ভাবনা করছিলাম। সিটি কর্পোরেশনের মেয়রদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ আলোচনাও হয়েছে। নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন প্রথম এগিয়ে এসেছে। আশা করি, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রকল্পের টেন্ডার আহ্বান হবে।” নারায়ণগঞ্জের পর অন্য নগরীগুলোতেও এই ধরনের বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এদিকে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে হিমশিম খাওয়া সিটি কর্পোরেশন এর মধ্য দিয়ে একটা সমাধান খুঁজে পাবে বলে আশা করছেন মেয়র আইভী। তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের একটা বড় সমস্যা হল বর্জ্য। বর্জ্যের কারণে শহরে ফাঁকা জায়গা, মাঠ দিন দিন কমে যাচ্ছে। এই প্রজেক্ট বাস্তবায়ন হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুন্দর হবে।” জানাগেছে, গত শতকের সত্তর-আশির দশক থেকে ইউরোপে বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। পরে অন্য মহাদেশগুলোর বিভিন্ন দেশ এই পথে যাত্রা করে। বাংলাদেশে বর্তমানে দিনে বিদ্যুতের চাহিদা সাড়ে নয় হাজার মেগাওয়াটের বেশি। এর বিপরীতে উৎপাদনও একই রকম। তবে চাহিদা দিন দিনই বাড়ছে।