আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:১১
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

সেন্ট্রাল খেয়াঘাটে ফ্রি ট্রলারে যাত্রীদের স্বস্তি

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সেন্ট্রাল ঘাটের নৈরাজ্য কমিয়ে যাত্রীদের সুবিধার্থে ৫টি ফ্রি ট্রলার ও নৌকা ভাড়া কমিয়ে ৩ টাকা করায় যাত্রীরা এমপি সেলিম ওসমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এমপির নির্দেশনায় এই বাড়তি সুবিধার কারণে যাত্রীরা বেশ স্বাচ্ছন্দে নদী পারাপার হতে পারছেন বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। তবে এই সুবিধা যেন দীর্ঘস্থায়ী হয় তার জোর দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সেন্ট্রাল ঘাটের যাত্রীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। প্রসঙ্গত দীর্ঘদিন ধরে সেন্ট্রাল ঘাটে মাত্র দুটি ফ্রি ট্রলার চলাচল করে যা পারাপারে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হতো বিধায় যাত্রীরা বাধ্য হয়ে ভাড়ায় চালিত ট্রলার দিয়ে যাতায়াত করতো। এছাড়া নৌকা ভাড়া ২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা করে বাড়তি ভাড়া আদায় করে নৈরাজ্যের সৃষ্টি করে রেখেছিল। এর প্রেক্ষিতে গণমাধ্যমে একাদিকবার সংবাদ প্রকাশিত হলে এমপি সেলিম ওসমানের টনক নড়ে। এতে তিনি গত ২০ মার্চ বিকেলে এমপি সেলিম ওসমান কড়া নির্দেশনা দিয়ে বলেন, আজ থেকে এই ঘাটে ১০ টি ট্রলার চলবে। এর মধ্যে ৫টি ট্রলার ফ্রি চলবে এবং অন্য ৫টি ভাড়ায় চলবে। ভাড়া ২ টাকার বেশি নেয়া যাবে না। এছাড়া নৌকার ভাড়া ৩ টাকা করে নিতে হবে। যদি কেউ এর ব্যতিক্রম করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজন হলে আমি এমপিত্ব ছেড়ে দিব। তবুও জনগণের কষ্ট সহ্য করা হবে না।  সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ‘সেন্ট্রাল ঘাটে ফ্রি ৫ টি ট্রলার সহ ভাড়ায় চালিত ট্রলারও চলাচল করছে। এছাড়া নৌকার যাত্রীরা মাত্র ৩ টাকা ভাড়া দিয়ে অনায়াসে নদী পারাপার হচ্ছে। এতে করে যাত্রীদের মাঝে বেশ স্বস্তি লক্ষ্য করা যায়। তবে ঘাটের এই বাড়তি সুবিধার কারণে প্রায় সকল যাত্রীদের মাঝে এমপি সেলিম ওসমানকে নিয়ে নতুন গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।  ট্রলার ঘাটের যাত্রীরা এমপিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলে, ‘এখন আমাদের নদী পারাপারে খুব সহজ হয়েছে। আর বেশি টাকাও খসাতে হয়না। ৫ টা ফ্রি ট্রলার দেয়ার কারণে এখন টাকা ও সময় দুটোই বেচেছে। আর আমরাও বেশ স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারছি। তাই গরবী মানুষের দুঃখ উপলব্ধি করার জন্য এমপি সেলিম ওসমানকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমরা এই সিন্ধান্তে খুবই খুশি। তবে এই সিদ্ধান্ত যেন দীর্ঘস্থায়ী হয় সেটার ব্যাপারে তিনি যেন সুদৃষ্টি দেয় এই দাবি জানাচ্ছি।’

শামীম ওসমানের শংকাই বাস্তব হয় !

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের একজন প্রভাবশালী এমপি হচ্ছেন আলহাজ¦ এ কে এম শামীম ওসমান। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে দেখাগেছে, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের এই এমপি যখনই কোন সভানুষ্ঠানে কোন ব্যাপারে শংকা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, ঠিক তার পরক্ষনেই অনেকটা কাকতালীয় ভাবেই সেই শংকার বাস্তবায়ন ঘটে যেত। যেমনটা হয়েছিল নগরীর পাইকপাড়ায় অপারেশন হিট স্টর্ম-২৭ অভিযানে গুলশানের জঙ্গি হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিমসহ তিন জঙ্গি নিহতের ঘটনায়। কারন, নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় সরকারের পুরস্কার ঘোষিত জঙ্গিদের অর্থের জোগানদাতা তামিম এসে যে আস্তানা গড়বে আর প্রশাসনের গুলিতে নিহত হবে, তা অনেকটাই কল্পনাতীত ছিল নগরবাসীর। কিন্তু এমপি শামীম ওসমান ঠিকই তার পূর্বে নগরীর একটি মন্দিরে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে নারায়ণগঞ্জে জঙ্গিদের আস্তানা থাকার বিষয়ে শংকার কথা জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে শুধু তামিমই নয়, আরো অনেক জঙ্গি নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হওয়ায়, শামীম ওসমানের সেই শংকা অনেকটা ভবিষ্যদ্বানীর মতই প্রমাণিত হয়। আর তাই এবার শামীম ওসমানের নতুন শংকা মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ ভাবে শক্তির সঞ্চার ঘটাতে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলে দলীয় সূত্রে জানাযায়। কেননা, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে দেশের পরিস্থিতি অন্য রকম হয়ে যাবে বলে শংকা প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান। গত ১৫ মার্চ বিকেলে ফতুল্লাস্থ ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ফতুল্লা ইউনিয়নের (৬,৭,৮,৯) নং ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের সাথে মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে শংকা প্রকাশ করে তিনি আরো বলেছেন, ‘আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে আওয়ামীলীগের জন্য ফাইনাল খেলা। কারন, আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে। জঙ্গিবাদ দমন করছে। আমরা যেমন বঙ্গবন্ধু ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি, তারাও তেমনি তাদের নেতাদের মৃত্যুদন্ডের দায়ে আমাদের উপর চড়াও হবে। দূর্নীতির দায়ে বিএনপির নেত্রী জেলে আর তার ছেলে দেশ ছেড়ে চলে গেছে। তারাও এর প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা করবে। বিদেশি ও সাম্প্রদায়িক শক্তিরা এদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এর মধ্যে হতে পারে আমি মরেও যেতে পারি। তাই আমাদের কে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আমি এমপি না হলেও চলবে, কিন্তু মাতৃতুল্য শেখ হাসিনাকে আবারো ক্ষমতায় আনতে হবে।’ গত ১২ মার্চ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত ফতুল্লা থানাধীন ৫টি ইউনিয়নের তৃণমূল নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় কালে শামীম ওসমান একই শংকা প্রকাশ করায় এখন স্বাধীনতা বিরোধীদের ষড়যন্ত্র মোকাবেলার পাশাপাশি শেখ হাসিনা এবং শামীম ওসমানকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্তির সঞ্চয় করছে বলে জানান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এব্যাপারে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ এম সাইফুল্লাহ বাদল বলেন, ‘ফতুল্লা আওয়ামীলীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ছিল, ঐক্যবদ্ধ থাকবে। সামনে যতই প্রতিকূলতা আসুক না কেন, পুনরায় শেখ হাসিনা ও শামীম ওসমানকে বিজয়ী করতে দলীয় নেতাকর্মীরা নিরলস পরিশ্রম করবে।’

 

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের এটা সবচেয়ে বড় অর্জন : এমপি বাবলী

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ এড. হোসনে আরা বাবলী বলেছেন, মার্চ মাস হলো আমাদের আনন্দ বেদনার মাস। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলার দামাল ছেলেরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরে এবং ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশকে পাক হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত করে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ আজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে, আর এ মার্চ মাসেই আমরা নি¤œ আয়ের দেশ হতে নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জণ করেছি। তাই মার্চ মাস বাঙ্গালী জাতির জীবনে গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করে। বাংলাদেশ নি¤œ আয়ের দেশ হতে নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জণের ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপণ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আনন্দ শোভাযাত্রা পরবর্তী আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এই আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর আগে সকালে শহরের চাষাঢ়া হতে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু হয়ে জেলা প্রসাশনের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। আনন্দ শোভাযাত্রায় সরকারী প্রতিটি দফতর, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকগণ অংশ গ্রহন করে। আলোচনা সভায় নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জণের পর দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জণ বঙ্গবন্ধু কণ্যা প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অনুন্নত দেশ হতে আজ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি লাভ করা। এবং আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা উন্নত দেশে উপহার দিতে পারবো। তখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার জন্য আবেদন করবে। আর এ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য দেশের রাজনীতির ধারাবাহিকতাও বজায় রাখতে হবে। দেশের জনগনকে এই বিষয়টা অনুধাবন করতে হবে তারা ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ চান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শক্ত নেতৃত্বের মাধ্যমে যেমন মাত্র নয় মাসে আমরা স্বাধীনতা অর্জণ করতে পেরেছি, তেমনি বঙ্গবন্ধু কণ্যা প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারবো। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মইনুল হক বলেন, আজকের এই আনন্দের দিনে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। আর দোয়া করতে চাই তাদের জন্য, যাদের কল্যাণে আজকের এই আনন্দ আমরা লাভ করেছি। প্রথমে দোয়া করি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য, এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী, বীরাঙ্গণাগণ আর যুগে যুগে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশ নেয়া সংগ্রামীদের জন্য, সর্বোপরি যার সফল নেতৃত্বের কারনে আজকে আমরা নি¤œ আয়ের দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হয়েছি, বাংলাদেশের সফল প্রধাণমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনার জন্য। উন্নয়ন কোন বক্তৃতার বিষয় নয়, উন্নয়ন হলো দৃশ্যমান, তা দেখার বিষয়। আমাদের সমস্যা আছে সত্যি, কিন্তু শত প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে বঙ্গবন্ধু কণ্যা প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বের কারনে আজকের এই ঐতিহাসিক সাফল্য লাভ সম্ভব হয়েছে। আর উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রা অব্যহত রাখতে পারলে উন্নয়নশীল দেশ হতে আমরা উন্নত দেশে পরিনত হতে পারবো। আনন্দ শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা: এহতেশামুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জসিমউদ্দিন হায়দার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আ: হামিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মতিয়ার রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফারুক হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ সার্কেল) মো: শরফুদ্দিন, সদর ইউএনও তাসনীম জেবীন বিনতে শেখ, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ: হাই, পাবলিক প্রসিকিউটর এড. ওয়াজেদ আলী খোকন, নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, যুদ্ধকালীন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপীনাথ দাশ, ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর কাদের, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম প্রমূখ। আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

 

 

নূর হোসেনের প্রেতাত্মার আতঙ্কে ফতুল্লাবাসী  নাজিমের কর্মকান্ডে ইমেজ সঙ্কটে আ’লীগ

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নাজিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারী ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখলের অভিযোগ ক্রমশ বাড়ছে। কোন ধরনের নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করেই তিনি একের পর এক এসব বিতর্কিত কর্মকান্ড করেই যাচ্ছেন। এতে করে আওয়ামীলীগ ও খোদ সাংসদ শামীম ওসমান বিতর্কের সম্মুখীন হচ্ছেন। ইতিমধ্যে নাজিম উদ্দিনকে এলাকাবাসী ৭ খুনের পরিকল্পনাকারী নূর হোসেনের সাথে তুলনা করা শুরু করেছেন। নাজিম উদ্দিনের ভূমি দস্যুতা সরকারি জমি দখলসহ সন্ত্রসী কার্যকলাপের কারণে ক্ষমতাশীন আওয়ামীলীগের ইমেজ দিন দিন কমছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফতুল্লা মডেল থানাধীন ভূইঘর সাইনবোর্ড এলাকায় পরিবেশবান্ধব ইট প্রস্তুত করার জন্য জায়গা ভাড়া নিয়ে সেখানে কারখানা করতে পারছেন না উদ্যোক্তা মোস্তফা করিম। জায়গার পূর্বদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রায় ২৮ শতাংশ জমি চলাচলের জন্য লিজ নিয়েছে মাসুদ এহসান আজাদ গংরা। এ নিয়ে পাশের কাজী নুরুল আমিনের সাথে মামলায় উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন এরই মধ্যে ওই সড়কের জায়গায় দোকানপাট ও মাছ তরকারির বাজার বসিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বাজারের সুবিধার্থে সড়কের জায়গায় ওয়াসার অনুমোদন না নিয়েই গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এখন নলকূপ থেকে পানি সরবরাহের জন্য ১৩ হাজার লিটার পানির উঁচু ট্যাঙ্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে পাকা পিলার নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে। পিলার নির্মিত হলে চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে আশঙ্কায় ফতুল্লা থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। দুই দফায় পুলিশ সেখানে গিয়ে এ নির্মাণকাজ বন্ধের অনুরোধ জানালে ভাইস চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিনের লোকজন উল্টো পুলিশ সদস্যদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে এসব কাজে না আসার পরামর্শ দেয়। এমনকি ইট তৈরি কারখানার উদ্যোক্তা মোস্তফা করিমকেও ব্যবসায় গুটিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। অবশ্য ভাইস চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন জানিয়েছেন প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে এসব করা হচ্ছে। জানা গেছে, দাপুটে এক নূর হোসেনের মতই অনেক নূর হোসেনের জন্ম নিতে দেখা যাচ্ছে। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। নারায়ণগঞ্জের লিংক রোডের সাইনবোর্ড এলাকা ছিল খুবই সাদামাটা। এখন সেখানে গড়ে উঠেছে শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়। যাকে ঘিরে অল্পদিনের মধ্যে সরকারী জায়গায় বাস ডিপো, হাট-বাজার, বসার স্থানের নামে নকশাবন্দি মোজাদ্দির আস্তানা, সিমেন্টের পাকা দোকান, ঈদুল আযহার গরুর হাট। প্রকাশ পেয়েছে অটো চালক-মালিক সমিতি, টেম্পু সমিতি, রিক্সা সমিতি, ঐক্য সংগঠনসহ নানা সংগঠনের। আর এগুলোকে রক্ষায় সরকারী জায়গায় স্থাপন করা হয়েছে বহুতল মসজিদ। এলাকাবাসী রতন বলেন, সাইনবোর্ড এখন খারাপ মানুষের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। এলাকার বিচার-আচার এখন সাইনবোর্ড শ্রমিক ক্লাবে হয়ে থাকে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বসে এসব বিচার যা চলে গভীর রাত পর্যন্ত। এ বিচার শিরোধার্য হয়ে থাকে। নড়চর করলেই তার উপর খর্গ নেমে আসে। অপরজন আব্দুর রহমান বলেন, এই ক্লাব যে নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং শ্রমিক লীগের বড় নেতা। তার সাঙ্গপাঙ্গরা নিয়ন্ত্রণ করেন সাইনর্বোড এলাকা। তবে এর ব্যাপ্তি সাইনবোর্ড নয় আশপাশের বিশাল এলাকা। আর এই সাঙ্গপাঙ্গদের আয়ের উৎস সাইনবোর্ডের চলাচল করা গাড়ীগুলোর চাঁদা। গড়ে উঠা অবৈধ দোকান-হাট-বাজার। অভিযোগ উঠেছে, সড়ক ও জনপথের (সওজ) প্রায় দুই একর জমি দখল ‘রামরাজত্ব’ চালিয়ে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন। একাধারে তিনি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানও। সরেজমিনে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোডের সাইনবোর্ড শান্তিধারা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সড়কের পশ্চিম পাশে সড়ক ও জনপথের বিশাল জমিতে সাইনবোর্ড থেকে গাজীপুরগামী অনাবিল সুপার সার্ভিসের বাসস্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ভরাট করা জমিটি। এ ছাড়া বাসস্ট্যান্ডের একশ’ গজ সামনে গড়ে তোলা হচ্ছে মাছের বাজার। কিছুদিনের মধ্যেই তা চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন মাছবাজার নির্মাণকাজ তদারকিতে থাকা কয়েকজন কর্মী। সওজের জমি দখল করে বাসস্ট্যান্ড ও মাছের বাজার নির্মাণ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষক লীগ সভাপতি ও সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন বলেন, সড়ক ও জনপথের জমি ব্যবহারের জন্য সেখানে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেই চিঠিতে বলা আছে তাদের প্রয়োজনে যে কোনো সময় জমি ছেড়ে দেওয়া হবে।

 

না’গঞ্জ-৪ ও ৫ আসন বিন্যাসে অভিযোগ জানতে বিএনপির চিঠি

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কাছে নারায়ণগঞ্জ-৪ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সীমানা পুননির্ধারণে দলের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ আছে কিনা জানতে চেয়েছে কেন্দ্র। এ ব্যাপারে এ দুটি আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথেও যোগাযোগ করছে কেন্দ্র। তাদের কাছ থেকেও জানতে চাওয়া হবে কোন অভিযোগ রয়েছে কিনা সীমানা পুননির্ধারণ নিয়ে। কেন্দ্র থেকে মহাসচিব উক্ত চিঠি পাঠিয়েছেন বলে দলের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। চিঠিটি নয়াপল্টনে বিএনপির দপ্তর হয়ে দলের নেতাদের কাছে আসবে। দলের নেতারা চিঠি পেয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দলের কেন্দ্রকে অবহিত করবেন।  মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল জানান, এ ধরনের চিঠি এর আগেও আমাদেরকে কেন্দ্র দিয়েছিল এবারও দেয়ার কথা শুনেছি তবে এখনো হাতে পাইনি। চিঠি হাতে পেলে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হবে কেন্দ্রকে।  নারায়ণগঞ্জ ৪ ও নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের সীমানা পুননির্ধারণ করছে ইসি। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন হবে আলিরটেক ও গোগনগর বাদে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ১০ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে। এত দিন ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা নিয়ে ছিল এই আসন। পরিবর্তন আসছে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনেও। নারায়ণগঞ্জ সদরের আলীরটেক, গোগনগর, বন্দর উপজেলা এবং সিটি করপোরেশনের ১১ থেকে ২৭-এই ১৭টি ওয়ার্ড নিয়ে হবে নারায়ণগঞ্জ-৫। এখন এই আসন গঠিত হবে নারায়ণগঞ্জ এবং বন্দর থানা নিয়ে। ইসি সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, এই খসড়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দাবি, আপত্তি, সুপারিশ দেওয়ার জন্য আগামী ১ এপ্রিল পর্যন্ত সময় আছে। এরপর দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি করে সীমানা চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হবে। শুরুতে ইসি বলেছিল, আগামী নির্বাচনের আগে তারা সীমানায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে চায়। এ জন্য নতুন আইন করার কথাও বলেছিল তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনের আগে আসনের সীমানা পুনর্র্নিধারণের বিপক্ষে ছিল। বিএনপি চেয়েছিল ২০০৮-এর আগের সীমানা ফিরিয়ে আনতে।

ব্রহ্মপূত্র নদ দূষনের কবলে…

 

বন্দর প্রতিনিধি

সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের পাপমোচন পুণ্য ¯œানার্থে এক অন্যন্য তীর্থ ভূমি নারায়ণগঞ্জ বন্দরের লাঙ্গলবন্দে শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে ধর্মীয় পবিত্র মহাতীর্থ অষ্টমী ¯œান উৎসব। শুল্কাতিথি অনুযায়ী আগামীকাল শনিবার সকাল ১০ টা ৩০ মিনিট ৫০ সেকেন্ডে লগ্ন শুরু হবে। দু ইদিনব্যপী এ ¯œান উৎসব শেষ হবে আগামী রোববার সকাল ৭ টা ৫২ মিনিট ৩০ সেকেন্ড। আগত পূর্ণার্থীদের নিরাপত্তা জোরদারে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন লাঙ্গলবন্দ ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তবে ব্রহ্মপূত্র নদের আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠা শিল্প কারখানা ও ডাইংয়ের কেমিক্যাল মিশ্রিত বজ্র  দুষন পানি নদীতে পড়ছে। এ পর্যন্ত প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করেনি বলে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিযোগ। ¯œান উৎসব উদ্বোধন করবেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান, বিশেষ অথিতি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন, নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁ) আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা ও সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য  হোসনে আরা বাবুলী। ইতিমধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিন্টু বেপারীর নেতৃত্বে ব্রহ্মপূত্র নদের কচুরিপানা পরিস্কার, লাঙ্গলবন্দ এলাকায় ১৩টি ঘাটলায় কাপড় পাল্টানো, বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবারহ, ¯œান ঘাটে বিদ্যুতিক বাতি ও পর্যপ্ত সৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্রহ্মপূত্রের জলে পাপমুক্ত করে ছিল পরশুরাম মুনি। হিন্দু ধর্মলবম্বী লোকজন মনে করেন, মহাভারতের বর্ণনা মতে পরশুরাম মুনি পাপমুক্তির জন্য ব্রহ্মপূত্র নদে যে স্থানের জলে ¯œান করে ছিলেন, তা লাঙ্গলবন্দ অবস্থিত।  সেই থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ^াস এ সময়ে বহ্মপূত্র নদে ¯œান খুবই পূণ্যের। এ ¯œানের ফলে ব্রহ্মার সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যমে পাপ মোচন হয়। এ বিশ^াস নিয়ে সুদীর্ঘকাল ধরে এ ¯œানে অংশ নেওয়ার জন্য উপ মহাদেশের এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য মানুষ আসেন লাঙ্গলবন্দে। পাপ স্থলনের এ উৎসবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ এসে এখানে সমাবেত হয়। পরশুরামের পাপ থেকে মুক্তি হওয়ার কথা স্মরণ করে শ’ শ’ বছর ধরে লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপূত্র নদে অষ্টমী ¯œান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। শ্রীশ্রী ললিত সাধুর আশ্রমের পূজার্থনা ঝর্ণা রানী জানান, টোটাল ফ্যাশন গার্মেন্ট এন্ড ডাইং কারখানার রং মিশ্রিত  কেমিক্যালের বজ্র পানি পাইপ দিয়ে নদে পড়ছে। এতে এ জলে ¯œান করা দূস্কর হয়ে পড়েছে। দূষিত জলে ¯œান করলে শরীর চুলকানিসহ নানা সমস্য সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারনে স্থানীয় হিন্দু পরিবারের লোক জন ব্রহ্মপূত্র নদে ¯œান করা বন্ধ করে দেয়। লাঙ্গলবন্দ ¯œান উদযাপন কমিটি নেতারা জানান, মালিবাগ এলাকায় অবস্থিত বাশার পেপার মিলের বজ্র এবং জামালউদ্দিন টেক্সটাইল ও ডাইং মিলের বজ্র খাল দিয়ে ব্রহ্মপূদে পড়ছে। নদের জল লাল, নীল, কালো রং ধারন করেছে। নদের জল থেকে  দর্গন্ধ  বের হচ্ছে। কল কারখানার বজ্রে পরিবেশ এখন চরম হুমকির মূখে পড়েছে। এ ব্যপারে জরুরীব ্যবস্থা নেওয়ার  দরকার। বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিন্টু বেপারী জানান, ¯œান নির্বিগ্ন করতে  জেলা প্রশাসক সব ব্যবস্থা সম্পন œকরেছে।  ¯œান ঘাটলা গুলোতে কাপড় পাল্টানোর পর্যপ্ত ব্যবস্থা, বিদ্যুতিক বাতি, বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ, পূণ্যার্থীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ১০ শয্যাবিশিষ্ট অস্থায়ী হাসপাতালসহ ৫টি মেডিকেল টিম সর্বাক্ষন থাকবে। এছাড়াও পূণ্যার্থীদের উন্নত সেবা প্রদানে ১০ টি এ্যাম্বোলেন্স সার্ভিসচালু থাকবে। নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মতিয়ার রহমান জানান, ¯œান এলাকার প্রবেশ পথে ১০ টি চেকপোষ্ট থাকবে। পয়েন্টে থাকবে সিসি ক্যামেরা, সেচ্ছাসেবক পাশাপাশি ১৫শ ফোর্স থাকবে।  কেউ বিশৃংখলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে কঠোর ভাবে দমন করা হবে।

 

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ছেন শেখ হাসিনা : জেলা আ’লীগের আলোচনা সভায় বক্তারা

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

বাংলাদেশ নি¤œ আয়ের দেশ হতে নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের অসামান্য যোগ্যতা অর্জন উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল হাই। আলোচনা সভায় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা বলেন, আমরা আশা করেছিলাম “জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বেই এদেশ সোনার বাংলা হবে”। কিন্তু জাতির পিতা আজ নাই! তিনি আজ শান্তিতে কবরে ঘুমিয়ে আছেন। আজ তার অবর্তমানে এদেশকে সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু’র সুযোগ্য কন্যা দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা। নেতৃবৃন্দরা বলেন, আজ শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বের কারনে এদেশ সোনার বাংলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আজ আমরা নি¤œ আয়ের দেশ হতে নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের অসামান্য যোগ্যতা অর্জন করতে সফল হয়েছি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারনেই এ অর্জন আমাদের সম্ভব হয়েছে, অন্য কারো নেতৃত্বে এটা সম্ভব হতো না। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো: বাদল, দপ্তর সম্পাদক এমএ রাসেল, কার্যকরি সদস্য সামসুল হক ভাষানী, এড. নূরুল হুদা, নূর হোসেন সওদাগর, সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. সামসুল ইসলাম ভূইয়া, মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী প্রফেসর শিরিন বেগম, আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল কাদির প্রমূখ।

 

 

 

 

ফতুল্লায় প্রাণীপ্রেমী দীপান্বিতা রিদির বিড়াল বাড়ি এক অনন্য দৃষ্টান্ত

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

দ্বিতল বাড়ির বসার ঘর, খাবার টেবিল, শোবার ঘর, ব্যালকনি প্রতিটি জায়গায় বিড়াল আর বিড়াল। তাদের কেউ খাচ্ছে, কেউবা ঘুমাচ্ছে, কেউবা আবার দোলনায় দোল খাচ্ছে- সব জায়গায়ই বিড়ালের অবাধ আনাগোনা; কেউ জানালার গ্রিলে বসে রোদ পোহাচ্ছে, কেউ ঘুম থেকে উঠে আড়মোড়া ভাঙছে টেবিলের কার্নিশে, মিয়াঁও মিয়াঁও রবে কান পাতা দায়। এখানকার আশ্রিত বিড়ালগুলোর কোনোটার পা কাটা, কোনোটার চোখ নেই, কারও মালিক তাকে রেখে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে, মানুষের নির্মমতার শিকার হয়েও এসেছে কোনোটা। এমন সব অসহায় বিড়ালের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে এই বাড়ি। আশ্রয়কেন্দ্রের নাম ‘এএলবি অ্যানিমেল শেল্টার’। তবে মানুষ এটিকে এক নামে চেনে ‘বিড়াল বাড়ি’ হিসেবে। ফতুল্লা থানাধিন মাহমুদপুর এলাকায় এই ‘বিড়াল বাড়ি’। দেড় বিঘা জমির উপর গড়ে ওঠা দ্বিতল বাড়ির পুরোটিই আঘাতপ্রাপ্ত ও হারিয়ে যাওয়া বিড়ালদের দিয়ে দিয়েছেন বাড়ির মালিক দীপান্বিতা রিদি। শুধু বিড়ালই নয়, এখানে রয়েছে গোটা দশেক কুকুরও। কুকুর-বিড়ালগুলো এখানে থাকছে পরম মমতায়। অসহায় প্রাণীর প্রতি অকৃত্রিম মমতা বিলিয়ে যাচ্ছেন দীপান্বিতা রিদি। প্রাণীপ্রেমী এই তরুণী বলেন, ‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোথাও কেউ আহত বিড়াল-কুকুর দেখলে আমাদের খবর দেয়। তখন আমরা তাদের এই শেল্টারে নিয়ে আসি।’ রিও, অরেঞ্জ, ডেক্সটার, বিল্লি, টুকি, টোটন, লিও, ছোট, মমো, ফ্রুটি, পমপমসহ বাড়িতে মোট বিড়ালের সংখ্যা অর্ধশতাধিক। তবে এদের মধ্যে স্থায়ী বাসিন্দা ৪০টি। এদের কারও চোখ নেই, কারও পা ভেঙে গেছে বা শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কেউ পালতে নেয়নি এমন বিড়ালদের ঘর-সংসার এই বাড়ি। দীপান্বিতা বলেন, ‘মানুষের নির্মমতার শিকার, হারিয়ে যাওয়া বা কোনোভাবে আহত হয়েছে ও চিকিৎসার প্রয়োজন এমন বিড়াল-কুকুর সন্ধান পেলেই আমরা তাদের রক্ষা করে এই আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসি। এই কাজে সহায়তার জন্য আমাদের শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী রয়েছে।’ রাজধানীর সান্তা মারিয়া ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি থেকে ফ্যাশন ডিজাইনে স্নাতকোত্তর করা দীপান্বিতা ভবিষ্যতে তার কাজের পরিধি আরও বাড়াতে চান। তবে অর্থের অভাবে এখন এই কাজ এগিয়ে নেওয়া কঠিন হচ্ছে জানিয়ে পশুপ্রেমীদের সহায়তা প্রত্যাশা করেন তিনি। প্রাণীপ্রেমী এই তরুণী বলেন, ‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোথাও কেউ আহত বিড়াল-কুকুর দেখলে আমাদের খবর দেয়। তখন আমরা তাদের এই শেল্টারে নিয়ে আসি।’ দীপান্বিতা জানান, অসুস্থ বিড়ালকে সুস্থ করে বা শিশু বিড়ালকে একটু বড় করে আগ্রহী পশুপ্রেমীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে তা করা হয় একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। আশ্রয়কেন্দ্রের নামে ওয়েবসাইটে (িি.িধষনংযবষঃবৎ.পড়স) গিয়ে আগ্রহীরা বিনা পয়সায় পছন্দের বিড়াল নিতে পারবেন। তবে কেউ যদি তার ব্যক্তিগত বিড়াল কিছুদিনের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে রাখতে চান, তাহলে তাঁকে দিতে হয় অল্প কিছু ফি। এ টাকাও তিনি খরচ করেন কুকুর–বিড়ালদের খাবার কেনায়। কী খাওয়ান তিনি এই কুকুর-বিড়ালদের? রিদি বলেন, ‘বিড়ালদের দুই বেলা ভাত-মাছ আর এক বেলা ক্যাট বিস্কুট খাওয়ানো হয়। আর কুকুরদের দেওয়া হয় মুরগি।’ দৈনিক ৪ কেজি চালের ভাত, ৪ কেজি মাছ, ২ কেজি বিস্কুট এবং ২ কেজি মুরগি লাগে তাদের আপ্যায়নে। দ্বীপান্বিতা বলেন, ‘প্রাণিগুলোকে তিন বেলা খাবার দেওয়া হয়। এছাড়াও ভ্যাক্সিনেশন, ডিওয়ার্মিংসহ চিকিৎসা দেওয়া, বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে মাসে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এর অধিকাংশই আমার বাবা  দিচ্ছেন। তবে তার পক্ষে খুব বেশি দিন এভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।’ কেউ যদি এই কাজ চালিয়ে নিতে সহযোগিতা করেন, তবে অর্থ ছাড়াও কুকুর-বেড়ালের খাবার-ওষুধ দিলেও কাজে লাগবে বলে জানান তিনি। ‘এনিম্যাল লাভার বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠন করেছেন দ্বীপান্বিতা।‘এএলবি এনিম্যাল শেল্টার’ নামে একটি ফেইসবুক পেইজে পোষা প্রাণিদের প্রতিপালনের যাবতীয় তথ্য এবং প্রাণিদের উপর নির্যাতন বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছেন তিনি। দীপান্বিতা রিদি জানান, ২০১৩ সালে নিবন্ধন করে বাড়িটি প্রাণিদের আশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তরিত করলেও তার এই কাজের শুরু স্কুল বয়স থেকে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুলে যাওয়ার পথে এলাকার ছেলেদের হাত থেকে একটি বিড়ালকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা থেকে বাঁচান তিনি। তিনি বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই ভাবতাম, মানুষের অত্যাচার থেকে এসব অসহায় প্রাণিদের কীভাবে রক্ষা করব? হেল্পলেস ছিলাম, ভাবতাম বড় হয়ে ওদের জন্য কিছু করব। এখন আমি ওদের রক্ষা করার জন্য সংস্থা চালাচ্ছি। অসুস্থ ও আঘাতপ্রাপ্ত প্রাণিদের কথা জানতে পারলে স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে ছুটে যাই, প্রাণিদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদ করি।” প্রাণিদের অধিকার সম্পর্কে মানুষকে আরও সচেতন করা প্রয়োজন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘প্রাণিদের উপর চালানো নির্যাতন করার সর্ব্বোচ্চ শাস্তি হল তিনশ টাকা জরিমানা বা তিন মাসের জেল, এই শাস্তি কীভাবে প্রাণীদের বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করবে?’

 

এমপি বাবু’র বিএনপি-জামাত প্রীতিতে ফুঁসে উঠছে তৃণমূল

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আড়াইহাজারে এমপি নজরুল ইসলাম বাবু’র জামায়াত-বিএনপি প্রীতিতে দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ফুঁসে উঠতে শুরু করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতা বাবু এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই মূলত বেপরোয়া হয়ে পড়েন। তাকে ঘিরে পুরো উপজেলায় এক ধরনের নিরব আতংক বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে অনেক নব্য আওয়ামীলীগ এলাকায় মানুষের জমিজমা দখলসহ নানা অপরাধে জড়িত রয়েছেন। এদের বিরুদ্ধে থানায় কোনো অভিযোগ দিলে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের লোকজনকে খুনের মামলার আসামিরা এমপি বাবু’র মিটিং মিছিলে সবর থাকছেন। এতে করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাবু’র সভা-সমাবেশে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকছেন। বাবু’র ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করতে না পারলেও নিরবে অনেকে প্রতিবাদ করছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এমপি বাবুর প্রতি অতিষ্ট হয়ে থানা আওয়ামী লীগের অনেক হেভিওয়েট নেতাই যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইকবাল পারভেজের সাথে গভীরভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। তবে এমপির রোষানলের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ হতে পারছে না। এমপি ও তার ব্যাক্তিগত একটি বাহিনী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গভীরভাবে নজড়ধারী করছেন। এতে করে দলটির নেতাকর্মীরা বাবুকে ঘৃণার চোখে দেখছেন। তার আশ্রয়-প্রশয়ে ছাত্রলীগ, তরুণসহ সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। এছাড়াও এমপি বাবু প্রতিটি ইউনিয়নে নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতন করতে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের দিয়ে একটি করে বাহীনি তৈরি করে রেখেছেন। এর জ্বলন্ত প্রমাণ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নে ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রুপ মিয়া ও তার পরিবারকে এমপি বাবু চেয়ারম্যান স্বপন ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফরিদকে দিয়ে নির্যাতন করছেন। গত কয়েক দিন আগে তাদের বাড়িতে গিয়ে মামলার প্রধান আসামি স্বপন চেয়ারম্যান ও সাঙ্গপাঙ্গরা মামলার বাদীকে মামলা তুলে না নিলে হত্যার হুমকী দেন। পরে ঘটনাস্থলেই রুপ মিয়া ও তার ছেলে খোকন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তারা বর্তমানে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। একই অবস্থা বিরাজ করছে উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের নয়নাবাদ এলাকায়। এখানে কলেজ ছাত্র নাজমুল হত্যা মামলার আসামিকে নিয়ে এমপি বাবুর মাখামাখিতে এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে চরমক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এমপি বাবুর প্রতিটি সভাসমাবেশে শিবির নেতা তোফাজ্জলের সবর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এমপি বাবুর সাথে তিনি এলাকায় দাপরে বেড়াচ্ছেন। তার ভয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কাতুবাতু হয়ে পড়ছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, আড়াইহাজার পৌরসভা এলাকায় সাবেক ছাত্রদলের নেতা হারুন। যাকে এমপি নিজেই বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তাকে বিএনপির বোমাভাজ বলে আখ্যায়িত করতেন। যে ছাত্রদলের নেতা হারুন বঙ্গবন্ধুর ছবিও ভাংচুর করেছেন। তাকে এমপি বুকে টেনে নিয়েছেন। এমপি বাবুর বিভিন্ন সভাসমাবেশে তাকে ঢেলে এমপি বাবুর সাথে কারোর দেখা করার সাধ্য নেই। তিনি (হারুন) বর্তমানে স্বঘোষিত এমপি বাবুর বডির্গাড হিসেবে রয়েছেন। বাবুর সাথে তার এতোটাই মাখামাখি যে, তার বাড়িতে গিয়ে প্রায় সময় এমপি বাবু বিশ্রাম নিয়ে থাকেন। এনিয়ে এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। থানা ছাত্রলীগের এক নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, হারুন এক সময় ছাত্রদলের রাজনীতিতে বেশ সক্রিয় ছিলেন। তিনি ক্ষমতার দাপটে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অনেক নির্যাতন করেছেন। অথচ সেই হারুন বর্তমানে এমপি বাবুর প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার। এলাকায় তিনি বেশ কিছু টেন্ডার পেয়েছেন। অথচ অনেক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এদিকে আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী এলাকায় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাশার কাসু। তিনি তিনি থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল হকের চার ভাইকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি। তিনি এমপি বাবুকে স্বর্ণের পিনকোর্ট পরিয়ে আওয়ামী লীগের যোগদান করেছেন। পরের দিন জাতীয় দৈনিকে ছবিসহ প্রকাশ হয়েছে। যা দেখে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিস্মিত হয়েছেন। এদিকে থানা আওয়ামী লীগের একনেতা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, নজরুল ইসলাম বাবু দ্বিতীয়বার এমপি হয়ে এলাকায় ব্যাপক বেপরোয়া হয়ে পড়েছেন। তাকে ঘিরে নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটাররাও আতংকিত। তার গতিবিধি খুবই ভয়ংকর। তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস কারোর নেই। তিনি আরও বলেন, এমপি বাবু নিজেকে অপ্রতিরোধ্য মনে করছেন। তবে নির্বাচনের আগে দলীয় মনোনয়ন তিনি বেকায়দায় পড়ে যাবেন। তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হবেন।

নারায়ণগঞ্জ একটি শান্তিময় শহর : মেয়র আইভী

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জ একটি সম্প্রীতির শহর। এখানেও আমরা সকলে মিলে বসবাস করছি। অনেকের ধারণা নারায়ণগঞ্জ একটা বিশৃঙ্খলাময় শহর। এখানে প্রতিদিনই কোন না কোন অঘটন দুর্ঘটনার কথাই শোনা যায় এটা যেমন সত্য তেমনি নারায়ণগঞ্জ একটি শান্তিময় শহর, ঐতিহ্যবাহী শহর, অসম্প্রদায়িক চেতনার শহর। এখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সকলে শুধু বসবাস করছি না আমাদের যে শেষ ঠিকানা, যেখানে আমাদের চিরস্থায়ী ভাবে থাকতে হবে সেটাও আমাদের এক সাথে অর্থাৎ আমাদের কবর, শশ্মান, মেনন সেখানেও আমরা সহাবস্থানে। একটা শহর যেমন শান্ত থাকতে পারে না তেমনি একটা শহর সব সময় অশান্ত থাকতে পারে না। এ অপশক্তিকে রোধ করতে হবে শান্তির বার্তা নিয়ে। ইসকন সেই কাজটিই করে যাচ্ছে। এবং খুব দ্রুত খুব জনপ্রিয় এবং সারা বিশ্বে ইসকনের নাম ছড়িয়ে পড়ছে। সেটা যেই ফরমেই হোক না কেন। ভালো কাজকে ভালো বলতে হবেই এবং তাদের যে কিছু শর্ত বা নীতিমালা একজন ইসকনের ভক্ত হতে হলে যে কাজ গুলো করতে হয় আমি মনে করি সেটা অপূর্ব এবং এটাই হওয়া উচিত। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকার আলাউদ্দিন খাঁন স্টেডিয়ামে গৌরমন্ডল পরিক্রমা (বাংলাদেশ সাফারি) উপলক্ষে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে ধর্মীয় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যেখানে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, কানাডা, ফ্রান্স, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, স্পেন, সাউথ আফ্রিকা, চীন, জাপান, রাশিয়া সহ অর্ধশাতাধিক দেশের ইসকন সদস্যরা উপস্থিত ছিল।  মেয়র আইভী আরো বলেন, ‘একজন মানুষকে মানুষ হিসেবে ভাবতে শিখাচ্ছে এ মহারাজগণ। যার ভিতরে ধর্মীয় চেতনাবোধ নাই সে যেই ধর্মেরই হোক না কেন মুসলমান, খ্রিস্টান বৌদ্ধ তাহলে সেতো মানুষই না। কারণ যে পৃথিবী সৃষ্টিকর্তা যে ¯্রষ্টা কাদের জন্য সৃষ্টি করলো। এ মানুষের জন্য সৃষ্টি করেছে। মানুষের সাথে হলো ঈশ্বরের প্রেম। সেই প্রেমের জন্যই পৃথিবী সৃষ্টি করেছে। ঘুরে ফিরে তিনি এক এবং অদ্বিতীয়। সকল ধর্মে একই কথা ঈশ্বর এক এবং অদ্বিতীয়। আল্লাহ, ঈশ্বর, ভগবান, ¯্রষ্টা সর্বক্ষেত্রে সর্ব জায়গায় বিরাজ করে সে তারা রূপে তার চিন্তা চেতনা নিয়ে সেটা যে ধরতে পারে সে ঈশ্বর ভক্ত, যে তাকে লালন করতে পারে সে ঈশ্বরের কাছাকাছি যেতে পারে সেই হতে পারে ঈশ্বর প্রেমিক, খোদা প্রেমী, আল্লাহ প্রেমিক, ভগবান প্রেমী। একবার যদি মানুষ এ খোদা প্রেমে বিশ্বাসী হয়, ঈশ্বর প্রেমে বিশ্বাসী হয়, আল্লাহ প্রেমে বিশ্বাসী হয়, কখনো সে অন্যের ক্ষতি করতে পারে না, সে অন্যায় কাজ করতে পারে না, সে ভালো জিনিসই দিবে, ভালো কাজ করবে। কিন্তু আমরা ইদানিং দেখি ধর্মের নামে অনেকেই আমরা অনেক কথা বলি যা কিছু বলে যাচ্ছি মঞ্চে মাইক পেলে। কিন্তু আমরা সেই কাজটা আবার তাৎক্ষনিক ভাবে আবার করি না।’ বিদেশেী ভক্তদের স্বাগত জানিয়ে মেয়র আরো বলেন, যার ভিতরে আল্লাহ ভক্তি, ঈশ্বর ভক্তি আছে সেই প্রকৃত মানুষ। সে কখনো মানুষের ক্ষতি করতে পারে না। সে কখনো মানুষ হত্যা করতে পারে না। সে কখনোই খারাপ করতে পারে না। নগরবাসীর উদ্দেশ্যে মেয়র আইভী বলেন, ‘আমাদের এ আনন্দ উপভোগ যেন সার্বক্ষনিক থাকে। কোন খারাপ খবরের জন্ম যেন না হয় আমরা সেই দিকে দৃষ্টি প্রাত করবো।’ হিন্দুদের দেশ ছাড়ার শঙ্কার প্রেক্ষিতে অভয় দিয়ে আইভী বলেন, ‘এ দেশ আমাদের সকলের। এ দেশ বঙ্গবন্ধু স্বাধীন করেছে অসম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে। যুদ্ধ করেছে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সকলে মিলে সাধারণ মানুষ নিয়ে। এ মাটি আমাদের। জন্ম হয়েছে এখানে আমরা কারো কথায় দেশ ছেড়ে চলে যাবো এটা হতে পারে না। এ চিন্তা চেতনা মন থেকে বাদ দিতে হবে। আপনি হিন্দু বলে নিজেকে দুর্বল ভাবলে চলবে না। মনে করবেন আপনি এ দেশের সন্তান এখানে আপনার মাটি যত কষ্ট হোক না কেন আমরা দেশ ত্যাগ কখনোই করবো না। ইন্ডিয়ান কোন মুসলমানকে যদি বলা হয় তুমি অন্য দেশে যাও তাহলে তারা গর্জে উঠে। তারা আই এম ইন্ডিয়ান বলতে গর্ববোধ করে। কেন আমরা বাঙালী বলতে গর্ব বোধ করবো না। কেন আমরা সামন্য একটু অত্যাচার হলেই কোন কিছু হলেই আমরা চিন্তা করবো দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে। এসমস্ত চিন্তা মাথা থেকে মুছে ফেলবেন। সন্তানকে সাহস দিবেন। এ দেশ আমার এ মাটি আমার। এ মাটিতে বসবাস করবো লড়াই করবো যুদ্ধ করবো এ মাটি ধরে রাখবো মাটি কারো কাছে দিবো না। এ মাটি আমার মা এ মাটিকে ভালোবেসে আমি মরতেও প্রস্তুত আছি। এ মাটি ত্যাগ করা যাবে না। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইসকন সাউথ আফ্রিকার সদস্য নরসিংহ স্বামী,  ভারত মায়াপুরের নিত্যানন্দ স্বামী, অমিয় বিলাস স্বামী, বাংলাদেশ ইসকনের সাবেক সভাপতি গধাদর গোস্বামী, খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোনালী সেন, হিন্দু কল্যাণ ট্রাষ্টের ট্রাষ্টি পরিতোষ কান্তি সাহা, এফবিসিসিআই এর পরিচালক প্রবীর কুমার সাহা, ৭১ টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি ফারজানা রূপা প্রমুখ। এর আগে দুপুরে গৌরমন্ডল পরিক্রমা (বাংলাদেশ সাফারি) উপলক্ষে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার রাধাগোবিন্দা মন্দির থেকে র‌্যালী বের হয়ে বঙ্গবন্ধু সড়ক হয়ে চাষাঢ়া ঘুরে পুনরায় মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালীতের দেশী বিদেশী ভক্তরা অংশগ্রহণ করে।