আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:১২
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

আলোচনায় আবার সেই গডমাদার !

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ জেলার পাচঁটি আসনের মধ্যে ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনটি গত ২২ বছর ধরে বেশ আলোচিত-সমালোচিত। এ আসনে ১৯৯৬ সালে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা একেএম শামীম ওসমান। ২০০১ সালে বিএনপির মনোনয়নে গিয়াসউদ্দিন এমপি হন। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে চিত্রনায়িকা সারাহ বেগম কবরী আওয়ামীলীগ থেকে নির্বাচিত হন। কবরী সাংসদ থাকার সময় শামীম ওসমানের সঙ্গে তার মনোমালিন্য দেখা দেয়। এ ঘটনা সারা দেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। কবরী সাংসদ থাকাকালে বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেন। সম্প্রতি কবরী সারোয়ার তার সাংসদকালীন সময়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে খোলামেলা কথা বলে আবার আলোচনায় আসতে চাইছেন। টিভির এই টকশোতে কবরী বলেন, ‘শামীম ওসমানের কাছে হারিনি, জিতে এসেছি। আমি হারি নাই। ওর কাছে কী হারবো। চুটকি বাজিয়ে কাজ করেছি ৫ বছর। আমাকে প্রধানমন্ত্রী নমিনেট করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে কবরীকে তুলে দিলাম। আপনারা ভোট দিয়ে তাকে জিতাবেন। নৌকা মার্কায় ভোট দিবেন। এটা ছিল আওয়ামীলীগের স্লোগান। আওয়ামীলীগ আমার দল। আমি গর্ব করি। আমি যখন কাজ করতে গেলাম। হু দ্যা হেল হিজ। ও কথা বলবে কেন। আমাকে প্রধানমন্ত্রী নমিনেট করেছে। আমি মুক্তিযোদ্ধা। আমি সিলেকশনে আসি নাই। আমি কিন্তু ইলেকশান করে এসেছি। রাজনীতি হচ্ছে একটি কৌশলের খেলা। শামীম ওসমান কৌশল করতে গেছিল। আমি জানি না। উনি কৌশলে ফেল করেছে। শামীম ওসমানকে ইঙ্গিত করে কবরী বলেন, আমার চেয়ে কী ভাল অবস্থানে আছে? আমি নিষ্ক্রিয় নই। আমি তো ওর চেয়ে অনেক বেশি জনপ্রিয়। সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, সামনে কোন নির্বাচন করবো কি না, তা প্রধানমন্ত্রী জানেন। ওনার রাজনীতি কিভাবে সাজাবেন। তা তিনি ভাল জানেন। রাজনীতি একটি সংসার। আমাদের প্রধানমন্ত্রী অনেক শক্তিশালী। বিশ্বের ১৭ কোটি বাঙালী মানুষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার অনেক মেধা। তিনি আগেই অনেক কিছু বুঝতে পারেন। সুতরাং ওনি যদি মনে করেন তাহলে নমিনেশন দিবেন। কবরী বলেন, শামীম-আইভীর যে দ্বন্দ্ব আমি এতে কাউকে সমর্থন দিতে চাই না, বিরুদ্ধে বলতেও চাই না। আমিতো ফেইস করেছি। যার সমস্য তাকেই ফেইস করতে হবে। কারণ আপনাকে যখন একটি জায়গায় নামিয়ে দেয়া হবে তখন তো আপনি বুঝবেন কী ভাবে ঠেলা সামলাতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমি ১৩ বছর বয়সে বাড়ী-ঘর ছেড়ে কাজে বেরিয়েছে। আমি সাধারণ মানুষের কাতারের থাকি। আর শামীম ওসমান সাকসেস ফুল কী ভাবে, আমিতো এমপি না তারপরও মানুষ আমাকে ভালবাসে। ওনার কথা কয়জনে শুনে জানি না, কিন্ত আমার কথা অনেকে শুনে। প্রসঙ্গত ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগের টিকেট পাওয়া চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী এমপি নির্বাচিত হন। কিন্তু নির্বাচনের পর থেকেই গার্মেন্টস ঝুট ব্যবসা, চোরাই জ্বালানী তেল, টেন্ডারবাজীর নিয়ন্ত্রণ ও এলাকার আধিপত্য নিয়ে বিতকের্র সম্মুখীন হন তিনি। আলীগঞ্জ এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখতে কবরীর পক্ষে মাসল ম্যান হিসেবে ছিলেন শ্রমিকলীগ নেতা কাওসার আহমেদ পলাশ। পরে তাদের সম্পর্কর চির ধরে। তখন থেকেই বদলে যেতে থাকে তার রুপ। বহিরাগত এই জনপ্রতিনিধি নিজের পিএস নিয়োগ দেন আরেক বহিরাগত শ্যামপুরের সিরাজুল ইসলাম সেন্টুকে। সুদর্শন এই যুবকের বিদ্যার দৌড় বেশী না থাকলেও তার প্রতি কবরীর অনুরাগ ছিল বেশ আলোচিত। তবে কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছেন এ জুটি। নেই কবরী নেই সেন্টুও। নির্বাচনের সময় ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা কবরীর পেছনে শ্রম ও অর্থ ব্যয় করলেও জয়ী হওয়ার পর দ্রুত ভুলে যান তাদের। কাছে টেনে নেন মুখচেনা কিছু লোককে। যাদের মধ্যে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অন্যদলের লোকজন রয়েছে। প্রথমদিকে যারা ছিলেন পরে তাদের অনেকেই তাকে ছেড়ে যান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশ, যুবলীগ নেতা মীর সোহেল আলী, আওয়ামীলীগের শফিকুল ইসলাম। মীর সোহেল একাধিকবার কবরী বলয়ে আসা যাওয়া করেছে। ক্ষমতা পেয়ে একের পর এক অপকর্ম করতে থাকে কবরী ও তার পিএস। ফতুল্লার চোরাই তেল, জুট সেক্টর, ভূমি এমনকি মাদক সেক্টরও নিয়ন্ত্রণ করে তারা। আলীগঞ্জে যমুনা ডিপোর একটি জমি নিয়ে পলাশ সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষ হয় কবরী প্রুপের। ওই ঘটনায় পিস্তল উঁচিয়ে ফতুল্লা থানায় প্রবেশ করে পিএস সেন্টু তৎকালীন ওসি জীবন কান্তি সরকারের নাম ধরে ডাকাডাকি করে। ওসি থানার বাইরে থাকায় তার চেয়ারে বসে সেন্টু। ওই সময়ে তার চারপাশে ঘিরে থাকে সন্ত্রাসীরা। এলাকার আধিপত্য নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সোহেল ওরফে শ্যূটার সোহেলকে হত্যা করার অভিযোগে কবরী পন্থী খেলাফত, মীর্জা পাভেল, ডাকাত আব্দুলসহ কয়েকজনের নামে মামলা হয়। ওই সময়ে কবরীর প্রভাবে এই মামলায় পিএস সেন্টুর নাম দেয়া যায়নি। সেই সময়ে কবরীর কাছের লোক ছিলেন থানা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল্লাহ, ফতুল্লার আউয়াল, স্বপন চেয়ারম্যান, শিশির, রনি, খেলাফত, পঞ্চবটির শফিক, লিপু, স্বপন সরদার, মীর্জা পাভেল, ভোলাইলের শামীম, মাসদাইর পাকাপুলের ডাকাত আব্দুলসহ আরো কিছু লোক। তাদের অনেকেই এখন কবরীকে ভুলে শামীম ওসমান বলয়ে এসেছে। সংসদ সদস্য থাকাকালীন ঝগড়া করেও আলোচিত হন কবরী। সেই কবরী আবার নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে সাংসদ হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব উদযাপন পরিষদের আলোচনা সভায় সেলিম ওসমান লাঙ্গলবন্দ নিয়ে টেন্ডারবাজি করবেন না

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ এ কে এম সেলিম ওসমান বলেছেন, আমরা জেলা প্রশাসকের টেবিলে বসছিলাম। সেখানে জেলা প্রশাসক সাহেব সভাপতিত্ব করেছেন। সেখানে পুলিশ সুপার, র‌্যাব, আনসারের চিফ, এলাকার রাজনীতিবিদ, আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি, এলাকার চেয়ারম্যান সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু উপজেলার চেয়ারম্যান সহযোগিতা করেন নি। উপজেলার চেয়ারম্যান আমার উপর বাগড়া আছেন। কেন বাগড়া আমি জানি না।গতকাল শনিবার লাঙ্গলবন্দ স্নান ঘাট সংলগ্ন জাতীয় মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব উদযাপন পরিষদের আয়োজনে ধর্মীয় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এই লাঙ্গলবন্দে ধর্মীয় কোন অরাজকতা, অপবিত্রতা আনতে দেবো না। এই ঘাট নিয়ে টেন্ডারবাজি করে ঘাট নষ্ট করবেন, তা হতে দেবো না। আমি সেলিম ওসমান খুব খারাপ মানুষ। বুঝ করে টেন্ডার নিবেন। পদে পদে আমি টেস্টে পাঠাবো। আমি চলে যাবো ঘাট থেকে যাবে, ঐ টেন্ডারবাজি করতে আসবেন না। আমি রড টেস্টে পাঠাবো, সিমেন্ট টেস্টে পাঠাবো। আমি করবো, আমি মরে গেলেও করবো। এসময় তিনি আরও বলেন, লাঙ্গলবন্দের উন্নয়ন করার জন্য ২৪০ কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এ পর্যন্ত। আমাদের জেলা প্রশাসক অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। এর আগের জেলা প্রশাসক সাহেবও অনেক সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু আমাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব আছে। নাহলে আজকে অত্যাধুনিক অবস্থানে থাকতো এই লাঙ্গলবন্দ তীর্থ স্থান। প্রধানমন্ত্রী আমাকে সুযোগ করে দিয়েছেন লাঙ্গল মার্কায় নির্বাচন করার জন্য। প্রধানমন্ত্রী বললেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন আমি লাঙ্গলের জন্য ছেড়ে দিলাম। প্রশ্ন করেছিলাম, কেন? তিনি বলেছিলেন, তুমি লাঙ্গলবন্দ চিনো? যে লাঙ্গলবন্দ ব্রহ্মপুত্র নদী হয়ে পূণ্যস্থান তৈরি হয়েছে। তাই তোমাকে সুযোগ করে দিয়েছি লাঙ্গল মার্কায় নির্বাচন করার জন্য। এর আগে আমার ভাইকে ৪ বার উনি সুযোগ করে দিয়েছিলেন। সেলিম ওসমান বলেন, ধর্মে যে রাজনীতি আনে সে পাপী ছাড়া অন্য কিছু না। সেটা যেকোন ধর্মই হোক না কেন। ধমের্র নাম দিয়ে মানুষ খুন করা হয়। ধমেরয় নাম নিয়ে চুরি, হত্যা করে যারা, তারা এদেশে কখনোই শান্তি আনতে পারবে না। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। জাতীয় মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব উদযাপন পরিষদের আহবায়ক সরোজ কুমার সাহার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ লিয়াকত হোসোন খোকা, বরিশাল-৪ আসনের সাংসদ শ্রী পঙ্কজ দেবনাথ, নারায়ণগঞ্জ মহিলা সংরক্ষিত আসনের সাংসদ হোসনে আরা বেগম বাবলী, জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া, পুলিশ সুপার মঈনুল হক, বিপিএম, পিপিএম, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত কুমার সেন, সাধারন সম্পাদক এড. তাপস কুমার পাল, জাতীয় মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব সুজিত সাহা সহ প্রমুখ। এর আগে সকাল থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের বৃহৎ মহাষ্টমী ¯œান উৎসব শুরু হলে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান ¯œানোৎসব এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।  এ সময় তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পূর্ণ্যার্থীদের সাথে কথা বলেন। তাদের কাছ থেকে সুবিধা অসুবিধার কথা জনাতে চান। উৎসবে আগত পূণ্যার্থীরা উৎসবের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সকাল ১০টায় ¯œান শুরু হওয়ার সাথে সাথে এমপি সেলিম ওসমান লাঙ্গলবন্দ ¯œান এলাকার, প্রেমতলা ¯œানঘাট, রাজঘাট, শ্মশানকালী মন্দির ঘাট, নাসিম ওসমান ঘাট সহ বেশ কয়েকটি ¯œান ঘাট ঘুরে দেখেন। সকাল শুরু হওয়ার মহাষ্টমী ¯œানে ইতোমধ্যেই লাখো পূণ্যার্থীর আগমন ঘটেছে। ¯œান চলাকালে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ¯œান এলাকা পরিদর্শন কালে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বন্দর উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা পিন্টু বেপারী, বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শাহীন মন্ডল।

 

আল্লাহ-রাসূল নিয়ে কটুক্তি করলে গলা থেকে গর্দান নামায়ে দেবো : শামীম ওসমান

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ এ কে এম শামীম ওসমান বলেছেন, আগে রাজনীতি করতাম নিজের জন্য, এখন করি আল্লাহর জন্য। আমরা ব্যভিচার, অনাচার কইরা দুনিয়াটা ধ্বংস করে দিচ্ছি। ইসলামের নামে কিছু লোক দুই নম্বরী ছড়িয়ে দিচ্ছে। আসেন আমরা ইসলামের পথে চলি। আল্লাহর রাসূলের দেখানো পথ চলি। শহরের জামতলায় কেন্দ্রীয় ঈদগাঁও মাঠে দারুল ইসলাহ মাদরাসার হাফেজ ছাত্রদের দস্তারবন্দী উপলক্ষে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আমি জানি আমারে মারার জন্য বহু মানুষ ঘোরে। ২০০১ এর ১৬ই জুন বোম ব্লাস্ট করছে। আশেপাশে কেউ নাই। আমি পাশেই দাঁড়ানো। দেওয়াল ছিদ্র হয়ে পাশের রুমের তিনজন মারা গেছে। কে আমারে বাচাইছে? আল্লাহ। দোয়া করবেন আমি যেন আল্লাহর পথে থাইকা মরতে পারি। শামীম ওসমান প্রথম আলো ও ডেইলী স্টার পত্রিকার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, প্রথম আলো আর ডেইলী স্টার কি লেখে তাতে আমার কিছু আসে যায় না। আমি পড়িও না। আপনারা সব ঈমানদার লোক। প্রতিবাদ করেন কি, করেন না আমি জানি না। কিন্তু আমি প্রতিবাদ করছি। সংসদে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করছি। বাংলাদেশে এতো বড় বড় আলেম আছে তারপরেও ওই পত্রিকা বাংলাদেশে চলে। যারা আল্লাহ-রাসূলকে নিয়া ব্যঙ্গ চিত্র আঁকে, কার্টুন আঁকে তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের এতো বড় বড় আলেম কিছু বলেন নাই। কেন বলেন না, জানি না। আমি শামীম ওসমান সবচেয়ে পাপিষ্ঠ মুসলমান হয়ে সংসদে দাঁড়িয়ে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলছি। আমি শামীম ওসমান তাদের পত্রিকা পয়সা দিয়ে কিনি না। আমি তাদের সাথে আপোষ করবো ন। রাজনীতি রাজনীতির জায়গায় আর আমার ধর্ম আমার জায়গায়। কোন ধর্মের উপর আঘাত করবো না, কাউকে আঘাত করতেও দেবো না। কিন্তু আমার ধর্ম মানো না, মাইনো না। তুমি আমার আল্লাহর রাসূলকে নিয়া যদি কোন কটুক্তি করো তাহলে আমি শামীম ওসমান এমপিগিরি ছাইড়া দিমু, গলা থেকে গর্দান নামায়ে দেবো। কোন ছাড় হবে না। বার্ষিক ওয়াজ ও মাহফিলের প্রধান বক্তা ছিলেন আল্লামা জুনায়েদ আল হাবিব, বিশেষ বক্তা হিসেবে ছিলেন ব্রাহ্মনবাড়িয়ার আল্লামা জোবায়ের আহমাদ আনসারী, ঢাকার আল্লামা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ূবী। সভাপতিত্ব করেন আলীরটেক মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব হাফেজ আব্দুস সাত্তার।

 

 

 

 

স্বাধীনতা দিবস পালনে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি প্রস্তুত

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

মহান স্বাধীনতা দিবসে র‌্যালি ও শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি। বিগত দিনে আন্দোলনে নেতাকর্মীদের জনসমাগম কম এবং পুলিশি বাধায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকলেও তা অচিরেই গুছিয়ে নিবেন বলে জানিয়েছেন জেলা ও মহানগর বিএনপির একাধিক নেতা। এদিকে  দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জেলে যাবার আগে এবং পরে নারায়ণগঞ্জে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পুলিশের বেশ কয়েকটি মামলার শিকার হন। অনেক নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান। বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি হয়েছে। তবে অনেকেই জামিনে বেরিয়ে আসলেও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদসহ এখনো কারাবন্দি আছেন কেউ কেউ। এছাড়া পুলিশও আগেও চেয়ে একধাপ বেশি মারমুখি অবস্থানে রয়েছে। ফলে খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার আগে বিএনপি নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে সভা-সমাবেশ করতে পারলেও এখন তা পারছে না পুলিশের বাধার কারণে। এমনকি প্রেসক্লাবের পিছনেও পুলিশ বাধা দিচ্ছে। এমন অবস্থায় মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক আর হতাশা নেমে এসেছে। তাই মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদেও চাঙ্গা করতে নারায়ণগঞ্জে আসছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিম। ইতমধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপি ৩৭টি টিম গঠন করেছে। এই টিমগুলো  ৭৮টি সাংগঠনিক জেলায় সাংগঠনিক সফর করবেন। নারায়ণগঞ্জেও আসবেন তারা। এজন্য জেলা জেলা চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল জানান, নারায়ণগঞ্জে কেন্দ্র থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে শুনেছি। তবে কারা কারা সেই টিমে থাকছেন তা এখনো আমার জানা নেই। আগামী ২৬শে মার্চ সকালে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির পক্ষ থেকে বিশাল র‌্যালির আয়োজন করার কথ্ াজানিয়েছেন এই নেতা। মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির ভেতরে যারা যারা আছেন তারাই কেবল সাংগঠনিক সফরের দায়িত্ব পেয়েছেন। তবে নারায়ণগঞ্জে পাঠানো চিঠি তিনি পড়েননি তাই বিস্তারিত জানেন না এই ব্যাপারে। আগামী ২৬ মার্চ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতি থেকে কোন আয়োজন করা হবে কিনা জানতে চাইলে বলেন এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার গোপালগঞ্জের দায়িত্ব পেয়েছেন আর নারায়ণগঞ্জে সফরে দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু। এর বাইরে কেউ দায়িত্ব পেয়েছেন কিনা সে ব্যাপারে আমার জানা নেই। আর জেলার আগামীর কর্মসুচি সম্পর্কে ২৬ মার্চ বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন সকলকে নিয়ে বিশাল র‌্যালি বের করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে রাজিব জানান।

 

মন্ত্রীর পনের দিন কয় মাসে ?

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

শীতলক্ষ্যা নদীর বিভিন্ন ঘাটে ফেরী সার্ভিস চালু করার কথা থাকলেও তা এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান হচ্ছে না। আর সেতুমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত ৪ মাস আগে ১৫ দিনের মধ্যে ফেরী সার্ভিস চালু করার কথা বললেও তা এখনো দেখা যায়নি। তাই বন্দরবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, ‘মন্ত্রীর ১৫ দিন কয় মাসে শেষ হবে।’ এদিকে ৫ নং খেয়া ঘাট এবং সেন্ট্রল ঘাটেও ফেরী সার্ভিস চালু হওয়ার কথা থাকলেও কোন ঘাটেই ফেরী ভাসতে দেখা যায়নি বলে ধোঁয়াশায় রয়েছে সাধারণ মানুষ। গত বছরের ২৩ নভেম্বর বন্দরে ৩টি স্কুলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেতুমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের আগমনে শীতলক্ষ্যা নদীতে নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে চতুর্থ শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মানের জন্য জোরালে দাবী তুলে বন্দরবাসী। জনগনের দাবীকে আমলে নিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে নবীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে ফেরী সার্ভিস চালু করার ঘোষণা দিয়ে ছিলেন। নবীগঞ্জ দিয়ে সেতু নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে ফেরী চলাচল অব্যাহত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এদিকে গত ১১ জানুয়ারী বিকেলে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের ক্যাফেটেরিয়ায় সড়ক ও জনপথ, বিআইডব্লিউটিএ, উপজেলা প্রশাসনের সাথে ফেরীঘাট নির্মাণ কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভা থেকে জানানো হয়, চলতি মাসের মধ্যেই হাজীগঞ্জ টু নবীগঞ্জ এবং ৫নং খোট টু সেন্ট্রালঘাটে পৃথক ভাবে দুটি ফেরী সার্ভিস চালু হতে যাচ্ছে।  স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘মন্ত্রীর ওই আশ্বাসের বেশ কিছুদিন পরে হাজীগঞ্জ ও নবীগঞ্জ খেয়াঘাটে ফেরীতে যানবাহন উঠা নামার এপ্রোচ রোড (র‌্যাম) নির্মাণের কাজ শুরু করে সড়ক ও জনপথ নারায়ণগঞ্জ বিভাগ। অপরদিকে ৫নং খেয়াঘাট এবং সেন্ট্রাল খেয়াঘাটের ময়মনসিংহ পট্টি দিয়ে ফেরী সার্ভিসটি শিঘ্রই চালু হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত সেই প্রতিক্ষিত ফেরী সার্ভিসটি দৃশ্যমান হচ্ছেনা। বন্দরবাসী আক্ষেপ করে বলছেন, ‘মন্ত্রীরা শুধু আশ্বাস দিয়ে চলে যায়। তাদের কথা আর কাজের কোন মিল নেই। গত নভেম্বরে মন্ত্রী বলেছিল ১৫ দিনের মধ্যে ফেরী চালু হবে। কিন্তু ৪ মাস অতিক্রম হলেও এখনো ফেরীর মুখ দেখতে পেলামনা। মন্ত্রীর এই ১৫ দিন যে কবে শেষ হবে তা সৃষ্টিকর্তাই ভাল জানে। আর ওই দিকে সেন্ট্রল ঘাটের এই দিকে আরেকটি ফেরী চালু হওয়ার কথা থাকলেও মন্ত্রীর কাজের ধারাবাহিকতায় এরাও গড়িমসি করে কাজে বিলম্ব করছে; যেকারণে এখনো ফেরীর মুখ দেখতে পারলামনা। তাই বন্দরবাসীর দুঃখ তিমিরেই রয়ে গেল। উল্লেখ্য, বন্দরবাসী শীতলক্ষ্যা নদী দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শীতলক্ষ্যা সেতুর দাবি করে আসছিল। কিন্তু ইতোমধ্যে শীতলক্ষ্যা সেতুর কাজ আরম্ভ হলেও তা ব্যবহারের যোগ্য হতে অনেকদিন সময় লাগবে। যেকারণে শীতলক্ষ্য সেতু চালুর আগে ফেরী সার্ভিস চালু করা হচ্ছে। শীতলক্ষ্যা সেতুর পরিবর্তে ফেরী সার্ভিস চালু করে আপাতত বন্দবাসীর দুর্ভোগ কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু সেই ফেরী সার্ভিসটি নিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বন্দরবসাী। তাই বন্দরবাসীর দুর্ভোগ এখনো তাদের কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।

 

সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের কোপে কান হারালেন রাসেল

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ফুতুল্লা থানাধীন দক্ষিন নরসিংপুর এলাকার আবুল  হোসেন ছেলে নাজমুল হাসান রাসেল (৩০) কে এলোপাথারীভাবে কুপিয়ে জখম করে তার বাম কান কেটে ফেলেছে চিহ্নিত ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী বাহিনী। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ফুতুল্লা থানায় বাদি হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছে রাসেলে পিতা আবুল হোসেন। গতকাল শনিবার সকালে ফুতুল্লা থানাধীন নরসিংপুরস্থ এলাকায় আবুল হোসেনের নিজ দখলকৃত জমিতে একদল চিহ্নিত ভুমিদস্যু অনাধিকার প্রবেশ করে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করার পায়তারায় লিপ্ত থাকে। পরে আবুল হোসেন লোক মারফত খবর পেয়ে ছেলে নাজমুল হাসান রাসেল সহ পরিবারের অন্যান্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে বাধা প্রদান করে এ সময় ভুমিদস্যু ও ২০ জন সন্ত্রাসী  ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্র- সস্ত্র সজ্জিত হইয়া এলোপাথারীভাবে সকলকে প্রহার করতে থাকে। সন্ত্রাসীদের মধ্যে ১.মনির হোসেন, পিতা ছাবেদ আলী ২. কবির হোসেন,পিতা নুরুল ইসলাম,৩.শামীম,পিতা মোহাম্মদ হোসেন,৪. খোরশেদ,পিতা কবির মিয়া এছাড়া অজ্ঞাত ২০/২৫ জন সন্ত্রাসী এই হামলা চালাই বলে আবুল মিয়া ফতুল্লা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে সন্ত্রাসীদের বেদম প্রহারে রাসেলকে ভিক্টরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করালে কর্তব্যরত ডাক্তার আশংকাজনক দেখে সাময়িক চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। রাসেলে পিতা আবুল হোসেন জানান সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন যাবত এলাকার সাধারণ মানুষের জমি দখল করে মাটি কেটে ইট ভাটায় বিক্রি করে আসিতেছে। তাদের বিরুদ্ধে কেহ প্রতিবাদ করতে চাইলে প্রাণনাশের হুমকি ধামকি দিয়ে থাকে ফলে এলাকাবাসী ভয়ে এই সকল চিহ্নিত সন্ত্রাসীগণদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না। সুত্রে  আরো জানা যায় সন্ত্রাসী গনদের ধারাল কাস্তে দ্বারা হত্যার উদ্দেশ্যে রাসেলের মাথায় কোপ দিলে তা বাম কানে লাগিয়া কানটি ঝুলিয়া পরে। এছাড়াও সন্ত্রাসীগণদের মধ্যে কবির হোসেন রাসেলের জে৭ মডেলের একটি মোবাইল ফোন যাহার মুল্য ২৭ হাজার টাকা তা ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং সন্ত্রাসী শামীম রাসেলের পকেট থেকে ৫ হাজার টাকা ও আবুল হোসেনের পকেট হতে ৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তিতে চিৎকার শুনে স্থানীয় জনতা ঘটনাস্থলে আসলে সন্ত্রাসীগণ পালিয়ে যায়। এলাকার লোকজনদের সহায়তায় রাসেলকে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ব্যাপারে ফুতুল্লা থানায় রাসেলে পিতা  আবুল হোসেন বাদি হয়ে ৪ জনকে আসামী ও ২০/২৫ জন অজ্ঞাত করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এই রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত থানায় মামলার পক্রিয়াধীন চলছে বলে জানাগেছে।

অনেকে আইভীর সমর্থনে মনোনয়ন প্রত্যাশী

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মেরুকরণে অনেকেই এখন দেওভাগমূখী। রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাকে তার নিজের দল ও বিরোধীদলের সঙ্গে একযোগে লড়াই করতে হচ্ছে। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের মধ্যেও এই নারী রাজনীতি থেকে পিছু হটেননি যা নারীর ক্ষমতায়নে একটি প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েচেন। দেশজুড়ে আলোচিত এ নেত্রী টানা তিনবার মেয়র পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর কেন্দ্রে গ্রহনযোগ্যতা যেমন বেড়েছে তেমনি পুরো জেলায় জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। আর তাই আগামী সংসদ নির্বাচনে মেয়র আইভীর গ্রহনযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে দলীয় মনোনয়ন ও নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাইছেন অনেকেই। বর্তমান এমপিসহ জেলার ৫টি আসনের প্রায় ১ ডজন প্রার্থী মেয়র আইভীর ইমেজকে কাজে লাগাতে তৎপর রয়েছেন। জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি আসনেই ক্ষমতাশীন দল আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এরমধ্যে সবচে বেশী নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে। এ আসনের বর্তমান এমপি সেলিম ওসমানও আইভীকে সাথে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন শুরু থেকে। সাবেক এমপি ও নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরাম আইভীর সমর্থন নিয়ে আবারও ৫ আসনের এমপি হতে তৎপর হয়েছেন। এছাড়া ৫ আসনে নির্বাচনে ইচ্ছুক আওয়ামীলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এড. আনিসুর রহমান দীপু, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও মেয়র আইভীর বোন জামাতা আবদুল কাদির, আরেক সহ সভাপতি আরজু ভুইয়া, মেয়র আইভীর ছোটভাই শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা উজ্জল, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান এবং মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত মেয়র আইভীর সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চান বলে সূত্র জানায়। ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে বর্তমান এমপি শামীম ওসমানের বিপরীতে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন শ্রমিকনেতা কাউছার আহমেদ পলাশ ও সদ্য কেন্দ্রীয় উপ কমিটিতে পদ পাওয়া পল্টিবাজ কামাল মৃধা ও সাবেক সাংসদ কবরী। এরা মেয়র আইভীর সমর্থনেই মনোনয়ন এবং নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার প্রত্যাশা করেন। সোনারগাঁ আসনে আইভী সমর্থিত সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সার। ইতিমধ্যে তিনি মেয়র আইভীকে নিয়ে এলাকায় সমাবেশ করে নৌকার পক্ষে ব্যাপক জনমত গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে সোনারগাঁয়ে আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী থাকলেও জাতীয় পার্টিকে মনোনয়ন না দেওয়ার প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ। আড়াইহাজার আসনে বর্তমান এমপি নজরুল ইসলাব বাবুর বিপরীতে মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন দুজন। এরা হলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মমতাজ হোসেন এবং যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ইকবাল পারভেজ। দুজনেই মেয়র আইভীর সমর্থন পেতে চান। নিয়মিত যোগাযোগও রক্ষা করে চলেছেন। রুপগঞ্জ আসনের বর্তমান এমপি গাজী গোলাম দস্তগীর এলাকায় তীব্র প্রতিদ্ধন্ধিতার সম্মুখিন। তিনিও মেয়র আইভীর সঙ্গে ঘনিষ্ট হওয়ার চেষ্টা করছেন দলীয় মনোনয়ন এবং নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার লক্ষ্যে। তবে মেয়র আইভী কাউকে প্রকাশ্যে সমর্থন দেননি এখনো। তিনি নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকা’র প্রার্থী দেয়ার লক্ষ্যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দলের একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

 

 

লাঙ্গলবন্দের ¯œান উৎসবের আলোচনা সভায় সেলিম ওসমান খোকন সাহা লাঙ্গলবন্দ নিয়ে রাজনীতি করবেন না

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকা প্রতীকে খোকন সাহার মনোনয়ন নিয়ে মুখ খুললেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বর্তমান এমপি এ কে এম সেলিম ওসমান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্য আমি দেই না। আমার অত্যন্ত স্নেহের ছোট ভাই অনেক লম্বা রাজনৈতিক বক্তব্য দেন। আজকের পত্রিকাও দেখলাম খোকন সাহা নির্বাচন করছেন আমার সাথে। যাই হোক, নির্বাচন আসুক না। আমি আগেই বলেছি, ৩০ জুন পর্যন্ত কাজ করে যাবো। মানুষের মনে শান্তি আনবো। আমি একটা একটা করে কাজ করবো। আমি যে কাজ পারি না সে কথা কখনো বলি না। গতকাল শনিবার রাতে লাঙ্গলবন্দ স্নান ঘাট সংলগ্ন জাতীয় মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব উদযাপন পরিষদের আয়োজনে ধর্মীয় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। কিছুক্ষন পর খোকন সাহা অতিথির চেয়ার ছেড়ে উঠে চলে গেলে সেলিম ওসমান জিজ্ঞেস করেন, ‘কই, খোকন সাহেব কই?’ তিনি আরও বলেন, আমি কোন দল করি না। একেবারে স্পষ্ট করে বলে দিলাম। আমার ভাই মারা যাবার পরে আমার মায়ের নির্দেশে আপনাদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। কেউ বলতে পারবেন না, নির্বাচন হয় নাই আমার ভাইয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্য আমি রাজনীতিতে এসেছি। লাঙ্গলবন্দের উন্নয়ন সম্পর্কে খোকন সাহাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, খোকন সাহা লাঙ্গল করুক, নৌকা করুক যাই করুক না কেন, অন্তত লাঙ্গবন্দের উন্নতির সময় উনি কোন রাজনীতি করবেন না। মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব উদযাপন পরিষদের আহবায়ক সরোজ কুমার সাহার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ লিয়াকত হোসোন খোকা, বরিশাল-৪ আসনের সাংসদ শ্রী পঙ্কজ দেবনাথ, নারায়ণগঞ্জ মহিলা সংরক্ষিত আসনের সাংসদ হোসনে আরা বেগম বাবলী, জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া, পুলিশ সুপার মঈনুল হক, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত কুমার সেন, সাধারন সম্পাদক এড. তাপস কুমার পাল, জাতীয় মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব সুজিত সাহা সহ প্রমুখ। এ সম্পর্কে মুঠোফোনে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জানান, উনি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি, উনি এটা বলতেই পারেন। নেত্রী আমাকে মনোনায়ন দিলে আমি নৌকা মার্কায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনেই নির্বাচন করবো।

শামীম ওসমানের প্রতি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

‘আমি হারাম খাইনা, হারাম খাইতেও দিমু না। আল্লাহ অখুশি হন, এমন কাজ আমি করবো না।’ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান যিনি প্রভাবশালীদের একজন তাঁর কণ্ঠে এমন বক্তব্য আসার পর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তাঁর এলাকাতে শ্রমিকদের রক্তচুষে মাসে যে কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজী হচ্ছে সে ব্যাপারে তিনি কেন নীরব। ফতুল্লার অনেক শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের ঘামে ঝরানো টাকা দেদারছে লুটে নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপের প্রায় ১৫ কোটি টাকার পাথর লুটের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল। ফতুল্লার আলীগঞ্জে পাথর ঘাটে ওই পাথর লুটের চেষ্টা হয়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে স্থানীয় এমপি শামীম ওসমানও বিষয়টি জানতে পেরে সমাধান করেন। স্থানীয়রা জানান, ওই ঘটনায় ২ ট্রাক পাথর লুট করে অন্যত্র রেখে দেওয়া হয়েছিল। পরে সেটাও ফেরত দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের ইমেজ মারাত্মক প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সম্প্রতি হরিহরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এনায়েতনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শামীম ওসমানের সামনে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগি সংগঠনের অনেক নেতা প্রশ্ন তলে আক্ষেপ করে বলেন, ‘একজন শ্রমিক নেতা কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজী করায় আমাদের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।’ জবাবে শামীম ওসমান ওই শ্রমিক লীগ নেতার বিপক্ষে কোন পদক্ষেপ না নেওয়ার মনোভাব দেখায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। জানা গেছে, সদর উপজেলার ফতুল্লায় একটি মাঠে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সেখানে কোরবানীর অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর অনুমোদন দিয়েছিল প্রশাসন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবছর এ স্থানে হাট বসানো নিয়ে লাখ লাখ টাকার লেনদেন ঘটে। গত বছর এ হাট নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের উত্তেজনার পর শেষে মোটা অংকের টাকার দেনদরবারে সমঝোতা হয়েছিল। জানা গেছে, ফতুল্লার আলীগঞ্জের ১১ দশমিক ৬৫ একর জমিতে সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য ৮টি ১৫ তলা ভবনে মোট ৬৭২টি ফ্ল্যাট নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং নির্মাণ কাজ চলছে। তবে ১১ দশমিক ৬৫ একর জমির মধ্যে ৫ একর ৭০ শতাংশ জমিতে ঐতিহ্যবাহী আলীগঞ্জ খেলার মাঠটি অবস্থিত। সরকারের সেই সিদ্ধান্তের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে গেল বছরের ৭ এপ্রিল আলীগঞ্জ ক্লাব ও আলীগঞ্জ হাইস্কুল কমিটির সভাপতি কাউসার আহাম্মেদ পলাশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করেন। ১০ এপ্রিল সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ শুনানী শেষে ফতুল্লার আলীগঞ্জ খেলার মাঠে সরকারী কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণে একনেকের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবেনা সে মর্মে মন্ত্রী পরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্যসচিব, অর্থসচিব, পরিকল্পনা সচিব, পূর্ত সচিব, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক, গণপূর্ত নারায়ণগঞ্জ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ৮ কর্মকর্তার উপর রুল নিশি জারি করেন। সর্বশেষ চলতি বছরের ৬ জুন হাইকোর্টের বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মোঃ সাইফুর রহমান এর দ্বৈত বেঞ্চ ‘আলীগঞ্জ খেলার মাঠ’ এর কোনরূপ আকৃতি, প্রকৃতি যাতে পরিবর্তন করা না হয় এই মর্মে নিষেধাজ্ঞাটি জারি করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার আলীগঞ্জ থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে আছে অসংখ্য কল কারখানা। এ সড়কের পাশেই বুড়িগঙ্গা নদী। ওই নদী থেকে হয় মালামাল লোড আনলোড। এ সড়কের পাশে আছে অসংখ্য স্টিল মিল কারখানা। আছে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরী। এখানে আছে ট্রাকের একটি স্ট্যান্ডও। এ কয়েক কিলোমিটার এলাকা থেকে প্রতি সপ্তাহে উঠছে অন্তত ২ কোটি টাকা। একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে এ টাকা। আর সেটার ভাগ যাচ্ছে প্রভাবশালী অনেকের কাছে। সম্প্রতি একটি সংস্থা এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিতে শুরু করে। তাদের কাছেই এসেছে চাঁদাবাজীর ভয়ংকর চিত্র। তবে এখানে এ চাঁদাবাজী হচ্ছে মূলত একজন শ্রমিক লীগ নেতার পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ ইন্ধনে। আর ওই শ্রমিক লীগ নেতার ৬জনের একটি দল আছে যারা চাঁদাবাজীর এসব সেক্টর নিয়ন্ত্রন করে আসছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ সড়কের দুই পাশে লোড আনলোড সেক্টর নিয়ন্ত্রন করে জেলার বাইরের একজন মূর্খ লোক। তিনি থাকেন নারায়ণগঞ্জ শহরের জামতলা এলাকাতে। আলিশান ফ্ল্যাটেই শুধু থাকেন না চড়েন কোটি টাকা মূল্যের পাজারো গাড়িতেও। ওই নেতার নিয়ন্ত্রনে মূলত লোড আনলোড। বুড়িগঙ্গা নদী থেকে মালামাল লোড আনলোডে প্রতিটি বস্তা কিংবা পন্য হতে সমিতি ও ইউনিয়নের নামে আদায় করা হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। একাধিক শ্রমিক বলেন, ‘আমরা দিনমজুর হিসেবে কাজ করি। এখানে একজন নেতার কল্যাণে কাজ করে থাকি। তবে আমাদের শর্ত থাকে বিভিন্ন শ্রমিক দিবসে মিছিল করতে হবে। সেদিন আমাদের রোজগার হয় না। এখানে সিন্ডিকেট ছাড়া কাজ করা যায় না। পেটের দায়েই কাজ করে যাচ্ছি। তবে যা আয় করি তার অর্ধে দিতে হয় চাঁদা হিসেবে।’ ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা যিনি নিয়ন্ত্রন করেন তিনিই আবার গার্মেন্ট সেক্টরের একটি অংশও দেখভাল করেন। এজন্য আলাদা কমিটিও আছে। অটো রিকশা হতে প্রতিদিন শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে এক থেকে দেড় শ টাকা। বলা হচ্ছে এ টাকার একটি অংশ দেওয়া হয় প্রশাসনকেও। সে কারণেই নাকি প্রশাসন ঝামেলা করে না। আর যখন প্রশাসন এ ব্যাপারে অভিযান চালায় তখন ম্যানেজের কথা বলে এ চাঁদার হার বাড়িয়ে দেওয়া হয় কয়েক গুণ। বেশ কয়েকটি গার্মেন্ট ছিল এ সড়কের পাশে। অব্যাহত চাঁদাবাজীর কারণে অনেক গার্মেন্ট এখান থেকে গুটিয়ে চলে গেছে। পঞ্চবটিতে রপ্তানিমুখী গার্মেন্ট কারখানা পাইওনিয়ার ও পোস্ট অফিস রোডের বিপরীতে হামিদ ফ্যাশন বন্ধ হয়ে গেছে ওই শ্রমিক নেতার কারণে। এসব কারখানায় কিছুদিন পর পর যে ঝামেলার সৃষ্টি হতো তার নেপথ্যে ছিল একজন শ্রমিক নেতা। স্থানীয়রা জানান, জেলা পরিষদের অনেক জায়গা বেদখল আছে শ্রমিক নেতার নামে। গার্মেন্ট কারখানা, বিভিন্ন কারখানা, লোড আনলোড, পাথরের গদি, অটো রিকশা থেকে প্রতি মাসে ২ কোটি টাকারও বেশী চাঁদাবাজী হচ্ছে। গত নির্বাচনে সমঝোতায় পঞ্চবটি থেকে আলীগঞ্জ পর্যন্ত শ্রমিক নেতার কব্জায় থাকলেও আগামী নির্বাচনের আগে চাহিদা বেড়েছে। এখন চাহিদা আলীগঞ্জ থেকে পঞ্চবটি, আর পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত এরিয়া।

আজ ‘ব্ল্যাকআউট’ থাকবে নারায়ণগঞ্জ

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

একাত্তর সালের ২৫ মার্চ কালরাত স্মরণে আজ এক মিনিট ‘ব্ল্যাকআউট’ থাকবে নারায়ণগঞ্জ। সরকারী সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজ রবিবার সারাদেশের ন্যায় এক মিনিটের জন্য এই ‘ব্ল্যাকআউট’ (অন্ধকার) কর্মসূচি পালন করবে নারায়ণগঞ্জবাসী। আর এই কর্মসূচি পালনে জণগনকে উদ্ভুদ্ধ করতে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে প্রচারনা চালিয়েছে জেলা প্রশাসন।  কারন, এক মিনিটের জন্য কেন্দ্রীয় ভাবে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকবেনা, বরং নিজ উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। তাই ৭১’র ভয়াল ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে নিহত শহীদদের স্মরণে ‘ব্ল্যাকআউট’ কর্মসূচি পালনে সাধারন জণগনকে আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন স্থানে প্রচারনা চালানো হয়েছে বলে জানান, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ডেপুটি নেজারত কালেক্টর (্এনডিসি) জ্যোতি চন্দ্র বিকাশ। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার স্মরণে ২৫ মার্চ সরকারী সিদ্ধান্ত মোতাবেক নারায়ণগঞ্জ জেলায়ও ‘ব্ল্যাকআউট’ কর্মসূচি পালন করা হবে। এদিন শহীদদের স্মরণে সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জেও রাত ৯টা থেকে ৯ টা ১ মিনিট পর্যন্ত এক মিনিট সব ধরনের বাতি বন্ধ রাখা হবে।’ আর নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জবাসীকে স্বত:স্ফূর্ত ভাবে এই কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন এনডিসি। এরআগে, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গত ১১ মার্চ সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এক সমন্বয় সভা শেষে সরকারের ‘ব্ল্যাকআউট’ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। মন্ত্রী বলেন, ‘২৫ মার্চ বাঙালি জাতির জীবনের এক বেদনাময় দিন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালি জাতির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের সেই অভিযানে কালরাতের প্রথম প্রহরে ঢাকায় নির্বিচারে গণহত্যা চালানো হয়। এ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই ‘ব্ল্যাকআউট’ কর্মসূচি পালন করা হবে।’ তবে তিনি এও জানিয়েছিলেন, ‘কেন্দ্রীয়ভাবে বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ না করে সকলকে নিজ নিজ উদ্যোগে বাতি নিভিয়ে এক মিনিট এই প্রতীকি কর্মসূচিতে যোগ দিতে হবে। তবে হাসপাতালসহ জরুরী সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো এ কর্মসূচির বাইরে থাকবে।’