আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:১০
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

হাজী পান্দে আলী স্কুলে ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনীতে শামীম ওসমান : মা-বাবা হচ্ছে সবচেয়ে বড় নেয়ামত

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের এমপি শামীম ওসমান বলেছেন, ‘শুধু ভাত খাওয়ার জন্য লেখাপড়া করলে চলবে না। ভালভাবে লেখাপড়া করে দেশ গড়ায় শরিক হতে হবে। তাই তোমরা শুধু দিনে অন্তত ৩ ঘন্টা নিজের জন্য লেখাপড়া করবা। আর এই ৩ ঘন্টায় ‘নো কম্পিউটার, নো ইন্টারনেট, নো ফ্রেন্ড’।’ গতকাল রবিবার সকালে জালকুড়িস্থ হাজী পান্দে আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি এই আহ্বান জানান। শামীম ওসমান আরো বলেন, ‘এই দেশ স্বাধীন করতে ৩০ লক্ষ লোক শহীদ হয়েছে ও ২ লক্ষ মা-বোন তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছে। এই দেশের প্রতি তোমাদের দায়িত্ব রয়েছে। কেননা এই দেশ তোমাদের মায়ের মতো।’ তিনি শিক্ষার্থীদের উপদেশ দিয়ে বলেন, ‘তোমরা যে যাই করো না কেন, সর্বদা মা-বাবার সেবা করবে। কেননা সন্তানের জন্য মা-বাবা হচ্ছে সবচেয়ে বড় নেয়ামত।’  শামীম ওসমান বক্তব্যের শুরুতে প্রথমে স্কুলর শিক্ষার্থীদের কাছে তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও স্কুলের সমস্যার বিষয়ে শুনতে চান। তখন শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ র‌্যাব, পুলিশ, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতে চান। পাশাপাশি তারা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে তাদের খেলতে দেয়া হয় না। বিজ্ঞানাগার না থাকাসহ লিংক রোডের উপর ফুটওভার ব্রীজের দাবী জানান। অত্র বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সিফাত লিংক রোডের রাস্তা পার হতে গিয়ে সম্প্রতি দুর্ঘটনার শিকার হন। এই ঘটনাটি একজন শিক্ষার্থী সাংসদের কাছে জানালে সাংসদ তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি দেখার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘খোঁজ নিন, শিশুটির কি অবস্থা। তার চিকিৎসার খোঁজ নিন, সরকারীভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা যদি না হয় তবে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা আমি করবো। যা সহযোগীতার প্রয়োজন আমাকে জানান, আমি সব ব্যবস্থা করে দিবো।’ অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো: আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান  ও অত্র বিদ্যালয়েরর দাতা সদস্য নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ।  এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির, কুতুবপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু, জেলা পরিষদের সদস্য মোস্তফা হোসেন চৌধুরী, নাসিক মহিলা কাউন্সিলর শারমিন হাবিব বিন্নী, কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মানিক চান, অত্র কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রশান্ত কুমার দাস, হাজী পান্দে আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিশির কুমার বালা প্রমুখ। পরে তিনি হাজী মিছির আলী ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি পরীক্ষাদের প্রবেশপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং সেখানে ৪ নং একাডেমী ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। একই সাথে এখানেও সাংসদ শামীম ওসমান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কলেজের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনেন এবং খুব শীঘ্রই এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।

সাংসদ ভ্রাতৃদ্বয়ের আসন নিয়ে যত আলোচনা

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন নির্বাচনী সংসদীয় পাঁচটি আসন থাকলেও নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই আলোচিত হয়ে উঠছে প্রভাবশালী সাংসদ ভ্রাতৃদ্বয়ের নির্বাচনী দু’টি আসন। যার মধ্যে একটি হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) ও অপরটি নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ)। মূলত, এই দু’টি নির্বাচনী আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ, বিরোধী দল বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য অনধিক প্রার্থী ইতিমধ্যেই দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশায় মাঠে নেমে পড়লেও সাম্প্রতিক সময়ে চার সম্ভাব্য প্রার্থীর প্রস্তুতির ঘোষণায় হঠাৎ আলোচিত হয়ে উঠেছে ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়ের নির্বাচনী দু’টি আসন। দলীয় সূত্রে জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের বর্তমান এমপি হচ্ছেন জাতীয় পার্টির সেলিম ওসমান। আগামী একাদশ নির্বাচনেও যিনি দলের চেয়ারম্যানের ঘোষণায় পুনরায় প্রার্থী হতে যাচ্ছেন। কিন্তু ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের ছাড় দেয়া এই আসনটিতে এতদিন ‘নৌকা’ প্রত্যাশায় প্রায় ডজন খানেক সম্ভাব্য প্রার্থী নিজেদের প্রচারনায় মাঠে নেমে পড়লেও সম্প্রতি উক্ত আসনে ‘নৌকা’ প্রত্যাশী হিসেবে সাবেক এমপি এস এম আকরাম ও মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা নিজেদের প্রার্থীতার প্রস্তুতির ঘোষণা দেয়ায় বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছে এই আসনটি বলে দাবী করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারন হিসেবে তারা বলেন, আসন্ন একাদশ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে নৌকার মনোনয়নে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা অংশ গ্রহণের লক্ষ্যে এতদিন তেমন প্রকাশ্যে না আসলেও হঠাৎ গত ২৩ মার্চ নগরীর টানবাজারে দলীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। আর এই সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর খোদ বর্তমান জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমানের মুখেই আলোচিত হয়ে উঠেন খোকন সাহা। গত ২৪ মার্চ বন্দরস্থ লাঙ্গলবন্দ স্নান ঘাট সংলগ্ন জাতীয় মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব উদযাপন পরিষদের আয়োজনে ধর্মীয় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকা প্রতীকে খোকন সাহার মনোনয়ন চাওয়া নিয়ে মন্তব্য করেন সেলিম ওসমান। তিনি বলেন, আমি রাজনৈতিক বক্তব্য দেই না। আমার অত্যন্ত স্নেহের ছোট ভাই অনেক লম্বা রাজনৈতিক বক্তব্য দেন। পত্রিকাতে দেখলাম খোকন সাহা আমার সাথে নির্বাচন করছেন। তখন এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত এড. খোকন সাহা মঞ্চ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর বক্তব্যের এক পর্যায়ে সেলিম ওসমান অন্যদের জিজ্ঞেস করেন ‘কই, খোকন সাহা কই?’ আরেকজন, আওয়ামীলীগ থেকে পদত্যাগ করে এখন একাদশ নির্বাচনকে ঘিরে পুনরায় নৌকা প্রতীকে সাবেক এমপি এস এম আকরাম নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করায় আলোচনায় উঠে এসেছে সদর-বন্দর আসন। কারন, বিগত ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ট নারায়ণগঞ্জ-৫ (বন্দর-সদর) আসনের এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর পুনরায় ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন সাবেক এমপি এস এম আকরাম। এরপর ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর পরিবর্তে শামীম ওসমানকে দল সমর্থণ জানানোর ক্ষোভে জেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করে মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্যে যোগ দেন আকরাম। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামীলীগের সরকারের বিরোধীতার পাশাপাশি ২০১৪ সালের নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে নাগরিক ঐক্যের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমানের কাছে পরাজিত হন। কিন্তু এখন আসন্ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে পুনরায় নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এস এম আকরাম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ কয়েকটি অনুষ্ঠানে তিনি নির্বাচনী মনোভাব ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘নেত্রী’র নির্দেশের অপেক্ষায় আছি। আগামী নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে মাঠে আসবো। হাইব্রীড কিংবা লুটেরা নিয়ে নয়, জননেত্রী শেখ হাসিনার ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের নিয় মাঠে আসবো। অবমূল্যায়ন হওয়া নেতা কর্মীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারো দল কে শক্তিশালী করবো।’ অপরদিকে, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে মনোনয়ন দৌঁড়ে এগিয়ে থাকা আওয়ামীলীগের বর্তমান এমপি শামীম ওসমানের পাশাপাশি আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় শ্রমিকলীগ শ্রম কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ¦ কাউসার আহম্মেদ পলাশ এতদিন আলোচনায় থাকলেও সদ্য একই আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নির্বাচনে নামার ষোষণা দিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য সুবিধাবাদী কামাল মৃধা এবং আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি চিত্রনায়িকা সারাহ্ বেগম কবরী প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে হয়ে উঠেছেন আলোচিত। মূলত, একই দলের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের পাশাপাশি একই আসনে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করায় কামাল মৃধা ও কবরী হঠাৎ আলোচনায় উঠে এসেছেন বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জানাগেছে, অতীতে আওয়ামীলীগ থেকে বিএনপিতে যোগদান করে বিদেশে গমন, অত:পর দেশে ফিরে হঠাৎ কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য হওয়ার সুবাদে এখন আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেকে একজন খাঁটি আওয়ামীলীগার হিসেবে দাবীদার কামাল মৃধা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুতি নেয়ার ঘোষণা দিয়ে গণমাধ্যমে আলোচিত হয়ে উঠছেন। মাঠ পর্যায়ে তৃণমূল থেকে শীর্ষস্থানীয় পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীদের বেশীর ভাগই তাকে না চিনলেও একমাত্র শামীম ওসমানের প্রতিপক্ষ হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় সুবিধাবাদী কামাল মৃধা আলোচনার খোড়াক বনে গেছেন বলে দাবী করেছেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দরা। আর সদ্য একটি বেসরকারী টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি সারাহ্ বেগম কবরী বর্তমান এমপি শামীম ওসমানের বিষেদাগার করে আসন্ন নির্বাচনে পুনরায় উক্ত আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশার ইঙ্গিত দেয়ায় মিষ্টি মেয়েখ্যাত চিত্রনায়িকা কবরীও ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের প্রার্থী তালিকায় এখন আলোচিত হয়ে উঠেছেন।

 

কোনটি বিদ্যুতের তার !

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

শহরের প্রধান সড়কের দুই পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে এত তারের জটলা যে, বোঝাই দায় কোনটি বিদ্যুতের আর কোনটি ইন্টারনেট, টেলিফোন, ডিশের তার। বিভিন্ন তারের ভারে বৈদ্যুতিক তারগুলো নিচু হয়ে গেছে। এতে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এমন আশংকা নগরবাসীর। নগরীর লুৎফা টাওয়ার, প্রেসক্লাব, কালীবাজার, উকিলপাড়া, দুই নাম্বার রেলগেইট, নিতাইগঞ্জ এলাকায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তারের ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়। সম্প্রতি কালীবাজার এলাকায় ৭, ৯ ও ১০ মার্চ সোলাইমান হাজীর মার্কেটের একটি দোকানে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক ভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এছাড়া বাসা বাড়ির উপর দিয়ে প্রবাহিত বৈদ্যুতিক তারেও ছোট-খাট দুর্ঘটনা ঘটছে। সরজমিনে নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চাষাড়ার বিভিন্ন বিদ্যুতের খুঁটিকে বিভিন্ন সার্ভিস তার মাকড়াসার জালের মত পেঁচিয়ে রেখেছে। নগরীর লুৎফা টাওয়ার, প্রেসক্লাব, কালীবাজার, উকিলপাড়া, দুই নাম্বার রেলগেইট, নিতাইগঞ্জ এলাকায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তারের ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়। রাস্তার উপরে বা ফুটপাতের পাশে বৈদ্যুতিক তারের খুঁটিগুলোর সঙ্গে একাধিক সার্ভিস তারের সংযোগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ইন্টারনেট, টেলিফোন, ডিশ, জেনারেটর তারের সঙ্গে বৈদ্যুতিক তার এমন ভাবে জড়িয়ে আছে বোঝার উপায় নেই কোনটি বিদ্যুতের তার। এনিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে কথা হয় দোকান কর্মচারী সুমনের (২৭) সাথে। তিনি জানান, এখানে কোন তার আমাদের দোকানের লাইন দিসে নিজেও জানি না। কারেন্টের কাম যারা করে অরা ক্যামনে জানি বুঝে। সব তার একত্রে জটলা লাইগা থাকলে তো যে কোন সময় শর্ট সার্কিটে আগুন লাইগা যাইতে পারে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) এনওসিএস নারায়ণগঞ্জ (পুর্ব) নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফিরোজ কবির বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরাপদ করতে আমার পুর্ব বিভাগ কাজ করছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ঝুকিপুর্ন খুঁটি, তার পরিবর্তন করা হয়েছে। আমাদের প্রায় ৬০ ভাগ কাজ সম্পন্ন। এই নারায়ণগঞ্জ পুর্ব জোনে আমি নতুন জয়েন করলেও আমি মাঠ পর্যায় এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে যে কোন অভিযোগ পাওয়া মাত্র ৩ থেকে ৭ দিনের ভেতর তা সমাধানের ব্যবস্থা করে দেই। গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সুবিধা দিতে নারায়ণগঞ্জ ডিপিডিসি কাজ করছে। জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ ডিপিডিসি পুর্ব প্রায় ২৫/৩০ বর্গকিলোমিটার ব্যাপী তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত।  এর মধ্যে নয়ামটি, বিশ্বরোড, বিবি রোড পুর্ব, খানপুর, ঈসাখাঁ রোড, লামাপাড়া, মিশনপাড়া, নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড, জালকুড়ির একাংশ, নিউ হাজীগঞ্জ, ওয়াপদার পুল, পুরাতন হাজীগঞ্জ, টানবাজার রয়েছে। এর আশেপাশের অনেক এলাকাও এর মধ্যে আওতাভুক্ত।

অসুস্থ্য সাংসদ সেলিম ওসমান

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন কর্মব্যস্ত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। গতকাল রোববার বিকেলে ফতুল্লায় অবস্থিত নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উইজডম অ্যাটায়ার্স লিমিটেড এর কার্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় তিনি হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে পারিবারিক চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসক এমপি সেলিম ওসমানকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসায় ওষুধের পাশাপাশি চিকিৎসক তাঁকে আগামী কয়েকদিন বিছানায় থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি তিনি চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে  যাবেন। এদিকে শারীরিক অসুস্থ্যতার কারনে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে তাঁর পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচী গুলোতে তিনি অংশ নিতে পারবেন না বলে সংসদ সদস্যের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ১২ মার্চ চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে গিয়ে ছিলেন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। সে সময় তিনি ব্যস্ততার কারনে সম্পূর্ন চিকিৎসা শেষ না করে দেশে চলে আসেন। তিনি দেশে ফিরে গত কয়েকদিনে টানা একাধিক কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে ছিলেন।

 

 

সেন্ট্রাল ঘাটে ফ্রি ট্রলারের অব্যবস্থাপনায় যাত্রীদের ক্ষোভ

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সেন্ট্রাল ঘাটের ফ্রি ট্রলারের পল্টুনে মদনগঞ্জের ট্রলার দিয়ে জায়গা দখল করে রাখায় ফ্রি ৫টি ট্রলার সময়মত পল্টুনে ভিড়তে পারছেনা। এতে করে ফ্রি ৫ টি ট্রলার দেয়া হলেও পল্টুনে মাত্র একটি ট্রলার যাত্রী উঠা নামার কাজ করছে। আর বাকি ট্রলারগুলো পল্টুন স্বল্পতায় মাঝ নদীতে অপেক্ষা করছে; যেকারণে বাড়তি ফ্রি ট্রলারের সুবিধা থেকে যাত্রীরা বঞ্চিত হচ্ছে। এতে করে যাত্রীদের বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। এতে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, ‘নিত্য নতুন কৌশল করে ফ্রি ট্রলার সার্ভিসটিতে যাত্রী বিড়ম্বনা সৃষ্টি করে ভাড়ার চালিত ট্রলারে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে।’ গতকাল রোববার দুপুরে সেন্ট্রাল ঘাটের ফ্রি ট্রলার ঘাটটি ঘুরে যাত্রীদের বিড়ম্বনার নানা দৃশ্য দেখা যায়। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ‘ঘড়ির কাঁটায় যখন ২টা বেজে ৪ মিনিট তখন ফ্রি ট্রলার ঘাটে ৫ টি ট্রলার চলাচল করলেও ঘাটের পশ্চিম পাশের পল্টুনে মদনগঞ্জে যাওয়ার একটি ট্রলার ফ্রি ট্রলার ঘাটের পল্টুনে ভিড়ানো ছিল; যেকারণে ফ্রি ৫ টি ট্রলার পল্টুনের ঠিক দক্ষিণ পাশ দিয়ে পর্যায়ক্রমে ভিড়াতে হচ্ছে। আর সেখানে মাত্র একটি করে ট্রলার ভিড়ানোর জায়গা রয়েছে। এতে করে বাকি ৪টি ট্রলার মাঝ নদীতে অপেক্ষা করতে থাকে। আর এভাবে সিরিয়ালে থাকা ট্রলারগুলো বিলম্বিত সময়ে একটি একটি করে পল্টুনে ভিড়িয়ে যাত্রী উঠানামা করছে। এই যখন বিড়ম্বনার চিত্র তখন পল্টুনের পূর্ব পাশে মদনগঞ্জে যাওয়ার ট্রলারটি খালি অবস্থায় পল্টুনে বাঁধা রয়েছে। এমনকি সেখানে কোন যাত্রীও ছিলনা। এ ট্রলার সম্পর্কে স্থানীয়দের কাছে জানতে চাইলে বলে, ‘এই ট্রলারটি মদনগঞ্জে চলাচল করে। মদনগঞ্জ থেকে ট্রলার এই ঘাটে এসে পৌঁছালে এখানকার ট্রলারটি যাত্রী নিয়ে রওনা করে। তাই ফ্রি ট্রলারের পল্টুনে সারাদিন ব্যাপী মদনগঞ্জের ট্রলার ভিড়ানো থাকে। আর প্রত্যেকটি ট্রলার ছাড়তে প্রায় ৩০-৪৫ মিনিট সময় লাগে। একাধিক সূত্র বলছে, ‘সেন্ট্রাল ঘাটে ৫ টি ট্রলার ফ্রি করে দেয়ার কারণে ভাড়ায় চালিত ট্রলারের আয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসছে। কারণ ফ্রি ট্রলার ঘাটে ৫টি ট্রলার দেয়ার কারণে যাত্রীরা ভাড়ায় চালিত ট্রলারের মত অহরহ ট্রলার পেয়ে যাচ্ছে; যেকারণে যাত্রীরা ফ্রি ট্রলারে যাতায়াত করছে। এতে করে ভাড়ায় চালিত ট্রলারের আয় আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। এদিকে ক্ষুব্ধ ফ্রি ট্রলার ঘাটের যাত্রীরা বলছে, ‘এমপি সেলিম ওসমান আমাদের দুঃখ-কষ্টের কথা ভেবে ৫ টি ট্রলার ফ্রি করে দিয়েছেন। এতে ফ্রি ট্রলারের যাত্রী বেড়ে গিয়ে ভাড়ায় চালিত ট্রলারের আয় অনেক কমে গেছে। কিন্তু এমপি সেলিম ওসমানের নির্দেশনাকে উপেক্ষা করার কোন অবকাশ নেই। যেকারণে ট্রলার ঘাটের নিয়ন্ত্রকরা নতুন কৌশলে ফ্রি পল্টুনের বড় অংশটি মদনগঞ্জের ট্রলার দিয়ে দখল করে রাখে। আর এই অজুহাতে ফ্রি ট্রলারগুলোর মাত্র একটি করে পল্টুনে ভিড়াচ্ছে, বাকি ট্রলারগুলো মাঝ নদীতে পল্টুন খালি হওয়ার অপেক্ষা করতে থাকে। এতে করে যাত্রীদের বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। যেকারণে অনেক যাত্রীরা বাধ্য হয়ে ভাড়ায় চালিত ট্রলারে যাতায়াত করে। এই নতুন কৌশলের কারণে ফ্রি ট্রলারের যাত্রীরা ভাড়ায় চালিত ট্রলারে যাতায়াত শুরু করে। আর অমনি ভাড়ায় চালিত ট্রলারের আয় বেড়ে উঠে।

 

অবৈধ পার্কিংয়ে নাভিশ^াস নগরবাসীর

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

শহরের ফুটপাতে হকার নিয়ে পুলিশ হার্ডলাইনে অবস্থান করলেও অবৈধ গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যাপারে রহস্যজনক কারণে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যানজটের অন্যতম কারণ সম্পর্কে স্থানীয় মিডিয়া একাধিক সংবাদ প্রকাশের পরও স্থায়ীভাবে কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছেনা; যেকারণে প্রায়শই জনদুর্ভোগের দৃশ্য চোখে পড়ছে। কখনো সড়কের একাংশে অবৈধ গাড়ি পার্কিং, কখনো ফুটপাতে অবৈধ গাড়ি পার্কিং আবার কখনো ফুটপাত দিয়ে যান চলাচলের মধ্য দিয়ে জনদুর্ভোগের কারণে পরিণত হচ্ছে। এদিকে শহরের নবার সলিমুল্লাহ সড়কের অবৈধ গাড়ি পার্কিংয়ে মোবাইল কোর্টের হানা পড়লে ক্ষণিকের জন্য ফাঁকা হলেও হানা শেষ হলে আবারো পুরানো চিত্রে ফিরে যাবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। গতকাল রোববার দুপুরে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিংয়ের দৃশ্য দেখা যায়। তবে ‘নো পার্কিং’ জোনের সাইনবোর্ড লাগানো থাকলেও তার তোয়াক্কা না করেই গাড়ির চালকেরা সেখানে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং করছে। এসময় শহরের বিভিন্নস্থানে অবৈধ গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে দুপুরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতে দেখা গেছে। এদিকে যানজটের কারণে ফুটপাত দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচল করতে দেখা গেছে। এতে করে সড়কের যানজটের পাশাপাশি ফুটপাতেও জটলা দেখা দেয়। এছাড়াও ক্ষণে ক্ষণে মোটরসাইকেল চলাচলের কারণে জনগণ বেশ অস্বস্তিতে পড়ে যায়। এদিকে শহরের নবাব সলিমুল্লাহ সড়কে মোবাইল কোর্টের হানায় ওই সড়কটি অনেকটা ফাঁকা দেখা যায়। কিন্তু স্থানীয়রা বলছেন, ‘মোবাইল কোর্টের হানা পড়লে তখন সড়ক ফাঁকা থাকলেও তারা চলে গেলে আবারো অবৈধ গাড়ি পার্কিং সহ যানবাহনের অবৈধ স্ট্যান্ড সড়কে ফিরে আসে। তাই হকার সমস্যার মত স্থায়ীভাবে এই সমস্যার সমাধান না করলে অবৈধ গাড়ি স্ট্যান্ড ও গাড়ি পার্কিংয়ের মত দুর্ভোগ বার বার ফিরে আসবে। জানা গেছে, নবাব সলিমুল্লাহ সড়ক সহ শহরের বিভিন্ন সড়কে অবৈধভাবে সড়কের মধ্যে যানবাহনের স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। যেকারণে সড়কের মধ্যে এলোপাথারিভাবে যানবাহন রেখে যানজটের সৃষ্টি করছে। তাছাড়া সড়কের মধ্যে গাড়ির স্ট্যান্ড থাকলে কোনভাবেই যানজট নিরসন করা যাবেনা বলে মনে করছেন নগরবাসী। এছাড়াও শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক ব্যতিত প্রায় সকল সড়কেই হকার বসেছে। এতে করে ওইসব সড়কে প্রায়শই যানজট দৃশ্যমান হচ্ছে। আর দিন দিন ওই সব সড়কে হকারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। যেকারণে হকারদের ফুটপাত ও সড়ক দখলের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেকারণে পথচারীরা বাধ্য হয়ে ফুটপাত ও সড়কের একাংশ বাদ দিয়ে অনেকটা সড়কের মধ্যখান দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। তাই জনদুর্ভোগ দিন দিন বেড়ে চলেছে। নগরবাসী বলছেন, ‘নগর পরিকল্পনার অনেক অভাব রয়েছে। নগরের কোথায় কি কি স্থাপন করলে নগরবাসীর দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে এ কথা না ভেবে জনপ্রতিনিধিরা অনেক পদক্ষেপ নিচ্ছে। আর প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নিলেও তার কোন স্থায়ীত্ব বেশিক্ষণ থাকেনা। যেকারণে জনদুর্ভোগও কমেনা। তাই জনপ্রতিনিধিরা অনেক সময় চেষ্টা করলেও জনদুর্ভোগ নিরসনে বার বার ব্যর্থ হচ্ছে। আর এখন থেকেই যদি জনদুর্ভোগের লাগাম টেনে না ধরা যায় তাহলে এর ভয়বহতা আরো তীব্রতর আকার ধারণ করবে।

 

শামীম ওসমানকে ভন্ড বললেন রফিউর রাব্বি

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

একটা সময় নাস্তিক ব্লগার রাজীব হায়দারের নামে চাষাড়ায় ‘রাজীব চত্বর’ করতে চেয়েছিলেন শামীম ওসমান। এবার তিনি নতুন ফর্মূলা দিয়ে বলেছেন, ‘আধুনিক বাচ্চারা যারা বিভিন্ন ইংলিশ মিডিয়ামে পড়েতেছে, ইউনিভার্সিটিতে পড়তেছে তাদের থেকেই জঙ্গি হয়, মাদ্রাসা থেকে হয় না।’ শামীম ওসমানের এমন বক্তব্য ঘিরে চারিদিকে নানা আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। বলা হচ্ছে সামনে নির্বাচন তাই সংগরিষ্ঠদের ভোট টানতে এমন বক্তব্য রাখছেন তিনি। আবার কেউ বলছেন, শামীম ওসমানের এমন বক্তব্য জঙ্গিবাদকে উস্কে দিচ্ছে। কারো কারো মতে, শামীম ওসমান এমন বক্তব্যের মাধ্যমে নিজেকে নিজেই বহুরূপে রূপান্তরিত করে তুলছেন। একেক সময় তিনি যে তাঁর অঙ্গে একেক রূপ ধারণ করেন সেটিই প্রমাণ করে তাঁর এই বক্তব্যে। কেননা, এই শামীম ওসমান যেমন চাষাড়াকে ব্লগার রাজীব চত্বর বানাতে মাঠে নেমেছিলেন আবার এই শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে হেফাজত যখন মতিঝিল দখলে যাবেন তখন সে মিটিং করে তাদের বিরিয়ানী, তরমুজ ও পানি খাইয়ে অপ্যায়ণও করেছিলেন। শামীম ওসমানের এ বক্তব্য ‘প্রকৃত জঙ্গিবাদের সাথে যাঁরা সম্পৃক্ত তাঁদের রক্ষা করার একটা কৌশল’ বলে মনে করেন সংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি। তিনি বলেন, “শামীম ওসমান তাঁর অবস্থান রক্ষার জন্য হেফাজত-জামাত যখন যার ঘাড়ে সওয়ার হওয়া দরকার সেখানেই সে সওয়ার হচ্ছে। তাঁর বিষয়টা হচ্ছে আলাদা। সে চাষাড়াকে রাজীক চত্বর হিসেবে ঘোষণা করে আবার হেফাজতের সাথে মিটিং করে। হেফাজত যখন মতিঝিল দখল করতে যাবে তখন সে হেফাজতকে বিরিয়ানী খাওয়ায়, তরমুজ খাওয়ায়। এগুলো হচ্ছে তাঁর একটা ভ-ামি।” রাব্বি বলেন, “শামীম ওসমানের এ বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে দেখার কোনো কারণ নাই। এটা হচ্ছে একটা সামাজিক ভ-ামি। সে রাজনীতিটাকে বরাবরই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। বিশেষ করে সে আওয়ামী লীগটাকে বেশি ব্যবহার করে। মাহবুবুর রহমার মাসুম বলেন, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের ক্ষতি এতটা আর কেউ করে নাই ওরা (শামীম ওসমানরা) যতটা করেছে। ওদের দ্বারা নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ যতটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে স্বাধীনতার পরবর্তীতে এতটা ক্ষতি আর হয়নি।” ‘শামীম ওসমান নিজেই হেফাজতের সাথে আছেন আর এই হেফাজতের সঙ্গে থেকে তিনি যদি বলেন জঙ্গি দমন করবেন, সেটা সম্ভব কিনা’ এমন প্রশ্ন রেখে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, “যাঁরা হেফাজতের সঙ্গে বসবাস করেন তাঁরা কোনো ভাবেই জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে পারে না আবার জঙ্গি নিমূল কর্মকা-ও পরিচালনা করতে পারেন না। উনি (শামীম ওসমান) নিজেই জঙ্গিবাদ লালন করেন। তাই এসব উল্টাপাল্টা কথা বলছেন। আসলে এ সব কিছুই ভোটের রাজনীতি। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যা যা করা দরকার সরকারও আজকাল সেসব করছে। শামীম ওসমানও ভোট পাওয়ার জন্য তাই করছেন।” শামীম ওসমানের অমন বক্তব্য নিয়ে খোদ আওয়ামী লীগের নেতারাও কিছুটা বিব্রত বোধ করছেন। তাঁরা বলছেন শামীম ওসমান দায়িত্বশীল একজন ব্যক্তি। দুই দুইবারের এমপি। সে হিসেবে যা কিছুই তিনি বলুক না কেন তা হিসেব করেই বলা উচিত। দায়িত্বশীলদের বক্তব্য দায়িত্বশীলতার পরিচয় বহন করাটা জরুরী। এ প্রসঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, “শামীম ওসমান দায়িত্বশীল অবস্থানে আছেন তাই তাঁর কথাবার্তা আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। ঢালাওভাবে বলা উচিত না। এভাবে উল্টাপাল্টা কথা বলাও ঠিক না। কেননা, মাদ্রাসায় পড়লে সবাই যেমন জঙ্গি হয় না, তেমনি ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া ছেলে পেলেলার জঙ্গি হয় এটা ভুল কথা। আমরা তাঁর কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল বক্তব্য আশা করি।” দীর্ঘদিন ধরেই শামীম ওসমান রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের পাশাপাশি ওয়াজ মাহফিলগুলোতে নিয়মিতই যাচ্ছেন। সেখানে তিনি ওয়াজ নসিহতও করছেন। দীর্ঘক্ষণ তিনি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একই ধরণের বক্তব্য ওয়াজিনদের মতো করে দিচ্ছেন। সেসব স্থানে তিনি অকপটেই স্বীকার করছেন, আগে তিনি নিজের জন্য রাজনীতি করতেন কিন্তু এখন আল¬াহকে খুশি করতে রাজনীতি করছেন। ওয়াজ মাহফিলে দেয়া শামীম ওসমানের বক্তব্যের সাথে তাঁর বাস্তব জীবন ধারণের অনেক মিলই খুঁজে পান না অনেকে। শামীম ওসমানের দাবি তিনি হারাম খান না। কিন্তু তাঁর দল করে এমন অসংখ্য ব্যক্তি আছেন যাঁরা অবৈধভাবে অর্থ রোজগার করছেন। মাদকের সাথেও অনেকে সম্পৃক্ত। তাই প্রশ্ন ওঠেছে, তিনি এতটা সহী হলে তাঁর দলের মধ্যে এমন লোক থাকে কি করে? তাছাড়া ব্লগার রাজীব হায়দারের নামে চাষাড়ায় রাজীব চত্বর ঘোষণা করাটা যে শামীম ওসমানের একটি নাটক ছিলেন সেটি এখন অনেকেই বলছেন।

 

ভয়াল সেই রাতের কথা

 

অতিথি কলাম,

তারাপদ আচার্য্য…

স্বাধীনতা একটি দেশ ও জাতির জন্য আনন্দের এক অনন্য চেতনা ও অনুভূতি। মানুষ নিজের অন্তরে লালন করে এই আকাঙ্খার ধন। যখন মানুষ স্বাধীনতা ভোগ করে তখন সুখ-সুবিধার অন্ত থাকে না। আমরা বাঙালি, আমরা বাংলাদেশি, আমাদেরও স্বাধীনতা দিবস আছে। আর সে দিনটি ২৬ মার্চ। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কণ্ঠ ভেসে ওঠে রেডিও পাকিস্তানের কাছাকাছি একটি ফিকোয়েন্সিতে। তখন ২৫ মার্চের রাত পেরিয়ে ২৬ মার্চ শুরু হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ সময় ইপিআর’র একটি ওয়ারল্যাছ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন, যা পাকবাহিনীর মেজর সিদ্দিক সালেক তার ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন। বঙ্গবন্ধু এই ঘোষণায় বলেন, ‘এটাই হয়তো হতে পারে আমার শেষ বার্তা। আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন’। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে বাংলাদেশের লাখো মুক্তিকামী মানুষের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডাক দেন মুক্তির সংগ্রামের। ডাক দেন স্বাধীনতার সংগ্রামের। ’৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের অন্ধকারে অসহায় নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অতর্কিতে নিষ্ঠুর অমানবিকভাবে আক্রমণ চালিয়ে এদেশের স্বাধীনতাকে গ্রাস করতে চেয়েছিল। কিন্তু সে বাসনা তাদের পূরণ হয়নি। বাংলার দামাল ছেলেরা প্রাণ দিয়ে আর মা-বোনদের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আনে ১৬ ডিসেম্বর। বিজয় দিবস। কিন্তু পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণের পূর্বমুহূর্ত অর্থাৎ দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তির সংগ্রামে, পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সাহস যুগিয়েছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, যা আজ পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বাংলাদেশের ভূখ-ে ইতিহাসের সকল নৃশংসতাকে ছাপিয়ে রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানি বাহিনী এক দানবীয় নিষ্ঠুরতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙালির ওপর। চলে বর্বরোচিত নিধনযজ্ঞ আর ধ্বংসের উন্মত্ত তা-ব। হকচকিত বাঙালি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঢলে পড়ে মৃত্যুর কোলে। শহরের রাজপথ, অলিগলি, ফুটপাত, খেলার মাঠ, ক্যাম্পাসÑ সব জায়গাতেই মৃত্যুর করাল স্বাক্ষর রেখে যায়। মানুষের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে শহরের আকাশ-বাতাস। সে কান্না ছাপিয়ে তখন আকাশে কেবলই মুহুর্মুহু আগুনের লেলিহান শিখা। মধ্যরাতে ঢাকা হয়ে ওঠে লাশের শহর। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক নৃশংস, ভয়ঙ্কর ও বিভীষিকাময় কালরাত। মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক কলঙ্কিত দিন। একাত্তরের অগ্নিঝরা এই দিনে বাঙালি জাতি তথা বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষকরেছিল ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস বর্বরতা। একাত্তরের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে গণহত্যার নীলনকশা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পাকিস্তানি দানবরা মেতে ওঠে নির্বিচারে স্বাধীনতাকামী বাঙালি নিধনযজ্ঞে। ঢাকাসহ দেশের অনেক স্থানেই মাত্র এক রাতেই হানাদাররা নির্মমভাবে হত্যা করে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক ঘুমান্ত বাঙালিকে। বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে নিষ্ঠুর, নির্মম ও বর্বরোচিত গণহত্যা চালায় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা। একাত্তরের এই দিনে চিরআকাক্সিক্ষত ও প্রিয় স্বাধীনতার জন্য উন্মাতাল লাখো বাঙালির রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল বাংলার সোঁদা মাটি। ঘুমন্ত শিশু, গৃহবধূ, বৃদ্ধার রক্তে কলঙ্কিত হয়েছিল মানব ইতিহাস। মাত্র নয় মাসে বিপুলসংখ্যক মানুষ হত্যা ও নারী নিগ্রহের নজির বিশ্ব ইতিহাসে আর নেই। সেই নিষ্ঠুরতা ও নির্মমতা চেঙ্গিস খান-হালাকু খানদের নৃশংস নির্মমতাকেও হার মানায়। হানাদাররা রাত দেড়টায় বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে বঙ্গবন্ধুকে রাত দেড়টায় তাঁর বাসভবন থেকে বন্দি করে শেরেবাংলানগরস্থ সামরিক বাহিনীর সদর দফতরে নিয়ে যায়। সেখান থেকে স্থানান্তর করে সেনানিবাসে। সকাল পর্যন্ত আদমজী কলেজের একটি কক্ষে তাঁকে আটকে রাখে। সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন-প্রতিরোধের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ, বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস, ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ, সামরিক বাহিনীর বাঙালি সদস্য এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী সাধারণ মানুষ দেশকে মুক্ত করতে গড়েতোলে মুক্তিবাহিনী। গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ চালিয়ে মুক্তিবাহিনী সারাদেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়েবাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সাহায্য লাভ করে। ডিসেম্বরের শুরুর দিকে যখন স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র তখন পাকিস্তান পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এভাবে ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সরাসরিভাবে জড়িয়েপড়ে। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয়সামরিক বাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণে পাকিস্তানের দখলদারী বাহিনীর পতন ত্বরান্বিত হয়। ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান ৯৩ হাজার সৈন্যসহ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের মধ্য দিয়ে পরিসমাপ্তি ঘটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের। আমাদের নতুন প্রজন্ম স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখেনি। তারা জন্মেই পেয়েছে স্বাধীন দেশ। স্বাধীনতা সম্পর্কে জেনেছে অনেক বিভ্রান্তিকর তথ্য। তাই আজ তাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সত্য তথ্য জানাতে হবে। পাশাপাশি এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা রাজকারদের ফাঁসির দাবিতে সোচ্চার। দেশ রাজকার মুক্ত হোক। দেশের মানুষ এতো বছরের কলঙ্ক মুছে গর্বিত কণ্ঠে বলুকÑ আমরা স্বাধীনতার শত্রুদের ক্ষমা করিনি, আমরা বাঙালি, বাংলা আমার ভাষা, বাংলাদেশ আমাদের দেশ, আমরা গর্বিত জাতি।

 

 

২৫ মার্চের গনহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে বন্দরে স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন

 

বন্দর প্রতিনিধি

১৯৭১ সালের ২৫ র্মাচ রাতে পাকবাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যা ও নির্যাতন স্বরণে সেই গনহত্যা দিবস উপলক্ষে বন্দরে বদ্ধভূমিতে শহীদের ম্মৃতিস্তম্বে শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করেছে বন্দর উপজেলা প্রশাসন। গতকাল রোববার সকালে বন্দর সিরাজদৌল্লা মাঠ প্রাঙ্গনে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শহীদের স্মৃতিস্তম্বে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন বন্দর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা পিন্টু বেপারী, বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এম.এ রশিদ, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহাম্মেদ দুলাল প্রধান, বন্দর উপজেলা পরিষদের মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আ.ক.ম নূরুল আমিন, বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনর্চাজ ডাঃ আব্দুল কাদির প্রমুখ। শ্রদ্ধানিবেদন কালে আরো উপস্থিত ছিলেন বন্দর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ বদরুজ্জামান, বন্দর থানা আওয়ামীলীগ নেতা শাহজাহান মোল্লা, নারায়ণগঞ্জ মহানগর সেচ্চাসেবকলীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান কমল, ২৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা মনু, বন্দর থানা ছাত্রলীগ নেতা আরাফাত কবীর ফাহিম ও অপুসহ বন্দর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও আওয়ামীলীগ অংঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের এই দিনে বন্দরে পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠে বর্বর পাক হানাদার বাহিনী। ২৫ মার্চ দিনটি বন্দরবাসীর জন্য বড়ই বেদনাদায়ক এবং শোকের দিন। রাজাকার এবং স্থানীয় দোসরদের সহায়তায় বন্দরে প্রবেশ করে পাকিস্তানি বাহিনী। তারা গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দেয়। বিভিন্ন গ্রাম থেকে নিরীহ মানুষ ধরে এনে সিরাজদ্দৌলা ক্লাবের মাঠের দক্ষিণ- পশ্চিম কোনে জড়ো করে হত্যা করা হয়।

 

রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যায় নৌকাডুবিতে নিখোঁজ পাঁচ জনের লাশ উদ্ধার

 

ডান্ডিবার্তা রিােপর্ট

রূপগঞ্জ উপজেলায় বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় নৌকাডুবিতে নিখোঁজ ৫ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুর্ঘটনায় নিখোঁজ পাঁচজনেরই মরদেহ পাওয়া গেল। এর আগে, গত শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার তারাব বাজার এলাকার সুলতানা কামাল সেতু পয়েন্ট থেকে রাজধানীর কদমতলী থানার দক্ষিণ দনিয়ার এলাকার নাসির উদ্দিনের ছেলে জুতা ব্যবসায়ী তুষারের (২৬) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গতকাল রোববার সকাল ৭টার দিকে প্রথমে রাজধানীর কদমতলী থানার দক্ষিণ দনিয়ার আজিজুল মিয়ার ছেলে কারখানা শ্রমিক মাসুদুর রহমান লতিফ (১৮), জয়নাল মিয়ার ছেলে ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম রিপন ওরফে বাবু (২০) ও রূপগঞ্জের তারাব পৌরসভার বরপা এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে জাসিম মোহাম্মদ রাজুর (২৮) মরদেহ পাওয়া যায়। এরপর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাওয়া যায় পূর্ব ধোলাইরপার এলাকার রবিউল মিয়ার ছেলে টেইলার্স শ্রমিক শরীফ  (২৮)। বিষয়টি নিশ্চিত করে রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক সাইদুজ্জামান জানান, রাতে তারাব বাজার এলাকার সুলতানা কামাল সেতু এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ সেখান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি তুষারের বলে শনাক্ত করেন। গতকাল রোববার সকাল ৭টার দিকে রূপসী সিটি অয়েল মিলের পাশের শীতলক্ষ্যা নদীতে প্রথমে মাসুদুর রহমান লতিফ, রিপন ও রাজুর মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হলে স্বজনরা শনাক্ত করেন। এরপর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভেসে ওঠে শরীফের মরদেহ।  রাজধানীর ডেমরা থেকে ১৪ জনের একদল যুবক একটি নৌকা ভাড়া নিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে ঘুরতে আসেন। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রূপসী কাজীপাড়ায় একটি বাল্কহেড পেছন থেকে ধাক্কা দিলে নৌকাটি ডুবে যায়। এসময় নৌকাতে থাকা মাঝিসহ ১৫ জনের মধ্যে ১০ জন সাঁতার কেটে তীরে আসতে পারলেও পাঁচজন নিখোঁজ হন।