আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:১৩
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

স্বাধীনতা দিবসে অয়ন-আজমেরীর শোডাউন

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ওসমান পরিবারের দুই সন্তান হচ্ছেন, প্রয়াত সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসিম ওসমানের পুত্র আজমেরী ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি আলহাজ¦ শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমান। যারা নারায়ণগঞ্জের তরুণ সমাজের কাছে ‘যুবরাজ’ হিসেবেই সমাদৃত। আর চাচাতো জেঠাতো ভ্রাতৃদ্বয় এই দুই যুবরাজ এবার বৃষ্টি উপেক্ষা করেই কয়েক হাজার কর্মীসমর্থক নিয়ে নগরীতে ব্যাপক শোডাউন করলো। গত সোমবার মহান স্বাধীনতা দিবসের বিকেলে বাংলার শহীদ শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সম্মান জানাতে নগরীর কলেজ রোড এলাকা থেকে আজমেরী ওসমান এবং চাষাড়া এলাকা থেকে অয়ন ওসমানের নেতৃত্বে বিশাল র‌্যালী বের করা হয়। উভয়ের র‌্যালীই শুরুর সাথে সাথেই বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে। কিন্তু স্বল্প থেকে মষুলধারে বৃষ্টি নামলেও র‌্যালীতে থাকা কর্মী সমর্থকেরা পিছু হটেনি। বরং নেতা আজমেরী ওসমান ও অয়ন ওসমানকে সামনের সারিতে রেখে বৃষ্টি ভিজেই নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন নেতাকর্মীরা। আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা শোডাউন করে মাসদাইরস্থ প্রয়াত নাসিম ওসমানের কবর জিয়ারত করে দোয়া মোনাজাত করেন। এসময় তার সাথে ছিলেন, নাসিম ওসমানের স্ত্রী পারভীন ওসমান, নাতি আলিফ ওসমান, জাতীয় ছাত্র সমাজ জেলা আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন রুপু, মহানগর আহ্বায়ক শাহ্ আলম সবুজ প্রমুখ। আর অয়ন ওসমানের সাথে ছিলেন, মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান রিয়াদসহ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

কোন্দলের নেপথ্যে দুই খলনায়ক

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সুযোগ থাকা সত্বেও কোন্দলের কারণে মাঠ দখলে রাখতে পারছে না নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। গুটি কয়েকজন নেতার গ্রুপিং আর কোন্দলের কারণে ঘুড়ে দাড়াঁতে পারছে না নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। বিতর্কিত আওয়ামীলীগের নেতাদের কারণে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির জনসমর্থন বাড়লেও শুধুমাত্র নেতায় নেতায় দ্বন্দ্বের কারণে রাজপথ দখল করতে পারছে না বিএনপি। অথচ দ্বন্দ্ব না থাকলে নারায়ণগঞ্জের রাজপথ বিএনপি দখল করতে পারতো, গত সোমবার স্বাধীনতা দিবসে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। চাষাড়া চত্ত্বর বিএনপির নেতাকর্মীদের স্লোগানে স্লোগানে মূখরিত থাকলেও তা ছিল চার ভাগে বিভক্ত। বিপুল নেতাকর্মী নিয়ে পৃথক ভাবে চাষাড়া বিজয় স্তম্ভে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। তবে বিভক্ত না হয়ে ঐক্য ভাবে যদি কর্মসূচী পালন করতো তাহলে শুধু স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচীই নয় বরং কেন্দ্র ঘোষিত সকল কর্মসূচীই সফল ভাবে পালন করতে পারতো বলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবী। বিএনপির কর্মীদের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বিভাজনের নপথ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার ও মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। নিজেদের স্বার্থ আদায় করতে এই দুই নেতা নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করছেন। সোমবার সকালে মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের নেতৃত্বে বিজয় স্তম্ভে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় মহানগর বিএনপির সকল নেতাকর্মীরা। কিন্তু মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি হয়েও নেতৃবৃন্দদের সাথে কর্মসূচীতে অংশ না নিয়ে ভাড়া করা ও কিছু কর্মী বিচ্ছিন্ন নেতাদের নিয়ে  শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। অপর দিকে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজি মনিরুজ্জামান মনিরের নেতৃত্বে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করলেও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার পৃথক ভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অথচ এরা পৃথক ভাবে কর্মসূচী পালন না করে ঐক্যবদ্ধ ভাবে সকল কর্মসূচীতে অংশ নিলে পুলিশী বাধা টপকে কর্মসূচী সফল করতে পারতো।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির ধ্বংশের নায়ক তৈমূর আলম খন্দকারের সাথে নতুন করে তারই পথ অনুসরন করছেন সাখাওয়াত হোসেন খান। তৈমূর আলম খন্দকার জেলা বিএনপির সভাপতি থাকা কালীন সময়ে মাঠের রাজনীতি ঘরে সবে নিয়ন্ত্রন করতো। বিগত দিনে সরকার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে না থেকে ঢাকায় এসি রুমে বসে মোবাইল ফোনে সভা সমাবেশে বক্তব্য দিতেন তৈমূর। তৈমূরের কারণে ধীরে ধীরে অস্তিত্ব সংকটে পড়তে থাকে। পরবর্তিতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবীর প্রেক্ষিতে তৈমূরকে বাদ দিয়ে জেলা বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষনা করা হয়। কমিটিতে সদস্য পদেও স্থান না পেয়ে জেলা বিএনপিতে কোন্দল সৃষ্টি করতে থাকে তৈমূর। এছাড়া আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে নীল নকশা তৈরী করে হঠাৎ গর্ত থেকে রাজপথে নেমেছে তৈমূর। অপর দিকে, মহানগর বিএনপিতে কোন্দল সৃষ্টিকারী সাখাওয়াত হোসেন খান নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। এক সময় আদালতপাড়ায় রাজনীতির সীমাবদ্ধতা থাকলেও সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে প্রথম বারের মত দেখা যায় সাখাওয়াত হোসেনকে। জনপ্রিয়তা না থাকা ও অপরিচিত মুখ হওয়ার কারণে সেই নির্বাচনে বিপুল ভোটে পরাজিত হন সাখাওয়াত হোসেন। এরপর কিছু দিন নিশ্চুপ থাকার পর আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে মাঠে নামেন তিনি। তবে মাঠে নেমেছেন রাজনীতির জন্য নয় বরং মহানগর বিএনপিতে কোন্দল সৃষ্টি করে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরী করতে। কেননা বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাবেন আবুল কালাম। আবুল কালামের মনোনয়ন ছিনিয়ে আনতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরীর চেষ্টায় রয়েছেন। রাজপথে না থেকেও ভাড়া করা লোকদের নিয়ে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালায় যেত তিনিই একমাত্র রাজপথে থাকেন। অথচ কর্মীবিহীন সাখাওয়াত হোসেন রাজনীতির মাঠে রয়েছেন শূণ্যের কোঠায়। বর্তমানে এক সময়ের ছাত্রদল ক্যাডার জাকির খানের কিছু কর্মীদের সাথে নিয়ে পৃথক ভাবে কর্মসূচী পালন করে নিজের শক্ত অবস্থান রয়েছে, এটা প্রমাণ করতে চাইছে সাখাওয়াত-এমন অভিযোগ নারায়ণগঞ্জ বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের।

 

স্বাধীনতা দিবসে আইন কলেজের শ্রদ্ধাঞ্জলী

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে শহরে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও চাষাড়া চত্ত্বরে স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর সন্তানদের স্মরণে নির্মিত বিজয় স্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পন করেছেন নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।  গত সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় র‌্যালীটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বিজয় স্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পন করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজের ভিপি মাহমুদুল হাসান ও জিএস আমজাদ হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কলেজের অধ্যক্ষ এড. সাখাওয়াত হোসেন ভূইয়া, প্রভাষক এড. রবিউল আমিন রনী, এজিএস শাহাদাৎ হোসেন, ছাত্র-ছাত্রী সংসদের নেতৃবৃন্দদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জাহিদ, প্রশান্ত, বদিউজ্জামান, ইকবাল, হিমেল, বিপ্লব, তন্নি, ফারজানা, সুমা, ইতি, এর এল বি প্রিলি ব্যাচ এর শিক্ষার্থী মেহেদী, অপূর্ব, সাহাব, সালাউদ্দিন, মুশফিক, জান্নতুল, উম্মে হাবীবা, তুলশী, তানিয়া, শাহনাজ প্রমুখ।

আওয়ামীলীগের চেয়ে বিএনপি এগিয়ে

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচিতে একদিনের জন্য আওয়ামীলীগের জন্মস্থান নারায়ণগঞ্জে শক্তি প্রদর্শনে এগিয়ে গেলো বিএনপি। বিগত কয়েক বছরে পুলিশের ভয়ে রাজপথে নামতে না পারা নারায়ণগঞ্জ বিএনপি এবার সুযোগ পেয়ে নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে বিশাল শোডাউন করেছে। যা আওয়ামীলীগের তুলনায় বিশাল ছিলো। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের আলাদা আলাদা শোডাউনের মধ্য দিয়ে চাষাঢ়া বিজয়স্তম্ভে এসে শ্রদ্ধাঞ্জলী জ্ঞাপন করে। তাদের প্রত্যেকটি শোডাউনেই নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের শোডাউন ছিলো নজরকাড়া। যা নিয়ে রীতিমতো রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অপরদিকে ক্ষমতায় থেকেও নামমাত্র শোডাউন ছিলো নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের আলাদা কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি তেমন একটা ছিল না। যা সীমাবদ্ধ ছিলো শুধুমাত্র কার্যালয়ের মধ্যেই। যুবলীগ ও শ্রমিকলীগ ছাড়া অন্য কোন অঙ্গসংঠনের নেতাকর্মীরা আলাদা কোন ব্যানারে শ্রদ্ধা জানাতে আসেনি। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি বিগত ৯ বছরে যা করতে পারেনি গত সোমবার স্বাধীনতা দিবসে আলাদা আলাদা ভাবে হলেও দেখিয়ে দিয়েছে তারা ইচ্ছে করলে রাজপথ দখল করতে পারে। পাশাপাশি ক্ষমতাশীন আওয়ামীলীগের কর্মসূচিতে চোখে পড়ার মতো নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ছিল না। আওয়ামীলীগের মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মন্তব্য শামীম ওসমান মাত্র একদিনের ঘোষণায় যা করতে পারে স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিতে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ তার ধারে কাছেও যেতে পারেনি। শামীম ওসমান বিহীন আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মী শূন্য হয়ে পড়ে গত সোমবারের স্বাধীনতা দিবসে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

 

মুক্তিযুদ্ধে প্রথম শহীদদের যোগ্য মর্যাদা দেয়নি নারায়ণগঞ্জবাসী…

হাবিবুর রহমান বাদল..

দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে প্রথম পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যে অঞ্চলের সাধারণ মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গিয়ে নিহত হয়েছিলেন, সেটা ছিল নারায়ণগঞ্জ। ২৫শে মার্চ রাতে পাক বাহিনী বাঙ্গালীর উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে চলে গণহত্যা। ঢাকা গণহত্যার শহরে পরিণত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সহ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পর তৎকালীণ ইপিআর প্রথম পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এরপর দেশের কোথাও মার্চ মাসে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়নি। ২৬মার্চ পাক হানাদার বাহিনী ঢাকার পাশের শহর নারায়ণগঞ্জে প্রবেশের চেষ্টা করে। এর আগেই ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের পাগলা থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত পথে পথে ট্রেনের বগি ফেলে ও বড় বড় গাছ কেটে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। পাক বাহিনী ফতুল্লার মাসদাইর পর্যন্ত বিভিন্ন ভাবে ব্যারিকেড সরিয়ে আসতে পারলেও মাসদাইর বর্তমান পুলিশ লাইনের কাছে এসে বাধাপ্রাপ্ত হয়। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ তৎকালীন এমএলএ একেএম সামছুজ্জোহা ও আফজাল হোসেনের সামগ্রিক তত্বাবধানে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হয়। সম্ভবত পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এটাই প্রথম সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ যুদ্ধ। এখানে পাক বাহিনীকে ২৬ঘন্টার বেশী সময় আটকে রাখা হয়। আর এর ফলে পাক বাহিনী ২৭জনকে নির্মমভাবে হত্যার পর ২৭মার্চ দুপুরে শহরে প্রবেশ করে। মূলত মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এটাই ছিল দেশের প্রথম পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ।  সেই প্রতিরোধকালীন সময়ের শেষে পাক হানাদার বাহিনী যে ২৭জনকে বিভিন্ন স্থানে হত্যা করে তখন বর্তমানে কেরানীগঞ্জের পানগাওয়ে বসবাসকারী মোহাম্মদ হোসেন এই হত্যাকান্ডের একজন প্রত্যক্ষদর্শী। মোহাম্মদ হোসেন সেদিনের ঘটনা বলতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত কন্ঠে বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্য হয়েও আমরা কোন সম্মানী তো দুরের কথা আমাদের স্বীকৃতি পর্যন্ত দেয়া হয়নি। তার চাচাসহ পাঁচজনকে হত্যার সময় মোহাম্মদ হোসেন নিজেও গুলিবিদ্ধ হয়। পাক বাহিনী মোহাম্মদ হোসেন মারা গেছে ভেবে চলে যান। ৩দিন অজ্ঞান থাকার পর জ্ঞান ফিরে দেখেন সে লাশের পাশে পড়ে আছে। এরপর কেরাণীগঞ্জ চলে যান। এব্যাপারে মোহাম্মদ হোসেন জানান, পঙ্গু অবস্থায় দূর্বিষহ জীবন যাপন করলেও সেদিন পাক হানাদার বাহিনী কে প্রতিরোধ করার অপরাধে উত্তর মাসদাইরের ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তার গাড়ির চালক নুর ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম, পূর্ব মাসদাইরের সাবেক মন্ত্রী মরহুম আব্দুস সাত্তারের পুত্র তৌফিক সাত্তার ও তার বন্ধ জালাল, পশ্চিম মাসদাইরের ভাষা সৈনিক খাজা জহিরুল হকের বোন হাসিনা হক, ভগ্নিপতি জসিমুল হক সহ দারোয়ান ও দুইজন বাড়ীর কাজের লোককে গুলি করে হত্যা করে। শুধু তাই নয় পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে বাচঁতে গিয়ে একই এলাকার সাচ্চু, জিন্নাহ ও আকবর মসজিদে আশ্রয় নিলে নরপিশাচরা মসজিদে ঢুকে তাদেরকে গুলি করে হত্যা করে। এছাড়া গুলবদন নামের এক মহিলাকে পুড়িয়ে মারে। ব্যাংকার আব্দুস সাত্তার, জনৈক আনিছুল ইসলামের দুই মেয়ে সহ ২৭ জনকে নির্মমভাবে ২৭শে মার্চ হত্যা করা হয় বলে সেদিনের প্রত্যক্ষদর্শী মো: হোসেন কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান। বাংলাদেশের ইতিহাসে এরাই দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রথম বেসরকারী শহীদ বলা চলে। সেই হত্যাযজ্ঞের প্রত্যক্ষদর্শী মো: হোসেন এখন কেরানীগঞ্জের পানগাওয়ে অবস্থান করছেন। পঙ্গু এই মুক্তিযোদ্ধার মো: হোসেন ক্ষোভের সাথে বলেন, স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও মুক্তিযুদ্ধের কোন সুফল ভোগ করিনি। মুক্তিযোদ্ধার সম্মানটুকু অদ্যাবধি পাইনি। সরকারী সুযোগ-সুবিধা তো দুরের কথা কেউ এ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের সেই অবদানকে স্বরণ করে আমাদের স্বীকৃতিটুকুও দেয়নি। অথচ আমাদের বাড়িতেই আমার চাচা আব্দুস সাত্তার সহ মাসদাইর এলাকায় ২৭জনকে হত্যা করে। মোহাম্মদ হোসেন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ৩দিন অজ্ঞান থাকার পর জ্ঞান ফিরে আসলে মাসদাইর থেকে কেরানীগঞ্জে যান। অথচ সেই মোহাম্মদ হোসেন মুক্তিযুদ্ধের সনদটুকু পর্যন্ত পাননি। এমনকি তার অনেক সম্পত্তি বেদখল করে রাখা হয়েছে। বিগত বিএনপি সরকারের আমলে ২০০৩ সালে এর আনুষ্ঠানিক নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ওই সরকারের আমলেই শেষ হয় কাজ। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এ স্তম্ভের অনেকটা বেহাল দশা। শহরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষিত এ স্তম্ভের বিভিন্ন স্থানে বাতি লাগানো হলেও সেগুলো জ্বলে উঠেনি কখনো। বর্তমানে শহরের চাষাড়া শহীদ মিনারের চারপাশে স্থাপিত বাতিগুলোও বাতিলে পরিনত হয়েছে। ময়লা আবর্জনাতে প্রায় সময়েই থাকে অপরিস্কার। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের মাসদাইর কবরস্থান সংলগ্ন স্থানে তৈরী করা হয়েছে প্রতিরোধ স্তম্ভ। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাত্রির পর ২৬ মার্চ বিকালে নারায়ণগঞ্জের দামাল ছেলেরা খবর পায় পরদিন তথা ২৭ মার্চ পাক বাহিনী নারায়ণগঞ্জ শহরে প্রবেশ করে। ওইদিন নারায়ণগঞ্জের মুক্তিকামীরা শহরের মাসদাইর এলাকা পৌর কবরস্থান শশ্মান ঘাট সংলগ্ন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ (পাগলা) সড়ককে অবস্থান নেয়। সেখানে তারা পাক বাহিনীর প্রবেশে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং সড়কের পঞ্চবটি থেকে মাসদাইর পর্যন্ত গাছ কেটে সড়ক অবরোধ করে রাখেন। একই সময়ে পাক বাহিনী যাতে শহরে প্রবেশ করতে না পরে এজন্য শহরের চাষাড়ায় রেল গেইটে ট্রেনের বগি ফেলে রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। এ ঘটনা ছিল রাজধানীর বাইরে প্রথম কোন স্থানে প্রতিরোধ। গত বিএনপি সরকার এ স্থানে প্রতিরোধ স্তম্ভ নির্মাণ করে যা এখন অনেকটা অবহেলিত অবস্থায় বেদখল হয়ে আছে। অযতœ আর অবহেলার কারণে এর প্রকৃত সৌন্দর্য্য বিলীন হওয়ার পথে। আশেপাশের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ইট-বালু ও আর নানা সামগ্রী দিয়ে স্তম্ভের স্থান দখল করে রাখা হয়েছে। নষ্ট হচ্ছে এর পবিত্রতা। মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসে একাত্তরের ২৯ নভেম্বর দিনটি ছিল নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য বেদনা বিধুর দিন। ওই দিন ফতুল্লা থানার দুর্গম চরাঞ্চল বুড়িগঙ্গা নদী বেষ্টিত বক্তাবলীতে হত্যাযজ্ঞ চালায় পাক হানাদার বাহিনী। স্বাধীনতা যুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে একসাথে এত প্রাণের বিয়োগান্ত ঘটনা দ্বিতীয়টি আর নেই। স্বজন হারানো ব্যথা ও কষ্ট নিয়েও শ্রদ্ধার সাথে প্রতিবছরই পালিত হয় এই দিবসটি। এটি নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য অত্যন্ত অর্থবহ একটি দিন। ২৯ নভেম্বর সকালে মুক্তিযোদ্ধাদের উপুর্যপরি আক্রমনের মুখে পাক হানাদাররা পিছু হঠতে শুরু করে। এসময় তারা রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনীর পরামর্শে তারা ১৩৯ জন নিরস্ত্র গ্রামবাসীকে ধরে এনে লাইন ধরিয়ে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে। এতে নিহত হয় শাহিদ, ফারুক, অহিদ, মনির, শাহ আলম, রহমতউল্লাহ, সামছুল, আলম, সালামত, খন্দকার, সুফিয়া, আম্বিয়া, খোদেজা সহ ১৩৯ জন। পিছু হটার সময় হানাদার বাহিনী পেট্রোল ও গান পাউডার দিয়ে পুড়িয়ে দেয় বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী পার সংলগ্ন বক্তাবলী পরগনার, রাজাপুর ডিগ্রীর চর, মুক্তারকান্দি, গঙ্গানগর, রাম নগর, গোপাল নগর, রাধানগর সহ ২২ টি গ্রাম। বিগত বিএনপি সরকারের আমলে এ ওই স্থানে একটি স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এ স্তম্ভটিও রয়েছে চরম অবহেলায়। অথচ মুক্তিযুদ্ধের সুবিধাভোগী যারা তারা এই ইতিহাস জানে কিনা এটাই নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রশ্ন। নারায়ণগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধে বিশাল অবদান রাখা সত্বেও আজওবধি নারায়ণগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের দলিল পাওয়া যায় না। এ ব্যপারে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভের সংগে বলেন, বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অনেক কিছু করছে কিন্তু আমরা চাই নারায়ণগঞ্জে প্রথম শহীদদের স্বীকৃতিসহ ভুয়া ও লুটেরা কথিত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করা হউক। এ ব্যপারে গত ৮ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক নারায়ণগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স উদ্বোধনকালে এ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সাথে নারায়ণগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যাতে লিপিবদ্ধ হয় তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্বাধীনতা দিবসে প্রমাণ হয়েছে তৈমূরের বিকল্প নেই

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

একসময় কেন্দ্রীয় বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা নারায়ণগঞ্জ বিএনপি বিগত কয়েক বছর ধরেই পুলিশের ভয়ে রাজপথ বিমুখ ছিল। দলীয় সকল কর্মসূচিতেই বেশিরভাগ সময় তাদেরকে নিরব থাকতে দেখা গেছে। যদিও অনেক সময় কর্মসূচি পালন করেছেন, তবে সে কর্মসূচি ছিলো নামমাত্র, যা ফটোসেশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো। এবার অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে তার নজরকাড়া শোডাউন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে এনে দিয়েছে নতুন মোড়। নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও ফিরে পেয়েছেন তাদের হারানো মনোবল। তারা আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন নারায়ণগঞ্জের রাজপথ দখলের। আগামী দিনের কর্মসূচিতে আবারও সরব হয়ে উঠবেন বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।  তাদের মতে, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটির নেতারা যখন গুটিয়ে যাচ্ছিলেন ঠিক তখনই তৈমূরের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের এমন উত্থান বিএনপির জন্য নতুন বার্তা নিয়ে আসবে।  জানা যায়, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ২৬ মার্চ সোমবার শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকা থেকে জেলা ও মহানগর বিএনপির কয়েক হাজার নেতাকর্মীদের নিয়ে শহরে শোডাউন করে চাষাড়া বিজয় স্তম্ভে সকল শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তৈমূর আলম খন্দকার। এর আগে এদিন সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় হাজার হাজার নেতাকর্মীদের নিয়ে জড়ো হন তৈমূর আলম খন্দকার। জেলার রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, সোনারগাঁ, বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ, সদর ও ফতুল্লার কয়েক হাজার নেতাকর্মী সেখানে জড়ো হন। তারপর নিতাইগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির ব্যানারে বিশাল শোডাউন করে নারায়ণগঞ্জের মন্ডলপাড়া, ২নং রেলগেট, উকিলপাড়া হয়ে চাষাঢ়া গোল চত্ত্বরে বিজর স্তম্ভে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তৈমূর আলম খন্দকার। শ্রদ্ধা জানানোর পর তৈমূর আলম খন্দকার নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দল দেশ ও জাতির দুর্দিন চলছে। এমতাবস্থায় আমরা স্বাধীনতা দিবসে এখানে উপস্থিত হয়েছি। বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে আমি আপনাদের সকলকে মোবারকবাদ। তিনি আরো বলেন, পৃথিবীর অনেক নেতাই জেলে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ইতিহাসে বরপুত্র হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জেলে আছেন এখানে আমাদের শোকের কিছু নাই দুঃখের কিছু নাই। আমরা এই শোককেই শক্তিতে রূপান্তরিত করে এদেশে আবারো বেগম খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী করব। এদিকে স্বাধীনতা দিবসের দিনটিতেও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটিরা নেতারা। হাতে গোনা নেতাকর্মীদের নিয়ে শহীদদের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান কমিটির নেতারা। জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটির নেতাদের ক্ষুদ্র পরিসরের নিচে কর্মসূচি ঢাকা পড়ে গেল তৈমূর আলম খন্দকারের বিশাল শোডাউনে। তৈমূর আলম খন্দকারের এ বিশাল শোডাউনে নেতাকর্মীদের নিয়ে যোগদান করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার মনিরুল ইসলাম, সাবেক সেক্রেটারি সম নুরুল ইসলাম, শহর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি সদ্য কারামুক্ত সুর”জ্জামান, কেন্দ্রীয় ওলামাদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুন্সী সামসুর রহমান খান বেনু, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সেক্রেটারি এমএ হালিম জুয়েল, বিএনপি নেতা মাজিদুল ইসলাম, বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি নুরউদ্দীন আহমেদ, সেক্রেটারি মাজহার”ল ইসলাম হিরণ, বন্দর শহর বিএনপির সভাপতি নূর মোহাম্মদ পনেছ, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ খান ভাসানী ভূইয়া, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নুরুল হক চৌধুরী দিপু, সোনারগাঁও পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হুমায়ুন কবির রফিক, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট আজিজ আল মামুন, আইনজীবী ফোরাম নেতা অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান খান খোকা, অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সানোয়ার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মমতাজ উদ্দীন মন্তু, যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তার হোসেন খোকন শাহ, জুয়েল প্রধান, জুয়েল রানা,  নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক নুরুন্নাহার বেগম, মহানগর মহিলা দলের আহ্বায়ক রাশিদা জামাল, যুগ্ম আহ্বায়ক সাজেদা খাতুন মিতা, সোনারগাঁও মহিলা দলের নেত্রী রুমা আক্তার, আড়াইহাজার মহিলা দলের সভাপতি পারভীন আক্তার, ফতুল্লা থানা যুবদলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু, বন্দর উপজেলা যুবদলের সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম রিপন, বন্দর থানা যুবদলের সভাপতি আমির হোসেন, মহানগর শ্রমিকদলের আহ্বায়ক এসএম আসলাম, বন্দর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি সোহেল খান বাবু, যুবদল নেতা মাহাবুবুল হাসান জুলহাস, গাজী মনির হোসেন, যুবদল নেতা রাসেল আহমেদ মনির, ইসলেহ উদ্দীন, মোহাম্মদ শহীদ, ছাত্রদল নেতা রাফিউদ্দীন রিয়াদ, শাহাদুল্লাহ মুকুল, জেলা শ্রমিকদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দীন, নারায়ণগঞ্জ জেলা জাসাসের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক গিয়াসউদ্দীন প্রধান, মহানগর শ্রমিকদল নেতা ফার”ক হোসেন, শাহজাহান মিয়া, সেলিম মিয়া, বিল্লাল হোসেন, জামাল সরদার, শ্রমিকদল নেতা রবি মেম্বার প্রমুখ।

সেলিম ওসমানের সুস্থ্যতা কামনায় জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন স্থানে দোয়া

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সাংসদ সেলিম ওসমানের রোগমুক্তি কামনা করে দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দোয়ায় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান ও তার পরিবারের সদস্যদের সুস্থ্যতা এবং প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির উদ্যোগে উক্ত দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের এর সভাপতিত্বে উক্ত দোয়া ও মিলাদে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক সানাউল্লাহ সানু, সদস্য সচিব আকরাম আলী শাহীন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি কাজী মহসিন, মহানগর শ্রমিক পার্টির আহবায়ক আবুল খায়ের ভূইয়া, মদনপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক গোলাপ হোসেন, জেলা যুবসংহতি নেতা কামাল হোসেন, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, ১৯নং ওয়ার্ড জাতীয় পার্র্টির সভাপতি পলি বেগম, শ্রমিক পার্র্টি নেতা আবু তাহের, ছাত্র সমাজ নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন রূপু, ছাত্র সমাজ নারায়ণগঞ্জ মহানগর এর সভাপতি শাহ আলম সবুজ, সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহম্মেদ সহ অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। এদিকে ১৯নং ওয়ার্ড জাতীয় পার্টির সভাপতি পলি বেগমের উদ্যোগে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সুস্থ্যতা কামনা করে সোমবার রাতে ওয়ার্ড জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে দোয়া ও কোরআন খতম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

যথাযোগ্য মর্যাদায় না’গঞ্জে স্বাধীনতা দিবস পালিত

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

যথাযোগ্য মর্যাদায় নারায়ণগঞ্জে পালিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। এ উপলক্ষ্যে গতকাল সোমবার রাত ১২টা ১ মিনিটে বিজয় স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পন করা হয়। ভোর সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনি, সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাষিত, বেসরকারি ভবন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও কলকারখানায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পৃথকভাবে ও অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুষ্পমাল্য অর্পনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে মোনাজাত করা হয়। সকাল ৮টায় কোরআন তেলওয়াত ও গীতাপাঠের মধ্যে দিয়ে ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে শুরু হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। প্যারেডে জেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। পরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া সকল হাসপাতাল, শিশুসদন, এতিমখানা, সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র ও জেলা কারাগারে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। পাশাপাশি সকল মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।  দুপুর ২টায় নারায়ণগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মহিলাদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া অনুষ্ঠান ও বিকাল সাড়ে ৪টায় ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসন একাদশ বনাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা একাদশের প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।  এছাড়া সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ র্মাচের ভাষণের তাৎপর্য ও উন্নয়নের অগ্রগতি’শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলার শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস  উদযাপন উপলক্ষ্যে গতকাল সোমবার  দুপুরে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ।এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া।নারায়ণগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে ও মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক, বিপিএম, পিপিএম, নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক তানভীর আহমেদ টিটু, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার কাজল, বীর মহিলা মুক্তিযোদ্ধা ফরিদা আক্তার, যুদ্ধকালীন কমান্ডার আব্দুস সাত্তার, বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. নুরুল হুদা, বীর মুক্তিযোদ্ধা সামিউল্লাহ মিলন, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান ভূইয়া জুলহাস ও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাগণ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলেন, প্রথমেই শুভেচ্ছা জানাচ্ছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার পরিবার, তার সহযোদ্ধা ও সকল মুক্তিযোদ্ধাদের।আজকে যে বাংলাদেশের বুকে আমরা দাড়িয়ে আছি তার অবদান মুক্তিযোদ্ধাদের।ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে ভেজা মাটি।কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এক সময় এই মাটিতে রাজাকার, আল-বদর, আল-শামসদের স্যালুট দিতে হয়েছে আমাদের।এখনও ভয় হয় কখন আবার পেট্রোল বোমা মারে।কিন্তু আপনাদের ভয় পাবার কিছু নেই।পুলিশ প্রশাসন এদেরকে প্রতিহত করার জন্য সর্বদা সচেষ্ট আছে।আমাদের এই মুহুর্তে সবচেয়ে বড় আগ্রাসন হচ্ছে, মাদক। আপনাদের সহযোগিতা থাকলে জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূল হবে।এখনও পাক হানাদার বাহিনীদের নিঃশ্বাস আমাদের উপড়ে আসে।একজন মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুবরণ করেন কিন্তু তার চেতনা কখনো মৃত্যুবরণ করে না।বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে কিন্তু বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে কি হত্যা করতে পেরেছে? পারে নাই।বঙ্গবন্ধু কন্যার হাত ধরে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নত দেশের দিকে পৌছাতে যাচ্ছি।নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক তানভীর আহম্মেদ টিটু বলেন, যাদের জন্য বাংলাদেশ পেয়েছি তাদেরকে আমি স্যালুট জানাই।নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি হিসেবে আমার বড় প্রাপ্তি হচ্ছে, আজকে মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে বক্তব্য দিতে পারা।আজকে সরকারি ছুটি থাকা সত্ত্বেও নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে মুক্তিযোদ্ধাদের জায়গা দিতে পেরেছি বলে নিজেকে ধন্য মনে করছি।আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখি নাই তাই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কাজ করতে পারলে নিজেকে কৃতজ্ঞ মনে করি।সভাপতির বক্তব্যে জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়েই আমরা মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম।তার ডাকে সাড়া না দিলে আজকে বাংলাদেশ হতো না।মুক্তিযুদ্ধে চলাকালীন সময়ে যারা শহীদ হয়েছিলেন, যারা এখনও পঙ্গুত্ব বরণ করে বেঁচে আছেন, তাদের জন্য অনেক সময়ই আমরা অনেক কিছু করতে পারি না।বঙ্গবন্ধু কন্যার কাছ থেকে আমরা অনেক রকম সাহয্য সহযোগিতা পাচ্ছি প্রতি মাসে ১০ হাজার করে টাকা পাচ্ছেন। প্রতি বছর তিনবার বোনাস পাচ্ছেন, চিকিৎসা ভাতা পাচ্ছেন।যাদের থাকার জায়গা নেই, বাড়িঘর নেই তাদের জন্য প্রতিটি উপজেলায় ফ্লাট করা হবে। এর জন্য সবাই শেখ হাসিনার প্রতি সকলে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করবেন, তার জন্য দোয়া করবেন।আমরা আশা করি দেশ এরকম থাকবে না, আগামীতে আমরা আরো এগিয়ে যাবো। অতিথিদের বক্তব্য শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মহিলাদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া অনুষ্ঠান ও বিকালে ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসন একাদশ বনাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা একাদশের প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মাচের্র ভাষণের তাৎপর্য ও উন্নয়নের অগ্রগতি’শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে সভাপতি আব্দুল হাই ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে অন্যান্য নেতারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাজানান ।