আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:১৩
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

নেতা-কর্মীদের উপর নির্যাতন প্রধানমন্ত্রী মেনে নেবেন না : সাংসদ শামীম ওসমান

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেন, আমি কষ্ট পাই, দুঃখ পাই, লজ্জা পাই এই কারণে যে ঝগড়া হতে পারে, নেতৃত্বের কোন্দল থাকতে পারে, তার মানে এই না আমি আপনার দুশমন, আপনি আমার দুষমন। যারা আওয়ামীলীগের কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়, নির্যাতন করে, আগামীতে তাদের ভবিষ্যৎ খুব একটা ভালো হবে বলে আমার মনে হয় না। নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন আমি, বাবু, রফিক সাহেব মেনে নিবেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কখনো তা মেনে নিবেন না। কারণ প্রধানমন্ত্রী জানেন আওমীলীগের মূল শক্তি হচ্ছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। গতকাল বুধবার বিকেলে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যেগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শামীম ওসমান এসব কথা বলেন। রূপগঞ্জের রাজনীতিতে আওয়ামীলীগের দুটি ধারা রয়েছে। এর মধ্যে একটির নেতৃত্বে আছেন সরকারদলীয় এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী ও অপরটি নেতৃত্বে আছেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূইয়া। গতকাল বুধবার শাহজাহান ভূইয়ার গ্রুপের উদ্যোগেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আড়াইহাজার আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, রূপগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী শাহাজাহান ভূইয়া, কায়েতপাড়ার চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা মাসুম চৌধুরী অপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। শামীম ওসমান বলেন, এগুলো বলতে খারাপ লাগে। সব এলাকায় এসব চলে। চামচিকা পাখি হতে চায়, কাউয়া মূয়ুর হতে চায়, গালি দেয়। আমাকেও গালি দেয়। এগুলো এখন আর গায়ে লাগে না, অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কাউকে গালি দিয়ে বড় হওয়া যায় না। বরং ভালোবেসে কাছে টানতে হয়। আওয়ামীলীগের একজন কর্মী হিসেবে যারা মামলা হামলা নির্যাতনের শিকার হয়েছে আমি তাদের কাছে জোর ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। যা হচ্ছে আমি এবং বাবু যেখানে যাওয়া প্রয়োজন সেখানে যাবো, গিয়ে বোঝাবো। আপনারা ধৈর্য ধরেন। সামনে কঠিন সময়। শকুনেরা ছোবল দিবে। তিনি বলেন, আমি এমপি না হলে দেশের কিছু আসে যায় না। বাবু এমপি হলে কিছু আসে যায় না, মরে গেলেও কিছু আসে যায় না। কিন্তু আগামীতে আবারও শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে। শেখ হাসিনা বিশ্বনেত্রী । শেখ হাসিনার ক্ষমতায় দেশের উন্নয়ন হবে। আওয়ামীলীগের কর্মী হিসেবে নয় একজন মুসলমান হিসেবে বলি, শেখ হাসিনা দয়াল মানুষ, জাতির জনকের কন্যা। শেখ হাসিনা ক্ষমা করবেন, আমরাও ক্ষমা করবো । কিন্তু যারা ক্ষমতার বলে হরতালের নামে মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছেন। সবাই মাফ করলেও আল্লাহ ক্ষমা করবেন না।

নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে মহান স্বাধীনতা দিবস পালন

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিঃ এর উদ্যোগে মাসব্যাপী বিভিন্ন খেলাধূলার আয়োজন করা হয়। এরই অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার সকালে চিত্রাংকন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ক্লাব সভাপতি তানভীর আহমেদ এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সংস্কৃতি ও গ্রন্থাগার বিষয়ক উপ-কমিটির আহ্বায়ক ডাঃ এ কে এম শফিউল আলম ফেরদৌস আনুষ্ঠানিকভাবে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচী শুরু হয়। একই দিন সন্ধ্যায় ক্লাব সবুজ চত্বরে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত দ্বিতীয়ার্ধের অনুষ্ঠানে প্রথমে পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত করেন হাফেজ মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। ক্লাব সভাপতি তানভীর আহমেদের শুভেচ্ছা বক্তব্যের পরে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে লাখো শহীদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর ঢাকাস্থ নাট্য ধারার পরিবেশনায় মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক মঞ্চস্থ্য করা হয়। নাটক মঞ্চায়নের পর চিত্রাংকন, আবৃত্তি, পুল, ¯œুকার, সাঁতার ও টেনিস প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরস্কার বিতরণ পর্বে ক্লাবের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব খবির আহমেদ, আনোয়ার হোসেন আনু, বর্তমান সহ সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান কার্যনির্বাহী সদস্য সোহেল আক্তার, মোঃ আনোয়ার হোসেন, আলহাজ্ব মোঃ সিরাজুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার হোসেন মোঃ তানিম তৌহিদ, মোঃ ইদী আমীন ইব্রাহীম খলিল, মোঃ আশিক-উজ-জামান, সেলিম রেজা সিরাজী ও সজল কুমার রায় এবং সংস্কৃতি ও গ্রন্থাগার বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য তমিজউদ্দিন রিজভী, রোখসানা খবির, খন্দকার শাহ আলম প্রমুখ সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। পুরস্কার বিতরণ শেষে মনোজ্ঞ সঙ্গীতানুষ্ঠানে সঙ্গীত জগতের জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী’র মন মাতানো গান পুরো অনুষ্ঠানকে বর্নিল করে তোলে।

 

না’গঞ্জে ট্রেনের কাটায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল ট্রেনটি। কর্তৃপক্ষকে ফাঁকি দিতে গিয়ে দুই বগির মাঝখানে বসছিল এক অজ্ঞাত যুবক। ট্রেনটি চাষাঢ়া স্টেশন পার হয়ে ইসদাইর বাজার যেতেই ওই যুবকটি আর তার ভারসাম্য ধরে রাখতে পারেনি। ফলে ট্রেন থেকে পড়ে যান এবং তাৎক্ষণিক তার মৃত্যু ঘটে। শুধুমাত্র ওই যুবক নয়, এভাবে প্রায় প্রতিনিয়তই ঘটে যাচ্ছে দুর্ঘটনা। কোন সময় কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেও ঘটে আবার কোন সময় অতি উৎসাহী আচরণের কারণে কিংবা বিনা টিকেটে চড়তে গিয়ে প্রাণের বিনিময়ে মাশুল দিতে হচ্ছে। এছাড়াও এসব দুর্ঘটনার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে রেল লাইনের পাশে প্রচুর আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা এবং ছোট ছোট হাট বাজার গড়ে তোলা। তাছাড়া রেল ক্রসিং এলাকার গেইটম্যানদের কারণেও অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। জানা যায়, রেল লাইনের পাশে আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনার পিছনে রয়েছে রেল কর্মকর্তা ও জিআরপি পুলিশের কিছু বাড়তি সুযোগ সুবিধা। স্থানীয়দের ব্যবসা করার সুবিধার্তে এসব কর্মকর্তারা পাচ্ছেন মাসোহারা। যদিও এ বিষয়ে অনেকেই মুখ খুলতে চান না। ফলে আড়ালেই থেকে যায় সুবিধাভোগী কর্মকর্তারা। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাসের ব্যবধানে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি ফতুল্লার কোতালেরবাগ এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত এক যুবকের মৃত্যু হয়। যার বয়স ছিলো ৩২-৩৫। গত ৮ মার্চ নগরীর উকিলপাড়া এলাকায় ট্রেনে কাটা পরে রাজিব দাস নামে এক যুবকের মৃতু ঘটে। এর দুদিন পর ১০ মার্চ নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের দুই বগির মাঝখানে বসে যাওয়ার পথে ভারসাম্য হারিয়ে ট্রেনের নিচে পড়ে গিয়ে এক অজ্ঞাত যুবক নিহত হয়। এছাড়াও বেশ কয়েকটি দূর্ঘটনা ঘটেছে।  সর্বশেষ গত ১৮ মার্চ রাতে নগরীর ১ নং রেলগেইট এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় রেললাইনের উপর থামানো একটি পণবাহী ট্রাক উল্টে যায়। ট্রাকের ভিতরে লোক না থাকায় ঘটেনি কোন হতাহতের ঘটনা। তবে অনেক বড় দুর্ঘটনাই ঘটতে পারতো যদি লোকজন আগে থেকে না সড়লে।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কে ধুলায় যাত্রীদের করুন দশা

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে প্রাচ্যের ডান্ডি নারায়ণগঞ্জের যোগাযোগের প্রধান রুট ছিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ (পাগলা) পুরাতন সড়ক। মুন্সিগঞ্জ জেলাতেও যাতায়াতেরও অন্যতম রুট ছিল এই সড়কটি। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক লাখ শ্রমিকের যাতায়াত করতে হয়। তেমনি সড়কটির দু’পাশেও রয়েছে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গেল কয়েকদিন ধরে এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কে ধুলায় যাত্রীদের বেহাল দশা হলেও দেখার যেন কেউ নেই। সড়কটিতে ধুলার কারণেও দিনের বেলাতেও মনে হয় কুয়াশার আবহ। তার উপরে তীব্র যানজটতো রয়েছেই। জানা গেছে, ফতুল্লার পঞ্চবটি সংলগ্ন শাসনগাওয়ের বিসিক শিল্পনগরী এলাকাতে রয়েছে অন্তত  সহ¯্রাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান। যাতে অন্তত ৩ লাখ শ্রমিক কাজ করছে। শুধুমাত্র বিসিক শিল্পনগরী থেকেই প্রতি বছরে আড়াই হাজার কোটি টাকা সমপরিমান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে। ফতুল্লার মুন্সিখোলা এলাকায় রড সিমেন্টের পাইকারী ব্যবসাকেন্দ্র, আলীগঞ্জ ও দাপায় পাথর ও বালু ব্যবসা, ফতুল্লার পঞ্চবটি, নরসিংপুর, বক্তাবলী এলাকায় শতাধিক ইটভাটা, বিভিন্ন স্থানে অর্ধশতাধিক রি-রোলিং মিল, পঞ্চবটিতে মেঘনা ও যমুনা পেট্রোলিয়াম তেলের ডিপো অবস্থিত। এসকল শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান, ট্রাক, তেলের ডিপোর ট্যাংকলরীসহ কয়েক হাজার যানবাহন প্রতিনিয়ত চলাচল করছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ (পাগলা) পুরাতন সড়ক দিয়ে। মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর এলাকায় গড়ে ওঠা শাহ সিমেন্ট, প্রিমিয়ার সিমেন্ট, ক্রাউন সিমেন্টসহ বেশ কিছু কারখানার কয়েকশত বৃহদাকার কাভার্ডভ্যানও প্রতিনিয়ত সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করছে। এছাড়া গণপরিবহনতো রয়েছেই। এদিকে দুই দশক পূর্বেও রাজধানী ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জে আসার প্রধান রুট ছিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ (পাগলা) পুরাতন সড়ক। এছাড়া ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকা থেকে মুক্তারপুর হয়ে মুন্সিগঞ্জ যাওয়ার একটি রুটও রয়েছে। তবে নব্বই’র দশকের দিকে পোস্তগোলা এলাকায় চীনের অর্থায়নে ব্রীজ নির্মাণের পর মুন্সিগঞ্জের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সরাসরি সেতুবন্ধন রচিত হয়। ১৯৯৫ সালের দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে দ্রুত যাতায়াতে ওই রুটটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। মূলত এরপর থেকেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ (পাগলা) পুরাতন সড়কটিতে আর প্রশস্থতার ছোঁয়া লাগেনি। ঢাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্যমতে, শহরের চাষাঢ়া থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ (পাগলা) পুরাতন সড়কের পোস্তগোলা পর্যন্ত দৈর্ঘ্য ১২ কিলোমিটার। সড়কটির প্রশস্ততা মাত্র ২৪ ফুট। কিছু কিছু স্থানে সামান্য বেশী রয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে গত ২ যুগেও লাগেনি প্রশস্ততার ছোঁয়া। এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ (পাগলা) পুরাতন সড়কটিতে ধুলার কারণে দিনের বেলাতেই কুয়াশার আবহ। ধুলার কারণে সড়কে চলাচলরত যাত্রীদের নাভিশ্বাস উঠছে। ধুলার কারনে যাত্রীরা প্রায়ই নানা ধরনের রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শ্রমিকদের। কারণ প্রতিদিন অন্তত ৪ বার তাদেরকে সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে দুই পাশে ধুলার আস্তরন জমে থাকলেও সেটা অপসারনের কোন দায়িত্বই যেন নেই সড়কটির তদারকিতে থাকা সড়ক ও জনপথ ঢাকা বিভাগ কর্তৃপক্ষের। সম্প্রতি কয়েক কোটি টাকা ব্যায়ে সড়কটি সংস্কার করেই যেন দায় সেরেছেন সড়ক ও জনপথ ঢাকা বিভাগের কর্মকর্তারা। তবে সড়কটি সংস্কারের কয়েকদিনের মধ্যেই আবারো বিভিন্ন স্থানে ছোট আকারের গর্ত দেখা গেছে। কোথাও কোথাও সড়ক এবড়োথেবড়ো অবস্থায় রয়েছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ফতুল্লাবাসী।

রণদা প্রসাদ সাহা হত্যার বিচার শুরু

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় টঙ্গাইলের দানবীর হিসেবে পরিচিত রণদা প্রসাদ সাহা হত্যা মামলায় টাঙ্গাইলের মো. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আগামী ২২ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের দিন ঠিক করেছেন আদালত। আসামির বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ ও গণহত্যার তিনটি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যর ট্রাইব্যুনাল বুধবার এই আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ, তাপস কান্তি বল ও রেজিয়া সুলতানা চমন। আসামিপক্ষে ছিলেন আবদুস সাত্তার পালোয়ান। তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ৭ মে আসামি মাহবুবুরের সহায়তায় পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্যরা রণদা প্রসাদ ও তার ছেলেকে নারায়ণগঞ্জের খানপুরের সিরাজউদ্দৌলা সড়কের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। আসামি মাহবুবুরের বিরুদ্ধে সাহাপাড়া এলাকায় ৩৩ জন হিন্দুকে ধরে নিয়ে হত্যা ও মির্জাপুর থেকে ২৪ জনকে অপহরণের পর তাদের মধ্যে ২২ জনকে মধুপুরে নিয়ে হত্যার অভিযোগসহ নির্যাতনের তিনটি অভিযোগ গঠনকরা হয়। প্রতিবেদনে মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে সমাজসেবক রণদা প্রসাদ সাহা হত্যাসহ অপহরণ, অগ্নিসংযোগ ও গণহত্যার তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে গত ১১ জানুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ ও গণহত্যার তিনটি অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউটর রানা দাসগুপ্ত। গত বছরের ৯ জুন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালের অধীনে মাহবুবুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বইরাতিয়াপাড়ায়। একই বছরের ২ নভেম্বর মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে অপরাধের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে তদন্ত সংস্থা।

 

 

নারায়ণগঞ্জের দুটি আসনে প্রার্থী বদল হতে পারে !

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

একাদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশে ৭৮টি আসন অপরবর্তীত রাখবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এই ৭৮টি আসন দলটির হেভিওয়েট প্রার্থীদের জন্য বরাদ্দ। যারা গত নির্বাচন এবং এর আগের নির্বাচনের দাপুটে জয় ছিনিয়ে এনেছিলেন। একটি অসমর্থিত সূত্র থেকে জানা গেছে, বিএনপি কেমন প্রার্থী ঘোষণা করে তা দেখে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ঘোষণা করবে। তবে মোটামুটিভাবে দলটি তিন স্তরের প্রার্থী ঘোষণা করবে এটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরমধ্যে তরুণ রাজনীতিক এবং হেভিওয়েট প্রার্থীদের আধিক্য থাকবে একটু বেশি। সূত্র মতে, নারায়ণগঞ্জে ৫টি আসনের মধ্যে একটি আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী ধরা হয়েছে। তবে এই একটি হেভিওয়েট প্রার্থী কে? তা নিশ্চিত করতে পারেনি সূত্রটি। বর্তমানে এই জেলায় আওয়ামী লীগের মোট ৩জন সংসদ সদস্য রয়েছে। এরা হলেন প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমান, গোলাম দস্তগীর গাজী এবং নজরুল ইসলাম বাবু। অপর দুই আসনে আওয়ামী লীগের শরীক জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে সেলিম ওসমান ও লিয়াকত হোসেন খোকা রয়েছেন সংসদ সদস্য হিসেবে। সূত্র বলছে আওয়ামী লীগের তিন সংসদ সদস্যের মধ্যে একজনকে হেভিওয়েট ধরা হয়েছে। এই একটি আসনে কোনো রকম পরিবর্তন আনা না হলেও অপর দুটি আসনে প্রার্থীতা নড়চড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র আরও জানান, আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ আসনে প্রার্থী বদলের সম্ভাবনা বেশী। আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী তালিকাতে শামীম ওসমানই রয়েছেন। তবে নজরুল ইসলাম বাবু ও গোলাম দস্তগীর গাজীর ক্ষেত্রেও এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। কারো কারো কাছে বাবু কেউ বলছেন গাজী হেভিওয়েট। অপরদিকে শামীম বিরোধী শক্তি নিশ্চিত হয়ে আছেন এবারের নির্বাচনে শামীম ওসমানের আসনই নড়চড় হবে। তাঁরাও চাইছেন এই আসনে শামীমের পরিবর্তে অন্য কোনো প্রার্থী। এ লক্ষ্যে গোপনে একটি পক্ষ বেশ জোরালোভাবেই অনেকদিন ধরে মাঠে কাজ করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় হাই কমান্ড এই আসনে শামীম ওসমানকে সরিয়ে অন্য কোনো প্রার্থী দিবেন কিনা সে নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যদিও বিগত দিনের রোজনামচায় শামীম ওসমানের রের্কড খুব একটা ভালো নয় দলীয় প্রধানের কাছে। তারপরও দল থেকে এই নেতাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে দ্বন্দ্বটন্দ্ব ভুলে তৃণমূলকে নিয়ে কাজ করতে। তৃণমূলকে সংগঠিত করার জন্যও তাঁকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। আর সেই নির্দেশনা মোতাবেক তিনি তৃণমূলের কাছে ছুটে যাচ্ছেন। তাঁদের কথাও শুনছেন। তবে এতে করেই যে তাঁর মনোনয়ন শতভাগ নিশ্চিত নয়, সে বিষয়টি খোদ শামীম ওসমানও অনুধাবন করতে পারছেন। তবে দলীয় নেতাকর্মীদের সান্ত¡না দেয়ার জন্য তিনি মনোবল দৃঢ় রেখেই কাজ করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে গোলাম দস্তগীর গাজীকে ল্যাং মারার জন্য শক্তিশালী পক্ষ প্রস্তুত রয়েছে। তৃণমূলকে সংগঠিত করে ওই পক্ষটি একটি সিন্ডিকেট করে মাঠে নেমেছে। তাদের লক্ষ্য যে করেই হোক আগামীতে গোলাম দস্তগীর গাজীকে মনোনয়ন নিতে দিবে না। এ জন্য অর্থ লাগুক, শক্তি লাগুক তারা তা দিয়েই ঠেকাবে। একই অবস্থা নজরুল ইসলাম বাবুর ক্ষেত্রেও। তাঁর আসনে অনেকেই পরিবর্তন প্রত্যাশা করছেন। অর্থবিত্তের মালিক ইকবার পারভেজ চৌধুরীর দিকে অনেকেই ঝুঁকেছেন। আবার এই পারভেজের পিছনে দেশের বৃহত্তম একটি গ্রুপ অব কোম্পানী কাজ করছে বলে শোনা যাচ্ছে। মূলত ওই গ্রুপ অব কোম্পানীটিই চাচ্ছে নজরুল ইসলাম বাবুর পরিবর্তন। তবে সে যাহোক, আগামীতে কে থাকবে আর কে থাকবে না সে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে দু’টি আসনে যে আগামীতে প্রার্থীতার ক্ষেত্রে নড়চড় হবে এতে কোনো ভুল নেই। তাই আপাত সবারই দৃষ্টি নারায়ণগঞ্জের হেভিওয়েট প্রার্থীটি কে? সে জানার জন্য।

বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের রিপোর্টে যা বলা হয়েছে কানধরে উঠবস করাতে বাধ্য হয়েছিলেন সাংসদ

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

স্বেচ্ছায় নয়, বরং অনেকটা চাপে পড়েই প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে সেইদিন ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে কানধরে উঠবস করাতে বাধ্য হয়েছিলেন সদর-বন্দর আসনের জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান। শিক্ষক লাঞ্ছনার দায়ে করা বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে এমনটাই উঠে এসেছে। আর এটাও প্রতীয়মান হয়েছে যে, শিক্ষক শ্যামল কান্তি সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে তাকে চর থাপ্পর মারা যেই অভিযোগ তুলেছিলেন, তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। জানাগেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের যেকোন ধরনের শারীরিক শাস্তি না দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল হাইকোর্ট। কিন্তু তারপরেও গত ২০১৬ সালের ৮ মে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলাধীন কলাগাছিয়া ইউনিয়নের পিয়ার সাত্তার আলী স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত উক্ত স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র মোহাম্মদ রিফাত হাসানকে মারধর করেন। এরপর ১৩ মে স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভা চলাকালীন সময়ে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয়া হয়, শিক্ষক শ্যামল কান্তি স্কুল ছাত্র রিফাতকে মারধরের সময় আল্লাহকে নিয়ে কটুক্তি করেছেন। তাৎক্ষনিক স্থানীয় উত্তেজিত জনতা স্কুলের হাজির হয়ে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে লাঞ্ছিত করে ঘেরাও করে শাস্তি দাবী করে। কিন্তু সকাল থেকে বিকেল অবদি উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হওয়ায় সংবাদ পেয়ে এমপি সেলিম ওসমান ঘটনাস্থলে আসেন। এবং স্থানীয়দের দাবীর প্রেক্ষিতে শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে কানধরে উঠবস করান। আর এই কানধরে উঠবসের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেলে শুরু হয় তোলপাড়। একপর্যায়ে শিক্ষক শ্যামল কান্তি দাবী করেন, তিনি স্কুল ছাত্র রিফাতকে মারধর করেন, এমনকি আল্লঅহকে নিয়ে কোন কটুক্তিও করেননি। পাশাপাশি স্থানীয় গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন সেলিম ওসমান স্কুলে এসে অফিস কক্ষের ভিতরে তাকে গাল কান জুড়ে চারটি চরথাপ্পর মেরেছেন। তারপর চারদিকে তোলপাড় শুরু হলে হাইকোর্ট উক্ত ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে শিক্ষক লাঞ্ছনার দায়ের সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও বিচার বিভাগীয় তদন্তে তিনি যে স্বেচ্ছায় কিছুই করেননি, আর শিক্ষক শ্যামল কান্তি হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্যের পাশাপাশি মিথ্যাচারও করেছেন, তা প্রতীয়মান হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনজ্ঞরা। এদিকে, গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনার ঘটনার মামলায় নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানসহ দুইজনের বিরুদ্ধে আগামী ২৮ জুন চার্জ গঠন শুনানীর দিন ধার্য করে ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম জেসমিন আরা বেগম। এর আগে গত ২২ জানুয়ারী হাইকোর্ট বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি নারায়ণগঞ্জ আদালত থেকে ঢাকার সিজেএম আদালতে বিচারের জন্য বদলির নির্দেশ দেন। এরপর আদালত দন্ডবিধির ৩২৩/৩৫৫/৫০০ ধারায় মামলাটি আমলে গ্রহণ করেন। বিচারপতিদ্বয় আদেশে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হচ্ছে দেশের আইন নিরপেক্ষ ও বৈষম্য ছাড়া প্রয়োগ করা। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন, সবাই আইনের অধীন এটি আইনের শাসনের মর্মবাণী। বিচারিক তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমরা ওই ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি। বিচারের স্বার্থে এটি যথাযথ বলে প্রতীয়মান হয়। মোট ৬৫ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে সংযুক্তি হিসেবে আরও নথিপত্র রয়েছে। তদন্তকালে মোট ২৭ জনের জবানবন্দি নেওয়া হয়। বিচারক তদন্ত প্রতিবেদনে ছয়টি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এগুলো হলো, প্রথম- শ্যামল কান্তি ওই স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র মোহাম্মদ রিফাত হাসানকে ২০১৬ সালের ৮ মে মারধর করেছেন তা প্রমাণিত। দ্বিতীয়- ইসলাম ধর্ম ও আল্লাহকে নিয়ে শ্যামল কান্তির কটুক্তির সত্যতা পাওয়া যায়নি, তৃতীয়- ২০১৬ সালের ১৩ মে ওই স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভা চলাকালে স্থানীয় জনৈক শামসুল হকের ছেলে অপুর নেতৃত্বে ১০/১২ জন সভাকক্ষে ঢুকে প্রধান শিক্ষককে মারধর করার বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে অপু ছাড়া বাকি ১০/১২ জনের নাম কোনো সাক্ষীই প্রকাশ করেননি। চতুর্থ- ২০১৬ সালের ১৩ মে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভা চলাকালে আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় মসজিদ থেকে ঘোষণা প্রদান করা হয় যে ইসলাম ধর্ম আল্লাহকে নিয়ে কটুক্তি করেছেন শ্যামল কান্তি ভক্ত। কে বা কারা ওই ঘোষণা দিয়েছেন, তা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে কমিটির সদস্যদের মধ্যে বিরোধের কারণে এমন ঘোষণা দেওয়া হতে পারে বলে বিশ্বাস করার কারণ আছে।

পঞ্চম-২০১৬ সালের ১৩ মে বিকেল পাঁচটার দিকে সাংসদ সেলিম ওসমান প্রধান শিক্ষকের রুমে ঢুকে তাঁকে গাল-কান জুড়ে দুই হাত দিয়ে পরপর চারটি থাপ্পড় দিয়েছেন। এমন দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি। ৬ষ্ঠ- সাংসদ সেলিম ওসমানের নির্দেশে শ্যামল কান্তি ভক্ত কান ধরে ওঠবস করতে বাধ্য হয়েছেন তা ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে সাক্ষীদের সাক্ষ্য পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়েছে যে উপস্থিত স্থানীয় জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সাংসদ ওই নির্দেশ দেন। বিগত ২০১৬ সালের ১০ আগস্ট ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে নারায়ণগঞ্জের স্কুল শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় পুলিশ প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছে মন্তব্য করে পুরো ঘটনা বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। অপরদিকে দেখাগেছে, ২০১১ সালের আগস্ট মাসে সরকার শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের ওপর শাস্তি নিষিদ্ধ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা প্রণয়ন জারি করে। এতে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষে ১১ ধরনের শাস্তি নিষিদ্ধ করা হয়। শাস্তিগুলো হলো, হাত-পা বা কোনো কিছু দিয়ে আঘাত বা বেত্রাঘাত, শিক্ষার্থীর দিকে চক বা ডাস্টার জাতীয় বস্তু ছুড়ে মারা, আছাড় দেয়া ও চিমটি কাটা, কামড় দেওয়া, চুল টানা বা চুল কেটে দেয়া, হাতের আঙুলের ফাঁকে পেনসিল চাপা দিয়ে মোচড় দেয়া, ঘাড় ধাক্কা, কান টানা বা ওঠবস করানো, চেয়ার, টেবিল বা কোনো কিছুর নিচে মাথা দিয়ে দাঁড় করানো বা হাঁটু গেড়ে দাঁড় করে রাখা, রোদে দাঁড় করে বা শুইয়ে রাখা কিংবা সূর্যের দিকে মুখ করে দাঁড় করানো এবং ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে এমন কোনো কাজ করানো, যা শ্রম আইনে নিষিদ্ধ। নীতিমালায় আরো বলা হয়, কোনো শিক্ষক-শিক্ষিকা কিংবা শিক্ষা পেশায় নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি অথবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী পাঠদানকালে কিংবা অন্য কোনো সময় ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে উল্লিখিত আচরণ করবেন না, যা শাস্তি হিসেবে গণ্য হয়। এসব অপরাধের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে, তা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার পরিপন্থী হবে এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই নীতিমালা জারির আগে একই বছর জানুয়ারী মাসে শারীরিক ও মানসিক শাস্তি বন্ধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। দুটি মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট বা ব¬াস্টের রিট মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় দেন। রায়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল ও মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের কঠোর শাস্তি দেয়া বন্ধের পাশাপাশি কিছু নির্দেশনাও দেয়া হয়। কিন্তু এরপরেও শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত স্কুল ছাত্র রিফাতকে মারধর করে আদালতের অবজ্ঞার পাশাপাশি অপরাধও করেছেন বলে দাবী করেন, অভিভাবকরা।

 

সমাবেশ না হওয়ায় স্বস্তিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আজ ঢাকায় জনসভার অনুমতি না পাওয়ায় হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। হামলা মামলায় নাজেহাল নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা নারায়ণগঞ্জের কর্মসূচিতেই পাঁচ দশ মিনিটের বেশী পালন করতে পারেন না, সেখানে ঢাকার জনসভায় যোগ দেওয়া এই মুহুর্তে তাদের জন্য মরার উপর খরার ঘায়ের মতো অবস্থা সৃষ্টি করেছিলো। কিন্তু প্রশাসন চতুর্থ বারের মত বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি না দেয়ায় অবশেষে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো শীর্ষস্থানীয়রা বলে মন্তব্য করেছেন তৃণমূল। সূত্রে প্রকাশ, ২০০৬ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর আজ অবধি আর ক্ষমতার স্বাদ পায়নি দলটি। এতো দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার অভিজ্ঞতা ছিলো না দলটির নেতাকর্মীদের। তাই এ সময়টাতে রাজনৈতিক মামলা হামলায় নাজেহাল হয়ে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে দিশেহারা হয়ে পরেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের কর্মী সমর্থকদের নামেও একাধীক মামলায় জামিন নিয়ে ঘর বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন নেতাকর্মীরা। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপার্সণ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার রায়কে উপলক্ষ্য করে সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরাও ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। আর এ সময়ই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়ে তাদের গ্রেফতার করা শুরু করে।  সূত্র জানায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলার রায়ের দিন ধার্য ছিলো ৮ ফেব্রুয়ারী। রায় ঘোষনার দিন নির্ধারণের পর থেকেই ‘আমার নেত্রী, আমার মা, বন্দি হতে দেবো না’ শ্লোগানে বক্তব্য বিবৃতি দিয়ে খালেদা জিয়ার সাজা প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গরম করে রেখেছিলো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র শীর্ষ নেতারা। আর এই রায়কে কেন্দ্র করে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এড.সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা স্বেচ্ছা সেবকদল যুগ্ম আহ্বায়ক এড. আনোয়ার প্রধান, জাতীয়তাবাদী জেলা আইনজীবী ফেরামের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাঈনুদ্দিন, কাঞ্চন পৌরসভার মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সেক্রেটারী আবুল বাশার বাদশা, নাসিক ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ই¯্রাফিল প্রধান, ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান বাবুল, সোনারগাঁ পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন, জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক লুৎফর মেম্বার, পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সামছুল হক সরকারসহ আটক প্রায় শতাধীক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৭টি থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশের দায়েরকৃত ১৩ টি মামলায় স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত প্রায় সহ¯্রাধীক নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়। আর এসব মামলা হামলার ভয়ে নেত্রীর মুক্তির দাবীতে ডাকা কেন্দ্রীয় কর্মসূচিকেই পাঁচ দশ মিনিটের ফটোসেশন প্যাকেজ বানিয়ে ফেলেছিলো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। তাই ঢাকার জনসভায় শোডাউন করাটা তাদের উপর বাড়তি চাপ হয়ে দেখা দিয়েছিলো। কেননা, নেত্রীর মুক্তির দাবীতে আয়োজিত কর্মসূচীতেই আদৌ এক হতে পারেনি জেলা ও মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটির নেতৃবৃন্দরা। তন্মধ্যে পুলিশের চাপে দুই থেকে পাঁচ মিনিটেই কর্মসূচি শেষ করে ফেলায় বিতর্কের মুখে পড়েন শীর্ষস্থানীয়রা। এরই মাঝে নেত্রীর মুক্তির দাবীতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কেন্দ্র সমাবেশের ঘোষণা দেয়ায় বাড়তি চাপে পড়ে যায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। কিন্তু শেষতক আজকের জনসভাও কেন্দ্র স্থগিত করায় এখন হাফ ছেড়ে বেঁচেছে বিএনপির নেতৃবৃন্দরা বলে মন্তব্য করে তৃণমূল। গতকাল বুধবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তির দাবীতে ২৯ মার্চের জনসভা কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এর আগে তিন দফায় সমাবেশের ঘোষণা দিয়েও অনুমতি পায়নি দলটি। এ নিয়ে চতুর্থ দফায় ডাকা কর্মসূচির অনুমতি পেলো না বিএনপি। রিজভী জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকায় বিএনপির পক্ষ থেকে ১২ ও ১৯ মার্চ  জনসভা করতে পুলিশের অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সরকারের নির্দেশে নিরাপত্তার অজুহাতে বিএনপিকে জনসভার অনুমতি দেয়নি ডিএমপি। এরপর আবারও আজকের সমাবেশ করতে বেশ কয়েকদিন আগে বিএনপি’র পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। গত মঙ্গলবার দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে বিএনপির একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বৈঠকের পর আমরা বিশ্বাস করতে চেয়েছিলাম সরকার জনসভার অনুমতি দিবে। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবারই সাংবাদিকদের বলেছেন- গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জনসভার অনুমতি দিবে পুলিশ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে এটা প্রমাণিত হয়েছে দেশ চালাচ্ছে পুলিশ। আওয়ামী লীগ ক্ষয়িষ্ণু রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে বলেই দেশটা এখন পুলিশের কব্জায়।

 

 

নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুলে মধ্যযুগীয় বর্বরতা দুই শিক্ষার্থীর চুল কেটে দিল শিক্ষক

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

চুল বড় এ অপরাধে দুই শিক্ষার্থীকে নির্মম নির্যাতনের পর নিজহাতে কাঁচি দিয়ে চুল কেটে দিয়েছে এক শিক্ষক। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুলে। শত শত শিক্ষার্থীর সামনে ক্লাসরুম থেকে ধরে এনে চুল কেটে দেয়ার পর লজ্জায় অপমানে বিমর্ষ হয়ে পড়েছে ৯ম শ্রেণীর ২ শিক্ষার্থী কাশফি ও শান্ত। এ ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ছাত্র-ছাত্রীসহ অভিভাবক মহলেও। ম্যানেজিং কমিটি ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও দেয়া হয়েছে শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা গ্রহনের আশ্বাস। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত মঙ্গলবার চুল বড় রাখার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলের নবম শ্রেণীর কাশফি ও শান্ত নামের দুই শিক্ষার্থীকে শারীরিক শাস্তির পাশাপাশি মাথার চুল কেটে দেন স্কুলটির শিক্ষক বিপুল সরকার। অন্যান্য শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে দুই ছাত্রকে ক্লাসরুমের দরজায় এনে নির্যাতন এবং চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় সকলেই হতবাক। ঘটনার পর বুধবারও স্কুল ছিলো উত্তপ্ত। শারীরিক নির্যাতন ও চুল কেটে দেয়ার পরও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এঘটনাকে মধ্যযুগীয় ববর্রতা হিসেবে আখ্যায়িত করে দ্রুত ঐ শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছে অভিভাবকরা নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী কাশফির বাবা মো. রাসেল জানান, আমরা অনেক আশা নিয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠাই, আমি মনে করতাম, মা-বাবার পরে সন্তানদের নিরাপদ স্থান হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর সেই প্রতিষ্ঠানে এসে যদি এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হয়, তাহলে কী ভাবে ছেলে মেয়েরা পড়া লেখা করবে। অন্যান্য অভিভাবকরা উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষক বিপুল সরকার মানসিক ভারসাম্যহীন, এধরণের শিক্ষকদের কাছে শিক্ষার্থীরা অনিরাপদ। চোর ধরা পড়লে যেমনটি করা হয় সেভাবে শত শত শিক্ষার্থীর সামনে এভাবে চুল কেটে দিয়েছে শিক্ষক বিপুল সরকার সুস্থ্য হতে পারে না। অভিভাবকরা আরো অভিযোগ করেন, এই ধরনের ঘটনায় অনেক সময় নির্যাতিত ও লাঞ্ছিত শিক্ষার্থীরা লজ্জায় ঘর থেকে বের হতে চায় না। আবার অনেক সময় স্কুলেও আসতে চায় না। অতএব এই শিক্ষকের বহিস্কার চাই। এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক কমল কান্তি সাহা বলেন, এ ঘটনাটি অত্যন্ত দু:খজনক। আমরা শিক্ষক বিপুল সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তবে এখনো কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বিষয়টিকে স্বাভাবিক ভাবেই নিয়ে ছিলাম। এ ব্যপারে ম্যানিজিং কমিটির সদস্য আঃ সালাম বলেন, দুই ছাত্র চুল কানের উপর রাখার পর শিক্ষক বিপুল সরকার চুল কাটতে বলে, ছাত্ররা চুল না কাটায় সামান্য চুল কেটে দিয়েছে। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি চন্দন শীল বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে সত্যি দুঃখজনক। আমি নারায়ণগঞ্জের বাইরে আছি। আগামী সপ্তাহে ফিরবো। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট অভিভাবক লিখিত অভিযোগ দিলে শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা নেয়া হবে। জেলা শিক্ষা অফিসার শরিকুল ইসলাম বলেন, গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের বাইরে ছিলাম। তাই বিষয়টি আমার জানা নেই। আমরা ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এবিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি মো. রেজাউল বারী বলেন, এধরণের ঘটনা খুবই ভয়াবহ ব্যাপার। বিষয়টি এর আগে কেউ আমাকে জানায়নি। ঘটনার খোঁজ নিয়ে আমি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। প্রকাশ থাকে যে, এর আগে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে চড়-থাপ্পড় মেরে গালমন্দ করায় শহরের গণবিদ্যা নিকেতনের নবম শ্রেণীর ছাত্রী উম্মে হাবিবা আক্তার শ্রাবণী (১৫) আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যার কারণ হিসেবে স্কুল শিক্ষক নাসরিন বেগম ও খন্ড কালীন শিক্ষক কামরুল হাসান মুন্নার নাম উল্লেখ করে চিরকুট লিখে যায়। অন্যদিকে সর্বশেষ গত মঙ্গলবারও আড়াইহাজার উপজেলায় চোর আখ্যা দিয়ে চুল কেটে নির্যাতন করায় এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

সদর-বন্দর আসনে মার্কা নয় , ব্যক্তি ইমেজ ভোট টানবে

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে সদর-বন্দর আসন নিয়ে সব চেয়ে বেশী আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যে আধাডজনের বেশী প্রার্থী আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে ঘোষণা দিয়েছেন। মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা বিভিন্ন স্থানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিজেকে একমাত্র যোগ্য প্রার্থী হিসেবে জাহির করে চলেছেন। একই অবস্থা জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আরজু ভূইয়ারও। যদিও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আঃ হাই এখনও তেমন সরব হননি তবে গোপনে গোপনে এই আসনে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অপর দিকে আওয়ামীলীগের ওসমান পরিবার বিরোধী নেতা-কর্মীরা জানান, এবার মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী এই আসনে প্রার্থী ঠিক করবেন। যদিও এনিয়ে মেয়র আইভী এখনও আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য দেননি। তবে সাম্প্রতিক কালে এসএম আকরামের বক্তব্যের পর অনেকে ধারণা করছেন, এসএম আকরাম মেয়র আইভীর প্রার্থী। যদিও এখনও পর্যন্ত এই আসনের বর্তমান সাংসদ সেলিম ওসমান নির্বাচন সম্পর্কে তেমন কোন মন্তব্য করেন নি। তিনি জুন মাসে নির্বাচন সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিবেন বলে বিভিন্ন সভা সমাবেশে বলেছেন। তবে আওয়ামীলীগ জাতীয়পার্টির সাথে ঐক্যবদ্ধ ভাবে নির্বাচন করলে সেই ক্ষেত্রে শহর-বন্দর আসনে মহাজোটের প্রার্থী হবেন একেএম সেলিম ওসমান একথা নিশ্চিত বলা চলে। সর্বশেষ এ আসনের উপ-নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী নাগরিক ঐক্যের নেতা সাবেক এমপি এসএম আকরামকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন সেলিম ওসমান। এ আসনে  সেলিম ওসমানের ভোট ব্যাংক রয়েছে যা উপ-নির্বাচনেই প্রমানিত হয়েছে। সেলিম ওসমানের জন্য জান প্রাণ দিয়ে লাঙ্গলের পক্ষে মাঠে নেমেছিলেন বিএনপি-আওয়ামীলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। সেলিম ওসমান ২০১৪ সালে উপ-নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর বন্দরে ও সদরে ৭টি স্কুল ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নির্মাণ করে ইতিমধ্যে দানবীর সেলিম ওসমান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। পাশাপাশি একজন শিক্ষানুরাগী হিসাবেও শুধু ৭টি স্কুলেই নয়, নারায়ণগঞ্জ কলেজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছেন। তার সহধর্মীনি নাসরিন ওসমান বন্দর ও সদরে ২টি প্রতিবন্ধী স্কুল নিজ অর্থায়নে পরিচালনা করে চলছেন। জানাগেছে, এ আসনে বর্তমানে এমপি রয়েছেন জাতীয় পার্টি থেকে একেএম সেলিম ওসমান বিকেএমইএ-এর সভাপতির পদেও রয়েছেন। ২০১৪ সালের ২৬ জুন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে তিনি জাতীয় পাটির্র লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করে এমপি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নাগরিক ঐক্যের নেতা সাবেক এমপি এসএম আকরাম। এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এ আসন থেকেই জাতীয়পাটির্র প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রয়াত নাসিম ওসমান এমপি নির্বাচিত হন। ওই বছর ৩০ এপ্রিল নাসিম ওসমান মৃত্যুবরণ করলে উপ-নির্বাচনে সেলিম ওসমান লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করে নির্বাচিত হন। সেলিম ওসমান আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হলে দলের চাইতে ব্যক্তি ইমেজ বেশী কাজ করবে। একারণে তার ব্যক্তি ইমেজে রয়েছে বিভিন্ন দলের সমর্থকদের রিজার্ভ ভোট। এছাড়া সনাতন ধর্মালস্বীদের রিজার্ভ ভোট সেলিম ওসমান যে মার্কায়ই নির্বাচন করুকনা কেন তার পক্ষে যাবে বলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতাদের মন্তব্য। কারণ লাঙ্গবন্দের উন্নয়ণে তিনি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সম্পৃক্ত করে দ্রুত তা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে চলেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘ দিনের দাবি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মানের পিছনে তার অবদানকে কোন অবস্থাতেই অস্বীকার করা যায়না। তাছাড়া সেলিম ওসমান জাতীয়পার্টির মনোনিত এমপি হলেও তিনি দলমত নির্বিশেষে সকল দলের সমন্বয়ে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে কাজ করার তাগিদ দিয়ে চলেছেন। এমতাবস্থায় নারায়ণগঞ্জবাসী মনে করে, আগামী নির্বাচনে মার্কা নয় সদর-বন্দর আসনে ব্যক্তি ইমেজ ভোট টানতে কাজ করবে।