আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:১৪
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ডিএনডি’র অভ্যন্তরে প্রবল বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় দেলপাড়া নাসিরনগর এলাকায় পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে ৫০ বিঘা জমির ২০০ টন ধান। ওই এলাকার ২০-২৫ জন কৃষক বাঁধ দিয়ে ধান চাষ করলেও বৃষ্টির পানিতে খালের পানি উপচে প্রবেশ করে তলিয়ে গেছে ধানের জমি। এতে করে ব্যপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। জানা গেছে, ডিএনডি’র অভ্যন্তরে নারায়ণগঞ্জের দেলপাড়া নাসিরনগর এলাকায় এসবি গার্মেন্ট সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে বাঁধ দিয়ে ধান চাষ করছেন ২০-২৫ জন কৃষক। তবে গত কয়েকদিন ধরে প্রবল বৃষ্টির কারণে গত শনিবার ওই এলাকার খালগুলো ভরাট হয়ে উপচে পানি প্রবেশ করে ডুবে গেছে ওই ৫০ বিঘা জমির ধান। প্রতি বিঘা জমিতে ৪ টন করে ধরলে প্রায় ২০০ বিঘা জমির ধান বর্তমানে পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। কৃষক রাকিবুল ইসলাম শরীফ জানান, বৃষ্টির পানিতে তাদের ক্ষেতের ধান নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। তারা এখন চরম লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল গাফফার জানান, বৃষ্টির পানিতে ওই এলাকার ৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে বলে শুনেছি। তবে যদি সোমবার ও মঙ্গলবার বৃষ্টি না হয় তাহলে জমির ধানগুলো রিকভার করবে। এছাড়া বৃষ্টির পানি যাতে খালগুলো থেকে দ্রুত নিস্কাশন করা হয় এজন্য পাম্প হাউস কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দিয়েছি।

আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি…

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিজেদের মধ্যে কোন ধরনের কাদা ছোড়াছুড়ি ও সংঘাতে না জড়াতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে শীর্ষ নেতা ও এমপিদের কাছে বার্তা এসেছে। দলের সেক্রেটারী ওবায়দুল কাদের বেশ কয়েকদিন আগে সারা দেশে এ বার্তায় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড জনগণের মাঝে তুলে ধরারও তাগিদ দেন। সেই সঙ্গে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের এমপি ও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাজ করতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে কাউকে কোন ধরনের সংঘাতে না জড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ১৬ জানুয়ারী শহরে হকার বসানো নিয়ে এমপি শামীম ওসমানের লোকজনদের সাথে থাকা হকারদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তার লোকজনদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনাটি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ওয়াকিবহাল। এছাড়া দলের শীর্ষ নেতারাও এ নিয়ে কথা বলেন। বিষয়টি আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য বেশ বিষফোড়া হয়ে দাঁড়ায়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্র বিষয়টি নিয়ে বেশ বিব্রত হন। আগামীতে নির্বাচন তথা ভোটের আগে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন না হতে হয় দলকে সে নির্দেশনায় এও বলা হয়েছে, যারা এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী যারা যেন কোন প্রতিদ্বন্দ্বির সঙ্গে কোন ধরনের সংঘাতে না জড়িয়ে বরং দলের স্বার্থে কাজ করে। আর কারো বিরুদ্ধে দলের চেইন অব কমান্ড ভঙ্গ কিংবা নিজেরা নিজেরা বিরোধে জড়ালে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রূপগঞ্জ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোয়ন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক), রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূইয়া, কায়েতপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। জেলা আওয়ামী লীগও এখানে বিভিন্ন প্রার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মধ্যে এমপি গাজীর এখন মূল প্রতিদ্বন্দ্বি শাহজাহান ও রফিকুল। প্রায়শই দুই গ্রুপের মধ্যে বড় ধরনের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ইতোমধ্যে সম্প্রতি সুমন নামের একজন নিহতও হয়। এর আগেও প্রচুর সংঘাত ঘটেছে। আড়াইহাজার আসনে বর্তমান এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় যুবলীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল পারভেজ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মমতাজ হোসেনের নাম আছে। তবে বাবুর সঙ্গে সরাসরি প্রতিপক্ষ পারভেজ। ইতোমধ্যে তাদের ভেতরে একাধিকবার মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সোনারগাঁ আসনে বর্তমানে জাতীয় পার্টির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। আগামী নির্বাচনে এখানে মহাজোট থাকবে নাকি জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচন করবে সেটাও নিশ্চিত হয়নি। তবে এখানে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সার নৌকা প্রতীকের জন্য এগিয়ে আছেন। ইতোমধ্যে এ দুইজন বাকযুদ্ধে জাড়াচ্ছেন। ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের বর্তমান এমপি শামীম ওসমান। তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা। এ আসনে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের নাম থাকলেও রয়েছে নানা অভিযোগ।  সদর-বন্দর আসনে বর্তমান এমপি সেলিম ওসমান। তিনি জাতীয় পার্টির এমপি ও মহাজোটের। আগামীতে নির্বাচনে মহাজোট থাকবে কী না সেটা এখনো নিশ্চিত না হলেও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দিতে চলছে জোরালো লবিং। এখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী খোকন সাহা, জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল কাদির ঘোষণা দিয়ে ইতোমধ্যে প্রচারণা করেছেন। তবে তাদের তরুণ প্রার্থী হিসেবে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত বেশ কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বিভিন্ন এলাকাতে যাচ্ছেন। প্রচারণার পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকান্ডও পরিচালনা করছেন। প্রচারণায় আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান। এ আসনে এখনো বড় ধরনের কোন সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি।

হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

শহরের বি.বি রোডে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে আবারো নারায়ণগঞ্জ’কে অশান্ত করার চেষ্টা করছে একটি মহল এমন অভিযোগ জেলাবাসীর। গত রোববার সকালে  হকার্স সংগ্রাম পরিষদ শহীদ মিনারে বিক্ষোভ মিছিল আয়োজনের মাধ্যমে শহরের ওই প্রধান সড়কে হকার ইস্যুতে কঠোর হুশিয়ারী দেন। বিক্ষোভ মিছিলে হকার্স নেতারা হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, আগামী পহেলা মে বিশ্ব শ্রমিক দিবসের আগে যদি বঙ্গবন্ধু সড়ক থেকে উচ্ছেদকৃত হকারদেরকে পূনর্বাসন না করা হয় তাহলে তারা কঠোর আন্দোলনে নামবেন বলে ঘোষনা দেন। অথচ শহরের প্রধান বঙ্গবন্ধু সড়কে হকার বাসানোকে কেন্দ্র করে নাসিক মেয়রসহ প্রায় অর্ধ শাতাধিক নেতাকর্মীরা আহত হয়। এনিয়ে চলে পাল্টাপাল্টি রাজনীতী। ওই সময় কিছুদিন নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। পরে মেয়র সুস্থ্য হয়ে সড়কের বি.বি রোড ছাড়া বাকি ৬টি রাস্তায় বিকাল ৫টার পর হকারদের বসার মৌখিক ঘোষনা দেন। এর পরেও চলে লুকোচুরি। টুল নিয়ে বসতে দেখা যায় হকারদের। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র থাকেন তাঁর সিদ্ধান্তে অনড়। মেয়রের দাবী শহরের ৬টি রাস্তা ছেড়ে দিয়েছি এবং হকারদেরকে চাষাড়ায় একটি হকার্স মার্কেট নির্মান করে দিয়েছি। তার পরেও কেন শহরের প্রধান সড়কে বসতে চায় হকাররা। মেয়রের এহেন সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ হকার্স সংগ্রাম পরিষদের নেতারা। তাদের দাবী বঙ্গবন্ধু সড়কে না বসতে দিলে কঠোর আন্দোলনে নামবে হকার্স নেতারা। হকার নেতাদের দেয়া এরকম হুমকিতে সেচতন মহল মনে করেন, শহরের ব্যস্ততম সড়কটিতে থাকা ফুটপাত নিয়ে আবারো শুরু হয়েছে নোংরা রাজণীতী এবং শহরকে ফের অশান্ত করার অপচেষ্টা। এই সড়কে হকার বসানোর পেছনে রয়েছে গোপন রহস্য। একটি মহল এ সড়ক থেকে প্রতিদিন হাজার-হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাই এতোদিন হকার না বসার কারনে তাদের ইনকাম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পূনরায় হকার বসাতে পারলে তাদের পকেটে ঢুকবে মোটা অংকের টাকা। এ কারনেই শহরের ব্যস্ততম বঙ্গবন্ধু সড়কে হকার বসিয়ে রাস্তার পাশের ফুটপাত দখলেরর জন্য আবারো বিক্ষোবের নামে হুমকি দিচ্ছে তারা। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসী শংকিত।  রাজনৈতি মহলের দাবী, বঙ্গবন্ধু সড়কে বসা নিয়ে হকারদের পেছন থেকে একটি মহল উসকানি দিচ্ছে। ওই উসকানির নেতৃত্ব দিচ্ছে হকার নেতা হাফিজ উদ্দিন ও আবদুর মন্সিসহ আরো অনেকে। এটা রাজনৈতিক একটি চাল। পেছনে থাকা উসকানিদাতাসহ এর শেকড় উপরে ফেলে শহরের প্রধান সড়কে ফুটপাত মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখার দাবী জানান তারা।

 

ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ (পঞ্চবটি-ফতুল্লা) পুরাতন সড়কটি বৃষ্টিতে কাদা আর রোদে ধুলার রাজ্যে পরিণত হয়। এর সাথে নিত্যদিনের যানজট তো রয়েছেই। আর একটু বৃষ্টিতেই সড়কের পাশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ সব মিলিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছে যাত্রীরা। সম্প্রতি এই সড়কের নানা দুর্ভোগ নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগের পাওয়া যাচ্ছে। আর দিন দিন পাগলা, ফতুল্লা, পঞ্চবটি, আলীরটেক সহ বিভিন্ন স্থানের এই সড়েকের বেহাল দশা মহামারী রুপ ধারণ কারছে। এমনিতে বায়ু দূষণে সারা দেশের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ শহর রেকর্ড করে শীর্ষে অবস্থান করছে। যে কারণে এই শহর ধীরে ধীরে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।তবুও এ নিয়ে কারো কোন মাথা ব্যথা নেই। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘এই সড়কে একটু বৃষ্টি নামলে কোথাও বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় আবার কোথাও কর্দমাক্ততায় একাকার অবস্থা। আবার বৃষ্টি শেষে রোদ দেখা দিতেই পুরো সড়ক ধুলার রাজ্যে পরিণত হয়। এতে করে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। এছাড়া যানজটের মত চরম দুর্ভোগ এই সড়কের যাত্রীদের নিত্য দিনের সঙ্গী হয়ে গেছে। যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছে, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের বেহাল দশা সৃষ্টি হয়েছে। দিন যত অতিক্রম হচ্ছে এই সড়কের অবস্থা আরো খারাপ হচ্ছে। বৃষ্টি কিংবা রোদ সব সময়েই দুর্ভোগ লেগে থাকে এই সড়কে। বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা ও কাদা দিয়ে একাকার অবস্থা। আর বৃষ্টি শেষে রোদে সেই কাদা শুকিয়ে চারদিক ধুলার রাজ্যে পরিণত হয়। এছাড়া যানজটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীদের দুর্ভোগে পোহাতে হয়। এভাবে চলতে থাকলে সড়কে চলাচল মুশকিল হয়ে পড়বে। ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রোকসানা জানায়, ‘এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয় কিন্তু ধুলাবালির কারণে মুখে মাস্ক বেঁধেও রেহাই পাওয়া যায়না। কিন্তু তবুও বাধ্য হয়ে যেতে হয়। আর বৃষ্টি নামলে কাদা-মাটিতে রাস্তার অবস্থা যাচ্ছে তাই হয়ে যায়। এ সময় রাস্তা দিয়ে চালাচল করা মুশকিল হয়ে পড়ে। তাই এসব দুর্ভোগে এড়াতে রিকশা কিংবা অটোরিকশাতে উঠলে যানজটের কবলে পড়তে হয়। তাই এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতে খুব কষ্ট হয়। গার্মেন্ট শ্রমিক শিলা আক্তার জানায়, ‘ গার্মেন্টে কাজ করতে প্রতিদিন পাগলার এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। কিন্তু ধুলাবালির কারণে মুখে কাপড় চেপে ধরেও চালাচল করা যায়না। আর একটু বৃষ্টি নামলে কর্দমাক্ত অবস্থাতে সড়কের নাজেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়। এর উপরে যানজটের মত নিত্যদিনের দুর্ভোগতো রয়েছে। তাই এসব সমস্যার মধ্য দিয়ে ধুকে ধুকে জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

 

 

 

লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সোনারগাঁয়ে আওয়ামী রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলামের আলোচনার পর নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন চাঙ্গাভাব দেখা দিয়েছে। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে সোনারগাঁয়ের অনেকের ঘুম হারাম হয়েগেছে। সোনারগাঁয়ের মাঠ পর্যায়ের অনেক নেতা-কর্মী ইতিমধ্যে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলামের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে। ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম প্রবাসে আওয়ামীলীগের রাজনীতি চাঙ্গা করে এবং সোনারগাঁয়ে এসে বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করে তিনি আলোচনায় এসেছেন। তিনি এখন সোনারগাঁয়ের জন্য ফ্যাক্টর। মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের দাবি ইঞ্জিয়িার শফিকুলকে মনোনয়ন দিলে সোনারগাঁয়ের রাজনীতি নতুন মোড় নিবে এবং ঝিমিয়ে পড়া আওয়ামীলীগের রাজনীতি অনেকটা চাঙ্গা হবে। সম্প্রতি লন্ডনে প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা  ব্যস্ত সময়ের মধ্যেও ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রবাসীদের সাথে মতবিনিময় এবং বাংলাদেশকে উন্নয়ণশীল রাষ্ট্রের মর্যাদা পাওয়ায় যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা গ্রহণ করেন। গত শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের বিভিন্ন নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সংবর্ধনা শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলামের সাথে সোনারগাঁয়ের আওয়ামী রাজনীতি ও এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন বিশিষ্ট কলামিষ্ট ও সাংবাদিক আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রী হোটেল কর্টেজে আসার সময় যুক্তরাজ্য বিএনপি ও জামাতের ক্যাডাররা স্থানীয় সাংবাদিকদের উপর হামলা ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম। ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সোনারগাঁ আসন থেকে আওয়ামীলীগের সম্বাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী। ইতিমধ্যে তার নেতৃত্বে সোনারগাঁয়ে নেতা-কর্মীরা আওয়ামীলীগের রাজনীতি আরও গতিশীল হওয়ার জন্য কাজ করছে। নেতা-কর্মীদের মাঝে নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু হয়েছে। নেতা-কর্মীরা জানান, তিনি মনোনয়ন পেলে সোনারগাঁয়ের অনেক উন্নয়ন হবে। বর্তমানে তিনি প্রবাস থেকে সোনারগাঁয়ের আওয়ামীলীগের খোজঁ খবর রাখছেন।  আমরা তার নেতৃত্বে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে চাই।

 

 

সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

বিগত ২০০১ সালে জোট সরকারের আমলে কেন স্বপরিবারে দেশত্যাগ করেছিলেন, এবার তারই ব্যাখা দিলেন জাতীয় মহিলা সংস্থা নারায়ণগঞ্জ জেলা চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সহধর্মিনী সালমা ওসমান লিপি। সদর উপজেলা পরিষদের তাসনীম জেবিন বিনতে শেখের বিদায় ও নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসনে আরা বেগমের বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। গতকাল সোমবার দুপুর ১২ টায় সদর উপজেলা মিলনায়তনে উপজেলা চেয়ারম্যান এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির, গোগনগর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নওশেদ আলী, এনায়েত নগর ইউপি চেয়ারম্যান মো: আসাদুজ্জামান, কুতুবপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সুরাইয়া আশরাফী, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: মনিরুল হক, ফতুল্লা ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপন, সহকারী কমিশনার ভুমি (ফতুল্লা) মো: তরিকুল ইসলাম, বিআরডিবি কর্মকর্তা বেলাল হোসেন, উপজেলা মৎস্য অফিসার মামুনুর রশিদ চৌধুরী, উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল গফফার, জেলা পরিষদের সদস্য মো: মোস্তফা হোসেন চৌধুরী প্রমুখ। লিপি ওসমান বলেন, ‘অনেকে প্রশ্ন তোলেন ২০০১ সালে কেন আমরা দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলাম। তখন আমার স্বামীকে (শামীম ওসমান) ফোন করে দেশ ছাড়ার হুমকি দেয়া হতো। দেশত্যাগ না করলে মেরে ফেলার হুমকি দিত। তখন ছোট ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে দু:শ্চিন্তায় পড়ে যাই। কিন্তু আমি তাদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রাখতে চাই, যখন আমরা দেশত্যাগ করার পর দুবৃর্ত্তরা আমাদের বাড়ী বুলেটের গুলিতে ঝাজরা করে দিয়েছিল তখন আপনারা কোথায় ছিলেন? ঐ বাড়ীতে একজন নারী কেয়ারটেকারকেও নির্যাতন করতে কার্পণ্য বোধ করেনি তারা।’ তিনি বলেন, আমি বলতে চাই সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে। উন্নয়ণ বেশী করায় আমার স্বামী তাদের শত্রু হয়ে গিয়েছিলেন। মহানবীও ধর্মের প্রয়োজনে হিজরত করেছিলেন। তেমনি জণগণের স্বার্থে তিনি তখন দেশত্যাগ করেছিলেন। লিপি ওসমান আরো বলেন, জ্ঞান, বুদ্ধি ও বিবেক দিয়ে সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা কাজ করে থাকে। একজন মানুষ পরিপূর্ন তখন হয় যখন সততা ও ন্যায় নিষ্ঠা নিয়ে কাজ করে থাকে। যারা সরকারী কর্মকর্তা আছেন তারা স্বাধীন নন, তারা দায়বদ্ধ থাকেন। আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছিলেন শ্রেষ্ঠ হিসেবে। যতদিন পর্যন্ত মানুষের মনমানসিকতার পরিবর্তন হবেনা ততদিন দেশ উন্নত হবেনা। দেশ এগিয়ে নিতে সবাইকে সৎ সাহসিকতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী দেশকে এগিয়ে নিতে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। আপনারা তার পাশে থাকবেন, দেশকে বিশ্ব দরবারে উচ্চ আসনে যেন অধিষ্ঠিত করতে পারেন। নবাগত ইউএনও হোসনে আরা বেগম বলেন, আমি সবার সহযোগিতা চাই। নারায়ণগঞ্জে এটা নিয়ে আমার তৃতীয় বারের মত পোষ্টিং। সদর উপজেলাকে সাধ্যমত সাজানোর চেষ্টা করবো। সভাপতির বক্তব্যে আজাদ বিশ্বাস বলেন, উপজেলা পরিষদের কাজ স্থানীয় এমপি শামীম ওসমানের পরামর্শে করে থাকি। এর আগে বিদায়ী ও নবাগত ইউএনওকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

 

 

নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

‘খাদ্যের কথা ভাবলে, পুষ্টির কথাও ভাবুন’ এই শ্লোগানে সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও শুরু হয়েছে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ। এ উপলক্ষে বর্নাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে । গতকাল সোমবার সকালে জেলা সিভিল সার্জনের আয়োজনে নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউসে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা সিভিল সার্জন ডা: এহসানুল হক’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধাণ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ মিয়া, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আব্বাস উদ্দিন আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার মো: বেলাল হোসেন, মেডিকেল অফিসার আমিনুল হক, সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সুকান্ত দাস প্রমুখ। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, ‘খাদ্য খেলেই হবে না, এই খাদ্য পুষ্টিকর কিনা তা জানতে হবে। বেশী বেশী করে শাকসবজি ফলমূল ও ছোট মাছ খেতে হবে। এই খাবার প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সমৃদ্ধ। ফাস্টফুড আমাদের শরীরের জন্য মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার না। অতিরিক্ত ভাজার কারনে এই খাবারে কোন পুষ্টি থাকে না। এই ফাস্টফুড খাবার আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর। তাই আমাদের দেহের পুষ্টি উপাদান তৈরি করতে বেশি বেশি করে শাকসবজি ফলমূল ও ছোট মাছ খেতে হবে।’ আলোচনা সভার আগে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে একটি র‌্যালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে সার্কিট হাউজে গিয়ে শেষ হয়।

 

 

সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !

 

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করেছে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ। সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট অশোক কুমার দত্তের উপস্থিতিতে মাদক ধ্বংস করা হয়। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আশেক ইমাম, মেহেদী হাসান, জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আহমেদ হুমায়ুন কবীরসহ প্রশাসনের লোকজন। ধ্বংসকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩৯০৭ বোতল ফেন্সিডিল, ১৭৬৪ ক্যান বিয়ার, ১৫৪ লিটার চোলাই মদ, ৩৯২ কেজি গাঁজা, ৫৮০ পুরিয়া হেরোইন ও ১লাখ ২২ হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবা।

 

 

 

মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে দেশব্যাপী বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষনা করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। আর এসব কর্মসূচিকে সামনে রেখে আবারো রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে পুলিশের হামলা মামলায় নাজেহাল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের পূর্ণ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র শীর্ষ নেতারা। সূত্রে প্রকাশ, গত ৮ ফেব্রুয়ারী খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে দলীয় আন্দোলনে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানকে তেমন মাঠে নামতে দেখা যায়নি। আর নাশকতার মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগ করে এখন সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দিয়ে জাগ্রত রাখলেও বেশীরভাগ শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরাই মামলা এড়াতে রয়েছেন আন্দোলন বিমুখ। আর মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম ও সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল নেত্রীর মুক্তির দাবীতে আন্দোলনে তেমন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে না পারলেও চলতি মাসের মধ্যে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মী সম্মেলন আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েও উভয়েই চিকিৎস্বার্থে এখন বিদেশে করছেন অবস্থান। কে কবে নাগাদ দেশে ফিরবেন, তা অনেকটাই অনিশ্চিত বলে জানান একাধিক শীর্ষ নেতা। তাই রাজপথের আন্দোলন সংগ্রাম থেকে অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছিলো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। কিন্তু দলীয় চেয়ারপার্সণের মুক্তির দাবীতে আহুত পাঁচ দিনের কর্মসূচিকে ঘিরে আবারো চাঙ্গা হয়ে উঠছে নেতাকর্মীরা এবং এই কর্মসূচি সফল করা এখন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র অস্তিত্ব রক্ষার চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন তারা। কর্মসূচি পালন বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, কর্মসূচি অবশ্যই পালন করা হবে। রাজপথের কর্মসূচি রাজপথেই পালিত হবে। আর যেহেতু আমি এখন কারা মুক্ত তাই কর্মসূচিতে অবশ্যই উপস্থি থাকবো। তবে নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ করে সময় ও স্থান নির্ধারণ করা হবে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান এ বিষয়ে বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচি সব সময়ই পালন করা হয়, এবারো করা হবে। নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে কর্মসূচির সময় জানানো হবে।

 

 

ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

 

 

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ওয়াসার পানিতে ময়লা ও দুর্গন্ধের কারণে বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েই যাচ্ছে। দুর্গন্ধযুক্ত ওয়াসার পানি ব্যবহার অযোগ্য। কিন্তু নিত্যদিনের প্রয়োজনের তাগিদে এসব পানি ব্যবহার করতে অনেকেই বাধ্য হচ্ছেন।যার ফলে নারায়ণগঞ্জবাসী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এতে করে নারায়ণগঞ্জবাসী চর্ম রোগ সহ বিভিন্ন ধরণের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে এমপি সেলিম ওসমানের নির্দেশনা সত্ত্বেও মার্চের মধ্যে ওয়াসার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াসার পানি সমস্যা সম্পূর্ণরূপে সমাধান করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকাতে ঘুরে ওয়াসার পানি সমস্যার নানা চিত্র দেখা যায়। এসময় বন্দরের সোনাকান্দা, ছালেহনগর, আমিন আবাসিক এলাকা সহ নবীগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন স্থানের বাসিন্দারা ওয়াসার পানির দুর্গন্ধ সহ ময়লা থাকার কারণে পানি ব্যবহারের একেবারে অনুপযোগী বলে অভিযোগ করেন। সোনাকান্দা কড়ই তলার এলাকার ভাড়াটিয়া জসিম জমাদ্দার জানান, সোনাকান্দা এলাকার ওয়াসার পানিতে এতো দুর্গন্ধ যে তা মুখে তোলা যায়না, পানি পান করাতো দূরের কথা। তাই খাবারের কাজের জন্য পাশের রূপালী আবাসিক এলাকার বিভিন্ন মানুষের বাসা থেকে কলসি দিয়ে পানি সংগ্রহ করে থাকি। কিন্তু এভাবে আর কতদিন চলবে। তাই এমপি সেলিম ওসমান যদি আমাদের দুঃখের কথা বিবেচনা করে ওয়াসার পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা করে দিতেন তাহলে পানি নামক দুর্ভোগ থেকে নিস্তার পেয়ে যেত বন্দরবাসী।এছাড়াও শহরের অভ্যন্তরীণ অধিকাংশ এলাকায় ওয়াসার ময়লা পানি ব্যবহার করে আসছে শহরবাসী। এদের মধ্যে ওয়াসার পানি ব্যবহারের দ্বারা চরম ভোগান্তিতে রয়েছে দেওভোগবাসীসহ ,বাবুরাইল,মাসদাইর,বৌবাজার,নয়াপাড়া এবং অন্যান্য পার্শবর্তী এলাকাগুলি। এদিকে দেওভোগ এলাকার একজন ভুক্তভুগি জানান, ওয়াসার পানি পান করে অসুস্থ হওয়া এইচএসসি শিক্ষার্থী কাজলকে রোগ নিরাময়ের জন্য চিকিৎসক খাবার পানি পরিবর্তন করতে পরামর্শ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। কিছুদিন আগে ওয়াসার পানি পান করে নয়ন টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিল। এসময় তাকে চিকিৎসক পানি পরিবর্তন করতে বললে তার পরিবার বাধ্য হয়ে দোকান থেকে খাবার পানি কিনে পান করছে বলে জানিয়েছেন। আলী আশরাফ সরদারের স্ত্রী জানান, ওয়াসার পানিতে এতো দুর্গন্ধ যে তা মুখে দিলে বমি চলে আসে। এছাড়া এই পানিতে ছোট ছোট লাল পোকা ভাসে। এই পানি পান করা ও ব্যবহারের কারণে পরিবারের সদস্যরা ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড সহ বিভিন্ন চর্মরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে দোকান থেকে খাবার পানি কিনে খেতে হচ্ছে। প্রতিদিন ২২ লিটারের দুটো বড় গ্যালন পানি কিনে খাচ্ছি। কিন্তু যাবতীয় ব্যবহারের জন্য এতো পানির জোগান বিকল্প ব্যবস্থা থেকে দেয়া সম্ভব না। তাই ওয়াসার ময়লা পানি ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন রকমের চর্মরোগ দেখা দিয়েছে। ছালেহনগর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ওয়াসার পানির নানা সংকট দৃশ্যমান হয়। তবে এসময় পানি দুর্গন্ধের একই অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পানির দুর্গন্ধের কারণে বিকল্প উৎস থেকে পানির জোগান দিতে হচ্ছে। কোন কোন বাড়িতে পানি আসে আবার কোন কোন বাড়িতে পানি পাওয়া যায়না। আর যেসব বাড়িতে পানিতে আসে সেগুলো খাবার অনুপযোগী। এ ব্যাপারে ওয়াসার বিল নিতে আসা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বললে তারা বলে জমি ঠিক করে দিতে পাম্প বসানোর জন্য, আবার কেউ বলে অফিসে যোগাযোগ করতে। শুনেছি এমপি সেলিম ওসমান ওয়াসার পানি সমস্যা নিরসন করতে ওয়াসার কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই এখন আমরা তার দিকে পানি সমস্যা সমাধানের জন্য তাকিয়ে আছি। অন্যদিকে নবীগঞ্জ এলাকায় ওয়াসার পানি সরবরাহ চালু হওয়ার কয়েকদিন পর থেকেই ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি আসছে বলে তা ব্যবহার করা যাচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন নবীগঞ্জবাসী। তাই এলাকাবাসী বিকল্প উৎস থেকে পানির চাহিদা মেটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। গত ১ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক সভায় এমপি সেমিল ওসমান ওয়াসার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীর উপর প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়ে মার্চ মাসের মধ্যে ওয়াসার পানির সকল সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন। কিন্তু তার সেই নির্দেশনা সত্ত্বেও এখনো বন্দরবাসী কোন আশার আলো দেখেনি। উল্টো ওয়াসার পানি সংকট ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে। আর এর তীব্রতা দিন দিন নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বস্তিকে অস্বস্তিতে পরিণত করছে।