আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:১৩
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

না’গঞ্জে আওয়ামীলীগের চাইতে শক্তিশালী জাতীয়পার্টি

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও গত সাড়ে ৪ বছরে নারায়ণগঞ্জে বিশেষ করে শহর-বন্দর ও সোনারগাঁয়ে জাতীয়পার্টি এখন অনেকটাই শক্তিশালী বলা চলে। ৯০ সালে এইচএম এরশাদের পতনের পর শুধুমাত্র জাতীয়পার্টি শহর কেন্দ্রীক থাকলেও বর্তমানে সমগ্র নারায়ণগঞ্জে জাতীয়পার্টির কর্মী-সমর্থকদের সংখ্যা বেড়েছে। তাই তারা আগামী নির্বাচনে ৫টি আসনেই প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে সদর-বন্দর আসনটিই জাতীয়পার্টিকে বারবার ছাড় দিয়েছিলো আওয়ামীলীগ। এতে এ আসনের পুরো এলাকাই জাতীয় পাটির্র নেতাকর্মীদের নখদপর্ণে চলে যায়। অবহেলিত হওয়ার অভিযোগ তোলে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা। তবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আরেকধাপ এগিয়ে যায় জাতীয়পার্টি। বর্তমানে জাতীয়পার্টি থেকে মনোনয়ন পাওয়া সাংসদ সেলিম ওসমান নিজস্ব ইমেজে সদর-বন্দর আসনে অনেকটাই শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। সোনারগাঁ আসনে কায়সার হাসনাতকে বসিয়ে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেয় আওয়ামীলীগ। ফলে এ আসনে নির্বাচিত হন বর্তমান সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা। ফলশ্রুতিতে সোনারগাঁ আসনে সাংগঠনিকভাবে আওয়ামীলীগের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে জাতীয়পার্টি। এছাড়া লিয়াকত হোসেন খোকার পাশাপাশি ডালিয়া লিয়াকতও মহিলাদের সংগঠিত করে জাতীয়পার্টিকে অনেকটাই শক্তিশালী করে তুলেছেন। গত শনিবার ফতুল্লার ইদ্রাকপুরে সাংসদ সেলিম ওসমানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উইজডম অ্যাটার্য়াসের অভ্যন্তরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির উদ্যেগে ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে একটি মত বিনিময় সভায় এ বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। মত বিনিময় সভায় হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বলেন, বিএনপি আসুক বা না আসুক জাতীয় পার্টি নির্বাচনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। এ অনুষ্ঠানেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রয়োজনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনেই জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে প্রার্থী দেয়ার ঘোষণা দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন সদর-বন্দর আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান। এ ঘোষণাকে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জাতীয় পার্টির চেয়াম্যানের উপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জে জাপা কতখানি শক্তিশালী হয়েছে তারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন তারা। রাজনৈতিক বোদ্ধারা মনে করেন, নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগ নেতারা বারবার জেলার ৫টি আসনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী দেয়ার দাবি তুললেও মূলত এ দাবি আদায়ে ঢিলেঢালা কর্মসূচীতে কাজ হবে না। কেননা সদর-বন্দর আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন মাত্র এক বার। ১৯৯৬ সালে এসএম আকরাম আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে প্রথম নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর এ আসনে এ একবারই আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার সুযোগ পায়। সুতরাং এ আসনে জাতীয় পার্টির শিকড় অনেক গভীরে। আওয়ামীলীগের সেই বিজয়ী প্রার্থী এসএম আকরাম পরবর্তীতে দল ছেড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ২০১৪ সালের ২৬ জুনের উপ-নির্বাচনে পরাজিত হন প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের ভাই সেলিম ওসমানের কাছে। এ আসনে বর্তমান সাংসদ সেলিম ওসমান রাজনৈতিক ব্যক্তি না হলেও সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর আরো সুদৃঢ়ভাবে জাতীয় পার্টির বীজ রোপণ করতে পেরেছেন বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ইউপি চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলোতে জাতীয় পার্টির নেতারা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে ফুলে ফেঁপে উঠেছেন। এমনকি ওইসব নির্বাচনে জাপার প্রার্থীরা নির্বাচিত হওয়ায় ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের নেতারাই অভিযোগ করেছেন যে তাদের জোর করে ফেল করিয়ে দেয়া হয়েছে। উপজেলার প্রতিটি সেক্টরে জাতীয় পার্টি, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টি, জাতীয় যুব সংহতি, জাতীয় ছাত্র সমাজ ও জাতীয় মহিলা পার্টিসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের আধিপত্য বাড়াছে। ফলে ক্ষমতায় থেকেও কোনঠাসা হয়ে পড়ে আওয়ামীলীগ। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের কয়েকজন প্রার্থী এ আসনটিও জাতীয়পার্টি থেকে কেড়ে নিতে চায়। আর বর্তমান সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা সে কাজটি অসম্ভব করে দিতে হুঙ্কার দিয়ে রেখেছেন। মূলত এ আসনে বর্তমান সাংসদ জাতীয় পাটির্র শক্তি প্রদর্শন ও আওয়ামীলীগের কর্মীদের পিছিয়ে দেয়ার জন্য একটি জাতীয় পার্টির টিম তৈরী করেছেন। আর এ আসনটি আওয়ামীলীগ নেতারা পুনরুদ্ধার করতেও বেশ বেগ পেতে হবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। অপরদিকে রূপগঞ্জ আসনে নীতি নির্ধারকদের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন রূপগঞ্জের প্রভাবশালী খান পরিবারের সদস্য জাতীয় পার্টি নারায়ণগঞ্জের একসময়ের অন্যতম কর্নধার, জাতীয় যুব সংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি তানভীর হায়দার খান। তানভীর হায়দারের ক্লিন ইমেজ, তেজস্বী বাগ্মিতা ও পারিবারিক ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার করার পরিকল্পনা করেছে এবং এর অংশ হিসেবে তাকে সক্রিয় হতে ও সার্বক্ষণিক অবস্থান করতে বলা হয়েছে। তানভীর হায়দার খান চেম্বার অব কমার্স এর সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজলের ছোট ভাই। আড়াইহাজার আসনে আওয়ামীলীগের অন্তদ্বন্দ্বের সুযোগে জাতীয় পাটির্র কেন্দ্রীয় নেতা আলমগীর শিকদার লোটন শক্তিশালী অবস্থান তৈরী করেছেন। একমাত্র ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনটিই আওয়ামীলীগের কয়েকটি ব্লকের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাই নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে জাতীয় পার্টিকে হঠিয়ে আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের মনোনয়ন নেয়া বেশ কষ্টসাধ্য হবেই বলে মনে করেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। আওয়ামীলীগ নেতারা ৫টি আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী চাইলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভবপর হবে না বলেও মনে করেন তারা। নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে জাতীয় পাটির্র প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার সাংগঠনিক শক্তি প্রসঙ্গে জাতীয় পাটির্র নারায়ণগঞ্জ জেলায় রয়েছে বলে একাধিক নেতা দাবি করে বলেন, আমাদের সব ধরণের সাংগঠনিক শক্তিই রয়েছে বলে আমরা মনে করি। আমরা সব ধরণের প্রস্তুতিই নিয়ে রেখেছি। গত শনিবার চেয়ারম্যানের সামনেও এ বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে।

আর কত লাশের বোঝা বইবে নারায়ণগঞ্জবাসী ? চলতি বছরের তিন মাসে একশত চৌত্রিশ লাশ

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক নেতারা যখন শান্তির শহর গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিভিন্ন সভা সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন তখনও দুর্বৃত্তরা একের পর এক লাশ ফেলে যাচ্ছে। যদিও পুলিশ প্রশাসনের থেকে বলা হয় অধিকাংশ লাশ অন্যত্র খুন করে নারায়ণগঞ্জের সীমানায় ফেলে রাখা হয়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে চলতি বছরের গত ৩ মাসে একশত চৌত্রিশটি লাশ পাওয়া গেছে। একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন। হত্যার পাশাপাশি ধর্ষণের ঘটনাও বেড়েছে। এই পরিসংখ্যান কেবল মাত্র কাগজে কলমে পাওয়া। থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়না এমন ঘটনাও অহরহ ঘটছে। চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৮ টি খুন, আত্মহত্যা ৮,বন্দুক যুদ্ধে নিহত ৩, সড়ক দূর্ঘটনা ও পানিতে ডুবে ২৩ এবং রহস্যজনক মৃত্যুসহ বিভিন্ন ঘটনায় শুধু মাত্র মার্চ মাসে সন্ধান পাওয়া যায় ৫০ লাশের। এর আগেও গত ফেব্রুয়ারী মাসে মাত্র ২৮ দিনে ৪২ লাশের সন্ধান পাওয়া যায়। এর মধ্যে হত্যা ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ১০, সড়ক দুর্ঘটনায় দূর্ঘটনায় ২৪, এবং আত্মহত্যায় ৭ লাশসহ মোট ৪২ লাশের সন্ধান মিলে। এর আগে জানুয়ারী মাসে ৩১ দিনে ৪২ লাশ উদ্ধার করা হয়।গত তিন মাসে লাশের মোট সংখ্যা দাড়িয়েছে ১৩৪ এ! জেলার মাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ৩০ মার্চ রূপগঞ্জের বরপা এলাকায় মাদ্রসার হেফজ পড়া নিয়ে অভিভাবক ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের চাপ সইতে না পেরে আত্মহত্যা কওে ইসহাক মিয়া নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী। অন্যদিকে একই দিন রাতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ফজলুল হক কলেজের সামনে থেকে এক অজ্ঞাত (৩২) যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেদিন বিকেলে কাশীপুরের হোসাইনীনগর এলাকায় আমেনা বেগম (৬৫) নামের এক হতদরিদ্র রুটি বিক্রেতা নারীর অটোরিক্সা চাপায় মৃত্যু হয়। ২৯শে মার্চ বন্দরের সরাইলে জনৈক আলী আহাম্মদ মিয়ার পুকুর পাড় থেকে অজ্ঞাতনামা এক বৃদ্ধার (৫৫) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ২৮শে মার্চ সন্ধ্যায় ফতুল্লার কোতালেরবাগ বউ বাজার এলাকা থেকে রীমা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়। ২৭শে মার্চ দিবাগত ও রাতে ফতুরøায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে রাব্বি মিয়া (২০) নামে এক অটোরিকশা চালকের মৃত্যু হয়। ১২ মার্চ নেপালের কাঠমন্ডুতে বিমান দুর্ঘটনায় আহতসিদ্ধিরগঞ্জ থানার শাহিন বেপারী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অন্যদিকে ২৭ মার্চ আড়াইহাজারে রহস্যজনক মৃত্যু হয় স্বপন ও আছমা নামে দুই ব্যক্তির। ২৬শে মার্চ জেলা কারাগারে আত্মহত্যা করে আমিনুল ইসলাম মোল্ল¬া (৩০) নামের এক হাজতি। ২৬ মার্চ দুপুরে রুপগঞ্জ উপজেলার সাওঘাট এলাকার বুলবুলের বাড়ির পাশের একটি ডোবার পাড় থেকে মুন্নি আক্তার নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ২৫শে মার্চ লাঙ্গলবন্দ হিন্দু সম্প্রদায়ের পূণ্য স্নান উৎসবে যাওয়ার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় অরুন চন্দ্র দাশ (৬০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়। একই দিন লাঙ্গলবন্দে তীর্থ স্নানোৎসবে লাঙ্গলবন্দ এলাকায় পাশানকালী স্নান ঘাটে এসে পানিতে ডুবে মারা যায় শুভ চন্দ্র দাস (৯) নামের এক শিশু। ২৪শে মার্চ বন্দরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কেওঢালা নামক এলাকায় সড়ক র্দূঘটনায় নিহত হয় বিল্ল¬াল হোসেন (৪০)। ২৩ মার্চ আড়াইহাজারে সুমি আক্তার নামে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন ফতুল্লার দেলপাড়ায় ট্রাক চাপায় ছোটন (১০) নামে চর্তুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্র নিহত হয়। ২৩শে মার্চ সন্ধ্যায় শীতলক্ষ্যা নদীতে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন আড়াইহাজারে দীর্ঘ দিনের পারিবারিক কলহের জের ধরে গৃহবধূূ সুমি আক্তার (২২) কে পিটিয়ে হত্যা করে পাষন্ড স্বামী। ২২শে মার্চ আড়াইহাজারের কলাগাছিয়া এলাকায় পানিতে ডুবে মিহন নামে তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়। ২০শে মার্চ রূপগঞ্জে ঢাকা সিলেট মহাসড়কের গোলাকান্দাইল রবিনটেক্সের সামনে বাসের ধাক্কায় নুরুল আমিন (৫০) নামে এক পথচারী নিহত হয়। ১৯শে মার্চ সন্ধ্যায় বন্দর থানার রপালী আবাসিক এলাকায় ২ লাখ টাকা যৌতুক দিতে না পারায় স্বামী ও শ্বশুড় বাড়ীর লোকজনের অমানবিক নির্যাতনে প্রাণ হারায় ৩ মাসের অন্তঃস্বত্তা ফাতেমা বেগম (২০)। ১৮মার্চ বন্দরের ফরাজিকান্দায় সিয়াম নামে এক ছেলে আত্মহত্যা করে। একই দিন বিকেলে আড়াইহাজারে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের ছোট বিনারচর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হয়ে শুক্কুর আলী (৩২) নামে এক সিএনজি চালকের মৃত্যু হয়। ১৭ই মার্চ বিকেলে ফতুল্লায় সন্ত্রাসীদের পিটুনীতে আহত ইটভাটা শ্রমিক নেকবর আলী (৪৫) মারা যায়। এর আগে গত ৮ মার্চ দুপুরে ফতুল্লার মধ্যনগর এলাকায় সন্ত্রাসীরা নেকবর আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে পিটিয়ে আহত করে ফেলে রেখে যায়। ১৭ই মার্চ বন্দরের সোনাকান্দায় প্রেমিকের আত্মীয় স্বজনদের অত্যাচার সইতে না পেরে গার্মেন্টস কর্মী শান্তা আক্তার (১৮) গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। একই দিন সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার তারাবো বিশ্বরোড এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় মনির হোসেন (৩৫) নামে এক মোটর সাইকেল আরোহী ঘটনাস্থলে নিহত হয়। অন্যদিকে একই দিনে সোনারগাঁয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় ট্রাক চাপায় নিহত হয় রায়পুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তাহমিনা আক্তার শিউলী (৩৫)। ১৬ই মার্চ ফতুল¬ার মুসলিমনগর এলাকায় কার্ভাড ভ্যানের চাপায় শুভ (১২) নামের এক সাইকেল আরোহী নিহত হয়। ১৫ই মার্চ সোনারগাঁয়ের সনমান্দী ইউনিয়নের কাফায়াকান্দী গ্রামের পিতার কাছ থেকে টিফিনের টাকা না পেয়ে শাহনাজ আক্তার (১৫) নামে দশম শ্রেণীর এক ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। ১৪ই মার্চ রূপগঞ্জে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেন্দুয়া বাজুইন্নাপাড়া এলাকা আরমান (৫১) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৩ মার্চ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ইফতেখার মুশফিক জয় (১৮) নামে পুলিশের এক সোর্সকে হত্যা করে দূর্বৃত্তরা। ১২ই মার্চ অপহরনের ৬ দিন পর বন্দর নবীগঞ্জ’র বাঘবাড়ি এলাকার একটি ডোবা থেকে এলেম (৮) নামে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একইদিন ভোরে সদও থানার গোপচরে ধলেশ্বরী নদীর খেয়াঘাটে র‌্যাব এর সাথে নৌ-ডাকাত বাহিনীর গুলি বিনিময়ে ডাকাত বাহিনীর প্রধান জিল¬ুর রহমান (৩৫) সহ ২ ডাকাত নিহত ও একই উপজেলার মীরেরবাগ এলাকায় সোমবার ভোরে পুলিশের সঙ্গে ডাকাত দলের বন্দুক যুদ্ধে জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৮) নামে এক ডাকাত নিহত হয়। অন্যদিকে রূপগঞ্জে উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আউখাব এলাকার বাস চাপায় নিহত হয় নুরুল আমিন (৫০) নামে এক টেক্সটাইল কর্মচারী । ১১ই মার্চ বন্দরের ইঞ্জিনিয়ার ফারুক ঢাকা মগবাজার রেল গেইটে রেলের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে। ১০ই মার্চ ফতুল্লার ইসদাইর এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত (২৫) এক যুবকের মৃত্যু হয়। ৯ই মার্চ রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন টোলপ্লাজা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় সানাউল্লাহ (৬৫) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধি নিহত হন। একই দিন রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল পূর্বপাড়া এলাকার আনোয়ার হোসেন (৩৬) নামে এক যুবক মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। ৮ই মার্চ সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের সাজালের কান্দি খালের পাশ থেকে অজ্ঞাত (৬০) নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ৭ মার্চ সোনারগাঁয়ের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার কোম্পানীগঞ্জমুখী তিশা পরিবহণের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে ঘটনাস্থলেই ২ জন নিহত হয়। একই দিন সকালে সোনারগাঁ উপজেলায় বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সাতভাই পাড়া গ্রামে গলায় ফাঁস দিয়ে শান্তা (১৪) নামে এক কিশোরী আত্মহত্যা করে। ৬ই মার্চ সকালে সোঁনারগায়ের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বালুয়াকান্দি বাসষ্ট্যান্ডের সামনে পিকআপ ভ্যানের চাপায় মৃত্যু হয় তামান্না নামের এক স্কুল ছাত্রীর। ১ই মার্চ জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সোনারগাঁ উপজেলার পৌরসভা এলাকার ষোলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা খোরশেদ আলম নামে এক ডেকোরেটর ব্যবসায়ীকে দিনে দুপুরে সুলতান মিয়া তার ছেলে সিফাত, রিফাত স্ত্রী সেফালী বেগম ও সুলতানের ভাই কবির হোসেন কুপিয়ে হত্যা করে।

 

নতুন বরাদ্দ পাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের সাংসদরা

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ভোটের বছরে নারায়ণগঞ্জসহ জাতীয় সংসদের সাংসদরা স্কুল ভবনের পর এবার নিজের এলাকায় মাদ্রাসা ভবন নির্মাণের সুযোগ পাচ্ছেন। প্রত্যক সাংসদ অন্তত ছয়টি করে মাদ্রাসা ভবন তৈরি করবেন। নির্বাচনের বছরে জাতীয় সংসদের সাংসদদের জন্য এই প্রকল্পটিসহ মোট তিন প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে জমা আছে। তিন প্রকল্পে খরচ হবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। পরিকল্পনা কমিশন এখন প্রকল্পগুলো যাচাই-বাছাই করছে। অন্য দুটি প্রকল্পের একটি হলো, নিজের এলাকায় গভীর নলকূপ ও গণশৌচাগার নির্মাণ। অপরটি হলো, হাটবাজারের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কার। স্থানীয় সাংসদেরা ঠিক করে দেবেন কোথায় গভীর নলকূপ, গণশৌচাগার ও হাটবাজার হবে। এর আগে অবশ্য চলতি অর্থবছরেই সাংসদদের জন্য আরও তিনটি প্রকল্প পাস করা হয়। এসব প্রকল্পে সাংসদদের ইচ্ছায় নতুন স্কুল ভবন, মসজিদ-মন্দির নির্মাণ করা হবে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারি মাসে মাদ্রাসা নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তাবটি পরিকল্পনা কমিশনে আসে। এই প্রকল্পে প্রত্যক সাংসদ নিজের এলাকার কোন ছয়টি মাদ্রাসার জন্য নতুন ভবন নির্মাণ করতে হবে, তা ঠিক করে দেবেন। সাংসদদের চাহিদা অনুযায়ী মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর সেসব মাদ্রাসা ভবন নির্মাণ করে দেবে। স্থানীয় ঠিকাদারেরাই এসব কাজ পাবেন। গত জানুয়ারি মাস থেকে শুরু হয়ে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সালের জুন মাসে শেষ হবে। এই প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ২ হাজার মাদ্রাসা ভবন নির্মাণ করা হবে। ভবন নির্মাণের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ল্যাবরেটরিসহ আধুনিক সুবিধা থাকবে। প্রতিটি ভবন হবে পাঁচতলা, নিচতলা ফাঁকা থাকবে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। শিগগিরই তা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উঠছে। জানা গেছে, সরকারি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসাগুলো থেকে বাছাই করে এই প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। এমপিওভুক্ত মাদ্রাসায় সরকারি তহবিল থেকে বেতন-ভাতা বাবদ মাসিক অনুদান দেওয়া হয়। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বেইনবেস) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশে দাখিল থেকে কামিল পর্যন্ত মোট মাদ্রাসা ৯ হাজার ৩১৪টি। ওই বছর ভর্তি হওয়া মোট শিক্ষার্থী ছিল ৩৮ লাখ ৩২ হাজার ২৯৩ জন। চলতি অর্থবছরেই সাংসদদের জন্য আরও তিনটি প্রকল্প পাস করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি পৃথক প্রকল্পে প্রত্যক সাংসদ ১০টি বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণ এবং ১০টি অর্ধনির্মিত ভবনের কাজ শেষ করার বরাদ্দ পাচ্ছেন। অপর প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যক সাংসদ নিজের এলাকার মসজিদ-মন্দিরসহ ধর্মীয় উপাসনালয় উন্নয়নে এক কোটি টাকা বরাদ্দ পাচ্ছেন। এই তিন প্রকল্পে ১৬ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা খরচ হবে। এখনো নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো সাংসদদের সরাসরি বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্প নেওয়া শুরু করে সরকার। ওই বছর যে প্রকল্প পাস করা হয়, তাতে পরের পাঁচ বছর প্রত্যক সাংসদ নিজের এলাকায় ১৫ কোটি টাকা রাস্তাঘাট নির্মাণের বরাদ্দ পেয়েছেন। দ্বিতীয় পর্যায় চলছে, ২০১৯ সালে শেষ হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রত্যক সাংসদ ২০ কোটি টাকা পাচ্ছেন। তবে এই প্রকল্পটির কাজ কেমন চলছে, তা নিয়ে কখনোই পরিদর্শন করেনি বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে শেষ হওয়া বেশ কিছু প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়ন করেছে আইএমইডি। সেই তালিকায় প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পটি নেই।

 

 

 

 

কাঁচাপাট রফতানী বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি ব্যবসায়ীদের

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আনকাট, বিটিআর এবং বিডব্লিউআর ধরনের কাঁচাপাট রফতানী বন্ধের ঘোষণা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা না হলে প্রাচ্যের ডান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জ থেকে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী উচ্চারন করেছেন নারায়ণগঞ্জের কাঁচাপাট রফতানীকারকরা। একটি স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় ওইসকল কাঁচাপাট রফতানী বন্ধের মাধ্যমে দেশের কাঁচাপাট শিল্পকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে। রফতানীকারকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। গতকাল রোববার দুপুরে বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের নারায়ণগঞ্জস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এ হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন নারায়ণগঞ্জের কাঁচাপাট রফতানীকারকরা। এসময় তারা বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশনের বর্তমান পরিষদেরও চরম সমালোচনা করেন। বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ শিপার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও এসএন জুট ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মোঃ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও আরজু জুট ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আরজু রহমান ভূইয়া, বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও হক কোম্পানীর স্বত্বাধিকারী নুরুল হোসেন, কুমিল্লা জুট ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শহীদুল্লাহ সরকার, এআরএম জুট বেলিং এর স্বত্বাধিকারী মোঃ লিয়াকত আলী, ইন্টারন্যাশনাল জুট ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী গনেশ চন্দ্র সাহা, বুলবুল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী কামাল উদ্দিন বাচ্চু, সানি জুট ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী লিয়াকত হোসেন, সিএনকে জুট বেলিং এর স্বত্বাধিকারী সাধন কুমার রায়, আলহাজ্ব জুট বেলার্স এর স্বত্বাধিকারী মোঃ মিল্টন, সোনালী ফাইবার্স এর স্বত্বাধিকারী নারায়ণ প্রসাদ সিকারিয়া, ভূইয়া জুট বেলার্স এর স্বত্বাধিকারী গোলাম মোহাম্মদ ভূইয়া, নিউ পিপলস জুটের স্বত্বাধিকারী সমীর দেবনাথ, কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্টের প্রতিনিধি কমান্ডার (অব:) মোঃ রেজাউল করিম, শারমিন জুট বেলার্সের প্রতিনিধি রতন কুমার সাহা প্রমুখ। সভায় কুমিল্লা জুট ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শহীদুল্লাহ সরকার বলেন, গত তিন মাস ধরে আনকাট, বিটিআর এবং বিডব্লিউআর ধরনের কাঁচাপাট রফতানী বন্ধের ঘোষণার পর থেকে রফতানীকারকরা লোকসানের মুখে রয়েছে। একদিকে ব্যাংকের ঋনের চাপ অন্যদিকে বিক্রেতাদের চাপ। বায়ারদের অর্ডারও ক্যানসেল হওয়ার পথে। কৃষকরাও ক্ষতির মুখে পড়েছে। ইতিমধ্যে কাঁচাপাটের দর মন প্রতি ৩০০-৪০০ টাকা পর্যন্ত কমে গেছে। সামনে কাঁচাপাটের মৌসুম। অবিলম্বে রফতানী বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাহার করা না হলে প্রাচ্যের ডান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জ থেকে কাঁচাপাটের ব্যবসা হারিয়ে যাবে।  সানি জুট ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী লিয়াকত হোসেন বলেন, কাঁচাপাটের ব্যবসা করে আমরা কি কোন অপরাধ করেছি কিনা সেটা সরকারের কাছে জানতে চাই। এর আগে ২০১০ সালে, ২০১৬ সালেও কাঁচাপাট রফতানী বন্ধের কারণে রফতানীকারকরা লোকসান গুনেছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ২০১৩-২০১৫ সাল পর্যন্ত কাঁচাপাট রফতানীকারকরা লোকসান গুনেছে। বার বার রফতানী বন্ধের সিদ্ধান্তের কারণে রফতানীকারকরা নিঃস্ব হওয়ার পথে। যে কাঁচাপাট আমরা ২২০০ টাকা দরে ক্রয় করেছিলাম সেটা এখন ১৭০০-১৮০০ টাকা দরে নেমে এসেছে। যে কাঁচাপাট আমরা ১৮০০ টাকা দরে ক্রয় করেছিলাম সেটা এখন ১৩০০-১৪০০ টাকা দরে নেমে এসেছে। এভাবে চলতে থাকলে প্রাচ্যের ডান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জ থেকে কাঁচাপাটের ব্যবসা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আজকে স্পিনিং মিল মালিকদের প্ররোচনায় সরকার এমন অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে আমরা মনে করছি। এআরএম জুট বেলিং এর স্বত্বাধিকারী মোঃ লিয়াকত আলী বলেন, বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশনের বর্তমান পরিষদের চেয়ারম্যানসহ নেতাদের কার্যক্রম আমাদের হতাশ করেছে। প্রায় তিন মাস ধরে রফতানী বন্ধ থাকলেও তারা কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। যদি অবিলম্বে রফতানী বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হয় তাহলে আমরা কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবো। বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশনের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও হক কোম্পানীর স্বত্বাধিকারী নুরুল হোসেন বলেন, ১৯৮৫-৮৬ সালে একবার কাঁচাপাট রফতানী বন্ধের সিদ্ধান্তের কারণে শুধু নারায়ণগঞ্জ থেকেই সাড়ে ৩শ’ কাঁচাপাট ব্যবসায়ী বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। আমি আমাদের বর্তমান পরিষদের চেয়ারম্যানকে কর্মসূচী দেয়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু তাকে বারবার বলার পরেও তিনি কোন পদক্ষেপ নেননি।  বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশনের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও আরজু জুট ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আরজু রহমান ভূইয়া বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে সারাদেশ থেকে ১২ লাখ বেল কাঁচাপাট রফতানী হয়েছে যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ থেকেই প্রায় ৪ লাখ বেল কাঁচাপাট রফতানী হয়েছে। এছাড়া গত বছরের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারী পর্যন্ত সারাদেশ থেকে ৬ লাখ ৬০ হাজার বেল কাঁচাপাট রফতানী হয়েছে যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ থেকেই আড়াই লাখ বেল কাঁচাপাট রফতানী হয়েছে। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জে বেশ কিছু জুট মিল রয়েছে। প্রতি বছর নারায়ণগঞ্জেই ৮০ লাখ বেল পাট হ্যান্ডলিং হয়ে থাকে। এই শিল্পের সঙ্গে অর্ধলক্ষাধিক শ্রমিক জড়িত রয়েছে। কিন্তু কিছুসংখ্যক স্পিনিং মিলের প্ররোচনায় আজকে কাঁচাপাট রফতানী বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রফতানীকারকরা দীর্ঘদিন বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশনের নেতৃত্বস্থানীয়দের দিকে তাকিয়ে ছিল। কিন্তু তারা কোন পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি আরো বলেন, আমরা নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীরা নেতৃত্ব দিতে জানি। দাবী আদায় করতে জানি। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।  সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ শিপার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও এসএন জুট ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মোঃ রেজাউল করিম বলেন, গত জানুয়ারী মাসে সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার ৩ দিন পূর্বে আমার কাছে খবর আসে সরকার কাঁচাপাট রফতানী বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। আমি ওইসময় বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশনের বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ সৈয়দ আলীকে এ বিষয়ে জানিয়েছিলাম। এ বিষয়ে বাংলাদেশ বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশনের দায়িত্বশীলদের কোন মাথাব্যথা নেই বলেই মনে হচ্ছে। যেকারণে আজকে আমাদেরকেই মাঠে নামতে হচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবো। যদি এরপরেও কোন সুরহা না হয় তাহলে আন্দোলনে নামা ছাড়া আমাদের সামনে কোন পথ খোলা নেই।

অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই পরিবারে শোকের মাতম

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় কাকাডু ন্যাশনাল পার্কের কাছে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম দিনার ও সাদেকা কামাল নিপা। সড়ক দুর্ঘটনার খবরে সোনারগাঁয়ে দিনার ও নিপা উভয়ের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গতকাল রবিবার বিকেলে সোনারগাঁয়ের বাড়িমজলিশ গ্রামে দিনার ও দমদমা গ্রামে নিপার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে হৃদয় বিদারক দৃশ্য। মা-বাবা ও তাদের আত্মীয় পরিজনদের করুন আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠেছে পরিবেশ। সাইফুল ইসলাম দিনারের বাল্যবন্ধু রুবেল জানান, দিনার ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএস পাশ করে ২০১৩সালে অস্ট্রেলিয়ার চার্লস ডারউইন বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ ভর্তি হন। চার মাস আগে সে দেশে এসে স্ত্রী সায়মা আক্তার সেতুকে অস্ট্রেলিয়া নিয়ে যায়। আগামী মে তে তাদের দেশে আসার কথা ছিল। দেশে বিবাহোত্তর ঝমকালো অনুষ্ঠান করারও কথা ছিল। কিন্তু তা আর হলো না। গত শনিবার ছিল দিনারের জন্মদিন আর গতকাল রোববার ছিল স্টার সান ডে তাই তারা সব বন্ধুরা মিলে বেড়াতে বের হয়েছিল। গাড়িটি দিনার নিজেই ড্রাইভ করছিল কে জানতো জন্মদিনেই সে চলে যাবে না ফেরার দেশে। তিনি আরো জানান, অস্ট্রেলিয়ায় তাদের নাগরিকত্বের কাগজপত্র প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে। দিনার সেখানে একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে পার্ট টাইম চাকরি করতো। দুর্ঘটনার সময় দিনারের সাথে থাকা তার স্ত্রী সায়মা মারাক্তক আহত হন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন। তার একটি পায়ে মারাত্মক জখম হওয়ায়  কেটে ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে। দিনার সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়িমজলিশ গ্রামের মাজারুল ইসলামের ছোট ছেলে। অপর দিকে একই ইউনিয়নের দমদমা গ্রামের মেয়ে সাদেকা কামাল নিপাও এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। তিনিও ওই গাড়িতেই ছিলেন। নিপার স্বামী সোহান হোসেন এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। ২০০৯ সালে সোহাগ অস্ট্রেলিয়ার চার্লস ডারউইন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান সাড়ে তিন বছর আগে স্ত্রী নিপাকে অস্ট্রেলিয়া নিয়ে যান। নিপার নিহতের খবরে তার পরিবার শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে। তার বাবা মোস্তফা কামাল বাবুল কারো সাথে কথা বলছে না। শুধু চুপচাপ চোখের পানি ফেলছেন। তার তিন ছেলে মেয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিল নিপা। আদরের মেয়েকে হারিয়ে পুরো পরিবার শোকে পাথর হয়ে গেছে।

 

সবাইকে নিয়ে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ব : ডিসি

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

‘বন্ধ হলে দুর্নীতি, উন্নয়নে আসবে গতি’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ পালিত হয়েছে। ২৬ মার্চ থেকে গতকাল রোববার পর্যন্ত ৫ দিনব্যাপী দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহের শেষ দিন জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ডা. মো. শাহনেওয়াজ চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ও গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকোশলী মো. মাহাবুবুর রহমান। এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ সভাপতি কাজী দলিল উদ্দিন দুলাল ও সালেহা আক্তার, সদস্য সাইফুল ইলসাম, মাজহার হোসেন, অমিতাভ চক্রবর্তী ও নাসিমা আক্তারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ। আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া বলেন, সবাই মিলে চেষ্টা করতে হবে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে চাই। সকলের প্রচেষ্টা থাকলে অবশ্যই আমরা সফল হবো।

সাত খুনে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত নূর হোসেনের চাঁদাবাজি মামলায় পরবর্তী সাক্ষী চব্বিশ জুন

 

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামী নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগির বিরুদ্ধে পৃথক দুটি চাঁদাবাজীর মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে এসব মামলার শুনানিতে হাজির করার জন্য নূর হোসেনকে কঠোর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা করে নারায়ণগঞ্জে আনা হয়। হাজিরা শেষে আবারও কঠোর নিরাপত্তায় তাকে ঢাকার কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়। নারায়ণগঞ্জ দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবদুল হান্নানের আদালতে ওই দুটি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ হয়। এছাড়া আরো ৬টি মামলার সাক্ষী না আসায় আগামী ২৪ জুন সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের অতিরিক্ত পিপি জাসমিন আহমেদ জানান, নূর হোসেনের ৭ খুন ছাড়াও অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজীর ৮টি মামলা আছে। এর মধ্যে গতকাল রোববার সবগুলো মামলার সাক্ষী তলব করা হয়। এদিন আদালতে একটি চাঁদাবাজী মামলার বাদী আকরাম হোসেন ও অটো রিকশা থেকে চাঁদাবাদী মামলার ৪ নাম্বার সাক্ষী গিয়াসউদ্দিন সাক্ষ্য প্রদান করে। বাকি মামলাগুলোর সাক্ষীরা না আসায় ২৪ জুন পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছে আদালত। একই সঙ্গে সাক্ষীদের সমন পাঠাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নূর হোসেনের সঙ্গে এসব মামলার অপর আসামী সেলিম ও আলী আহাম্মদকেও গতকাল রোববার একই সঙ্গে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত সূত্র মতে, ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল ৭জনকে অপহরণ ও পরদিন লাশ উদ্ধারের পর ওই বছরের ১০ জুন সাইদুল ইসলাম বাদি হয়ে আদালতে একটি পিটিশন দায়ের করেন। পরে আদালতের নির্দেশে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ২১ জুন আটজনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করেন। মামলায় প্রধান আসামি হলেন নূর হোসেন। গতকাল রোববার এ মামলার ৪ নাম্বার সাক্ষী গিয়াসউদ্দিন আদালতে বলেন তিনি কিছুই জানেন না। এছাড়া আরেকটি চাঁদাবাজী মামলায় রোববার আকরাম হোসেন নামের একজন বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ীও চাঁদাবাজী মামলায় সাক্ষ্য প্রদানের সময়ে জানান, তিনি কিছুই জানেন না। পুলিশ এসে তার কাছ থেকে শুধুমাত্র সাক্ষর নিয়ে গেছে। প্রসঙ্গত ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ ডুবিয়ে দেয়া হয় শীতলক্ষ্যা নদীতে। এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় দায়ের করা পৃথক দুটি মামলার রায়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নূর হোসেনসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদ- দেন। যাদের মধ্যে ১৬ জনই র‌্যাব সদস্য। এছাড়া আরও নয় র‌্যাব সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেন আদালত। পরে উচ্চ আদালতে আপিলেও নূর হোসেনের মৃত্যুদ- বহাল থাকে। এর পর থেকেই নূর হোসেন কারাগারে বন্দী।

 

নারায়ণগঞ্জে জাতীয়পার্টি উজ্জীবিত

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সরব হয়ে উঠছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টি। সদর-বন্দর আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের বক্তব্যকে উপলক্ষ করে নেতাকর্মীদের মাঝে এই প্রাণচাঞ্চলতা ফিরেছে। নেতাকর্মীরা আবারো স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন নারায়ণগঞ্জের রাজপথ কাঁপানোর। জানা যায়, একসময় নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টি আওয়ামীলীগের সাথে পাল্লা দিয়ে রাজনীতি করতো। নারায়ণগঞ্জের রাজপথ দাবড়িয়ে বেড়াতেন জাতীয়পার্টির নেতাকর্মীরা। জেলা পার্টি অফিস সবসময় নেতাকর্মীদের পদচারণায় সরব থাকতো। রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় সকল কর্মসূচিতেই নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণ থাকতো নজরকাড়া। আর এসবের মূল কারিগর ছিলেন সদর-বন্দর আসনের প্রয়াত সাংসদ সদস্য নাসিম ওসমান। তিনি জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতিক নিয়ে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। নাসিম ওসমান অনেক সময় জাতীয় পার্টিতে নীতি-নির্ধারকের ভূমিকাও পালন করতেন। তারই অবদানে দশম জাতীয় সংসদ সদস নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনটিও জাতীয় পার্টির দখলে আসে। কিন্তু ২০১৪ সালের এপ্রিলে নাসিম ওসমান মারা যাওয়ার পর থেকে প্রাণচাঞ্চলতা হারিয়ে ফেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টি। তাদের পার্টি অফিসটিও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নেতাকর্মীরা নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েন। তবে গত শনিবার নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দাপাস্থ এমপি সেলিম ওসমানের মালিকানাধীন উইসডম এপ্যারেলস গার্মেন্ট ফ্যাক্টরীতে জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির আয়োজনে ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় সভায় সেলিম ওসমানের বক্তব্যে নেতাকর্মীরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়াম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ। মতবিনিময় সভায় সেলিম ওসমান বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা একটা আসন চাইবো সেটা হবে রাষ্ট্রপতি। আমাদের জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদকে যদি রাষ্ট্রপতি দেয়া হয় তাহলে আমরা আওয়ামীলীগের সাথে আপোষে যাবো। নতুবা কারো সাথে আপোষ করবো না। জাতীয় পার্টি একটি জনপ্রিয় দল, জাতীয় পার্টি একক ভাবে নির্বাচন করবে। আমরা দেশের উন্নয়ন চাই। জাতীয় পার্টি সব সময় দেশের উন্নয়নের চিন্তা করেন। তাই আমরা যদি সরকারকে সহযোগিতা না করতাম তাহলে দেশ তলাবিহীন ঝুড়ি হয়ে যেতো।  নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে সেলিম ওসমান বলেন, আমি আমার বড় ভাই নাসিম ওসমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আপনারা আমাকে এমপি বানিয়েছেন। আমি সাড়ে চার বছরে নেতাকর্মীদের সম্মান করতে পারিনি। এখন সময় এসেছে নেতাকর্মীদের সম্মান করার।

 

নারায়ণগঞ্জে মহানগর বিএনপির লিফলেট বিতরণ

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী লিফলেট বিতরণ করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি। গতকাল রোববার সকালে চাষাঢ়া ডাকবাংলোর সামনে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস। তার সাথে জেলা বিএনপির অন্য কোন নেতাকে দেখা যায়নি। এই কর্মসূচি দুই এক মিনিটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিও কর্মসূচি পালন করেছেন। পুলিশের ভয়ে রাজপথ ছেড়ে নগরীর কালিবাজার এলাকায় তাদের লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিও বেশিক্ষণ স্থায়ী ছিলো না। এসময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, হাজী নুরু উদ্দিন ও বেগম আয়শা আক্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টু ও অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আওলাদ হোসেনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা। একইভাবে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়সহ সহসভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনিও বেশিক্ষণ এ কর্মসূচি পালন করতে পারেননি পুলিশের ভয়ে। ছবি তোলার সাথে সাথেই কর্মসূচির সমাপ্তি করে দেন।

 

 

নারায়ণগঞ্জে মনোনয়ন নিয়ে নৌকা-লাঙ্গলের লড়াই !

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনে নৌকার পক্ষে কথা বলছেন আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতারা। আর লাঙলের পক্ষে দীর্ঘদিন পরে এসে জোরালো কথা বললেন এমপি সেলিম ওসমান। আওয়ামী লীগের দাবী, দেশের বিভিন্ন স্থানে লাঙলের প্রার্থী দিলেও নারায়ণগঞ্জে চলবে না। আর গত শনিবার দলের চেয়ারম্যান এরশাদের উপস্থিতিতে জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান ঘোষণা দিয়েছেন প্রয়োজনে ৫টি আসনে লাঙলের প্রার্থী দেওয়া হবে। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে সদর-বন্দর ও সোনারগাঁ আসনে আছে জাতীয় পার্টির এমপি। আর বাকি তিনটি আসনে আছে আওয়ামী লীগের এমপি।  সবশেষ ২০১৪ সালের ২৬ জুন সদর-বন্দর আসনের উপ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন সেলিম ওসমান যাঁর ভাই নাসিম ওসমান ছিলেন আগের এমপি। ওই বছরের ৩০ এপ্রিল নাসিম ওসমান মারা যান যিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর আগে ২০০৮ সালের ২৮ ডিসেম্বরও তিনি এমপি ছিলেন। জানা গেছে, সদর-বন্দর আসন থেকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশা নিয়ে নিয়মিত জনসংযোগ করছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত, কেন্দ্রীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরজু রহমান ভূইয়া ও নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগ সভাপতি আবদুল কাদির। সোনারগাঁ আসনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নেমেছেন সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের উপ-কমিটির সাবেক সহ সম্পাদক এএইচএম মাসুদ দুলাল, উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুুর রহমান কালাম। আড়াইহাজার আসনে নৌকা প্রতীকে নেমেছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মমতাজ হোসেন, সাবেক এমপি এমদাদুল হক ভূইয়া, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইকবাল পারভেজ। গত শনিবার ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুরে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উইজডম অ্যাটায়ার্স লিমিটেড কারখানার ভেতরে বৈঠকে সেলিম ওসমান আগামী সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি সব সময় উন্নয়নের রাজনীতি করেছি। আমি প্রার্থী হই বা না হই নারায়ণগঞ্জে যাতে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির কেউ নির্বাচিত না হতে পারে তার জন্য প্রয়োজনে ৫টি আসনেই লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্র্থী দেওয়া হবে। তখন দেখা যাবে জনগনের আস্থা কাদের উপর। উন্নয়ন নাকি ভাওতাবাজির পক্ষে ? নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই জানান, আগামীতে সদর-বন্দর আসনে নৌকার প্রার্থী দিতে হবে। দেশের অন্য এলাকাতে জোট হতে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিলেও আগামীতে যাতে সদর-বন্দর আসনে নৌকা ছাড়া বিকল্প কিছু না ভাবা হয় সে বিষয়টিও দলের সভানেত্রীকে জানানো হবে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, দীর্ঘ বছর ধরে সদর-বন্দর আসনে নৌকার প্রার্থী না থাকায় এখানে দলের নেতাকর্মীরা অবহেলিত। তৃণমূল সহ সবার দাবী যেন এখানে নৌকার প্রার্থী দেওয়া হয়। বিষয়টি আমাদের ফোরামেও আলোচনা হয়েছে। এটা প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হবে। মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী খোকন সাহা জানান, সদর-বন্দর আসনে ১৭ বছর ধরে দলীয় কোন এমপি নেই। আর তাই প্রতিটি কর্মীর প্রাণের দাবি সদর-বন্দর আসনে নৌকার প্রার্থী দেয়া। ৪২ বছর ধরে আমি আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে আসছি। আমার জুনিয়র অনেকেই মন্ত্রী হয়েছে। সদর-বন্দর আসনে আমি অবশ্যই প্রার্থী হবো। নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি অবশ্যই জয়ী হবো বলে আমার বিশ্বাস। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই জানান, আগামীতে সদর-বন্দর আসনে নৌকার প্রার্থী দিতে হবে। দেশের অন্য এলাকাতে জোট হতে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিলেও আগামীতে যাতে সদর-বন্দর আসনে নৌকা ছাড়া বিকল্প কিছু না ভাবা হয় সে বিষয়টিও দলের সভানেত্রীকে জানানো হবে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, দীর্ঘ বছর ধরে সদর-বন্দর আসনে নৌকার প্রার্থী না থাকায় এখানে দলের নেতাকর্মীরা অবহেলিত। তৃণমূল সহ সবার দাবী যেন এখানে নৌকার প্রার্থী দেওয়া হয়। বিষয়টি আমাদের ফোরামেও আলোচনা হয়েছে। এটা প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হবে।