আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:১৩
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

জাপাকে নিয়ে চিন্তিত নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ..

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষনা দিয়েছে জাতীয় পার্টি। আওয়ামীলীগকে ছাড় না দিয়ে নিজেরাই একক ভাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। তাই জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমানে জাতীয় পার্টিকে নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ। আওয়ামরিেিগর নেতাকর্মীদের ক্ষোভের সাথে বলেন, দল ক্ষমতায় থাকার পরও নিজ এলাকায় আমরা বিরোধী দল। ভিন্ন দলের সংসদ সদস্য থাকায় মুল্যায়ন তো দূরের কথা সরকারী দলের প্রাপ্য মর্যাদাটুকুও পাই না। উল্টো তাদের (জাপা) প্রভাবের কাছে বার বার পরাজিত হচ্ছি। স্কুল কমিটি থেকে শুরু করে সমস্ত কর্মকান্ডে তাদের প্রভাব। বিগত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীরা মার খেয়েছে, আর প্রভাব খাটিয়ে জাতীয় পার্টি কেড়ে নিয়েছে সবকটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদ। শুধু তাই নয়, সরকারী কাজকর্ম টেন্ডার, বিভিন্ন প্রজেক্ট-প্রকল্প সব সুবিধাই ভোগ করছে জাতীয় পার্টি। নিজেদের এখন মনে হয় বিরোধী দল। জানা গেছে, বিগত সাড়ে ৪ বছরে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ সোনারগাঁ আসনে আওয়ামীলীগের অবস্থান বিরোধী দলের মতোই। দলীয় প্রতিকে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ইউপি নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ সদর, বন্দর এবং সোনারগাঁ আসনের ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিতরা সবাই লাঙ্গল সমর্থিত। আওয়ামীলীগ ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করেও শুধু মাত্র এমপিদের প্রভাবের কারনে পরাজিত হয়েছে নৌকা। শুধু পরাজিতই না, নৌকার নির্বাচন করতে গিয়ে পুলিশ ও জাপা ক্যাডারদের হাতে পিটুনীর শিকার হতে হয়েছে আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের। যেমনটা বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে হয়েছিলো। সত্যতা স্বীকার করে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা বলেন, একারনেই আওয়ামীলীগ এখন ঐক্যবদ্ধ। আমরা নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের কোথাও আর লাঙ্গল দেখতে চাইনা। জোট হলে অন্য কোন জেলায় লাঙ্গল দেয়া হউক কিন্তু নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকা চাই। এদিকে নির্যাতিত নেতা-কর্মীরা জানান, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে জেল জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছি। বাড়ী-ঘরে ঘুমাতে পারিনি, বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসী, নৌকা আমাদের অন্তরে। বিগত নির্বাচনে সদর, বন্দর, সোনারগাঁয়ে আওয়ামীলীগের ছেড়ে দেয়া দুটি আসনে জয়লাভ করে জাতীয় পার্টি। সেই থেকে শুরু, বিগত সাড়ে ৪ বছরে দল ক্ষমতায় থাকার পরও আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের সাথে বিরোধী দলের মতো আচরন করা হয়েছে। তাই এখন ভোটের চেয়ে লাঙ্গল ঠেকানোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। লাঙ্গল হটাও আন্দোলনেই ঐক্যবদ্ধ নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ। যেখানেই সভা-সমাবেশ, সেখানেই এখন লাঙ্গল বিরোধী বক্তব্য জোরালো হচ্ছে। সর্বশেষ গত শনিবার বিকালে মোগরাপাড়া চৌরাস্তার সামনে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা বিশ্বের ক্ষমতাশীল নারী প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে ২য় স্থান অধিকার করায় ও বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হওয়ায় স্বাধীনতার মাসকে স্মরণীয় করে রাখতে উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের জম্ম হয়েছে। তাই এখানে লাঙ্গলের কোন ঠাঁই নাই। লাঙ্গলকে ঠাঁই দিতে হলে বাংলাদেশের অন্য কোথাও দেন কিন্তু নারায়ণগঞ্জে নয়। আব্দুল হাই আরও বলেন, সোনারগাঁয়ে নৌকার জোয়ার উঠেছে। এখানে নৌকার মনোনয়ন দিলে অবশ্যই নৌকা জয়লাভ করবে। আমি আগেও বলেছি এখনও প্রধানমন্ত্রীকে বলছি মহাজোট হলে লাঙ্গলকে অন্য কোথাও আসন দেন কিন্তু নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনই নৌকার জন্য চাই। একই জনসভায় জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলও জেলার ৫টি আসনে নৌকা মার্কার প্রার্থী দেয়ার ক্ষেত্রে জোরালো বক্তব্য রাখেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেও জোরালো দাবি তুলছেন লাঙ্গলের প্রার্থী যেন নারায়ণগঞ্জের কোন আসনে না দেয়া হয়। এরআগে নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভী, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহাসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকার প্রার্থী চেয়ে জোরালো ভূমিকা রেখে আসছেন। তৃনমূল নেতা-কর্মীরাও শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একমত পোষন করে বলেন, নারায়ণগঞ্জ হচ্ছে আওয়ামীলীগের জন্মস্থান। নৌকার একচ্ছত্র ঘাঁটি। বিগত নির্বাচনে ২টি আসন জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হয়। জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে নৌকার প্রার্থীদের বসিয়ে দেয়া হয়। সেই জাতীয় পার্টি এমপি হওয়ার পর দুটি আসনেই আওয়ামীলীগকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে জাপার সাংসদরা। দু একজনকে সুবিধা দিয়ে কাছে ভিড়িয়ে পুরো দলটাকে শেষ করে দিয়েছে। বিগত ইউপি নির্বাচনে দুটি আসনেই এমপিরা প্রভাব খাটিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের নির্বাচিত করে আনেন। বঞ্চিত হয় আওয়ামীলীগ। শুধু তাই নয়, দলীয় এমপি না থাকায় চরম অবমুল্যায়নের শিকার হয়েছে। দল ক্ষমতায় থাকার পরও আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীরা যেন বিরোধী দল এদুটি আসনে। এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই বলেন, সরকারী দলে থেকেও জাতীয় পার্টির নির্বাচনী আসনে আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা অবমূল্যায়িত। তৃণমুল সকল সময়ই দাবি করে আসছে ওই আসন দুটিতে যাতে নৌকার প্রার্থী দেওয়া হয়। নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন লাইভ নারায়ণগঞ্জ বলেন, জাতীয় পার্টির নির্বাচনী আসনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সবসময় অবমূল্যায়িত। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমরা ৫ আসনেই নৌকার প্রার্থী দাবি করেছি। প্রধানমন্ত্রী যাকে নৌকার প্রার্থী দিবে, আমরা তার হয়েই কাজ করবো। জাতীয় পার্টির আসনে আওয়ামী লীগ অবমূল্যায়নের সত্যতা স্বিকার করে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল বলেন, অন্যান্য জেলায় জাতীয় পার্টিসহ দলগুলোকে আসন দেওয়া হলেও, নারায়ণগঞ্জে যাতে না দেওয়া হয়। বিষয়টি আমরা কেন্দ্রীয় নেতাদের মাধ্যমে নেত্রীর কাছে জানিয়েছি।

সিদ্ধিরগঞ্জে বছরে ইজিবাইক খাচ্ছে চৌদ্দ কোটি টাকা রাজস্ব !

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সিদ্ধিরগঞ্জে ইজিবাইক ও অটো রিকশাকে পুঁজি করে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠছে গ্যারেজ। এসব গ্যারেজে দেদারছে চলছে বিদ্যুৎ চুরি। প্রতিদন চার লক্ষাধিক টাকার মতো এসব গ্যারেজে বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা ঘটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে প্রতিবছর ১৪ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১-১০ নং ওয়ার্ডে কম করে হলেও ৮ হাজার ইজিবাইক ও অটো রিকশা রয়েছে। একেকটি গ্যারেজে প্রায় ৮০টি করে ইজিবাইক ও রিকশা রাখা হয়। ফলে শতাধিক গ্যারেজ এই অঞ্চলে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র বলছে, প্রতিটি রিকশায় দৈনিক ৫ ইউনিট এবং ইজিবাইকে দৈনিক ১২-১৫ ইউনিট (একবার চার্জে ৫/৬ ঘণ্টা চলে) করে বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে। সে হিসাবে শতাধিক গ্যারেজে থাকা আট হাজার ব্যাটারিচালিত যানবাহনে সর্বনিম্ন ইউনিট হিসেবে দৈনিক ৪০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ চুরি করে ব্যবহার করা হচ্ছে, যার মূল্য চার লক্ষাধিক টাকা। মাস শেষে দাঁড়ায় এক কোটি ২০ লাখ এবং বছরে দাঁড়ায় ১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। সূত্র আরও বলছে ওইসব বাণিজ্যিক মিটারপ্রতি এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা চুক্তিতে সংযোগ নেওয়া হচ্ছে গ্যারেজগুলোতে। ওয়ার্কশপের নামে কিংবা অন্য কোনো দোকানের নামে বাণিজ্যিক কানেকশন নিয়ে ইজিবাইক ও রিকশার গ্যারেজে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। তবে মাসশেষে নামমাত্র বিদ্যুৎ বিল দিয়ে থাকে এসব গ্যারেজ। অভিযাগ উঠেছে, রাতের বেলায় ওইসব গ্যারেজে মিটার ছাড়াই বাইপাস করে ইজিবাইক ও রিকশায় চার্জ দেওয়া হয়। কারণ রাতে বাইপাস করা নিরাপদ, রাতে বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো অভিযান কিংবা কোনো ঝামেলা থাকে না। এ ছাড়া ডিপিডিসি এনওসিএস কার্যালয়ের কয়েকজন অসাধু ব্যক্তির সাথে রিকশার গ্যারেজের মালিকদের মাসোয়ারা ভিত্তিতে অলিখিত চুক্তি থাকায় মাসের পর মাস এভাবে বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে। তবে হাতে গোনা যেসব গ্যারেজ মালিক ওইসব কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ না রেখেই বিদ্যুৎ চুরি করে থাকেন, শুধু তাদের গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ আর্থিক জরিমানা করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানায়। এদিকে ডিপিডিসি সিদ্ধিরগঞ্জ নেটওয়ার্ক অপারেশন কাস্টমার সার্ভিসের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান জোয়ার্দার একবার গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ইজিবাইক ও রিকশার গ্যারেজে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই এবং সংযোগ দিচ্ছি না। ওয়ার্কশপের নামে বিদ্যুৎ নিয়ে গ্যারেজগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে স্বীকার করে তিনি আরও বলেছিলেন, আমার দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা যদি গ্যারেজগুলোর সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে জড়িত থাকেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, এ ছাড়া আমরা বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছি এবং আর্থিক জরিমানা করছি। তার পরও অবৈধভাবে গ্যারেজগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাচ্ছি।

সেলিম ওসমানের ঘোষণার বাস্তবায়ন চায় না’গঞ্জ জাপা

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সদর-বন্দর আসনে জাতীয় পার্টির বর্তমান সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের একটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দ্বিধাদ্বন্ধে ভুগছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। নির্বাচনী বছরে সেলিম ওসমান তার ঘোষণার কতটুকু বাস্তবায়িত করতে পারবেন? তিনি কি পারবেন বিগত দিনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে? এমন কানাঘুষা চলছে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে। দলীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১ মে সদর-বন্দর আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের মারা যাওয়ার পর থেকে দলীয় কার্যক্রমে নিস্ক্রিয় হয়ে পরে নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টি। নারায়ণগঞ্জের রাজপথ কাঁপানো জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের হারাতে হয় দলীয় অফিস। দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে কর্মী সমর্থকেরা অভিভাবকহীন হয়ে যান। ফলে দলীয় কার্যক্রমে চলে আসে স্থবিরতা। নাসিম ওসমান মারা যাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির অঘোষিত কান্ডারী হিসেবে দায়িত্ব পান তারই ছোট ভাই সেলিম ওসমান। তিনি জাতীয় পার্টির টিকেটে নির্বাচিত হলেও তার কাছে কখনোই পাত্তা পায়নি দলীয় নেতাকর্মীরা। পার্টির একমাত্র অফিসটি হয়ে পড়ে অচল। দলীয় কার্যক্রমে চলে আসে স্থবিরতা। যার ফলে খোদ দলীয় নেতাকর্মীরাই তার উপর ক্ষুদ্ধ ছিলেন। যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কেউ কোন কথা বলেনি। তবে এবার সেলিম ওসমান নির্বাচনী বছরে দলীয় কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। গত ৩১ মার্চ এক মতবিনিময় সভায় তিনি জাতীয় পার্টির অফিসসহ দলের কমিটির দাবী জানান নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমার বড় ভাই নাসিম ওসমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আপনারা আমাকে এমপি বানিয়েছেন। আমি সাড়ে চার বছরে নেতাকর্মীদের সম্মান করতে পারিনি। এখন সময় এসেছে নেতাকর্মীদের সম্মান করার জন্য। আমাদের নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির কোন অফিস নাই, দলের কমিটিও নাই। নেতাকর্মীদের পক্ষ হতে বলতে চাই নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির অফিস চাই এবং কমিটি চাই। তবে তার এই বক্তব্যেকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা রয়েছেন সংশয়ে। কারণ সেলিম ওসমান বিগত সাড়ে চার বছরে যা পারেননি তা নির্বাচনী বছরের ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যে কিভাবে পুষিয়ে নিবেন। কতটুকু কার্যকর হবে তার বক্তব্যে। নাকি শুধু দলীয় হাইকমান্ডকে খুশি করার জন্যই এই বক্তব্য দিয়েছেন। তারপরেও মনোবল হরাতে চান না জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা।

 

শহরের নো-পার্কিংয়ে চলছে পার্কিং !

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নগরীর ফুটপাতের অবমুক্ত হলেও বন্ধ হয়নি অবৈধ পার্কিং। বড় করে সাইনবোর্ড বা ফেস্টুনে ‘নো পার্কিং’ লেখা থাকলেও অন্ধের মতো সেইসব জায়গায় অহরহ গাড়ি রেখে রাস্তা দখল করা হচ্ছে। যার ফলে প্রতিনিয়তই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে প্রধান ও অন্যতম বঙ্গবন্ধু সড়ক। তবে এ সড়কের ফুটপাত দখল, দিনের বেলায় ট্রাক প্রবেশ ও অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে সৃষ্টি হত সার্বক্ষনিক যানজট। সম্প্রতি পুলিশ প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়াও জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও সাংসদদের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয় নগরীতের ট্রাক প্রবেশ। যার ফলে নগরীতের যানজটের মাত্র একেবারে কমে আসে। কিন্তু যানজট পূর্নাঙ্গ ভাবে শেষ হচ্ছে না। বঙ্গবন্ধু সড়কের চাষাঢ়া থেকে শুরু করে মন্ডলপাড়া ব্রীজ পর্যন্ত সব ছোট বড় ভবন ও মার্কেটের সামনে অবৈধভাবে পাকিং করে রাস্তার একটি অংশ দখল করে রায় সৃষ্টি হয় যানজট। যার মধ্যে উল্লেখ্য যোগ্য হলো নগরীর মার্ক টাওয়ার, হক প্লাজা, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, গ্র্যান্ডহল, বন্ধন কমিউনিটি সেন্টার, উকিলপাড়া থেকে মৃধা টাউন পর্যন্ত, সমবায় মার্কেট, লুৎফা টাওয়ার, সায়াম প্লাজা, সুগন্ধা প্লাস সহ ডিআইটি এলাকায় উভয় পাশে মার্কেটের সামনে গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়। তবে পুলিশ প্রশাসন এ পার্কিং উচ্ছেদের কোন পদক্ষেপ দেখা যায়নি। গতকাল সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বঙ্গবন্ধু সড়কের চাষাঢ়া থেকে ২নং রেল গেট পর্যন্ত উভয় পাশের রাস্তা দখল করেছে ব্যক্তি মালিকানাধীন গাড়িগুলো। তবে ওইসব গাড়ির সামনেই সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে ‘নো পার্কিং’। ওই লেখার তোয়াক্কা না করেই রাস্তা দখল করে গাড়ি পাকিং করা হচ্ছে। আর তাতে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে সমগ্র শহরে। চাষাঢ়া এলাকার বাসিন্দা হুমায়ূন আহমেদ বলেন, ‘নগরীতে একের পর এক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু ওইসব ভবনের কোন পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই। যার ফলে ব্যক্তি মালিকানাধীন গাড়ি গুলো নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বঙ্গবন্ধু সড়কের পাশে রাখতে হচ্ছে। এতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।’ তিনি আরো বলেন, ‘নগরীতের ভবন নির্মাণে রাজউক কিংবা সিটি করপোরেশনের নির্দেশনা না মানার কারণেই মূলত পাকিং হচ্ছে না। রাজউক ও সিটি করপোরেশন এ বিষয়ে তদারকি করলে অবশ্যই পার্কিংয়ের ব্যবস্থা হবে এবং নগরবাসী সুবিধা পাবে। তাছাড়া যেসকল আবাসিক পুরাতন ভবন ছিল সেগুলো ইদানিং বাণিজ্যিক ভবন হিসেবে করা হচ্ছে। যার মধ্যে অন্যতম হাসনাত স্কয়ার, সায়াম প্লাজা, লুৎফা টাওয়ার অন্যতম। এগুলো ছাড়াও মার্ক টাওয়ার, হক প্লাজার নিচে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকলেও মার্কেটের ক্রেতাদের ব্যবহার করার জন্য সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। যার জন্য গাড়িগুলো রাস্তায় রাখা হচ্ছে। এসবের জন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও রাজউক যৌথ উদ্যোগ নিতে হবে। তবেই সমাধান আসবে। গলাচিপা এলাকার বাসিন্দা সাঈদ আহমেদ বলেন, ‘ফুটপাত অবমুক্ত করায় পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ। এখন এসব ব্যক্তি মালিকানা গাড়িগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান করলে উপকৃত হবো। এ গাড়িগুলো শুধু জরিমানা নয় প্রয়োজনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে নগরীতে যানজট থেকে উপকৃত হবে নগরবাসী।’

 

শহরে নাসিকের ড্রেনগুলি মশা প্রজননক্ষেত্র

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পানি নিস্কাশনের অনেকগুলো ড্রেন মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় সিটি করপোরেশনের পানি নিস্কাশনের ড্রেনগুলো দ্বারা পানি নিস্কাশিত না হওয়ায় সেগুলো মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। শহরের চাষাঢ়া বালুরমাঠ, চাষাঢ়া শহীদ জিয়া হল ও খানপুর ৩শ’ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল সংলগ্ন ড্রেনগুলোতে এ অবস্থা দেখা গেছে। জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে মশার উপদ্রবে অতীষ্ট নগরবাসী। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রতিটি আবাসিক-অনাবাসিক এলাকায় মশার উপব্রব বেড়েছে মারাত্মক হারে। দিন কিংবা রাত সবসময়ই মশার জ্বালায় অতিষ্ট নগরবাসী। অফিস, রেস্টুরেন্ট, রাজপথ সবজায়গাতেই লেগে রয়েছে মশার মিছিল। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে তাদের জ্বালাতন অবর্ণনীয়। দামী ব্র্যান্ডের মশার স্প্রে, কয়েল কিছুই কাজে আসছে না। নারায়ণগঞ্জ মহানগর এলাকায় মশার উপদ্রব কমাতে সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচিত হচ্ছেন মেয়র আইভীসহ ওয়ার্ড কাউন্সিলররা। বিশেষ করে মশার এই উপদ্রব যেখানে মহামারী আকার ধারন করেছে সেখানে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে অপ্রতুল বলেই মনে করছেন নগরবাসী। জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ২৭টি ওয়ার্ডেই বাসা-বাড়িতে পড়ন্ত বিকেল থেকেই দরজা জানালা বন্ধ করেও মশার হাত থেকে নিস্তার পাচ্ছে না নগরবাসী। নগরবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে মশা নির্মূলে নগরীতে ঔষধ স্প্রে করা হয়। তবে তা সকল স্থানে করা হয়না। এক এলাকায় হলে বাদ পড়ে যায় আরেকটি এলাকা। এদিকে শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে পানি নিস্কাশনের জন্য শহরের বিভিন্ন স্থানে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ড্রেন নির্মিত হলেও অনেকগুলো ড্রেন ময়লা আবর্জনার কারণে পানি নিস্কাশন বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে করে ওই ড্রেনগুলো এখন মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। চাষাঢ়া বালুরমাঠ এলাকায় ডীপ ড্রেন ও সড়ক নির্মাণের কাজ করছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। ৩ মাসের বেশী সময় ধরেই বালুর মাঠ এলাকায় ড্রেন ও সড়ক নির্মাণের কাজ করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার। মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে বালুরমাঠের একপাশে নবনির্মিত ড্রেন দ্বারা পানি নিস্কাশন বন্ধ থাকায় জমে থাকা পানিতে মশার প্রজননক্ষেত্র। এছাড়া চাষাঢ়া শহীদ জিয়া হলের সামনে যে ড্রেন রয়েছে তাতে পানি জমে মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। একই অবস্থা শহরের খানপুরস্থ ৩শ’ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের পেছনের ড্রেনটিতেও। সেখানেও মশার প্রজননক্ষেত্র। এছাড়া ৩শ’ শয্যার বাউন্ডারী দেয়ালের ভেতরে একটি ডোবাও মশার প্রজননক্ষেত্র।  নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ ও ১৭ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ব্যয় করেছে ১০ লাখ ৮১ হাজার। চলতি অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ কোটি টাকা। মার্চ মাসের ১ তারিখ থেকে ২য় ধাপে হ্যান্ড স্প্রে ও ফগার মেশিন দিয়ে মশক নিধন কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। সর্বমোট ১২টি হ্যান্ড স্প্রে ও ৪টি ফগার মেশিন রয়েছে নাসিকের। এছাড়া আরও ৩টা ফগার মেশিন মেরামত করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন মশক নিধনে ওষুধ ছিটানোর কর্মসূচী শুরু করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক অপ্রতুল বলেই মনে করছেন নগরবাসী। তবে মশন নিধনের ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করাটাও জরুরী বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল। কারণ জমে থাকা পানিতেই জন্ম নেয় মশা। তাই উৎসস্থল অর্থাৎ মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করা গেলে সেটা মশক নিধনের ওষুধ ছিটানোর চেয়ে বেশী ফলপ্রসু হবে বলেই মনে করছেন সচেতন নারায়ণগঞ্জবাসী।

 

সেন্ট্রাল ফেরীঘাটে নৌকার মাঝিরা এমপির নির্দেশনা মানছেনা

 

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সেন্ট্রাল ঘাটের নৌকার মাঝিরা এমপি সেলিম ওসমানের ভাড়া কমানোর নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে ৫ টাকা করে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। তবে নামে মাত্র কিছু সময়ের জন্য লোক দেখানো ৩ টাকা ভাড়া আদায়ে ২৫-২৮ জন যাত্রী তুললে বিড়ম্বনার খড়গ নেমে আসে। এতে করে ৩ টাকা ভাড়ার পরিবর্তে ৫ টাকা ভাড়ার নৌকায় উঠতে যাত্রীদেরকে বাধ্য করা হচ্ছে। যেকারণে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, ‘৫ টাকা ভাড়া আদায়ে মাঝিরা সেই পুরনো কৌশল অবলম্বন করছেন।’ গতকাল সোমবার দুপুরে ১ নং খেয়া ঘাটে সরেজমিনে ঘুরে ৫ টাকা নৌকা ভাড়া আদায় করতে দেখা যায়। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ‘সেন্ট্রলা ঘাটে ৩ টাকা ভাড়ার পরিবর্তে ৫ টাকা করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আর যাত্রীরা বাধ্য হয়ে ৫ টাকা করে বাড়তি ভাড়া দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছে।’ একজন নৌকার মাঝি জানায়, ‘এখন ৫ টাকা করে নৌকার ভাড়া নিচ্ছি। দুপুরের বেলা যাত্রী কম থাকে। তাই ৩ টাকা ভাড়া নিলে ১৬-১৭ জন যাত্রী নিয়ে আধা ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। যে কারণে এখন ৫ টাকা করে ভাড়া নেয়া হচ্ছে। তবে বিকেলে যাত্রী বাড়লে ৩ টাকা করে ভাড়া নেয়া হবে।’ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘সেন্ট্রাল ঘাটে যখন যাত্রী কম থাকে তখন নৌকার মাঝিরা ৫ টাকা করে ভাড়া আদায় করে। আর যখন যাত্রী বেশি থাকে তখন ৩ টাকা ও ৫ টাকার পৃথক সার্ভিসে যাত্রী পারপার করে থাকে। কিন্তু ৩ টাকার ভাড়ায় মাঝিরা ২৫-৩০ জন পর্যন্ত যাত্রী নিয়ে নদী পারাপার হয়। আর ৫ টাকার ভাড়ায় ১০-১২ জন যাত্রী তুলে মাঝিরা নদী পার করে থাকে। আর এভাবে ৩ টাকা ভাড়ায় বেশি যাত্রী তুলে বিড়ম্বনার সৃষ্টি করে ৫ টাকার ভাড়ায় চালিত নৌকায় যাত্রীদের যেতে বাধ্য করছে। এতে যাত্রীরা পূর্বের মত আবারো ৩ টাকা থেকে ৫ টাকার ভাড়ায় নদী পারাপার হতে বাধ্য হচ্ছে। এতে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছে, ‘কয়েকদিন আগে এমপি সেলিম ওসমান নৌকার মাঝিদের ভাড়া কমানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তো দেখছি, নৌকার মাঝিরা তার নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সেই ৫ টাকা করে ভাড়া আদায় করছে। আর লোক দেখানোর জন্য মাঝে মধ্যে ৫ টাকার পাশাপাশি ৩ টাকা করে ভাড়া আদায় করছে। তবে ৩ টাকা ভাড়ায় তিন গুণ যাত্রী তুলে; যেকারণে যাত্রীরা বিড়ম্বনা এড়াতে ৫ টাকার নৌকাতে উঠতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু এমপির নির্দেশনা মত যদি ৩ টাকা ভাড়ায় ১৫ জন করে যাত্রী পারাপার করতো তাহলে আর যাত্রীদের বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো না। রেহেনা নামের এক শিক্ষার্থী জানায়, ‘৩ টাকা পাশাপাশি ৫ টাকা করে নৌকা ভাড়া আদায় করাটা তাদের পুরানো কৌশল। এর আগে মাঝিরা ২ টাকার পাশাপাশি ৫ টাকা করে ভাড়া আদায় করলে পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে ৫ টাকা ভাড়া করে ফেলে। এখনো সেই কৌশলে ৩ টাকার পাশাপাশি ৫ টাকা করে ভাড়া আদায় করতে যা পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে ৫টাকা হয়ে যাবে। এমনিতে বর্তমানে যাত্রী কম থাকলে শুধুমাত্র ৫ টাকা করে ভাড়া আদায় করে, তখন ৩ টাকা ভাড়ার কোন বালাই থাকেনা। তাছাড়া ৫ টাকা নৌকা ভাড়ার কথা সম্পূর্ণ নিষেধ করে দিয়েছেন এমপি সেলিম ওসমান। তবে কেন ৫ টাকা করে ভাড়া আদায় হবে। এটা নৌকা মাঝিদের নতুর কারসাজি। গত ২০ মার্চ মঙ্গলবার বিকেলে সেলিম ওসমান স্বশরীরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কড়াকড়ি নির্দেশ জারি করেন। যেসব মাঝি তার নির্দেশ অমান্য করবে সে ঘাটে আসতে পারবে না বলেও ঘোষণা দেয়া হয়। মাঝিদের উদ্দেশ্য সেলিম ওসমান বলেন, নৌকার ভাড়া ৩ টাকা করে নিতে হবে। যদি কেউ এর ব্যতিক্রম করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজন হলে আমি এমপিত্ব ছেড়ে দিব। তবুও জনগণের কষ্ট সহ্য করা হবে না। তিনি আরো বলেন, আপনারা আমার আগের নির্দেশ অমান্য করেছেন। মানুষের উপর জুলুম শুরু করে দিয়েছেন। নেতা হওয়ার জন্য ৩০ হাজার টাকা নিয়ে নৌকা নামাবেন, জুয়ার বোর্ড চালাবেন, এটা হতে পারে না।

 

ফকিররা আজ কোটিপতি !

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মো: শহিদুল্লাহ তার ফেসবুক আইডির একটি স্ট্যাটাসে বলেন, আওয়ামীলীগের অনেক নেতাই এখন ফকির থেকে কোটিপতি হয়েছেন। তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, গত বুধবার মরহুম জোহা সাহেব ও চুনকা সাহেবের স্মরণ সভা আয়োাজন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ। ইচ্ছা থাকা সত্যেও সভাটিতে যাইনি মনের অনুশাসনে। ভাবনা এসেছিল যদি যাই, বড় বড় পদবীধারী নেতাদের সামনে যদি কিছু বলার সূযোগ না পাই। অথচ রাজনীতি করি ৫০ বছর ধরে এবং উপরোক্ত দুইজন মরহুম নেতার সান্নিধ্য থেকেই নয়, তাদের কাছ হতে রাজনীতির সবক নিয়েই রাজনীতি করতাম। তাদের মধ্যেও ছিল মতদ্বৈধতা। কিন্তু তারা বাছায় করতেন মেধা সম্পন্ন কর্মী/নেতাদের। শিক্ষা দিতেন মূল দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীদের পিতা পুত্রের মতোন সম্পর্কের শ্রদ্ধা ভালবাসার অমীয় বাণী। দুজনের দেশপ্রেম ছিল সর্বাগ্রে। তাইতো আমরা দেখি, তারা দুজনেই রাজনীতির ব্যবসা করে কোটিপতি বনে যাননি। কিন্ত আজ? অনেকের কাছেই রাজনীতি হয়ে গেছে পূজি ছাড়া বৃহৎ ব্যবসা। এই ব্যবসাতে জোহা সাহেব, চুনকা সাহেবের রাজনীতির মতোন ত্যাগী সংগ্রামী কর্মী-নেতার প্রয়োজন নেই, দরকার সন্ত্রাসী যোগানদারদেরকে। তাইতো দেখি, এই মহান দুই নেতার সময়ের ফকিরেরা আজ কোটিপতি, রাজপ্রাসাদ, গাড়ি, বাড়ির মালিক। ভাবলাম, তাদের স্মরণসভায় গিয়ে যদি এ সকল নেতাদের নাম নিয়ে আলাদিনের চেরাগের ঠিকানা চেয়ে বসি, তখন তারা যদি আমাদেরকে বঙ্গবন্ধুর সৈনিকের নামের খাতা হতে আমাদের নাম কেটে দেন!

 

 

কিল্লারপুল খাল এখন ময়লার ভাগার

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ শহরের ঈসাখাঁ রোডের কিল্লারপুলের নিচে অবস্থিত খালের অবস্থা বেহাল দশায় রয়েছে। ময়লা আবর্জনা আর পলিথিনে ভরাট হয়ে খালের গতিপথের প্রায় পুরোটাই বন্ধ। বিশাল খালে এখন ময়লার নালার মত সরু অংশ দিয়ে পানি প্রবাহ চলছে। সরজমিনে দেখা যায়, পুলের পুর্ব দিকে ময়লার বিশাল ভাগার। সিটি কর্পোরেশনের ভেতর এতবড় আবর্জনার স্তুপ যেন দেখেও না দেখার ভান করে চলছেন জনপ্রতিনিধিরা। ময়লার গন্ধে লোকজনের নাকে রুমাল দিয়ে দিনরাত চলতে হচ্ছে। পুলের নিচে তাকালেই দেখা যাবে ময়লা, পলিথিন ও বালুতে প্রায় বন্ধ খালের মুখ। পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় সেখানে বড় বড় ঘাস ও কচুগাছ জন্মাচ্ছে। বর্ষাকালে খালের পানি প্রবাহ ঠিকমত সচল না থাকায় জলাবদ্বতায় কষ্ট করেন খালের পার্শবর্তী মানুষ ও নারায়ণগঞ্জবাসী। পুলের পশ্চিমে অবৈধ দোকানপাট বসিয়ে অবাধে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন কিছু মানুষ। খালের পশ্চিম দিকের মুখে কিছুটা পানি প্রবাহ থাকলেও পুর্ব দিকে প্রায় পুরোটাই বন্ধ। পুলের উত্তর পুর্ব পাশে স্থানীয় আওয়ামীলীগ অফিসে পাওয়া যায় জামান নামে এক যুবলীগ কর্মীকে। তিনি বলেন খাল তো কিছুদিন পরে বন্ধই হয়ে যাবে। এলাকার কাউন্সিলরকে জানানো হলেও তিনি এতে কর্নপাত করেন নি। স্থানীয় বাড়ীওয়ালা শফিক মুন্সী (৫৮) জানান, ময়লা সিটি কর্পোরেশনের গাড়িতে দেবার কথা থাকলেও মাঝে মাঝে গাড়ি আসেনা। তখন উপায় না পেয়ে অনেকে এখানে ফেলে যায়। আর রাস্তার দোকানের ময়লা সব এখানেই ফেলে। ২/৩ বছর ধরে চলতে চলতে এখন এই অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। এনিয়ে ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জমশের আলী ঝন্টুর সাথে কথা হলে তিনি জানান, এই খাল টি জাইকার সহায়তায় পুরো ডিএনডি উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় সংস্কার করা হবে। ইতিমধ্যে সেনাবাহিনী কাজ শুরু করেছে বিভিন্ন এলাকায়। খুব দ্রুতই এই খালের সংস্কার কাজ করা হবে।

কাশীপুরে সোর্স রাব্বি হত্যাকা- নিয়ে ধু¤্রজাল ঘটনার সাথে মামলার নেই সাদৃশ্য

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ফতুল্লার কাশীপুর ইউনিয়নে পুলিশের সোর্স অটোরিকশা চালক রাব্বী মিয়া (২০) কে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা নিয়ে ধু¤্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। মূল হত্যাকারী পুলিশকে টুপি পড়িয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও অপরাধ না করেও কেউ কারাবাস আবার কেউ পালিয়ে দিন কাটাচ্ছে। এমনকি হত্যার ঘটনার সাথে মামলার কোন সাদৃশ্য নেই। সরেজমিন গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, হত্যাকা-ে তিনজন অংশ নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঐ তিনজন নিহত রাব্বির সাথেই ছিল দীর্ঘ সময় ধরে। তিনজনের মধ্যে একজন হলো- কাশীপুর আদম বাড়ী এলাকার বাদলের ছেলে জাহিদ। তবে মজার বিষয় হলো জাহিদই এই মামলার স্বাক্ষী। অথচ জাহিদ নিজে উপস্থিত থেকে এই হত্যাকা- ঘটিয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করেছে। আর সেই হত্যাকারী জাহিদ পুলিশকে বোকা বানিয়ে এখন প্রকাশ্যে দিন কাটাচ্ছে। মামলার এজাহারে বলা হয়- নয়জন আসামীর মধ্যে রানা, রুদ্র ও দাউদ নামে তিনজন রাব্বিকে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করে। অথচ রানা ও রুদ্র ঘটনা ঘটার ১২ ঘন্টা পূর্ব থেকে ঘটনার ১২ ঘন্টার পর পর্যন্ত চাষাড়া মুক্তি ক্লিনিকে অবস্থান করছিল। আর ক্লিনিকে অবস্থানের ভিডিও এই প্রতিবিদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। আর রানা ও রুদ্র এই হত্যা মামলার আসামী করা হয়েছে এটা খোদ নিহতের পরিবারের সদস্যরাই জানিয়েছে। অন্যান্য আসামীদের মধ্যে পুলিশ সোর্স সবুজও রয়েছে। পূর্বে মাদকসহ এই রাব্বিকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছিল সবুজ। অনুসন্ধানে জানাগেছে, প্রকৃত হত্যাকারীদের বাচাঁনোসহ আর্থিক সুবিধা হাসিল করতে স্থানীয় কয়েকজন সুবিধাবাদি ব্যাক্তি নিহত রাব্বির বাবা নাসির হোসেনকে সহজ সরল পেয়ে পুতুল বানিয়ে রেখেছে। এদিকে, মূল হত্যাকারী জাহিদকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না তা নিয়ে আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবী জাহিদকে গ্রেফতার করলেই হত্যা কা-ের মূল রহস্য বেড়িয়ে আসবে। এব্যাপারে ফতুল্লা থানার ওসি (তদন্ত) শাহজালাল বলেন, আমরা তদন্ত করছি মূল হত্যাকারীদের ধরার জন্য। তবে জাহিদের বিষয়টি জানতে চাইলে রহস্যজনক কারণে তিনি বিষয়টি সঠিক জবাব না দিয়ে ফোনটি কেটে দেন। প্রসঙ্গত, গত ২৭ মার্চ দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টায় কাশীপুর হাটখোলা এলাকায় নাসির হোসেনের পুত্র রাব্বি খুন হয়। রাব্বী মিয়া আগে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সে পুলিশের সোর্স হিসেবে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরিয়ে দিত। এবং নিজে মাদক ব্যবসা করতো। ইজিবাইকে যোগে তার মাদক ব্যবসা চলতো। ফতুল্লা থানার এক এসআই এর শেল্টার সোর্স গিরির পাশাপাশি জমজমাট মাদক ব্যবসা করবো।

 

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের খোঁজ নিলেন ডিসি

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

পরীক্ষা শুরুর আধা ঘন্টা পূর্বেই কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে, তাই সকাল সাড়ে ৯ টার মধ্যেই পরীক্ষা কেন্দ্রে হাজির হয়েছিল পরীক্ষার্থীরা। এরপর লটারীর মাধ্যমে সেট নির্ধারন করে বিতরন করা হয় প্রশ্নপত্র। গতকাল সোমবার থেকে শুরু হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক বা এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষা। সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত চলে বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষা। আর প্রশ্ন পত্র ফাঁস রোধে এবছরই অভিন্ন এই পদ্ধতি গ্রহণ করে শিক্ষা মন্ত্রনালয়। প্রথমদিন কেউ বহিস্কার না হলেও নারায়ণগঞ্জ জেলায় মোট অনুপস্থিত ছিলেন, ১৯৩ জন পরীক্ষার্থী। যার মধ্যে এইচএসসি’তে অনুপস্থিত ছিল ১৬৩ জন, আলিমে ২৩ ও ভোকেশনালে ৭ জন। বিষয়টির সত্যতা করেছেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো: রেজাউল বারী। এদিকে, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনে সকালে সরকারী তোলারাম বিশ^বিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্র সহ বেশ কয়েকটি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মো: রাব্বী মিয়া। এসময় তিনি পরীক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ খবর নেন।  উল্লেখ্য, এবছর নারায়ণগঞ্জ জেলায় এইচএসসি, মাদ্রাসা ও কারিগরী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে মোট ২৩ হাজার ২৯৯ জন পরীক্ষার্থী। মোট কেন্দ্র রয়েছে ২৩ টি। যা চলবে আগামী ১৩ মে পর্যন্ত।