আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:১০
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

ফতুল্লায় তিন সোর্সের নিয়ন্ত্রণে চলছে মাদক ব্যবসা !

 

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ফতুল্লায় এখন হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য। আর মাদক ব্যবসায়ীদের প্রত্যক্ষ্যভাবে মদদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফতুল্লার তালিকাভূক্ত চিহ্নিত পুলিশের তিনজন সোর্সের বিরুদ্ধে। মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ এবং মাদক সুবিধা পাওয়ার ফলে মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে পরছে না সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। এমনকি পুলিশের সোর্স হওয়ার সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে পুলিশের এই তিন সোর্স মাদকের বড় বড় চালান নিদিষ্ট গন্তব্যস্থলে পেীছে দেওয়ারও অভিযোগ উঠে আসছে দীর্ঘদীন ধরে। মাদক ব্যবসায়ীদের প্রত্যক্ষ্যভাবে মদদ দেয়াসহ এই সকল সোর্সের মধ্যে সবার প্রথমই যার নাম উঠে এসেছে এর মধ্যে অণ্যতম হচ্ছে হত্যা, মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি বাদল ওরফে লুইচ্যা বাদল, মাদক মামলার আসামি নুরুজ্জামান চায়না এবং চ্যাপ্টা নূরাসহ তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে। সরজমিনে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, ফতুল্লা মডেল থানার ১০০ গজ দূরেই শাহ্ফাতেহউল্লাহ মাজারের পিছনে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছে ফতুল্লা থানা পুলিশের সোর্স বাদল ওরফে লুইচ্চ্যা বাদল। তার ভাড়াটিয়া রুমের পাশেই আরো একটি রুম ভাড়া নিয়ে চালাচ্ছে দেহ ব্যবসা ও মাদকের রমরমা ব্যবসা। থানার পাশে দীর্ঘদীন ধরে পুলিশ সোর্স বাদলের এ সকল অবৈধ কার্য্যকলাপ পরিচালনা হয়ে আসলেও রহস্যজনক কারনে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ নিশ্চুপ। এমনকি সোর্স বাদলের দেহ ব্যবসার পরিচালিত ভাড়াটিয়া রুমে ফতুল্লা মডেল থানার জনৈক একাধিক পুলিশ সদস্যদের আনাগোনার খবরও পাওয়া গেছে। ঐ সকল পুলিশ সদস্যরা একদিকে ইয়াবা সেবন এবং অণ্যদিকে নারী নিয়ে ফুর্তি করারও গুরুতর অভিযোগ উঠে আসছে পাশ্ববর্তী ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে। পাশ্ববর্তী ভাড়াটিয়াদের চোঁখের সামনে দীর্ঘদীন ধরে এ ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ চলে আসলেও আতংকে ও হয়রানীর ভয়তে একটু টু শব্দ করারও সাহস পাচ্ছে না নীরিহ ভাড়াটিয়ারা। এমনকি পুলিশ সোর্স বাদলকে ফতুল্লা মডেল থানার এক সিভিল টিমের গাড়ীতে অনেক সময় ঘুরতেও দেখা যায়। মাদক জোন হিসেবে পিিচত ফতুল্লার ফাজিঁলপুর এলাকায় গড়ে ১৫ জন ইয়াবা বিক্রেতা আছে। প্রতিটি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কখনো ইয়াবা কিংবা জন প্রতি মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নগদ ১ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে নির্বিঘেœ মাদক ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য সহযোগিতা করে আসছে সোর্স বাদলসহ তার সহযোগীরা। তাই মাদকমুক্ত ফতুল্লা গড়ে তুলতে হলে পুলিশ সোর্স বাদলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। অপর পুলিশ সোর্স নুরুজ্জামান ওরফে চায়না। ফতুল্লার ফাজিঁলপুর এবং নবীনগর এলাকার অর্ধ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করে আসার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এই সোর্সের বিরুদ্ধে। এমনকি পুলিশের সোর্স হওয়ার পুজিঁকে কাজে লাগিয়ে বিতর্কিত এই সোর্স নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন মাদকের ডিলারের কাছ থেকে ইয়াবা সরবরাহ করে নবীনগর এবং ফাজিঁলপুর এলাকার খুঁচরা ব্যবসায়ীদের কাছে পেীছিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ সোর্স চায়নার বিরুদ্ধে। এর বিনিময়ে পুলিশ সোর্স নুরুজ্জামান চায়না দৈনিক প্রতি মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা করে আদায় করে নিচ্ছে। আর মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দৈনিক মানথি চাওয়ার অডিও রেকর্ড এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। অপর পুলিশ সোর্স নূরা ওরফে চ্যাপ্টা নূরার প্রধান কাজ হচ্ছে আইনশৃংখলা বাহিনীর গতিবিধি লক্ষ্য রাখা। ফতুল্লার পঞ্চবটিস্থ বনানী হলের সামনে সর্বদা দাড়ানো অবস্থায় থেকে এলাকায় আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা প্রবেশ করার সাথে সাথেই এ তথ্য মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পেীছে দেওয়াই হচ্ছে সোর্স চ্যাপ্টা নূরার দায়িত্ব। এর বিনিময়ে প্রতি মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জন প্রতি ৫শ’ টাকা করে সুবিধা ভোগ করে আসছে সোর্স নূরা। কোন মাদক ব্যবসায়ী মানথি প্রদানে অপরাগতা প্রকাশ করলেই পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়াসহ পরবর্তীতে ছাড়িয়ে রাখার দায়িত্বও এই চ্যাপ্টা নূরা পালন করে থাকেন বলে স্থানীয় সাধারণ মানুষের অভিযোগ। বিতর্কিত এ সকল পুলিশ সোর্সদের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি (অপারেশন) মজিবুর রহমান জানান, বিতর্কিত এ সকল সোর্সরা যদি পুলিশের নাম ব্যবহার করে কোন ধরনের অপকর্মের সাথে জড়িত থাকে তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিভাজনের ফলে দিন দিন ছোট হয়ে আসছে না’গঞ্জ জেলা বিএনপি

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

দিন দিন ছোট হয়ে আসছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্য্যক্রম ও পরিধি। এখন আর আগের মত নেতারা আসেন না। হাতে গোনা দুই একজন যাদের বিরুদ্ধে মামলা নাই তারাই সরব থাকছেন কর্মসূচীগুলোতে। আর সেখানে দেখা মিলছে কয়েকজন কর্মীকে। সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার দলের চেয়ারপারসনের মুক্তি দাবীতে শহরের চাষাঢ়া বালুরমাঠ এলাকাতে বিক্ষোভ দেখায় জেলা বিএনপি। সেখানে মাত্র দুইজন সহ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস ও মনিরুল ইসলাম রবি উপস্থিত ছিলেন। দেখা মেলেনি জেলা বিএনপির অন্য শীর্ষ নেতাদের। সেক্রেটারী মামুন মাহমুদ এখন কারাগারে। সভাপতি কাজী মনির লাপাত্তা হয়ে আছেন। কমিটির অন্যদের যথার্থ মূল্যায়ন না করার কারণে নেতারাও ক্রমশ ফুঁসে উঠতে শুরু করেছে। কাজী মনিরের সঙ্গে দিন দিন দূরত্ব বাড়ছে নেতাকর্মীদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, জেলা বিএনপির কমবেশী সবাই মামলার আসামী। কিন্তু সভাপতি কারো সঙ্গে যোগাযোগ করেন না। এ আগে অভিযোগ উঠেছিল নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির অনুষ্ঠানগুলোতেও জেলার সবাইকে দাওয়াত দেয়া হলেও আমন্ত্রন জানানো হয়না জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীবকে। রাজীব ইতোমধ্যে জেলা বিএনপির সংগঠনবিরোধী কিছু কাজের প্রতিবাদ করে এবং কর্মীদের হয়ে কিছু কথা বলার কারণে সিনিয়র এ দুই জন নেতার চক্ষুশূল হয়ে পড়েছে আর এ কারণেই দলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে জানানো থেকেও এখন বিরত থাকে জেলার নেতারা। তবে ওই কাঁতারে এখন নতুন করে যুক্ত হয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জল হোসেন ও রুহুল আমিন সিকদার। দেখা যায়না সহ সভাপতি আবদুল হাই রাজুকেও। কিন্তু কয়েক মাস আগেও সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদারের উপর ভর করে দলীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ড করতো বিএনপি। এসব কাজে অবশ্য দলের এ দুজন নেতা ছাড়া অন্য কাউকে কাছেও পাচ্ছেন না জেলার সিনিয়র নেতারা। দলের অনুষ্ঠান করতে হলেও ভরসা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন তাদেরকে। জানা যায়, জেলা বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের বিভিন্ন কর্মকান্ডের বিরোধীতা করার কারণে বিদ্রোহী হিসেবে পরিচিতি পাওয়া রাজীবকে এখন বর্তমান নেতৃত্ব হুমকি হিসেবেই মনে করছে। জেলার অনেক কাজ স্বাধীনভাবে করতে পারছেন না নেতারা তার কারণে। রাজীবকে বাদ দিয়েও অনেক কাজ করা সম্ভব হচ্ছেনা আর এসব কারণেই এখন রাজীবের জন্য অন্য বিভিন্ন ইস্যু দিয়ে হলেও থমকে রাখা হয়েছে জেলা বিএনপির কমিটি গঠনের কাজ এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও অনেকেই মনে করছেন রাজীবের জন্য নয় জেলা বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা ও জেলায় নেতৃত্ব দেয়া নেতারা নেতাদের ব্যর্থতায় এখনো জেলা বিএনপির কমিটি গঠনের কাজে হাত দিতে পারেনি দলটি। প্রসঙ্গত গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়। জেলা বিএনপির সাবেক কমিটির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানকে সভাপতি ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে সেক্রেটারী করে জেলা  বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। ২৬ সদস্যের কমিটিতে সহ সভাপতি হলেন শাহ আলম, খন্দকার আবু জাফর, জান্নাতুল ফেরদৌস, শাসমসুজ্জামান, আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, আজহারুল ইসলাম মান্নান, আবদুল হাই রাজু, মনিরুল ইসলাম রবি, ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদ, লুৎফর রহমান। যুগ্ম  সম্পাদক লৎফর রহমান খোকা, এম এ আকবর। সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, নজরুল ইসলাম পান্না, মাসুকুল ইসলাম রাজীব। সহ সাংঠনিক সম্পাদক উজ্জল হোসেন, অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান ও রুহুল আমিন। সদস্য পদে সাবেক এমপি রেজাউল করীম, গিয়াসউদ্দিন, বদরুজ্জামান খান খসরু, নজরুল ইসলাম আজাদ, আতাউর রহমান আঙ্গুর ও মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়া।

 

 

 

জেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দরা বহুমাত্রিক দ্বন্দ্বে বিভক্ত নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কর্মী নেই সকলেই নেতা

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

মাত্র কয়েকমাস বাকি একাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচন। গ্রেফতারের ভয়ে জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতারা রয়েছে আতœগোপনে। অপরদিকে সিনিয়র নেতাদের আতœগোপনের কারনে দলটির তৃনমূল নেতারাও রয়েছে হতাশার মধ্য। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অবস্থা এখন অনেকটাই বেসামাল। জেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দরা বহুমাত্রিক দ্বন্দ্বে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। দলের এমন অবস্থায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা রয়েছে আশা-নিরাশার দোলাচলে। দলীয় কার্যক্রমে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ একেবারেই তলানিতে। যা দলের দৈন্যদশাই ফুটে উঠছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতা ছাড়া রয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদাজিয়া দুর্নিতী মামলায় সাজ ভোগ করছেন। যার ফলে কেন্দ্রীয়ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে দলটি। সেই প্রভাব নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে পড়েছে। তবে এর নেপথ্যে রয়েছে বির্তিত লোকদের মাধ্যমে কমিটি গঠন করায়। যার ফলে ঢিমেতালে চলছে এখানকার বিএনপি। তাদের গতি অনেকটাই লক্কর-ঝক্কর বাসের মতো। তবে এ দলটিতে প্রায় সবাই নেতা, কর্মী খুঁজে পাওয়াটা মুশকিল। যার ফলে এখানে চেইন অব কমান্ড বলতে কিছুই নেই। নেই কোনো সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা। শুধু জেলা কিংবা মহানগর বিএনপিই নয়; প্রত্যেক থানা কমিটিসহ অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যেই একই অবস্থা বিরাজ করছে। যার ফলে দলীয় কার্যক্রমে স্থবিরতা চলে আসছে। মাঝে মধ্যে নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙ্গাভাব আসলেও পুলিশি গ্রেফতারের ভয়ে আবার ফুটো বেলুনের মতোই নিষ্প্রাণ হয়ে গেছে দলটি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুতি শুরু করলেও বিএনপি একেবারেই নিস্তেজ। এদিকে আবার নতুন করে যোগ হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয় টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাথে মামলায় হেরে গিয়ে কার্যালয়বিহীন রয়েছে দলটি। দলের এই দুর্দিনে নেতাকর্মীদের একমাত্র ঠিকানা ছিল এই কার্যালয়টি। শীর্ষ নেতৃবৃন্দের অবহেলার কারণেই কার্যালটি হারাতে হয়েছে বলে একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ। ৯১ থেকে ৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে পৃথকভাবে দু’বার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকেও কার্যালয়টি নিজেদের আয়ত্বে আনতে না পারায় শীর্ষ নেতৃবৃন্দের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে এভাবে দলীয় কার্যক্রম চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দলটির অস্থিত্ব খুঁজে পাওয়াই দুস্কর হয়ে যাবে। যত দ্রুত সম্ভব এই সকল সমস্যা থেকে উত্তরণ হওয়া জরুরি। সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার মাধ্যমেই দলের সক্রিয়তা নির্ভর করে।

সাংসদ সেলিম ওসমান তার ঘোষণার ব্যাখায় বললেন, স্বাধীনতা বিরোধী পক্ষে শক্তি সুযোগ নিবে

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এর আগমন এবং তাঁর উপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান কর্তৃক নারায়ণগঞ্জে ৫টি আসনের লাঙলের প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণায় ইতোমধ্যে জেলার রাজনীতিতে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘোষণায় জেলা জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মাঝে যেমন নতুন করে উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে ঠিক তেমনি আওয়ামীলীগ শিবিরে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। উক্ত ঘোষণাটি নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বর্তমানে সব থেকে বেশি আলোচিত হচ্ছে যা রীতিমত টক অব দ্যা টাউনে পরিনত হয়েছে। এ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার জন্য সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি নিয়ে তিনি আরো খোলাসা আলোচনা করেছেন। সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান সব সময় নিজের শরীরে আওয়ামীলীগ এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রক্তের কথা বলে থাকেন। কিন্তু হঠাৎ করেই নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সাথে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এবং মহসচিব সহ বিরোধী দলীয় চিফ হুইফ ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দদের নিয়ে মতবিনিময়। সেখান থেকে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই লাঙলের প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা এবং আপনার মত ব্যক্তিদের প্রার্থী করতে পারলে জাতীয় পার্টি সরকার গঠন করবে বলে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এর মন্তব্য যা নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির ময়দান সবর হয়ে উঠেছে। হঠাৎ এমন মতবিনিময় এবং ৫টি আসনে লাঙলের প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা সম্পর্কে জানতে চাইলে  সেলিম ওসমান জানান, মত বিনিময় সভাটি সম্পূর্ন ঘরোয়া ব্যাপার। পার্টির চেয়ারম্যানের সামনে নারায়ণগঞ্জের জাতীয় পার্টির কর্মীদের সম্মানিত করা হয়েছে। সেখানে আমি বলেছি জাতীয় পার্টির কোন নেতাকর্মী টিআর, কাবিখা চায়না, কোন টেন্ডারবাজি করেনা। কর্মীরা উন্নয়নের জন্য আমাকে সকল প্রকারের সহযোগীতা করেছেন। এ জন্য আমি পার্টির চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতেই নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি। সেলিম ওসমান বলেন, আমি ২০১৪ সালের ২৬ জুন নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সাধ্য অনুযায়ী উন্নয়ন কাজগুলো সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছি। মাঝে কিছুটা সময় একটি দলের জ্বালাও পোড়াও পেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষ মেরে পরিস্থিতি অশান্ত করার কারণে অনেকটা সময়ের জন্য উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। যার ফলে আমার নারায়ণগঞ্জের মানুষ বঞ্চিত হয়েছে। আমি দলের চেয়ারম্যানকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছি আমি আগামীতে মনোনয়নের জন্য এ সভার আয়োজন করিনি। আমি আগামীতে নির্বাচন করবো কি করবো না তা আগামী ৩০ জুন সিদ্ধান্ত নিবো এটাও বলেছি। এখন জাতীয় পার্টির দায়িত্ব প্রকৃত তৃনমূল নেতাকর্মী এবং এলাকার সাধারণ মানুষের চাহিদা অনুযায়ী আগামী নির্বাচনের জন্য প্রার্থী মনোনীত করা। নারায়ণগঞ্জে ৫টি আসনে লাঙলের প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা সম্পর্কে তিনি বলেন, যেহেতু এই নারায়ণগঞ্জে বাইতুল আমান থেকেই আওয়ামীলীগের জন্ম সেহেতু আওয়ামীলীগের চাহিদা অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসন থেকেই নৌকার প্রার্থী দেওয়া হলে আমার ব্যক্তিগত ভাবে কোন সমস্যা বা আপত্তি নাই। আমি বলেছি প্রয়োজনে ৫টি আসন থেকেই লাঙলের প্রার্থী দেওয়া হবে। এর কারণ হচ্ছে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর থেকে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ১/১১, নারায়ণগঞ্জের ১৬জুন বোমা হামলার পর আওয়ামীলীগে অতি উৎসাহী কিছু ব্যক্তি দেখা গেছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনেই আমার পূর্বে একজন নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনিও আওয়ামীলীগের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। রাজনীতিতে যেহেতু জড়িয়েই পড়েছি যতক্ষন বেঁচে থাকবো উন্নয়নের রাজনীতি করবো। জনপ্রতিনিধিদেরকে সহযোগীতা করবো। সেলিম ওসমান বলেন, একটি বিষয় লক্ষ্য করে দেখবেন, বিগত দিনে উপজেলা নির্বাচনগুলোতে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের নিজেদের মধ্য বিদ্রোহী মনোভাবের কারনে একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্ধতা করেছেন। যেখানে জাতীয় পার্টির কোন প্রার্থী ছিল না।  নিজেরাই নিজ দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে বিদ্রোহী হয়ে সদর ও বন্দর উপজেলায় বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করে নিয়ে গেছে। আমি আশঙ্কা করছি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগে সঠিক প্রার্থীর থেকে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হবে। এতে করে স্বাধীনতা বিরোধী পক্ষে শক্তি সুযোগ নিবে। এ কারনে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করবো যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সোনার বাংলা গড়বেন তাদের সমর্থন করবো। তারা যদি আমার সাথে যেকোন আলোচনায় বসেন আমি তাদের সর্বাত্মক সহযোগী করবো।

 

 

জেলা পরিষদের সেলাই মেশিন বিতরণকালে আনোয়ার হোসেন প্রধানমন্ত্রী নারীদের সাবলম্বী করার পক্ষে

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারীরা স্বাবলম্বী হলে আর কোন ঘরে অভাব অনটন থাকবে না বলে দাবী করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন। তিনি দাবী করে আরো বলেন, ‘নারীদের কর্মবিমূখ রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। আগামীতে শেখ হাসিনা আবারো ক্ষমতায় আসলে দেশ আরো এগিয়ে যাবে। নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে। আমাদের দেশে পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি। তাই আসুন আগামী দিনে আবারো নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে জয়যুক্ত করি।’ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বন্দর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনা মা জাতিকে স্বাবলম্বী করার জন্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন। হস্তশিল্প, মাশরুম চাষ, সেলাই প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মতো নানা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি করছেন। এছাড়াও আরো অনেক উদ্যেগ গ্রহণ করা হয়েছে। আজ অস্বচ্ছল নারীদের মাঝে যে সেলাই মেশিনগুলো দেয়া হচ্ছে, তা কাজে লাগালে আমাদের প্রচেষ্টা স্বার্থক হবে।’ জেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মাহমুদা মালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের সদস্য মো. আলাউদ্দিন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু আশরাফুল হাসান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা কে এম রাশেদুজ্জামানসহ জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

 

 

 

না’গঞ্জ জাপার হাল ধরছেন সেলিম ওসমান

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সদর-বন্দর আসনের প্রয়াত সাংসদ ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ একেএম নাসিম ওসমানের হাতে গড়া নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির হাল ধরতে যাচ্ছেন বর্তমান এমপি ও মরহুমের ভ্রাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ একেএম সেলিম ওসমান। অতীতের ন্যায় নারায়ণগঞ্জে শীঘ্রই জাতীয় পার্টির কার্যালয় করার পাশাপাশি দলকে আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেন তিনি, সেলিম ওসমানের প্রতি এখন আস্থা বাড়ছে বলে জানান তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তবে শুধু ঘোষণাই নয়, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তা দ্রুত বাস্তয়নও চান বলে দাবী করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। জানাগেছে, সর্বপ্রথম ১৯৮৬ সালে জাতীয় পাটি থেকে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে নিরলস পরিশ্রম করেন নাসিম ওসমান। কর্মীবান্ধব নেতা হওয়ার কারনে জাতীয়পার্টি ছাড়াও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের কাছে শ্রদ্ধাভাজন ব্যাক্তি হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি। এক সময় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে নাসিম ওসমান করে নেন নিজের শক্ত অবস্থান। কর্ম দক্ষতায় হয়ে উঠেন দলীয় চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের প্রিয়ভাজন। নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে তিনি দ্বিতীয়বারের মত এমপি নির্বাচিত হন। আর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনেও তিনি তৃতীয় বারের মত এমপি নির্বাচিত হলেও অসুস্থ্য হয়ে ৩০ এপ্রিল মারা যান। পরবর্তীতে তারই আসনের উপ-নির্বাচনে জাতীয়পার্টির মনোনয়নে অনুজ সেলিম ওসমান এমপি নির্বাচিত হলেও শহরের বি বি রোডে অবস্থিত জাতীয় পার্টির কার্যালয়টি বন্ধ করে দিয়ে নাসিম ওসমানের স্ত্রী পারভীণ ওসমানের কাছে চাবি বুঝিয়ে দেন সেলিম ওসমান। আর দলীয় নেতাদের অন্যত্র কার্যালয় করার নির্দেশ দেন।  নারায়ণগঞ্জ জাতীয়পার্টিতে প্রাণ ফেরাতে গত বছরের জুলাই মাসে একটু হার্ডলাইনে যান সেলিম ওসমান। জুলাই-আগষ্ট মাসের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে দলীয় কার্যালয় এবং সকল পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠনে জাতীয়পার্টির যুগ্ম মহাসচিব ও সোনারগাঁ আসনের সাংসদ আলহাজ¦ লিয়াকত হোসেন খোকা এবং জাতীয়পার্টি জেলা আহবায়ক আবুল জাহেরকে দায়িত্ব দেন তিনি। একই সাথে ঘোষণাও দেন যদি আগামী জুলাই আগষ্ট মাসের মধ্যে জাতীয় পার্টির নতুন কমিটি ও অফিস খোকা এমপি ও আবুল জাহের করতে না পারেন তাহলে প্রয়োজনে তিনি জাতীয় পার্টি ছেড়ে দিবেন। তবে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ব্যবসায়িক নেতা জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান রাজনীতির উর্ধ্বে থাকা রাজনীতির উর্ধ্বে থাকার চেষ্টা করলেও এবার আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লক্ষ্যে এবার তিনি ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জে জাতীয়পার্টিকে অতীতের ন্যায় শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তোলার। সভায় সেলিম ওসমান বলেছেন, ‘আমি জানি না কেন নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির অফিস নেই। আমার দলীয় নেতাকর্মীদের মনে অনেক কষ্ট, কেননা জাতীয় পার্টির অফিস নেই। জাতীয় পার্টির চেয়ার নেই। শহরে নাসিম ওসমানের একটা প্রোপার্টি ছিল, সেখানেই জাতীয় পার্টির কার্যক্রম চলতো। কিন্তু আমার ভাবী এখন ওটা ভাড়া দিয়ে নিজের সংসার চালানোর চিন্তা ভাবনা করছেন। তাই আমি কথা দিলাম, আমি যদি দিক নির্দেশনা পাই তাহলে আমি শহরে একটি দলীয় কার্যালয় করবো। জাতীয়পার্টির নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ৪ বছর অনেক ধৈর্য্য ধরেছেন। অতীতের ন্যায় নারায়ণগঞ্জে আবারো জাতীয়পার্টি শক্তিশালী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। প্রয়োজনে আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই প্রার্থী দিবে।’ আর সেলিম ওসমানের এমন ঘোষণায় উজ্জীবিত হয়ে দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা মন্তব্য করেন, দেরীতে হলেও অত:পর নাসিম ওসমানের হাতেগড়া জাতীয়পার্টিকে পুনরায় শক্তিশালী করার জন্য হাল ধরছেন এমপি সেলিম ওসমান।

শহরে বিএনপির দু’গ্রুপে ধস্তাধস্তি

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সণ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কর্তৃক আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার ব্যানার ফেস্টুন ধরা নিয়ে বিএনপির দু’গ্রুপের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। জানাগেছে, গতকাল মঙ্গলবার সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের পিছনের গলিতে প্যারাডাইস ক্যাবল বিল্ডিং এর সামনে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপির চেয়ারপার্সণ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করতে জড়ো হয়। এ সময় জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও ফতুল্লা থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস একটি মিছিল নিয়ে এসে সমাবেশে উপস্থিত হন। এর আগে থেকেই ঐ স্থানে নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান করছিলেন জেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিসিক আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মন্টু মেম্বার। এ সময় আজাদ বিশ্বাস ব্যানার খুলে দাঁড়াতে বলে সবাইকে। এই সময় ব্যানার নিয়ে দাঁড়াতে গিয়ে আজাদ বিশ্বাসের এক কর্মী মন্টু মেম্বারকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। তখন মন্টু মেম্বারসহ তার কর্মীরা আজাদ বিশ্বাসের ঐ কর্মীর উপর চড়াও হয় এবং দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে উপস্থিত সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও সদর উপজেলার চেয়ারম্যান এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি মনিরুল ইসলাম রবি, যুগ্ম সম্পাদক এমএ আকবর, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক রিপন প্রমূখ।

 

 

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠে শামীম-আইভী

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা: সেলিনা হায়াত আইভী, উভয়েই হচ্ছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী দুই জনপ্রতিনিধি ও নেতা। উভয়েই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ¯েœহধন্য এবং আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী মন্ত্রী এমপি তথা শীর্ষ নেতাদের সাথে উভয়েরই রয়েছে সুসম্পর্ক। ফলে শামীম ওসমান কিংবা আইভী, উভয়ের যেকোন আবদার বা দাবী সরকার কিংবা দলে, সর্বক্ষেত্রেই দেয়া হয়ে থাকে প্রাধান্য। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন সংসদীয় ৫টি আসনেই ‘নৌকার’ প্রার্থী দাবীতে সরব শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের পাশপাশি এখন শামীম ওসমান ও আইভী বলয়ে ভীড়ে নিজেদের ভীত মজবুত করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তবে শুরু থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি পক্ষকে আইভী বলয়ে ভীড়তে দেখা গেলেও সম্প্রতি দলীয় মনোনয়ন বাগিয়ে এনে দেয়ার দাবী করে শামীম ওসমান বক্তব্য দেয়ার পর থেকেই এখন শামীম ওসমান বলয়েও ভীড়তে শুরু করেছেন সম্ভাব্য ‘নৌকা’ প্রত্যাশীরা। আর এটিকে শামীম আইভীর নির্বাচন কেন্দ্রিক জোট গড়ার অংশ হিসেবেই দেখছেন বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।  তাদের মতে, ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মধ্যে শামীম ওসমান ও আইভীর গ্রহণযোগ্যতা সর্ব মহলেই অন্যানদের তুলনায় একটু বেশী। তাই আগামীতে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিতে জোড়ালো সমর্থন পাওয়ার লক্ষ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে শামীম ওসমান ও আইভী বলয়ের জোট গঠন অস্বাভাবিক কিছুই হবেনা। প্রভাবশালী হিসেবে উভয়েরই কোন প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন বাগিয়ে এনে দেয়ার যেমন ক্ষমতা রয়েছে, তেমনি সেই প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিতে উভয়েই ভূমিকাও ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। সেই ভেবে হয়তো শামীম ওসমান ও আইভীর নেতৃত্বে নির্বাচন কেন্দ্রিক জোট গঠনের প্রয়াস চালাচ্ছেন সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বলে দাবী করেন, আওয়ামীলীগের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা। দলীয় সূত্রে জানাগেছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন ৫টি আসনে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিতে সমর্থণ পাওয়ার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই আইভীর সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন, সদর-বন্দর আসনে সম্ভাব্য ‘নৌকা’ প্রত্যাশী সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামীলীগ থেকে পদত্যাগ করা আহ্বায়ক এস এম আকরাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া। এছাড়াও উক্ত আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আইভীর ঘনিষ্টজন হিসেবে রয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম আবু সুফিয়ান, শহর যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আলী আহাম্মদ রেজা উজ্জল। আর শামীম ওসমানের বলয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল। ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে খোদ শামীম ওসমানই আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও উক্ত আসনে আইভী বলয়ের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন, জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ¦ কাউসার আহম্মেদ পলাশ ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য কামাল মৃধা। সোনারগাঁ আসনে ‘নৌকার’ প্রার্থী হিসেবে সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাতের পক্ষে ইতিমধ্যেই আইভী স্থানীয় জনগণের কাছে ভোট প্রার্থণা করলেও উক্ত আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন শামীম ওসমান বলয়ের প্রার্থী নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা: জাফর চৌধুরী বীরু। আড়াইহাজার আসনের বর্তমান এমপি ও মনোনয়ন প্রত্যাশী আলহাজ¦ নজরুল ইসলাম বাবু শামীম ওসমানের সাথে বিদ্যমান মামা-ভাগ্নের সম্পর্কে অতীতে কিছুটা চির ধরালেও বর্তমানে আবার সেই মামা শামীম ওসমানের বলয়ে ভীগে করছেন তার জয়গাণ। আর উক্ত আসন থেকে আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ব্যারিষ্টার ইকবাল পারভেজ গড়েছেন আইভীর সাথে সখ্যতা। রূপগঞ্জ আসনে বর্তমান এমপি ও মনোনয়ন প্রত্যাশী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতিক আইভীর বলয়ে থাকলেও এখানে শামীম ওসমান বলয়ের প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন সম্ভাব্য ‘নৌকা’ প্রত্যাশী কায়েতপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ রফিকুল ইসলাম ও বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান। আর শামীম ওসমান ও আইভী, উভয়ের সাথেই সুসম্পর্ক বজায় রেখে এগিয়ে যাচ্ছেন, সদর-বন্দর আসনের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ¦ শুক্কুর মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু, মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম আরাফাত, আরজু রহমান ভ’ইয়া, আবু সুফিয়ান, এড. খোকন সাহ। তন্মধ্যে, আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা গত বছরের মে মাসে যুব মহিলালীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বন্ধু শামীম ওসমানের সাথে সম্পর্কের চির ধরালেও চলতি বছরের জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের পূর্বে সেই চিরে আবারো জোড়া লাগান শামীম ওসমান। নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগের মনোনয়ন কারা পাচ্ছে, এনিয়ে কেন্দ্র সর্তকভাবে প্রার্থীদের খোঁজ খবর নিচ্ছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

 

 

বিভেদ ভুলে সমাজকে কিছু দেয়ার চেষ্টা করি…

 

 

মন্তব্য প্রতিবেদন..

হাবিবুর রহমান বাদল..

সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা হিসেবে বিবেচিত। সংবাদপত্রকে রাষ্ট্রের ৪র্থ স্তম্ভ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। সেই সাংবাদিকতা পেশার সাথে আমরা যারা জড়িত, তাদের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি, একজন সাংবাদিক সমাজকে অনেক কিছু দিতে পারে। আবার একজন সাংবাদিকের কারণে সমাজে অনেক অঘটন ঘটতে পারে। নিজের দায়বদ্ধতা থেকে আমার এই লেখা। আমি মনে করি একটি সমাজকে বাসযোগ্য করে রাখাসহ সামাজিক অবক্ষয় থেকে রক্ষায় সাংবাদিক সমাজের দায়িত্ব রয়েছে অনেক। আমরা যদি সেই দায়িত্ববোধ থেকে দুরে সরে যাই কিংবা এমন কোন কর্মকান্ডে লিপ্ত হই যা সমাজ কিংবা সাধারণ মানুষের জন্য অকল্যাণকর তা কোন অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংবাদপত্রে প্রিন্ট মিডিয়ার পাশাপাশি বর্তামানে অনলাইন মিডিয়ার গুরুত্ব বেড়েছে। তাই বলে যারা বলে প্রিন্ট মিডিয়ার যুগ শেষ হয়ে গেছে তাদের সাথে আমি একমত নই। প্রিন্ট মিডিয়া ও অনলাইন মিডিয়ার সাথে জড়িত একে অন্যের পরিপুরক। তাই উভয় মিডিয়ায় কর্মরত সংবাদ কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার বিকল্প নেই। বর্তমানে সকল পেশায় যেমন ধস নেমেছে তেমনই সাংবাদিকতায় ভাল-মন্দ মিলিয়ে আমরা কাজ করছি। এক্ষেত্রে কেউ কারো বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ক্ষোভ প্রকাশের উদ্দেশ্যে রিপোর্ট করুক এমন কাজকে আমি অতিতে যেমন সমর্থন করিনি বর্তমানেও সমর্থন করি না। ভাল-মন্দ মিলিয়েই একজন মানুষ। আমি নিজেকে ফেরেস্তা দাবি করছি না। আমারও যে ভুলক্রটি নেই তা বলছি না। মানুষ হিসাবে আমিও ভুল-ক্রটির উর্ধ্বে নই। তাই বলে আমাদের পেশাদার সংবাদ-কর্মীদের মধ্যে ঐক্য নষ্ট হতে পারে এমন কোন কর্মকান্ডকে আমি সমর্থন করি না। পেশাদার সাংবাদিকদের স্বার্থ রক্ষায় আমি পেশার শুরু থেকেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছি। একাধিক বার নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক থাকাবস্থায় আমি পেশাদার সাংবাদিকদের জন্য কিংবা নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি তা আগামী প্রজন্মই বিচার করবে। আমি প্রেসক্লাবে পেশাদার সাংবাদিকদের সদস্যপদ দেওয়ার জন্য একাধিকবার আমার সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়েছি। প্রেসক্লাবের উন্নয়ণে একই ভাবে আমি কাজ করেছি। কতটুকু সফল হয়েছি তা আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। তবে আমি মনে করি পেশাদার সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য হওয়া জরুরী। মত ও পথের ভিন্নতা থাকতে পারে কিন্তু পেশাগত কারণে আমরা একে অন্যের সম্পুরক বলে একজন ক্ষুদ্র সংবাদ কর্মী হিসাবে আমি বিশ^াস করি। তাই নিজেদের মধ্যে যারা কাদা ছোড়াছুড়ির সুযোগ করে দেয় কিংবা যারা এইসব কর্মকান্ডে লিপ্ত হয় তাদের নিকট আমার বিনীত অনুরোধ দয়া করে ব্যক্তিগত কুৎসা কিংবা একজন আরেক জনের বিরুদ্ধে চরিত্র হরণের কাছ থেকে দুরে থাকুক। আমি বিশ^াস করি এটা শুধু অন্যের জন্য নয় আমার জন্যও তা প্রযোজ্য। নারায়ণগঞ্জ নিউজ পেপার্স ওনার্স এসোসিয়েশন গঠনকালে আমি প্রথম যে, প্রস্তাবটি দিয়েছিলাম তা হলো কোন পেশাদার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আমরা কলম ধরবো না। আমরা অবশ্য সেই অবস্থা থেকে অনেকটাই দুরে সরে এসেছি বলে আমি মনে করি। অথচ কাক নিজে কিন্তু অন্য কাকের মাংস খায়না। সে ক্ষেত্রে আমি কিংবা আমরা কেন ব্যতিক্রম থাকবো। এই সমাজে কিছু অসাধু তথাকথিত সমাজপতি, রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন পেশায় জড়িত নেতৃবৃন্দ আমাদের সাংবাদিকদের মধ্যে ফাটল ধরানোর জন্য একজনকে আরেক জনের পিছনে লেলিয়ে দিচ্ছে। পেশাদার সাংবাদিকতার বড়ই অভাব এখন। এই অবস্থায় স্বার্থন্বেষী মহলের চক্রান্তে আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির যে পায়তারা চলছে সে ফাঁদে আমিসহ আমারা অনেকেই যে পা দিয়েছি তা অস্বীকার করার উপায় নেই। অপেশাদারদের দাপটে পেশাদার সাংবাদিকরা কোনঠাসা। সর্বত্র সাংবাদিকদের একাধিক সংগঠন গড়ে উঠছে। আর এই সুযোগে ইন্ধন যোগাচ্ছে কতিপয় স্বার্থন্মেষী ব্যক্তি। তাই প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার কর্মরত পেশাদার সাংবাদিকদের আমি বিনীত ভাবে অনুরোধ করছি দয়া করে নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি না করে ঐক্য গড়ার একটি প্রক্রিয়া বের করুন। আমি নিজের সাফাই কিংবা নিজেকে ধোয়া তুলশীপাতা প্রমাণ করতে চাচ্ছি না। পেশাদার সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য হলে তথাকথিত ভূইফোড় সাংবাদিকরা এমনইতেই সমাজ থেকে বিতারিত হবে। সুতরাং আসুন অনেক হয়েছে, আর নয়। নিজেদের মধ্যকার ভেদাভেদ ভুলে, আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় একে অন্যের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমাজকে কিছু দেয়ার চেষ্টা করি। নিজেদের বিভাজনের কারণে শুধু পেশাদার সাংবাদিকরাই নয়, বরং সমাজও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এ বিষয়টি সকলকে ভাবার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

 

ভাল নেই নারায়ণগঞ্জের রাজধানীবাসীরা

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জের রাজধানীর বাসিন্দারা খুব একটা ভাল নেই। মশার যন্ত্রনা, কুকুরের উৎপাত, অবৈধ ইজিবাইকের যন্ত্রনার পাশাপাশি বাসিন্দাদের সুখ দু:খের কোন খবর রাখে না জনপ্রতিনিধিরা। অথচ এই রাজধানীতে বসবাস করে নগর মাতা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, প্যানেল মেয়র, জেলার সাবেক আইন কর্মকর্তা-সাবেক সাংবাদিক নেতাসহ শহরের বাঘা বাঘা ব্যবসায়ী ও মুক্তিযোদ্ধা। অথচ রাজধানীতে বসবাসকারীরা অন্য অনেক মহল্লার তুলনায় অনেক দূর্ভোগের মধ্যে দিন কাটান। মেয়রের অবস্থান সত্বেও প্রতিরাতে বিভিন্ন সিমেন্ট কোম্পানীর বড় বড় লরীর আওয়াজে এলাকাবাসী আতকে উঠেন। জায়গার অভাবে এই রাজধানীতে হাতির ঝিলের আদলে আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র ও একটি আধুনিক পাঠাগার ও মিলনায়তন গড়ে উঠলেও কার্যত এই এলাকার উন্নয়ণে নারায়ণগঞ্জের দন্ড মুন্ডের কর্তারা রাজধানীর উন্নয়ণে তেমন কোন পদক্ষেপই নেন না। এলাকার কাউন্সিলরকে খুঁজে পাওয়া মুসকিল হলেও এই এলাকায় রয়েছে ক্ষমতাসীনদের আর্শিবাদপুষ্ট একটি পরিবার। এই পরিবারটি এলাকার সবচেয়ে সুবিধাভোগী পরিবার হিসেবে এলাকাবাসীর কাছে চিহ্নিত। নারায়ণগঞ্জের এই রাজধানীটি হলো দেওভোগ। যা নগর মাতা সেলিনা হায়াত আইভী একটি অনুষ্ঠানে দেওভোগকে নারায়ণগঞ্জের রাজধানী হিসেবে ঘোষনা করেন। মেয়রের এই ঘোষনার মধ্যে দেওভোগবাসী তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছেন। এছাড়া দেওভোগবাসী উন্নয়নের আর কোন ছোঁয়া পাননি। অথচ নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের পাশাপাশি দেওভোগ হতে পারতো একটি আধুনিক মহল্লা। যা বাস্তবে হয়নি। জনপ্রতিনিধিরা এব্যাপারে ভোটের আগে ছাড়া এলাকাবাসীর তেমন কোন খবর রাখেন না। জানাগেছে, দেওভোগ এখন ভোগান্তির অপর নাম হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। দেওভোগে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে ইজিবাইকের স্ট্যান্ড। দেওভোগ আখড়ার মোড়টি এখন ইজিবাইকের দখলে। ডায়মন্ড সিনেমার অপরদিকে চুনকা সড়কের শুরুতে ইজি বাইকের কারণে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা ঘটছে। এখানে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্ট্যান্ড আর প্রতিটি ইজিবাইক থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। শুনা যায়, চাঁদা আদায়কারীরা মেয়র আইভীর লোক। তাই তারা প্রকাশ্যে অবৈধ স্ট্যান্ড থেকে চাঁদা আদায় করলেও কোন প্রকার ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। দিনে ইজিবাইকের আর গভীর রাত হলেই সিমেন্ট কোম্পানীর বড় বড় লরীর যন্ত্রনায় সাধারণ বাসিন্দারা অতিষ্ট হয়ে পড়ছে। এছাড়াও দেওভোগে মশার যন্ত্রনা ও কুকুরের উৎপাত দিন দিন বেড়েই চলছে। সমাধানে জনপ্রতিনিধিদের খোঁজে পাওয়া যায়না। স্থানীয় কাউন্সিলর নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। এলাকা নিয়ে তার তেমন নজরদারী নেই। বেহাল সড়ক গুলো সংস্কার ও ড্রেন নিমার্ণ ধীর গতিতে এগুচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় এই এলাকার বাসিন্দাদের। তাই দেওভোগের প্রতি স্থানীয় জনপ্রতিনিদের নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, শুধু মুখেই রাজধানী ঘোষনা করলে হবে না, কাজেও তা বাস্তবায়ন করতে হবে। নারায়ণগঞ্জের রাজধানী হিসাবে মেয়র আইভী দেওভোগের নাম ঘোষণা করলেও রাজধানীর মানুষকে চরম দুর্ভোগের মধ্যদিয়ে যেমন চলতে হচ্ছে তেমনই আইন কানুনের তোয়াক্কা করছে না কেউ। প্রায়ই দেখা যায় উচ্চস্বরে মাইক বাজানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিত্যদিনের ঘটনা। ওয়াসার পানি পান করাতো দুরের কথা ব্যবহার করাও যায়না। সব মিলিয়ে বলা চলে মেয়র আইভীর নারায়ণগঞ্জের রাজধানীর বাসিন্দারা ভাল নেই।