আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:১৪
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

জাপানে সাংসদ সেলিম ওসমানকে সংবর্ধনা দেবে আজ

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

বাংলাদেশের গন্ডি পেরিয়ে এবার সূর্যোদয়ের দেশ জাপানে শাখা অফিস খুলতে যাচ্ছে নীট গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ। গতকাল শুক্রবার জাপান সময় রাত ৮টায় বাংলাদেশ অ্যাম্বাসির আয়োজনে নৈশ ভোজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিকেএমইএ এর সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান এ ঘোষণা দেন। এদিকে গতকাল শুক্রবার সফল ভাবে শেষ হয়েছে ফ্যাশন ওয়াল্ড টোকিও-২০১৮ মেলা । ৩দিন ব্যাপী আয়োজিত এ মেলায় বিকেএমইএ এর নেতৃত্বে অংশ নেওয়া বাংলাদেশী নীট ব্যবসায়ীরা বায়াদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে। মেলায় আসা বায়ারদের কাছ থেকে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্ডার পেয়েছে বাংলাদেশী নীট ব্যবসায়ীরা। বিকেএমইএ এর সিও সুলভ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরো জানান, গতকাল শুক্রবার জাপান সময় বেলা ১১টায় বিকেএমইএ ও জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন এর একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান সভায় প্রতিনিধিত্ব করেন। এ সময় তিনি জেট্রো প্রতিনিধিদের কাছে বাংলাদেশে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা, নারায়ণগঞ্জের মদনগঞ্জে শান্তিরচরে নীটপল্লীতে বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশের নীটওয়্যার শিল্পকে আরো উন্নত ও শক্তিশালী করতে জেট্রো’র সহযোগীতা প্রত্যাশা করে প্রস্তাব রাখেন। বিকেএমইএ এর সভাপতির দেওয়ার প্রস্তাব গুলো বিবেচনায় নিয়ে জেট্রো প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের ঢাকায় অবস্থিত জেট্রো’র কার্যালয়ের মাধ্যমে দাপ্তরিক ভাবে প্রস্তাবনা দেওয়ার কথা বলেছেন। অপরদিকে জাপান সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় বিকেএমএই এর সভাপতি সেলিম ওসমানের নেতৃত্বে জাপান মিনিস্ট্রি অব ইকোনমি, ট্রেড এবং ইন্ডাস্ট্রি (এমইটিআই) এর সাথে বিকেএমইএ এর আরেকটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা সভায় বিকেএমইএ সভাপতি জাপান সরকারের সহযোগীতা কামনা করে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব রাখেন। যার মধ্যে বাংলাদেশে জাপানী বিনিয়োগ বৃদ্ধি , বাংলাদেশে নীট কারখানা গুলোতে যৌথভাবে বিনিয়োগ সহ জেএসপি সুবিধা বহাল রাখার প্রস্তাব করেন। পরিপ্রেক্ষিতে এমইটিআই কর্মকর্তারা বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। জেএসপি সুবিধা একটি পলিসির মাধ্যমে চলে। আমরা চেষ্টা করবো পলিসির সাথে সমন্বয় করে সকল কার্যক্রম চালিয়ে যেতে।  এছাড়াও এমইটিআই এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে জাপানে অ্যাপারেল মার্কেট সুবিধা( ট্যাক্স ফ্রি রপ্তানি) অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে ফ্যাশন ওয়ার্ল্ড টোকিও-২০১৮ মেলা শেষে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাবা ফাতেমা বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমানের সম্মানে অ্যাম্বাসির পক্ষ থেকে নৈশ ভোজের আয়োজন করেন। যেখানে বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমানকে প্রধান অতিথি করা হয়। নৈশ ভোজে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত রাবাবা ফাতেমা, বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান, তাঁর সহধর্মিনী মিসেস নাসরিন ওসমান বিকেএমইএ সকল নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ অ্যাম্বাসি, জাপানের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। আজ শনিবার জাপান সময় সন্ধ্যা ৬টায় জাপানে প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্যোগে বিকেএমইএ সভাপতি ও সদর-বন্দর আসনের সাংসদ সেলিম ওসমানকে সংবর্ধনা দেয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রমিক সমাবেশে নেতৃবৃন্দ চব্বিশ এপ্রিল গার্মেন্টস শ্রমিক শোক দিবস ঘোষণার দাবি

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

গার্মেন্টস শ্রমিক  ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে গার্মেন্টস শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণ, ২৪ এপ্রিলকে গার্মেন্টস শ্রমিক শোক দিবস ঘোষণার দাবিতে গতকাল শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রমিক সমাবেশ ও শহরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, জি-স্কপের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক নঈমুল আহসান জুয়েল, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস, জাতীয় শ্রমিক জোটের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, সহ-সভাপতি এম, এ, মিল্টন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম গোলক, সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম শরীফ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাধারণ সম্পাাদক রুহুল আমিন সোহাগ, বিসিক শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ সাইদুর, রূপগঞ্জ শাখার সভাপতি মো:সোহেল, কাঁচপুর শাখার সভাপতি আমানউল্লাহ আমান, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক এস,এম, কাদির। নেতৃবৃন্দ বলেন, জিডিপি ৭ শতাংশ, মাথাপিছু আয় ১৬১০ ডলারে উন্নিত হয়েছে এবং এটা ক্রমবর্ধমান। জাতীয় আয় এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালনকারী শ্রমিকদের মজুরি তার সাথে সঙ্গতি রেখে নির্ধারণ হবে এটা একটি যুক্তিসঙ্গত প্রত্যাশা। সেক্ষেত্রে শ্রমিকের মজুরি কত হবে এটা মালিকের দয়া বা করুণার ব্যাপার নয়, এটা শ্রমিকের অধিকার। তাই মজুরি নির্ধারণের একটা যুক্তিসঙ্গত মানদ- থাকতে হবে। শ্রমিকের প্রধান সম্পদ তার কর্মক্ষমতা। তার কর্মক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সে যা আয় করে তা দিয়ে তার সংসার চালাতে হয়। কর্মক্ষম মানুষের কর্মক্ষমতা বজায় রাখার জন্য যেটুকু ন্যূনতম খাবার প্রয়োজন তার মূল্য, বাড়ি ভাড়া, পোশাক, চিকিৎসা ব্যয়, সন্তানের লেখাপড়ার খরচ ইত্যাদি ধরলে মাসে ৫ জনের দরিদ্র পরিবারের যে খরচ হয় তা হিসাব করলে পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীর মাসিক আয় কোনভাবেই ১৮ হাজার টাকার কম হতে পারে না। পে-স্কেলে ঘোষিত ন্যূনতম মোট মজুরি, দেশের অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি’র গবেষণা, আন্তজার্তিক প্রতিষ্ঠান অক্সফামের গবেষণা, বিদেশী অন্যান্য গার্মেন্ট উৎপাদনকারী দেশের ন্যূনতম মজুরি ইত্যাদি পর্যালোচনা করলেও দেখা যাবে আমাদের দেশের পোষাক শিল্পে ন্যূনতম মজুরি ১৮ হাজার টাকার কম করার কোন কারণ নেই। নেতৃবৃন্দ বলেন, মানসম্পন্ন মজুরি যেমন শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত করে তেমনি দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। বাংলাদেশকে যদি উন্নত দেশের কাতারে উন্নীত করতে হয় তাহলে শ্রমজীবী মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়াতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ছাড়া তাদের আয় এবং ক্রয় ক্ষমতা বাড়বে না। বর্তমান বাজার দর বিবেচনা করে ১৮ হাজার টাকা মজুরির নির্ধারণ তাই বাংলাদেশের শ্রমিক এবং অর্থনীতির বিকাশের জন্যই প্রয়োজন। নেতৃবৃন্দ বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দাবি করায় শ্রমিক নেতাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। নির্যাতন চালিয়ে শ্রমিক আন্দোলন দমন করার ষড়যন্ত্র চলছে। গ্রেফতার নির্যাতন করে শ্রমিক আন্দোলন বেশি দিন বন্ধ রাখা যায়না। ন্যূনতম মজুরি ১৮ হাজার  টাকা  নির্ধারণের দাবিতে সকল গার্মেন্টস সংগঠনের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন গড়ে তুলবে।

 

নিজেদের কোন্দলের খেসারত দিচ্ছে না’গঞ্জের পেশাদার সাংবাদিকরা

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দলের খেসারত দিতে হচ্ছে স্থানীয় পেশাদার সাংবাদিকদের। যার পরিনতিতে গত বৃহস্পতিবার আরও একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছেন কেন্দ্রীয় শ্রমিকলীগের নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ। তিনি এদিন জাতীয় দুটি পত্রিকা সহ স্থানীয় আরও দুটি পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। সেই সঙ্গে একটি ৫৭ ধারায়ও তিনি মামলা দায়ের করেন। জাতীয় দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক প্রকাশক সহ স্থানীয় প্রতিনিধি আল আমিন প্রধানকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাকের স্টাফ রিপোর্টার হাবিবুর রহমান বাদলকেও বিবাদী করা হয়। তিনি নারায়ণগঞ্জের প্রবীণ সাংবাদিকদের একজন। এছাড়াও স্থানীয় দৈনিক ডান্ডিবার্তা পত্রিকা ও দৈনিক সময়ের নারায়ণগঞ্জ পত্রিকার বিরুদ্ধেও মানহানি মামলা দায়ের করেন কাউসার আহমেদ পলাশ। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জে সমালোচনার ঝড় বইছে। নারায়ণগঞ্জের বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল  সাংবাদিক ধমনে মাঠে নেমেছে। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানহানী মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাংবাদিকদের নানা সুবিধা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিক দমনে নেমেছে সরকারি দলের নেতারা। একের পর এক নারায়ণগঞ্জে সরকারি দলের নেতা ও সরকারি দলের নেতাদের পরোক্ষ ইন্ধনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দিন দিন বেড়ে চলেছে। ইতিহাসের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে ফতুল্লায়। এখানে জাতীয় পত্রিকার একজন পেশাদার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করে রাস্তায় যানজট সৃষ্টি করে মিছিল থেকে সাংবাদিকের চামড়া তুলে নেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। যা নারায়ণগঞ্জে স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও ঘটেনি। নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিকরা শত প্রতিকুলতার মধ্যে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। আর বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশ করতে গিয়ে ক্ষমতাসীনদের কোন্দলের খেসারত দিতে হচ্ছে নারায়নগঞ্জের সাংবাদিকদের। পাশাপাশি কথিত ভুইফুড় নেতারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য পেশাদার সাংবাদিকদের দু:সময়ে পাশে দাঁড়ানোতো দুরের কথা উল্টো পক্ষ অবলম্বন করে নিরব ভুমিকা পালন করছে বলে পেশাদার সাংবাদিকদের অভিযোগ। এর আগে নিউজ নারায়ণগঞ্জের সম্পাদক শাহজাহান শামীম ও নির্বাহী সম্পাদক তানভীর হোসেনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমুলক ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের করে আলীরটেক এলাকার সায়েম আহমেদ নামে একজন। এ মামলার পিছনে ইন্ধনে ছিলেন একজন প্রভাবশালী এমপি।  দৈনিক নারায়ণগঞ্জের আলো পত্রিকার প্রকাশক রাজু আহমেদ ও সম্পাদক কমল খানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে নাসিক মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর আপন ভাই রিপন। এছাড়াও দৈনিক ডান্ডিবার্তার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করেন তিনি। ৫৭ ধারায় নারায়ণগঞ্জের বার্তা সহ বেশকজনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করা হয়। এর আগেও দৈনিক যুগের চিন্তা পত্রিকার বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের করেছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী। কদিন আগেও যুগের চিন্তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হক নিপু। এসব ঘটনাকে ছাড়িয়ে গেছে গত বৃহস্পতিবার একইদিন কাউসার আহমেদ পলাশ যখন ৪টি মিডিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করলেন। এর আগের দিন বুধবার কাউসার আহমেদ পলাশের অনুসারি শ্রমিকলীগের লোকজন ফতুল্লায় রাস্তায় নেমে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিয়ে শরীরের চামড়া তুলে নেয়ার হুমকি  দেয়ার মাধ্যমে। ওই ঘটনায় সাংবাদিক বাদী হয়ে থানায় জিডিও দায়ের করেছেন। এভাবে নারায়ণগঞ্জে চলছে সাংবাদিক ধমনের চেষ্টা। একের পর এক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জে। কেউ কেউ মনে করছেন কিছু কার্ডধারী অপেশাদার নামদারী সাংবাদিকদের উস্কানিতে পেশাদার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একটার পর একটা মামলা দায়ের করা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের হুমকির মিছিলের নেতৃত্বে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সংবাদ প্রকাশের জের ধরে ফতুল্লায় প্রকাশ্যে যুগান্তর প্রতিনিধির চামড়া তুলে নেয়ার হুমকি দিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে অংশ নেয় মোল্লা মামুন নামে এক মাদক ব্যবসায়ী। নিউজ নারায়ণগঞ্জ ২৪ ডট নেট জানায়, ফতুল্লার সস্তাপুর গাবতলা এলাকার জামাই মতিনের ছেলে মোল্লা মামুন। সে গত বছরের ১১ জানুয়ারী পুলিশের হাতে ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়। ফতুল্লা মডেল থানার এসআই কামরুল হাসান তাকে গ্রেফতার করে মোবাইল কোর্টে হাজির করে। এরপর আদালতে দোষ স্বীকারের পর মোল্লা মামুনকে ১৫ দিনের কারাদন্ড দেয়। এর আগে ২০১৩ সালের ২০ জানুয়ারী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে ট্রাক ভর্তি ৫শ বোতল ফেনসিডিলসহ মোল্লা মামুন ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে তৎকালীন জেলা ডিবি’র এসআই মিজানুর রহমান। এছাড়া ফতুল্লা পুলিশ ও জেলা ডিবির চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী মোল্লা মামুন। এদিকে মোল্লা মামুনের ফেসবুক আইডিতে দেখা যায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পলাশের সঙ্গে ঘুরছে আর মোবাইলে সেলফি তুলছে। একটি সেলফি মোল্লা মামুন ফেসবুকে পোষ্টও করেছে। সস্তাপুর এলাকাবাসী জানান, মোল্লা মামুন আলীগঞ্জের শ্রমিকলীগ নেতা পলাশের ছত্রছায়ায় থেকে ফেনসিডিল ও ইয়াবা ব্যবসা করে আসছে। মোল্লা মামুন সস্তাপুর, কুত্আুইল, কোতালেরবাগ, লামাপাড়া, রামারবাগ, নয়ামাটি, ইসদাইর, মাসদাইর, তল্লা, খানপুর, হাজীগঞ্জ এলাকায় প্রকাশ্যে ইয়াবা ব্যবসা করছে। তার সাথে তার ছোট ভাই মাসুদও প্রকাশ্যে ইয়াবা ব্যবসা করে আসছে। তাদের দুই ভাইয়ের মাদকের ছোবলে প্রতিটি এলাকার উঠতি বয়সের ছেলে থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের ছেলে মেয়েরা ইয়াবা ও ফেনসিডিলে আশক্ত হয়েছে পড়েছে। সস্তাপুর কুতুবআইলে মোল্লা মামুনের অন্তত ২০ থেকে ২৫জনের একটি বাহিনী রয়েছে। যারা প্রত্যেকেই মোল্লা মামুনের মাধ্যমে ইয়াবা ব্যবসায় উৎসাহীত হয়ে আসক্ত হয়ে পড়েছে। মোল্লা মামুন টেকনাফ থেকে নিজেই ইয়াবার চালান বহন করে নারায়ণগঞ্জে আসে। তার দাড়ি টুপি ও পাঞ্জাবীর কারনে মোল্লা মামুন বলে ডাকে। তবে সে মোল্লা বংস বা মোল্লা মুন্সিও নয়। তার ওই লেবাসের কারনেই সহজে ইয়াবা পাচার করতে পারে। এদিকে গত বুধবার ফতুল্লার ডিআইটি মাঠ থেকে মোল্লা মামুন একটি মিছিল নিয়ে সাংবাদিক আলামিন প্রধানের চামড়া তুলে নেয়ার শ্লোগান দিয়ে মিছিল করে মাসদাইর পর্যন্ত। এতে ওই সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যবপক সমালোচনার ঝড় উঠে।

 

 

নারায়ণগঞ্জে এক বছরে ক্ষমতাসীনদের রোষানলে পেশাদার দশ সাংবাদিক

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জের বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল সাংবাদিক দমনে মাঠে নেমেছে। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানহানী মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাংবাদিকদের নানা সুবিধা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিক দমনে নেমেছে সরকারি দলের নেতারা। একের পর এক নারায়ণগঞ্জে সরকারি দলের নেতা ও সরকারি দলের নেতাদের পরোক্ষ ইন্ধনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দিন দিন বেড়ে চলেছে। ইতিহাসের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে ফতুল্লায়। এখানে জাতীয় পত্রিকার একজন পেশাদার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করে রাস্তায় যানজট সৃষ্টি করে মিছিল থেকে সাংবাদিকের চামড়া তুলে নেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। যা নারায়ণগঞ্জে স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও ঘটেনি। নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিকরা শত প্রতিকূলতার মধ্যে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। আর বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশ করতে গিয়ে ক্ষমতাসীনদের কোন্দলের খেসারত দিতে হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকদের। পাশাপাশি কথিত ভুইফুড় নেতারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য পেশাদার সাংবাদিকদের দু:সময়ে পাশে দাঁড়ানোতো দূরের কথা উল্টো পক্ষ অবলম্বন করে নিরব ভূমিকা পালন করছে বলে পেশাদার সাংবাদিকদের অভিযোগ। সংবাদ প্রকাশের জের ধরে নারায়ণগঞ্জে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার বিরুদ্ধে গত ১ বছরে ১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে ৬টি ও বাকিগুলো মানহানির মামলা হয়েছে। এই সকল মামলাগুলির বাদী ক্ষমতাসীন দলের লোকজন বলে জানা যায়। কখনও প্রকাশ্যে আবার কখনও অপ্রকাশ্যে ইন্ধন দিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হচ্ছে। যে কারণে পেশাদার সাংবাদিকরা এখন অনেকটা আতংকের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলায় সাংবাদিক সমাজ উদ্বিগ্ন হলেও সাংবাদিক সমাজের নেতা পরিচয়দানকারীরা এ ব্যপারে মুখ খুলছেনা বরং উল্টো পেশাদার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করছে। তবে মামলার বাদীরা বলছেন, তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রনোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সংবাদ পরিবেশন করে তাদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। এতে তাদের কোটি কোটি টাকার মানহানি হয়েছে। তাই তারা আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। তথ্য সূত্রমতে, গত বছরের ১৫ এপ্রিল তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় দুটি পত্রিকা ও একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় পৃথক তিনটি মামলা করেন নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর ছোটভাই আলী আহম্মদ রেজা রিপন। পৃথক তিনটি মামলায় আসামী করা হয় দৈনিক ডান্ডিবার্তার প্রকাশক ও সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাদল, দৈনিক যুগান্তরের জেলা প্রতিনিধি রাজু আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ বার্তার প্রকাশক সিফাত আল রহমান, নির্বাহী সম্পাদক মাহমুদ হাসান কচি। একই ঘটনায় ১২ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের চীফ জুডিশিয়াল আমলী (খ) অঞ্চল’র সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ‘নারায়ণগঞ্জের আলো’র বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করেন আলী আহম্মদ রেজা রিপন। মামলায় আসামী করা হয় দৈনিক ‘নারায়ণগঞ্জে আলো’র প্রকাশক রাজু আহম্মেদ ও সম্পাদক মোবারক হোসেন খান কমলকে। একই বছরের ১২ডিসেম্বর দৈনিক যুগের চিন্তার সম্পাদক ও প্রকাশক আবু আল মোরছালিন বাবলার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হক নিপু। ২৮ ডিসেম্বর অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘নিউজ নারায়ণঞ্জ ২৪ ডটকম’-র বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন নারায়ণগঞ্জ সদর থানার কুঁড়েররপাড় এলাকার মো. ফালান মিয়ার ছেলে সায়েম আহমেদ। মামলায় আসামী করা হয় নিউজ নারায়ণগঞ্জ ২৪ ডটকমের এডিটর ইন চিফ শাহজাহান শামীম ও নির্বাহী সম্পাদক তানভীর হোসেনকে। সর্বশেষ দৈনিক যুগান্তরের বিরুদ্ধে মানহানি ও ই-যুগান্তরের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় দুটি মামলা এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত দুটি পত্রিকার বিরুদ্ধে দুটি মানহানির মামলা করেন জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যান বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব কাউসার আহমেদ পলাশ। এর আগেও দৈনিক যুগের চিন্তা পত্রিকার বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের করেছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী। সংবাদ প্রকাশ করার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী খ অঞ্চল) মো: মাহমুদুল মোহসীনের আদালতে মামলাগুলো দায়ের করেন তিনি। মামলায় দৈনিক যুগান্তরের বিরুদ্ধে ১০ কোটি, স্থানীয় দৈনিক ডান্ডিবার্তা পত্রিকার সম্পাদক ও দৈনিক ইত্তেফাকের স্টাফ রিপোর্টার হাবিবুর রহমান বাদলের বিরুদ্ধে ৫ কোটি এবং দৈনিক সময়ের নারায়ণগঞ্জ পত্রিকার সম্পাদক জাবেদ আহমেদ জুয়েলের বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগ আনা হয়েছে। যুগান্তরের বিরুদ্ধে দুটি মামলায় যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, প্রকাশক সালমা ইসলাম ও ফতুল্লা থানা প্রতিনিধি আলামিন প্রধানকে আসামী করা হয়েছে। যদিও দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক ডান্ডিবার্তায় প্রকাশিত চাঁদাবাজি সংক্রান্ত প্রতিবেদন দু’টিতে চাাঁদাবাজির সাথে যুক্ত কারো নাম ঠিকানা উল্লেখ ছিল না। গত এক বছরে ১০ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও রহস্যজনক কারণে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব তেমন কোন ভুমিকা পালন করেনি। যদিও হাবিবুর রহমান বাদল একাধিক বার নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন দলের এ ধরণের আচরণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে আওয়ামীলীগের একাধিক শীর্ষ নেতা স্বীকার করে হামলা-মামলার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি একজন পেশাদার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যেভাবে মিছিল সমাবেশ করে হাত-পা ভেঙ্গে ফেলার হুমকি দেয়া হলো তা নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে বিরল। এ ব্যপারে একটি অনলাইনকে দেয়া সাক্ষাতকারে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব এর সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দীন সবুজ বলেন, এ প্রসঙ্গে বলতে হলে সবার আগে বলতে হয় নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকেরা সাংবাদিকতার জায়গায় নেই। তবে ন্যায্য সংবাদ পরিবেশন করে যদি কেউ মিথ্যা মামলার শিকার হয় তবে আমরা অবশ্যই তার প্রতিবাদ জানাবো। তবে অবশ্যই বলতে হয় যে, নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকেরা এখন এমবেডেড সাংবাদিকতা করছে। মানে যুদ্ধের ময়দানে থাকা এক পক্ষের সৈনিকদের পিছনে থেকে শুধুমাত্র তাদের ভালো দিক বা জয়ী সময়গুলোর বর্ণনা করছে, তাদের অন্যায় কাজগুলো আড়াল করে রাখে। তারা এ কাজটি করছে একজন গডফাদারের পক্ষ নিয়ে। তাই সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে যদি তাদের নামে মামলা করেন এ প্রসঙ্গ আসলেই কিছু বলার থাকে না। তবে তারা যদি সাংবাদিকতার নিয়মাবলির মধ্যে থেকে সাংবাদিকতা করে কোনো ধরণের মামলার শিকার হন তবে আমরা অবশ্যই প্রতিবাদ করবো। নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, সাংবাদিকদের নামে দায়েরকৃত যে কোনো ভূয়া ও মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে আমরা অবশ্যই প্রতিবাদ জানাই। তবে সংবাদিকদের অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের প্রতি মনোনিবেশ করতে হবে। মাথায় রাখতে হবে তাদের কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ যেনো কখনই যথেষ্ট তথ্য ও প্রমাণ ব্যতীত কারো মানহানী না করে। কিন্তু যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ নিয়ে কোনো সাংবাদিক যখন কারো বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করবে, সেই সংবাদকে কেন্দ্র করে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে আমরা অবশ্যই প্রতিবাদ জানাবো। এদিকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের নারায়ণগঞ্জের সমন্বয়ক সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন রবিন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মামলা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট পদক্ষেপ। এবং মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের অন্তরায়। এটা অত্যন্ত দু:খজনক। তিনি দাবী করেন, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সকল মামলার শুনানি একমাত্র বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলে বিচারের মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে। নারায়ণগঞ্জের পেশাদার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যখন একের পর এক মামলা হচ্ছে তখন কথিত সাংবাদিক নেতারা সাংবাদিক নির্যাতণকারীদের পক্ষ নিয়ে বক্তব্য দেয়ায় পেশাদার সাংবাদিকরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে সাংবাদিক নির্যাতন তথা হামলা-মামলার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন তখন এই সব সাংবাদিক নেতাদের বক্তব্য সাধারণ মানুষের মনে বিভিন্ন প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।

 

কার পক্ষে শামীম ওসমান ?

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

একাদশ নির্বাচনের আরও বেশ কয়েক মাস সময় বাকি। এরমধ্যেই নারায়ণগঞ্জে শুরু হয়েছে নির্বাচনী তোড়জোড়। চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে নানা গুঞ্জন। তবে এসব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে ‘নৌকা’ ও ‘লাঙ্গল’। বেশি কিছুদিন আগের থেকেই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা লাঙ্গলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দাবি করে আসছেন নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থীতা নিশ্চিত করণে। এখানে লাঙ্গলের কোনো স্থান দিতে রাজি নন তাঁরা। এমন আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখনই এরাশাদের উপস্থিতিতে জাতীয় পার্টির সাংসদ সেলিম ওসমান বলেছিলেন দরকারে নারায়ণগঞ্জে ৫টি আসনেই লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী দেয়া হবে। তাঁর এই বক্তব্যের পরই আলোচনায় যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। প্রশ্ন ওঠেছে শামীম ওসমানের ভূমিকা নিয়ে। স্থানীয়রা বলছেন, নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে যেহেতু লাঙ্গল প্রতীক দেয়ার কথা বলেছেন সেলিম ওসমান সেখানে তিনিও এই প্রতীক নিয়েই নির্বাচন করবেন। বিপরীতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীও থাকবে। এমন যদি পরিস্থিতি হয় তাহলে নারায়ণগঞ্জে নৌকার কা-ারি হিসেবে পরিচিত বর্তমান সাংসদ শামীম ওসমান কোন পক্ষ অবলম্বন করবেন? তিনি কি তাঁর ভাইয়ের পক্ষ নিবেন নাকি নৌকা প্রতীকের পক্ষেই থাকবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে কেউ কেউ বলছেন ’৮৬ সালে শামীম ওসমানের যে ভূমিকা যেমন ছিলো এবারও সেই একই ভূমিকা থাকবে। তিনি তাঁর ভাইয়ের পক্ষই নিবেন। এর আগেও তিনি তাঁর বড় ভাই প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের পক্ষ নিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নাজমা রহমানের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। এবারও এর ব্যাতিক্রম হবে না বলেই অনেকে মনে করছেন। অপরদিকে এখানে নৌকা লাঙ্গলের মধ্যকার যে আওয়াজ ওঠেছে তা যদি সঠিক পন্থায় সুরাহ না হয় তবে আগামীতে নারায়ণগঞ্জে নৌকা ও লাঙ্গলই হবে একে অপরের মূল প্রতিপক্ষ। এমন সম্ভাবনার কথাই বলছেন অনেকে। শেষ পর্যন্ত কি হয় আর কি হবে না সে হিসেব এখনই কষতে শুরু করেছে আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ। তবে শেষ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে যদি লাঙ্গল ও নৌকা পৃথক পৃথক প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে নামে সেক্ষেত্রে শামীম ওসমানের ভূমিকা কি হবে তা জানতে চাওয়া হয়েছিলো কয়েক জনের কাছে। এনিয়ে কেউ এখনই তেমন ভাবে কিছু বলতে রাজি হয়নি। তবে ক’জন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, সেলিম ওসমান যদি লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন আর তাঁর বিপরীতে যদি নৌকা প্রতীক থাকে তবে শামীম ওসমান তাঁর ভাই সেলিম ওসমানের পক্ষেই দাঁড়াবে অর্থাৎ নৌকার বিপরীতেই তাঁর অবস্থান হবে। অতীত তাই বলছে।

সিদ্ধিরগঞ্জে আবারও অবৈধ দোকানপাট বসিয়ে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি সড়কে যানবাহন ও মানুষ চলাচলে বিড়ম্বনা

 

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি

ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের ব্যস্ততম শিমরাইলমোড়ের সড়কের মধ্যে ফুটপাত থাকায়   যানবাহন ও মানুষ চলাচল করতে নানা দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। সড়কের মধ্যে ফুটপাতে সহস্রাধিক অবৈধ দোকানপাটও গড়ে উঠেছে। ঘটছে নানা ধরনের দুর্ঘটনা। দোকানীরা মার্কেট মালিকদের ও হকার্সলীগ নেতাদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সড়ক মহাসড়ক ও ফুটপাতে নিজেদের ইচ্ছেমতো বিভিন্ন দোকানের পসরা বসানোর কারনে হাজার হাজার পথচারী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখন সড়ক দিয়ে হাঁটছেন। সার্ভিস রোড ও ফুটপাত দোকানীদের দখলে থাকায় পথচারীরা সড়ক দিয়ে বাধ্য হয়ে হাঁটায় প্রায়ই এখানে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এসব দোকানীরা স্থানীয় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ, হকার্সলীগের কতিপয় নেতা ও স্থানীয় মার্কেট মালিকদের মোটা অংকের টাকা দিয়ে সড়ক ও মহাসড়ক ঘেঁষে এবং ফুটপাতে সহস্রাধিক দোকান বসিয়েছে। নারাযণগঞ্জে ৭ খুনের পর ওই সময়ের পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলমোড়ের সকল অবৈধ স্থাপনা ও সড়কের পাশের সকল দোকানপাট উচ্ছেদ করেছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ২ বছর শিমরাইলমোড়ে এসকল দোকানপাট গড়ে উঠতে পারেনি। কিন্তু ওই পুলিশ সুপার বদলী হয়ে যাওয়ার পর থেকে আবারও আগের চেহারা ফিরে পেয়েছে শিমরাইলমোড়। অভিযোগে জানাগেছে, ফুটপাতের প্রতিটি দোকান বসানো বাবদ ১ লাখ টাকা থেকে ৩ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দৈনিক ভিত্তিতে এসকল দোকান থেকে ২০০/৩০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগে আরও জানাযায়, সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলমোড়ে সওজের জায়গা দখল করে সওজের কর্মকর্তাদের ও থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে হাজী আহসান উল্ল্যাহ সুপার মার্কেট, কাসসাফ শফিং সেন্টার, বাদশা মিয়া মার্কেট, বদরউদ্দিন সুপার মার্কেট, চাঁন সুপার মার্কেট এর প্রভাবশালী মালিকরা স্থায়ী ও অস্থায়ী এসব দোকান বসিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ব্যঙ্গের ছাতার মতো সওজের ও পানিউন্নয়বোর্ডের জায়গা ও  মহাসড়কের পাশে এবং ফুটপাতে দোকানপাট গড়ে উঠায় নিত্যনৈমি্িত্তক যানজটসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। অপরদিকে মহাসড়কের শিমরাইলমোড়ের উত্তরপাশে ডিএনডির খাল দখল করে এবং মহাসড়কের ফুটপাত দখল করে স্থানীয় কযেকজন জনপ্রতিনিধি তাদের নিয়েজিত লোকদ্বারা দৈনিক লক্ষাধিক টাকা চাঁদা কালেকশন করছেন বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে সংঘাত সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের একাধিকার কাঁচপুরে এসে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনকে  সড়ক ও মহাসড়ক এর পাশে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন তথাপিও সওজ কর্তৃপক্ষ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ঢিলেমী করে। গত  ১৮ মার্চ শিমরাইলমোড়ের সকল অবৈধ স্থাপনা নারায়ণগঞ্জ সওজ কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ করে দেয়্ কিন্তু উচ্ছেদের পরদিনই আবারও অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠে। অবৈধ দোকানপাট থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা কালেকশন হচ্ছে। চাঁদার ভাগ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ থানা পুলিশ পাচ্ছে। যার কারণে উচ্ছেদের পরপরই আবারও বেদখল হয়ে যায় শিমরইলমোড়ের ফুটপাতসহ সওজের সকল জায়গা। নারায়ণগঞ্জ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আলীউল হোসেন বলেন ফুটপাত ভেঙ্গে রাস্তা নির্মাণ করা হবে। এছাড়া গত কয়েক দিন আগেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি  আব্দুস সাত্তার বলেন, শিমরাইলমোড়ের অবৈধ দোকানপাট থেকে পুলিশ কোন  প্রকার টাকা পয়সা নেয়না। পুলিশ জনগনের জন্য কাজ করছে।

 

কার পক্ষে শামীম ওসমান?

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

একাদশ নির্বাচনের আরও বেশ কয়েক মাস সময় বাকি। এরমধ্যেই নারায়ণগঞ্জে শুরু হয়েছে নির্বাচনী তোড়জোড়। চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে নানা গুঞ্জন। তবে এসব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে ‘নৌকা’ ও ‘লাঙ্গল’। বেশি কিছুদিন আগের থেকেই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা লাঙ্গলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দাবি করে আসছেন নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থীতা নিশ্চিত করণে। এখানে লাঙ্গলের কোনো স্থান দিতে রাজি নন তাঁরা। এমন আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখনই এরাশাদের উপস্থিতিতে জাতীয় পার্টির সাংসদ সেলিম ওসমান বলেছিলেন দরকারে নারায়ণগঞ্জে ৫টি আসনেই লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী দেয়া হবে। তাঁর এই বক্তব্যের পরই আলোচনায় যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। প্রশ্ন ওঠেছে শামীম ওসমানের ভূমিকা নিয়ে। স্থানীয়রা বলছেন, নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে যেহেতু লাঙ্গল প্রতীক দেয়ার কথা বলেছেন সেলিম ওসমান সেখানে তিনিও এই প্রতীক নিয়েই নির্বাচন করবেন। বিপরীতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীও থাকবে। এমন যদি পরিস্থিতি হয় তাহলে নারায়ণগঞ্জে নৌকার কা-ারি হিসেবে পরিচিত বর্তমান সাংসদ শামীম ওসমান কোন পক্ষ অবলম্বন করবেন? তিনি কি তাঁর ভাইয়ের পক্ষ নিবেন নাকি নৌকা প্রতীকের পক্ষেই থাকবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে কেউ কেউ বলছেন ’৮৬ সালে শামীম ওসমানের যে ভূমিকা যেমন ছিলো এবারও সেই একই ভূমিকা থাকবে। তিনি তাঁর ভাইয়ের পক্ষই নিবেন। এর আগেও তিনি তাঁর বড় ভাই প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের পক্ষ নিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নাজমা রহমানের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। এবারও এর ব্যাতিক্রম হবে না বলেই অনেকে মনে করছেন। অপরদিকে এখানে নৌকা লাঙ্গলের মধ্যকার যে আওয়াজ ওঠেছে তা যদি সঠিক পন্থায় সুরাহ না হয় তবে আগামীতে নারায়ণগঞ্জে নৌকা ও লাঙ্গলই হবে একে অপরের মূল প্রতিপক্ষ। এমন সম্ভাবনার কথাই বলছেন অনেকে। শেষ পর্যন্ত কি হয় আর কি হবে না সে হিসেব এখনই কষতে শুরু করেছে আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ। তবে শেষ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে যদি লাঙ্গল ও নৌকা পৃথক পৃথক প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে নামে সেক্ষেত্রে শামীম ওসমানের ভূমিকা কি হবে তা জানতে চাওয়া হয়েছিলো কয়েক জনের কাছে। এনিয়ে কেউ এখনই তেমন ভাবে কিছু বলতে রাজি হয়নি। তবে ক’জন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, সেলিম ওসমান যদি লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন আর তাঁর বিপরীতে যদি নৌকা প্রতীক থাকে তবে শামীম ওসমান তাঁর ভাই সেলিম ওসমানের পক্ষেই দাঁড়াবে অর্থাৎ নৌকার বিপরীতেই তাঁর অবস্থান হবে। অতীত তাই বলছে।

 

 

 

বৈশাখী রঙে সাজছে নারায়ণগঞ্জ

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

বাংলাদেশ তথা বাংলা ভাষা ভাষিদের বড় উৎসব পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটি খুব ঘটা করে পালন করে এখানকার বাসিন্দারা। আর এই পহেলা বৈশাখকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের আনাচে কানাচে রঙ লাগতে শুরু করেছে। ব্যবাসায়ীরা তাদের পসরা সাজাতে শুরু করেছে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগাতে বিনোদন কেন্দ্র, হোটেলগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মেলার আয়োজকরা তাদের আয়োজনে হাত লাগিয়েছেন। কয়েকদিন থেকে শুরু হয়ে গেছে আলোক সজ্জা, স্টল সাজানো, প্রচার-প্রচারণার কাজ। বৈশাখকে সামনে রেখে বুটিকের দোকান, ছোট ছোট পোষাকের কারখানায় ব্যস্ততা চলছে। সাজ-সজ্জার ঘর গুলোতে থরে থরে সাজিয়ে রেখেছে রঙ বেরঙ এর পণ্য। শহর এবং শহরের বাইরের দোকানগুলো তাদের দোকানে বৈশাখী পোষাক উঠিয়েছে। মিষ্টিসহ খাবারের দোকানগুলো তাদের বাড়তি চাহিদা মেটানোর জন্য কারিগরদের প্রস্তুত করছেন। অপরদিকে ফুটপাতের নতুন করে দোকান বসতে শুরু করেছে। সবগুলো দোকানই পোষাকের দোকান। কয়েকদিন ধরে এসব দোকান খুলে বসতে শুরু করেছে হকাররা। এতে কানায় কানায় ফুটপাত ভরে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাদের দাড়ানোর যায়গা হয় না। দোকানি রফিক বলেন, পোষাক ব্যবসার কয়েকটি মৌসুম রয়েছে। তার মধ্যে একটি মৌসুম হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। এই দিনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মঝে আনন্দের হিল্লোল বয়ে যায়। আর এতে সবাই চায় তাদের পোশাকটি হউক উৎসবের পোষাক। আহসান বলেন, বেচাকেনা শুরু হয়েছে। তবে এখনো বিক্রির ধুম পড়েনি। তবে দিন দিন তা বাড়ছে। পোষাক, জুতা, প্রসাধনি কোনটাই বাদ পড়ছে না। লাভের পরিমান বেশি, তাই এই সময় দোকানের সংখ্যা একটু বেশি হয়ে থাকে। অনেক দোকানি রয়েছেন যারা মৌসুমি ব্যবসায়ী। তারা ১০ থেকে ১৫ দিন ব্যবসা করে থাকেন। আবার অনেক দোকানি রয়েছেন যারা মালামাল বেশি মজুদ করায় আরেকটি দোকান নিয়ে তা বিক্রি বাড়ানোর চেষ্টা করেন। খাবারের দোকানি মনির বলেন, সাধারণত কোন দিবসে খাবারের বেচাকেনা এমনেতি বেশি হয়ে থাকে। তবে পহেলা বৈশাখে রসনা বিলাসীরা মুখরোচক খাবারের প্রতি নজর বেশি থাকে। সেদিকে খেয়াল করেই আমরা খাবার সাজিয়ে থাকি। উৎসবকে আরো বাড়িয়ে তুলতে ক্রেতা এবং ভোক্তা করই আগ্রহের কম নেই। বাঙালীর চিরাচরিত এ উৎসব আরো প্রণবন্ত হবে এমনটাই আশা করে নারায়ণগঞ্জবাসী।

 

 

পুলিশের সাথে না পেরে ব্যানার নিয়ে লড়াইয়ে বিএনপি !

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

দিন দিন কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। পুলিশের হামলা মামলা, অন্তঃকোন্দলে দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে কর্মী সমর্থকবিহীন হয়ে যাচ্ছে দলটি। নতুন কমিটি ঘোষণা পর এখন পর্যন্ত দলীয় কোন কর্মসূচিতেই সফল হতে পারেন নি তারা। সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা কর্মীদের সাথেও যোগাযোগ রক্ষা করেন না জেলা ও মহানগরের শীর্ষ পদধারী নেতারা। দলীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, দলের দুঃসময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। তাদের মাঝে নেই কোন ঐক্য। এক নেতাকে অন্য নেতাকে সহ্য করতে পারেন না। ফলে তারা কোন কর্মসূচিতেই পুলিশের সাথে পেরে উঠতে পারছেন না। তবে পারেন নিজ দলের নেতাকর্মীদের সাথে। ব্যানার ধরে দাঁড়ানোর জন্য একে অপরের লেগে যায় ধাক্কাধাক্কি। সেই ধাক্কাধাক্কি এক পর্যায়ে গিয়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। আর এভাবেই চলছে জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যক্রম। দলের দুঃসময়কে উপলক্ষ করে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করার জন্য নতুনদের সমন্বয়ে গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করা হয় নতুন কমিটি। দলের হাইকমান্ড আশাবাদী ছিলেন তাদের দ্বারা দল শক্তিশালী হবে। কিন্তু বাস্তবে তারা আশানুরূপ ফলাফল দেখাতে পারেনি। দল শক্তিশালী না হয়ে বরং দিন দিন দূর্বল সংগঠনে পরিণত হচ্ছে জেলা ও মহানগর বিএনপি। কমিটির শীর্ষ পদে থাকা নেতারা হয়ে গেছেন ঘরমুখো। কর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করেন না তারা। দলীয় কোন প্রয়োজনে কর্মীরাও তাদেরকে খূঁজে পান না এমনকি অনেক সময় কেন্দ্রীয় নেতারাও তাদের যোগাযোগ করতে পারেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা হচ্ছেন সুবিধাবাদী। তারা আওয়ামীলীগের সাথে সমঝোতা মেইনটেন্ট করে চলেন। ফলে তাদের কিছু হয় না কিন্তু কর্মীরা ঠিকই ভুক্তভোগী হচ্ছে। জেলে গিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। বিএনপি করতে গিয়ে জেলে গেলেও কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করেন না শীর্ষ পদে থাকা নেতারা। আর এজন্যই দিন দিন কর্মী হারাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বিএনপিকে কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে। তাদের চেয়ারপারসন কারাগারে আটক রয়েছে। এই সময়ে বিএনপির সকল নেতাকর্মীদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকার দরকার। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হতে না পারলে বিএনপিকে অস্তিত্ব সংকটে পরতে হবে। প্রসঙ্গত গত মঙ্গলবার সকালে শহরের চাষাঢ়া বালুর মাঠে ফটোসেশনের কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তুমুল হাতাহাতি ঘটনা ঘটে। দলের ক্রান্তিলগ্নে তাদের হাতাহাতির ঘটনা রম্য আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে।