আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:১১
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

‘মনোনয়নকে ঘিরে বিভক্ত নারায়ণগঞ্জ মহাজোট’…

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আসন্ন সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের মহাজোটের নেতারা পাল্টাপাল্টি প্রার্থী দেয়ার ঘোষণা দিয়ে ইতোমধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে। বিগত দিনে বিভিন্ন সভা সমাবেশ সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগ ও জাপার নেতাদের একসাথে দেখা গেলেও মনোনয়ন ইস্যুতে তা বিভক্তিতে পরিণত হবে; যেকারণে এসব নেতারা নৌকা ও লাঙলের সীমা রেখা হিসেব করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। এতে করে ওসমান ভ্রাতৃদ্বয় সহ একত্রে থাকা নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিধা, দ্বন্দ্ব সহ সম্পর্কে চিড় ধরতে পারে। অন্যদিকে বিরোধী পক্ষ এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সেই আগুণে ঘি ঢেলে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে করতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত ৩১ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলাতে জাপা দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আগমনে এমপি সেলিম ওসমান বলেছেন, প্রয়োজনে আগামীতে জেলার ৫টি আসনেই লাঙল প্রতীকের প্রার্থী দেওয়া হবে।’ অন্যদিকে একই দিনে জেলার সোনারগাঁয়ে আওয়ামী লীগের এক সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই ও সেক্রেটারী আবু হাসনাত শহীদ বাদল বলেছেন, জেলার ৫টি আসনেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দিতে হবে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জাপা নেতাকর্মীরা নতুন করে চাঙ্গা হয়ে আবারো সরব অবস্থায় দেখা যাবে। যদিও বিগত দিনে কর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি বলে এমপি সেলিম ওসমান আফসোস করেছেন। এতে করে দলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করার কারণে সাংগঠনিক দিক দিয়ে কতটা সুসংগঠিত রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু যদি এই সংকট পেরিয়ে আসন্ন নির্বাচনে দলের নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করতে পারে তাহলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় আওয়ামীলীগের সাথে যুদ্ধ করে এগোতে হবে। এদিকে বিগত দিনে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগ ও জাপা নেতাদের একসাথে একই মঞ্চে বসে সুরে সুর মিলিয়ে পথ চলতে দেখা গেছে। কিন্তু বর্তমানে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্র্বাচনকে ঘিরে আওয়ামীলীগের নেতারা ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জের ৫ টি আসনে নৌকা প্রতীকে প্রার্থী দাবি করে আসছেন। এমনকি ৫ আসনে নৌকার প্রার্থী অবশ্যই হবেন বলে জোর দাবি করেছেন মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা। সম্প্রতি এক সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই জানান, আগামীতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার প্রার্থী দিতে হবে। দেশের অন্য এলাকাতে জোট হতে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিলেও আগামীতে যাতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকা ছাড়া বিকল্প কিছু না ভাবা হয় সে বিষয়টিও দলের সভানেত্রীকে জানানো হবে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, দীর্ঘ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার প্রার্থী না থাকায় এখানে দলের নেতাকর্মীরা অবহেলিত। তৃণমূল সহ সবার দাবী যেন এখানে নৌকার প্রার্থী দেওয়া হয়। বিষয়টি আমাদের ফোরামেও আলোচনা হয়েছে। এটা প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হবে। এর আগে মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী খোকন সাহা জানান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ১৭ বছর ধরে দলীয় কোন এমপি নেই। আর তাই প্রতিটি কর্মীর প্রাণের দাবি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার প্রার্থী দেয়া। ৪২ বছর ধরে আমি আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে আসছি। আমার জুনিয়র অনেকেই মন্ত্রী হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আমি অবশ্যই প্রার্থী হবো। নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি অবশ্যই জয়ী হবো বলে আমার বিশ্বাস। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে চুপ হয়ে থাকা জাপা দলটি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদর এরশাদের আগমনকে কেন্দ্র করে হঠাৎ জাগ্রত হয়েছে দলের নেতাকর্মীরা। আর ওই দিনে দলের চেয়ারম্যানের আগমনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি ও জাপা নেতা সেলিম ওসমান একদিকে জেলার সবকটি আসনে লাঙলের প্রার্থী দেয়ার কথা উল্লেখ করেন। অন্যদিকে দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে কৌশলে নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের ব্যপারটি সবার সামনে তুলে ধরেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। ওই দিন এমপি সেলিম ওসমান নির্বাচন ও কর্মী সম্পর্কে বলেন বলেন, আমি সব সময় উন্নয়নের রাজনীতি করেছি। আমি প্রার্থী হই বা না হই নারায়ণগঞ্জে যাতে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির কেউ নির্বাচিত না হতে পারে তার জন্য প্রয়োজনে ৫টি আসনেই লাঙল প্রতীকের প্রার্র্থী দেওয়া হবে। তখন দেখা যাবে জনগণের আস্থা কাদের উপর। উন্নয়ন নাকি ভাওতাবাজির পক্ষে? নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে সেলিম ওসমান বলেন, আমি আমার বড় ভাই নাসিম ওসমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আপনারা আমাকে এমপি বানিয়েছেন। আমি সাড়ে চার বছরে নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে পারিনি। এখন সময় এসেছে নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করার। এদিকে বিগত দিনগুলোতে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সভা সমাবেশ সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জাপা ও আওয়ামীলীগ নেতাদের এক সাথে দেখা গেছে। এমনকি এই দুই দলের নেতাদের এক সুরে সুর মিলিয়ে কথা বলতে শোনা যেত। এছাড়াও কিছুদিন আগে এক অনুষ্ঠানে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহাকে এমপি সেলিম ওসমানের গুণকীর্তণ করতে দেখা গেছে। এর আগে বিভিন্ন সময় এই জাপা নেতার পাশে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে দেখা গেছে। মধ্যখানে একটি টানাপোড়নের সম্পর্ক দৃশ্যমান হলেও পরবর্তীতে সেই ঘাঁ তে মলম দিয়ে আবারো গত দূর্গা পূজার এক প্রস্তুতি সভায় এই নেতাদের এক মঞ্চে দেখা গেছে। যদিও ততক্ষণে তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্বে ভাটা লক্ষ্য করা যায়। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে খোকন সাহা সহ বেশ কিছু আওয়ামীলীগ নেতাকে এমপি সেমিল ওসমানের আশে পাশে দেখা গেছে। ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে এমপি শামীম ওসমান রয়েছেন ওসমান পরিবারের আরেক সদস্য তিনিও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে এক মঞ্চে বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। সম্প্রতি সেন্ট্রাল ঘাট সংলগ্ন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ওসমান পরিবারের এই দুই ভ্রাতৃদ্বয়কে দেখা গেছে। যদিও এই দুই ভাই মহাজোটের দুই দল থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তবে জাপা নেতা ও এমপি সেলিম ওসমান বলেছেন, ‘প্রয়োজনে আগামীতে জেলার ৫টি আসনেই লাঙল প্রতীকের প্রার্থী দেওয়া হবে।’ এদিকে নারায়ণগঞ্জের -৪ আসন থেকে তার ভাই নৌকা প্রতীকে মনোনয়েনের প্রত্যাশী রয়েছেন। কিন্তু তার এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ওই আসনটিতেও লাঙ্গলের প্রার্থীতা দেয়া হলে দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিতে পারে। তবে সম্পর্কের কারণে যদি কোন দ্বন্দ্ব না দেখা যায় তার পরও দলগত কারণে তাদেরকে মনোনয়ন যুদ্ধে লড়াই করতে হবে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ‘মনোনয়ন যুদ্ধ অনেকের মধ্যে হতে পারে। তবে এই যুদ্ধকে ঘিরে ইতোমধ্যে মেরুকরণ শুরু হয়েগেছে। কিন্তু বর্তমানে নতুন করে মনোনয়ন নিয়ে দলীয় বিভক্তি দেখা দিবে। আর এ জেলার মহাজোটের নেতাদের মধ্যে সেই বিভক্তি দেখা দিবে। তবে মহাজোটের সেই বিভক্তি এখন ভ্রাতৃদ্বয়ের মধ্যেও দেখা দিবে। আর বিগত দিনের মহাজোটের নেতারাও তাদের দল হিসেবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন। এতে করে মহাজোটের এই দুই দলের নেতাদের এক অনুষ্ঠানে দেখার প্রবণতা থাকবেনা বললেই চলে। তবে এই বিভক্তি কোনভাবে দ্বন্দ্বে পরিণত হয় কিনা তা নিয়ে অনেক গুঞ্জন রয়েছে। আর যে কোন ইস্যুতে মহাজোটের এই নেতারা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে একে অন্যের উপর কালিমা লেপনের কথা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছেনা।

উন্নয়নের মডেল মহাসড়ক এখন ডাষ্টবিনে পরিনত

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি

ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলমোড়ে আহসানউল্ল্যাহ সুপার মার্কেটের সামনে মহাসড়কজুড়ে ময়লা অ আবর্জনা ফেলে রাখায় পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দিনের পর দিন ময়লা আবর্জনা ও মার্কেটের গরু খাসি জবাই করা ময়লা ফেলে রাখায় দুর্গন্ধে হাঁটাচলা কষ্ট সাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা এসব দেখেও না দেখার ভান করছে। শুধু শিমরাইলমোড়ের এই স্থানটিই নয় মোড়ের অনেক স্থানে এভাবে ময়লা আবর্জনার স্তুপ পড়ে আছে। এসব স্থান দিয়ে প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ চলাচল করছে। পথচারীরা জানায়, আমরা এই  দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা আবর্জনা দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। সিটি কর্পোরেশন এ ব্যাপারে কেন ব্যবস্থা গ্রহন করছেনা তা কারো বোধগম্য নয়। শিমরাইলমোড়ের উত্তর পাশেও এই রকম পঁচা ময়লা আবর্জনা ফেলে রাখা হলেও সে ময়লার দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশে। পথচারীরা আক্ষেপ করে বলেন নাসিকের উন্নয়নের জোয়ারের এই হচ্ছে নমুনা। শিমরাইল- নারায়ণগঞ্জ সড়কের আটি এলাকায় নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের সার্ভিসরোডের বিশাল জায়গা জুড়ে বছরের পর বছর ময়লা আবর্জনা ফেলে রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ কোটি কোটি টাকা খরচ করে শিমরাইলমোড়ের বিদ্যুৎ অফিস থেকে আদমজী ইপিজেড পর্যন্ত সার্ভিস রোডটি রিকশাসহ ছোট যানবাহন চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হয়। সে রাস্তাটির অস্তিত্ব নেই ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে এবং অবৈধ দখলদারদের দখলে ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠান থাকার কারণে। ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইলমোড়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। কোটি কোটি টাকা খরচ করে মহাসড়ককে ৮ লেন করা হয়েছে। কিন্তু দুইটি লেন ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে যানবাহন চলাচলে যেমন সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে তেমনি জনসাধারণ চলাচল করতে গিয়ে রীতিমতো প্রতিদিনই বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। মার্কেট মালিকদের অবহেলার কারণে প্রতিদিনই মহাসড়কে ময়লার স্তুপ ফেলে রাখে মার্কেটের দোকানীরা। নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাইনবোর্ডে এসে শিমরাইল- আদমজীর সার্ভিস রোডটি উদ্ধারের জন্য নির্দেশ দিলেও বাস্তবে কাজ হয়নি। ওই সড়কের দায়িত্বে থাকা নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আসফিয়া আদমজী সড়কের ময়লা আবর্জনা ও অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে সওজের সার্ভিস রোডটি উদ্ধারের জন্য বলা হলেও অধ্যাবধি তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করেননি। অবিলম্বে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করে যানবাহন ও জনসাধারন চলাচলের পথ সুগম করার দাবি জানিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জবাসী।

 

ওলামা পরিষেদের বিক্ষোভে বক্তারা : নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করতে চায় তাদের গ্রেফতার করুন

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আফগানিস্তানের কুন্দুজে মার্কিন বাহিনীর বোমা হামলায় কোরআনের হাফেজগণ নিহতের ঘটনায় এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতের আমীর ও ওলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়াল এর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ জেলা ওলামা পরিষদ ও ইসলামী আন্দোলন নারায়ণগঞ্জের উদ্যোগে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত। শুক্রবার বাদ জুম্মা ডিআইটি মসজিদ থেকে মিছিলটি বের হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে ২নং রেল এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। মিছিল পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাওলানা তামীম বিল্লাহ সহ যারা নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করতে চায় অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। আগামীকালের মহাসম্মেলনকে যেকোন মূল্যে আমরা বাস্তবায়ন করবো। কারন এখানে দেশ বরেণ্য ওলামা মাসায়েখগণ কোরআন হাদিসের আলোকে আলোচনা করবেন এবং আমাদের সম্মানিত খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়াল এর বিরুদ্ধে যারা কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন তাদেরকে সর্তক করে দিয়ে বলতে চাই, এধরনের প্রপাগান্ডা থেকে বিরত থাকুন। নইলে নারায়ণগঞ্জের তাওহিদি জনতা জেগে উঠলে আপনারা পার পাবেন না। এরপূর্বে ডিআইটি মসজিদের খতিব আব্দুল আউয়াল মুসুল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন, কাশীপুর ও টানবাজার এলাকায় ওয়াজ মাহফিলে বাহাদুর শাহ আমাকে বাহাসে বসার চ্যালেঞ্জ করে এক কোটি টাকা ঘোষনা করে। আমাকে কাফের বলে গালমন্দ করে। আমরা তার কাছ থেকে এটা আশা করিনি। আমরা শরীয়তের বিধান অনুয়ায়ী, কোরআন ও হাদিসের আলোকে আলোচনা করি আপনাদের সচেতন করার জন্য। এগুলো মানা, না মানা সম্পূর্ণ আপনাদের বিষয়। বন্দরের শহীদ মিনারে আমি যে আলোচনা করেছি তা হলো, রাসুলে পাক (সাঃ) এর আমল থেকে তিনি যা বলেছেন আমরা তা আমল করবো। ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে মিছিলকে আমি শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসবের সঙ্গে আমি তুলনা করিনি। আমি বলেছি, আমাদেরকে অনুসরন করে এখন বিধর্মীরাও এধরনের উৎসব পরিচালনা করছে। বর্তমান যুগে প্রত্যেকটি সভা, সমাবেশ, মাহফিল গুলো এখন ভিডিও রেকর্ডিং হচ্ছে, এবিষয়ে অতিদ্রুত মানুষ জানতে পারে। কোন কিছু পর্যালোচনা না করে আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে গালমন্দ করছে। এর বিচার আমি আপনাদের কাছে দিলাম। এসময় ওলামা পরিষেদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলন মহানগরের সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ, ওলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জাকির হোসেন কাসেমী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা দ্বীন ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মুফতি হারুন-উর-রশিদ, সদস্য রহমত উল্লাহ প্রমুখ।

 

অনিশ্চয়তার মুখে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর লেখাপড়া সিদ্ধিরগঞ্জে স্কুল গুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে

 

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি

সিদ্ধিরগঞ্জে একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুল দখল নিতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করে দখল নেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে ওই স্কুলে প্রায় ২ শতাধিক শিক্ষার্থীর লেখা পড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন ওই স্কুলের পরিচালক। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই স্কুলের প্রিন্সিপাল মোঃ হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন। গত ১ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি সাহেবপাড়াস্থ নাহার এইচ আডিয়েল স্কুলে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করে দখল করে নেয়। বাধা দিলে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল মোঃ হাফিজুর রহমাননে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয় বলে মামলা উল্লেখ করা হয়। তবে পুলিশ মামলা নিলেও আসামীদের এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি। স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল মোঃ হাফিজুর রহমান জানান, ২০১২ সালে সিদ্ধিরগঞ্জের সাহেবপাড়া এলাকার শাসসুল আলম গংদের নিকট থেকে ৩ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে স্কুল করার জন্য একটি ডোবা জমি ১০ বছরের জন্য ভাড়া নেয়। পরে তিনি আরো ৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা দিয়ে ৫টি টিনশেড রুম তৈরী করে স্কুল পরিচালনা করে আসছিলেন। ২০১৪ সালে হঠাৎ করে স্কুলটির প্রতি লোভাতুর দৃষ্টি পড়ে জমির মালিক শাসসুল আলম গংদের। পরে তারা বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে হয়রানি করতে থাকে। প্রচন্ড গরমে কোমল মোতি শিশুরা কষ্ট করে পাঠ দান করতে হয়। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎের ব্যবসা করে স্কুল পরিচালনা করে আসছিল। গত ১ এপ্রিল সকালে শাসসুল আলম শাসসুল আলম গংরাসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জন লোক নিয়ে স্কুলে হামলা করে  ক্লাস রুম গুলো ভেঙ্গে ফেলে। এসময় স্কুলে ফার্নিচার, ১০টি ফ্যান ও ৫০ জোরা বেঞ্চস আসবারপত্র লুটপাট করে স্কুলটি দখল করে নেয়। এসময় স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল মোঃ হাফিজুর রহমানকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও স্কুলের বিষয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে বলে জানান স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা। এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ আব্দুস সাত্তার মিয়া জানান, স্কুলে হামলার অভিযোগে মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

 

 

নারায়ণগঞ্জে মুখোমুখি সুন্নী ও তৌহিদি জনতা পাল্টা-পাল্টি মিছিলে সংঘর্ষের আশংকা

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

একদিকে সুন্নী জনতা অন্যদিকে তৌহিদি জনতা- এই দুই গ্রুপ ‘জনতা’র মধ্যে যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে নগরীর সাধারণ মানুষ। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ)কে কৃষ্ণের সাথে তুলনা করে বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে গত বুধবার  নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে নারায়ণগঞ্জ সুন্নী জনতা’র ব্যানারে। এখান থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতে ইসলামের আমির মাওলানা আব্দুল আউয়ালকে স্বাধীনতা বিরোধী, নবী বিদ্বেষী আখ্যায়িত করে তাঁর গ্রেফতার দাবি করা হয়। শুধু তাই নয়, চাষাড়া শহীদ মিনারে হামলার সাথে আব্দুল আউয়ালের সম্পৃক্ততা রয়েছে দাবিও করা হয়েছিলো বুধবারের ওই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে। এবং তাঁকে গ্রেফতারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়েছে। এই সমাবেশ ও মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশ সুন্নাত ওয়াল জামাত এর নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি তামিম বিল্লাহ আল কাদেরী। অপরদিকে ওই বিক্ষোভের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজপথে নেমে নারায়ণঞ্জকে কারবালা বানানোর হুমকি প্রদান করে পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে নারায়ণগঞ্জ তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা। হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহম্মদ শফি ও নারায়ণগঞ্জ জেলার আমির আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর ডিআইটি এলাকা থেকে মহানগর হেফাজতের আমির মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিল শেষে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করে হেফাজত নেতারা। সুন্নাত ওয়াল জামাত এর নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি তামিম বিল্লাহ আল কাদেরীকে গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয় ওই সমাবেশ থেকে। এরমধ্যে গ্রেফতার করা না হলে গতকাল শুক্রবার জুম’আ নামাজের পর হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে আসবে বলে জানানো হয় সমাবেশ থেকে। সমাবেশে মাওলানা জাকির হোসেন বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম নারায়ণগঞ্জ জেলার আমির আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ন বক্তব্য প্রদানকারি কুলাঙ্গার ভন্ড তামিম বিল্লাহকে গ্রেফতার না করলে নারায়ণগঞ্জে আগুন জ্বলবে। একজন নয়, দুইজন নয়, হাজারটা লাশ পড়বে। নারায়ণগঞ্জের জমিন কারবালার ময়দান হয়ে যাবে।’এদিকে উভয় গ্রুপের এমন মুখোমুখি অবস্থানের কারণে শহরবাসীর মধ্যে শঙ্কা বিরাজ করছে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এদের মধ্যে বড় রকমের কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। যেহেতু উভয় গ্রুপই মারমুখি অবস্থানে রয়েছে। তবে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, প্রকাশ্যে লাশ ফেলার হুমকি কি করে দিতে পারে হেফাজতের নেতারা! পুলিশ কেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি? এমন প্রশ্ন এখন অনেকের মাঝেই ঘুরপাক খাচ্ছে। সেই সাথে আশঙ্কাও বিরাজ করছে। এ প্রসঙ্গে জানতে যোগাযোগ করা হয়েছিলো নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ কামরুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান, “এমন হুমকি প্রকাশ্যে দেয়া হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর শহরে কোনো রকম বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।”

সোনারগাঁয়ে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে এমপি খোকার ফুলেল শুভেচ্ছা

 

সোনারগাঁ প্রতিনিধি

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা। গতকাল শুক্রবার সকালে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নোয়াখালী যাওয়ার পথে সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় এলে স্থানীয় সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এসময় মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত চার বছরে সোনারগাঁয়ে ব্যাপক উন্নয়ণ করায় এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার প্রতি সন্তুষ্টি ব্যক্ত করেন। পরে তারা বিভিন্ন সড়ক ও মেঘনা টোলপ্লাজা পরিদর্শন করেন এবং উন্নয়ণের বিষয় নিয়ে পরস্পরের সাথে মতবিনিময় করেন। এসময় এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন- নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টি নেতা আজিজুর রহমান বাদল, আনিসুর রহমান রানা, সোনারগাঁ উপজেলা জাতীয় পার্টি নেতা জাবেদ রায়হান, পিরোজপুর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আলমগীর কবির, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা হাজী আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।