আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:১৪
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

অনিশ্চয়তার পথে বিএনপির কর্মী সম্মেলন

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আপাদত যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কর্মী সম্মেলন।  দলীয় সূত্রে জনাগেছে, মূলত, নারায়ণগঞ্জের টিম প্রধান হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু রাজনৈতিক কাজে ব্যস্ত থাকায় কেন্দ্র নির্ধারিত সময় অনুযায়ী যথাসময়ের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কর্মী সম্মেলন হচ্ছে না। তবে কর্মী সম্মেলন আয়োজনের ব্যাপারে নিয়মিত বুলুর সাথে যোগাযোগ রাখছেন নারায়ণগঞ্জের নেতৃবৃন্দরা। জানাগেছে, দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীসহ নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার দাবীতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার পাশপাশি পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি পালনের দিকনির্দেশনা দিতে সারাদেশে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে আবারো কর্মী সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এই লক্ষ্যে আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কর্মীসভা সাফল্য মন্ডিত করার লক্ষ্যে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুর নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জে সাংগঠনিক সফরে আসার কথা ছিল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের। আর এই সাংগঠনিক সফরের বিষয়ে অবগত করার লক্ষ্যে গত ২০ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কর্মীসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত টিম প্রধান, কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুর বরাবর চিঠি পাঠিয়েছিলেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এড. রুহুল কবির রিজভী।  যেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল, “দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের করনীয় নিয়ে আলোচনার ও মতামত গ্রহণের জন্য দেশব্যাপী জেলা ও মহানগর পর্যায়ে দলের কর্মী সভা করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে। সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধির জন্য এই সভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির এই সভা সাফল্য মন্ডিত করার লক্ষ্যে আপনাকে দলনেতা করে একটি টিম গঠন করা হয়েছে। আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে কর্মী সভা সাফল্য মন্ডিত করতে আপনার নেতৃত্বে গঠিত টিমকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশিত হয়ে অনুরোধ করা হইলো।” চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছিল, উক্ত কর্মী সভা গুলোতে সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন। উপস্থিত থাকবেন, নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ, দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য, বিগত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীগণ, বিএনপির জেলা মহানগর কমিটির সকল কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ, উপজেলা, পৌর ইউনিটের সভাপতি, ১নং সহ-সভাপতি, সাধারন সম্পাদক, ১নং যুগ্ম সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, বিএনপি দলীয় উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, গঠনতন্ত্র স্বীকৃত ৬ সহযোগী সংগঠনের জেলা কমিটির সভাপতি, সাধারন সম্পাদক সাংগঠনিক সম্পাদকবৃন্দ। আর রুহুল কবির রিজভী প্রেরিত চিঠি অনুযায়ী কর্মী সভার প্রস্তুতি নিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির সভাপতি/ সাধারন সম্পাদক বরাবর গত ২৮ মার্চ অনুলিপি প্রেরণ করেছিলেন নারায়ণগঞ্জের সাংগঠনিক টিমের প্রধান বরকত উল্লাহ বুলু। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের নেতৃবৃন্দরা প্রস্তুতি নিলেও যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছেনা কর্মী সম্মেলন। তবে যথাসময়ে সম্মেলন করা সম্ভব না হলেও পরবর্তীতে চলতি মাসের মধ্যেই কোন একদিন কর্মীসভঅর আয়োজন করা হবে বলে নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল। তিনি জানান, ‘যথাসময়ে কর্মী সম্মেলন করার ব্যাপারে প্রস্তুতি থাকলেও টিম প্রধান বরকত উল্লাহ বুলু দলীয় কাজে ব্যস্ত থাকায় ১০ এপ্রিলের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছেনা। তবে চলতি মাসের মধ্যেই কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হবে।’ এটিএম কামাল আরো বলেন, ‘কর্মী সম্মেলন সম্পন্নের ব্যাপারে টিম প্রধান বরকত উল্লাহ বুলুর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ হয়েছে। তবে অসুস্থ্যতার কারনে চিকিৎস্বার্থে আগামী সপ্তাহে আমি বিদেশ যাওয়ার কারনে কর্মী সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে না পারলেও সকল  সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা থাকবে বলে বুলুকে আশ^স্ত করেছি।’

 

নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা আড়াইহাজার রিপোর্টাস ক্লাবের প্রতিবাদ

 

আড়াইহাজারপ্রতিনিধি

ফতুল্লার শ্রমিকলীগ নেতা কাউছার আহমেদ পলাশ দৈনিক ডান্ডিবার্তার সম্পাদক ও প্রবীণ সাংবাদিক আলহাজ¦ হাবিবুর রহমান বাদল, দৈনিক যুগান্তরের ফতুল্লা প্রতিনিধি আল আমিন প্রধান, সময়ের নারায়ণগঞ্জ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক জাবেদ আহমেদ জুয়েলসহ জাতীয় দৈনিক যুগান্তরের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত উদ্দেশ্যমূলক মামলায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আড়াইহাজার রিপোর্টাস ক্লাব। গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো লিখিত এক বিবৃতিতে আড়াইহাজার রিপোর্টার্স প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ হাকিম ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক কামাল শেখ বলেন, নারায়ণগঞ্জে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকের টুঁটি চেপে ধরার চেষ্টা নতুন কিছু নয়, এর আগেও মামলা, হামলা করে নারায়ণগঞ্জের সাহসী মিডিয়াগুলোকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকের কলম থামাতে পারেনি। এবারও পারবে না। নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকরা কারোর তাবেদারি করে না। আমরা হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলতে চাই, সাংবাদিকের হাত পা ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুংকার কোনো লাভ হবে না। হুংকারকে সাংবাদিকরা ভয় করে না। সত্য প্রকাশ করলেই কিছু ব্যাক্তির গায়ে জ্বালা ধরে যায়। সাংবাদিকের কাজই হল সত্যকে প্রকাশ করা। আমরা সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

 

 

জাপানে নীটপণ্য রপ্তানি করবে বাংলাদেশ

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

বিকেএমইএ, এনসিসিআই ও বিসিসিআইজে আলোচনার মাধ্যমে জাপানে নীটপণ্য রপ্তানি করার কথা বলেছেন বিকেএমইএ সভাপতি ও সদর-বন্দর আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিআই) ইন জাপান কর্তৃক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি জাপানী ব্যবসায়ীদের নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মদনগঞ্জে শান্তিরচরে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদিত নীটপল্লীতে বিনিয়োগের আমন্ত্রন জানিয়েছেন। বিসিসিআই ইন জাপান এর সভাপতি বাদল চাকলাদার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা পূর্বক আলোচনা সভায় জাপানে বাংলাদেশী নীটপণ্য রপ্তানি বৃদ্ধিতে করণীয় এবং তাতে জাপানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের সহায়ক ভূমিকা পালনের কর্মপন্থা নির্ধারণ ছিল আলোচনা সভার মূল আলোচ্য বিষয়। সভায় বিকেএমইএ সভাপতি ও সদর-বন্দর আসনের সংসদ সদস্য বলেছেন, রাজনীতি হবে দেশ  উন্নয়নের রাজনীতি। আপনারা জেনে খুশি হবেন যে জাপানে বাংলাদেশের অনেক পণ্য বিভিন্ন দেশের হয়ে আমদানী হয়ে আসছে। আমরা জাপানে ব্যবসা করতে চাই। জাপানে অনেক বাংলাদেশী ব্যবসায়ী রয়েছেন আমরা তাদের সাথে ব্যবসা করতে চাই। জাপানে ৩ লাখ বাংলাদেশীদের সাথে ১২ হাজার জাপানী ব্যবসায়ী রয়েছে। আমরা তাদের সাথে বাণিজ্যিক বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে চাই। জাপানে প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ রেখে সেলিম ওসমান বলেন, আপনাদের  রাজনৈতিক পরিচয়ের উর্ধ্বে দেশপ্রেমিক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ভিয়েতনামের চেয়ে বাংলাদেশের পোশাকের মান অনেক বেশি ভাল। আমাদেরকে সব সময় উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে হবে। জাপানে বিকেএমইএ এর কার্যালয় করা হবে। জাপানে ব্যবসারত বাংলাদেশী ভাইদের নিয়ে প্রয়োজনে যৌথ অংশীদারিত্বে ব্যবসা করবো। বিকেএমইএ, এনসিসিআই ও বিসিসিআইজে আলোচনার মাধ্যমে জাপানে নীটপণ্য রপ্তানি করবে। সেই প্রত্যাশা রেখে আমি নারায়ণগঞ্জে শান্তিরচরে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদিত নীটপল্লীতে জাপানের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ করার আমন্ত্রন জানাচ্ছি।

সভায় বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের সাবেক রাষ্ট্রদূত হরিগোচি বলেন, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরে নীটশিল্প অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের কমাশির্য়াল কাউন্সিলর হাসান আরিফ বলেন, জাপানে নীটপণ্য হচ্ছে এক নাম্বার রপ্তানিতব্য পন্য। গত ১০ বছরে এখানে প্রায় ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। জাপানের সিটিপিপি স্বাক্ষর করার পরও বাংলাদেশ থেকে নীটপণ্য রপ্তানিতে কোন সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন মিনিস্ট্রি অব ইকোনমি ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। ইতোমধ্যে জাপান চেম্বার, টোকিও চেম্বার ও জাপান টেক্সটাইলস ইনপোটার্স অ্যাসোসিয়েশন বিকেএমইএ এর সাথে গঙট স্বাক্ষর করতে সক্ষম হয়েছে। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, ফজর আলী, এস ইসলাম নান্নু, আব্দুর রাজ্জাক, জিয়াউল ইসলাম জিয়া, রেজাউল করিম, কাজী ইনসান, জাপান আওয়ামীলীগ এর সভাপতি সালেহ মোহাম্মদ সহ অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দরা।

 

হত্যা-গুম আতংকে সাংবাদিক আলামিন

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সংবাদ প্রকাশের জের ধরে প্রকাশ্য মিছিল ও সমাবেশ থেকে চামড়া খুলে নেওয়া সহ হাত পা গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিতে ভীত হয়ে পড়েছেন যুগান্তরের ফতুল্লা প্রতিনিধি আলামিন প্রধান। তিনি আশংকা প্রকাশ করে বলেন, ‘গত ৪ এপ্রিল থেকে টানা প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে তাঁর বিরুদ্ধে সভা সমাবেশ হচ্ছে যেখান থেকে বার বার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে আমাকে যেখানে পাবে সেখানেই হাত পা গুড়িয়ে দেওয়া ও চামড়া তুলে নেওয়া হবে। এসব হুমকি ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। আমি গুম ও হত্যার আশংকা করছি।’ সংবাদ প্রকাশের জের ধরে গত ৫ এপ্রিল শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশ যুগান্তর প্রতিনিধির বিরুদ্ধে একটি মানহানি ও অপরটি ৫৭ ধারায় মামলার আর্জি করেন। আদালত মানহানি মামলা গ্রহণ করেন ও ৫৭ ধারার মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশকে। একই দিন ইত্তেফাকের জেলা প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান বাদল ও সময়ের নারায়ণগঞ্জ সম্পাদক জাবেদ আহমেদ জুয়েলের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে দুটি মামলা করেন। গতকাল শনিবার গণমাধ্যমকর্মীদের আলামিন প্রধান জানান, ‘গত ৫ এপ্রিল মামলার আগের দিন বুধবার ৪ এপ্রিল বিকেলে ফতুল্লার ডিআইটি মাঠ এলাকা থেকে পলাশের অনুগামী লোকজন মিছিল বের করে। ওই মিছিল থেকে প্রকাশ্যে সাংবাদিকের হাত পা গুড়িয়ে দেওয়ার স্লোগান দেওয়া হয়।’ আলামিন বলেন, গত ৪ এপ্রিলের সেই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় চামড়া খুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এটা বেশ ভীতিজনক। ওই ঘটনায় সেদিন রাতেই আমি বাদী হয়ে ফতুল্লা মডের থানায় নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করেছি। তাছাড়া প্রতিদিন মিছিল সভা সমাবেশ হচ্ছে যেখান থেকে আমাকে দেখে নেওয়া, হাত পা গুড়িয়ে দেওয়া সহ চামড়া খুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সংবাদের কারণে আমাকে বিভিন্ন স্থানে যেতে হয়। কিন্তু এসব হুমকির কারণে আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমার আশংকা যে কোন সময়ে গুম, পলাশ বাহিনী দ্বারা হামলা ও হত্যার শিকার হতে পারি।’ ফতুল্লা মডের থানার ওসি মঞ্জুর কাদের জানান, জিডির অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

 

 

 

 

 

জামিনের পর বিএনপি নেতারা নীরব

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যাপক ধরপাকড়াও এর পর ধীরে ধীরে কারাগার থেকে জামিন পাচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। ইতিমধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তবে যেসব নেতারা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন তারা নীরব হয়ে যাচ্ছেন রাজনীতিতে। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর নীরব হয়ে যাওয়া নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে বিএনপিতে। জানা গেছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি আড়াইহাজার থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। তারপর থেকে তিনি নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক কোন কর্মকান্ডে সক্রিয় নেই। একইভাবে ওইদিন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাউদ্দীন মোল্লা ও আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জুয়েল হোসেন। তাদের এখন রাজনীতিতে দেখা যাচ্ছেনা। তবে একইদিন গ্রেপ্তার হওয়া মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান গ্রেপ্তার হওয়ার পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েও রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। গতকাল শনিবার বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সেক্রেটারি অধ্যাপক মামুন মাহামুদ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। কারাগারে রয়েছেন মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। মুক্তি পেয়েছেন সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম টিটু। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক  মাসুকুল ইসলাম রাজীব গত  ৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলে ২২ দিন কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে তারপর থেকে তিনি রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সাতটি থানায় ১৩টি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ। ওইসব মামলায় অন্তত ৭শতাধিক নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ্য সহ আরো হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে আসামি করাহয়। ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রেপ্তার অভিযান চলে পুলিশের। আরও জানা গেছে, ৪ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ মিশনপাড়া থেকে  জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়াও একইদিন সোনারগাঁও থেকে পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি সালাউদ্দীন, কাউন্সিলর নাসিম পাশা সহ ৬জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি আড়াইহাজার থেকে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাউদ্দীন মোল্লা, আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জুয়েল হোসেন সহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রূপগঞ্জ থেকে মেয়র আবুল বাশার বাদশা সহ ৬জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়াও ৫ ফেব্রুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জ সানারপাড় থেকে মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এইচএম আনোয়ার প্রধান ও আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট মাইনুদ্দীন রেজাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ১০ ফেব্রুয়ারি সোনারগাঁ থেকে অধ্যাপক মামুন মাহামুদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একইদিন নারায়ণগঞ্জ শহরের জামতলা থেকে কাজী নজরুল ইসলাম টিটুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসব নেতাকর্মীদের অনেকেই জামিন পেয়েছেন। অন্যদিকে ১৩টি বিস্ফোরক মামলায় নেতাকর্মীরা উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন। অনেকেই এখনও পলাতক রয়েছেন। রয়েছেন আত্মগোপনে। উচ্চ আদালত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জামিন দিয়েছেন। নির্দেশ দিয়েছেন নিম্ম আদালতে আত্মসমর্পন করার। এসব মামলায় নেতাকর্মীরা উচ্চ আদালতের জামিননামা ইতিমধ্যে নিম্ম আদালতে অনেকেই দাখিল করেছেন। পাশাপাশি অনেকেই আত্মসমর্পন করেছেন। কিন্তু আদালতে নথি না আসার কারনে আদালতে শুনানি হচ্ছেনা। আসামিদের আইনজীবীরা বলছেন, আদালতে নথি না আসা পর্যন্ত আইনজীবীর জিম্মায় নেতাকর্মীদের জামিন দেয়া হচ্ছে। তবে নেতাকর্মীরা জামিন পাওয়ার পর থেকেই বিএনপির রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছেন। যা নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে বিএনপিতে।

 

 

নারায়ণগঞ্জে দু’টি আসনে একাধিক তরুণ প্রার্থী

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ জেলার রাজনীতিতে প্রথমেই দুটি আসন এলাকার নেতাকর্মীদের ভূমিকা থাকে বেশি। শহর কেন্দ্রীক দুটি আসনে আগামী জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশিদের তালিকায় রয়েছেন অনেক নতুন মুখ। এদের অনেকেই রাজনীতিতে তরুণ হলেও বেশ জনপ্রিয়। আবার দুই একজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি সহ নানান ধরনের অভিযোগ রয়েছে বিস্তর। নারায়ণগঞ্জ সদর থানা ও বন্দর উপজেলা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ সংসদীয় আসন। এ আসনে নৌকা প্রতীকে আওয়ামীলীগের ৮জন মনোনয়ন প্রত্যাশি মাঠে নেমেছেন। এদের বেশির ভাগ নতুন মুখ। এ আসনে এমপি হিসেবে রয়েছেন মহাজোটের একেএম সেলিম ওসমান। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা থানা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ সংসদীয় আসন। এ আসনে বর্তমান এমপি আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা একেএম শামীম ওসমান। তবে এ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশি হিসেবে নিজেকে দাবি করছেন কেন্দ্রীয় শ্রমিকলীগের নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ। এদিকে নারায়ণগঞ্জ সদর আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশিদের তালিকায় রয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি খোকন সাহা, আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য আনিসুর রহমান দিপু, কেন্দ্রীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি শুক্কুর মাহামুদ, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আরজু রহমান ভুইয়া, আবদুল কাদির, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত। তবে নারায়ণগঞ্জ সদর আসনে নতুন মুখ তরুণ প্রার্থীদের মধ্যে ক্লিন ইমেজের নেতা জিএম আরাফাত। তিনি এক সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রলীগের রাজনীতি করেও তিনি ছিলেন বিতর্কের ঊর্ধ্বে। তরুণ সমাজের কাছে বেশ জনপ্রিয়ও জিএম আরাফাত। এ আসনের অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশিদের নিয়ে দুএকটি বিতর্ক থাকলেও জিএম আরাফাতের বিরুদ্ধে তেমন কোন বিতর্ক নেই। এ আসনে অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ানও আছেন আলোচনাতো। ইতোমধ্যে স্বাধীনতা দিবসে তিনি বন্দরে শো ডাউন করে সবার দৃষ্টি কেড়েছেন। রাজনৈতিকভাবেও বেশ প্রজ্ঞা বাড়ছে এ তরুণ নেতার। ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে শামীম ওসমানের বিকল্প মনোনয়ন প্রত্যাশিদের তালিকায় শুধুমাত্র একজন। তিনি হলেন কাউসার আহমেদ পলাশ। তিনি ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করে তোলার পায়তারা করছেন। তিনি এখনও মনোনয়ন পাবেন সেটাও নিশ্চিত হয়নি। কিন্তু এখনি তার লোকজন রাস্তায় নেমে স্থানীয় সাংবাদিকদের চামড়া তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়ে মিছিল মিটিং করাচ্ছেন তার অনুসারি শ্রমিক নেতাকর্মীদের দিয়ে। কাউসার আহমেদ পলাশও নির্বাচনে নতুন মুখ। পলাশও এক সময় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে ছিলেন। কিন্তু বিতর্ক তাকে পিছু ছাড়েনি। নতুন করে তিনি আবার বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিক সমাজের বিরুদ্ধে তিনি অবস্থান নিয়েছেন। ফলে আগামী নির্বাচনে দুটি আসনে দুজন নতুন মুখ থাকলেও জিএম আরাফাত ও আবু সুফিয়ানের সঙ্গে কাউসার আহমেদ পলাশের ইমেজের পার্থক্য বিস্তর।

 

 

 

ফুটপাত নিয়ে কঠোর অবস্থানে নাসিক

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

শহরের ফুটপাত নিয়ে কঠোর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। গত কয়েকদিন ধরেই নগরীর ফুটপাত দখল করে মালামাল রাখার অভিযোগে জরিমানা আদায় অব্যাহত রেখেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের একাধিক টিম। এছাড়া নাসিকের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীও স্বশরীরে শহরের মিশনপাড়ায় নবাব সলিমুল্লাহ সড়কে এসে ফার্নিচার ব্যবসায়ীদের প্রতি হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন। ফুটপাত দখল করে মালামাল রাখা হলে ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করারও ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র। এছাড়া বঙ্গবন্ধু সড়কে ফের ফুটপাত বসানোর পায়তারা করায় হকারদের নেতা আসাদুল ইসলামকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন মেয়রের দেহরক্ষী শফিকুল। জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের সকল সড়ক জুড়েই বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা ফুটপাত দখল করে তাদের বিভিন্ন সামগ্রী রেখে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। ওইসকল প্রতিষ্ঠানের রাখা পণ্য সামগ্রীর কারণে ফুটপাত দিয়ে চলাচলরত পথচারীদের চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হয়। গত সোমবার ২ এপ্রিল থেকে শহরের বিভিন্ন সড়কে ফুটপাত দখলকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের একাধিক টিম। এর মধ্যে সোমবার একটি টিম শহরের চাষাঢ়ায় নবাব সলিমুল্লাহ সড়কে ৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করে। মঙ্গলবার ৩ এপ্রিল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া থেকে খানপুর পর্যন্ত নবাব সলিমুল্লাহ সড়কের দুই পাশে এবং খানপুরে ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের সামনে ফুটপাত দখল করে বিভিন্ন রেস্তোরা ও দোকানের সামনে সামগ্রী রাখা এবং টং দোকান বসানোর অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। অভিযানকারী দল যখন চাষাঢ়া পৌরসুপার মার্কেটের সামনে অভিযান চালাচ্ছিল তখন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী সিদ্ধিরগঞ্জে রাস্তার কাজ পরিদর্শন শেষে ফিরছিলেন। মিশনপাড়া ও ডনচেম্বার এলাকায় ফার্নিচার ব্যবসায়ীদের কর্তৃক ফুটপাত দখল করে ফার্নিচার সামগ্রী রাখার বিষয়টি দেখতে পেয়ে মিশনপাড়া এলাকায় গাড়ি থামান মেয়র আইভী। পরে গাড়ি থেকে নেমে তিনি ফার্নিচার ব্যবসায়ীদের প্রতি হুশিয়ারী দিয়ে বলেন যদি ভবিষ্যতে আবারো ফুটপাতে পণ্য রেখে ব্যবসা করতে দেখা যায় তাহলে দোকানের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করে দিব। পরে মেয়র নগর ভবনে চলে যান। গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হিরন ও পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক শ্যামল পালের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এসময় একটি রেস্তোরাসহ বিভিন্ন দোকান মালিককে প্রায় ২৭ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানকালে ট্রেড লাইসেন্স ও মেডিকেল সার্টিফিকেট না থাকা এবং রান্নাঘর অপরিস্কার থাকায় খানপুর এলাকায় অবস্থিত আল আরাফ রেস্তোরাকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এদিকে ৩ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু ফুটপাতে হকার বসানোর অভিযোগে হকার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি আসাদুল ইসলাম আসাদ আটক করলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। জেলা সিপিবিরি সভাপতি হাফিজুল ইসলাম থানায় মুচলেকা (লিখিত) দিয়ে আসাদকে ছাড়িয়ে আনেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা থেকে। গত ১৬ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার ইস্যুতে সংঘর্ষের ঘটনায় হকারদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছিল আসাদকে। সেদিন তাকে ঢিল ছুড়তেও দেখা যায়। সিটি করপোরেশনের মেয়রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্য শফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার দুপুরে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে সাধুপৌলের গীর্জার সামনে হকার বসতে দেখে আমি বাধা দেই। ওই সময়ে আসাদ এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। পরে পুলিশ তাকে আটক করে। সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, শহরের বঙ্গবন্ধু রোড়ে হকার বসা নিষেধ করার পরেও হকাররা কোন নিষেধ না মেনে ফুটপাত দখল করে প্রতিদিন দোকান বসাচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে আসাদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক করা হয়। পরে সিপিবি সভাপতি হাফিজুল ইসলাম ফুটপাতে দোকান বসবেনা বলে লিখিত দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেয়। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী সাংবাদিকদের জানান, হকার নিয়ে শহরে এত বড় ঘটনা ঘটল। তারপরও সিপিবি নেতা হাফিজুল ইসলাম হকার নেতাকে মুছলেখা দিয়ে কেন ছাড়িয়ে আনল সে ভাল বলতে পারবে। মেয়র আইভীর ঘোষণার পরে ৪ এপ্রিল থেকে আরো কঠোর অবস্থানে রয়েছেন নাসিকের কর্মকর্তারা। অভিযানের নেতৃত্বে থাকা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হিরণ বলেন, ফুটপাত উচ্ছেদ করার ব্যাপারে মেয়র কঠোর। তিনি ফুটপাত দখলকারীদেরকে কোনভাবেই ছাড় দিতে রাজী নয়। ফার্নিচার ব্যবসায়ীদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। যদি তারা ফুটপাত দখল করে সামগ্রী রাখে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে ৪ এপ্রিল দুপুরে নগরীর মিশনপাড়া, ডনচেম্বার ও নবাব সলিমউল্লাহ রোড এলাকার ফুটপাত দখলকারীদের বিরুদ্ধে আবারো অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালে ফুটপাতে মালামাল রাখার অভিযোগে সুন্দরবন হোটেলকে ৬ হাজার ৫শ’ টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন নাসিক কর্মকর্তা আসাদুল ইসলাম, শাকিল ও অসিম চন্দ্র দে।

 

চাষাড়ায় বঙ্গবন্ধু সড়কে নিত্যদিনের যানজট

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

যাত্রী নামবে সান্তনা মার্কেটের সামনে কিন্তু রিকশাওয়ালা যাত্রীকে শহীদ মিনারের সামনে নেমে যেতে বললেন। যাত্রী শহীদ মিনারের সামনে নামতে নারাজ হলে রিকশাওয়ালা বললেন, আপনার এখানের থেকে হেটে যেতে এক মিনিটও লাগবে না কিন্তু রিকশা নিয়ে ওই পর্যন্ত যাইতে লাগবো দশ মিনিট। যেই জ্যাম লাগছে! যাত্রী তাতেও নারাজ হলে দেখা গেলো যাত্রীকে সান্তনা মার্কেটের সামনে নামিয়ে আবার ঘুরে সমবায় মার্কেটের সামনে আসতে ওই রিকশাওয়ালার লেগে গোলো বিশ মিনিট! গতকাল শনিবার দুপুরে এমনই এক চিত্র দেখা গেলো। অথচ শহীদ মিনার থেকে পায়ে হেটে সান্তনার সামনে যেতে সময় লাগে মাত্র আধা মিনিট। কিন্তু সেই পথ রিকশায় কিংবা গাড়িতে যেতে লেগে যাচ্ছে দশ মিনিট। এমন চিত্র আজ প্রথম নয়। প্রায় নিত্যদিনই ঘটছে এমন ঘটনা। অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে তৈরি যানজটে সাধারণদের ভোগান্তি এখন চরমে। নগরীর ব্যস্ততম বঙ্গবন্ধু সড়কে এখন যানজট যেন নিত্যদিনের ঘটনা। দশ মিনিটের রাস্তা অতিক্রম করতে এখন লেগে যাচ্ছে আধা ঘন্টারও বেশি। বঙ্গবন্ধু সড়কে রোজই দেখা যায় দীর্ঘ যানজট। আর এই যানজটের নেপথ্যে রয়েছে অবৈধ পার্কিং ব্যবস্থা। প্রায় সময়ই ট্রাফিক পুলিশের অভিযান চলছে জরিমানা করা হচ্ছে অবৈধভাবে পার্ক করা গাড়ির। তাতেও কমছে না অবৈধ পার্কিং। যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ নগরবাসীকে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুধীজন পাঠাগারের সামনে থেকে পপুলার পর্যন্ত মাত্র আধামিনিটের রাস্তায় অবৈধভাবে পার্ক করে রাখা গাড়ির সংখ্যা সতেরো। এর মধ্যে একটি অ্যাম্বুলেন্সসহ রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রাইভেট কার। পপুলারের সামনে ফুটপাতে পার্ক করে রাখা আছে ছয়টি মোটর সাইকেল। একটু সামনে রয়েছে সারিবদ্ধ সিএনজি। দেখলে মনে হয় সিএনজি স্ট্যান্ড। পপুলারের সামনে অবৈধ পার্কিং যেন হালাল হয়ে গেছে। পপুলারের সামনে এমন অবৈধ পার্কিং রোজই দেখা যায়। পপুলারের সামনে পার্ক করে রাখা গাড়ির চালকদেরকে অবৈধভাবে পার্ক করে রাখার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সদুত্তর পাওয়া যায় না। আবার অনেক চালককে খুজেও পাওয়া যায় না। দীর্ঘক্ষন ধরে গাড়ি পার্ক করে রাখা আছে কিন্তু চালক কিংবা মালিক কারোরই কোন খবর নেই। অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে প্রায় ট্রাফিক পুলিশের অভিযান ও অর্থ জরিমানা করা হলেও তেমন তৎপরতা নেই। নগরীর যানজট আজকাল তীব্র আকার ধারন করছে।

 

 

বাংলাদেশে এখন দু’টি দল, আওয়ামীলীগ এবং এন্টি আওয়ামীলীগ : শামীম ওসমান

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের এমপি শামীম ওসমান বলেছেন, ‘রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ক্ষমতা থাকলে হাইব্রিড বেড়ে যায়। সুবিধাবাদী লোক চলে আসে। তখন গিভ অ্যান্ড টেক বেড়ে যায়। কিন্তু রাজনীতি গিভ অ্যান্ড টেক না। এটা একটি এবাদত।’ তিনি বলেন, ‘যখন ইন্টারের প্রথম বর্ষে পড়ি ১৯৭৯ সালে একবার জিয়াউর রহমান নারায়ণগঞ্জে আসলো। তখন কয়েকজন মিলে সেই গাড়ি বহর আটকে দিয়েছিলাম। তখন আমাকে প্রচন্ড মারধর করা হলো। আমি সেদিন জিয়াউর রহমানের গাড়ি থেকে পতাকা ছিড়ে ফেলেছিলাম। বার বার সেদিন মারধর করা হলো। আমাদের বাধার কারণে সেদিন জিয়া প্রবেশ করতে পারে নাই। তখন এতটা ব্যাথা পাই নাই। কিন্তু এখন পাই যখন দেখি মুখোশধারীরা কথা বলে। বিএনপি ইজ নট ফ্যাক্টর। বাংলাদেশে দল দুটি। একটি আওয়ামী লীগ ও অপরটি এন্টি আওয়ামী লীগ।’ বহুল আলোচিত এ সাংসদ বলেন, ‘আমি শামীম ওসমান গোলাম আজমকে নারায়ণগঞ্জের পবিত্র মাঠে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলাম। সে কারণে গোলাম আজম আমীরগিরি ছেড়ে দেয়। আমি জামায়াত ও গোলাম আজমকে নিষিদ্ধ করেছিলাম। কারণ একাত্তরে এসব জামায়াতের রাজাকাররা পাক হানাদার বাহিনীকে নারীদের চিনিয়ে দেয়। পরে তাদের তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। একটু চিন্তা করেন চোখ বন্ধ করে আপনার চোখের সামনে গাছে বেধে রেখে আপনার মা বোনকে ধর্ষণ করা হচ্ছে। বাবাকে জীবন্ত কবর দেওয়া হচ্ছে। অনুভব করেন কেমন লাগে। এ কারণেই জামায়াতকে অপছন্দ করি। তারা তো আমাদের ৩০ লাখ মানুষকে ফেরত দিতে পারবে না, ফিরিয়ে দিতে পারবে না ২ লাখ মা বোনের সম্ভ্রম। শামীম ওসমান বলেন, চট্রগ্রাম লংমার্চ ঘোষণা করা হলো। আমি একজনের নির্দেশ শুনি। দুইজনের নির্দেশ মানি না। আমি স্বাধীনচেতা মানুষ। আমি সৎ থাকার চেষ্টা করি। আল্লাহকে বিশ্বাস করি। খালেদা জিয়া জানতেন কী না জানি না তবে সেই লং মার্চের বহরে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, সাদেক হোসেন খোকা সহ অনেকেই ছিলেন না। ওই লং মার্চে দুটি বাসে ৬৫ জন মাটি কাটার শ্রমিক ছিল যাদের ভাড়া করা হয়েছিল। টার্গেট ছিল জয়নাল হাজারীর ফেনীকে। ওই সময়ে আমি তাদের টার্গেট করা ছিলাম না। টার্গেট ও পরিকল্পনা ছিল খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে বোমা হামলা হবে। আর ওই দুটি বাসে বোমা হামলা হবে। এতে ৬৫ জন মারা যাবে, খালেদা জিয়ার উপর হামলা হয়েছে এটা নিয়ে সারাদেশে ঝামেলা সৃষ্টি করে অরাজকতা সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসবে। চট্রগ্রামের দায়িত্বে ছিল সাকা চৌধুরী, ঢাকাতে ছিল আব্বাস ও খোকা। আর সারাদেশেও ছিল। যখন এ পরিকল্পনার খবরটি আসলো তখন আমি রাজী ছিলাম না। কারণ সেটা ছিল খুব ক্রিটিক্যাল। শামীম ওসমান বলেন, আমি কিন্তু খালেদা জিয়ার লংমার্চ আটকে দেই নাই। তিনি কিন্তু লংমার্চে গিয়েছিল। ৪ ঘণ্টা সময় ক্ষেপন করেছিলাম। আমি একাই করেছিলাম সেটা। তারা কয়েক হাজার অস্ত্র ও সর্বশক্তি নিয়ে এসেছিল। আর আমি জনগনকে নিয়ে সময়মত গাড়ি বহর আটকে পড়ে সময় ক্ষেপন করিয়েছিলাম। ৪ ঘণ্টা সময় ক্ষেপনের কারণে গোয়েন্দা সংস্থা নিরাপত্তা জোরদার করেছিল। তিনি বলেন, আমরা সামনের দিক বিবেচনা করে রাজনীতি কম হয়। রাজনীতি আমি একটু বুঝে করি। এ কারণে আমার উপর বিপদটা বেশী আসে। আমি সেই রাজনীতি করে যদি শেখ হাসিনার উপর কোন হাত যেতে চায় তাহলে আমাদের উপর দিয়ে যেতে হবে। সেই হাত চেষ্টা করবো ভেঙে দিতে। শকুনের হাত বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনার উপর পড়তে দিব না। এটা আমার দায়িত্ব। শামীম ওসমান সিঙ্গাপুরের প্রবাসীদের সতর্ক থাকার আহবান রেখে বলেন, আগামী সেপ্টেম্বর অক্টোবরে হবে ফাইনাল খেলা। দেশী বিদেশী সব খেলা হবে। যদিও আন্তর্জাতিক খেলা অনেক কমে গেছে। সেপ্টেম্বরে দেখবেন অনেক আওয়ামী লীগ নেতা থাকবে না। কিন্তু আমরা থাকবো। হয়তো এ খেলাতে আগামীতে আপনার সাথে আমার দেখা নাও হতে পারে। তবে সামনের পথটি অনেক কঠিন হবে। সিঙ্গাপুরের রিভার ওয়ার্ক তান্দুর সেস্টুরেন্ট হলরুমে গত শুক্রবার স্থানীয় সময় সাত ৯টায় সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে শামীম ওসমান এসব কথা বলেন। সিঙ্গাপুর শাখা আওয়ামীলীগের সভাপতি সালাউদ্দিন রানার সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আল আমিন।

ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ)কে কৃষ্ণের জন্মদিনের সাথে তুলনা করায় ক্ষিপ্ত সুন্নী জনতা মাওলানা আউয়ালকে তওবা করার আহ্বান

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ)কে কৃষ্ণের জন্মদিনের মিছিলের সাথে তুলনা করে বক্তব্য দেয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতে ইসলামের আমীর মাওলানা আব্দুল আউয়ালের প্রতি ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তাঁকে কাফের আখ্যায়িত করে তাঁর শাস্তির দাবি তুলে গেল দু’দিন নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছে।  নারায়ণগঞ্জের সুন্নী জনতার ব্যানারে বুধবার এবং বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত নারায়ণগঞ্জ জেলার ব্যানারে শুক্রবার মাওলানা আউয়ালের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি করে ওই বিক্ষোভ করা হয়। প্রথম দিনের বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন তামিম বিল্লাহ আল কাদেরী এবং দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভে আওলাদে রাসূল সৈয়দ জাহের শাহ্ মোজাদ্দেদী আল-আবেদী। এছাড়াও মাওলানা আউয়ালের পক্ষেও বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে নারায়ণগঞ্জ হেফাজতের নেতারা। তবে তাঁরা তাঁদের ব্যানারে লিখেছেন নারায়ণগঞ্জের তৌহিদী জনতা। এই বিক্ষোভ থেকে তামিম বিল¬াহ’র গ্রেফতার দাবি করে বক্তব্য দেয়াসহ নারায়ণগঞ্জকে কারবালায় পরিণত করার হুঙ্কারও দেয়া হয়।  এদিকে ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ)কে কৃষ্ণের জন্মদিনের মিছিলের সাথে তুলনা করার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও মাওলানা আব্দুল আউয়ালকে নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষও বলছে সে যে বক্তব্য দিয়েছে তা কাফেরের মতো। এর ফলে সে মুসলামন থেকে খারিজ হয়ে গেছে বলেও দাবি করা হয়। এ নিয়ে গত দু’দিন ধরে ফেসবুকেও চলছে নানা সমালোচনা। কেউ কেউ দাবি তুলেছেন আব্দুল আওয়ালকে আবারও কালেমা পড়ে তওবা কাটার জন্য। মোঃ তরিকুল হাসান লিংকন নামে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘আউয়াল এর যদি ইসলামিক এলেম থাকে ও কাফির না হয় আশাকরি তিনি বাহাস এ বসতে রাজি হবে।’ এছাড়াও তিনি লিখেন, ‘জংগীবাদ লালন কারীরা এর চেয়ে আর কি বক্তব্য রাখতে পারে।’ তার এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ইয়াদ বিন আব্দুল্লাহ লিখেন, ‘আজ ভাই ধর্মের জ্ঞেয়ান কম বলে আউয়াল সাহেবের মত একজন কে গালাগালি করছেন? আর কউমি ওলারা সব সময় বহেস করতে প্রস্তুত আপ্নারাই তো ডাক্লে আসেন না’। একইসাথে মাইকেল বাবু মন্তব্য করে লিখেন, ‘যে লোক, সে আলেম হোক আর আউলিয়া হোক…আমার নূর নবীজীরর শানে বেদবি করে…সে যালেম, ইহুদি, মুনাফেক ছাড়া আর কিছুই না।’ মোঃ তরিকুল হাসান লিংকন আবারও তাঁর আরেক মন্তব্যে লেখেন, ‘এরা লেভাসধারী মুসলমান, ইহুদীদের এজেন্ট।’ তাঁর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সোহাগ আহম্মেদ জনি ‘সহমত’ জানান এবং নাজমুল আহসান একই মন্তব্যের উত্তরে লিখেন, ‘আপনারে দেখলেই বোঝা যায় আপনি পাক্কা মুসলমান’। মোঃ তরিকুল হাসান লিংকন পাল্টা উত্তরে লিখেন, ‘যে মিলাদুন্নবী কে কৃষনের জন্মদিনের সাথে তুলনা করে সে বা তারা মুসলমান কিভাবে হয়? নবীজির কলিজার টুকরা ইমাম হোসাইন কে কারবালার ময়দানে হত্যা করেছিল এই মুসলমান নামধারী ইহুদীরাই। তারা ও নামাজ পরত, সুন্নত এর লেভাস অ ছিল বর্তমান আউয়াল এর অনুসারীদের মতই।’ এছাড়া আবু সাফওয়ান সাউদ নামে একজন মন্তব্য করে লিখেন, ‘হেফাজত একটা মোনাফিক দল। আর সরকারের পা চাটা গোলাম।’ এর উত্তরে মোঃ তরিকুল হাসান লিংকন লিখেন, ‘যেখানে তেতুল সেখানেই হেফাজত।’ তবে হোসাইন সৈকত নামে একজন বিরোধীতা করে লিখেছেন, ‘যাদের ভিতরে নবীজীর একটা সুন্নত ও নাই, তারা আবার আসছে এইসব নেক্কার লোক দের ইহুদি বলতে। আরে আপনাদের তো ভাগ্য ভালো যে এসব লোকগুলর জন্য আযাব গযব থেকে বেচে আছেন।’ এমডি নাসির তাঁকে সমর্থন করে মন্তব্য করেন। পাল্টা উত্তর দেন মোঃ তরিকুল হাসান লিংকন। তিনি লিখেন, ‘আপনেরা সুন্নত মানবেন আবার নবিজীর শানে বেয়াদবী করেবেন ভালই ঠাট্টা করতে পারেন। ঈদে মিলাদুন্নবী কে কৃষনের জন্মদিনের সাথে তুলনা করে নেক্কার আউয়াল হয়ে গেছে কাফির। আসুন আমরা তর্কে না জরাই, নেক্কার আউয়াল সাহেব কে এই বিষয় নিয়ে বাহাস এ বসার ব্যবস্থা করেন, সঠিক সমাধান চলে আসবে।’ মাইকেল বাবু মাওলানা আব্দুল আওয়ালের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে মন্তব্য করে লিখেন, ‘আউয়াল সাহেবকে ভালো আলেম ভাবছিলাম…ছিঃ…উনি এত জ্ঞানী হয়ে…নূর নবীজীর জুলুস কে ইহুদিদের সাথে তুলনা করলো…তার মানে সে নিজেই কাফের, মুনাফেক, ইহুদি।’  এদিকে গত দু’দিন ধরে নগরীতে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভের কারণে নগরবাসী মধ্যে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। সবার মনেই একটা আশঙ্কা কখন কি হয়? অনেকে বলছেন, তাঁদের দুই গ্রুপের মধ্যে যে ধরণের মনোভাব দেখা যাচ্ছে এতে করে যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া হেফাজতে নেতারাও তাঁদের বক্তব্যে তেমনই হুঙ্কার দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার হেফাজতে নেতা মাওলানা জাকির হোসেন হুঙ্কার দিয়েই বলেছেন, ‘একটা নয়, দুইটা নয় হাজারটা লাশ পড়বে নারায়ণগঞ্জে। নারায়ণগঞ্জ কারবালার ময়দানে পরিণত হবে তামিম বিল্লাহকে গ্রেফতার করা না হলে।’ এমন বক্তব্যের পরই শুক্রবার হাজারো মানুষ নিয়ে নগরীতে বিক্ষোভ করে হেফাজতে ইসলামী। তবে তাঁরা যৌথ ব্যানার ব্যবহার করে। এর একটি ছিলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অপরটি ছিলো নারায়ণগঞ্জ জেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। তবে যৌথভাবে এই বিক্ষোভ হলেও এর নেতৃত্বে ছিলেন হেফাজতে ইসলামের মহানগর সমন্বয়ক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান। চলমান এই পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিলো নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমানের কাছে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারের আস্কারাতে হেফাজতের আব্দুল আউয়ালরা আমাদের নবীকে নিয়ে কটাক্ষ করছেন। এটা কোনো মতেই উচিৎ নয়। প্রশাসনের উচিৎ নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি ঘোলাটে হওয়ার আগে তাঁকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা। আমি সরকার ও নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনকে আহ্বান করছি আব্দুল আউয়ালদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার।” এছাড়াও তিনি একজন মুসলিম হিসেবে তাঁর মন্তব্যে বলেন, “আব্দুল আউয়ালের যদি সাহস থাকে তবে বাহাসে বসুক। সে পরিকল্পিত ভাবেই নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করছে। নারায়ণগঞ্জের মানুষ সুন্নী। তাঁরা যদি একবার ঘর থেকে বের হয়ে আসে তাহলে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে সেটা ভাববার বিষয়। আমি বলবো আউয়ালদের এই ঔদ্ধতপূর্ণ আচরণের বিপক্ষে আহলে সুন্নাতকে আরও জোরালো প্রতিবাদ করতে। সবাইকে আহ্বান করবো ইয়াজেদির পক্ষ নেয়া আব্দুল আউয়ালদের রুখে দাঁড়াতে।” এদিকে গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ কামরুল ইসলাম একই প্রসঙ্গে জানিয়েছিলেন, ‘এমন হুমকি প্রকাশে দেয়া হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর শহরে কোনো রকম বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে। পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।‘